Post has attachment
খৈয়া গোখরা বেঁচে থাকুক আমাদের প্রয়োজনে :

ইংরেজি নাম Binocellate/Spectacled Cobra বৈজ্ঞানিক নাম Naja naja বাংলায় খৈয়া গোখরা দেশের পরিচিত সাপের মধ্যে অন্যতম বিষধর সাপ। গায়ের রঙ্গ বাদামী থেকে কালচে বাদামী ও শরীর মসৃণ আঁশে আবৃত । খৈয়া গোখরার ফণার পিঠে U আকৃতির উপর চোখের-মত ছাপ আছে ।এরা লম্বায় ১০০ থেকে ২২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। বাংলাদেশের প্রতিটি অঞ্চলে এদের দেখতে পাওয়া যায় । খৈয়া গোখরা অল্প আলো আছে এমন শুকন স্থান পছন্দ করে। এরা সাধারণত মানুষের বসতবাড়ি আশেপাশে ,পুরানো দালান, গুহা ,চাষের জমি , বন ও পাহাড়ি অঞ্চলে বস- বাস করে।

সাপের কথা শুনলেই ভয়ে গাঁ শিউরে উঠে। তার উপর যদি হয় খৈয়া গোখরা । খৈয়া গোখরা যতোই বিষধর হোকনা কেন বা সাপ আমরা যতোই ভয় পাইনা কেন , সাপ আমাদের পরিবেশ ও প্রকৃতির জন্য অত্যন্ত উপকারী প্রাণী । খৈয়া গোখরা ইঁদুর জাতীয় প্রাণী খেতে পছন্দ করে । তবে ব্যাঙ , পাখি , ডিম , টিকটিকি এমনকি সাপও আছে খৈয়া গোখরার খাদ্য তালিকায় । এদের খাদ্যাভ্যাস উপকৃত করছে আমাদের কৃষিকে এবং ভারসাম্য রক্ষা করছে আমাদের প্রকৃতির । বাস্তুতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে প্রকৃতির এক অসাধারণ ভূমিকা পালন করে এরা ।

গোখরা বিষধর সাপ হলেও এদের মারার কোন যুক্তি সঙ্গত কারন নাই, কারন এদের না মাড়ালে এরা ধাওয়া দেয় না আর এরা জীব চক্রের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ন প্রানী । সাপ অত্যন্ত প্রিমিটিভ জীব, স্মরন শক্তি নূন্যতম, কাউকে মনে রেখে তাকে পরে ফন্দি ফিকির করে কামড় দেবার বুদ্ধি সাপের নেই। শুধুমাত্র গায়ে আঘাত পরলে প্রতিরোধ করতে গিয়ে মানুষকে কামড়ে দেয়। অথচ দিন দিন পরিবেশ ধ্বংস ও বুঝে, না বুঝে দেখা মাত্র সাপ মারার প্রবণতা প্রতিটি প্রাণীর জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে । এভাবে চলতে থাকলে আমরা হারাবো আমাদের প্রাণ বৈচিত্র্যকে ।
Photo

Post has attachment
Snakes of Bangladesh (SOBD) is a voluntary group dedicated to encourage the study and conservation of snakes of Bangladesh. Snakes are probably the mostly threatened wildlife fauna in our country due to lack of awareness. SOBD attempts to develop up to date Checklist, ensure their original status and to aware people about snakes of Bangladesh. You are cordially invited to share your thoughts, photographs and any sort of information related to snakes of Bangladesh.

If you are interested please don't hesitate to join with us in this endeavor. Your assistance can make us more hopeful and together we can conserve the snakes of Bangladesh.
Thanks.


Filckr: https://www.flickr.com/photos/130449062@N02/

Like Page: https://www.facebook.com/snakesbd?fref=ts
Photo

Post has attachment
ঢোঁড়া সাপ বেঁচে থাকুক আমাদের প্রয়োজনে :

ইংরেজি নাম Checkered Keelback বৈজ্ঞানিক নাম Xenochrophis piscator বাংলায় ঢোঁড়া সাপ দেশের পরিচিত সাপের মধ্যে অন্যতম । বাংলাদেশের প্রতিটি অঞ্চলে দেখতে পাওয়া যায় । এরা সাধারণত পুকুর, ডোবা খাল- বিল,ফসলী জমি যেই খানে অল্প বিস্তর পানি থাকে ঐ সকল জায়গাতে বেশি দেখতে পাওয়া যায় ।জলের সান্নিধে বেশির ভাগ সময় থাকে বলে একে জলঢোঁড়া সাপও বলে। এদেরকে মাঝে মাঝে সমতল ভুমি ও পাহাড়ি অঞ্চলেও দেখতে পাওয়া যায় ।
সাপটির দৈর্ঘ্য ১৫০ থেকে ১৬০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে। দেহের রঙ উপরিভাগ হলুদাভ সাদাটের সঙ্গেজুড়ে বাদামি বা কালো রঙের ছককাটা ছোপ ছোপ দাগ থাকে। দেহের নিচের অংশ চক চকে হলদে সাদাটে হয়ে থাকে । মাথার রঙ বাদামি। চোখের নিচে থেকে ওপরের ঠোঁট পর্যন্ত কালো একটা রেখা থাকে। ঢোঁড়া সাপের চোখ বড় ও বৃত্তাকার কোটর হয়ে থাকে ।
এদের খাদ্য তালিকায় আছে ব্যাঙ ,ইঁদুর, ছোট মাছ, পাখি , গিরগিটি ইত্যাদি । ব্যাঙ ও ইঁদুর খেয়ে খাদ্য শৃঙ্খলের এক অসাধারন ভুমিকা পালন করে ঢোঁড়া সাপ। নির্বিষ প্রজাতির হলেও সব চেয়ে বেশী আক্রোশের শিকার এই প্রজাতির সাপটি ।ক্রমাগত মানুষের আবাসভূমির বিস্তার, কৃষি জমিতে কীটনাশক প্রয়োগ, জলাশয় ভরাট করে বসতি স্থাপনে এদের আবাসস্থল সংকোচনের পাশাপাশি জলাভূমি দূষিত হয়ে যাওয়ায় এরা খাদ্য এবং আশ্রয় হারাচ্ছে। আমাদের অজ্ঞতার কারনে যখন এরা খাবারের খোঁজে লোকালয়ে আসে তখন আমরা এদেরকে মেরে ফেলি। কৃষক জমিতে কীটনাশক ব্যাবহারের ফলে খাবারের দ্বারা আমাদের শরীরের মাঝে ও এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া হতে পারে। আক্রান্ত হতে পারি বিভিন্ন মরণ ঘাতি রোগে। এতে আমাদের যেমন কর্ম ক্ষমতা হরাই তেমনি আর্থসামাজিক ক্ষেত্রেও অনেক ক্ষতির সম্মুখীন হই ।
তাই আমরা যদি অযথা সাপ হত্যা না করি , কৃষক জমিতে বিষ প্রয়োগ না করে সাপ সংরক্ষণ করে তাহলে দেখা যাবে এই বিষ এর কারণে যেই রোগ হয় তা থেকে আমরা রক্ষা পাবো অপর দিকে আমরা আর্থ সামাজিক ক্ষেত্রেও উপকৃত হবো। তাই পরিবেশ এর ভারসাম্য এর জন্য আমাদের বন্দু ঢোঁড়া সাপের রক্ষ্যায় সবাই সচেতন হই।

Aug/2014
snp
Photo

Post has attachment
দাঁড়াশ সাপ বেঁচে থাকুক আমাদের প্রয়োজনে :

বাংলায় দাঁড়াশ নামে পরিচিত হলেও ইঁদুর এদের প্রধান খাদ্য বলে ইংরেজিতে একে র‌্যাট স্নেক (Rat snake) বলে। সাপটির বৈজ্ঞানিক নাম Ptyas mucosa । সম্পূর্ণ বিষ হীন Colubridae গোত্রের অন্তর্ভুক্ত । এদের দেহের রং হালকা বাদামি বা হলুদ বাদামি কিংবা কালচে জলপাই বাদামি হয়ে থাকে ।এরা লম্বায় ২০০ থেকে ৩৫০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে।

দাঁড়াশ এর ব্যাবহার খুবেই আক্রমানাক্ত ও মারমুখি , এরা খুব দ্রুত গতিতে চলাফেরা করতে পারে । দাঁড়াশ সাপের এই ব্যাবহারের জন্য মানুষ একে ভয়ংকর ও বিষাক্ত বলে মনে করে । গাছ বেয়ে উঠা , সাঁতার কাটা ও ডুব দিয়ে থাকতে পারে অনেক খন প্রজন্ত ।ধরা পড়ার পর কিছুটা মারমুখি দেখালেও পরে খুব সহজেই পোষ মেনে যায়। ব্যাঙ ,ইঁদুর, ছুঁচো, পাখি ,বাদুড়, গিরগিটি, ইত্যাদি খেয়ে খাদ্য শৃঙ্খলের এক অসাধারন ভুমিকা পালন করে দাঁড়াশ সাপ।এদের খাদ্যাভ্যাস উপকৃত করছে আমাদের কৃষিকে এবং ভারসাম্য রক্ষা করছে আমাদের প্রকৃতির ।

প্রতিবছর বীজতলা থেকে শুরু করে খাদ্যগুদাম পর্যন্ত ইঁদুরে বিনষ্ট করে উৎপাদিত খাদ্যশস্যের ৩০ শতাংশ।তাছারা ইঁদুর নিধনে যেই বিষ প্রয়োগ করা হয় সেই বিষের প্রভাবে অন্যান্য প্রাণীও আক্রান্তত হয়ে থাকে।এতে পরিবেশের মারাত্মক ভারসাম্য হানি হয়। এই বিষ খাদ্য বস্তুর মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে নানা বিধ মারাত্মক রোগের প্রভাব বিস্ততার করে , যা আর্থিক ও মানুষিক ভাবে ক্ষতি গ্রস্থ করে আমদেরকে । উল্লেখ্য কৃষি কর্মকর্তাদের মতে একটি দারাজ সাপ প্রায় ৩ একর ফসলী জমির ইদুর নিধন করতে সক্ষম।তাই আমরা কীটনাশক ও বিষ প্রয়গ থেকে সরে এসে যদি পরিবেশবান্ধব সাপ সংরক্ষণ করি তাহলে আমরা অনেক উপকৃত হবো।এতে প্রতিবছর ইঁদুর দমন অভিযানের মাধ্যমে অর্থ ব্যয় এর পরিমাণও কমে যাবে। ইঁদুরের কবল থেকে এদেশকে মুক্ত করতে চাইলে,,, দারাজ সাপ উৎপাদন, সংরক্ষন ও প্রকৃতি থেকে সাপের বংশ বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হবে এবং আমাদের দেশের সকল মানুষকে দারাজ সাপ সহ সকল সাপ সম্পর্কে সঠিক ধারনা প্রদান করে সাপ সংরক্ষণ করতে হবে যা কৃষি ও কৃষকের জন্য উপকারী।
Photo
Wait while more posts are being loaded