Post has attachment

Post has shared content

Post has attachment

Post has attachment

শেখ হাসিনার জন্মদিন আজ


বিশেষ প্রতিনিধি
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং ০১:০৮ মিঃ




প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার ৭২তম জন্মদিন আজ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের জ্যেষ্ঠ সন্তান শেখ হাসিনা ১৯৪৭ সালের এই দিনে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। বঙ্গবন্ধু কন্যার এবারের জন্মদিন অসহায়, গরিব ও দুঃখী মানুষদের জন্য উত্সর্গ করা হয়েছে।
 
শেখ হাসিনা এখন শুধু জাতীয় নেতাই নন, তিনি আজ তৃতীয় বিশ্বের একজন বিচক্ষণ বিশ্বনেতা হিসেবে অবতীর্ণ হয়েছেন নতুন ভূমিকায়। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ, বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার, পার্বত্য শান্তি চুক্তি সম্পাদন, একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি, ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণসহ জাতীয় জীবনের বহুক্ষেত্রে তার নেতৃত্বে অভাবনীয় সাফল্য এসেছে।


 
শেখ হাসিনার শৈশব কাটে পিত্রালয়ে। ’৫৪ এর নির্বাচনের পর তিনি বাবা-মায়ের সঙ্গে ঢাকায় চলে আসেন। রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হিসেবে ছাত্রজীবন থেকে প্রত্যক্ষ রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। ১৯৬৭ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন ঢাকার বকশী বাজারের ইন্টারমিডিয়েট গভর্নমেন্ট গার্লস কলেজ (বর্তমান বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা মহাবিদ্যালয়) থেকে। ওই বছরই ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। কলেজে অধ্যয়নকালে তিনি কলেজ ছাত্রী সংসদের সহ-সভানেত্রী পদে নির্বাচিত হন। প্রয়াত পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এম. এ ওয়াজেদ মিয়া শেখ হাসিনার স্বামী।
 
বর্ণাঢ্য ও সংগ্রামমুখর জীবন শেখ হাসিনার। ১৯৭৫ সালের পটপরিবর্তনের পর ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে দলীয় প্রধানের দায়িত্ব নেন তিনি। এরপর আড়াই যুগ ধরে দেশের এই প্রধান রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব দিয়ে রাজনীতির মূল স্রোতধারার প্রধান নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। ১৯৯৬ সালে তার নেতৃত্বেই তত্কালীন বিএনপি সরকারের পতন ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে বিজয় অর্জন করে আওয়ামী লীগ। প্রথমবারের মতো দেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন শেখ হাসিনা। ১/১১-এর পর শুরু হয় নতুন ষড়যন্ত্র। ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি জরুরি অবস্থা জারি করে ড. ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার। শেখ হাসিনাকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য হাজির করা হয় ‘মাইনাস টু’ তত্ত্বের। ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই নিজ বাসভবন সূধাসদন থেকে শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করা হয়। গণসংগ্রাম ও আইনি লড়াইয়ের একপর্যায়ে শেখ হাসিনাসহ রাজনৈতিক নেতাদের মুক্তি দিতে বাধ্য হয় সেনাসমর্থিত সরকার। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয় নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। দ্বিতীয়বারের মতো দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বভার গ্রহণ করেন শেখ হাসিনা। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশ পরিচালনার দায়িত্বভার গ্রহণ করেন তিনি।
 
বরাবরের মতো এবারো জন্মদিনে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন প্রধানমন্ত্রী। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৩তম অধিবেশনে যোগদান শেষে বর্তমানে তিনি ওয়াশিংটনে অবস্থান করছেন। আগামীকাল রবিবার তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
 
কর্মসূচি:আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আজ বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার জন্মদিন পালন করবে। এর মধ্যে রয়েছে: রাজধানীসহ সারাদেশে আনন্দ শোভযাত্রা, বাদ জুমা বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদসহ সারা? দে?শের মসজি?দে দোয়া এবং ম?ন্দির, গির্জা ও প্যা?গোডায় বিশেষ প্রার্থনা, সকা?ল ১০টায় বঙ্গবন্ধু জাদুঘ?রের সামনে আওয়ামী লীগের ত্রাণ উপ-কমিটির ১০০টি রিকশা ভ্যান, বেলা ১১টায় আজিমপুরে দুস্থদের মধ্যে খাদ্য এবং অসচ্ছল পরিবারের  ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে আর্থিক সহযোগিতা ও পুস্তক বিতরণ। এ ছাড়া, আজ আওয়ামী লীগের শিক্ষা উপ-কমিটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলায় স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও বিকালে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ কৃষি?বিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ‘নবীনদের দৃষ্টিতে শেখ হাসিনা’ শীর্ষক আলোচনা সভার  আয়োজন করেছে। পাশাপাশি দেশব্যাপী আনন্দ মিছিল করবে ছাত্রলীগ।
 
জেপির শুভেচ্ছা
 
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে তাঁকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছে জাতীয় পার্টি-জেপি। গতকাল বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে দলটির চেয়ারম্যান ও পানিসম্পদ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি এবং সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী শেখ শহীদুল ইসলাম বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা হিসাবে তিনি দেশ ও জাতির সেবায় যে অবদান রাখছেন, তা আমরা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি। জন্মদিন উপলক্ষে নেতৃদ্বয়  শেখ হাসিনার  দীর্ঘজীবন ও কল্যাণ কামনা করেন।
 
রোহিঙ্গাদের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে মিয়ানমারের
 
ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য মুসলিম উম্মার প্রতি আহ্বান
 
বাসস জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের টেকসই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে মিয়ানমারের ওপর চাপ বৃদ্ধির প্রচারণায় নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য মুসলিম উম্মার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
 
প্রধানমন্ত্রী গতকাল জাতিসংঘ সদর দফতরে রোহিঙ্গা মুসলিম সংখ্যালঘুদের বিষয়ে ওআইসি কন্টাক্ট গ্রুপের সভায় বক্তব্য দানকালে এ আহ্বান জানান।
 
সৌদি আরবের স্থায়ী মিশন ও ওআইসি সচিবালয় যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সভায় ওআইসির মহাসচিব ড. ইউসেফ আল ওথেইমীনও বক্তৃতা করেন।
 
শেখ হাসিনা বলেন, রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে ব্যাপক মানবাধিকার লংঘনের বিষয় মোকাবিলায় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ও মানবাধিকার কাউন্সিলের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অন্য আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহসহ জাতিসংঘ ব্যবস্থাপনায় ওআইসি দেশগুলোর অব্যাহতভাবে জড়িত থাকার বিষয়ে বাংলাদেশ গুরুত্বারোপ করেছে। তিনি বলেন, ‘সর্বোপরি স্বল্পতম সময়ে আমাদের এ সমস্যার সমাধান করা আবশ্যক।’
 
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি গৃহহীন ও নিরাশ রোহিঙ্গাদের জন্য এই সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানে গত সেপ্টেম্ব্বরে ৫-দফা কর্মপরিকল্পনার প্রস্তাব করেছেন। তিনি বলেন, ‘পরিতাপের বিষয় হচ্ছে যে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া এখনো শুরুই হয়নি।’ এ বছর কতিপয় সুস্পষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রী ওআইসি সদস্য দেশগুলোকে ধন্যবাদ জানান।
 
শেখ হাসিনা আবারো রোহিঙ্গা সংকটকে মিয়ানমারে গভীরভাবে প্রোথিত একটি রাজনৈতিক সংকট হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘অতএব এর সমাধানও মিয়ানমারকেই খুঁজে বের করতে হবে।’
 
শেখ হাসিনা বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে শুধুমাত্র দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় কোনো সুফল বয়ে আনবে না। এ জন্য আন্তর্জাতিক উদ্যোগ প্রয়োজন। কেবলমাত্র আন্তর্জাতিক চাপের মুখে মিয়ানমার তার অবস্থানের পরিবর্তন করতে পারে।
 
শেখ হাসিনা এ বিষয়ে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে ওআইসি’র প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ওআইসি সদস্য দেশগুলোকে খুঁজে বের করতে সারা বিশ্বে মুসলমানরা কেন এভাবে নির্যাতিত ও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মুসলমানরা কেন একে অন্যের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। যদি কোনো সমস্যা থেকেই থাকে তবে তা দ্বিপাক্ষিক অথবা আঞ্চলিকভাবে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা যেতে পারে।

Post has attachment

Post has attachment

Post has shared content

Post has attachment

Post has attachment
Wait while more posts are being loaded