Post has attachment
।।যশোরের তরুণ বিজ্ঞানী মুনের নতুন দুই আবিষ্কার।।

।।দিঘলিয়া ওয়েব ব্লগ।।

২৫/০৫/২০১৭ বৃহস্পতিবার ০৯:৩০ এ. এম.

স্টাফ রিপোর্টার, যশোর অফিস ॥ শুধু উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ড্রোনই নয়। যশোরের খুদে বিজ্ঞানী নাইজা হাসান মুনের নতুন আবিষ্কার ‘দ্য মাল্টিটাস্কিং রোবট’ এবং ‘স্মার্ট ট্রাফিক কন্ট্রোল সিস্টেম’ও চমক সৃষ্টি করেছে। সরকারের ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলায় মুনের এই আবিষ্কার উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের পাশাপাশি খুলনা বিভাগেও বিজয়ী হয়েছে।

যশোর উপশহর আবাসিক এলাকার বাসিন্দা সাংবাদিক রাজেক জাহাঙ্গীর ও হাসনা জাহাঙ্গীরের একমাত্র ছেলে মুন।

বর্তমানে সে যশোর শিক্ষাবোর্ড মডেল স্কুল এ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণীর বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র। ছোটবেলা থেকেই মেধাবী এই শিক্ষার্থীর বিজ্ঞান নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি, ভাবাভাবি। হাতের কাছে খেলনাপাতি যা কিছু পেত তা নিয়েই সে ভাবত। এ যেন ছোট্ট একটি শিশুর গবেষণা! অষ্টম শ্রেণীতে পড়াশুনার ফাঁকে এই ছেলেটিই আবিষ্কার করে বসে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ড্রোন। আর এই ড্রোনই এনে দেয় মেধাবী মুনের ব্যাপক পরিচিতি। যশোরের অনেকেই তাকে জানে ‘ড্রোনবয়’ হিসেবে। মেধাবী এই ছাত্র পিইসি এবং জেএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে।

নাঈম হাসান মুন ২০১৫ সালে সরকারের আইসিটি ডিভিশনের আয়োজনে হাইস্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় খুলনা বিভাগে (কুয়েটে অনুষ্ঠিত) প্রথম স্থান অধিকার এবং একই প্রতিযোগিতার জাতীয় পর্যায়ে (বুয়েটে অনুষ্ঠিত) তৃতীয় স্থান অধিকার করে। এ প্রতিযোগিতায় সারাদেশ থেকে ৯ হাজার প্রতিযোগী অংশ নিয়েছিল। একই বছর যশোর শিক্ষা বোর্ড মডেল স্কুল এ্যান্ড কলেজে অনুষ্ঠিত প্রথম বিজ্ঞান মেলায় নিজের আবিষ্কৃত উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ‘ড্রোন’ প্রদর্শনের মাধ্যমে চারশ’ প্রজেক্টের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করে মুন। ২০১৬ সালে যশোর কালেক্টরেট চত্বরে অনুষ্ঠিত সরকারের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই বিভাগের আয়োজনে ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলায় এই ড্রোনটি প্রদর্শনের মাধ্যমে সে শ্রেষ্ঠ তরুণ উদ্ভাবক হওয়ার গৌরব অর্জন করে। একই বছর যশোর জিলা স্কুলে অনুষ্ঠিত জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলায় এই ড্রোন প্রদর্শনের মাধ্যমে প্রথম স্থান অধিকার করে নাঈম হাসান মুন। এ বছরেই সে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হাইস্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হওয়ার গৌরব অর্জন করে। ২০১৬ সালে মেধাবী ছাত্র নাঈম হাসান মুন আবিষ্কার করে ‘সাইবার স্পাই মেশিন’। ওই বছরের ৯ জুন সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক এই মেশিনটি স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করেন। প্রতিমন্ত্রী এ সময় আবিষ্কারটি নিয়ে প্রশংসা করেন এবং নাঈম হাসান মুনকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য উৎসাহ ও পরামর্শ দেন। একই বছর যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান মেলা ‘গুগল সায়েন্স ফেয়ার’ এ খুদে বিজ্ঞানী মুন এই সাইবার স্পাই মেশিনটি প্রদর্শনের মাধ্যমে প্রশংসা অর্জন করে। ২০১৬ সালে যশোর শিক্ষা বোর্ড মডেল স্কুল এ্যান্ড কলেজে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় বিজ্ঞান মেলায় মুন নিজের আবিষ্কৃত ‘দ্য মাল্টিটাস্কিং রোবট’ এবং ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট আই সিমুলেটর’ প্রদর্শনের মাধ্যমে প্রায় তিনশ’ প্রোজেক্টের মধ্যে যথাক্রমে প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে।

২০১৭ সালেও যশোর টাউন হল ময়দানে সরকারের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই বিভাগের আয়োজনে তিনদিনব্যাপী ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলায় ‘দ্য মাল্টিটাস্কিং রোবট’ প্রদর্শনের মাধ্যমে শ্রেষ্ঠ তরুণ উদ্ভাবক হওয়ার গৌরব অর্জন করে নাঈম হাসান মুন। ২২ জানুয়ারি শিল্পকলা একাডেমি ও জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতা ২০১৭-এর উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে দুটিতেই মুনের তৈরি এই রোবট প্রথম স্থান অধিকার করে। অপরদিকে ৩ ফেব্রুয়ারি একই প্রতিযোগিতার বিভাগীয় পর্যায়ে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে রোবটটি। গত ২২, ২৩ ও ২৪ ফেব্রুয়ারি খুলনা সার্কিট হাউস ময়দানে অনুষ্ঠিত বিভাগীয় উদ্ভাবনী মেলায় মুনের তৈরি রোবট এবং স্মার্ট ট্রাফিক কন্ট্রোল সিস্টেম দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছে। একই স্থানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই বিভাগের আয়োজনে ‘উদ্ভাবকের খোঁজে’ প্রতিযোগিতায়ও মুনের আবিষ্কার দুটি নির্বাচিত হয়েছে। এদিকে, গত ২২ ও ২৩ মার্চ রাজধানী ঢাকার বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটারে অনুষ্ঠিত ‘উদ্ভাবকের খোঁজে’ প্রতিযোগিতায় মুনের রোবটটি সারাদেশে শীর্ষ-২০ এবং পরবর্তীতে শীর্ষ-১৫ এ স্থান লাভ করে। ২৪ মার্চ জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরে অনুষ্ঠিত সল্ভ এ থন-২০১৭ প্রতিযোগিতায় মুনের তৈরি ‘কৃষিবন্ধু’ প্রজেক্টটি সারাদেশে শীর্ষ-১০ এ স্থান লাভ করে। এছাড়া চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, কবিতা আবৃত্তি, ইংরেজীতে বিতর্ক প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অংশ নিয়ে বিজয়ী হয়েছে তরুণ বিজ্ঞানী নাঈম হাসান মুন। মেধাবী এই শিক্ষার্থী বিজ্ঞান চর্চার মাধ্যমে দেশের জন্য কিছু করতে চায়।

মুন জানায়, তার প্রতিটি প্রজেক্টই দেশের উপকারে আসবে। এ জন্য প্রয়োজন সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা ও সহযোগিতা।
Photo

Post has attachment


।।নিত্যপণ্য ও সেবা ভ্যাটমুক্ত হবে।।
দিঘলিয়া ওয়েব ব্লগ
আবুল কাশেম
২২ মে,সোমবার ২০১৭ ০০:০০

আগামী অর্থবছরে (২০১৭-১৮) ভোজ্য তেল, চিনি, লবণ থেকে শুরু করে আটা-ময়দা, সব ধরনের মসলা ও ফল, গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগির মাংস এবং জীবন রক্ষাকারী গুরুত্বপূর্ণ ওষুধে ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব থাকছে। প্রস্তাব অনুযায়ী আড়াই কেজি পর্যন্ত প্যাকেটজাত তরল দুধ, ডিম, পেঁয়াজ, রসুন থেকে শুরু করে প্রায় সব ধরনের সবজিও এ সুবিধা পাচ্ছে আমদানি ও সরবরাহ পর্যায়ে। খেজুর, আঙুর, আপেল, আনারস, আমসহ বিভিন্ন ধরনের ফলও পাচ্ছে একই সুবিধা। আদা, জিরা, লবঙ্গ, ধনিয়া, দারচিনি, এলাচসহ অন্যান্য মসলায় আমদানি ও সরবরাহ পর্যায়েও ভ্যাট থাকছে না। বার্লি, ভুট্টা, ধান, সব ধরনের চাল, মুড়ি, গম ও গমের ময়দা ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা পাচ্ছে। ফল, সবজি, মসলা ও মাংসের ক্ষেত্রেও ভ্যাটমুক্ত সুবিধা মিলবে আড়াই কেজি পর্যন্ত। অর্থাৎ একসঙ্গে আড়াই কেজির বেশি এসব পণ্য না কিনলে ভ্যাট দিতে হবে না। শুধু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যই নয়, ফুল ও ফুলের তোড়া, পাটজাত পণ্য এবং কৃষি খাতে ব্যবহৃত প্রায় সব ধরনের বীজ, সেচ ও কীটনাশককে নতুন অর্থবছরে ভ্যাট থেকে অব্যাহতি দেওয়ারও প্রস্তাব আসছে। এ ছাড়া ফাস্ট ট্র্যাকভুক্ত সরকারের ১০ প্রকল্প, হাইটেক পার্ক, অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারি বা পিপিপিতে বিনিয়োগকারীদের জন্য নানা ক্ষেত্রে ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা থাকছে।

নতুন ভ্যাট আইনের আওতায় নতুন অর্থবছরের বাজেটে যেসব পণ্য ও সেবাকে ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব থাকবে তার একটি তালিকা তৈরি করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এবং এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমানের সই করা ওই তালিকাটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে গত ১৪ মে। তাতে এসব পণ্য ও সেবাকে ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এনবিআর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় এসব পণ্য ও সেবাকে ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়া হলে বাজারে নতুন করে জিনিসপত্রের দাম বাড়বে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

সূত্র মতে, নতুন অর্থবছরে রোগী পরিবহনে ব্যবহৃত অ্যাম্বুল্যান্স সেবাকে ভ্যাট থেকে অব্যাহতি দেওয়ার প্রস্তাব থাকছে। ‘মানবিক’ কারণে চলতি অর্থবছরেও অ্যাম্বুল্যান্স সুবিধা ভ্যাটমুক্তি পেয়েছে। এ ছাড়া যাত্রী বহনে ব্যবহৃত ট্যাক্সি, বাস, মিনিবাস, লঞ্চ, স্টিমার ও ফেরি পরিবহন ব্যবস্থাকে ভ্যাটের বাইরে রাখা হচ্ছে। তবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যানবাহন, পর্যটক বহনকারী যানবাহন, চার্টার্ড বিমান ও হেলিকপ্টার বাদে অন্যান্য এয়ারলাইনস এবং খাদ্যশস্য পরিবহনকারী পরিবহনসেবা বাদে অন্যান্য পণ্য পরিবহনকারী যানবাহনকে ভ্যাট পরিশোধ করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা তালিকায় আগামী বাজেটে সমাজকল্যাণমূলক বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রমকে ভ্যাট থেকে অব্যাহতি দেওয়ার প্রস্তাব আছে। প্রস্তাব মতে, সব ধরনের জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসা বা স্বাস্থ্যসেবা ভ্যাটের আওতার বাইরে থাকছে। এতে রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় কমবে। বর্তমানে চিকিৎসা ফির ওপর ভ্যাট আরোপ আছে। ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল বাদে সব ধরনের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণসেবা ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা পাচ্ছে। শিশু পালন কার্যক্রম, বয়স্ক, অক্ষম, দরিদ্র বা যাদের স্থায়ী যত্ন আবশ্যক সে ধরনের অক্ষম লোকদের জন্য আবাসিক যত্নসেবা এবং প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যক্রমের জন্য পাঠ্যপুস্তক সরবরাহ কার্যক্রমকে ভ্যাট থেকে অব্যাহতি দেওয়া হচ্ছে।

প্রস্তাবিত তালিকায় জীবনরক্ষাকারী বেশ কিছু ওষুধ, হাসপাতালের বিছানার ভাড়া বা ফি ভ্যাটমুক্ত রাখা হয়েছে। ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধার ওই তালিকায় আরো আছে বিভিন্ন ধরনের প্রভিটামিন ও ভিটামিন, ইনসুলিন ও তার লবণ, সব ধরনের জন্মনিরোধক উপকরণ, ভ্যাকসিন ফর হিউম্যান মেডিসিন, লিভার সিরোসিস, হেপাটাইটিস সি নিরাময়কারী, হোমিওপ্যাথিক, আয়ুর্বেদিক, ইউনানি ও ভেষজ ওষুধ সামগ্রী, কিডনি ডায়ালিসিস সল্যুশন, ক্যান্সার নিরোধক ওষুধ, ম্যালেরিয়া নিরোধক, কুষ্ঠরোগ নিরোধক ওষুধ, অ্যান্টিবায়োটিক, সেরা টক্সিন ও কার্ডিওভাসকুলার ওষুধ, অ্যান্টি হেপাটিক, অ্যান্টি হেপাটিক এনসেফালোপ্যাথি, বায়োকেমিক ও সাইকোট্রপিক ওষুধ, অ্যানেসথেটিক, কিডনি রোগের ডায়ালিসিস ফ্লুইড এবং কিডনি সংযোজনের জন্য সাইক্লোসপরিন, ইনসুলিন, থ্যালাসেমিয়ার ওষুধ, ফাস্টএইড বক্স অ্যান্ড কিটস, বিভিন্ন ধরনের থেরাপি, যন্ত্র ও উপকরণসহ হিয়ারিং এইড, হার্ট বাল্ব, পেসমেকারে ব্যবহৃত উপকরণ।

কৃষিকাজে ব্যবহৃত ধান বীজসহ সব ধরনের বীজ আমদানি ও সরবরাহ উভয় পর্যায়েই ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব থাকছে। কৃষি খাতে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের সার, ইনসেকটিসাইড, ফাংগিসাইডস, হারবিসাইডস, এন্টিস্প্রাউটিং, প্লান্ট গ্রোথ রেগুলেটর, ডিসইনফেকট্যান্টস ও অন্যান্য কাঁচামাল, সব ধরনের কীটনাশকও এ সুবিধার তালিকায় আছে। প্রস্তাব পাস হলে কৃষিকাজে ব্যবহৃত সব ধরনের যন্ত্রাংশ আমদানি ও সরবরাহ উভয় পর্যায়েই ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা ভোগ করবে। এ ছাড়া দেশীয় ফাউন্ড্রি ও ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পে উৎপাদিত কোদাল, বেলচা, সেচ পাম্পের যন্ত্রাংশ, ফিশিং ট্রলার, হস্তচালিত টিউবওয়েল, ধান মাড়াইয়ের মেশিন, রাইস হলার, হুইট ক্র্যাশারকে সরবরাহ পর্যায়ে ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। কৃষি, উদ্যান, প্রাণিজ বা মৎস্য চাষের জন্য ব্যবহৃত ভূমি, কৃষিকাজের জন্য ব্যবহৃত হিমাগার, ভেটেরিনারি মেডিসিনের ভ্যাকসিন, কৃষিতে সেচসেবা, কৃষিপণ্য সংরক্ষণ ও গুদামজাতকরণ, খাদ্য শস্য-শাকসবজি মোড়কজাতকরণ, কৃষিবীজ সংরক্ষণ ও বিতরণ, মৎস্য ও জলজপ্রাণী আহরণ এবং সংরক্ষণকেও ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা পাচ্ছে।

প্রস্তাব মতে, আগামী অর্থবছরে নতুন কোনো ফ্ল্যাট বা আবাসিক ভবন কিনলে ভ্যাট দিতে হবে না। খালি জমি বিক্রির ওপরও নতুন আইনে কোনো ভ্যাট থাকছে না। বসবাসের জন্য ব্যবহৃত হবে এমন আবাসিক ভবনের দখল ও বসবাসের অধিকারসংক্রান্ত কোনো লিজ, লাইসেন্স, ভাড়া ও অন্যবিধ সেবা ফি বা চার্জের ওপরও কোনো ভ্যাট থাকছে না। নিবন্ধিত বা তালিকাভুক্ত প্রস্তুতকারক বা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান কোনো কারখানা ভাড়া করলে, সেই ভাড়ার ওপরও ভ্যাট দিতে হবে না। এ ছাড়া ১৫০ বর্গফুট আয়তনের কোনো স্থাপনা ভাড়ার ওপর ভ্যাট দিতে হবে না। ফলে সারা দেশে ছোট দোকান মালিককে দোকান ভাড়ার ওপর কোনো ভ্যাট দিতে হবে না। এ ছাড়া তথ্য-প্রযুক্তি সেবায় ব্যবহৃত কোনো স্থাপনার ভাড়া ভ্যাটমুক্ত সুবিধা পাচ্ছে আগামী অর্থবছরে।

প্রস্তাব অনুযায়ী দেশের অবকাঠামো উন্নয়নে সরকারের ফাস্ট ট্র্যাকভুক্ত বড় প্রকল্পগুলোর নির্মাণ সংস্থা, পণ্য মেরামতকারী সংস্থা, কনসালট্যান্সি ফার্ম ও সুপারভাইজরি ফার্ম, পরিবহন ঠিকাদার, ইঞ্জিনিয়ারিং ফার্ম, মানবসম্পদ সরবরাহ বা ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান, বন্দর, ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার্স ও অন্যান্য সেবার ওপর কোনো ভ্যাট থাকছে না। বাংলাদেশ হাই টেক পার্কে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে পণ্য উৎপাদন পর্যায়ে জোগানদার (পেট্রোলিয়াম জাতীয় পণ্য বাদে) এবং বিদ্যুৎ বিতরণকারী (৮০ শতাংশ) ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা পাবে। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগকারীরা প্রাকৃতিক গ্যাসে (৮০ শতাংশ), ওয়াসা (৮০ শতাংশ), বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থা (৮০ শতাংশ) এবং পেট্রোলিয়াম পণ্য বাদে অন্য সব পণ্য ও সেবা জোগানদার শতভাগ ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা পাবে। পিপিপির আওতায় নির্মাণ সংস্থা, কনসালট্যান্সি ফার্ম ও সুপারভাইজরি ফার্ম, জোগানদার ও আইন পরামর্শক ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা পাবে।

এনবিআরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পরিবেশদূষণ রোধকারী কার্যক্রম, ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে পরিচালিত নয় এমন পুনর্বাসনমূলক কার্যক্রম, সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম, জনস্বার্থে দেওয়া সব ধরনের দাতব্য ও বৈজ্ঞানিক সেবা এবং সব ধরনের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, স্থান ও স্থাপনাকে ভ্যাট থেকে অব্যাহতি দেওয়া হচ্ছে। পুস্তক, সংবাদপত্র, ম্যাগাজিন ও সরকারি গেজেট ছাপা ও প্রকাশ, শিল্পকর্ম, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, অপেশাদারি খেলাধুলা, অপেশাদারি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ভ্যাটের বাইরে থাকছে। লাইব্রেরি, সব ধরনের জাদুঘর, আর্ট গ্যালারি, চিড়িয়াখান, বোটানিক্যাল গার্ডেনের প্রবেশ ফি ভ্যাটমুক্ত থাকছে।

নতুন অর্থবছরে সাংবাদিক, অভিনেতা, গায়ক, বেতার ও টেলিভিশন পারফরমার, লেখক, পেশাদার ক্রীড়াবিদ, নৃত্যশিল্পী, অনুবাদক, জ্যোতির্বিদ, টাইপিস্ট, নিকাহ রেজিস্ট্রার, ঘটকালি প্রতিষ্ঠান, প্লাম্বার, কাঠমিস্ত্রি, রাজমিস্ত্রি, ও ইলেকট্রিক্যাল মিস্ত্রির দেওয়া সেবা ফি ভ্যাটমুক্ত রাখার প্রস্তাব থাকছে। তবে এসব পেশার লোক কোনো কনসালট্যান্সি ফার্ম, সুপারভাইজরি ফার্ম, জরিপ সংস্থা ও ইমিগ্রেশন উপদেষ্টা হিসেবে যেসব সেবা দেবেন, এর ওপর ভ্যাট আরোপ হবে।

সূত্র মতে, হস্তচালিত লন্ড্রি, জনশক্তি রপ্তানিকারক সেবা, ঐতিহাসিক স্থানসহ পর্যটন স্থান ও স্থাপনা, ভাঙা কাচের টুকরা, প্লাস্টিক বর্জ্য, ভাঙ্গারি সরবরাহ (যেগুলো সাধারণত টোকাইদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়) এবং কম্পিউটার ও এর যন্ত্রাংশে ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে তালিকায়।

প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত পরিশোধিত সয়াবিন তেল ও পরিশোধিত পাম অয়েল সরবরাহ এবং এলপিজি সিলিন্ডার, প্রাকৃতিক গ্যাস (উত্তোলন পর্যায় থেকে ডিস্ট্রিবিউটর পর্যন্ত) ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা পাচ্ছে। আর ২০১৯ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা পাচ্ছে স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদিত রেফ্রিজারেটর, এয়ারকন্ডিশনার ও এসবের যন্ত্রপাতি এবং উপকরণ আমদানি ও সরবরাহ পর্যায়ে। কর্মকর্তারা জানান, দেশীয় ইলেকট্রনিক শিল্পকে সুবিধা দিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
Photo

Post has attachment

Post has attachment
।।জাকির নায়েককে সৌদি নাগরিকত্ব প্রদান।।
দিঘলিয়া ওয়েব ব্লগ অনলাইন ডেস্ক
২০ মে ২০১৭,শনিবার, ০৬:৩৪

ভারতের প্রখ্যাত ইসলামপ্রচারক ড. জাকির নায়েককে সৌদি আরবের নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়েছে। সন্ত্রাসী কার্যক্রমে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ভারতে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল।
আরব সূত্রগুলো জানিয়েছে, খোদ বাদশাহ সালমান উদ্যোগী হয়ে জাকির নায়েককে সৌদি নাগরিকত্ব প্রদানের ব্যবস্থা করেন যাতে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোল তাকে গ্রেফতার করতে না পারে।
গত মাসে ভারতীয় আদালতে তার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দফায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা। সন্ত্রাস-সম্পর্কিত একটি মামলা এবং অর্থ পাচারের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
৫১ বছর বয়স্ক জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে ঢাকার গুলশান হামলার পর অভিযোগ ওঠে। তার পিস টিভি বন্ধ করে দেওয়া হয। ওই সময় তিনি মালয়েশিয়া সফর করছিলেন। এরপর তিনি আর ভারতে ফেরেননি। মালয়েশিয়ায় তার স্থায়ী রেসিডেন্সি মর্যাদা রয়েছে। মালয়েশিয়া সরকার তাকে পাঁচ বছর আগে ওই মর্যাদা দেয়।
সূত্র : মিডলইস্ট মনিটর
Photo

Post has attachment
।।গুগুল ডেভেলপার সম্মেলন ২০১৭
গুরুত্বপূর্ণ ৪ ঘোষণা।। ।।দিঘলিয়া ওয়েব ব্লগ।।

২০ মে ২০১৭, ০০:৩৯
গুগল আইও সম্মেলনের প্রথম দিনেই বিভিন্ন ঘোষণা দেন গুগুলের নির্বাহীরা। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ঘোষণা এখানে তুলে ধরা হলো:

আসছে অ্যান্ড্রয়েড ও

‘ও’ দিয়ে কী বোঝানো চেয়েছে, তা এখনো পরিষ্কার করেনি। তবে গুগলের নতুন অপারেটিং সিস্টেম অ্যান্ড্রয়েড ‘ও’ এ বছরই বাজারে ছাড়া হবে। এখন এটি পরীক্ষামূলক বা বেটা সংস্করণে আছে।

বিশেষ লেন্স

একটি ফুল দেখলেন, সেটার দিকে ক্যামেরা তাক করলেন। সঙ্গে সঙ্গে জেনে যাবেন ফুলের নাম। এই সম্মেলনের প্রথম দিনে গুগল বিশেষ এক লেন্স ছেড়েছে, ক্যামেরায় তা ব্যবহার করলে এ সুবিধা পাওয়া যাবে। মূলত ছবির বিষয়বস্তু, স্থানের তথ্য দেবে লেন্সটি।

কম দামের স্মার্টফোনে অ্যান্ড্রয়েড গো

সম্মেলনে নতুন অপারেটিং সিস্টেম অ্যান্ড্রয়েড গো আনার ঘোষণা দেওয়া হয়। সস্তা স্মার্টফোনের জন্য এই অপারেটিং সিস্টেম। মূলত উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ব্যবহৃত পুরোনো মডেলের স্মার্টফোনকে কেন্দ্র করে এই অপারেটিং সিস্টেম বানানো হচ্ছে।

আইফোনেও গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচালিত ও কণ্ঠনিয়ন্ত্রিত গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট পাওয়া যাবে অ্যাপলের আইফোনেও। এর মাধ্যমে অ্যাপলের ভার্চ্যুয়াল সহকারী সিরির সঙ্গেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে যাচ্ছে গুগল। সূত্র: টেক রাডার
Photo

Post has attachment
।।এবার চাকরি চাইলেন টিপু সুলতান।।
দিঘলিয়া ওয়েব ব্লগ অনলাইন ২০ মে ২০১৭ শনিবার ০৯:৩০মি:


নেত্রকোনার হাওরাঞ্চল পরিদর্শনে গিয়ে রিকশায় চড়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী রিকশাচালক চালক টিপু সুলতান এবার চাকরি চাইলেন প্রধানমন্ত্রীর নিকট। গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালে এ প্রত্যাশা জানিয়েছেন টিপু সুলতান।

টিপু সুলতান বলেন, আড়াইটার সময় আমার রিকশায় চড়ে খালিয়াজুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ৫০ গজ দূরের ডাকবাংলোতে যান প্রধানমন্ত্রী। ৫ মিনিটের যাত্রা ছিল এটি প্রধানমন্ত্রীকে ওই ডাকবাংলোয় নিয়ে যেতে জেলা প্রশাসন তাকে আগে আমাকে ঠিক করে রাখা হয়েছিল। এজন্য আমাকে রিকশাসহ নেত্রকোনা থেকে খালিয়াজুড়ী নিয়ে যাওয়া হয়। যাত্রা শেষে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমাকে তিন হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হাওর এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে খালিয়াজুড়ীতে রিকশায় চড়েন প্রধানমন্ত্রী। পিআইডির পাঠানো একটি ছবিতে সরকার প্রধানকে ইট বিছানো একটি রাস্তায় রিকশা আরোহী হিসেবে দেখা যায়। আগাম বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে হাওরে ফসলহানির পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে খালিয়াজুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়ে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এর আগে গোপালগঞ্জে গিয়ে ভ‌্যানে চড়ার পর তার চালক ইমাম শেখকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিমান বাহিনীতে চাকরির ব্যবস্থা করে দেন।

প্রধানমন্ত্রী রিকশায় উঠে তার নাম জিজ্ঞেস করেছেন জানিয়ে টিপু বলেন, লেখাপড়া কতদূর করেছি সে কথাও জানতে চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি আমার রিকশায় উঠায় আমি খুব খুশি। আমার যোগ্যতা অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী আমাকে যদি একটা চাকরি দেয় তাহলে আমার সংসারটা ভালো চলবে।

নেত্রকোনা সদর উপজেলার দক্ষিণ বিশিরা গ্রামের রিকশা মোকবুল হোসেনের ছেলে টিপু নবম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন। বাবা-মা ছাড়া পাঁচ ভাই ও পাঁচ বোনের সংসারে তিনি দ্বিতীয় সন্তান। বাবা কৃষি কাজ করেন।


Photo

Post has attachment
।।৮২ ভাগই আদায় অযোগ্যমন্দঋণের কবলে ব্যাংকিং খাত।।
।।দিঘলিয়া ওয়েব ব্লগ অনলাইন ডেস্ক।।
২০ মে ২০১৭,শনিবার, ০৯:৩১মি:

মন্দঋণের কবলে পড়ে গেছে দেশের ব্যাংকিং খাত। সাধারণের আমানতের অর্থ ঋণ বিতরণ করা হচ্ছে। কিন্তু সেই ঋণ কাক্সিত হারে আদায় হচ্ছে না। ফলে বেড়ে যাচ্ছে খেলাপি ঋণের পরিমাণ। আবার খেলাপি ঋণ আদায়ের হারও অনেক কম। বেশির ভাগ খেলাপি ঋণ আদায় অযোগ্য বা কুঋণে পরিণত হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান মতে, গত মার্চ প্রান্তিকে আদায় অযোগ্য ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে মোট খেলাপি ঋণের ৮২ শতাংশ। এর মধ্যে সরকারি মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোরই প্রায় ৮৪ শতাংশ। আদায় অযোগ্য ঋণ বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংকগুলোর সম্পদের গুণগত মান কমে যাচ্ছে। কমে যাচ্ছে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ সক্ষমতাও।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ছয়টি সরকারি ব্যাংকের মার্চ শেষে খেলাপি ঋণ বেড়ে হয়েছে ৩৫ হাজার ৭১৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে মন্দঋণই ২৯ হাজার ৯২০ কোটি টাকা। যা মোট খেলাপি ঋণের ৮৩ দশমিক ৭৭ শতাংশ। ৩৯টি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মার্চ শেষে খেলাপি ঋণ বেড়ে হয়েছে ২৯ হাজার ৭২৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে মন্দঋণই ২৩ হাজার ৮২৯ কোটি টাকা। যা মোট খেলাপি ঋণের ৮০ দশমিক ১৬ শতাংশ। শতকরা হারে সবচেয়ে বেশি মন্দঋণ ৯টি বিদেশী ব্যাংকের। ব্যাংকগুলোর মার্চ শেষে খেলাপি ঋণ বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ২৮২ কোটি টাকা। এর মধ্যে মন্দঋণই ২ হাজার ১৩০ কোটি টাকা, যা তাদের মোট খেলাপি ঋণের প্রায় ৯৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ। কুঋণ বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ সক্ষমতা কমে যাচ্ছে বলে মনে করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো ঋণের কিস্তি পরপর তিন মাস আদায় না হলে ওই ঋণকে নিম্ন মানের ঋণ বলা হয়। আবার কোনো ঋণ পরপর ৬ মাস আদায় না হলে তা সন্দেহজনক ঋণ বলা হয়। সন্দেহজনক ঋণ হলেই গ্রাহকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয়। আবার ওই ঋণ ৯ মাস অতিক্রান্ত হলে তা মন্দঋণে পরিণত হয়। এ মন্দঋণ হলেই টাকা আদায়ের জন্য মামলাসহ সকল প্রকার পদক্ষেপ নিতে হয়। সোনালী ব্যাংকের এক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, দীর্ঘ দিন মামলার ঘানি টানতে হচ্ছে। কিন্তু মামলা নিষ্পত্তি হচ্ছে না। এ দিকে নতুন করে আবার খেলাপি ঋণ বেড়ে যাচ্ছে। সেই সাথে বাড়ছে মন্দঋণ ও মামলার জট। ব্যাংকও মামলা পরিচালনা করতে অর্থ ব্যয় করে। এভাবে কোনো ঋণ ৫ বছর অতিক্রান্ত হলে ওই ঋণ খেলাপি ঋণের হিসাব থেকে আলাদা করে থাকে ব্যাংক, যা ব্যাংকের ভাষায় ঋণ অবলোপন বলা হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এসব ঋণ আদায় হয় না। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের দুর্নীতিসহ নানা অনিয়ম বেড়ে গেছে।
সামাজিক দায়বদ্ধতার নামে অর্থ ব্যয়, রাজনৈতিক বিবেচনায় ঋণ বিতরণ, লোকবল নিয়োগ করে ব্যাংকের ব্যয় বেড়ে গেছে। এ পরিস্থিতিতে আদায় অযোগ্য ঋণ আরো বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংকগুলোর ঝুঁকির হার আরো বেড়ে গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আগে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতেই মন্দঋণের পরিমাণ বেশি ছিল। সেই তুলনায় বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে কম ছিল। কিন্তু এখন সরকারি ব্যাংকগুলোর পাশাপাশি বেসরকারি ব্যাংকগুলোতেও মন্দঋণের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে।
অর্থাৎ যে ঋণ একবার খেলাপি হচ্ছে ওই ঋণ আর সহজেই আদায় হচ্ছে না। ফলে তাদের মন্দঋণ বা আদায় অযোগ্য ঋণের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে।
ব্যাংকগুলোর মন্দঋণ বেড়ে যাওয়ায় আয় কমে যাচ্ছে। কারণ মন্দঋণের বিপরীতে শতভাগ প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হয়। আর প্রভিশন সংরক্ষণ করা হয় ব্যাংকগুলোর আয় খাতের অর্থ থেকে। একই সাথে কমে যাচ্ছে বিনিয়োগ সক্ষমতা। কারণ, আমানতের অর্থঋণ হিসেবে বিতরণ করা হয়।
কম হারে আমানত নিয়ে বেশি মুনাফায় ঋণ বিতরণ করা হয়। ঋণ আদায় না হলেও শর্ত অনুযায়ী নির্ধারিত মেয়াদ শেষে সুদে আসলে আমানতকারীদের পরিশোধ করতে হয়।
এভাবে এখন অনেক ক্ষেত্রেই ঋণ আদায় না হওয়ায় নতুন আমানতের অর্থ থেকে মেয়াদপূর্তির আমানত পরিশোধ করতে হচ্ছে। যেখানে ঋণ আদায় হলে ব্যাংকগুলো বেশি হারে বিনিয়োগ করতে পারতো। এভাবেই ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ সক্ষমতা কমে যাচ্ছে। সেই সাথে বাড়ছে ব্যাংকগুলোর প্রকৃত মুনাফা। ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতি চলতে থাকলে সামনে ব্যাংকগুলোকে কঠিন মূল্য দিতে হবে।

Photo

Post has attachment

Post has attachment

Post has attachment
Wait while more posts are being loaded