Post has attachment

Post has attachment
মোটরসাইকেল হেলমেট কি নিরাপত্তামূলক বস্তু? উত্তর হ্যাঁ। অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র কি নিরাপত্তামূলক বস্তু? উত্তর হ্যাঁ। মোটরসাইকেল বা সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতি কার বেশী? যে আহত বা নিহত হয় তার ও তার পরিবারের। বেশীর ভাগ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় চালক ও যাত্রী হেলমেট ব্যবহার করেন না, অনেকে ব্যবহার করেও রক্ষা পান না, কেনো? ব্যবহার না করাটা অজ্ঞতা বা অসচতেনতা বা অনিচ্ছার অভাব, আর ব্যবহার করেও যারা ক্ষতির সম্মুখীন হোন তাদের হেলমেটের মানদণ্ডের অভাব।

উন্নত দেশগুলোতে সড়ক বা ট্রাফিক রুলস এ স্পষ্ট বলে দেয়া আছে কোন মানদণ্ডের হেলমেট ব্যবহার করতে হবে। যেমন গার্মেন্টস শিল্পে অনেক দুর্ঘটনার পর বিশ্বের ক্রেতারা বলে দিয়েছেন এই শিল্পের নিরাপত্তায় কি কি ব্যবস্থা কোন মানদণ্ডে পালন করতে হবে। অতঃপর গার্মেন্টস শিল্পে সেই মানদণ্ডে গড়ে উঠছে সরকার মহোদয় ও সেসব যন্ত্রপাতি বা ব্যবস্থা ক্রয়ে শুল্ক কমিয়ে দিয়েছেন, কেনো? কারণ উক্ত মানদণ্ডের ফ্যাক্টরী ছাড়া বায়াররা অর্ডার দিবেন না, মানে বৈদেশিক মুদ্রা আসবে না। গার্মেন্টস মালিক তা করতে বাধ্য হচ্ছেন ও করছেন বিভিন্ন প্রণোদনা ও শুল্ক ছাড় পেয়ে তাদের ফ্যাক্টরি আধুনিক নিরাপত্তা সেজে উঠছে।

অথচ মোটরসাইকেল হেলমেটের যে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড যা ডট বা ইসিই নির্ধারণ করে দেয় তার সর্বনিম্ন মুল্য দাড়ায় ৪০-১০০ ইউএসডি যার বিভিন্ন ডিউটি মিলে ৬০% প্রায় (যেখানে ফায়ার এক্সটিংগুইসারের ডিউটি ১২% প্রায়) সাথে কিছু অপারেটিং খরচ ও প্রফিট যোগ করলে তার মুল্য বাংলাদেশী টাকায় গিয়ে দাড়ায় ৮০০০-১৭০০০ টাকা প্রায়। আচ্ছা সাধারন একজন বাইকারের পক্ষে এতো টাকা দিয়ে হেলমেট ক্রয় করা কি সম্ভব? না সবার পক্ষে সম্ভব না।

আমাদের কয়েকটি কথা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছেঃ
যেভাবে মোটরসাইকেলের আমদানি শুল্ক কমিয়েছেন দেশীয় শিল্পের বিকাশ ঘটানোর জন্য যাতে কম মুল্যে বাংলাদেশের মানুষ মোটরসাইকেল কিনতে পারে। ঠিক সেভাবে সেই মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীর নিরাপত্তার জন্য হেলমেটের উপর আমদানি শুল্ক কমিয়ে দিন যাতে সবাই সানন্দে হেলমেট ক্রয় ও ব্যবহার করতে উদ্বুদ্ধ হয়। সেই সাথে নিরাপত্তামূলক সেফটি গিয়ারের ও আমদানি শুল্ক কমিয়ে দিন।

মোটরসাইকেল হেলমেটের একটি নুন্যতম মান নির্ধারণ করে দিন ও কি ধরনের হেলমেট ব্যবহার করতে হবে তা নির্ধারণ করে দিন। যাতে ওই মানদণ্ডের চাইতে নিম্নমানের হেলমেট নামক খোলস কেউ আমদানি করতে না পারে। সেক্ষেত্রে প্রযোজ্য ব্রান্ড উপযুক্ত সার্টিফাইড প্রতিষ্ঠানের সনদ বা ছাড়পত্র আমদানির সময় দাখিল করতে হবে।

মোটরসাইকেল কোম্পানি গুলো প্রতিটি মোটরসাইকেল এর সাথে মানসম্পন্ন একটি হেলমেট সরবরাহ করতে পারেন। মোটরসাইকেল রাইডিং স্কুল বা কর্মশালার মাধ্যমে বাইকারদের প্রয়োজনীয় ট্রেনিং ও সড়ক নিরাপত্তা সমন্ধে সচেতন করা যেতে পারে। এই কাজ গুলো মোটরসাইকেল কোম্পানি গুলোর করা উচিৎ সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই। মার্কেটিং এর অল্প কিছু অংশ খরচ করলেই এই কাজ গুলো করা সম্ভব।

যার যার অবস্থানে থেকে উপরোক্ত বিশয়গুলো নিয়ে কিছু করার উপযুক্ত সময় এখুনি, আসুন সবাই মিলে সবার নিরাপত্তায় কাজ করি। সংশ্লিষ্ট সরকারী প্রতিষ্ঠান ও কোম্পানি গুলো এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহন করবেন। আসুন সবাই সচেতন হই, হেলমেট ব্যবহার করি, নিরাপদ গতি মেনে চলি, হাসিমুখে ঘরে ফিরি। উপরোক্ত বিশয়ে যে কোন সহযোগিতায় আমরা হ্যালোবাইকারস সদা প্রস্তত।

আপনার মুল্যবান মতামত ও শেয়ারের মাধ্যমে যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা সম্ভব বলে আমাদের বিশ্বাস।

Photo
Wait while more posts are being loaded