★★বাঙ্গালী নদী★★

বগুড়া জেলা দিয়ে প্রবাহিত নদীগুলোর মধ্যে বাঙ্গালী সম্ভবত সবচেয়ে দীর্ঘ এবং করতোয়া ও আত্রাই নদীর পূর্ব পার্শ্বে এর অবস্থান। এটি নীলফামারী জেলার কতিপয় ক্ষুদ্র প্রকৃতির খাল/জলাশয় থেকে বের হয়ে সৈয়দপুর থানার নিম্নভূমি অতিক্রম করে সাধারণ নদীখাতরূপে রংপুর জেলার পূর্ব দিক দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দপুর থানার কাটাখালী স্রোতধারাটি বাঙ্গালী নামে দক্ষিণ পূর্ব দিকে অগ্রসর হতে থাকে। গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা থানা থেকে দুটি জল স্রোতধারা বগুড়া জেলার সোনাতলা থানাস্থ বিসুর পাড়া ও বিশ্বনাথপুর মৌজাদ্বয় দিয়ে ছড়িয়ে পড়ে যথাক্রমে কামারপাড়া, রংবার পাড়া, নামাজখালি, শিকারপাড়া পর্যন্ত এসে২ ভাগে বিভক্ত হয় এবং একটি শাখা পশ্চিম দিকের শিকারপাড়া, হলদিয়াবাগ মৌজা ঘুরে পুনরায় মূল ধারার সংগে মিশে যায় এবং মূল শাখাটি নামাজখালি অতিক্রমপূর্বক সারিয়াকান্দি থানাস্থ সাতবেকী ঘুরে আবার সোনাতলা থানার হলদিয়াবাগে মিলিত হয়ে মিলিত ধারা পুনরায় সারিয়াকান্দি থানার শ্যামপুর হয়ে আবার সোনাতলা থানার সারজানপাড়া ও বয়রা হয়ে পুনরায় সারিয়াকান্দি থানার খামারবালালি, বারুরবাড়ি ও নারচি পর্যন্ত অগ্রসর হয়।

এখানে ৩ ভাগে বিভক্ত হয়ে ১টি শাখা পশ্চিমে ফুলবাড়ি হয়ে গাবতলী থানার দুর্গাহাটা ইউনিয়নস্থ দুর্গাহাটা সিলন্দাবাড়ি এবং ২য়টি ফুলবাড়ি মৌজার পূর্ব প্রান্ত দিয়ে গাবতলী থানার বালিয়াদিঘি ইউনিয়নের বালিয়াদিঘি, কালাইহাটা এবং ৩য় বা মূল শাখাটি দক্ষিণে ধুনট থানার গোসাইবাড়ি, পাইকপাড়া, ছাগলধারা, দেবডাঙা, বড়াইডান্ডি, ডোমকান্দি, দক্ষিণ বাশহাটা, ভেলাবাড়ি হয়ে আবার সারিয়াকান্দি থানার দক্ষিণে জোড়গাছা হয়ে ধুনট থানার দুই দিক দিয়ে প্রবেশ করে।

১টি শাখা নিমগাছি ইউনিয়স্থ ধামাচামা মৌজা হয়ে এক বাঁক নিয়ে মাঝমাড়ি, শিয়ালি, চিকাশি ইউনিয়নস্থ চিকাশী, পারলক্ষীপুর, কালেরপাড়া ইউনিয়নের কদাই, লক্ষীপুর, আনারপুর, ধুনট ইউনিয়নের ধুনট, হয়ে কাজীপুর থানায় প্রবেশ করে। অপরদিকে ২য় শাখাটি ধুনট থানার নিমগাছি ইউনিয়নস্থ ধামগাছার পশ্চিম প্রান্ত দিয়ে প্রবাহিত হয়ে দুটি বড় ধরনের বাঁক নেয় এবং কিছুদূর অগ্রসর হয়ে একটি অশ্বখুরাকৃতি হ্রদ সৃষ্টি করে এবং নিমগাছি অতিক্রম করে বগুড়া থানায় প্রবেশ করে এবং এলাঙ্গী ইউনিয়নের বিলচাপরি হয়ে শেরপুর থানার খামারকান্দি ইউনিয়নের ঘোরদৌড়ে ঢুকে বেশ অাঁকাবাঁকা পথে অগ্রসর হয়ে খানপুর ইউনিয়নের গোপালপুর তেবাড়িয়া, ধুনট, শেরপুর সড়ক ছেদ পূর্বক বথুয়াবাড়িতে হলহলিয়ার সঙ্গে মিশে যায়।

এটি একটি আঁকাবাঁকা প্রকৃতির নদী, বর্ষাকালে পানিতে পরিপূর্ণ থাকে এবং তখন নৌকা অনায়াসে চলাফেরা করে থাকে। এ নদী পথ পরিক্রমা প্রায় ৫০/৬০ মাইল এবং এর তীরে অনেক প্রাচীন জনপদ গড়ে উঠেছে।

মডারেটর
"বগুড়া লোকাল গাইডস"

Post has attachment
★বাংলাদেশে বগুড়া জেলার অবস্থান★

বগুড়া জেলা বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের
রাজশাহী বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল। বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গে এক ঐতিহ্যবাহি প্রাচীন জনপদ বগুড়া। প্রাচীন পুন্ড্র রাজ্যের রাজধানী পুন্ড্রবর্ধন হচ্ছে বগুড়া।

আয়তন

মোট ২৮৯৮.২৫ কিমি২ (১১১৯.০২ বর্গমাইল) জনসংখ্যা (২০১১) মোট ৩৫,৩৯,২৯৪ ঘনত্ব ১২০০ কিমি২ (৩২০০/বর্গমাইল)
স্বাক্ষরতার হার মোট ৪৯.৪৬%

ভৌগোলিক সীমানা

৮৮.৫০ ডিগ্রী পূর্ব থেকে ৮৮.৯৫ ডিগ্রী পূর্ব দ্রাঘিমাংশে এবং ২৪.৩২ ডিগ্রী উত্তর থেকে ২৫.০৭ ডিগ্রী উত্তর অক্ষাংশে বগুড়া সদর উপজেলা অবস্থিত। বগুড়া জেলার উত্তরে গাইবান্ধা ও জয়পুরহাট জেলা, দক্ষিণে সিরাজগঞ্জ ও নাটোর জেলা, পূর্বে জামালপুর জেলা ও যমুনা নদী এবং পশ্চিমে নওগাঁ জেলা অবস্থিত।

প্রশাসনিক এলাকাসমূহ

বগুড়া জেলা ১৮২১ সালে জেলা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। জেলায় মোট উপজেলার সংখ্যা মোট ১২ টি। পৌর সভার সংখ্যা ১২ টি, ইউনিয়ন রয়েছে মোট ১০৮ টি। এছাড়া জেলায় ২,৬৯৫ টি গ্রাম, ১,৭৫৯ টি মৌজা রয়েছে। বগুড়া জেলার উপজেলা গুলি হল -

(১) বগুড়া সদর উপজেলা
(২) শাজাহানপুর উপজেলা
(৩) সোনাতলা উপজেলা
(৪) ধুনট উপজেলা
(৫) দুপচাঁচিয়া উপজেলা
(৬) গাবতলী উপজেলা
(৭) কাহালু উপজেলা
(৮) নন্দীগ্রাম উপজেলা
(৯) সারিয়াকান্দি উপজেলা
(১০) শেরপুর উপজেলা
(১১) শিবগঞ্জ উপজেলা
(১২) আদমদিঘী উপজেলা

জনসংখ্যা উপাত্ত

২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী জেলার মোট জনসংখ্যা ৩৫,৩৯,২৯৪ জন। এর মধ্যে ১৭,৭৮,৫২৯ জন পুরুষ এবং ১৭,৬০,৭৬৫ জন নারী।
জেলার সাক্ষরতার হার ৪৯.৪৬%।

যোগাযোগ ব্যবস্থা

বগুড়াকে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার বলা হয়। মূলত ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গের বেশির ভাগ জেলায় যেতে বগুড়াকে অতিক্রম করতে হয় বলেই এরকম বলা হয়ে থাকে। বগুড়ার যোগাযোগ ব্যাবস্থা খুবই উন্নত মানের। ট্রেন এবং বাস উভয় ব্যবস্থায় ঢাকা থেকে আসা যায়। জেলায় মোট রাস্তার পরিমাণ ৬,০৪১ কিলোমিটার। এর মধ্যে পাকা রাস্তা রয়েছে ২,৩১০ কিলোমিটার এবং কাচা রাস্তা রয়েছে ৩,৭৩১ কিলোমিটার। এছাড়াও জেলার উপর দিয়ে ৯০ কিলোমিটার রেলপথ রয়েছে।

সড়ক পথ

ঢাকা পঞ্চগড় হাইওয়েটি বগুড়া জেলার একেবারে মধ্যভাগ দিয়ে শেরপুর, শাহজাহানপুর, বগুড়া সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলা দিয়ে চলে গেছে। ভারী এবং দূর পাল্লার যানবাহন চলাচলের জন্য মূল সড়কের পাশাপাশি রয়েছে প্রশস্ত দুটি বাইপাস সড়ক। প্রথমটি পুরাতন বাইপাস নামে পরিচিত শহরের পশ্চিম দিকে মাটিডালি থেকে শুরু হয়ে বারপুর, চারমাথা, ১ নং রেলগেট, ফুলতলা হয়ে বনানীতে গিয়ে শেষ হয়েছে। দ্বিতীয়টি নতুন বাইপাস নামে পরিচিত যা ২০০০ সালের পরবর্তীকালে নির্মিত হয়। দ্বিতীয় বাইপাসটি মাটিডালি থেকে শুরু হয়ে শহরের পূর্ব পাশদিয়ে জয়বাংলা বাজার, সাবগ্রাম হয়ে বনানীতে গিয়ে মুল সড়কের সাথে মিলিত হয়েছে। এছাড়া নাটোর, পাবনা, রাজশাহী সহ দক্ষিণ বঙ্গের জেলা গুলোর সাথে যোগাযোগের জন্য একটি আলাদা মহাসড়ক রয়েছে যা নন্দীগ্রাম উপজেলার মধ্যদিয়ে নাটোরের সাথে সংযুক্ত। নওগা জেলার সাথে যোগাযোগের জন্য চারমাথা থেকে আরেকটি সংযোগ সড়ক কাহালু, দুপচাঁচিয়া, সান্তাহারের মধ্য দিয়ে নওগাঁয় গিয়ে শেষ হয়েছে। এছাড়া বগুড়া জয়পুরহাট জেলাকে সংযুক্ত করার জন্য রয়েছে আলাদা সড়ক ব্যবস্থা।

রেল পথ

বগুড়া জেলার সর্ব পশ্চিমে রয়েছে সান্তাহার রেলওয়ে জংশন। বাংলাদেশ রেলওয়ের ব্রডগেজ লাইন নাটোর থেকে জয়পুরহাট পর্যন্ত সান্তাহাররের উপর দিয়ে চলে গেছে। এছাড়া সান্তাহার থেকে একটি মিটারগেজ লাইন আদমদিঘী, তালোড়া, কাহালু, বগুড়া শহরের মধ্যদিয়ে রংপুর, গাইবান্ধা, লালমনিরহাটকে সংযুক্ত করেছে।

আকাশ পথ

বগুড়ার একমাত্র বিমানবন্দরটি কাহালু উপজেলার এরুলিয়া নামক স্থানে অবস্থিত। তবে বিমান বন্দরটি সাধারণ বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহৃত হয়।

মডারেটর
"বগুড়া লোকাল গাইডস"
Photo

Post has attachment
সতীকন্যা সাহেবানীর মাজার
=======================
কাহালু উপজেলার দূর্গাপুর ইউনিয়নের অর্ন্তগত দেওগ্রাম বাজারের সামান্য পূর্বে ফকিরপাড়া গ্রামে অবস্থিত সতীকন্যা বিবি সাহেবানী শাহজাদীর মাজার।

জনশ্রুতিতে জানা যে, অপরূপা সুন্দরী বিবি সাহেবানীর পিতা জহির উদ্দীন ছিলেন একজন ধার্মিক ব্যক্তি। বিবি সাহেবানী তার পিতার ন্যায় সৎ চারিত্রিক গুনের অধিকারী ছিলেন। তার রূপ ও গুনে মুগ্ধ হয়ে এলাকার রাজা জমিদারগণ বিয়েরপ্রস্তাব পাঠালে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করায় দেশের উত্তর এলাকার এক প্রতাপশালী জমিদার তাকে অপহরণের চেষ্টা করেন।

তিনি তার সম্ভ্রম রক্ষার্থে মহান প্রভূর নিকট করেন হে প্রভূ আমি আর পৃথিবীতে থাকতে চাইনা মাটির নিচে যেতে চাই। প্রভূ তার প্রার্থনা সাথে সাথে মঞ্জুর করলে সেখানকার মাটি ফাঁকা হয়ে যায়বিবি সাহেবানী দ্রুতগতিতে মাটির মধ্যে প্রবেশ করেন এবং মাটি আবার পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসে।

এ ঘটনার পর হতে বিবি সাহেবানী সেখানে চির নিন্দ্রায় শায়িত আছেন। বিবি সাহেবানীর এ কাহিনীর কোন দালিলিক প্রমান নেই, তবে ঘটনাটি শায়েস্তা খাঁর (হিজরী ৭৩৩, বাংলা ৭১৯ ইংরেজী ১৩১২) শাসন আমলে ঘটেছিল বলে এলাকাবাসীর অনুমান।

কিভাবে যাওয়া যায়: বগুড়া সাতমাথা হতে সিএনজি বা বাসযোগে দেওগ্রাম বাজার

অবস্থান: দূর্গাপুর ইউনিয়নের দেওগ্রাম বাজার
Photo

Post has attachment
ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে আজ ২৭-০৬-২০১৭ ইং মঙ্গলবার নাটোর থেকে অাসা পর্যটন প্রেমী বন্ধুদের সাথে বগুড়ার বেশ কিছু বিনোদন স্পট- পৌর পার্ক, শহিদ খোকন পার্ক, কারুপল্লি মিউজিয়াম ও উত্তরবঙ্গের প্রাচীন নিদর্শন সার্কের সাংস্কৃতিক রাজধানী "মহস্থানগড়" ভ্রমন শেষে আড্ডা মাস্তি খাইদাই এর ফাকে ফাকে ফ্রেম বন্দি করা কিছু মূহুর্ত।

বন্ধুরা,
মিজানুর রহমান
মেহেদি হাসান মিঠু
রফিকুল ইসলাম রকি
আব্দুল্লাহ্ আল মামুন
আব্দুলাহ্ আল মামুন সৈকত

তোমাদের অনেক ধন্যবাদ হঠাৎ করে অামাদের বগুড়াতে ঘুরতে অাসার জন্য এবং আবারো অামন্ত্রন রইল।

অন্যান্য বন্ধুদেরকে সার্কের সাংস্কৃতিক রাজধানী, ঐতিহ্যের প্রাচীন নগরী, উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার, উত্তরবঙ্গের প্রানকেন্দ্র, শিল্প খাতে সমৃদ্ধির শহর "বগুড়া" জেলায় ঘুরতে অাসার জন্য স্বাগতম জানাচ্ছি।

মোহাইমিনুল ইসলাম প্রিন্স
মডারেটর
"বগুড়া লোকাল গাইডস"
01718189158
Photo
Photo
28/06/2017
2 Photos - View album

Post has attachment
"বগুড়া লোকাল গাইডস" এর পক্ষ থেকে সকলকে "ঈদ মোবারক"।
Photo

নিতাই ধোপানীর ঘাট বা নিতাই ধোপানীর পাট বাংলাদেশের রাজশাহী বিভাগে বগুড়া জেলার 
শিবগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত একটি প্রাচীন স্থাপনা। এটি বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর এর তালিকাভুক্ত একটি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা।

নিতাই ধোপানীর ঘাট বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত একটি প্রাচীন স্থাপনা। এটি গোকুল মেঢ় থেকে ১০০০ মিটার এবং রংপুর বগুড়া সড়ক থেকে প্রায় ৩০০ মিটার পশ্চিমে অবস্থিত। খুল্লনার ধাপ থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার পশ্চিমে এই ঢিবিটি অবস্থিত।

নিতাই ধোপানীর ঘাট একটি বিরাট ঢিবি ছিল। এখন আয়তন কমেছে। ১৯২৯ সালের এক পুস্তকের মতে দৈর্ঘ্য ৯০.৯ মিটার, প্রস্থ ৯০.৯ মিটার ও উচ্চতা ৯.০৯ মিটার। এই ঢিবিটির প্রাচীন ইট পাওয়া গিয়েছিল।

মোহাইমিনুল ইসলাম প্রিন্স
মডারেটর
"বগুড়া লোকাল গাইডস"

Post has attachment
ধনভাণ্ডার ঢিবি বাংলাদেশের রাজশাহী বিভাগে 
অবস্থিত একটি প্রাচীন স্থাপনা। এটি মূলত বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায় 
অবস্থিত ও বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর এর তালিকাভুক্ত একটি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা। স্থাপনাটি ষষ্ঠীতলা ধাপ থেকে ২০০ মিটার দক্ষিণ পশ্চিমে গোনরাই বিলের দক্ষিণ পাড়ের কাছাকাছি স্থানে অবস্থিত।

ধনভাণ্ডার ঢিবির দৈর্ঘ্য ৪৫ মিটার, প্রস্থ ৩০ মিটার ও উচ্চতা প্রায় ৯ মিটার। এই ঢিবির প্রাচীন ইট ও ইমারত তৈরির অন্যান্য দ্রব্য দিয়ে পরিপূর্ণ। স্থানীয় লোকদের বিশ্বাস এখানে এক সময় চাঁদ সওদাগরের ধনভান্ডার ছিল। এর প্রকৃত পরিচয় পাওয়া যাবে ইমারতের উৎখনন করলে।

মোহাইমিনুল ইসলাম প্রিন্স
মডারেটর
"বগুড়া লোকাল গাইডস"
Photo

★বগুড়া সদর উপজেলার পটভূমি ও ভৌগলিক অবস্থান★

বগুড়া বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের একটি জেলা। ২০১৬ সালে সার্কের সাংস্কৃতিক রাজধানী ঘোষনাকৃত এ জেলাটি রাজশাহী বিভাগের অন্তর্গত। বগুড়াকে উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার বলা হয়। ইহা শিল্পের শহর নামেও পরিচিত। এখানে ছোট এবং মাঝারি ধরনের শিল্প কারখানা রয়েছে। বগুড়া জেলায় প্রাচীন সভ্যতার ইতিহাস রয়েছে।

৮৮.৫০ ডিগ্রী পূর্ব থেকে ৮৮.৯৫ ডিগ্রী পূর্ব দ্রাঘিমাংশে এবং ২৪.৩২ ডিগ্রী উত্তর থেকে ২৫.০৭ ডিগ্রী উত্তর অক্ষাংশে বগুড়া সদর উপজেলা অবস্থিত। বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গে প্রবেশদার এক ঐতিহ্যবাহি প্রাচীন জনপদ বগুড়া। প্রাচীন পুন্ড্র রাজ্যের রাজধানী পুন্ড্রবর্ধন হচ্ছে বগুড়া। বগুড়া এর উত্তরে-শিবগঞ্জ, দক্ষিণে-শাজাহানপুর, পূর্ব-গাবতলি এবং পশ্চিমে- কাহালু উপজেলা।

উত্তরবঙ্গের ১৬টি জেলার প্রাণকেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত বগুড়া সদর উপজেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে বিশ্বরোড নামক প্রশস্ত সড়ক। বাংলাদেশের একমাত্র ফাউন্ড্রি শিল্পখ্যাত বগুড়া সদর উপজেলা। ফাউন্ড্রি শিল্পের পাশাপাশি বর্জ্য তুলা, ঝুট কাপড়, সাবান, বেডসীট মশারী কাপড়, জুট মিলস, পেপার মিলস, ফিড মিলস, সিমেন্ট কারখানা, পোল্ট্রিশিল্প সহ এগ্রো বেসড্ শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এ সব শিল্প প্রতিষ্ঠান হতে মানসম্মত পণ্য উৎপাদন হয়। যা অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি ভারত, নেপাল, মালোয়েশিয়া, কানাডা সহ বিভিন্ন দেশে রপ্তান্তি বাজারে প্রবেশ করার সুযোগ সৃষ্টি করেছে।

এ উপজেলায় মহাসড়কের দু’পাশে অবস্থান করছে প্রকৃতির অপরূপ সাজে সজ্জিত বগুড়া সদর উপজেলার গ্রামগুলো। উপজেলাটি খাদ্য শস্য ও শাকসবজি উৎপাদনের ভান্ডার হিসেবে খ্যাত। এ জনপদের জনসাধারণের বহুদিনের আশা-আকাংখার প্রতিক শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, শহীদ চাঁন্দু আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ষ্টেডিয়াম, জাতীয় কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ও গবেষণা একাডেমী, এশিয়া মহাদেশের সর্ববৃহৎ অন্যতম নারী সংগঠন পরবর্তীতে এনজিও হিসাবে পরিচিত ঠেঙ্গামারা মহিলা সবুজ সংঘ (টিএমএসএস) এর সদর দপ্তর এ উপজেলার মধ্যে অবস্থিত।

এছাড়া, গোকুল ইউনিয়নে মেধ নামক স্থানে ঐতিহাসিক বেহুলা - লক্ষিনদরের বাসর ঘর, চাঁদমুহা, হরিপুর-সাহার বিল এলাকায় চাঁদ সওদাগরের বসতবাড়ি, নামুজা ইউনিয়নের চিংগাসপুরে পদ্মাদেবীর বাড়ি, লাহিড়ীপাড়া ইউনিয়নের রায়-মাঝিড়ায় কালু গাজীর কোর্ট এবং নুনগোলা ইউনিয়নের হাজরাদিঘী এবতেদায়ী মাদ্রাসা সংলগ্ন, সাপের ওঝাঁ ধনান্তরীর বাড়ি অবস্থিত। উপজেলার প্রাণকেন্দ্র সাতমাথায় সার্কিট হাউজ সংলগ্ন, নবাববাড়ি যা বর্তমানে প্যালেস মিউজিয়াম ও কারুপল্লী নামে বহুল পরিচিত। ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠ ও বগুড়ার উডবার্ন পাবলিক লাইব্রেরি যা ১৮৫৪ সালে স্থাপিত হয়েছে। উডবার্ন পাবলিক লাইব্রেরি সংলগ্ন স্থানে বৃটেনের রাজ পরিবারের সদস্য এ্যাডওয়ার্ড সপ্তম জজ এর একটি প্রাচীন ভাস্কর্য রয়েছে।
বগুড়া শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে শাহাদৎ বরণকারি দেশের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ট ৭জন বীরশ্রেষ্ট সম্মানের অধিকারী স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপনা উলেখ্যযোগ্য।

উত্তরবঙ্গে সর্বপ্রথম আমত্মর্জাতিক মানের চার তারকা হোটেল নাজ গার্ডেন এবং শিশুদের চিত্তবিনোদনের স্থান ওয়ান্ডারল্যান্ড পার্ক সদর উপজেলাতেই অবস্থিত। এ উপজেলায় পাকিস্থানের প্রধানমন্ত্রী জনাব সৈয়দ মোহাম্মদ আলী চৌধূরী, বিশিষ্ট সাহিত্যিক রোমেনা আফাজ, এম.আর আকতার মুকুল, বি.এম ইলিয়াস, ভাষা সৈনিক গাজীউল হক, পল্লী কবি রোস্তম আলী কর্ণপুরী, কণ্ঠশিল্পি আঞ্জুমান আরা জম্ম গ্রহণ করেছেন।

সুলতান গিয়াস উদ্দিন বলবনের পুত্র সুলতান নাসির উদ্দিন বগড়াগণ ১২৭৯ থেকে ১২৮২ পর্যন্ত এ অঞ্চলের শাসক ছিলেন। তার নামানুসারে এ অঞ্চলের নাম হয়েছে বগড়া বা বগুড়া।

মোহাইমিনুল ইসলাম প্রিন্স
মডারেটর
"বগুড়া লোকাল গাইডস"

Post has attachment
শহীদ চান্দু স্টেডিয়াম (Shaeed Chandu Stadium), এটির পূর্বের নাম ছিল বগুড়া বিভাগীয় স্টেডিয়াম, বগুড়া জেলার উত্তরপশ্চিমস্থ প্রান্তে এটির অবস্থান।

এই স্টেডিয়ামে একটি মাত্র টেস্ট হয়েছিল ২০০৬ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। ওই ম্যাচে বাংলাদেশ হেরেছিল ১০ উইকেটে। এছাড়া এই স্টেডিয়ামে হওয়া পাঁচটি ওয়ানডের মধ্যে চারটিতেই জিতেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে একটি ওডিআইতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৪ উইকেটের জয় পায়। যেটি ছিল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম জয়। এরপর জিম্বাবুয়ে ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে জিতেছিল বাংলাদেশ।

বর্তমানে অযাচিত কারনে উক্ত শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামটি প্রায় দীর্ঘ ১১ বছর ধরে আন্তর্জাতীক মানের খেলায় বন্ধ থাকলেও বাংলাদেশের বিভিন্ন লীগের খেলার গড়ায় ।

রেকর্ডে বাংলাদেশের প্রথম তিন শতকের রানে পৌঁছায় এর মাঠেই। কেনিয়ার বিপক্ষে ৫০ ওভার পূর্তির শেষ বলে মাশরাফির ছক্কায় ৩০০ রানের স্বাদ গ্রহণ করে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। উক্ত ম্যাচে বাংলাদেশ জয়লাভ করে।

বাংলাদেশের বর্তমান অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম, পেসার শফিউল বগুড়ার মাটিতে খেলে বড় হয়েছেন। মুশফিকুর রহিম মনে করেন এবার বিশ্বকাপে তিনি তার মাঠকে মিস করবেন। এছাড়া খাদিজাতুল কোবরা, রিতু মনির মত জাতীয় দলের নারী ক্রিকেটারদের খেলার শুরু এই মাঠেই।

মডারেটর
"বগুড়া লোকাল গাইডস"
01718189158
Photo

Post has attachment
সার্কের সাংস্কৃতিক রাজধানী, উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার আমাদের বগুড়ার প্রতিষ্ঠিত বিদ্যাপীঠ সরকারি আজিজুল হক কলেজ উত্তরবঙ্গের শ্রেষ্ঠ বিদ্যানিকেতন। এটির অাচার্য স্যার অাঃ হামিদ এটি ১৯৩৯ সালে নির্মিত এখানে ৫০০০০ জন শিক্ষার্থী অধ্যায়ন করে। 

স্যার আজিজুল হক ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার শান্তিপুরে জন্মগ্রহন করেন। শান্তিপুর মুসলিম ইংরেজি হাইস্কুল থেকে তিনি ১৯০৭ সালে প্রবেশিকা কলিকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে ১৯০১ সালে এফ.এ ও ১৯১১ সালে ডিস্টিংশনসহ বি.এ এবং কলিকাতা ইউনিভার্সিটি থেকে ১৯১৪ সালে বি.এল ডিগ্রী অর্জন করেন।

স্যার অাজিজুল হক বঙ্গীয় ব্যাবস্হাপক সভার সদস্য (১৯২৬,১৯২৯ ও ১৯৩৭) ও স্পিকার (১৯৩৭-১৯৪২), কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (১৯৩৮-১৯৪২) এবং বাংলা সরকারের শিক্ষামন্ত্রী (১৯৩৪) ছিলেন স্যার আজিজুল হক কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য থাকাকালীন এই কলেজ অধিভুক্তি লাভ করায় বগুড়াবাসী তার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে এই কলেজের নামকরন করেন আজিজুল হক কলেজ।

তিনি ১৯২৬ সালে খান বাহাদুর, ১৯৩৭ সালে সার্টিফায়িড এ্যাসোসিয়েশন অব এগজিকিউটিভ এবং ১৯৩৯ সালে নাইট উপাধি পান। ১৯৪২ সালে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সম্মানসূচক ডি,লিট উপাধি প্রদান করেন।

স্যার আজিজুল হকের দেওয়ালে অঙ্কিত ছবি আমাদের কলেজ চত্বরে রয়েছে যা ২০১৪ সালে স্হাপিত হয়। অত্র কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. দীপকেন্দ্র নাথ দাস এটির উদ্ধোধন করেন।

মোহাইমিনুল ইসলাম প্রিন্স
মডারেটর
"বগুড়া লোকাল গাইডস"
Photo
Wait while more posts are being loaded