আমি শেখ মুজিবর রহমানের কথা বলি
কারণ, তিনি বাঙালী জাতির মুক্তির কথা বলতেন।
আমি উচ্চ কণ্ঠে ঘোষণা করি
তাঁর মহত্ত্ব ও অসাধারণ দেশ প্রেমের
জ্বলজ্বলে ইতিহাস। তিনিই বাঙালী...
জাতির জনক, বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা,
এতে কোনো সন্দেহ নাই।
বাংলার ফুল-পাতা, নদী-নালা
পাহাড়-পর্বতে
একটি নাম সর্বক্ষণ আলোক ছড়ায়;
বস্তুতঃ বাংলাদেশের ডাক নাম শেখ মুজিব।
আমি তাঁর পবিত্র রক্ত ও আদর্শের কাছে
অঙ্গীকারাবদ্ধ
এক বাঙালী-সন্তান। তোমরা বিশ্বাস
করো, হে মুজিব
সন্তানেরা, হে বাংলার মানুষ,
আমি তোমাদের এতোটুকু মিথ্যা বলি নাই।
যদি তোমরা সত্যবাদী হও,
তবে উচ্চারণ করো তাঁর নাম
এবং কিছুতে বিস্মৃত হয়ো না
তোমাদের সত্তা ও আদর্শ, তোমাদের গৌরব ও গর্ব।
আর অশ্রু নয়
এবার মিথ্যাবাদীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও
এবং স্মরণ করো সেই
উদাত্ত আহ্বান, “তোমাদের যা কিছু আছে
তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকো…
এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম।
জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু।

এবার ভারতে নির্মাণ হচ্ছে শেখ হাসিনার ভাস্কর্য।কলকাতার একটি স্থানীয় সংগঠন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এই ভাস্কর্য নির্মাণ করছে।সোমবার ভাস্কর সুনীল পাল ভাস্কর্যটিতে তুলির শেষ আঁচড় দিয়েছেন।সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের পর বাংলাদেশ-ভারত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের নিদর্শন হিসেবে ভাস্কর্যটি নির্মাণ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।মঙ্গলবার নির্মিতব্য শেখ হাসিনার এ ভাস্কর্যটির শেষ মুহূর্তের কাজের ছবি প্রকাশ করে এএফপি। ছবিতে দেখা যায় শিল্পী সুনীল পাল কাঁদামাটি দিয়ে নির্মাণাধীন ভাস্কর্যটিতে শেষ মুহূর্তের আঁচড় দিচ্ছেন।

১৭ই মার্চ, ১৯২০ সালে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় শেখ লুৎফুর রহমান এবং সায়রা বেগমের ঘরে জন্ম নেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ছয় ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়। গোপালগঞ্জ পাবলিক স্কুল ও কলকাতা ইসলামিয়া কলেজে পড়াশনা শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক পাশ করেন। ১৮ বছর বয়সে বেগম ফজিলাতুন্নেসার সাথে তাঁর বিয়ে হয়। তাদের ২ মেয়ে - শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা এবং তিন ছেলে- শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শেখ রাসেল।

 

অল্পবয়স থেকেই তাঁর রাজনৈতিক প্রতিভার প্রকাশ ঘটতে থাকে। ১৯৪০ সালে তিনি নিখিল ভারত মুসলিম লীগের ছাত্র সংগঠন নিখিল ভারত মুসলিম ছাত্র ফেডারেশনে যোগ দেন। কট্টরপন্থী এই সংগঠন ছেড়ে ১৯৪৩ সালে যোগ দেন উদারপন্থী ও প্রগতিশীল সংগঠন বেঙ্গল মুসলিম লীগে। এখানেই সান্নিধ্যে আসেন হুসেইন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালীন সময়ে রক্ষণশীল কট্টরপন্থী নিখিল ভারত মুসলিম ছাত্র ফেডারেশনের কর্তৃত্ব খর্ব করতে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্র লীগ।

 

ভাষা আন্দোলনের সময় রাজনৈতিক নেতা হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন শেখ মুজিব। ১৯৪৮ সালে ভাষার প্রশ্নে তাঁর নেতৃত্বেই প্রথম প্রতিবাদ এবং ছাত্র ধর্মঘট শুরু হয় যা চূড়ান্ত রূপ নেয় ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারিতে। 

...... নজরুল নিজেই লিখেছেন এবং ঠিক মনে করার অনেক কিছুই আছে । সেটা এই যে, তাঁর আবির্ভাব ব্যতিরেকে বাঙালী মুসলমানদের পুনর্জাগরণ সম্ভব হোতো না ।
১৯৪১ এর নবযুগ পত্রিকার বিশেষ সংখ্যায় “নজরুল’ বলেনঃ- “আমার কবিতা আমার শক্তি নয়; আল্লাহর দেওয়া শক্তি- আমি উপলক্ষ্য মাত্র ! বীণার বেণুতে সুর বাজে কিন্তু বাজান যে-গুণী, সমস্ত প্রশংসা তাঁরই । .......... গ্রামোফোন রেকর্ডে শত শত ইসলামী গান রেকর্ড করে নিরক্ষর তিন কোটি মুসলমানদের ঈমান অটুট রাখারই চেষ্টা করেছি ................... ।....... মুসলমানের জন্য আমার দান কোনো নেতার চেয়ে কম নয়; যেসব মুসলমান যুবক আজ নবজীবনের সাড়া পেয়ে দেশের জাতির কল্যাণের সাহায্য করছে তাদের প্রায় সকলেই অনুপ্রেরণা পেয়েছে এই ভিক্ষুকের ভিক্ষা-ঝুলি থেকে । অতএব কাজী নজরুল ইসলামকে নাস্তিক তথা কাফের কেবল গায়ের জোড়েই বলা যায় কিন্তু সমসাময়িককালে তার মতো সত্যিকারের আস্তিক দ্বিতীয় জন কেউ ছিলেন কি না তা বলা কঠিন ।

১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে এক ঐতিহাসিক ভাষণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ডাক দেন। রেসকোর্সের জনসমুদ্রে বঙ্গবন্ধু ঘোষণা করেন “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম”। ঐতিহাসিক এ ভাষণে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতিকে শৃংখল মুক্তির আহ্বান জানিয়ে ঘোষণা করেন, “রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরো দেবো। এদেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাল্লাহ্। ... প্রত্যেকে ঘরে ঘরে দূর্গ গড়ে তোলো। যার যা কিছু আছে তাই নিয়েই শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে”।
বঙ্গবন্ধুর ডাকে উত্তাল হয়ে ওঠে সারা বাংলা। মুজিবের নেতৃত্বে বাঙ্গালি জাতির এই জাগরণে ভীত ইয়াহিয়া খান সামরিক আইন জারি করেন, নিষিদ্ধ করেন আওয়ামী লীগকে এবং শেখ মুজিবকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন।
Wait while more posts are being loaded