Post has shared content

Post has shared content

Post has attachment

Post has attachment

Post has attachment
Animated Photo
PhotoPhotoPhotoPhoto
25/01/2017
178 Photos - View album

Post has attachment
Photo

E great H

Post has shared content

Post has shared content

Post has shared content
** নবী (সঃ) মাটির, নাকি নূরের তৈরি?**

রাসূল সাঃ মাটির তৈরী োরআন ও হাদিস থেকে দলিল দ্বারা প্রমানিত।

[রাসূল (স:)] মাটির তৈরী, কোরআন-হাদীস থেকে দলীল দ্বারা প্রমাণিত!
প্রশ্ন : যে ব্যক্তি বিশ্বাস করে যে, নবী (সা:) মানুষ নন; বরং তিনি আল্লাহর নূর। অতঃপর সে নবী (দ:) এর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে এই বিশ্বাসে যে, তিনি কল্যাণ-অকল্যাণের মালিক, তার হুকুম কি?
উত্তর: যে ব্যক্তি এই বিশ্বাস করবে যে, নবী (দ:) আল্লাহর নূর, মানুষ নন, তিনি গায়েবের খবর জানেন, সে আল্লাহ্ এবং রাসূলের (দ:) সাথে কুফরী করল। সে আল্লাহ্ ও তার রাসূলের দুশমন, বন্ধু নয়। কেননা তার কথা আল্লাহ্ ও রাসূলকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূলকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করল, সে কাফের।

মানুষ কিসের তৈরী :

সুতরাং-প্রথমেই বুঝতে হবে মানুষ কিসের তৈরী? কুরআনে কারীমের বিভিন্ন আয়াত এবং সহীহ হাদীসের ভিত্তিতে একথা সুষ্পষ্ট প্রমাণিত যে, মানুষ মাটির তৈরী। নূর বা অগ্নির তৈরী নয়।
কয়েকটি আয়াতের দিকে লক্ষ্য করুন-
ﺇِﺫْ ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺑُّﻚَ ﻟِﻠْﻤَﻼﺋِﻜَﺔِ ﺇِﻧِّﻲ ﺧَﺎﻟِﻖٌ ﺑَﺸَﺮًﺍ ﻣِﻦ ﻃِﻴﻦٍ
অনুবাদ-যখন আপনার পালনকর্তা ফেরেস্তাদের বললেন-আমি মাটির তৈরী মানুষ সৃষ্টি করব। {সূরা সোয়াদ-৭১}
অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে-
ﻭَﻟَﻘَﺪْ ﺧَﻠَﻘْﻨَﺎ ﺍﻹِﻧﺴَﺎﻥَ ﻣِﻦ ﺻَﻠْﺼَﺎﻝٍ ﻣِّﻦْ ﺣَﻤَﺈٍ ﻣَّﺴْﻨُﻮﻥٍ
নিশ্চয় আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি পঁচা কর্দম থেকে তৈরী বিশুস্ক ঠনঠনে মাটি দ্বারা।{সূরা হিজর-২৮}
অন্যত্র আরো ইরশাদ হয়েছে-
ﺧَﻠَﻖَ ﺍﻟْﺈِﻧﺴَﺎﻥَ ﻣِﻦ ﺻَﻠْﺼَﺎﻝٍ ﻛَﺎﻟْﻔَﺨَّﺎﺭِ
ﻭَﺧَﻠَﻖَ ﺍﻟْﺠَﺎﻥَّ ﻣِﻦ ﻣَّﺎﺭِﺝٍ ﻣِّﻦ ﻧَّﺎﺭٍ
তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন পোড়া মাটির ন্যায় শুষ্ক মৃত্তিকা থেকে।
এবং জিনকে সৃষ্টি করেছেন অগ্নিশিখা থেকে।{সূরা আর রাহমান-১৪,১৫}
আরো ইরশাদ হয়েছে-
ﻫُﻮَ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﺧَﻠَﻘَﻜُﻢ ﻣِّﻦ ﺗُﺮَﺍﺏٍ
দ-তিনিই তোমাদের সৃষ্টি করেছেন মাটি দ্বারা।{সূরা মুমিন-৬}
আরো ইরশাদ হয়েছে-
ﻭَﻟَﻘَﺪْ ﺧَﻠَﻘْﻨَﺎ ﺍﻹِﻧﺴَﺎﻥَ ﻣِﻦ ﺳُﻼﻟَﺔٍ ﻣِّﻦ ﻃِﻴﻦٍ
আমি মানুষকে মাটির সারাংশ থেকে সৃষ্টি করেছি।{সূরা মুমিনুন-১২}
উপরোক্ত বক্তব্য থেকে মানব সৃষ্টির পদ্ধতি ও মূল উপাদান সম্পর্কে আশা করি সুষ্পষ্ট ধারণা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালার বাণী দ্বারা একথা সুষ্পষ্ট প্রমাণিত যে, মানুষ নূর বা আগুনের তৈরী নয়। বরং মাটির তৈরী।

নবীজী (সাঃ) কি ছিলেন? মানুষ? না জিন? না ফেরেস্তা?

রাসূল (সাঃ) জিন নন, এ ব্যাপারে সকলে একমত। তাই এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার কোন প্রয়োজন নেই।
মানব সৃষ্টির প্রথম মানুষ আমাদের আদি পিতা হযরত আদম (আঃ) সহ সকল মানুষ মাটি দ্বারা সৃষ্টি এ মর্মে আল্লাহ পবিত্র কুরআনে এরশাদ করেনঃ-
পালনকর্তা ফেরেশতাগণকে বললেন, আমি মাটির মানুষ সৃষ্টি করব (ছোয়াদ-৭১)
আর আপনার পালনকর্তা যখন ফেরেশতাদেরকে বললেনঃ আমি পচা কর্দম থেকে তৈরী বিশুষ্ক ঠনঠনে মাটি দ্বারা সৃষ্টি একটি মানব জাতির পত্তন করব (হিজর-২৮)
আল্লাহ তাআলা তোমাদেরকে মৃত্তিকা থেকে উদগত করেছেন (নূহ্-১৭)
তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন পোড়া মাটির ন্যায় শুষ্ক মৃত্তিকা থেকে (আর রাহমান-১৪)
আমি মানবকে পচা কর্দম থেকে তৈরী বিশুষ্ক ঠনঠনে মাটি দ্বারা সৃষ্টি করেছি (হিজর-২৬)
এ মাটি থেকেই আমি তোমাদেরকে সৃজন করেছি, এতেই তোমাদেরকে ফিরিয়ে দিব এবং পুনরায় এ থেকেই আমি তোমাদেরকে উত্থিত করব (সূরা ত্বো-হা: ৫৫)
আমি মানুষকে মাটির সারাংশ থেকে সৃষ্টি করেছি । অতঃপর আমি তাকে শুক্রবিন্দু রূপে এক সংরক্ষিত আধারে স্থাপন করেছি । এরপর আমি শুক্রবিন্দুকে জমাট রক্তরূপে সৃষ্টি করেছি, অতঃপর জমাট রক্তকে মাংসপিন্ডে পরিণত করেছি, এরপর সেই মাংসপিন্ড থেকে অস্থি সৃষ্টি করেছি, অতঃপর অস্থিওকে মাংস দ্বারা আবৃত করেছি, অবশেষে তাকে এক নতুন রূপে দাঁড় করিয়েছি । নিপুণতম সৃষ্টকর্তা আল্লাহ কত কল্যাণময়। এরপর তোমরা মৃত্যুবরণ করবে । অতঃপর কেয়ামতের দিন তোমরা পুনরুত্থিত হবে (মু’মিনুন-১২, ১৩, ১৪, ১৫, ১৬)
আমি তোমাদেরকে মৃত্তিকা থেকে সৃষ্টি করেছি। এরপর বীর্য থেকে, এরপর জমাট রক্ত থেকে, এরপর পূর্ণাকৃতিবিশিষ্ট ও অপূর্ণাকৃতিবিশিষ্ট মাংসপিন্ড থেকে, তোমাদের কাছে ব্যক্ত করার জন্যে। আর আমি এক নির্দিষ্ট কালের জন্যে মাতৃগর্ভে যা ইচ্ছা রেখে দেই, এরপর আমি তোমাদেরকে শিশু অবস্থায় বের করি; তারপর যাতে তোমরা যৌবনে পদার্পণ কর । তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ মৃত্যুমুখে পতিত হয় এবং তোমাদের মধ্যে কাউকে নিষ্কর্মা বয়স পর্যন্ত পৌঁছানো হয়, যাতে সে জানার পর জ্ঞাত বিষয় সম্পর্কে সজ্ঞান থাকে না (হজ্ব-৫)
আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি মিশ্র শুক্রবিন্দু থেকে (দাহ্র-২)
সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্ত থেকে (আলাক-১)

হাদীছঃ

নবী (সাঃ) বলেনঃ তোমরা সকলেই আদমের সন্তান, আর আদম মাটি থেকে সৃষ্টি (বায্ যার প্রভৃতি, হাদীছ ছহীহ, দ্রঃ ছহীহুল জামে’ হা/৪৫৬৮)
স্বয়ং নবী বলেছেনঃ মানুষ মাটির তৈরী, ফেরেস্তা নূরের এবং জ্বিনজাত আগুনের তৈরী (মুসলিম, যুহদ ও রাক্বায়িক্ব অধ্যায়, হা/৫৩৪)
“তোমার পূর্বেও জনপদ বাসীদের মধ্যে [নবী হিসেবে] প্রেরণ করেছিলাম মানুষকে, যাদের আমি ওহী প্রেরণ করেছিলাম”সূরা ইউসুফঃ ১০৯
“তোমাদের পূর্বে আমি যত রাসুল প্রেরণ করেছি তারা সকলেই ছিলো মানুষ যারা খাদ্য গ্রহণ করতো, এবং রাস্তায় চলাফেরা করতো ।
বস্তুতঃ আমি তোমাদের একজনকে অন্যজনের জন্য পরীক্ষা স্বরূপ করেছি । [হে মোমেনগণ] তোমরা কি ধৈর্য্য ধারণ করবে ? নিশ্চয়ই আল্লাহ্ [সব কিছু] দেখেন”সূরা ফুরকানঃ ২০ ২)
“তোমার পূর্বে যে সব পয়গম্বর আমি প্রেরণ করেছিলাম তারাও ছিলো মানুষ, যাদের জন্য আমি ওহী মঞ্জুর করেছিলাম । যদি তোমরা তা না বুঝে থাক, তবে তাদের জিজ্ঞাসা কর যারা [আল্লাহ্র] বাণীকে ধারণ করে থাকে”সূরা আম্বিয়াঃ ০৭ ২,৪ “তিনিই জেন্টাইল মানুষের জন্য তাদেরই মধ্য থেকে একজন রসুল পাঠিয়েছেন, যে তাদের নিকট আয়াত সমূহ আবৃত্তি করে, তাদের পবিত্র করে এবং শিক্ষা দেয় কিতাব ও প্রজ্ঞা । যদিও ইতিপূর্বে তারা ছিলো সুস্পষ্ট বিভ্রান্তির মধ্যে”সূরা জুমুয়াহঃ ২ ২,৫ হে পরওয়ারদেগার! তাদের মধ্য থেকেই তাদের নিকট একজন পয়গম্বর প্রেরণ করুন যিনি তাদের কাছে তোমার আয়াতসমুহ তেলাওয়াত করবেন, তাদেরকে কিতাব ও হেকমত শিক্ষা দেবেন এবং তাদের পবিত্র করবেন (বাক্বারা-১২৯) ২,৬ তাদেরই একজনকে তাদের মধ্যে রসুলরূপে প্রেরণ করেছিলাম এই বলে যে, তোমরা আল্লাহর বন্দেগী কর (মু’মিনুন-৩২) ২,৭ “তোমাদের মধ্য থেকেই তোমাদের প্রতি রাসূল প্রেরণ করেছি, যে তোমাদের নিকট আমার আয়াতসমূহ আবৃত্তি করে, তোমাদের পরিশুদ্ধ করে, এবং তোমাদের কিতাব ও প্রজ্ঞা এবং নূতন জ্ঞান শিক্ষা দেয়”সূরা বাকারাঃ ১৫১ ২,৮ “এখন তোমাদের মধ্যে থেকেই তোমাদের নিকট একজন রাসূল এসেছে”-সূরা তাওবাঃ ১২৮ ২,৯ তাদের পয়গম্বর তাদেরকে বলেনঃ আমরাও তোমাদের মত মানুষ, কিন্তু আল্লাহ্ বান্দাদের মধ্য থেকে যার উপরে ইচ্ছা, অনুগ্রহ করেন (ইবরাহীম-১১) ২,১০ ‘নিশ্চয় আল্লাহ মুমিনদের বড় উপকার করেছেন, যেহেতু তাদেরই মধ্য থেকে একজনকে রাসূল হিসাবে পাঠিয়েছেন যিনি তাদের নিকট তাঁর আয়াতসমূহ তিলাওত করেন, তাদেরকে পরিশুদ্ধ করেন, এবং তাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দান করেন, যদিও তারা ইতোপূর্বে স্পষ্ট গুমরাহীতে নিমজ্জিত ছিল (সূরাহ আলে ইমরানঃ ১৬৪) ৩) হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) ও (মাটির তৈরী) মানুষঃ-৩,১ “তুমি বল, “আমি তো তোমাদের মত একজন মানুষই , ওহীর মাধ্যমে আমাকে প্রত্যাদেশ দেয়া হয়েছে যে, তোমাদের উপাস্য এক আল্লাহ্ । সুতারাং তাঁর দিকে সত্য পথে চল; এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর”-সূরা হামীম সিজদাহঃ ০৬ ৩,২ “বল, “আমি তোমাদের মত একজন মানুষ; [কিন্তু] আমার নিকট ওহী প্রেরণ করা হয় যে, তোমাদের আল্লাহ্ এক ও অদ্বিতীয় । সুতারাং যে তাহার প্রভুর সাক্ষাৎ কামনা করে, সে যেন সৎ কাজ করে, এবং প্রভুর এবাদতে কাউকে শরীক না করে” -সূরা কাহফঃ ১১০ ৩,৩ “বল:” আমার প্রভু মহিমান্বিত! আমি তো হচ্ছি কেবল একজন মানুষ, একজন রাসুল মাত্র”-বনী ইসরাইলঃ ৯৩ ৩,৪ “এটা কি মানুষের জন্য আশ্চর্য্যের বিষয় যে, আমি তাদেরই একজনের নিকট আমার ওহী প্রেরণ করেছি ?”-সূরা ইউনুসঃ ০২ ৪) ইবলীস ও জানে মানুষ মাটির তৈরীঃ-৪,১ (ইবলীস) বললঃ আমি এমন নই যে, একজন মানবকে সেজদা করব, যাকে আপনি পচা কর্দম থেকে তৈরী ঠনঠনে বিশুষ্ক মাটি দ্বারা সৃষ্টি করেছেন (হিজর-৩৩)৪,২ আল্লাহ বললেনঃ আমি যখন নির্দেশ দিয়েছি, তখন তোকে কিসে সেজদা করতে বারণ করল ? সে বললঃ আমি আমি তার চাইতে শ্রেষ্ঠ । আপনি আমাকে আগুন দ্বারা সৃষ্টি করেছেন, আর তাকে সৃষ্টি করেছেন মাটি দ্বারা । বললেনঃ তুই এখান থেকে নেমে যা । এখানে অহঙ্কার করার অধিকার তোর নাই । অতএব তুই বের হয়ে যা । নিশ্চয় তুই হীনতমদের অন্তর্ভূক্ত (সূরাহ আল্ আরাফঃ ১১-১৩) ৫) কাফেররাও ঈমান আনে নাই নবী রাসুলগণ (মাটির তৈরী) মানুষ বলেঃ-৫,১ “তারা আশ্চর্য হয় যে, তাদের মধ্যে থেকেই তাদের নিকট একজন সতর্ককারী এসেছে । সুতরাং অবিশ্বাসীরা বলে, “এটা তো বড় আশ্চর্য ব্যাপার !”-সূরা কাফঃ ০২ ৫,২ “এরা আশ্চর্য হচ্ছে এই ভেবে যে, তাদের মধ্য থেকেই তাদের জন্য একজন সর্তককারী এসেছে এবং অবিশ্বাসীরা বলে যে,” এ তো একজন যাদুকর , মিথ্যা বলছে”-সূরা ছোয়াদঃ ০৪ ৫,৩ আল্লাহ কি মানুষকে পয়গম্বর করে পাঠিয়েছেন ? তাদের এই উক্তিই মানুষকে ঈমান আনয়ন থেকে বিরত রাখে (বনী ইস্রাঈল-৯৪) ৫,৪ “তাদের অন্তর [তা নিয়ে] তুচ্ছ বিষয়ের মত খেলা করে । পাপীরা তাদের গোপন পরামর্শ লুকিয়ে রেখে [বলে]” সে কি তোমাদের মত একজন মানুষ নয় ? তোমরা কি দেখে শুনে যাদুর কবলে পড়বে ?”-সূরা আম্বিয়াঃ ০৩ ৫,৫ “এবং তারা বলে, “এ কি রকম রসুল, যে [মানুষের মত] আহার করে এবং রাস্তা দিয়ে চলাফেরা করে ? তার নিকট কোন ফেরেশতা কেন অবতীর্ণ করা হলো না, যে তাঁর সাথে থাকতো সতর্ককারীরূপে ? অথবা তাকে ধন ভান্ডার দেয়া হয় নাই কেন অথবা উপভোগের জন্য তার কোন বাগান নাই কেন ?” দুষ্ট লোকেরা বলে, “তোমরা তো এক যাদুগ্রস্থ লোকেরই অনুসরণ করছো”-সূরা ফুরকানঃ ০৭-০৮ ৫,৬ “কিন্তু তাঁর সম্প্রদায়ের অবিশ্বাসীদের প্রধাণগণ বলেছিলো, “আমরা তো তোমাকে আমাদের মত মানুষ ব্যতীত আর কিছু দেখছি না । আমাদের মধ্যে যারা নিম্নস্তরের, অপরিপক্ক বিচারবুদ্ধি সম্পন্ন, তারা ব্যতীত আর কাউকে তোমাকে অনুসরণ করতে দেখছি না । আমরা আমাদের উপর তোমাদের কোন শ্রেষ্ঠত্ব দেখছি না, বরং আমরা তোমাদের মিথ্যাবাদী মনে করি” সূরা হুদঃ ২৭ ৫,৭ কাফেররা বললঃ এতো আমাদের মতই মানুষ বৈ নয় , তোমরা যা খাও, সেও তাই খায় এবং তোমরা যা পান কর, সেও তাই পান করে । যদি তোমরা তোমাদের মত একজন মানুষের আনুগত্য কর, তবে তোমরা নিশ্চিতরূপেই ক্ষতিগ্রস্থ হবে (মু’মিনুন-৩৩, ৩৪) ৫,৮ তোমরা তো আমাদের মতই মানুষ । তোমরা আমাদেরকে ঐ উপাস্য থেকে বিরত রাখতে চাও, যার ইবাদত আমাদের পিতৃপুরুষগণ করত (ইবরাহীম-১০) ৬) ‘নবী (সাঃ) সৃষ্টিগত দিক থেকে মাটির তৈরী মানুষ’ মর্মে হাদীছ থেকে প্রমাণঃ ৬,১ ‘তিনি আরো বলেনঃ আমি তো একজন মানুষ, আমিও তোমাদের মত ভুলে যাই, কাজেই আমি ভুলে গেলে আমাকে তোমরা স্মরণ করিয়ে দিবে (বুখারী, ছালাত অধ্যায়, হা/৩৮৬, মুসলিম মসজিদ ও ছালাতের স্থান অধ্যায়, হা/৮৮৯) ৬,২ ‘তিনি আরো বলেনঃ আমি তো একজন মানুষ, আমার নিকট বাদী আসে, সম্ভবত তোমাদের একজন অপর জন অপেক্ষা বেশি বাকপটু হবে, তাই আমি ধারণা করে নিতে পারি যে সে সত্য বলেছে কাজেই সে মতে আমি তার পক্ষে ফায়ছালা দিয়ে দিতে পারি । তাই আমি যদি তার জন্য কোন মুসলিমের হক ফায়ছালা হিসাবে দিয়ে থাকি, তাহলে সেটা একটা জাহান্নামের টুকরা মাত্র । অতএব সে তা গ্রহণ করুক বা বর্জন করুক (বুখারী, মাযালিম অধ্যায়, হা/২২৭৮) ৬,৩ ‘মা আয়েশাকে যখন জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বাড়িতে থাকাকালীন কী কাজ করতেন ? তদুত্তরে তিনি বলেছিলেনঃ তিনি তো অন্যান্য মানুষের মত একজন মানুষ ছিলেন । তিনি তার কাপড় সেলাই করতেন, নিজ বকরীর দুধ দোহন করতেন, নিজের সেবা নিজেই করতেন (আহমাদ,হা/২৪৯৯৮, আল আদাবুল মুফরাদ প্রভৃতি, হাদীছ ছহীহ, দ্রঃ ছহীহুল আদাব আল্ মুফরাদ, হা/৪২০, মুখতাতাছার শামায়েলে তিরমিযী, হা/২৯৩, ছহীহাহ, হা/৬৭১) ৭) পর্যালোচনানবী (সাঃ) কে আল্লাহ মাটির তৈরী আদম (আঃ) থেকে স্বাভাবিক মানুষের যে নিয়ম আল্লাহ করেছেন সে পদ্ধতিতেই আবদুল্লাহর ওরসে মা আমিনার গর্ভে এ পৃথিবীতে আগমন ঘটিয়েছেন । মহান আল্লাহ একাধিক স্থানে বলেছেন যে নবী (সাঃ) সৃষ্টিগত দিক থেকে ﺑﺸﺮ তথা আমাদের মতই একজন মানুষ । ৭,১
প্রশ্নঃ নবী মুহাম্মাদ (সাঃ) আদম সন্তানের বাইরে না ভিতরে?
যদি বলে বাইরে তবে তো তার সাথে কথা বলা অনর্থক । কারন মুহাম্মাদ (সাঃ) অন্যান্য মানুষের মতই আদম সন্তান ছিলেন (উপরের ১,১-১,১২ দ্রঃ) । আর যদি বলে যে, তিনিও আদম সন্তানের মধ্যে গণ্য, তখন আমরা বলব আদম (আঃ) কিসের তৈরী, নুরের না মাটির ? যদি বলে ‘মাটির তৈরী’ আর এটা বলতে তারা বাধ্য তাহলে তাদের নিকট প্রশ্নঃ মাটির তৈরী পিতার সন্তান কিভাবে নূরের তৈরী হল ? ৭,২ মানুষ যেমন পানাহার করে, তেমনি মুহাম্মাদ (সাঃ) ও পানাহার করতেন (উপরের ৫,৫ ও ৫,৭ দ্রঃ) । ৭,৩ অন্যান্য মানুষের যেমন সন্তানাদি ছিল, তেমনি রাসুলদেরও সন্তানাদি ছিল, স্ত্রীও ছিল । ভূল রাসুলেরও হত (উপরের ৬,১ দ্রঃ) । ৭,৪ রাসুল (সাঃ) অতি মানব ছিলেন না যে তিনি মৃত্যু বরণ করবেন না । এরশাদ হচ্ছে “নিশ্চয়ই তুমি মৃত্যুবরণ করবে এবং তারা সকলে মৃত্যু বরণ করবে” (সূরা যুমার ৩৯:৩০) ৭,৫ আর একথা কিভাবে গ্রহণ করা যায় যে, তিনি নূরের তৈরী, অথচ যাকে মানব জাতির হেদায়েতের জন্য, অনুসরণীয় একমাত্র আদর্শ হিসেবে আল্লাহ পাঠালেন মাটির মানুষদের কাছে । “নিঃসন্দেহে তুমি মহান চরিত্রের ওপর (প্রতিষ্ঠিত) রয়েছো” {সূরা আল ক্বালামঃ আয়াত ৪} ৭,৬ তফসীর মাআরেফুল ক্বোরআন এর ৭৯২ নং পৃষ্টায় আছে মানবের রাসুল মানবই হতে পারেনঃ ভিন্ন শ্রেণীর সাথে পারস্পরিক মিল ব্যতীত হেদায়েত ও পথ প্রদর্শনের উপকার অর্জিত হয় না । ফেরেশতা ক্ষুধা পিপাসা জানে না, কাম-প্রবৃত্তিরও জ্ঞান রাখে না এবং শীত গ্রীষ্মের অনুভুতি ও পরিশ্রমজনিত ক্লান্তি থেকে মুক্ত । এমতাবস্থায় মানুষের প্রতি কোন ফেরেশতাকে রসুল করে প্রেরণ করা হলে সে মানবের কাছেও উপরোক্ত্ কর্ম আশা করতো এবং মানবের দুর্বলতা ও অক্ষমতা উপলব্ধি করতো না । বলুনঃ যদি পৃথিবীতে ফেরেশতারা স্বচ্ছন্দে বিচরণ করত, তবে আমি আকাশ থেকে কোন ফেরেশতা (নুরের তৈরী) কেই তাদের নিকট পয়গম্বর করে প্রেরণ করতাম (বনী ইস্রাঈল-৯৫) ৭,৭ নবী রাসুল নুরের তৈরী বা ফেরেশতা নন তাও আল্লাক তায়ালা কুরআনে উল্লেখ করেছেনঃ- আর আমি তোমাদেরকে বলিনা যে, আমার কাছে আল্লাহর ভান্ডার রয়েছে এবং একথাও বলি না যে, আমি গায়বী খবরও জানি; একথাও বলি না যে, আমি একজন ফেরেশতা (নুরের তৈরী); আর তোমাদের দৃষ্টিতে যারা লাঞ্ছিত আল্লাহতাদের কোন কল্যাণ দান করবেন না । তাদের মনের কথা আল্লাহ ভাল করেই জানেন । সুতরাং এমন কথা বললে আমি অন্যায় কারী হব (হূদ-৩১) ৮) বিদআতীরা নবীকে নূর প্রমাণ করতে যেয়ে দলীল স্বরূপ কুরআন থেকে কতিপয় আয়াত পেশ করে থাকে । যেমন, ৮,১ মহান আল্লাহ এরশাদ করেনঃ ‘তোমাদের নিকট নূর-তথা একটি উজ্জ্বল জ্যোতি এবং স্পষ্ট কিতাব এসেছে । এর দ্বারা আল্লাহ যারা তার সন্তুষ্টি কামনা করে, তাদেরকে নিরাপত্তার পথ প্রদর্শন করেন, এবং তাদেরকে স্বীয় নির্দেশ দ্বারা অন্ধকার থেকে বের করে আলোর দিকে আনয়ন করেন এবং সরল পথে পরিচালনা করেন’(সূরাহ আল্ মায়িদাহঃ ১৫-১৬) অত্র আয়াতে নবীর গুণ স্বরূপ (অথবা আত্মা) তাকে নূর বা জ্যোতি বলা হয়েছে, সৃষ্টিগতভাবে তাকে নূরের তৈরী বলা হয়নি । আর কিভাবে তিনি গুণগতভাবে নূর বা জ্যোতি হলেন, তা সাথে সাথে আল্লাহ পরের আয়াতেই ব্যাখ্যা করে দিয়েছেন । ৮,২ এরশাদ হচ্ছেঃ ‘হে নবী! আমি আপনাকে সাক্ষী, সুসংবাদ দাতা ও সতর্ককারীরূপে প্রেরণ করেছি । এবং আল্লাহর আদেশক্রমে তাঁর দিকে আহবায়করূপে এবং উজ্জ্বল প্রদীপরূপে । (সূরা আল্ আহযাব: ৪৫-৪৬) নবী (সাঃ) কে উক্ত আয়াতে (রূপে) যে মহান আল্লাহ গুণগত দিক থেকে নূর বা জ্যোতি বলেছেন তা অত্র আয়াতেই স্পষ্ট ।৯,১ এরশাদ হচ্ছে: ‘অতএব তোমরা আল্লাহ তাঁর রাসূল এবং অবতীর্ণ নূরের প্রতি ঈমান আনয়ন কর । তোমরা যা কর, সে বিষয়ে আল্লাহ সম্যক অবগত (সূরাহ আত্ তাগাবুন: ৮) ৯,২ অন্য সূরায় মহান আল্লাহ বলেনঃ ‘সুতরাং যারা তাঁর (মুহাম্মাদ এর) উপর ঈমান এনেছে, তাঁকে সম্মান করেছে, সাহায্য করেছে এবং তার উপর যে নূর অবতীর্ণ করা হয়েছে তার অনুসরণ করেছে তারাই হল প্রকৃত সফলকাম (সূরা আল্ আরাফ: ১৫৭) উক্ত আয়াতদ্বয়ে আল্লাহ কুরআনকেও ‘নূর’ বলেছেন ।নূর পার্টিরা কী বলবে কুরাআনও নূরের সৃষ্টি !অথচ কুরআন মহান আল্লাহর বাণী ইহাই সকল সুন্নী মুসলিমদের বিশ্বাস । কুরআনকে সৃষ্টবস্তু জ্ঞান করা স্পষ্ট কুফরী, অতএব, কুরআনকে নূর বলার পরও যদি নূরের সৃষ্টি না বলা হয়, তবে রাসূলকে নূরের সৃষ্টি কোন্ যুক্তিতে বলা হবে ? কারণ মহান আল্লাহ নবীকে যেমন ‘নূর’ বলেছেন, ঠিক তেমনিভাবে পবিত্র আল কুরআনকেও ‘নূর’ বলেছেন ।১০) প্রশ্ন করতে পারেন যে, আপনি বলেছেন নবী সা. মাটির তৈরী । অথচ, রাসূল সা. তার এক হাদিছে বলেন যে,১০,১ আল্লাহ সর্বপ্রথম আমার নূর সৃষ্টি করেছেন । এর জবাব কী ? এ উত্তরটা একটি হাদিছ দিয়ে-ই দেই । আল্লাহর রাসূল সা. অন্য হাদিছে বলেন যে, ১০,২ আল্লাহ সর্বপ্রথম আমার রূহ সৃষ্টি করেন । ঐ হাদিছ এবং এই হাদিছের মর্ম একই । অর্থাৎ আল্লাহর রাসূলের রুহ মোবারক নূরের তৈরী, সমস্ত শরীর নয় । কেননা মহানবী সা. এর রূহ বা পবিত্র আত্না মাটির তৈরী হবে তো দূরের কথা, কোন মানুষের আত্নাই মাটির তৈরী নয় । বরং সমস্ত মানুষের আত্নাই নূরের তৈরী । ১১) সৃষ্টির উপাদানের উপর ভিত্তি করে কোন ব্যক্তির মর্যাদা নির্ণয় করা সরাসরি কুরআন ও হাদীছ বিরোধী কথা ।১১,১ কারণ মহান আল্লাহ বলেই দিয়েছেনঃ. ‘নিশ্চয় আল্লাহর নিকট তোমাদের মধ্যে ঐব্যক্তি বেশি সম্মানিত যে তোমাদের মধ্যে সর্বধিক তাক্বওয়াশীল’ পরহেযগার (সূরা হুজুরাত: ১৩) ১১,২ নবী (সাঃ) বলেনঃ হে মানব মন্ডলি! নিশ্চয় তোমাদের প্রতিপালক এক, সাবধান! কোন আরবীর আজমীর (অনারব) উপর, কোন আজমীর আরবীর উপর প্রাধান্য নেই । অনুরূপভাবে কোন লাল বর্ণের ব্যক্তির কালো ব্যক্তির উপর, কোন কালো ব্যক্তির লাল বর্ণের ব্যক্তির উপর প্রাধান্য নেই । প্রাধান্য একমাত্র তাকওয়া পরহেযগারিতার ভিত্তিতে হবে । ‘নিশ্চয় আল্লাহর নিকট তোমাদের মধ্যে ঐ ব্যক্তি বেশি সম্মানিত যে তোমাদের মধ্যে সর্বধিক তাক্বওয়াশীল’পরহেযগার (আহমাদ প্রভৃতি, হাদীছ ছহীহ । দ্রঃ শাইখ আলবানীর গায়াতুল মারাম, পৃঃ১৯০, হা/৩১৩) কাজেই নবী (সাঃ) নূর থেকে সৃষ্টি না হয়ে মাটি থেকে সৃষ্টি হওয়া তাঁর জন্য মোটেও মানহানিকর বিষয় নয় যেমনটি অসংখ্য বিদআতী তাই ধারণা করে বসেছে । বরং নবী (সাঃ) মাটির তৈরী হয়েও সৃষ্টির সেরা ব্যক্তিত্ব, সর্বাধিক মুত্তাক্বী-পরহেযগার । সমস্ত সৃষ্টি কুলের সর্দার, নবীকুল শিরোমণী, আল্লাহর খালীল-অন্তরঙ্গ বন্ধু । আল্লাহর অনুমতি সাপেক্ষে হাশরের মাঠে মহান শাফাআতের অধিকারী, হাওযে কাউছারের অধিকারী, সর্ব প্রথম জান্নাতে প্রবেশকারী । মাক্বামে মাহমূদের অধিকারী, রহমাতুল লিল আলামীন, শাফিঊল লিল মুযনিবীন এসব বিষয়ে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের মাঝে কোনই দ্বিমত নেই । ইহাই ছাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈনে ইযাম, আইম্মায়ে মুজতাহিদীনের বিশ্বাস । যুগ পরম্পরায় এই বিশ্বাসই করে আসছেন সকল সুন্নী মুসলিম । ১২) ‘সৃষ্টির উপাদানের ভিত্তিতে ব্যক্তি শ্রেষ্ঠত্ব অজর্ন করে’ এটা ইবলীস শয়তানের ধারণা ও দাবী মাত্র ।১২,১ এই অলিক ধারণার ভিত্তিতেই সে (ইবলীস) আগুনের তৈরী বলে মাটির তৈরী আদমকে সিজদাহ করতে অস্বীকার করে ছিল (উপরের ৪,১ ও ৪,২ দ্রঃ) । ‘নবী (সাঃ) কে নূরের তৈরী গণ্য করা হলে তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ হবে, আর মাটির তৈরী গণ্য করলে সেই শ্রেষ্ঠত্ব বিলুপ্ত হবে, তাতে তার মানহানী হবে’ মর্মের যুক্তিটি শয়তানের যুক্তির সাথে মিলে কিনা চিন্তা-ভাবনা করার উদাত্ত আহ্বান রইল । ১২,২ কাফেররাও নবী রাসুলকে মাটির তৈরী মানুষ বলে তাঁর প্রতি ঈমাম আনে নাই, অনুসরণ করে নাই, তাকে আদর্শ হিসাবে গ্রহণ করে নাই (উপরের ৫,১ থেকে ৫,৮ দ্রঃ) । আপনারা যারা নূরের তৈরী আক্বীদা পোষণ করেন, মাটির তৈরী বলে কি আদর্শ হিসাবে গ্রহণ করতে চান না ?!! এ রকম ভাবলে কাফেরদের সাথে মিলে যাওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায় নয় কি ? আল্লাহ খালেক (সব কিছুর স্রষ্টা) আর সবকিছু তার মাখলুক (সৃষ্টি) আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘আল্লাহ সমস্ত কিছুর স্রষ্টা ও তিনি সমস্ত কিছুর কর্মবিধায়ক । আকাশ ও পৃথিবীর চাবিও তাঁরই কাছে’ {যুমার ৬২-৬৩} আর শ্রেষ্ঠ মাখলুক হল মানুষ (মাটির তৈরী) [যে কারনে আল্লাহ নুরের তৈরী ফেরেশতাকে মাটির তৈরী মানুষ আদম (আঃ) কে সেজদা করার আদেশ দিলেন] মানুষের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হল বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)। তাঁর শ্রেষ্ঠতের বহু কারন রয়েছে । তন্মধ্যে তাঁর প্রতি আল্লাহর বানী আল কুরআন নাযিল হয়েছে এবং তিনিই আল্লাহর বানীর সর্বাপেক্ষা বুঝদ্বার ও ব্যাখ্যা বিশ্লেষক। আল্লাহ আপনার প্রতি ঐশীগ্রন্থ ও প্রজ্ঞা অবতীর্ণ করেছেন এবং আপনাকে এমন বিষয় শিক্ষা দিয়েছেন, যা আপনি জানতেন না। আপনার প্রতি আল্লাহর করুনা অসীম (নিসা-১১৩) “বলুনঃ আমিও তোমাদের মতই একজন মানুষ, আমার প্রতি প্রত্যাদেশ হয় যে, তোমাদের ইলাহই একমাত্র ইলাহ। অতএব, যে ব্যক্তি তার পালনকর্তার সাক্ষাত কামনা করে, সে যেন, সৎকর্ম সম্পাদন করে এবং তার পালনকর্তার এবাদতে কাউকে শরীক না করে।” সুরা কাহ্ফ :১১০ আল্লাহ্ বলেন:আপনি বলুন, আমি তোমাদের মতই একজন মানুষ…[সূরা কাহফ, আয়াত:১১০]আল্লাহ্ বলেন:আসমান যমিনে আল্লাহ্ ব্যতীত অন্য কেউ গায়েবের খবর জানে না…[সূরা নামল, আয়াত: ৬৫]আল্লাহ্ আরো বলেন:”আপনি বলুন, আমি তোমাদেরকে বলি না যে, আমার কাছে আল্লাহ্র ভাণ্ডার রয়েছে। তাছাড়া আমি অদৃশ্য বিষয়ে অবগতও নই। আমি এমনও বলি না যে আমি ফেরেশতা। আমি তো শুধু ঐ অহীর অনুসরণ করি, যা আমার কাছে আসে..”.[সূরা আন্আ’ম, আয়াত: ৫০]আল্লাহ্ আরো বলেন:আপনি বলে দিন, আমি আমার নিজের কল্যাণ এবং অকল্যাণ সাধনের মালিক নই, কিন্তু যা আল্লাহ্ চান। আর আমি যদি গায়েবের কথা জেনে নিতে পারতাম, তাহলে বহু কল্যাণ অর্জন করে নিতে পারতাম। ফলে আমার কোন অমঙ্গল কখনো হতে পারত না।আমি তো শুধুমাত্র একজন ভীতি প্রদর্শক ও ঈমানদারদের জন্য সুসংবাদদাতা…[সূরা আ’রাফ, আয়াত: ১৮৮] রাসূল (সা:) বলেন:আমি তোমাদের মতই একজন মানুষ। তোমার যেমন ভুলে যাও আমিও তেমনি ভুলে যাই। আমি ভুল করলে তোমরা আমাকে স্মরণ করিয়ে দিও…[বুখারী],যে ব্যক্তি রাসূল (সা:) এর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করল এই বিশ্বাস রাখলো যে, নবী (সা:) ভালমন্দের মালিক, সে কাফের হিসাবে গণ্য হবে।কথা হচ্ছে নবীজী সাঃ নূরের তৈরী ফেরেস্তা কি না? নাকি মাটির তৈরী মানুষ?রাসূল সাঃ মানুষ ছিলেন? নাকি ফেরেস্তা?যদি বলেন ফেরেস্তা তাহলে আরবের মুশরিকদের অভিযোগ করার কি কারণ?
পবিত্র কুরআনে যা বিধৃত হয়েছে এরকম শব্দে
ﻗُﻞْ ﺳُﺒْﺤَﺎﻥَ ﺭَﺑِّﻲ ﻫَﻞْ ﻛُﻨﺖُ ﺇَﻻَّ ﺑَﺸَﺮًﺍ ﺭَّﺳُﻮﻻً ( 93 ) ﻭَﻣَﺎ ﻣَﻨَﻊَ ﺍﻟﻨَّﺎﺱَ ﺃَﻥ ﻳُﺆْﻣِﻨُﻮﺍْ ﺇِﺫْ ﺟَﺎﺀﻫُﻢُ ﺍﻟْﻬُﺪَﻯ ﺇِﻻَّ ﺃَﻥ ﻗَﺎﻟُﻮﺍْ ﺃَﺑَﻌَﺚَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺑَﺸَﺮًﺍ ﺭَّﺳُﻮﻻً ( 94 ) ﻗُﻞ ﻟَّﻮْ ﻛَﺎﻥَ ﻓِﻲ ﺍﻷَﺭْﺽِ ﻣَﻶﺋِﻜَﺔٌ ﻳَﻤْﺸُﻮﻥَ ﻣُﻄْﻤَﺌِﻨِّﻴﻦَ ﻟَﻨَﺰَّﻟْﻨَﺎ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢ ﻣِّﻦَ ﺍﻟﺴَّﻤَﺎﺀ ﻣَﻠَﻜًﺎ ﺭَّﺳُﻮﻻً ( 95 )
বলুন, পবিত্র মহান আমার পালনকর্তা, আমি একজন মানব রাসূল ছাড়া কে? লোকদের নিকট হেদায়াত আসার পর তাদেরকে এ উক্তি ঈমান আনয়ন থেকে বিরত টরাখে যে, “আল্লাহ কি মানুষকে রাসূলস্বরূপ প্রেরণ করেছেন?” বলুন যদি পৃথিবীতে ফেরেস্তারা বিচরণ করত, তবে আমি তাদের নিকট আকাশ থেকে ‘ফেরেস্তা রাসূল’ প্রেরণ করতাম।{সূরা বনী ইসরাঈল-৯৩, ৯৪, ৯৫}
অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে-
ﻭَﻗَﺎﻟُﻮﺍْ ﻟَﻮْﻻ ﺃُﻧﺰِﻝَ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻣَﻠَﻚٌ ﻭَﻟَﻮْ ﺃَﻧﺰَﻟْﻨَﺎ ﻣَﻠَﻜًﺎ ﻟَّﻘُﻀِﻲَ ﺍﻷﻣْﺮُ ﺛُﻢَّ ﻻَ ﻳُﻨﻈَﺮُﻭﻥَ ( 8 ﻭَﻟَﻮْ ﺟَﻌَﻠْﻨَﺎﻩُ ﻣَﻠَﻜًﺎ ﻟَّﺠَﻌَﻠْﻨَﺎﻩُ ﺭَﺟُﻼً ﻭَﻟَﻠَﺒَﺴْﻨَﺎ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢ ﻣَّﺎ ﻳَﻠْﺒِﺴُﻮﻥَ )
তারা আরো বলে যে, তাঁর কাছে কোন ফেরেস্তা কেন প্রেরণ করা হল না? যদি আমি কোন ফেরেস্তা প্রেরণ করতাম, তবে গোটা ব্যাপারটি খতম হয়ে যেত। এরপর তাদেররকে সামান্য অবকাশও দেয়া হত না। যদি আমি কোন ফেরেস্তাকে রাসূল করে পাঠাতাম, তবে সে মানুষের রূপেই হত। এতেও সে সন্দেহই করত, যা এখন করছে।{সূরা আনআম-৮,৯}

রাসূল (সা:) মানুষ ছিলেন এ ব্যাপারে কাফেরদেরও কোন সন্দেহ ছিল না তার প্রমান :

রাসূল (সাঃ) মানুষ ছিলেন এ ব্যাপারে কোন কাফেরেরও সন্দেহ ছিল না। মক্কার কাফেরদের আশ্চর্যের এটাইতো কারণ ছিল যে, আল্লাহ তাআলা কেন ফেরেস্তা ছাড়া মানুষকে রাসূল বানিয়ে পাঠালেন?এর জবাব আল্লাহ তাআলা কি সুন্দর শব্দে বলে দিলেন। যদি দুনিয়াতে মানুষের বদলে ফেরেস্তারা থাকতো তাহলে আল্লাহ তাআলা ফেরেস্তাই পাঠাতেন রাসূলরূপে। কিন্তু যেহেতু দুনিয়াতে মানুষ বাস করে তাই মানুষকেই পাঠানো হয়েছে রাসূল হিসেবে। এ সহজ কথাটি মক্কার কাফেররা বুঝতো না বলেই আল্লাহ তাআলা আয়াত নাজিল করে বুঝালেন। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হল মুসলমান নামধারী কিছু বেদআতীরাও মক্কার কাফেরদের মতই অভিযোগ করে নবীজী সাঃ মানুষ নন। ফেরেস্তাদের মত নূরের তৈরী। যদি নবীজী (সাঃ) কে মানুষ বিশ্বাস করতে হয়, তাহলে পূর্বোক্ত আয়াতের কালীমা অনুযায়ী বিশ্বাস করতে হবে মানুষ মাটির তৈরী, তাই নবীজী সাঃ ও মানুষ তাই তিনিও মাটির তৈরী।আর যদি বলা হয় রাসূল সাঃ মানুষ নন, ফেরেস্তা, তাহলে মক্কার কাফেররা ফেরেস্তা কেন নবীরূপে পাঠানো হলো না এ অভিযোগ কেন করল?

নবীজী (সাঃ) মানুষ না হয়ে ফেরেস্তা হলে কাফেরদের প্রশ্ন করার কি প্রয়োজন ছিল :

নবীজী (সাঃ) মানুষ না হয়ে ফেরেস্তা হলে কাফেরদের প্রশ্ন করার কি প্রয়োজন ছিল যে, আল্লাহ তাআলা মানুষকে কেন পাঠালেন নবী করে ফেরেস্তার বদলে?সুতরাং বুঝা গেল নবীজী সাঃ মানুষ ফেরেস্তা নয়। আর মানুষ কিসের তৈরী? তা সুষ্পষ্টই আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন আয়াতের উল্লেখ করেছেন।রাসূল সাঃ মানুষ ছিলেন
ﻗُﻞْ ﺳُﺒْﺤَﺎﻥَ ﺭَﺑِّﻲ ﻫَﻞْ ﻛُﻨﺖُ ﺇَﻻَّ ﺑَﺸَﺮًﺍ ﺭَّﺳُﻮﻻً ( 93 ) ﻭَﻣَﺎ ﻣَﻨَﻊَ ﺍﻟﻨَّﺎﺱَ ﺃَﻥ ﻳُﺆْﻣِﻨُﻮﺍْ ﺇِﺫْ ﺟَﺎﺀﻫُﻢُ ﺍﻟْﻬُﺪَﻯ ﺇِﻻَّ ﺃَﻥ ﻗَﺎﻟُﻮﺍْ ﺃَﺑَﻌَﺚَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺑَﺸَﺮًﺍ ﺭَّﺳُﻮﻻً ( 94 ) ﻗُﻞ ﻟَّﻮْ ﻛَﺎﻥَ ﻓِﻲ ﺍﻷَﺭْﺽِ ﻣَﻶﺋِﻜَﺔٌ ﻳَﻤْﺸُﻮﻥَ ﻣُﻄْﻤَﺌِﻨِّﻴﻦَ ﻟَﻨَﺰَّﻟْﻨَﺎ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢ ﻣِّﻦَ ﺍﻟﺴَّﻤَﺎﺀ ﻣَﻠَﻜًﺎ ﺭَّﺳُﻮﻻً ( 95 )
অনুবাদ-বলুন, পবিত্র মহান আমার পালনকর্তা, আমি একজন মানব রাসূল ছাড়া কে? লোকদের নিকট হেদায়াত আসার পর তাদেরকে এ উক্তি ঈমান আনয়ন থেকে বিরত রাখে যে, “আল্লাহ কি মানুষকে রাসূলস্বরূপ প্রেরণ করেছেন?” বলুন যদি পৃথিবীতে ফেরেস্তারা বিচরণ করত, তবে আমি তাদের নিকট আকাশ থেকে ‘ফেরেস্তা রাসূল’ প্রেরণ করতাম।{সূরা বনী ইসরাঈল-৯৩, ৯৪, ৯৫}আরো ইরশাদ হয়েছে-
ﻗُﻞْ ﺇِﻧَّﻤَﺎ ﺃَﻧَﺎ ﺑَﺸَﺮٌ ﻣِّﺜْﻠُﻜُﻢْ ﻳُﻮﺣَﻰ ﺇِﻟَﻲَّ ﺃَﻧَّﻤَﺎ ﺇِﻟَﻬُﻜُﻢْ ﺇِﻟَﻪٌ ﻭَﺍﺣِﺪٌ ﻓَﻤَﻦ ﻛَﺎﻥَ ﻳَﺮْﺟُﻮ ﻟِﻘَﺎﺀ ﺭَﺑِّﻪِ ﻓَﻠْﻴَﻌْﻤَﻞْ ﻋَﻤَﻼً ﺻَﺎﻟِﺤًﺎ ﻭَﻻ ﻳُﺸْﺮِﻙْ ﺑِﻌِﺒَﺎﺩَﺓِ ﺭَﺑِّﻪِ ﺃَﺣَﺪًﺍ ( 110 )
অনুবাদ-বলুন, আমিও তোমাদের মতই একজন মানুষ। আমার প্রতি প্রত্যাদেশ হয় যে, তোমাদের মাবুদ হল একজন। অতএব, যে ব্যক্তি তার পালনকর্তার সাক্ষাত কামনা করে, সে যেন সৎকর্ম সম্পাদন করে এবং তার পালনকর্তার ইবাদতে কাউকে শরীক না করে।{সূরা কাহাফ-১১০}অন্যত্র আরো ইরশাদ হয়েছে-
ﻗُﻞْ ﺇِﻧَّﻤَﺎ ﺃَﻧَﺎ ﺑَﺸَﺮٌ ﻣِّﺜْﻠُﻜُﻢْ ﻳُﻮﺣَﻰ ﺇِﻟَﻲَّ ﺃَﻧَّﻤَﺎ ﺇِﻟَﻬُﻜُﻢْ ﺇِﻟَﻪٌ ﻭَﺍﺣِﺪٌ ﻓَﺎﺳْﺘَﻘِﻴﻤُﻮﺍ ﺇِﻟَﻴْﻪِ ﻭَﺍﺳْﺘَﻐْﻔِﺮُﻭﻩُ ﻭَﻭَﻳْﻞٌ ﻟِّﻠْﻤُﺸْﺮِﻛِﻴﻦَ ( 6 )
অনুবাদ-বলুন, আমিও তোমাদের মতই মানুষ। আমার প্রতি অহী আসে যে, তোমাদের মাবুদ হল একজন। অতএব তারই প্রতি একাগ্র হও, এবং তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর। আর মুশরেকদের জন্য রয়েছে। দুর্ভোগ।{সূরা হা-মীম সাজদা-৬}অন্যত্র আরো ইরশাদ হয়েছে- ﻭَﻣَﺎ ﺟَﻌَﻠْﻨَﺎ ﻟِﺒَﺸَﺮٍ ﻣِّﻦ ﻗَﺒْﻠِﻚَ ﺍﻟْﺨُﻠْﺪَ ﺃَﻓَﺈِﻥ ﻣِّﺖَّ ﻓَﻬُﻢُ ﺍﻟْﺨَﺎﻟِﺪُﻭﻥَ ( 34 )অনুবাদ-আপনার পূর্বেও আমি কোন মানুষকে অনন্ত জীবন দান করিনি। সুতরাং আপনার মৃত্যু হলে তারা কি চিরঞ্জীব হবে?{সূরা আম্বিয়া-৩৪}রাসূল সাঃ মানব ছিলেন এর বহু প্রমাণ হাদীসেও পাওয়া যায়। নিম্ন ৩ টি হাদীস উদ্ধৃত করা হল-
ﻋﻦ ﺃﻣﻬﺎ ﺃﻡ ﺳﻠﻤﺔ ﻗﺎﻟﺖ ﺳﻤﻊ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﺟﻠﺒﺔ ﺧﺼﺎﻡ ﻋﻨﺪ ﺑﺎﺑﻪ ﻓﺨﺮﺝ ﻋﻠﻴﻬﻢ ﻓﻘﺎﻝ ( ﺇﻧﻤﺎ ﺃﻧﺎ ﺑﺸﺮ ﻭﺇﻧﻪ ﻳﺄﺗﻴﻨﻲ ﺍﻟﺨﺼﻢ ﻓﻠﻌﻞ ﺑﻌﻀﺎ ﺃﻥ ﻳﻜﻮﻥ ﺃﺑﻠﻎ ﻣﻦ ﺑﻌﺾ ﺃﻗﻀﻲ ﻟﻪ ﺑﺬﻟﻚ ﻭﺃﺣﺴﺐ ﺃﻧﻪ ﺻﺎﺩﻕ ﻓﻤﻦ ﻗﻀﻴﺖ ﻟﻪ ﺑﺤﻖ ﻣﺴﻠﻢ ﻓﺈﻧﻤﺎ ﻫﻲ ﻗﻄﻌﺔ ﻣﻦ ﺍﻟﻨﺎﺭ ﻓﻠﻴﺄﺧﺬﻫﺎ ﺃﻭ ﻟﻴﺪﻋﻬﺎ ( ﺻﺤﻴﺢ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻯ – ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻷﺣﻜﺎﻡ، ﺑﺎﺏ ﺍﻟﻘﻀﺎﺀ ﻓﻲ ﻛﺜﻴﺮ ﺍﻟﻤﺎﻝ ﻭﻗﻠﻴﻠﻪ، ﺭﻗﻢ ﺍﻟﺤﺪﻳﺚ 6762 – )
অনুবাদ-হযরত উম্মে সালমা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ নিজের দরজার কাছে বিবাদ-বিতর্ক শুনতে পেয়ে তাদের নিকট এসে বললেন-আমি তো একজন মানুষ মাত্র। আমার কাছে বাদী বিবাদীরা এসে থাকে। কেউ হয়ত অধিক বাকপটু হয়, ফলে আমি তাকে সত্য মনে করে তার পক্ষে রায় দিয়ে দেই। যদি আমি কারো পক্ষে অন্য কোন মুসলমানের হকের ব্যাপারে ফয়সালা দিয়ে থাকি, তাহলে তা জাহান্নামের টুকরো হিসেবে বিবেচিত হবে। সে তা গ্রহণ করতেও পারে, অথবা বর্জনও করতে পারে।{সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৬৭৬২, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-৪৫৭২, তাহাবী শরীফ, হাদীস নং-৫৬৮০, মুসনাদুশ শামীন, হাদীস নং-৩১১৬, সুনানে দারা কুতনী, হাদীস নং-১২৬, সুনানে বায়হাকী কুবরা, হাদীস নং-২০৩২১}
ﻭﻟﻜﻦ ﺇﻧﻤﺎ ﺃﻧﺎ ﺑﺸﺮ ﻣﺜﻠﻜﻢ ﺃﻧﺴﻰ ﻛﻤﺎ ﺗﻨﺴﻮﻥ ﻓﺈﺫﺍ ﻧﺴﻴﺖ ﻓﺬﻛﺮﻭﻧﻲ ( ﺻﺤﻴﺢ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻯ، ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﺼﻼﺓ، ﺑﺎﺏ ﺍﻟﺘﻮﺟﻪ ﻧﺤﻮ ﺍﻟﻘﺒﻠﺔ ﺣﻴﺚ ﻛﺎﻥ، ﺭﻗﻢ ﺍﻟﺤﺪﻳﺚ 392 – )
অনুবাদ-হযরত আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ বলেছেন-আমিতো তোমাদের মতই একজন মানুষ। তোমরা যেমন ভুলে যাও, আমিও তেমনি ভুলে যাই। তাই আমি ভুলে গেলে তোমরা আমাকে স্বরণ করিয়ে দিও।{সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৩৯২, সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং-২৬৬২, মুসনাদে আবী ইয়ালা, হাদীস নং-৫২৪২, মুসনাদে তায়ালিসী, হাদীস নং-২৭১}
ﺟﺎﺑﺮ ﺑﻦ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﻳﻘﻮﻝ ﺳﻤﻌﺖ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ – ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ – ﻳﻘﻮﻝ « ﺇﻧﻤﺎ ﺃﻧﺎ ﺑﺸﺮ ﻭﺇﻧﻰ ﺍﺷﺘﺮﻃﺖ ﻋﻠﻰ ﺭﺑﻰ ﻋﺰ ﻭﺟﻞ ﺃﻯ ﻋﺒﺪ ﻣﻦ ﺍﻟﻤﺴﻠﻤﻴﻦ ﺳﺒﺒﺘﻪ ﺃﻭ ﺷﺘﻤﺘﻪ ﺃﻥ ﻳﻜﻮﻥ ﺫﻟﻚ ﻟﻪ ﺯﻛﺎﺓ ﻭﺃﺟﺮﺍ ( ﺻﺤﻴﺢ ﻣﺴﻠﻢ، ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﺒﺮ ﻭﺍﻟﺼﻠﺔ ﻭﺍﻵﺩﺏ، ﺑﺎﺏ ﻣﻦ ﻟﻌﻨﻪ ﺍﻟﻨﺒﻰ – ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ – ﺃﻭ ﺳﺒﻪ ﺃﻭ ﺩﻋﺎ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﻟﻴﺲ ﻫﻮ ﺃﻫﻼ ﻟﺬﻟﻚ ﻛﺎﻥ ﻟﻪ ﺯﻛﺎﺓ ﻭﺃﺟﺮﺍ ﻭﺭﺣﻤﺔ، ﺭﻗﻢ ﺍﻟﺤﺪﻳﺚ 6790 – )
অনুবাদ-হযরত জাবের বিন আব্দুল্লাহ রাঃ থেকে বর্ণিত। আমি রাসূল সাঃ কে বলতে শুনেছি যে, তিনি ইরশাদ করেছেন-আমি তো একজন মানুষমাত্র। আমি আপন প্রতিপালকের নিকট বলে রেখেছি যে, আমি যদি কোন মুসলমানকে মন্দ বলি, তাহলে সেটি যেন তার জন্যে পবিত্রতা ও সওয়াবের কারণ হয়।{সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-৬৭৯০, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-১২১২৬, সুনানে বায়হাকী কুবরা, হাদীস নং-১৩১৬০}উল্লেখিত আয়াত ও হাদীস একথা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলছে যে, রাসূল সাঃ মানুষ ছিলেন। ফেরেস্তা বা জিন নয়। আর মানুষ মাটির তৈরী হয় একথা মহান রাব্বুল আলামীন পবিত্র কুরআনে একাধিক স্থানে স্পষ্টই বলেছেন। যা ইতোপূর্বে উদ্ধৃত হয়েছে।রাসূল সাঃ নূরের তৈরী হলে রাসূল সাঃ এর পূর্বসূরী ও উত্তরসূরীরা কিসের তৈরী?
ﻗﺎﻝ ﺍﻟﻌﺒﺎﺱ ﺑﻠﻐﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺑﻌﺾ ﻣﺎ ﻳﻘﻮﻝ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﻗﺎﻝ ﻓﺼﻌﺪ ﺍﻟﻤﻨﺒﺮ ﻓﻘﺎﻝ ﻣﻦ ﺃﻧﺎ ﻗﺎﻟﻮﺍ ﺃﻧﺖ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﻓﻘﺎﻝ ﺃﻧﺎ ﻣﺤﻤﺪ ﺑﻦ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﻦ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻤﻄﻠﺐ ﺇﻥ ﺍﻟﻠﻪ ﺧﻠﻖ ﺍﻟﺨﻠﻖ ﻓﺠﻌﻠﻨﻲ ﻓﻲ ﺧﻴﺮ ﺧﻠﻘﻪ ﻭﺟﻌﻠﻬﻢ ﻓﺮﻗﺘﻴﻦ ﻓﺠﻌﻠﻨﻲ ﻓﻲ ﺧﻴﺮ ﻓﺮﻗﺔ ﻭﺧﻠﻖ ﺍﻟﻘﺒﺎﺋﻞ ﻓﺠﻌﻠﻨﻲ ﻓﻲ ﺧﻴﺮ ﻗﺒﻴﻠﺔ ﻭﺟﻌﻠﻬﻢ ﺑﻴﻮﺗﺎ ﻓﺠﻌﻠﻨﻲ ﻓﻲ ﺧﻴﺮﻫﻢ ﺑﻴﺘﺎ ﻓﺄﻧﺎ ﺧﻴﺮﻛﻢ ﺑﻴﺘﺎ ﻭﺧﻴﺮﻛﻢ ﻧﻔﺴﺎ – 1/169 ، ﺭﻗﻢ ﺍﻟﺤﺪﻳﺚ 3532 – )
অনুবাদ-হযরত আব্বাস বিন আব্দুল মুত্তালিব রাঃ বলেন-রাসূল সাঃ [একবার কোন কারণে] মিম্বরে দাঁড়িয়ে [সমবেত লোকদেরকে] জিজ্ঞেস করলেন-আমি কে? সাহাবীগণ বললেন-আপনি আল্লাহর রাসূল, আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক। তখন তিনি বললেন-আমি আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল মুত্তালিবের ছেলে মুহাম্মদ। আল্লাহ তাআলা তামাম মাখলূক সৃষ্টি করে আমাকে সর্বোত্তম সৃষ্টির অন্তর্ভূক্ত করেছেন [অর্থাৎ মানুষ বানিয়েছেন]। এরপর তাদেরকে দু’ভাগে [আরব ও অনারব] বিভক্ত করে আমাকে উত্তম ভাগে [আরবে] রেখেছেন এবং আমাকে তাদের মধ্যে সর্বোত্তম গোত্রে পাঠিয়েছেন। এরপর সে গোত্রকে বিভিন্ন পরিবারে বিভক্ত করেছেন এবং আমাকে সর্বোত্তম পরিবারে প্রেরণ করেছেন।
সুতরাং আমি ব্যক্তি ও বংশ সর্বদিক থেকে তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম।{সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং-৩৫৩২, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-১৭৮৮, আল মু’জামুল কাবীর, হাদীস নং-৬৭৫, মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং-৩২২৯৬} রাসুল (সাঃ) মানুষ মাটির তৈরি, যেমন কোরআন তৈরি কাগজ-কালি দিয়ে কিন্তু কোরআনের একনাম নূর বা হেদায়াত, তেমনি রাসূল (সা:) ও রক্তে গুস্তে তৈরি শরীরে মানুষ, কিন্তু তিনি হেদায়াতের নূর বা আলো মহামানব, এবং তিনিই মহৎ চরিত্র মর্যাদা সর্বোচ্ছোস্তরে অধিষ্টিত।এ প্রশ্ন আসাটা স্বাভাবিক যে, রাসূল সাঃ যদি মাটির তৈরী না হয়ে নূরের তৈরী হয়ে থাকেন। তাহলে রাসূল সাঃ এর সম্মানিত আম্মাজান আমিনা ও সম্মানিত আব্বাজান আব্দুল্লাহ যাদের ঔরসে তিনি জন্ম নিলেন তারা কিসের তৈরী? সেই সাথে নবীজী সাঃ এর সন্তানরা কিসের তৈরী? মাটির না নূরের? মাটির তৈরী থেকেতো মাটিই হবে। আর নূর থেকেতো নূরই হবে, তাই নয়কি? সুতরাং চিন্তা ভাবনা করে এসব উদ্ভট দাবি তোলা উচিত যে, রাসূল সাঃ নূরের তৈরী। যেখানে এ ব্যাপারে কোন সুষ্পষ্ট দলিলই নেই। সেখানে শুধুমাত্র নিজের আবেগ আর অন্ধতাকে পূজি করে রাসূল সাঃ কে মাটির থেকে নূরের তৈরী বানিয়ে ফেলাটা বোকামী ছাড়া কিছু নয়।নূরের তৈরী হওয়াই কি শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণবাহী?একথা সম্পূর্ণ ভুল যে, কোন কিছু নূরের তৈরী হলেই তা শ্রেষ্ঠ হয়ে যাবে। বরং শ্রেষ্ঠত্বের মূল বিষয় হল তার অভ্যান্তরীণ গুণ শ্রেষ্ঠ হওয়া। মাটির তৈরী মানুষ নূরের তৈরী ফেরেস্তা থেকে শ্রেষ্ঠ। দলিল- ﻭَﻟَﻘَﺪْ ﻛَﺮَّﻣْﻨَﺎ ﺑَﻨِﻲ ﺁﺩَﻡَ অনুবাদ-নিশ্চয় আমি আদম সন্তানকে মর্যাদা দান করেছি।{সূরা বনী ইসরাঈল-৭০}আগুনের তৈরী জিন বা নূরের তৈরী ফেরেস্তাকে মর্যাদা দান করার কথা বলা হয়নি কুরআনের কোথাও। কিন্তু মাটির তৈরী মানুষকে মর্যাদা দান করার কথা আল্লাহ তায়ালা সুষ্পষ্টই ঘোষণা করেছেন। যা স্পষ্টই প্রমাণ করে নূরের তৈরী হওয়াই কেবল শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ নয়?তাছাড়া আগুনের তৈরী জিন আর নূরের তৈরী ফেরেস্তাদের দিয়ে মাটির তৈরী মানুষ হযরত আদম আঃ কে আল্লাহ তায়ালা সেজদা করিয়ে বুঝিয়ে দিলেন আগুনের তৈরী বা নূরের তৈরী হওয়া কোন শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ নয়। শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণবাহী হল- ভিতরগত গুন যার শ্রেষ্ঠ সেই প্রকৃত শ্রেষ্ঠ। চাই সে মাটির তৈরী হোক, চাই নূরের তৈরী হোক চাই আগুনের তৈরী হোক। ﻓَﺈِﺫَﺍ ﺳَﻮَّﻳْﺘُﻪُ ﻭَﻧَﻔَﺨْﺖُ ﻓِﻴﻪِ ﻣِﻦ ﺭُّﻭﺣِﻲ ﻓَﻘَﻌُﻮﺍْ ﻟَﻪُ ﺳَﺎﺟِﺪِﻳﻦَ ( 29 ) ﻓَﺴَﺠَﺪَ ﺍﻟْﻤَﻶﺋِﻜَﺔُ ﻛُﻠُّﻬُﻢْ ﺃَﺟْﻤَﻌُﻮﻥَ ( 30 অনুবাদ-যখন আমি তাকে পূর্ণতা দিলাম এবং তাতে আত্মা ফুকে দিলাম, তখন সবাই তাকে সেজদা করল। সকল ফেরেস্তারাই একসাথে তাকে সেজদা করল।{সূরা হিজর-২৯,৩০} সূরা কাহাফে মহান আল্লাহ এরশাদ করেনঃ (হে রাসূল!) ‘আপনি বলে দিন, আমি তো তোমাদেরই মত এক জন মানুষ, আমার নিকট এই মর্মে ওহী করা হয় যে, তোমাদের উপাস্য এক ও একক, অতএব যে নিজ প্রতিপালকের দিদার লাভের আশাবাদী সে যেন সৎকর্ম করে এবং নিজ প্রতিপালকের ইবাদতে অন্য কাউকে শরীক না করে’। (সূরা আল্ কাহাফঃ ১১০)অন্যত্রে মহান আল্লাহ বলেনঃ ‘আপনি বলুন আমি আমার প্রতিপালকের পবিত্রতা বর্ণনা করছি। একজন মানব, একজন রাসূল বৈ আমি কে? (সূরা বনী ইসরাইল: ৯৩(তিনি আরো বলেনঃ ‘নিশ্চয় আল্লাহ মুমিনদের বড় উপকার করেছেন, যেহেতু তাদেরই মধ্য থেকে একজনকে রাসূল হিসাবে পাঠিয়েছেন যিনি তাদের নিকট তাঁর আয়াতসমূহ তিলাওত করেন, তাদেরকে পরিশুদ্ধ করেন, এবং তাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দান করেন, যদিও তারা ইতোপূর্বে স্পষ্ট গুমরাহীতে নিমজ্জিত ছিল। (সূরাহ আলে ইমরানঃ ১৬৪(তিনি আরো বলেনঃ তোমাদের নিকট আগমন করেছে, তোমাদেরই মধ্যকার এমন একজন রাসূল, যার কাছে তোমাদের ক্ষতিকর বিষয় অতি কষ্টদায়ক মনে হয়, যিনি হচ্ছেন তোমাদের খুবই হিতাকাঙ্খী, মুমিনদের প্রতি বড়ই স্নেহশীল, করুনাপরায়ণ। (সূরা তাওবা: ১২৮)তিনি আরো বলেনঃ এ লোকদের জন্যে এটা কী বিস্ময়কর হয়েছে যে, আমি তাদের মধ্য হতে একজনের নিকট অহী প্রেরণ করেছি এই মর্মে যে, তুমি লোকদেরকে ভয় প্রদর্শন কর এবং যারা ঈমান এনেছে তাদরকে এই সুসংবাদ দাও যে, তারা তাদের প্রতিপালকের নিকট (পূর্ণ মর্যাদা) লাভ করবে, কাফেররা বলতে লাগলো যে, এই ব্যক্তি তো নিঃসন্দেহে প্রকাশ্য যাদুকর। (সূরা ইউনুস: ২( তিনি আরো বলেনঃ তিনিই নিরক্ষরদের মধ্য থেকে একজন রাসূল প্রেরণ করেছেন তাদের নিকট, যিনি তাদের কাছে পাঠ করেন তাঁর আয়াতসমূহ, তাদেরকে পবিত্র করেন এবং শিক্ষা দেন কিতাব ও হিকমত, যদিও তারা ইতোপূর্বে স্পষ্ট গোমরাহীতে লিপ্ত ছিল। (সূরা-আল্ জুমুআহ: ২)
আল্লাহ আরো বলেনঃ আমি তোমাদের মধ্য হতে এরূপ রাসূল প্রেরণ করেছি যে, তোমাদের নিকট আমার নিদর্শনাবলী পাঠ করে ও তোমাদেরকে পবিত্র করে এবং তোমাদেরকে গ্রন্থ ও বিজ্ঞান শিক্ষা দেয়, আর তোমরা যা অবগত ছিলে না তা শিক্ষা দান করেন। (সূরা বাকারা ১৫১ (এখানে মহান আল্লাহ বলেই দিয়েছেন যে, নবী (ছাল্লাল্লাহু আআইহি ওয়া সাল্লাম) ঐসব লোকদেরই একজন, তিনি তাদের বাইরের কোন লোক নন। কাজেই ঐসব লোক যদি নূরের তৈরী হন, তাহলে নবী (ছাল্লাল্লাহু আআইহি ওয়া সাল্লাম) ও নূরের তৈরী হবেন, আর যদি তারা নূরের তৈরী না হন তবে তিনিও নূরের তৈরী হবেন না এটাইতো স্বাভাবিক। আসলে বিদআতীরা কুরআন ও ছহীহ হাদীছ আয়ত্ব করতে এবং এর সঠিক ব্যাখ্যা অনুধাবন করা থেকে চির ব্যর্থ, তাই তারা নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সম্পর্কে কুরআন ও হাদীছ বিরোধী কথা বলে যে, নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাটির তৈরী নন, বরং তিনি নূরের তৈরী। অথচ এভাবে তারা নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে অধিক সম্মান দিতে গিয়ে আরো তাঁকে খাটো করে দিয়েছে। কারণ নূরের তৈরী ফেরেশতার উপর আল্লাহ মাটির তৈরী আদম (আলাইহিস্ সালাম)কে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। তাদেরকে দিয়ে আদমের সিজদা করিয়ে নিয়েছেন। (দ্রঃসূরা আল বাকারাহ: ৩৪, সূরা আল্ আ’রাফ: ১১) তাহলে কার শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণিত হল? নূরের তৈরী ফেরেশতাদের নাকি মাটির তৈরী আদম (আলাইহিস্ সাল্লাম)এর? অবশ্যই মাটির তৈরী আদম (আলাইহিস্ সালাম) এর শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণিত হল। তবে আমরা তর্কের খাতিরে এটা বললেও আমাদের বিশ্বাস, আদম (আলাইহিস্ সালাম) ফেরেশতাদের উপর শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে ছিলেন তাঁর ইলমের মাধ্যমে। আর এটা একমাত্র আল্লাহর অনুগ্রহেই হয়ে ছিল। তিনিই আদমের প্রতি অনুগ্রহ করে ফেরেশতাদের চেয়ে তাকে বেশি ইলম দান করে ছিলেন।আমি বিশ্বের সকল বিদআতীকে বলতে চাই, এক লক্ষ চব্বিশ হাজার নবী ও রাসূল (অনেকে বলেনঃ নবী ও রাসূলদের সর্ব মোট সংখ্যা হলঃ এক লক্ষ চব্বিশ হাজার, মতান্তরে দুই লক্ষ চব্বিশ হাজার। এভাবে বলে থাকেন, এটা প্রমাণ করে তারা ঐমর্মে নবী এর কোন হাদীছ অবগত হন নি। মুসনাদ আহমাদ, ছহীহ ইবনু ইব্বান প্রভৃতিতে নবী ও রাসূলদের সর্ব মোট সংখ্যা একলক্ষ চব্বিশ হাজার বলা হয়েছে, আরো বলা হয়েছে তাদের মধ্যে রাসূলদের সংখ্যা সর্ব মোট ৩১৫ জন দ্রঃ মুসনাদ আহমাদ ৫/১৭৯,হা/২১৫৯২, ছহীহ ইবনু হিব্বান, হা/ প্রভৃতি হাদীছ ছহীহ, সিলসিলাতুল আহাদীছ আছ ছহীহাহ) এর মধ্যে শুধু নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কিভাবে নূরের তৈরী হলেন? যদি তাঁকে নূরের তৈরী না বলায় তার মান খাটো করা হয়,তবে বাকী এক লক্ষ তেইশ হাজার নয়শো নিরানব্বই জন নবী রাসূলকে মাটির তৈরী বলে কি তাদের মান খাটো করা হয় না? নাকি তারাও নূরের তৈরী? কৈ কোন বিদআতীকে তো বলতে শুনি না যে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর মত বাকী সমস্ত নবী, রাসূলগণও নূরের তৈরী! বরং তারা এমনটি শুধু নবী মুহাম্মাদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর ক্ষেত্রেই বলে থাকে।

রাসূল (সা:) শ্রেষ্ঠ মহামানব :

আল্লাহ তাআলার পর তিনিই শ্রেষ্ঠ। তার মত আর কেউ নেই। তিনি সকল সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি। মাটির তৈরী সকল মানুষ, আগুনের তৈরী সকল জিন, নূরের তৈরী সকল ফেরেস্তা থেকে শ্রেষ্ঠ মাটির তৈরী এ মহামানব রাসূল সাঃ। যেমন সকল নূরের তৈরী ফেরেস্তার মাঝে হযরত জিবরাঈল আঃ শ্রেষ্ঠ। তেমনি মাটির তৈরী এ মহামানব রাসূল সাঃ সকল মাটির তৈরী পয়গম্বর আঃ ও সকল মানুষ ও সকল জিনও ফেরেস্তা থেকে শ্রেষ্ঠ ও উত্তম। তার মত উত্তম ও শ্রেষ্ঠ কোন সৃষ্টি আল্লাহ তাআলা কখনো সৃজন করেন নি, কখনো করবেন ও না। রাসুল (সাঃ) মানুষ মাটির তৈরি, যেমন কোরআন তৈরি কাগজ-কালি দিয়ে কিন্তু কোরআনের একনাম নূর বা হেদায়াত, তেমনি রাসূল (সা:) ও রক্তে গুস্তে তৈরি শরীরে মানুষ, কিন্তু তিনি হেদায়াতের নূর বা আলো মহামানব, এবং তিনিই মহৎ চরিত্র মর্যাদা সর্বোচ্ছোস্তরে অধিষ্টিত।এর পরও রাসূল সাঃ কে মাটির তৈরী থেকে নূরের তৈরী বানানোর অযথা চেষ্টা করাটা একটি হাস্যকর প্রচেষ্টা ছাড়া কিছু নয়।

উপসংহার :

আল্লাহ তা’আলা আমাদের এসব অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক থেকে বিরত থেকে আখেরাতের পূজি সংগ্রহ করার তৌফিক দান করুন এবং কোরআন-হাদীসকে সঠিক ভাবে উপলব্দি করার ও মেনে চলার তৌফিক দান করুন।(আমিন)



রাসূল(সা:) কি নূরের তৈরী না কি মাটি তৈরি ? কুরআনের আয়াত দ্বারা ব্যাখ্যা।



নূর (ﺭﻮُﻧ) শব্দটি ( ﻥ ﻭ ﺭ ) ধাতু থেকে এসেছে। যার অর্থ আলো, আলোক,
উজ্জ্বলতা, কিরণ, জ্যোতি, প্রদীপ, বাতি এবং এর (form IV active
participle) হল ﺮﻴِﻨُﻣ (মনির) যার অর্থ আলো দানকারী, আলোকময়,
আলোকপ্রদ, দীপ্তমান, উজ্জল।
অনেক বাতিলপন্থী বলে থাকে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নুরের
তৈরী। এই জন্য তারা কুরআনের একটি আয়াত ও একটি জাল হাদীস পেশ
করে থাকে।
ﺍَﻭَّﻝُ ﻣَﺎ ﺧَﻠَﻖَ ﺍﻟﻠﻪُ ﻧُﻮْﺭِﻯ
আল্লাহ সর্বপ্রথম আমার নূর
সৃষ্টি করেছেন’ বলে যে হাদীছ তারা বলে, তা মওযূ বা জাল (সিলসিলা ছহীহাহ
হা/৪৫৮-এর আলোচনা দ্রঃ)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
নূরের তৈরী ছিলেন না। আল্লাহ বলেন-
ﻗُﻞْ ﺇِﻧَّﻤَﺎ ﺃَﻧَﺎ ﺑَﺸَﺮٌ ﻣِﺜْﻠُﻜُﻢْ
(হে নবী) তুমি বলে দাও, আমি তোমাদের মতই একজন মানুষ। ১৮/১১০, ৪১/৬

বাতিলপন্থীরা যে আয়াত দিয়ে নুরের তৈরী বলে :

ﻗَﺪْ ﺟَﺎﺀﻛُﻢ ﻣِّﻦَ ﺍﻟﻠّﻪِ ﻧُﻮﺭٌ ﻭَﻛِﺘَﺎﺏٌ ﻣُّﺒِﻴﻦ
তোমাদের কাছে একটি উজ্জল জ্যোতি এসেছে এবং একটি সমুজ্জল গ্রন্থ। (কুরআন-মায়িদাহ, ৫/১৫ )
বাতিলপন্থীরা বলে, “আল্লাহর পক্ষ থেকে নূর এসেছে এবং স্পষ্ট কিতাবএসেছে। উক্ত নূর দ্বারা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে নূরের তৈরি সে কথা বুঝানো হয়েছে”।
তাদের এই দাবী, মিথ্যা ও বাতিল। এই নূর দ্বারা কি বুঝা যায় মুহাম্মাদ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নূরের তৈরি? এই নুরের ব্যাখ্যা পরের
আয়াতে আল্লাহ উল্লেখ করেছেন। পরের আয়াতে
আল্লাহ বলেন-
ﻳَﻬْﺪِﻱ ﺑِﻪِ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻣَﻦِ ﺍﺗَّﺒَﻊَ ﺭِﺿْﻮَﺍﻧَﻪُ ﺳُﺒُﻞَ ﺍﻟﺴَّﻼﻡِ ﻭَﻳُﺨْﺮِﺟُﻬُﻢْ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻈُّﻠُﻤَﺎﺕِ
ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﻨُّﻮﺭِ ﺑِﺈِﺫْﻧِﻪِ ﻭَﻳَﻬْﺪِﻳﻬِﻢْ ﺇِﻟَﻰ ﺻِﺮَﺍﻁٍ ﻣُﺴْﺘَﻘِﻴﻢٍ
তাদিয়ে আল্লাহ তাদেরকে শান্তির পথে পরিচালিত করেন, যারা তাঁর
সন্তুষ্টির অম্বেষণ করে এবং তাঁর অনুমতিতে তিনি তাদেরকে অন্ধকার
থেকে আলোর দিকে বের করেন আর তাদেরকে সরল-সঠিক পথের
দিকে পরিচালিত করেন। আল-মায়িদাহ, ৫/১৬
অর্থাৎ যে ব্যক্তি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ও
কুরআনকে অনুসরণ করবে সে ব্যক্তি সিরাতুল মোস্তাকিমের
দিকে তথা সহজ-সরল পথের দিকে হেদায়াত পাবে।
অন্যত্র আল্লাহ বলেন :
ﺍﻟﺮ ﻛِﺘَﺎﺏٌ ﺃَﻧْﺰَﻟْﻨَﺎﻩُ ﺇِﻟَﻴْﻚَ ﻟِﺘُﺨْﺮِﺝَ ﺍﻟﻨَّﺎﺱَ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻈُّﻠُﻤَﺎﺕِ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﻨُّﻮﺭِ ﺑِﺈِﺫْﻥِ ﺭَﺑِّﻬِﻢْ
ﺇِﻟَﻰ ﺻِﺮَﺍﻁِ ﺍﻟْﻌَﺰِﻳﺰِ ﺍﻟْﺤَﻤِﻴﺪِ
আলিফ-লাম-রা; এই কিতাব, যা তোমার প্রতি আমি অবতীর্ণ করেছি,
যাতে তুমি মানুষকে তাদের রবের অনুমতিক্রমে অন্ধকার
থেকে নিয়ে আসতে পারো আলোর (নূরের) দিকে- মহাপরাক্রমশালী,
প্রশংসিত আল্লাহর পথে। ইবরাহীম, ১৪/১
ﻫُﻮَ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﻳُﻨَﺰِّﻝُ ﻋَﻠَﻰ ﻋَﺒْﺪِﻩِ ﺁﻳَﺎﺕٍ ﺑَﻴِّﻨَﺎﺕٍ ﻟِﻴُﺨْﺮِﺟَﻜُﻢْ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻈُّﻠُﻤَﺎﺕِ ﺇِﻟَﻰ
ﺍﻟﻨُّﻮﺭِ ﻭَﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﺑِﻜُﻢْ ﻟَﺮَﺀُﻭﻑٌ ﺭَﺣِﻴﻢٌ
তিনিই তাঁর বান্দার প্রতি সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ অবতীর্ণ করেন,
যাতে তিনি তোমাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোর (নূরের) দিকে বের
করে আনতে পারেন আর নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের প্রতি অতিশয় দয়ালু,
পরম করুণাময়। আল-হাদিদ, ৫৭/৯
ﻫُﻮَ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﻳُﺼَﻠِّﻲ ﻋَﻠَﻴْﻜُﻢْ ﻭَﻣَﻼﺋِﻜَﺘُﻪُ ﻟِﻴُﺨْﺮِﺟَﻜُﻢْ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻈُّﻠُﻤَﺎﺕِ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﻨُّﻮﺭِ
ﻭَﻛَﺎﻥَ ﺑِﺎﻟْﻤُﺆْﻣِﻨِﻴﻦَ ﺭَﺣِﻴﻤًﺎ
তিনিই তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেন এবং তাঁর ফেরেশতারা তোমাদের জন্য
অনুগ্রহের প্রার্থনা করেন যেন তোমাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোর (নূরের)
দিকে বের করে আনেন; আর তিনি মুমিনদের প্রতি পরম দয়ালু। আল-
আহযাব, ৩৩/৪৩
ﺭَﺳُﻮﻻ ﻳَﺘْﻠُﻮ ﻋَﻠَﻴْﻜُﻢْ ﺁﻳَﺎﺕِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻣُﺒَﻴِّﻨَﺎﺕٍ ﻟِﻴُﺨْﺮِﺝَ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺁﻣَﻨُﻮﺍ ﻭَﻋَﻤِﻠُﻮﺍ
ﺍﻟﺼَّﺎﻟِﺤَﺎﺕِ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻈُّﻠُﻤَﺎﺕِ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﻨُّﻮﺭِ ﻭَﻣَﻦْ ﻳُﺆْﻣِﻦْ ﺑِﺎﻟﻠَّﻪِ ﻭَﻳَﻌْﻤَﻞْ ﺻَﺎﻟِﺤًﺎ
ﻳُﺪْﺧِﻠْﻪُ ﺟَﻨَّﺎﺕٍ ﺗَﺠْﺮِﻱ ﻣِﻦْ ﺗَﺤْﺘِﻬَﺎ ﺍﻷﻧْﻬَﺎﺭُ ﺧَﺎﻟِﺪِﻳﻦَ ﻓِﻴﻬَﺎ ﺃَﺑَﺪًﺍ ﻗَﺪْ ﺃَﺣْﺴَﻦَ
ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻟَﻪُ ﺭِﺯْﻗًﺎ
একজন রাসূল, যিনি তোমাদের নিকট আল্লাহর সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ পাঠ
করেন; যেন যারা ঈমান আনে ও সৎকাজসমূহ করে, তাদেরকে অন্ধকার
হতে বাহির করে আলোর (নূরের) দিকে নিয়ে আসতে পারেন; আর
যে আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে ও সৎকাজ করবে,
তিনি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, যার তলদেশে নহরসমূহ প্রবাহিত হয়,
সেখানে তারা চিরকাল থাকবে; নিশ্চয় আল্লাহ তার জন্য উত্তম রিয্ক
রেখেছেন। আত-তালাক, ৬৫/১১
ﻭَﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺁﻣَﻨُﻮﺍ ﺑِﺎﻟﻠَّﻪِ ﻭَﺭُﺳُﻠِﻪِ ﺃُﻭﻟَﺌِﻚَ ﻫُﻢُ ﺍﻟﺼِّﺪِّﻳﻘُﻮﻥَ ﻭَﺍﻟﺸُّﻬَﺪَﺍﺀُ ﻋِﻨْﺪَ ﺭَﺑِّﻬِﻢْ
ﻟَﻬُﻢْ ﺃَﺟْﺮُﻫُﻢْ ﻭَﻧُﻮﺭُﻫُﻢْ ﻭَﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻛَﻔَﺮُﻭﺍ ﻭَﻛَﺬَّﺑُﻮﺍ ﺑِﺂﻳَﺎﺗِﻨَﺎ ﺃُﻭﻟَﺌِﻚَ ﺍﻟْﺠَﺤِﻴﻢِ
ﺃَﺻْﺤَﺎﺏُ
আর যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলদের প্রতি ঈমান আনে, তারাই তাদের রবের
নিকট সিদ্দীক ও শহীদ, তাদের জন্য রয়েছে তাদের প্রতিফল ও তাদের নূর
আর যারা আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছে এবং মিথ্যা প্রতিপন্ন
করেছে, তারাই প্রজ্বলিত আগুনের অধিবাসী। আল-হাদীদ, ৫৭/১৯

নূর দ্বারা পথ নির্দেশ বুঝিয়েছেন :

ﻳَﺎ ﺃَﻳُّﻬَﺎ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺁﻣَﻨُﻮﺍ ﺍﺗَّﻘُﻮﺍ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻭَﺁﻣِﻨُﻮﺍ ﺑِﺮَﺳُﻮﻟِﻪِ ﻳُﺆْﺗِﻜُﻢْ ﻛِﻔْﻠَﻴْﻦِ ﻣِﻦْ ﺭَﺣْﻤَﺘِﻪِ
ﻭَﻳَﺠْﻌَﻞْ ﻟَﻜُﻢْ ﻧُﻮﺭًﺍ ﺗَﻤْﺸُﻮﻥَ ﺑِﻪِ ﻭَﻳَﻐْﻔِﺮْ ﻟَﻜُﻢْ ﻭَﺍﻟﻠَّﻪُ ﻏَﻔُﻮﺭٌ ﺭَﺣِﻴﻢٌ
হে মুমিনগণ! আল্লাহকে ভয় কর আর তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আন,
তিনি তাঁর রহমতে দ্বিগুণ পুরস্কার দিবেন, আর তোমাদেরকে নূর (জ্যোতি)
দিবেন, যার সাহায্যে তোমরা পথ
চলতে পারবে এবং তিনি তোমাদেরকে ক্ষমা করবেন আর আল্লাহ ক্ষমাশীল,
পরম দয়ালু। হাদীদ, ৫৭/২৮

মুনাফিকরা নূর পাবে না :

ﻳَﻮْﻡَ ﻳَﻘُﻮﻝُ ﺍﻟْﻤُﻨَﺎﻓِﻘُﻮﻥَ ﻭَﺍﻟْﻤُﻨَﺎﻓِﻘَﺎﺕُ ﻟِﻠَّﺬِﻳﻦَ ﺁﻣَﻨُﻮﺍ ﺍﻧْﻈُﺮُﻭﻧَﺎ ﻧَﻘْﺘَﺒِﺲْ ﻣِﻦْ
ﻧُﻮﺭِﻛُﻢْ ﻗِﻴﻞَ ﺍﺭْﺟِﻌُﻮﺍ ﻭَﺭَﺍﺀَﻛُﻢْ ﻓَﺎﻟْﺘَﻤِﺴُﻮﺍ ﻧُﻮﺭًﺍ ﻓَﻀُﺮِﺏَ ﺑَﻴْﻨَﻬُﻢْ ﺑِﺴُﻮﺭٍ ﻟَﻪُ ﺑَﺎﺏٌ
ﺑَﺎﻃِﻨُﻪُ ﻓِﻴﻪِ ﺍﻟﺮَّﺣْﻤَﺔُ ﻭَﻇَﺎﻫِﺮُﻩُ ﻣِﻦْ ﻗِﺒَﻠِﻪِ ﺍﻟْﻌَﺬَﺍﺏُ
সেদিন মুনাফিক পুরুষ ও মুনাফিক নারীগণ মুমিনদেরকে বলবে,
‘তোমরা আমাদের জন্য অপেক্ষা কর, তোমাদের নূর থেকে আমরা একটু
নিয়ে নেই’, তাদেরকে বলা হবে, ‘তোমরা তোমাদের পিছনে ফিরে যাও
এবং নূরের সন্ধান কর,’ তারপর তাদের মাঝখানে একটি প্রাচীর স্থাপন
করে দেয়া হবে, যাতে থাকবে একটি দরজা, তার ভিতরভাগে থাকবে রহমত
এবং তার বহির্ভাগে থাকবে আযাব। হাদীদ, ৫৭/১৩

আল্লাহর নূরের উপমা :

ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻧُﻮﺭُ ﺍﻟﺴَّﻤَﺎﻭَﺍﺕِ ﻭَﺍﻷﺭْﺽِ ﻣَﺜَﻞُ ﻧُﻮﺭِﻩِ ﻛَﻤِﺸْﻜَﺎﺓٍ ﻓِﻴﻬَﺎ ﻣِﺼْﺒَﺎﺡٌ ﺍﻟْﻤِﺼْﺒَﺎﺡُ
ﻓِﻲ ﺯُﺟَﺎﺟَﺔٍ ﺍﻟﺰُّﺟَﺎﺟَﺔُ ﻛَﺄَﻧَّﻬَﺎ ﻛَﻮْﻛَﺐٌ ﺩُﺭِّﻱٌّ ﻳُﻮﻗَﺪُ ﻣِﻦْ ﺷَﺠَﺮَﺓٍ ﻣُﺒَﺎﺭَﻛَﺔٍ ﺯَﻳْﺘُﻮﻧَﺔٍ
ﻻ ﺷَﺮْﻗِﻴَّﺔٍ ﻭَﻻ ﻏَﺮْﺑِﻴَّﺔٍ ﻳَﻜَﺎﺩُ ﺯَﻳْﺘُﻬَﺎ ﻳُﻀِﻲﺀُ ﻭَﻟَﻮْ ﻟَﻢْ ﺗَﻤْﺴَﺴْﻪُ ﻧَﺎﺭٌ ﻧُﻮﺭٌ ﻋَﻠَﻰ
ﻧُﻮﺭٍ ﻳَﻬْﺪِﻱ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻟِﻨُﻮﺭِﻩِ ﻣَﻦْ ﻳَﺸَﺎﺀُ ﻭَﻳَﻀْﺮِﺏُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺍﻷﻣْﺜَﺎﻝَ ﻟِﻠﻨَّﺎﺱِ ﻭَﺍﻟﻠَّﻪُ ﺷَﻲْﺀٍ ﻋَﻠِﻴﻢٌ
ﺑِﻜُﻞِّ
আল্লাহ আসমানসমূহ ও যমীনের নূর, তাঁর নূরের উপমা একটি দীপাধার, যার
মধ্যে আছে একটি প্রদীপ; প্রদীপটি একটি কাঁচের আবরণের মধ্যে স্থাপিত,
কাঁচের আবরণটি যেন উজ্জ্বল নক্ষত্র; যা প্রজ্জ্বলিত করা হয় বরকতময়
যাইতূন বৃক্ষের তেল দ্বারা যা পূর্ব দিকেরও নয় এবং পশ্চিম দিকেরও নয়,
আগুন তাকে স্পর্শ না করলেও যেন তার তেল উজ্জ্বল আলো দিচ্ছে; নূরের
উপর নূর, আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তাঁর নূরের দিকে পথ দেখান, আর আল্লাহ
মানুষের জন্য উপমা পেশ করেন এবং আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বজ্ঞ। আন-নূর,
২৪/৩৫

রবের নূরে উদ্ভাসিত হবে :

ﻭَﺃَﺷْﺮَﻗَﺖِ ﺍﻷﺭْﺽُ ﺑِﻨُﻮﺭِ ﺭَﺑِّﻬَﺎ ﻭَﻭُﺿِﻊَ ﺍﻟْﻜِﺘَﺎﺏُ ﻭَﺟِﻲﺀَ ﺑِﺎﻟﻨَّﺒِﻴِّﻴﻦَ ﻭَﺍﻟﺸُّﻬَﺪَﺍﺀِ
ﻭَﻗُﻀِﻲَ ﺑَﻴْﻨَﻬُﻢْ ﺑِﺎﻟْﺤَﻖِّ ﻭَﻫُﻢْﻻ ﻳُﻈْﻠَﻤُﻮﻥَ
আর পৃথিবী তার রবের নূরে উদ্ভাসিত হবে আর আমলনামা পেশ
করা হবে এবং নবীগণ ও সাক্ষীগণকে উপস্থিত করা হবে; সকলের
মাঝে ন্যায়বিচার করা হবে আর তাদের প্রতি কোন যুলম করা হবে না। আয-
যুমার, ৩৯/৬৯

নূর শব্দ দিয়ে আল্লাহ কুরআনকে বুঝিয়েছে :

ﻳَﺎ ﺃَﻳُّﻬَﺎ ﺍﻟﻨَّﺎﺱُ ﻗَﺪْ ﺟَﺎﺀَﻛُﻢْ ﺑُﺮْﻫَﺎﻥٌ ﻣِﻦْ ﺭَﺑِّﻜُﻢْ ﻭَﺃَﻧْﺰَﻟْﻨَﺎ ﺇِﻟَﻴْﻜُﻢْ ﻧُﻮﺭًﺍ ﻣُﺒِﻴﻨًﺎ
ﻓَﺄَﻣَّﺎ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺁﻣَﻨُﻮﺍ ﺑِﺎﻟﻠَّﻪِ ﻭَﺍﻋْﺘَﺼَﻤُﻮﺍ ﺑِﻪِ ﻓَﺴَﻴُﺪْﺧِﻠُﻬُﻢْ ﻓِﻲ ﺭَﺣْﻤَﺔٍ ﻣِﻨْﻪُ
ﻭَﻓَﻀْﻞٍ ﻭَﻳَﻬْﺪِﻳﻬِﻢْ ﺇِﻟَﻴْﻪِ ﺻِﺮَﺍﻃًﺎﻣُﺴْﺘَﻘِﻴﻤًﺎ
হে মানবজাতি! অবশ্যই তোমাদের রবের পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে দলিল
প্রমাণ এসেছে আর আমি তোমাদের কাছে সুস্পষ্ট নূর (কুরআন) অবতীর্ণ
করেছি। অতঃপর যারা আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে এবং তাতে দৃঢ়তা অবলম্বন
করে, ফলে শীঘ্রই তিনি তাদেরকে তাঁর রহমত ও অনুগ্রহের মধ্যে প্রবেশ
করাবেন এবং তার সরল-সঠিক পথে পরিচালিত করবেন। আন-নিসা,
৪/১৭৪-১৭৫
ﻓَﺂﻣِﻨُﻮﺍ ﺑِﺎﻟﻠَّﻪِ ﻭَﺭَﺳُﻮﻟِﻪِ ﻭَﺍﻟﻨُّﻮﺭِ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﺃَﻧْﺰَﻟْﻨَﺎ ﻭَﺍﻟﻠَّﻪُ ﺑِﻤَﺎ ﺗَﻌْﻤَﻠُﻮﻥَ ﺧَﺒِﻴﺮٌ
কাজেই তোমরা ঈমান আনো আল্লাহ প্রতি ও তাঁর রাসূলের প্রতি আর সেই
নূর (কুরআন)এর প্রতি যা আমি নাযিল করেছি এবং তোমরা যা কর
সে সম্পর্কে আল্লাহ পুরোপুরি অবহিত। আত-তাগাবুন, ৬৪/৮
ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻳَﺘَّﺒِﻌُﻮﻥَ ﺍﻟﺮَّﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲَّ ﺍﻷﻣِّﻲَّ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﻳَﺠِﺪُﻭﻧَﻪُ ﻣَﻜْﺘُﻮﺑًﺎ ﻋِﻨْﺪَﻫُﻢْ
ﻓِﻲ ﺍﻟﺘَّﻮْﺭَﺍﺓِ ﻭَﺍﻹﻧْﺠِﻴﻞِ ﻳَﺄْﻣُﺮُﻫُﻢْ ﺑِﺎﻟْﻤَﻌْﺮُﻭﻑِ ﻭَﻳَﻨْﻬَﺎﻫُﻢْ ﻋَﻦِ ﺍﻟْﻤُﻨْﻜَﺮِ ﻭَﻳُﺤِﻞُّ
ﻟَﻬُﻢُ ﺍﻟﻄَّﻴِّﺒَﺎﺕِ ﻭَﻳُﺤَﺮِّﻡُ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢُ ﺍﻟْﺨَﺒَﺎﺋِﺚَ ﻭَﻳَﻀَﻊُ ﻋَﻨْﻬُﻢْ ﺇِﺻْﺮَﻫُﻢْ ﻭَﺍﻷﻏْﻼﻝَ
ﺍﻟَّﺘِﻲ ﻛَﺎﻧَﺖْ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢْ ﻓَﺎﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺁﻣَﻨُﻮﺍ ﺑِﻪِ ﻭَﻋَﺰَّﺭُﻭﻩُ ﻭَﻧَﺼَﺮُﻭﻩُ ﻭَﺍﺗَّﺒَﻌُﻮﺍ ﺍﻟﻨُّﻮﺭَ
ﺍﻟَّﺬِﻱ ﺃُﻧْﺰِﻝَ ﻣَﻌَﻪُ ﺃُﻭﻟَﺌِﻚَ ﻫُﻢُ ﺍﻟْﻤُﻔْﻠِﺤُﻮﻥَ
যারা অনুসরণ করে নিরক্ষর নবীকে, যা তারা উল্লেখ পায় তাদের কাছে রক্ষিত
তাওরাত ও ইঞ্জীল কিতাবে লিখিত অবস্থায়, যে তাদেরকে সৎ কাজের
নির্দেশ দেয় ও অন্যায় কাজের নিষেধ করে এবং তাদের জন্য পবিত্র
বস্তুসমূহ বৈধ করে আর অপবিত্র বস্তুসমূহ অবৈধ করে আর তাদের উপর
চাপানো বোঝা ও শৃংখল হতে তাদেরকে মুক্ত করে; সুতরাং যারা তার
প্রতি ঈমান আনে, তাকে সম্মান করে, তাকে সাহায্য
সহযোগিতা করে এবং তার সাথে যে নূর (কুরআন) নাযিল করা হয়েছে তার
অনুসরণ করে, তারাই সফলকাম। আল-আ’রাফ, ৭/১৫৭

ঈমানকেও আল্লাহ নূর বলেছেন :

ﻭَﻛَﺬَﻟِﻚَ ﺃَﻭْﺣَﻴْﻨَﺎ ﺇِﻟَﻴْﻚَ ﺭُﻭﺣًﺎ ﻣِﻦْ ﺃَﻣْﺮِﻧَﺎ ﻣَﺎ ﻛُﻨْﺖَ ﺗَﺪْﺭِﻱ ﻣَﺎ ﺍﻟْﻜِﺘَﺎﺏُ ﻭَﻻ
ﺍﻹﻳﻤَﺎﻥُ ﻭَﻟَﻜِﻦْ ﺟَﻌَﻠْﻨَﺎﻩُ ﻧُﻮﺭًﺍ ﻧَﻬْﺪِﻱ ﺑِﻪِ ﻣَﻦْ ﻧَﺸَﺎﺀُ ﻣِﻦْ ﻋِﺒَﺎﺩِﻧَﺎ ﻭَﺇِﻧَّﻚَ
ﻟَﺘَﻬْﺪِﻱ ﺇِﻟَﻰ ﺻِﺮَﺍﻁٍ ﻣُﺴْﺘَﻘِﻴﻢٍ
আর এভাবে আমি তোমার প্রতি আমার নির্দেশ হতে ওহী পাঠিয়েছি রূহ
(অর্থাৎ ওহী বা কুরআন); তুমি জানতে না কিতাব কি ও ঈমান কি? কিন্তু
আমি একে করেছি নূর যার সাহায্যে আমি আমার বান্দাদের
মধ্যে যাকে ইচ্ছা সঠিক পথে পরিচালিত করি; তুমি অবশ্যই সঠিক সরল
পথের দিকে নির্দেশ করছো। আশ-শুরা, ৪২/৫২

ঈমান কুফরীর অন্ধকার থেকে নূর অর্থাৎ আলোর দিকে নিয়ে আসে :

ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻭَﻟِﻲُّ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺁﻣَﻨُﻮﺍ ﻳُﺨْﺮِﺟُﻬُﻢْ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻈُّﻠُﻤَﺎﺕِ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﻨُّﻮﺭِ ﻭَﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻛَﻔَﺮُﻭﺍ
ﺃَﻭْﻟِﻴَﺎﺅُﻫُﻢُ ﺍﻟﻄَّﺎﻏُﻮﺕُ ﻳُﺨْﺮِﺟُﻮﻧَﻬُﻢْ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻨُّﻮﺭِ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﻈُّﻠُﻤَﺎﺕِ ﺃُﻭﻟَﺌِﻚَ ﺃَﺻْﺤَﺎﺏُ
ﺍﻟﻨَّﺎﺭِ ﻫُﻢْ ﻓِﻴﻬَﺎ ﺧَﺎﻟِﺪُﻭﻥ
যারা ঈমান এনেছে, আল্লাহ তাদের অভিভাবক, তাদেরকে তিনি বের
করে আনেন অন্ধকার থেকে আলোর (নূরের) দিকে, আর
যারা কুফরী করে তাদের অভিভাবক হচ্ছে তাগুত,
তারা তাদেরকে আলো থেকে বের করে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যায়; এরাই
হলো জাহান্নামের অধিবাসী, তারা সেখানেই চিরকাল থাকবে। আল-
বাক্বারা ২/২৫৭

ইসলামকেও আল্লাহ নূর বলেছেন :

ﺃَﻓَﻤَﻦْ ﺷَﺮَﺡَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺻَﺪْﺭَﻩُ ﻟِﻺﺳْﻼﻡِ ﻓَﻬُﻮَ ﻋَﻠَﻰ ﻧُﻮﺭٍ ﻣِﻦْ ﺭَﺑِّﻪِ ﻓَﻮَﻳْﻞٌ ﻟِﻠْﻘَﺎﺳِﻴَﺔِ
ﻗُﻠُﻮﺑُﻬُﻢْ ﻣِﻦْ ﺫِﻛْﺮِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺃُﻭﻟَﺌِﻚَ ﻓِﻲﺿَﻼﻝٍ ﻣُﺒِﻴﻦٍ
আল্লাহ ইসলামের জন্য যার বক্ষকে উম্মুক্ত করে দিয়েছেন ফলে সে তার
রবের পক্ষ থেকে নূরের উপর রয়েছে, সুতরাং ধ্বংস সেসব লোকদের জন্য,
আল্লাহ স্মরণ থেকে যাদের অন্তর (হৃদয়) কঠিন হয়ে গেছে, এরাই সুস্পষ্ট
বিভ্রান্তির মধ্যে রয়েছে। আয্-যুমার, ৩৯/২২
ﻳُﺮِﻳﺪُﻭﻥَ ﺃَﻥْ ﻳُﻄْﻔِﺌُﻮﺍ ﻧُﻮﺭَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺑِﺄَﻓْﻮَﺍﻫِﻬِﻢْ ﻭَﻳَﺄْﺑَﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺇِﻻ ﺃَﻥْ ﻳُﺘِﻢَّ ﻧُﻮﺭَﻩُ ﻭَﻟَﻮْﻛَﺮِﻩَ ﺍﻟْﻜَﺎﻓِﺮُﻭﻥَ
তারা তাদের মুখের ফুৎকারে আল্লাহর নূর (অর্থাৎ ইসলামকে)
নিভিয়ে দিতে চায়, কিন্তু আল্লাহ তাঁর নূর পরিপূর্ণ করা ছাড়া অন্য কিছুই
হতে দিবেন না; যদিও কাফিররা তা অপছন্দ করে। আত-তাওবা, ৯/৩২
ﻳُﺮِﻳﺪُﻭﻥَ ﻟِﻴُﻄْﻔِﺌُﻮﺍ ﻧُﻮﺭَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺑِﺄَﻓْﻮَﺍﻫِﻬِﻢْ ﻭَﺍﻟﻠَّﻪُ ﻣُﺘِﻢُّ ﻧُﻮﺭِﻩِ ﻭَﻟَﻮْ ﺍﻟْﻜَﺎﻓِﺮُﻭﻥَ
ﻛَﺮِﻩَ
তারা তাদের মুখের ফুৎকারে আল্লাহর নূর (অর্থাৎ ইসলামকে)
নিভিয়ে দিতে চায়, কিন্তু আল্লাহ তাঁর নূরকে পূর্ণতাদানকারী; যদিও
কাফিরেরা তা অপছন্দ করে। আস-সাফ, ৬১/৮

ইঞ্জীলকে আল্লাহ নূর বলেছেন :

ﻭَﻗَﻔَّﻴْﻨَﺎ ﻋَﻠَﻰ ﺁﺛَﺎﺭِﻫِﻢْ ﺑِﻌِﻴﺴَﻰ ﺍﺑْﻦِ ﻣَﺮْﻳَﻢَ ﻣُﺼَﺪِّﻗًﺎ ﻟِﻤَﺎ ﺑَﻴْﻦَ ﻳَﺪَﻳْﻪِ ﻣِﻦَ
ﺍﻟﺘَّﻮْﺭَﺍﺓِ ﻭَﺁﺗَﻴْﻨَﺎﻩُ ﺍﻹﻧْﺠِﻴﻞَ ﻓِﻴﻪِ ﻫُﺪًﻯ ﻭَﻧُﻮﺭٌ ﻭَﻣُﺼَﺪِّﻗًﺎ ﻟِﻤَﺎ ﺑَﻴْﻦَ ﻳَﺪَﻳْﻪِ ﻣِﻦَ
ﺍﻟﺘَّﻮْﺭَﺍﺓِ ﻭَﻫُﺪًﻯﻭَﻣَﻮْﻋِﻈَﺔً ﻟِﻠْﻤُﺘَّﻘِﻴﻦَ
আর আমি তাদের পশ্চাতে মারইয়াম পুত্র ঈসাকে পাঠিয়েছিলাম তার
সামনে তাওরাত কিতাবের যা কিছু ছিল তার
সত্যায়নকারীরূপে এবং তাকে ইঞ্জীল দিয়েছিলাম, যাতে ছিল হিদায়াত ও নূর
এবং (তা ছিল) পূর্ববর্তী কিতাব তাওরাতের সত্যায়নকারী আর মুত্তাকীদের
জন্য হেদায়াত ও উপদেশ। আল-মায়িদাহ, ৫/৪৬

তাওরাতকে আল্লাহ নূর বলেছেন :

ﺇِﻧَّﺎ ﺃَﻧْﺰَﻟْﻨَﺎ ﺍﻟﺘَّﻮْﺭَﺍﺓَ ﻓِﻴﻬَﺎ ﻫُﺪًﻯ ﻭَﻧُﻮﺭٌ ﻳَﺤْﻜُﻢُ ﺑِﻬَﺎ ﺍﻟﻨَّﺒِﻴُّﻮﻥَ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺃَﺳْﻠَﻤُﻮﺍ
ﻟِﻠَّﺬِﻳﻦَ ﻫَﺎﺩُﻭﺍ ﻭَﺍﻟﺮَّﺑَّﺎﻧِﻴُّﻮﻥَ ﻭَﺍﻷﺣْﺒَﺎﺭُ ﺑِﻤَﺎ ﺍﺳْﺘُﺤْﻔِﻈُﻮﺍ ﻣِﻦْ ﻛِﺘَﺎﺏِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻭَﻛَﺎﻧُﻮﺍ
ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﺷُﻬَﺪَﺍﺀَ ﻓَﻼ ﺗَﺨْﺸَﻮُﺍ ﺍﻟﻨَّﺎﺱَ ﻭَﺍﺧْﺸَﻮْﻥِ ﻭَﻻ ﺗَﺸْﺘَﺮُﻭﺍ ﺑِﺂﻳَﺎﺗِﻲ ﺛَﻤَﻨًﺎ
ﻗَﻠِﻴﻼ ﻭَﻣَﻦْ ﻟَﻢْ ﻳَﺤْﻜُﻢْ ﺑِﻤَﺎ ﺃَﻧْﺰَﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻓَﺄُﻭﻟَﺌِﻚَﻫُﻢُ ﺍﻟْﻜَﺎﻓِﺮُﻭﻥَ
নিশ্চয় আমি তাওরাত অবতীর্ণ করেছিলাম তাতে ছিল হিদায়াত ও নূর,
আত্মসমর্পণকারী নবীগণ তা দিয়ে ইয়াহূদীদের জন্য ফয়সালা দিতেন, আর
আল্লাহওয়ালাগণ এবং আলিমগণও (তা দিয়ে ফয়সালা দিতেন) কারণ
তাদেরকে আল্লাহর কিতাবের রক্ষক করা হয়েছিল এবং তারা ছিল এর উপর
সাক্ষী; সুতরাং তোমরা মানুষকে ভয় করো না, আমাকে ভয় কর; আমার
আয়াতকে নগণ্য মূল্যে বিক্রয় কর না আর আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তার
মাধ্যমে যারা ফায়সালা করে না, তারাই কাফের। আল-মায়িদাহ, ৫/৪৪
ﻭَﻣَﺎ ﻗَﺪَﺭُﻭﺍ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﺣَﻖَّ ﻗَﺪْﺭِﻩِ ﺇِﺫْ ﻗَﺎﻟُﻮﺍ ﻣَﺎ ﺃَﻧْﺰَﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻰ ﺑَﺸَﺮٍ ﻣِﻦْ ﺷَﻲْﺀٍ
ﻗُﻞْ ﻣَﻦْ ﺃَﻧْﺰَﻝَ ﺍﻟْﻜِﺘَﺎﺏَ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﺟَﺎﺀَ ﺑِﻪِ ﻣُﻮﺳَﻰ ﻧُﻮﺭًﺍ ﻭَﻫُﺪًﻯ ﻟِﻠﻨَّﺎﺱِ ﺗَﺠْﻌَﻠُﻮﻧَﻪُ
ﻗَﺮَﺍﻃِﻴﺲَ ﺗُﺒْﺪُﻭﻧَﻬَﺎ ﻭَﺗُﺨْﻔُﻮﻥَ ﻛَﺜِﻴﺮًﺍ ﻭَﻋُﻠِّﻤْﺘُﻢْ ﻣَﺎ ﻟَﻢْ ﺗَﻌْﻠَﻤُﻮﺍ ﺃَﻧْﺘُﻢْ ﻭَﻻ
ﺁﺑَﺎﺅُﻛُﻢْ ﻗُﻞِ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺛُﻢَّ ﺫَﺭْﻫُﻢْ ﻓِﻲ ﺧَﻮْﺿِﻬِﻢْ ﻳَﻠْﻌَﺒُﻮﻥَ
আর তারা আল্লাহকে যথার্থ মর্যাদা দেয়নি, যখন তারা বলেছিল, আল্লাহ
কোন মানুষের উপর কোন কিছুই অবতীর্ণ করেননি; তুমি বল, ‘ঐ কিতাব
কে অবতীর্ণ করেছিল, যা মূসা নিয়ে এসেছিল মানুষের জন্য নূর ও সঠিক পথের
নির্দেশনা, তোমরা তা বিভিন্ন কাগজে লিখে রাখ, তার কিছু অংশ
তোমরা প্রকাশ কর আর বেশির ভাগই গোপন কর; আর
তোমাদেরকে শিক্ষা দেয়া হয়েছিল, যা তোমরা জানতে না আর তোমাদের
বাপ-দাদারাও জানত না’? তুমি বলে দাও, আল্লাহই তা অবতীর্ণ করেছিলেন,
সুতরাং তুমি তাদেরকে ছেড়ে দাও, তারা তাদের অযাচিত সমালোচনায়
খেলতে থাকুক। আল-আন‘আম, ৬/৯১
ﻭَﻟَﻘَﺪْ ﺃَﺭْﺳَﻠْﻨَﺎ ﻣُﻮﺳَﻰ ﺑِﺂﻳَﺎﺗِﻨَﺎ ﺃَﻥْ ﺃَﺧْﺮِﺝْ ﻗَﻮْﻣَﻚَ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻈُّﻠُﻤَﺎﺕِ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﻨُّﻮﺭِ
ﻭَﺫَﻛِّﺮْﻫُﻢْ ﺑِﺄَﻳَّﺎﻡِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺇِﻥَّ ﻓِﻲ ﺫَﻟِﻚَ ﻵﻳَﺎﺕٍ ﻟِﻜُﻞِّﺻَﺒَّﺎﺭٍ ﺷَﻜُﻮﺭٍ
আর নিশ্চয় আমি মূসাকে আমার নিদর্শনসহ পাঠিয়েছি যে, ‘তুমি তোমার
কওমকে অন্ধকার হতে আলোর (নূরের) দিকে বের করে আনো এবং আল্লাহর
দিবসসমূহ তাদেরকে স্মরণ করিয়ে দাও’। নিশ্চয় এতে প্রতিটি পরম
ধৈর্যশীল, পরম কৃতজ্ঞ ব্যক্তির জন্য রয়েছে নিদর্শন। ইবরাহীম, ১৪/৫

সকল আসমানি কিতাব হল জ্যোতিময় কিতাব :

ﻓَﺈِﻥْ ﻛَﺬَّﺑُﻮﻙَ ﻓَﻘَﺪْ ﻛُﺬِّﺏَ ﺭُﺳُﻞٌ ﻣِﻦْ ﻗَﺒْﻠِﻚَ ﺟَﺎﺀُﻭﺍ ﺑِﺎﻟْﺒَﻴِّﻨَﺎﺕِ ﺍﻟْﻤُﻨِﻴﺮِﻭَﺍﻟﺰُّﺑُﺮِ ﻭَﺍﻟْﻜِﺘَﺎﺏ
তারপরও যদি তারা তোমার প্রতি মিথ্যারোপ করে তবে তোমার পূর্বেও
রাসূলদেরকে মিথ্যারোপ করা হয়েছিল; তারা সুস্পষ্ট নিদর্শন, গ্রন্থাদি ও
জ্যোতিময় কিতাবসহ এসেছিল। আলে-ইমরান, ৩/১৮৪
ﻭَﺇِﻥْ ﻳُﻜَﺬِّﺑُﻮﻙَ ﻓَﻘَﺪْ ﻛَﺬَّﺏَ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻣِﻦْ ﻗَﺒْﻠِﻬِﻢْ ﺟَﺎﺀَﺗْﻬُﻢْ ﺭُﺳُﻠُﻬُﻢْ ﺑِﺎﻟْﺒَﻴِّﻨَﺎﺕِ
ﻭَﺑِﺎﻟﺰُّﺑُﺮِﻭَﺑِﺎﻟْﻜِﺘَﺎﺏِ ﺍﻟْﻤُﻨِﻴﺮِ
আর তারা যদি তোমাকে মিথ্যাবাদী বলে অস্বীকার করে তাহলে তাদের
পূর্ববর্তীরাও (নবী-রাসূলদেরকে) মিথ্যাবাদী বলেছিল; তাদের নিকট তাদের
রাসূলগণ সুস্পষ্ট নিদর্শন, গ্রন্থাদি ও জ্যোতিময় কিতাবসহ এসেছিল।
আল-ফাতির, ৩৫/২৫

রাসূল হলেন সেরাজান মুনিরা অর্থাৎ আলোকদীপ্ত প্রদীপ :

ﺃَﻳُّﻬَﺎ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲُّ ﺇِﻧَّﺎ ﺃَﺭْﺳَﻠْﻨَﺎﻙَ ﺷَﺎﻫِﺪًﺍ ﻭَﻣُﺒَﺸِّﺮًﺍ ﻭَﻧَﺬِﻳﺮًﺍ ﻭَﺩَﺍﻋِﻴًﺎ ﺇِﻟَﻰ ﺑِﺈِﺫْﻧِﻪِ ﻭَﺳِﺮَﺍﺟًﺎ ﻣُﻨِﻴﺮًﺍﺍﻟﻠَّﻪِ
হে নবী, নিশ্চয় আমি তোমাকে পাঠিয়েছি সাক্ষ্যদাতা, সুসংবাদদাতা ও
সতর্ককারীরূপে। আর আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে আহবানকারী ও
আলোকদীপ্ত প্রদীপরূপে। আল-আহযাব, ৩৩/৪৫-৪৬

চাঁদকে আল্লাহ নূর বলেছেন :

ﻭَﺟَﻌَﻞَ ﺍﻟْﻘَﻤَﺮَ ﻓِﻴﻬِﻦَّ ﻧُﻮﺭًﺍ ﻭَﺟَﻌَﻞَ ﺍﻟﺸَّﻤْﺲَ ﺳِﺮَﺍﺟًﺎ
আর তাদের মাঝে চাঁদকে বানিয়েছেন আলো (নূর) আর সূর্যকে বানিয়েছেন
প্রদীপ। নুহ, ৭১/১৬
ﻫُﻮَ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﺟَﻌَﻞَ ﺍﻟﺸَّﻤْﺲَ ﺿِﻴَﺎﺀً ﻭَﺍﻟْﻘَﻤَﺮَ ﻧُﻮﺭًﺍ ﻭَﻗَﺪَّﺭَﻩُ ﻣَﻨَﺎﺯِﻝَ ﻟِﺘَﻌْﻠَﻤُﻮﺍ ﻋَﺪَﺩَ
ﺍﻟﺴِّﻨِﻴﻦَ ﻭَﺍﻟْﺤِﺴَﺎﺏَ ﻣَﺎ ﺧَﻠَﻖَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺫَﻟِﻚَ ﺇِﻻ ﺑِﺎﻟْﺤَﻖِّ ﻳُﻔَﺼِّﻞُ ﻳَﻌْﻠَﻤُﻮﻥَﺍﻵﻳَﺎﺕِ ﻟِﻘَﻮْﻡٍ
বানিয়েছেন এবং তার জন্য (হ্রাস-বৃদ্ধির) মানযিলসমূহ নির্ধারিত করেছেন,
যাতে তোমরা বছরসমূহের গণনা ও তারিখের হিসাব জানতে পার; আল্লাহ
এসব অনর্থক সৃষ্টি করেননি; জ্ঞানী লোকদের জন্য
নিদর্শনগুলোকে তিনি বিশদভাবে বর্ণনা করেছেন। ইউনুস, ১০/৫
ﺗَﺒَﺎﺭَﻙَ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﺟَﻌَﻞَ ﻓِﻲ ﺍﻟﺴَّﻤَﺎﺀِ ﺑُﺮُﻭﺟًﺎ ﻭَﺟَﻌَﻞَ ﻓِﻴﻬَﺎ ﺳِﺮَﺍﺟًﺎ ﻭَﻗَﻤَﺮًﺍ ﻣُﻨِﻴﺮًﺍ
বরকতময় আল্লাহ, যিনি নভোমন্ডলে সৃষ্টি করেছেন তারকারাজি আর
তাতে স্থাপন করেছেন প্রদীপ ও আলো বিকিরণকারী চাঁদ। আল-ফুরকান,
২৫/৬১

অন্ধকার ও আলো (নূর)সৃষ্টি করেছেন :

ﺍﻟْﺤَﻤْﺪُ ﻟِﻠَّﻪِ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﺧَﻠَﻖَ ﺍﻟﺴَّﻤَﺎﻭَﺍﺕِ ﻭَﺍﻷﺭْﺽَ ﻭَﺟَﻌَﻞَ ﺍﻟﻈُّﻠُﻤَﺎﺕِ ﻭَﺍﻟﻨُّﻮﺭَ ﺛُﻢَّ
ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻛَﻔَﺮُﻭﺍﺑِﺮَﺑِّﻬِﻢْ ﻳَﻌْﺪِﻟُﻮﻥَ
সমস্ত প্রসাংশা আল্লাহর জন্য যিনি সৃষ্টি করেছেন আসমান ও যমীন আর
সৃষ্টি করেছেন অন্ধকার ও আলো (নূর); তারপরও
যারা কুফরী করেছে তারা অন্যকে তাদের রবের সমতুল্য স্থির করে। আল-
আন‘আম, ৬/১
ﻗُﻞْ ﻫَﻞْ ﻳَﺴْﺘَﻮِﻱ ﺍﻷﻋْﻤَﻰ ﻭَﺍﻟْﺒَﺼِﻴﺮُ ﺃَﻡْ ﻫَﻞْ ﺗَﺴْﺘَﻮِﻱ ﺍﻟﻈُّﻠُﻤَﺎﺕُ ﻭَﺍﻟﻨُّﻮﺭُ
তুমি জিজ্ঞেস কর, ‘অন্ধ ও দৃষ্টিমান ব্যক্তি কি সমান? কিংবা অন্ধকার ও
আলো কি সমান? আর-রাদ, ১৩/১৬
ﻭَﻻ ﺍﻟﻈُّﻠُﻤَﺎﺕُ ﻭَﻻﺍﻟﻨُّﻮﺭُ
আর অন্ধকার ও আলো সমান নয়। ফাতির, ৩৫/২০

জ্ঞান ও দীপ্তমান কিতাব ছাড়া মানুষ আল্লাহ সম্পর্কে তর্ক্
করে :

ﻭَﻣِﻦَ ﺍﻟﻨَّﺎﺱِ ﻣَﻦْ ﻳُﺠَﺎﺩِﻝُ ﻓِﻲ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺑِﻐَﻴْﺮِ ﻋِﻠْﻢٍ ﻭَﻻ ﻫُﺪًﻯ ﻭَﻻ ﻛِﺘَﺎﺏٍﻣُﻨِﻴﺮٍ
আর মানুষের মধ্যে কেউ কেউ আল্লাহ সম্পর্কে তর্ক্ করে কোন জ্ঞান
ছাড়া, আর না আছে কোন পথ নির্দেশনা, আর না আছে কোন দীপ্তমান
কিতাব। লুকমান, ৩১/২০
ﻭَﻣِﻦَ ﺍﻟﻨَّﺎﺱِ ﻣَﻦْ ﻳُﺠَﺎﺩِﻝُ ﻓِﻲ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺑِﻐَﻴْﺮِ ﻋِﻠْﻢٍ ﻭَﻻ ﻫُﺪًﻯ ﻭَﻻ ﻛِﺘَﺎﺏٍ ﻣُﻨِﻴﺮٍ
ﺛَﺎﻧِﻲَ ﻋِﻄْﻔِﻪِ ﻟِﻴُﻀِﻞَّ ﻋَﻦْ ﺳَﺒِﻴﻞِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻟَﻪُ ﻓِﻲ ﺍﻟﺪُّﻧْﻴَﺎ ﺧِﺰْﻱٌ ﻭَﻧُﺬِﻳﻘُﻪُ ﻳَﻮْﻡَ
ﺍﻟْﻘِﻴَﺎﻣَﺔِ ﻋَﺬَﺍﺏَﺍﻟْﺤَﺮِﻳﻖِ
আর মানুষের মধ্যে কেউ কেউ আল্লাহ সম্পর্কে তর্ক্ করে কোন জ্ঞান
ছাড়া, আর না আছে কোন পথ নির্দেশনা, আর না আছে কোন দীপ্তমান
কিতাব। সে তর্ক্ করে ঘাড় বাঁকিয়ে আল্লাহর পথ হতে বিভ্রান্ত করার জন্যে,
তার জন্য দুনিয়ার রয়েছে লাঞ্জনা আর কিয়ামতের দিবসে আমি তাকে দহন
যন্ত্রণা আস্বাদন করাবো। হজ্জ, সুরা-২২/৮-৯

পরকালের প্রতিদান :

ﻳَﺎ ﺃَﻳُّﻬَﺎ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺁﻣَﻨُﻮﺍ ﺗُﻮﺑُﻮﺍ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺗَﻮْﺑَﺔً ﻧَﺼُﻮﺣًﺎ ﻋَﺴَﻰ ﺭَﺑُّﻜُﻢْ ﺃَﻥْ ﻳُﻜَﻔِّﺮَ
ﻋَﻨْﻜُﻢْ ﺳَﻴِّﺌَﺎﺗِﻜُﻢْ ﻭَﻳُﺪْﺧِﻠَﻜُﻢْ ﺟَﻨَّﺎﺕٍ ﺗَﺠْﺮِﻱ ﻣِﻦْ ﺗَﺤْﺘِﻬَﺎ ﺍﻷﻧْﻬَﺎﺭُ ﻳَﻮْﻡَ ﻻ ﻳُﺨْﺰِﻱ
ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲَّ ﻭَﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺁﻣَﻨُﻮﺍ ﻣَﻌَﻪُ ﻧُﻮﺭُﻫُﻢْ ﻳَﺴْﻌَﻰ ﺑَﻴْﻦَ ﺃَﻳْﺪِﻳﻬِﻢْ ﻭَﺑِﺄَﻳْﻤَﺎﻧِﻬِﻢْ
ﻳَﻘُﻮﻟُﻮﻥَ ﺭَﺑَّﻨَﺎ ﺃَﺗْﻤِﻢْ ﻟَﻨَﺎ ﻧُﻮﺭَﻧَﺎ ﻭَﺍﻏْﻔِﺮْ ﻟَﻨَﺎ ﺇِﻧَّﻚَ ﻋَﻠَﻰ ﻛُﻞِّﺷَﻲْﺀٍ ﻗَﺪِﻳﺮٌ
হে ঈমানদারগণ, তোমরা সকলেই আল্লাহর নিকট তওবা কর, খাঁটি তাওবা,
আশা করা যায়, তোমাদের রব তোমাদের পাপসমূহ মোচন করে দিবেন আর
তোমাদেরকে প্রবেশ করাবেন জান্নাতে যার তলদেশে নহরসমুহ প্রবাহিত;
সেইদিন নবী ও তার সাথে যারা ঈমান এনেছে আল্লাহ তাদেরকে লাঞ্ছিত
করবেন না তাদের নূর তাদের সামনে ও ডানে ধাবিত হবে; তারা বলবে,
“রাব্বানা— আত্মিম্ লানা- নূ-রানা- ওয়াগ্ফির্ লানা-
ইন্নাকা আলা ক্বুল্লি শায়য়িন্ ক্বাদি-র্”, ‘হে আমাদের রব! আমাদের
জন্যে আমাদের নূরকে পরিপূর্ণ করে দিন আর আমাদেরকে ক্ষমা করুন, নিশ্চয়
আপনি সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান’। তাহরীম, ৬৬/৮
ﻳَﻮْﻡَ ﺗَﺮَﻯ ﺍﻟْﻤُﺆْﻣِﻨِﻴﻦَ ﻭَﺍﻟْﻤُﺆْﻣِﻨَﺎﺕِ ﻳَﺴْﻌَﻰ ﻧُﻮﺭُﻫُﻢْ ﺑَﻴْﻦَ ﺃَﻳْﺪِﻳﻬِﻢْ ﻭَﺑِﺄَﻳْﻤَﺎﻧِﻬِﻢْ
ﺑُﺸْﺮَﺍﻛُﻢُ ﺍﻟْﻴَﻮْﻡَ ﺟَﻨَّﺎﺕٌ ﺗَﺠْﺮِﻱ ﻣِﻦْ ﺗَﺤْﺘِﻬَﺎ ﺍﻷﻧْﻬَﺎﺭُ ﺧَﺎﻟِﺪِﻳﻦَ ﻓِﻴﻬَﺎ ﺫَﻟِﻚَ ﻫُﻮَﺍﻟْﻔَﻮْﺯُ ﺍﻟْﻌَﻈِﻴﻢُ
যেদিন আপনি মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদের আপনি দেখতে পাবেন তাদের সামনে ও
তাদের ডানপার্শ্বে তাদের নূর ছুটোছুটি করছে, (বলা হবে) আজ তোমাদের
সুসংবাদ হল জান্নাত, যার তলদেশে নহরসমূহ প্রবাহিত হবে,
তারা সেখানে চিরকাল থাকবে, এটাই মহাসাফল্য। হাদীদ, ৫৭/১২

মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আল্লাহ নূর বলেছেন।
উনাকে নূর বলাতে যদি উনি নুরের তৈরী হয়ে যান তাহলে নিন্মোক্ত
বিষয়সমূহের প্রতি দৃষ্টি দেয়া দরকার।

১। আল্লাহ কুরআনকে নূর বলেছেন তাহলে কুরআন কি নুরের তৈরী?
২। আল্লাহ ইনজীলকে নূর বলেছেন তাহলে ইনজীল কি নুরের তৈরী?স
৩। আল্লাহ তাওরাতকে নূর বলেছেন তাহলে তাওরাত কি নুরের তৈরী?
৪। আল্লাহ চাঁদকে নূর বলেছেন তাহলে চাঁদ কি নুরের তৈরী?
এইসব বাতিলপন্থীদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেন-
ﻣَﺜَﻠُﻬُﻢْ ﻛَﻤَﺜَﻞِ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﺍﺳْﺘَﻮْﻗَﺪَ ﻧَﺎﺭًﺍ ﻓَﻠَﻤَّﺎ ﺃَﺿَﺎﺀَﺕْ ﻣَﺎ ﺣَﻮْﻟَﻪُ ﺫَﻫَﺐَ ﺍﻟﻠَّﻪُ
ﺑِﻨُﻮﺭِﻫِﻢْ ﻭَﺗَﺮَﻛَﻬُﻢْ ﻓِﻲ ﻇُﻠُﻤَﺎﺕٍﻻ ﻳُﺒْﺼِﺮُﻭﻥَ
তাদের উহাদরণ ঐ ব্যক্তির মত, যে আগুন জ্বালাল এরপর যখন আগুন তার
চারপাশ আলোকিত করল, আল্লাহ তাদের আলো (নূর) কেড়ে নিলেন
এবং তাদেরকে অন্ধকারের মধ্যে ছেড়ে দিলেন, সুতরাং তারা কিছুই দেখতে পায়
না। আল-বাকারা, ২/১৭
নূর মানে আলো, আমাদেরকে অনেক বস্তুই আলো দেয়। যেমনঃ বাতি, টিউব
লাইট, মোমবাতি, হারিকেন, ইত্যাদি। এইগুলো আমাদেরকে আলো দেওয়ার
কারণে এইগুলোকে কি আমরা আলো বা নূরের তৈরী বলব?
নাকি এইগুলো অন্য উপাদান দ্বারা তৈরী। যারা এইরূপ
বলবে তারা আসলে বোকার স্বর্গে বাস করে। তদ্ররূপ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে যারা নুরের তৈরী বলে তারা আসলে বোকার
স্বর্গে বাস করে। তারা জাহেল, অন্ধ, আল্লাহ বলেন-
ﻗُﻞْ ﻫَﻞْ ﻳَﺴْﺘَﻮِﻱ ﺍﻷﻋْﻤَﻰ ﻭَﺍﻟْﺒَﺼِﻴﺮُ ﺃَﻡْ ﻫَﻞْ ﺗَﺴْﺘَﻮِﻱﺍﻟﻈُّﻠُﻤَﺎﺕُ ﻭَﺍﻟﻨُّﻮﺭُ
তুমি জিজ্ঞেস কর, ‘অন্ধ ও দৃষ্টিমান ব্যক্তি কি সমান? কিংবা অন্ধকার ও
আলো কি সমান? আর-রাদ, ১৩/১৬
পরিশেষে বলব, সকল আসমানি কিতাবকে আল্লাহ নূর বলেছেন বলেই সকল
আসমানে কিতাবকে এখন অনুসরণ করা যাবে না। কুরআনের পূর্ববর্তী সকল
আসমানি কিতাবকে আল্লাহ রহিত করেছেন।
পূর্ববর্তী কিতাবসমূহকে কেবলমাত্র বিশ্বাস করতে হবে। মুহাম্মদ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আগমনের পর যে ব্যক্তি কুরআন ও
আল্লাহর রাসূলকে অনুসরণ করবে সেই সিরাতুল মোস্তাকিম তথা সরল-সঠিক
পথে হেদায়াত পাবে ও পরিচালিত হবে আর নূর বলতে আল্লাহ সেই হেদায়াতের
নূরকে বুঝিয়েছেন।

Wait while more posts are being loaded