ব্লু হোয়েল ( Blue whale ) গেম, যেই
ভিডিও গেম খেললেই সে আত্মহত্যা
করতে পারেন!!!
বাংলাদেশেও পৌঁছে গেছে ‘ব্লু
হোয়েল’ গেমস। আর এই গেমসের
নেশায় পড়ে রাজধানীতে আত্মহত্যা
করেছে এক কিশোরী। গত বৃহস্পতিবার
রাতে সেন্ট্রাল রোডের বাসায়
নিজের পড়ার কক্ষে ফ্যানের সঙ্গে
ঝুলন্ত অবস্থায় অপূর্বা বর্ধন স্বর্ণার
লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
।।
অ্যাডভোকেট সুব্রত বর্মনের মেয়ে
এবং ফার্মগেটের হলিক্রস স্কুলের
অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল সে।
নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে
জানা গেছে, স্বর্ণা বিদ্যালয়ের
ফার্স্ট গার্ল ছিল। ওয়াইডব্লিউসিএ
হাইয়ার সেকেন্ডারি গালর্স স্কুলে
প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত
সম্মিলিত মেধা তালিকায় তার
অবস্থান ছিল প্রথম ।
।।
অ্যাপ স্টোর , প্লে স্টোর , ইন্টারনেট
বা গুগল কোথাও খুঁজে পাবেন না এই ‘
ব্লু হোয়েল ‘গেম , খুঁজে পেতে পারেন
কারো পাঠানো কোনো গোপন
লিংকের মাধ্যমে । এটি একটি
সুইসাইড গেইম অর্থাৎ গেম খেললে
মৃত্যু অনিবার্য ।
।।
আপনি আমাকে প্রশ্ন করতে পারেন –
একটি গেম খেললে কিভাবে মৃত্যু
হবে ? কি বলেন ডাক্তার সাহেব !
।।
ওয়েট , আমি ব্যাখ্যা দিচ্ছি ।
।।
‘ ব্লু হোয়েল ‘ বা Blue whale এর অর্থ
নীল তিমি । নীল তিমিরা মৃত্যুর
আগে সাগরের তীরে উঠে আসে –
তারা আত্মহত্যা করে বলে অনেকের
ধারণা ! একারণেই গেমের নাম রাখা
হয়েছে ‘ Blue whale ‘ বা নীল তিমি ।
মনে রাখবেন – গেমটি বাধ্য করে
তার ইনস্টলকারীকে সবগুলো স্তর
খেলার জন্য ।
‘ ব্লু হোয়েল ‘ গেমটি ৫০ টি লেভেলে
বিভক্ত । F57 নামক রাশিয়ান
হ্যাকার টিম গেমটি তৈরি করে ।
২০১৩ সালে তৈরি হয়েছিলো গেমটি
, কিন্তু ২০১৫ সালে VK. com নামক
সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল জনপ্রিয়তা
পায় এবং প্রচুর ডাউনলোড হয় গেমটি
। ফিলিপ বুদেকিন নামক রুশ হ্যাকার
যে কিনা সাইকোলজির ছাত্র ছিলো
এবং ভার্সিটি থেকে বহিষ্কার
হয়েছিলো – তার মাথার বুদ্ধি
থেকেই জন্ম নেয় এই গেমটি ।
রাশিয়ান আইন শৃঙ্খলা বাহিনী
তাকে গ্রেফতারের পর সে জানায়
হতাশাগ্রস্হদের পৃথিবী থেকে
নিশ্চিহ্ন করে দেবার জন্যই সে
গেমটি বানিয়েছে । হতাশা গ্রস্হদের
পৃথিবীত বেঁচে থাকার কোনো
অধিকার নেই ।
।।
রাশিয়ায় এ গেম খেলে মৃতের
সংখ্যা ১৫১ জন , এবং রাশিয়ার
বাইরে মারা গেছে ৫০ জন । জুলিয়া
ওভা ও ভের্নিকা ওভা নামক দুই বোন
প্রথম এই গেইমের শিকার । গেমটির
৫০ তম লেভেলে গিয়ে ছাদ থেকে
লাফিয়ে ওরা সুইসাইড করেছিলো ।
জুলিয়া ওভা মৃত্যুর ঠিক আগে
সোশাল নেটওয়ার্কে নীল তিমির
ছবি আপলোড দিয়ে লিখেছিলো – ‘
The end ! ‘
।।
গেমটি মূলত একটি ডার্ক ওয়েভের
( dark wave ) গেম । ডার্ক ওয়েভ হলো
ইন্টারনেটের অন্ধকার জগৎ । মনে
রাখবেন – গেমটি আপনি একবার
ডাউনলোড করলে আর কখনোই
আনইনস্টল করতে পারবেন না । গেমটি
আপনার ফোনের সিস্টেমে ঢুকে
আপনার আপনার আই পি এড্রেস ,
মেইলের পাসওয়ার্ড , ফেসবুক
পাসওয়ার্ড , কনট্যাক্ট লিস্ট ,
গ্যালারী ফটো এমনকি আপনার
ব্যাংক ইনফর্মেশান ! আপনার
লোকেশান ও তারা জেনে নিচ্ছে !
।।
‘ ব্লু হোয়েল ‘ গেম ওপেন করা মাত্র
আপনাকে একজন এডমিন পরিচালনা
শুরু করবে । আপনাকে জিজ্ঞেস করবে
– ‘ গেমটি খেলা শুরু করলে আপনি
কোনোভাবেই এর থেকে বেরিয়ে
আসতে পারবেন না , আপনি সর্বশেষে
মৃত্যু বরণও করতে পারেন , আপনি কি
চ্যালেন্জ গ্রহন করতে আগ্রহী ? ‘
।।
আপনি ইয়েস বা নো অপশনের মধ্যে ‘
ইয়েস ‘ অপশন ক্লিক করা মাত্রই পা
দিয়ে দেবেন মৃত্যু ফাঁদে ।
।।
গেমটির প্রথম দশটা লেভেল খুবই
আকর্ষনীয় । ইউজার এডমিন কিছু
মজার মজার নির্দেশনা দেন – যেমন
রাত তিনটায় ঘুম থেকে উঠে হরর ছবি
দেখা , চিল্লাচিল্লি করা , উঁচু
ছাদের কিনারায় হাঁটাহাঁটি করা ,
পছন্দের খাবার খাওয়া ইত্যাদি
নির্দেশনা দিতে দিতে এডমিন
হাতিয়ে নেবেন আপনার পার্সোনাল
ইনফরমেশন । প্রথম দশ টা লেভেল পার
করার পর আপনাকে তৈরি করা হবে
পরবর্তী দশটি লেভেলের জন্য ।
পনেরো লেভেল পর্যন্ত চলবে আপনার
ইনফরমেশান হাতানোর কাজ ! পনেরো
লেভেলের পর আপনাকে কঠিন মিশন
দেয়া শুরু হবে ! যেমন অ্যাডমিন
আপনাকে বলতে পারে আপনার হাতে
ব্লেড দিয়ে নীল তিমির ছবি আঁকুন !
প্রথম বিশটা চ্যালেন্জ অতিক্রম
করার পর অ্যাডমিন তার কৌশল
পরিবর্তন করতে শুরু করে। ।।
আপনি টেরই পাবেন না প্রথম বিশ
ধাপে সংগ্রহ করে ফেলা আপনার
তথ্যের উপর ভিত্তি করে আপনাকে
মোহাক্রান্ত বা হিপনোসিস পদ্ধতি
প্রয়োগ শুরু করা হবে ।
আপনি তখন ভাববেন এই গেম ছাড়া
আপনার বেঁচে থাকা অসম্ভব ।
আপনাকে শীতের দিনে খালি গায়ে
ঘুরতে বলা হবে , বাবার পকেট থেকে
টাকা চুরি করা , বন্ধুর মোবাইল চুরি
করা , আপনার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধুটার
সাথে দুর্ব্যবহারের মিশন দেয়া হবে
আপনাকে ! আবার এসবের প্রমাণের
ছবি বা ফটো এডমিনকে পাঠাতে
হবে আপনার ! এভাবেই কৌশলে বন্ধু ও
পরিবারের সদস্যদের থেকে কৌশলে
আলাদা করে ফেলা হবে আপনাকে
এবং আপনি পৌঁছে যাবেন পঁচিশ
লেভেলে !
পঁচিশ লেভেলের পর নির্দেশনা
আসবে মাদক বা ড্রাগ নেবার !
এভাবেই সম্মোহিত করে করে
আপনাকে তিরিশ লেভেল পর্
তিরিশ তম লেভেল আপনি অতিক্রম
করার পর গেম এডমিন হঠাৎ আপনার
সাথে একটু চিট শুরু করবে !একত্রিশ
তম লেভেল আনলক করবে না , এদিকে
আপনি হয়ে উঠবেন ক্রেজী !
।।
তারপর কিছুদিন আপনাকে সারপ্রাইজ
দিয়ে হঠাৎ এডমিন – বলবে একত্রিশ
তম লেভেল আনলকড ! আপনার নগ্ন
ছবি চাওয়া হবে এই স্তরে ! আপনি
হিপনোসিস ও মাদকের কারণে
নিজের নগ্ন ছবি পাঠাতেও চিন্তা
করবেন না , ড্রাগ নেবার র মাত্রা
বাড়াতে থাকবেন আপনি ! এরপর
নির্দেশনা আসবে আপনার
ভালোবাসার মানুষের সাথে সেক্স
করে গোপনে ছবি তুলে আপলোড
করতে বা নিজের শরীরে একাধারে শ
খানেক সুঁই ফোটাতে এবং ফটো
আপলোড করে পাঠাতে ।
এভাবেই চলে যাবেন আপনি চল্লিশ
তম লেভেলে !
।।
এবার আপনি ভীত হয়ে গেমার
টিমকে অনুরোধ করবেন আপনাকে
মুক্তি দেবার জন্য ! আপনি কাঁদবেন ,
হাতজোড় করবেন , চাইবেন গেমটি
আনইনস্টল করার জন্য !
তখন শুরু হবে ব্ল্যাকমেইলিং ! গেমার
টিম বা এডমিন তখন আপনারই
পাঠানো সকল তথ্য ফাঁস করে দেবার
হুমকি দেবে , আপনি বাধ্য হয়ে
প্রবেশ করবেন একচল্লিশ তম স্তরে !
।।
একচল্লিশ থেকে ঊনপন্চাশ তম
লেভেলে আপনি প্রচন্ড হতাশ আর
মাদকাসক্ত হবেন ……. পন্চাশ তম
স্তরে আপনাকে মুক্তির শর্ত দেয়া
হবে ! বলা হবে আপনাকে নিজের
শরীরে অ্যানাসথেসিয়ার ড্রাগ
ক্যাটামিন পুশ করে তাদের কে ছবি
পাঠাতে এবং নিশ্চিত দশ তলার
চেয়েও উঁচু কোনো ছাদের একেবারে
কিনারায় দাঁড়িয়ে যদি সেলফি
আপলোড দিতে পারেন তবে আপনি
মুক্ত !
আপনি সেটা পারবেন না আর , কারণ
শরীরে পুশ করা ক্যাটামিন আপনার
মস্তিষ্কে চলে যাবে ততোক্ষণে !
আপনি মোবাইলের স্ক্রীণে তখন
নির্দেশ আসবে – ‘ নিচের দিকে
তাকাও ! লাফ দাও , মুক্তি পাও ! ‘
।।
আপনি মুক্তি পেতে গিয়ে আত্মহত্যা
করবেন !
এই ব্লু হোয়েল গেমটিতে ব্যবহার
করা হয়েছে চমৎকার গ্রাফিক্স ,
ব্যাক গ্রাউন্ড মিউজিক ভীষণ করুন !
All i want ও Ranway গানের মিউজিক
ব্যবহার করা হয়েছে ।
দুটো মিউজিক শুনলেই শরীরের রক্ত
হীম হয়ে যাবে !
।।
সবশেষে বলবো –
এসব আজেবাজে গেম যাতে কেও
আপলোড করবেন না ,
নিজেকে ভালোবাসুন , পরিবারকে
সময় দিন , জীবনকে ভালোবাসুন।
Colected

Post has attachment
এখন ফেসবুক আমাদের জীবনের একটি অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে । ফেসবুকে আমরা আমাদের জীবনের সব ঘটনাই শেয়ার করতে শুরু করছি। আর এর মূলে রয়েছে ফেসবুক লাইভ। আমরা অনেকেই চাই সেই ফেসবুক লাইভ গুলো ডাউলোড করতে কিন্তু আমাদের প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার এর অভাবে ফেসবুকের ভিডিও ডাউনলোড করতে পারিনা। তাই আজকে আমরা শিখবো কিভাবে কোন সফটওয়্যার ছারাই ফেসবুকের ভিডিও ডাউনলোড করা যায়। শিখতে নিচের ভিডিওটি দেখুন।
https://youtu.be/HHBP3kV4zR8

Post has attachment
Viral Bangladeshi Village Boys Fun
http://bit.ly/2hDwSkP

Post has attachment

Post has attachment

Post has attachment

Post has attachment
নায়ক রাজ রাজ্জাক আর নেই।
ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজীয়ুন।
Photo

Post has attachment

কাজের সময় বাড়ছে, হচ্ছে ১১ ঘণ্টা!!!

আন্তর্জাতিক চাপে শ্রম আইন, ২০০৬ সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সম্প্রতি এ নিয়ে আয়োজিত ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে শ্রমঘণ্টা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে সরকারের টেকনিক্যাল কমিটি। এতে আগে ‘আহার ও বিশ্রামের’ বিরতিসহ কাজের সময় ৯ ঘণ্টা ও অতিরিক্ত কাজের সময় আরো ২ ঘণ্টা ধরে মোট কাজের সময় ১১ ঘণ্টা করার প্রস্তাব দিয়েছে কমিটি।
শ্রম আইন, ২০০৬-এর সর্বশেষ সংশোধন হয়েছিল ২০১৩ সালে। চলতি বছরের জুনে জেনেভায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ১০৬তম সম্মেলনে (আইএলসি) শ্রম আইন সংশোধনসহ বাংলাদেশের শ্রম অধিকারের সুরক্ষা-সংশ্লিষ্ট বেশকিছু পদক্ষেপ নেয়ার সুপারিশ করে আইএলও বিশেষজ্ঞ কমিটি। এসব সুপারিশের আলোকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার প্রতিশ্রুতিও দেয় বাংলাদেশ। এরই ধারাবাহিকতায় শ্রম আইন সংশোধনে উদ্যোগী হয়েছে সরকার।
জানা গেছে, গত সপ্তাহে গাজীপুরে শ্রম আইন সংশোধন নিয়ে তিন দিনব্যাপী এক দীর্ঘ আলোচনায় বসেন শ্রমিক, মালিক ও সরকারপক্ষের প্রতিনিধিরা। সভায় সরকার মনোনীত টেকনিক্যাল কমিটি শ্রম আইন সংশোধনের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করে। পরে টেকনিক্যাল কমিটির মতামতের পরিপ্রেক্ষিতে ত্রিপক্ষীয় পরামর্শক পরিষদের প্রতিনিধিরাও আলোচনা করেন। সভায় শ্রম আইন সংশোধন-সংক্রান্ত মোট ৩১টি বিষয় উত্থাপিত ও আলোচিত হয়।
এ বিষয়ে ত্রিপক্ষীয় পরামর্শক পরিষদের সদস্য বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান বলেন, ‘দীর্ঘ সভায় শ্রম আইন সংশোধনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ মুহূর্তে বিষয়ের সংখ্যা বলতে পারছি না। তবে ট্রেড ইউনিয়ন গঠনে শ্রমিক প্রতিনিধিত্ব, অসদাচরণ, ছাঁটাই কর্তৃত্ব ও ইপিজেড আইনের মতো কিছু বিষয়ে চূড়ান্ত ঐকমত্যে পৌঁছা সম্ভব হয়নি। এছাড়া কর্মঘণ্টা সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। আমরা এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছি। ভাষাগত পরিবর্তনের মাধ্যমে বিষয়টির সুরাহা হবে বলে মনে করছি।’
প্রসঙ্গত, বিদ্যমান শ্রম আইনে কর্মঘণ্টা সম্প্রসারণ বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে, ‘কোনো প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রাপ্তবয়স্ক শ্রমিকের কাজের সময় এমনভাবে ব্যবস্থা করিতে হইবে, যেন ধারা ১০১-এর অধীন তাহার আহার ও বিশ্রামের বিরতিসহ ইহা দশ ঘণ্টার অধিক সম্প্রসারিত না হয়। তবে সরকার কর্তৃক সাধারণভাবে কোনো বিশেষ প্রতিষ্ঠান সম্বন্ধে প্রদত্ত অনুমতির ভিত্তিতে এবং তত্কর্তৃক আরোপিত শর্তে ইহার ব্যতিক্রম করা যাইবে।’
জানা গেছে, ধারাটি প্রসঙ্গে সরকারের টেকনিক্যাল কমিটির প্রস্তাবনা ছিল, ‘ধারা ১০১-এর অধীন তাহার আহার ও বিশ্রামের বিরতিসহ ইহা দশ ঘণ্টার অধিক সম্প্রসারিত না হয়।…’ অংশটির ‘দশ ঘণ্টা’কে ‘এগারো ঘণ্টা’ দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হোক।
এ বিষয়ে ত্রিপক্ষীয় পরামর্শক পরিষদের মন্তব্য হলো, আইনের ২(৪) ধারায় বিবৃত ‘কর্মঘণ্টা’র সংজ্ঞা অনুযায়ী, ‘কর্মঘণ্টা হচ্ছে আহার ও বিশ্রামের সময় ব্যতীত যে সময়ে কোনো শ্রমিক কাজ করার জন্য মালিকের এখতিয়ারাধীন থাকেন।’ সুতরাং বিরতিসহ স্বাভাবিক কাজের সময় ৯ ঘণ্টা। অতিরিক্ত কাজের সময় ২ ঘণ্টাসহ মোট ১১ ঘণ্টা। অর্থাত্ এখানে ‘দশ’ শব্দটিকে ‘এগারো’ দিয়ে প্রতিস্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছে কমিটি।
গাজীপুরে অনুষ্ঠিত শ্রম আইন সংশোধন-সংক্রান্ত সভা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক জানান, ‘আলোচনার সব বিষয়ে আমরা ঐকমত্যে পৌঁছতে পারিনি। এটা একটা চলমান প্রক্রিয়া, তাই আরো আলোচনা হবে। আশা করছি, শিগগিরই সব বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছা সম্ভব হবে।’
জানা গেছে, জুনে আইনমন্ত্রীর নেতৃত্বে আইএলসিতে অংশ নেয় বাংলাদেশ। সেখানে সাসটেইনেবিলিটি কম্প্যাক্ট, ইপিজেডে ট্রেড ইউনিয়ন, শ্রম আইন সংশোধনসহ সার্বিক বিষয় নিয়ে বেশকিছু বক্তব্য ছিল আইএলওর। এ সময় কিছু আইন সংশোধনসহ বেশকিছু পদক্ষেপ নিতে বাংলাদেশ সরকারকে অনুরোধ করা হয়। এর মধ্যে আগস্টের মধ্যে শ্রম আইন সংশোধন ও আইএলওতে ইপিজেডের আইন সংশোধনের খসড়া জমা দেয়ার অনুরোধ উল্লেখযোগ্য।
এছাড়া বাংলাদেশের শ্রম আইন ও বিধি আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করাসহ বেশকিছু সুপারিশ দিয়েছে আইএলও বিশেষজ্ঞ কমিটি। কমিটি যেসব বিষয় গুরুত্বসহ বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে, তার মধ্যে ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধনের একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) খসড়া তৈরি, পোশাক খাত-বিষয়ক ত্রিপক্ষীয় পরামর্শক কমিটির কার্যকারিতা বৃদ্ধি ও ইপিজেড আইনের খসড়া তৈরির বিষয়টি উল্লেখযোগ্য। এছাড়া আইএলওর আগের অধিবেশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন অগ্রগতিও যথেষ্ট নয় বলে মত দেয় কমিটি। বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশকে চারটি বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ করে কমিটি।
এ চারটি বিষয়ের মধ্যে প্রথমেই রয়েছে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে বাংলাদেশে শ্রম আইন ও বিধিকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা। বিশেষ করে এ-সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক কনভেনশনের সিদ্ধান্তগুলো যেমন— ইউনিয়ন গঠনের স্বাধীনতা এবং সামাজিক অংশীদারদের চিহ্নিত অগ্রাধিকারকে আমলে নেয়ার সুপারিশ করেছে আইএলও বিশেষজ্ঞ কমিটি। ইপিজেড আইনের খসড়ার বিষয়ে বলা হয়েছে, আইনে শ্রমিক ও চাকরিদাতার ইউনিয়ন গঠনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে।

Post has attachment
Wait while more posts are being loaded