Profile cover photo
Profile photo
কিশোরকন্ঠ
120 followers -
নতুন কিশোরকন্ঠ, বাংলাদেশের, সর্বাধিক, পাঠকপ্রিয় মাসিক, পত্রিকা
নতুন কিশোরকন্ঠ, বাংলাদেশের, সর্বাধিক, পাঠকপ্রিয় মাসিক, পত্রিকা

120 followers
About
Posts

Post has attachment
স্বদেশ পাঠালো চিঠি
জুবাইদা গুলশান আরা

চলেছিলাম আবিষ্কারের নেশায়। কিসের আবিষ্কার? এই মাত্র পূর্ব-পশ্চিম, উত্তর-দক্ষিণ থেকে ভেসে এলো সাত সুরের সরগম। কেউবা উদাস বেদনায় আচ্ছন্ন, কেউ বা বাজিয়ে দেয় আনন্দের স্রোতধারা। কেউ বা নিঃসঙ্গ এক পথিকের মত পথ ভোলায়। আমাদের নিত্যদিন জড়িয়ে যায় কখনও হঠাৎ পাওয়া খুশিতে অথবা না বলা কষ্টের কুয়াশায়। কখনও আবার সব হারানো বিবাগী সুরের পাশাপাশি স্বপ্নের জলনূপুর। এইতো ক’দিন আগেই কিশোরী হেমন্তের আঁচল ভরা শিউলিফুলের গন্ধে, মেতে উঠেছিলো প্রকৃতির নিরন্তর বয়ে যাওয়া চপল হাওয়া। এখন আরও কোনো খেলার সাথীর জন্য অপেক্ষা। ছয় ঋতুর চলাচলের শেষ প্রান্তে সে আসবে বলে দিন গুনছে।
আসল কথা হলো, ঋতুর পর্বে পর্বে প্রকৃতিই আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে সে আমাদের নিত্যদিনের বন্ধু। গ্রীষ্মকালের আগুনঝরা দিন-রাত্রি, বর্ষার অঝোর ধারার মাতামাতি, শরতের ফুল ফোটানো, ফুল ফসলের হৈমন্তী আশীষÑ এসব কিছু মিলিয়েই বড় আপন হয়ে ওঠে আমাদের প্রকৃতি। কিছু তার চিনতে পারি, কিছু অজানাই থেকে যায়। তাইতো এই যাত্রা।
বছর ঘুরে তারপর আসে শীতের মন-কেমন করা দিন। শীতের হাওয়ায় আমলকীর বনের মধ্য দিয়ে বয়ে যায় হু হু করা বাতাসের চঞ্চল পায়ের শব্দ।
আগে আমরা শীতকে চিনতাম ভয় দেখানো বুড়োর মতোই। কিন্তু সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি তার সঙ্গে ছুটোছুটি করতে গিয়ে দেখি, শস্যক্ষেতের দারুণ রঙ বদলানো, সরষে ফুলের উল্লাস তার খুশির মধ্যে ঝরে পড়ছে। সেই সঙ্গে দেখতে পাই মৌমাছি আর প্রজাপতির খেলায় মেতে ওঠা।
শীত এলে অনেক গাছের পাতা ঝরা শুরু হয়। কিন্তু শীত যে উপহার নিয়ে আসে, তাকেও তো বুঝে নিতে হবে আসাকে। ব্যাপারটা হলো, শীতের শুরুতেই গ্রামগুলো খেজুর রসের হাঁড়ি ভরে ভরে খুশি নিয়ে হাজির হয়। কী সুন্দর তার স্বাদ আর গন্ধ! সারা বছর পথ চেয়ে থাকি টাটকা রসের জন্য। সেই সঙ্গে এসে যায় রস থেকে তৈরি খাঁটি গুড়। ঘরে ঘরে ঢেঁকিতে ধান ভানা আর ঢেঁকিতে চালের গুঁড়ো করতে মেতে ওঠেন গ্রামের মায়েরা, বোনেরা।
আমাদের জীবনের যত আশা, স্বপ্ন আর সাধ দিয়ে তৈরি অনেক রকম পিঠা-পুলি, পায়েস। আচ্ছা, সকাল বেলা চোখ মেলে মাঝে মাঝে গায়ে কাঁথা মুড়ি দিয়ে আরও ঘুমোতে ইচ্ছে করে, তাই না? কিন্তু নরম নরম রোদ্দুর এসে চোখের সামনে হাজির হয় আর এক ছুটে ওর সঙ্গে বাইরে যাবার জন্য ডাক দেয়। ও হ্যাঁ তাইতো, মনে পড়ে যায় নতুন বছরটা দুই পাশে কত নতুন আয়োজন নিয়ে আসে যে, ভাবতেই ভালো লাগে। বেরিয়ে পড়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠি। বাতাসের ধাক্কায় পড়ে ঠাণ্ডায় কেঁপে উঠি। কিন্তু শিশিরে ভেজা ঘাসে পা ডুবিয়ে হাঁটতে শুরু করেই কী যে ভালো লাগে! এই শিশিরের ফোঁটাগুলো যেন টলটলে মুক্তোর মতো মুঠো মুঠো রঙধনু ছড়িয়ে রাখে।
গ্রামীণ পুকুরে ফুটে থাকে শাপলা ফুলের দল। অনেক দূরের ক্ষেত থেকে ভেসে আসে উদার আকাশ বেয়ে ছুটে আসা আলোর ঝরনা। আসলে, গোটা বছরজুড়ে শেষের এই ঝলমলে আয়োজন নিজেকে তৈরি করে। দিগন্ত ছুঁয়ে খেলে বেড়ায় চড়–ইপাখির ঝাঁক। মহান এক শিল্পীর আঁকা ছবি যেন চোখের সামনে। কিষান ভাইয়েরা চলেছে ক্ষেতের কাজে, গ্রামের কিশোর চলেছে ইস্কুলে। অন্য দিকে আমি যেন ডুরে শাড়ি পরা ছোট্টো মেয়েটির হাত ধরে চলতে থাকি। সমস্ত বিশাল খোলামেলা প্রকৃতিতে চোখ মেলে দিই।
বছরের পর বছর গ্রামবাংলার ঘরে ঘরে মায়েরা মেয়েরা শীতের কাঁথা বুনে তোলেন। সে এক আশ্চর্য শিল্প আর কারুকাজ। এই মাত্র যে প্রকৃতিকে ছড়ানো দেখেছি, সেই শাপলাফুলের দল, শস্যক্ষেতের রামধুন রঙ, প্রজাপতি, ফড়িং আর মৌমাছির লুকোচুরি খেলা এক দারুণ ব্যস্ত পৃথিবীকে আমার মুগ্ধ চোখের সামনে মেলে দেয়। মনে করিয়ে দেয় আমাদের এই ঐশ্বর্য ভুলে থাকার দিন পেরিয়ে প্রকৃতির বন্ধুতা গ্রহণ করার সময় হলো। অর্থাৎ শীত মওসুম সঙ্গে করে আনে নকশিকাঁথার ওম, পিঠেপুলি, আর সেই সঙ্গে বসন্ত ঋতুর অপেক্ষা। তখনই মনে পড়ে আমার দেশটাকে পুরোপুরি জানা হয়নি।
সারা বছর ঋতুতে ঋতুতে ঝড়, বন্যা, নদীভাঙন আর খরা আমাদের জীবনের পাশে পাশে বয়ে আনে বেদনার দুঃস্বপ্ন। জীবনকে নিয়ে আমাদের অনেক অভিযোগ। কিন্তু যখন একলা হয়ে প্রকৃতিকে ভালো করে চেয়ে দেখি, তখন আমার মনে পড়ে যায়, এমন অভিযোগহীন একটি মাটি আমাদের? এমনটি আর কোথাও আছে?
মাটি নয়, সে যেন আমাদের দুঃখিনী মায়ের মতোই করুণ কান্না লুকিয়ে রাখা জীবনের প্রতীক। তাকে যদি চিনতে না পারি, তার সম্মান রাখতে না পারা আমাদেরই ব্যর্থতা।
আজ তাই আবার নতুন করে ভাবতে হবে আমাদের। সারা বছর কেবল নিজেকে নিয়ে মগ্ন থাকা নয়, আমরা যেন প্রকৃতির প্রতিটি ঋতুকে আলাদা করে চিনতে পারি। জীবনটা ঠিক একটা মস্ত বইয়ের মতো। সেই গ্রন্থটি মেলে ধরে দেখি না, কেমন নতুন দিন ধরা দেয় আমাদের সামনে! প্রত্যেকটি পর্বে পর্বে নতুন করে পরিচয় খুঁজতে হবে না।
প্রকৃতি তো হাত বাড়িয়েই আছে! এখন দরকার নিজেকে ছড়িয়ে দেওয়া আর গড়ে তোলার ইচ্ছে। নতুন বছরকে জানাতে চাই সেই আমন্ত্রণ।
Add a comment...

Post has attachment
হাসির বাকসো

শিক্ষক : পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন পশু কোন্টি?
ছাত্র : স্যার, জেব্রা।
শিক্ষক : বলো কী! তা জেব্রাকে কেন তোমার প্রাচীন পশু মনে হলো?
ছাত্র : স্যার, প্রাচীনকালে সবকিছুই তো সাদা-কালো ছিল। যেমন- টেলিভিশন। এখন সেই সাদা-কালোর বদলে হয়েছে রঙিন। কিন্তু জেব্রা তো এখনো সেই সাদা-কালোই রয়ে গেছে। তাহলে জেব্রা প্রাচীনকালেরই পশু, তাই না স্যার!
সংগ্রহে : মেহেদী হাসান রাফি
লক্ষ্মীপুর সদর
 
একদা তিন কচ্ছপ ঠিক করল তারা পিকনিক করতে যাবে! তারা দিন-স্থান ঠিক করল এবং যথারীতি সেখানে পৌঁছাল। কিন্তু পৌঁছে তারা বুঝতে পারল যে তারা সস আনতে ভুলে গেছে। সবচেয়ে কম বয়স্ক কচ্ছপটি বলল সে বাসায় গিয়ে সস নিয়ে আসবে যদি তারা তার না ফেরা পর্যন্ত সেন্ডুউইচ না খায়। এর পর এক সপ্তাহ চলে গেল, এক মাস চলে গেল, অবশেষে এক বছর চলে গেল কিন্তু কম বয়স্ক কচ্ছপটির কোনো দেখা নেই! এর পর বাকি দুই কচ্ছপ বলল, এসো, আমরা সস ছাড়াই সেন্ডুউইচ খেয়ে নিই। হঠাৎ কম বয়স্ক কচ্ছপটি পাথরের আড়াল থেকে বেড়িয়ে এসে বলল, তোমরা যদি তা কর, তাহলে আমি সস আনতে যাব না।
সংগ্রহে : আনোয়ার হোসেন
ফুলতলা, কুষ্টিয়া

রোগী এলো পেটে ব্যথা নিয়ে, শিক্ষানবিশ ডাক্তার নিয়ম অনুযায়ী পেটে চাপ দিয়ে দিয়ে পরীক্ষা করছেন।
ডাক্তার : লাগে?
রোগী : হ্যাঁ, লাগে।
ডাক্তার : এখানে লাগ?
রোগী : হ্যাঁ, লাগে।
ডাক্তার : এইখানেও লাগে?
রোগী : হ্যাঁ, লাগে।
ডাক্তার : আশ্চর্য! এখন লাগে?
রোগী : হুম, লাগে।
ডাক্তার : (বিরক্ত হয়ে) আরে ভাই কী বলেন! সবখানেই ব্যথা লাগে?
রোগী : না স্যার, ব্যথার জায়গাটা ছাড়া বাকিটুকুতে আরাম লাগে।
সংগ্রহে : সালেহ আহমেদ
কামাল বাজার, বিশ্বনাথ, সিলেট

শিক্ষক : বলতো, পাখির দৃষ্টি শক্তি কম না বেশি?
ছাত্র : খুব বেশি।
শিক্ষক : তুমি কিভাবে বুঝলে?
ছাত্র : কারণ, আমি কোনো পাখিকে চশমা পড়তে দেখিনি।
সংগ্রহে : মো: আশিকুল ইসলাম নূর
হরিমোহন স: উচ্চবিদ্যালয়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ

দুই বন্ধু সুন্দরবনে বেড়াতে গেল। হঠাৎ একটা বাঘ তাদের সামনে এসে হাজির!
১ম বন্ধু বাঘের চোখে একটা ঢিল মেরে দিল একটা দৌড় এবং ২য় বন্ধুকে বলল, দোস্ত, দৌড়ে পালা...
২য় বন্ধু : আমি পালাবো কেন? আমি কি বাঘের চোখে ঢিল মেরেছি নাকি? তুই বাঘের চোখে ঢিল মেরেছিস, তুই-ই দৌড়ে পালা!!
সংগ্রহে : আহনাফ হাসান তাহমিদ
গোহাইলকান্দি, ময়মনসিংহ
Add a comment...

Post has attachment
জিমি ম্যাথুসের কবজিতে সেদিন কী ভর করেছিল কে জানে! বল তো নয়, যেন একেকটা দুর্বোধ্য ধাঁধা ছুড়ে দিচ্ছিলেন প্রোটিয়া ব্যাটসম্যানদের উদ্দেশে। আর সেই ধাঁধার ধন্দে পড়ে যাচ্ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকানরা। প্রথম ইনিংসে হ্যাটট্রিক। ম্যাথুস হ্যাটট্রিক করে ফেললেন দ্বিতীয় ইনিংসেও!
টেস্ট চার ইনিংসের খেলা। তবে একজন বোলার সর্বোচ্চ দুই ইনিংসেই বল করার সুযোগ পান। তিন ইনিংসে সুযোগ পেলে কী হতো বলা মুশকিল। সেই টেস্টে যেভাবে হ্যাটট্রিকের নেশা পেয়ে বসেছিল, ম্যাথুস হয়তো হ্যাটট্রিকের হ্যাটট্রিক করেই তবে থামতেন!
পরপর তিন বলে ৩টি উইকেট। হ্যাটট্রিক! ক্রিকেটে যেকোনো বোলারের জন্য এক স্বপ্নের মতো ব্যাপার। সেই স্বপ্ন কারো জীবনে সত্যি হয়, কারো হয় না। অর্জনটা আরো গৌরবের হয়ে ওঠে, যখন কোনো বোলার কীর্তিটা গড়েন টেস্ট ক্রিকেটে। ১৩৩ বছরের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে ৪০টি হ্যাটট্রিক হয়েছে। হ্যাটট্রিক করেছেন মাত্র ৩৭ জন বোলার, পেরেছেন তাদের স্বপ্ন সত্যি করতে!
ফ্রেড স্পোফোর্থ নামে এক অস্ট্রেলিয়ান ফাস্ট বোলার ১৮৭৯ সালের ২ জানুয়ারি টেস্ট ক্রিকেটে প্রথম পরপর তিন বলে ৩ উইকেট নিয়ে দেখিয়েছিলেন সারা বিশ্বকে। সেই শুরু; এবং তারপর থেকে কিছুদিন আগে অস্ট্রেলিয়ান মিডিয়াম পেসার পিটার সিডলের করা টেস্ট ক্রিকেটের সর্বশেষ হ্যাটট্রিকটি পর্যন্ত মাত্র ৩৮ বার এমন ঘটনা ঘটেছে টেস্ট ক্রিকেটে। প্রতিটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে অনেক স্মৃতি, অনেক গল্প।
৩৫ জন বোলারের মধ্যে মাত্র তিনজন দুইবার করে এই কীর্তি গড়তে পেরেছেন টেস্ট ক্রিকেটে। রেকর্ডধারী সেই খ্যাতিমান তিন ক্রিকেটার হচ্ছেন অস্ট্রেলিয়ার অফ-স্পিনার হিউ ট্রাম্বল, ইংল্যান্ডের লেগ স্পিনার জিমি ম্যাথিউস এবং পাকিস্তানের ফাস্ট বোলার ওয়াসিম আকরাম। তিনজনই জোড়া হ্যাটট্রিক করেছেন একই প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। ট্রাম্বলের হ্যাটট্রিক দু’টি দুই বছরের ব্যবধানে। প্রথমটি ১৯০২ সালে দ্বিতীয়টি ১৯০৪ সালে, দুটি হ্যাটট্রিকই হয় মেলবোর্ন, প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড। ম্যাথিউস হ্যাটট্রিক করেছেন একই দিনে দুইবার। সেই শুভদিনটি হচ্ছে ২৮ মে ১৯১২ সাল। ভেন্যু ওল্ড ট্রাফোর্ড আর প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা। একই টেস্টে দুই হ্যাটট্রিক করা ইতিহাসের একমাত্র বোলারও তিনি।
ওয়াসিম আকরাম হ্যাটট্রিক দু’টি করেন সপ্তাহ খানেকের ব্যবধানে। হ্যাটট্রিক দু’টি হয় ১৯৯৯ সালের মার্চে, প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা। অবশ্য তিনিই একমাত্র বোলার, যিনি টেস্ট ক্রিকেটে হ্যাটট্রিক করেছেন দলের অধিনায়ক থাকাকালে।
মাত্র দু’জন বোলার আছেন, যাদের টেস্ট হ্যাটট্রিকের পাশাপাশি একটি ওয়ানডে হ্যাটট্রিকও আছে। দু’জনই পাকিস্তানিÑ ওয়াসিম আকরাম ও মোহাম্মদ সামি। তাদের মধ্যে ওয়াসিম আকরাম ক্রিকেট-ইতিহাসের একমাত্র বোলার, যার টেস্ট এবং ওয়ানডে দুটোতেই ২টি করে হ্যাটট্রিক আছে। এই একটি জায়গায় একেবারে অনন্য কিংবদন্তি এই পাকিস্তানি।
টেস্ট অভিষেকেই হ্যাটট্রিক করেছেন এমন বোলার আছেন তিনজনÑ ইংল্যান্ডের মিডিয়াম পেসার মরিস অ্যালম (১৯৩০), নিউজিল্যান্ডের অফ-স্পিনার পিটার প্যাথেরিক (১৯৭৬) এবং অস্ট্রেলিয়ার ফাস্ট বোলার ড্যামিয়েন ফ্লেমিং (১৯৯৪)।
জিমি ম্যাথিউস, ডমিনিক কর্ক (ইংল্যান্ড), মোহাম্মদ সামি ও জারমেইন লসন (ওয়েস্ট ইন্ডিজ) হ্যাটট্রিক করেছেন ফিল্ডারদের কোনো রকম সহযোগিতা ছাড়াই। মানে, এসব ক্ষেত্রে বোলাররা ব্যাটসম্যানদের আউট করেছেন বোল্ড, এলবিডব্লিউ অথবা কট অ্যান্ড বোল্ড করে। কোর্টনি ওয়ালশ (ওয়েস্ট ইন্ডিজ), মার্ভ হিউজ (অস্ট্রেলিয়া) ও লসনের হ্যাটট্রিক করতে দুই ইনিংস করে লেগেছে। এই তিনজনের মধ্যে হিউজ আবার একটি বিরল রেকর্ডের অধিকারী। তার হ্যাটট্রিকের ৩টি বল হয়েছে ৩টি আলাদা ওভারে। ১৯৮৮ সালের ৩ ডিসেম্বর পার্থে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে নিজের ৩৬তম ওভারের শেষ বলে অ্যামব্রোসের উইকেটটি পেয়েছিলেন হিউজ। ৩৭তম ওভারের প্রথম বলে প্যাট্রিক প্যাটারসনকে আউট করার পর অলআউট হয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দ্বিতীয় ইনিংসে নিজের প্রথম বলেই গর্ডন গ্রিনিজকে আউট করে বিরল হ্যাটট্রিকটি অর্জন করেন হিউজ।
পরপর চার বলে ৪ উইকেট নেয়ার ঘটনা এখন পর্যন্ত ঘটেনি টেস্ট ক্রিকেটে। ওয়ানডেতে যদিও শ্রীলঙ্কার লাসিথ মালিঙ্গার এমন একটি কীর্তি আছে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে, তবে টেস্ট ক্রিকেটে এর কাছাকাছি গিয়েছিলেন ইংল্যান্ডের মরিস অ্যালম। ১৯৩০ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে করা তার হ্যাটট্রিকটি হয়েছিল ওভারের শেষ ৩টি বলে। ওভারের দ্বিতীয় বলেও একটি উইকেট পেয়েছিলেন অ্যালম। ৫ বলে হ্যাটট্রিকসহ ৪ উইকেট পাওয়া টেস্ট ক্রিকেটের একমাত্র বোলার তিনি।
৫ বলে ৪ উইকেট নিয়েছেন, কিন্তু হ্যাটট্রিক হয়নিÑ টেস্ট ক্রিকেটে এমন দুর্ভাগা বোলারও আছেন দু’জন। তারা হলেন ইংল্যান্ডের ক্রিস ওল্ড (১৯৭৮, প্রতিপক্ষ পাকিস্তান) এবং পাকিস্তানের ওয়াসিম আকরাম (১৯৯১, প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ)। ২ উইকেট নেয়ার পর একটা নো বল করে আবারও ২ উইকেট নিয়েছিলেন ওল্ড। ওয়াসিম আকরামের ক্ষেত্রে উইকেটবিহীন বলটি ‘ডট’ গিয়েছিল।
গৌরবের এই তালিকায় একটা বাড়তি কৃতিত্ব আছে একমাত্র বাংলাদেশী ক্রিকেটার হিসেবে জায়গা পাওয়া অলক কাপালিরও। ২০০৩ সালের ২৯ আগস্ট পাকিস্তানের বিপক্ষে করা হ্যাটট্রিকের সময় তার বয়স ছিল মাত্র ১৯ বছর ২৪০ দিন। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সে হ্যাটট্রিকের রেকর্ডটি তাই এখনো তার দখলে। একটু কৃতিত্ব দিতে হবে সাবেক ইংলিশ অফ-স্পিনার টম গডার্ডকেও। ৩৮ বছর ৮৭ দিন বয়সে হ্যাটট্রিক করেছেন তিনি, ১৯৩৮ সালে, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। টেস্ট ক্রিকেটে তার চেয়ে বেশি বয়সে আর কোনো বোলার হ্যাটট্রিক করেননি। সবচেয়ে আনন্দের হ্যাটট্রিকটা বোধ হয় করেছেন পিটার সিডলই। পরপর তিন বলে ইংল্যান্ডের তিন ব্যাটসম্যানকে আউট করার দিনটি ছিল তার জন্মদিন।
অর্জনটা ব্যক্তিগত হলেও দলীয় কিছু মজার পরিসংখ্যানও জড়িয়ে আছে এর সঙ্গে। টেস্ট ক্রিকেটে ১০টি দলের বোলারই হ্যাটট্রিকের স্বাদ পেয়েছেন। ভারতের হ্যাটট্রিক খরা ঘুচিয়েছিলেন হরভজন সিং, ২০০১ সালে। সর্বোচ্চ ১২টি হ্যাটট্রিক করেছেন ইংলিশ বোলাররা, ১১টি হ্যাটট্রিক অস্ট্রেলীয়দের নামে। মোট হ্যাটট্রিকে বাংলাদেশ কিন্তু আছে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে এবং শ্রীলঙ্কারও ওপরে। বাংলাদেশের হ্যাটট্রিক যে হয়ে গেল দু’টি! এর মধ্যে সোহাগ গাজী হ্যাটট্রিকের এই তালিকায় পেয়েছেন অনন্য গৌরব। বাকি ৩৬ জনের তো আর একই ম্যাচে সেঞ্চুরিও নেই!
মোট হ্যাটট্রিকের শতকরা ৫৮ ভাগ এসেছে এই দুই দলের বোলারদের কাছ থেকে। টেস্ট খেলুড়ে সব দেশের অন্তত একটি করে হ্যাটট্রিকের রেকর্ড আছে। মজার ব্যাপার হচ্ছে, পাকিস্তানের সব হ্যাটট্রিকই হয়েছে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। দু’জন ভারতীয় বোলার (হরভজন সিং ও ইরফান পাঠান) হ্যাটট্রিকের স্বাদ পেলেও আশ্চর্যজনক ব্যাপার হচ্ছে, টেস্ট ক্রিকেটে কখনো ভারতের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করতে পারেনি কেউ!
Add a comment...

Post has attachment
সঞ্চিত হয়েছে বিপুল শিক্ষা
মুহাম্মদ জাফর উল্লাহ্

বিশাল বিচিত্র এ পৃথিবী। কত না তার রূপ, কত তার ঐশ্বর্য। দিকে দিকে ছড়িয়ে আছে কত অরণ্য-সমুদ্র-মরু-পর্বত। কত পশু-পাখি, জীবজন্তু, নিসর্গ প্রকৃতির কত অফুরান বৈভব। এর কতটুকুইবা দেখা হয় আমাদের চর্মচক্ষে? রুজি-রুটির অন্বেষায় কর্মক্লান্ত মানুষের অন্তরও একসময় হাহাকার করে ওঠে। সে প্রত্যক্ষ করতে চায় বিপুলা বিশ্ব।
অন্তরের এ হাহাকার নিবারণের জন্যই যেন প্রতি বছর চট্টগ্রাম সংস্কৃতিকেন্দ্র তার সদস্যদের নিয়ে বার্ষিক আনন্দ ভ্রমণের আয়োজন করে। সভাপতি আমীরুল ইসলাম ও সচিব ইকবাল করিম রিপনের আনন্দ বনভোজনের আমন্ত্রণপত্র পেয়ে কালবিলম্ব না করে সপরিবারে নাম নিবন্ধন করেছি। অবশ্য ভ্রমণের স্থান মেরিন অ্যাকাডেমি হওয়াতে তা আমাকে বেশ টেনেছে। কারণ আশির দশকের মাঝামাঝি আমার বড় শ্যালক ক্যাপ্টেন মহসিন চৌধুরী মেরিন অ্যাকাডেমিতে অধ্যয়ন করতো। তাকে দেখার জন্য বহুবার আমি মেরিন অ্যাকাডেমিতে গিয়েছি। আমার চেনা দুই যুগ আগের মেরিন অ্যাকাডেমির কী হাল তা নিজে দেখা এবং আমার পুত্র-কন্যা ও স্ত্রীকে দেখানো এ সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল।

গাড়ি নির্দয়ভাবে ছেড়ে যাবে
৩০ জানুয়ারি ২০১০ ভ্রমণ সূচিতে আমাদের সময়জ্ঞান সম্বন্ধে সচেতনতার লক্ষ্যেই স্পষ্টাক্ষরে লিখে দেয়া হয়েছিল ‘গাড়ি নির্দয়ভাবে ছেড়ে যাবে সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে।’ যা আমার পরিবারের সদস্যদের হাসির খোরাক হয়েছিল। কারণ আমাদের সমাজে নির্ধারিত সময় রক্ষা করা প্রায় ক্ষেত্রে সম্ভব হয়ে ওঠে না। নাবিলার আম্মা তো যেন নির্দিষ্ট সময়ের পূর্বে পৌঁছানোর জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন। তিনি আমাদের নিয়ে সকাল সোয়া ৮টায় প্যারেড কর্নারে দণ্ডায়মান নির্দিষ্ট বাসে গিয়ে ওঠেন। যদিও বাস ‘দয়া করে সকাল ৯টায় ছেড়েছে!’

কথাবন্ধু মোসতাক খন্দকার
৩ নম্বর বাসের গাইড বিশিষ্ট আবৃত্তিকার, প্রশিক্ষক ও আইআইইউসির কর্মকর্তা মোসতাক খন্দকার তার স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিমায় মিষ্টিমধুর কথা দিয়ে সারাদিন আমাদের মাতিয়ে রেখেছিলেন। তার প্রাণবন্ত উপস্থাপনা আমাদেরকে ভ্রমণক্লান্তি একটুও স্পর্শ করতে দেয়নি। অবশ্য এ ক্ষেত্রে গায়ক ও গিটারবাদক আবদুল্লাহ আল মাসুদ, কাজী মাহফুজুল হক ও মুহাম্মদ নাসির উদ্দীন; সর্বোপরি উপস্থাপনায় মোগল, বিশিষ্ট গীতিকার ও গায়ক, আইআইইউসির কর্মকর্তা চৌধুরী গোলাম মাওলার নাম প্রীতি ও শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি। তাদের সুর ও ছন্দের মূর্ছনা আমাদের হৃদয়কে কানায় কানায় ভরিয়ে দিয়েছে।

বনভোজনে মা
মোসতাক খন্দকার অত্যন্ত সুন্দরভাবে পরিচিতি পর্বটি পরিচালনা করেন। তিনি শুধু সংস্কৃতিকেন্দ্রের সদস্যদের পরিচিতি দিয়েই ক্ষান্ত হননি, তাদের স্ত্রী ও পুত্র-কন্যাদের গুণাগুণ বর্ণনাসহ পরিচিতি পর্ব সম্পন্ন করেন। তার একমাত্র শিশুপুত্রের পরিচিতি প্রদানও ছিল আনন্দের।
প্রায় সব সদস্যই স্ত্রী, পুত্র, কন্যাদের ভ্রমণ সাথী করেছেন। তরুণ শিল্পী মুহাম্মদ নাসির উদ্দীনকে পরিচয় করে দেয়ার সময় আমরা সবাই জানতে পারলাম নাসির এ আনন্দ ভ্রমণে তার শ্রদ্ধেয়া আম্মাকে সাথী করেছে। অন্যরা যখন সপরিবারে সফর করছেন তখন সিঙ্গল পারসন নাসির কেন বাদ যাবে? তার প্রকৃত সফরসঙ্গী গর্ভধারিণী জননী। সত্যি চমৎকার সিদ্ধান্ত। বিদায়ের পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত নাসিরের আম্মাকে আমরা সম্মানের চোখে রেখেছি। মাতৃভক্তিতে নাসির একদিন বড় কিছু হবে। ধন্যবাদ শিল্পী নাসিরকে।

মেরিন অ্যাকাডেমির সুন্দর সবুজ চত্বরে
আমার চেনা মেরিন অ্যাকাডেমি আগের চেয়ে আরও প্রশস্ত আরও সুন্দর হয়েছে। বাহ্যিক সৌন্দর্যে নয় জ্ঞান-গরিমায়। অত্যাধুনিক সুইমিংপুল, অ্যাকাডেমিক ভবন, লাইব্রেরি, ছাত্রাবাস, প্রশাসনিক ভবন, ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ, নটিক্যাল ডিপার্টমেন্ট, মসজিদ, সিনিয়র ক্যাডেট স্টাফ হোস্টেল; এমনকি মেরিন অ্যাকাডেমি স্কুল অ্যান্ড কলেজও সগৌরবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। ষাটের দশকে নৌপরিচালন বিদ্যা হাতে-কলমে শিক্ষা দেয়ার জন্য তৎকালীন পাকিস্তানে এটি সর্বপ্রথম চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর মোহনায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। করাচিতে হয়েছে তারও অনেক পরে। অবিভক্ত ভারতে শুধুমাত্র বোম্বাইতে মেরিন অ্যাকাডেমি ছিল। শুধু বাংলাদেশী নয়, বিদেশী ছাত্ররাও এখান থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে। দেশী-বিদেশী অনেক অভিজ্ঞ ইনস্ট্রাক্টর আছেন যাঁরা ক্যাডেটদের শিক্ষা দেন।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় যখন আমরা মেরিন অ্যাকাডেমিতে পৌঁছি তখন এর সব বিভাগ বন্ধ। পাহাড়, টিলা আর সবুজ মাঠ পরিবেষ্টিত মেরিন অ্যাকাডেমিকে খুবই প্রশান্ত দেখাচ্ছিল। বন-বনানীতে, পাখ-পাখালির কলতান ছাড়া অন্য কোনো শব্দই কানে আসেনি। মাঝ নদী পর্যন্ত প্রলম্বিত মেরিন অ্যাকাডেমির নিজস্ব জেটিটি আমাদের খুবই টানছিল। আমাদের ছেলেমেয়েরা গৃহবন্দিদশা থেকে মুক্তি পেয়ে আনন্দ উচ্ছলতায় ক্ষণিকের জন্য নিজেদের যেন হারিয়ে ফেলেছিল। সুদীর্ঘ জেটি ব্রিজ, সবুজ চত্বর আর উঁচু-নিচু টিলায় দৌড়ঝাঁপ দিয়ে সমুদ্র আর কর্ণফুলীর নির্মল বায়ু সেবন করে নিজেদের সতেজ করেছে। আমরাও কম যাইনি। তাদের চোখে চোখে রাখতে হয়েছে সর্বক্ষণ।

সাফল্যের স্বর্ণদুয়ার
বন-বনানী পরিবেষ্টিত মেরিন অ্যাকাডেমি ক্যাম্পাস সদলবলে ঘুরে দেখার আগে আমরা সবাই মিলিত হয়েছিলাম সিনিয়র ক্যাডেট স্টাফ মেস চত্বরে। সংস্কৃতিকেন্দ্রের সদস্যদের ও তাদের সন্তানদের কবিতা-গানে মুখরিত স্বল্প সময় পরে এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের অবতারণা করেন সভাপতি আমীরুল ইসলাম। বনভোজন যে প্র্যাকটিক্যাল শিক্ষারও একটি চমৎকার বাহন হতে পারে চট্টগ্রাম সংস্কৃতিকেন্দ্র তা প্রমাণ করলো। ৫ গাড়ি সদস্য ও তাদের পোষ্যদের সামনে আমীর ভাই উপস্থাপন করলেন মেরিন অ্যাকাডেমির ইংরেজির অধ্যাপিকা জিনাত আরাকে। তিনি অত্যন্ত সুন্দর ও সাবলীল ভাষায় মেরিন অ্যাকাডেমি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ও আদর্শ সম্বন্ধে আমাদের জানালেন। তুলনামূলকভাবে বুঝিয়ে বললেন, মেডিক্যাল কলেজ ও ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটিতে অধ্যয়নের চাইতে মেরিন অ্যাকাডেমির পাঠগ্রহণ শ্রেষ্ঠ কেন; জানালেন এখানকার একটি সনদ কেন একজন সফল শিক্ষার্থীর জীবনে সাফল্যের স্বর্ণ দুয়ার খুলে দেয়।
তিনি বললেন, ‘এ দেশে ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার পরও অনেককে বেকার বসে থাকতে হয়। শিক্ষাজীবনের ৪-৫ বছর আর বেকারত্বের ২-৩ বছরসহ কর্মজীবনের জন্য নির্দিষ্ট বিপুল সময় ও অর্থ বিনষ্ট হয়। অথচ মেরিন অ্যাকাডেমি হতে মাত্র দু’বছরে সাফল্যের সাথে কোনো ক্যাডেট পাস করতে পারলেই দেশে-বিদেশে তার চাকরি সুনিশ্চিত। আমাদের ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ারগণ যখন দেশী টাকায় সামান্য বেতন পান তখন মেরিন অ্যাকাডেমি হতে পাস করে ছাত্ররা স্বর্ণমুদ্রাসম ডলার-পাউন্ড আয় করে। এ ছাত্রদের হাতের তালুতে গোটা বিশ্ব। তারা শুধু একজন চাকুরে নয়, জাতীয় পতাকাধারী বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের এক একজন দূত।’

আহা আজি কী আনন্দ আকাশে বাতাসে
জুমার নামাজ ও খাবার শেষে শুরু হয় সাংস্কৃিতক অনুষ্ঠান।
এখানে বলে রাখা ভালো জুমার নামাজ চলাকালীন দু’টি আলাদা কক্ষে মেয়েদের জোহর নামাজ পড়ার ব্যবস্থা করা হয়। নামাজের পর পরই মহিলা ও শিশুদের খাবার দেয়া হয়। পুরুষরা জুমার নামাজ পড়ে আসার আগেই তারা শান্তি ও স্বস্তির সাথে খাদ্য গ্রহণ করেন।
আমরা নামাজ পড়েই খাবার ঘরে গিয়েছিলাম। বনভোজন তো বনেই মানায় কিন্তু এবারের সফরে ভোজনের আয়োজন করা হয়েছে সিনিয়র ক্যাডেট স্টাফ ডাইনিং হলে। পঞ্চ তরকারিতে রসনা ব্যঞ্জন। সুসজ্জিত চেয়ার-টেবিলে জামাই আদরে খানা। মোহাম্মদ ইসমাইল চৌধুরী, মাহবুবুল মাওলা রিপন, মামুন ইলাহী, মাহাফুজুল হক চৌধুরী, আবু জাফর আলম ও সুলতান মাহমুদ ইয়াছিনদের খাদ্য পরিবেশনা সত্যিই প্রশংসাযোগ্য। অন্য বনভোজনে খাবার নিয়ে যখন নানা হৈ-হল্লা, অনুযোগ, অভিযোগ সেখানে চট্টগ্রাম সংস্কৃতিকেন্দ্রের ব্যবস্থা ছিল খুবই সুশৃঙ্খল ও পরিশীলিত। ভ্রমণের জন্য বাসে ওঠার পর থেকে বাসায় ফেরার আগ পর্যন্ত চা-নাশতা-পানি পানের কোনো ত্রুটি হয়নি। এত খাবার, ফল-ফ্রুট সরবরাহ করা হয়েছে যে, না খেতে পেরে অবশিষ্টাংশ কারো কারো বাসায়ও পৌঁছেছে।
বলছিলাম সুস্থ সংস্কৃতি চর্চার কথা; সংস্কৃতিকর্মী জয়নুল আবেদীনের উপস্থাপনায় এবং অভিনেতা ও চিত্রনির্মাতা কাজী ইসমাঈলের কৌতুক; ব্যাংকার মঞ্জুর আহমদ মঞ্জুর নোয়াখালীর আঞ্চলিক ভাষার কৌতুক, জয়নুলের চাটগাঁর কৌতুক আমাদের হাসিয়ে পেটের ভাত হজম করেছে। আর মন ভরিয়ে দিয়েছে আবদুল্লাহ আল মাসউদ, কাজী মাহফুজুল হক, যুবায়ের হোসাইন ভুঁইয়া, নাসির উদ্দিন, ইকবাল চৌধুরী ও মুহাম্মদ জামালুদ্দীনের গানে।
৫ ফেব্রুয়ারি ২০১০ আমাদের জীবনের জন্য একটি স্মরণীয় দিন। এ আনন্দ ভ্রমণ সত্যি আমাদের আনন্দ দিয়েছে। আমাদের পুত্র-কন্যাদের ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য সঞ্চিত হয়েছে বিপুল শিক্ষা।
Add a comment...

Post has attachment
রাসূলের (সা) আদর্শে জীবন গড়তে হবে

বিস্মিল্লাহির রাহমানির রাহীম
“(হে নবী) আমি তোমাকে সারা বিশ্বের জন্য রহমত হিসেবে প্রেরণ করেছি।”
(সূরা আম্বিয়া, আয়াত ১০৭)
সুপ্রিয় বন্ধুরা, মানবতার মহান বন্ধু আমাদের সকলের প্রিয় নেতা এবং অনুসরণীয় ও অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব হচ্ছেন নবীকুল শিরোমণি, সর্বশেষ নবী এবং রাসূল হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তিনি পৃথিবীতে আগমন করার উদ্দেশ্য সম্পর্কে মানবজাতির সৃষ্টিকর্তা মহান রাব্বুল আলামিন নিজেই সার্টিফিকেট প্রদান করে বলছেন যে, আমি তাঁকে বিশ্বজাহানের রহমতস্বরূপ প্রেরণ করেছি। অর্থাৎ তাঁর দেখানো পথ ও পন্থা অনুসরণ করলে মানবজাতি রহমতের অমীয় ধারায় সিক্ত হবে। আর এর প্রমাণ ইসলামের স্বর্ণালী যুগে বিশ্ব প্রত্যক্ষ করেছে। তদ্রƒপ আজকের এ গোলযোগপূর্ণ অশান্তিময় পৃথিবীতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে হলে আমাদেরকে আল্লাহর রাসূলের (সা) আনীত বেহেশতী বিধান মহাগ্রন্থ আল কুরআন এবং আল হাদিসের কাছে ফিরে যেতে হবে।
আজকের এই দিনে দয়ার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সিরাত তথা জীবন থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে আমাদের জীবনকে ঢেলে সাজাতে হবে যাতে পৃথিবীতে শান্তি ফিরিয়ে আনতে আমরাও সোচ্চার হই এবং পরকালে জান্নাতে স্থান করে নিতে পারি।
প্রিয় বন্ধুরা, রাসূল (সা) হচ্ছেন মহান শিক্ষক। তিনি তাঁর শিক্ষাদানের মাধ্যমে আরবের মরুচারী বেদুঈনদের এমন ভব্য ও সভ্য মানব বানিয়েছিলেন, যা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। তাঁর প্রিয় সাহাবীদের মর্যাদার কাছে পৃথিবীর কেউ পৌঁছতে পারবে না। আর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে, তাঁর শিক্ষাব্যবস্থার সিলেবাস একমাত্র আল কুরআন। তিনি ছিলেন কিশোর-যুবক-বৃদ্ধ সর্বোপরি দেশের সর্দার। ছোট বয়সে তিনি হিলফুল ফুজুল গঠন করে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ব্রতী হন। যুবক বয়সে নবুয়্যত লাভ করে পুরো সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় আত্মনিয়োগ করেন এবং শান্তির মডেল স্থাপন করতে সক্ষম হন।
রাসূল (সা) শুধু ব্যক্তি বা পরিবারের শিক্ষক নন, বরং সমগ্র মানবজাতির মহান শিক্ষক তিনি। আল্লাহর রহমত হিসেবে তিনি পৃথিবীতে আবির্ভূত হয়েছেন এবং সে রহমতের ফল্গুধারায় বিশ্বŸাসীকে সিক্ত করে আমাদের সামনে অনন্য এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন। আলোচ্য আয়াতে মহান রব সে বিষয়টিই মানুষকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন। কুরআনের অন্যত্র আল্লাহপাক বলেন, “তোমাদের জন্য রাসূলের (সা) জীবনেই রয়েছে সর্বোত্তম আদর্শ।” (সূরা আহযাব, আয়াত ২১)
সুতরাং প্রিয় বন্ধুরা, এসো আমরা আমাদের প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনী বেশি বেশি পড়ে তা থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের জীবনকে সেভাবেই গঠন করি এবং আল্লাহর রহমতের ভাগীদার হই।
গ্রন্থনা : মোহাম্মদ ইয়াসীন আলী
Add a comment...

Post has attachment
বিস্মিল্লাহির রাহমানির রাহীম
“হযরত রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন : যে ব্যক্তি আমাদের (মুসলমানদের) ছাড়া অন্যদেরকে আন্তরিকভাবে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করে, সে আমাদের (মুসলমানদের) অন্তর্ভুক্ত নয়। সুতরাং তোমরা ইহুদি ও খ্রিষ্টানদের বন্ধু হিসেবে গ্রহণ (অনুসরণ) করো না।” (তিরমিযী শরীফ)
সুপ্রিয় বন্ধুরা, একটি বছর শেষ হয়ে আরেকটি নতুন বছর আমাদের মাঝে আগমন করেছে। বরাবরের ন্যায় এবারও আমরা নতুন বছরের শুরুতে নতুন পরিকল্পনা নেব এবং সে অনুযায়ী সারাটি বছর কাজ করবো। তাছাড়া পুরানো বছরের অসমাপ্ত কাজগুলোকে আমরা নতুন বছরে নতুন উদ্যমে করবার জন্যও প্রস্তুতি গ্রহণ করে থাকি। ফেলে আসা বছরটিতে যে সকল খারাপ দিক ছিল যেমন মানুষের বিভিন্ন অধিকার যা থেকে সে বঞ্চিত হয়েছে তা ফিরে পাবার জন্য নতুন আশায় বুক বাঁধে। অর্থাৎ আমরা সকলেই একটি সুন্দর সুখীময় জীবন গড়ে তোলার জন্য নতুন উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে পথচলা শুরু করে থাকি। আরেকটি বিষয় এখানে প্রণিধানযোগ্য, পৃথিবীতে আমাদের সংক্ষিপ্ত জীবন থেকে একটি বছর হারিয়ে ফেললাম। তাই আত্মসমালোচনা করে দেখা দরকারÑ আমাদের শেষ ঠিকানা পরকাল তথা জান্নাত প্রাপ্তির জন্য জীবনটাকে কতটুকু সাজাতে পেরেছি। আমরা কি আদৌ সে পথের জন্য কিছু জোগাড় করতে পেরেছি?
এখন আসা যাক উল্লেখিত হাদিসটির মূল বক্তব্যের দিকে। বর্তমান সময়ে আমরা রেডিও, টিভি, ইন্টারনেটের কল্যাণে পৃথিবীর কোথায় কখন কী হচ্ছে তার খবর সাথে সাথেই পেয়ে যাচ্ছি। এরই ফলশ্রুতিতে খ্রিষ্টীয় নববর্ষকে কেন্দ্র করে যে উৎসব হয় (Happy New Year) তা আমরাও অনেকে গভীর উৎসাহ ও উদ্দীপনা নিয়ে পালন করে থাকি। নববর্ষকে আমরা পালন করবো, তবে সেটা উচ্ছৃঙ্খলা বা অশ্লøীলতা-বেহায়াপনার মাধ্যমে নয়। আর তাছাড়া আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরূপ করতে স্পষ্টভাবে নিষেধ করেছেন। অমুসলিমদের রীতি-নীতি এবং রেওয়াজ পালন হতে বিরত থাকার কথা বলেছেন। তাদের কাজকর্মকে অনুসরণ করা যাবে না। আলোচ্য হাদিসে কিন্তু সেটারই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে। এমনকি যারা তাদেরকে অর্থাৎ কোনো মুসলিম অন্য কোনো অমুসলিমকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করবে তারা মুসলমানদের অন্তর্ভুক্ত নয় সে কথা স্পষ্ট জানিয়ে দেয়া হয়েছে। আর মুসলিম ছাড়া তো অন্য কেউ আল্লাহর রহমত ও সাহায্য লাভের অধিকারী হয় না।
প্রিয় বন্ধুরা, এসো আমরা নতুন বছরে নতুন উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে, নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করে পথচলা শুরু করি। অতীতের সকল অপ্রাপ্তি, গ্লানি ছুড়ে ফেলে সুখী ও সুন্দর জীবন গঠনে তৎপর হই। সমাজকে আলোকিত করি। আর পরকালের জীবনে মহান প্রভুর সান্নিধ্য লাভের উপযোগী করে নিজেদেরকে গড়ে তুলে চিরসুখের জান্নাতে বসতি পাবার উপযোগিতা অর্জন করি। আল্লাহ আমাদেরকে নতুন বছরটিকে সেভাবেই বরণ করে নেয়ার তাওফিক দিন। আমীন।
গ্রন্থনা : মোহাম্মদ ইয়াসীন আলী
Add a comment...

Post has attachment
ফররুখ আহমদের ছড়া
পউষের কথা

উত্তরী বায় এলোমেলো
পউষ এল! পউষ এল!
হিমেল হাওয়ায় শিরশিরিয়ে
এল অচিন সড়ক দিয়ে,
মাঠ, ঘাট, বন ঝিমিয়ে গেলো;
পউষ এল! পউষ এল!

মাঠের ফসল আসলো ঘরে,
ধান দেখে ভাই পরাণ ভরে
কিষাণ-চাষীর মন ভরে যায়
গল্পে গানে; মিঠাই, পিঠায়,
গুড় পাটালির সোয়াদ পেলো;
পউষ এল! পউষ এল!
মন ভেসে যায় তেপান্তরে
পদ্মা-মধুমতীর চরে,
কাঁপন জাগে শীতের হাওয়ায়,
হাজার পাখীর ঝাঁক উড়ে যায়
পর পাখনা এলোমেলো!
পউষ এল! পউষ এল!!
Add a comment...

Post has attachment
ছোটাছুটি
হাসান হাফিজ

কাটুম কুটুম কাঠবেড়ালি
ইতিউতি চাইছে খালি
ফুটছে রঙিন ফুলগুলি
গাইছে রে গান বুলবুলি।
কাঠবেড়ালি চঞ্চলা খুব
লম্ফ ঝাঁপে দিনটি পার
গাছের বাদাম সব সাবাড়।

কাটুম কুটুম চিচিং ফাঁক
বন্যা খরা তফাৎ যাক।
কাঠবেড়ালি কাটুম কুটুম
গাছ-খোঁড়লে দিচ্ছে যে ঘুম।
ভোর হলে রোদ উঠলে পর
কাঠবেড়ালি ছাড়বে ঘর।
Add a comment...

Post has attachment
স্বপ্ন দেখি
মাহফুজুর রহমান আখন্দ

শীতের আমেজ রসের হাঁড়ি
গরম মুড়ি মামার বাড়ি
মগজ জুড়েই ঘোরে
বেরস মাখা পরীক্ষাটা
সকাল বিকেল জ্বালায় গা-টা
রোজ টোকা দেয় দোরে

মুক্তো জ্বলে সকাল রোদে
শিশির মাখা ঘাসে
এই সকালে পড়ার কথা
ক্যামনে মাথায় আসে?

নরম কচি গমের ক্ষেতে
সরষে ফুলে উঠতে মেতে
মন করে আনচান
এমন সময় থাকে কি আর
বইয়ের দিকে টান?

বিকেল হলে পড়তে কি চায় মন
ঘুরতে চলো মাঠ-পাড়া-গাঁয়
মনটা বলে মিষ্টি রোদে
হাঁটো সারাক্ষণ

করছি তবু পড়া
স্বপ্ন দেখি মানুষ হবার
সফল জীবন গড়া।
Add a comment...

Post has attachment
হিম শীতলে সন্ধ্যা নামে
মাহমুদুল হাসান নিজামী

হিম শীতলে শীত নামিলো ভাবনা অনন্ত
কচু পাতায় শিশির কণা লাগছে দারুণ তো!
টিনের চালে শিশির ফোঁটা
ঘরটা শরদ করলো গোটা
বরফ শীতে সারা রাত
গিয়ে দেখি খুব প্রভাত
আম্মাজানে নাস্তা বানান-ভাঁপা পিঠার ধুম
মিষ্টি রোদের সোনা হাসি গায়ে লাগায় চুম
পুকুর পাড়ে মিষ্টি রোদে বুড়াবুড়ির দল
রোজ সকালে ঐ পুকুরে বর্ণালী উৎপল
একটু খানি মিষ্টি রোদে গা এলিয়ে সব
খোকা খুকি স্কুলে যায় কি যে কলরব
হিম শীতলে সন্ধ্যা নামে ঘন কুয়াশায়
খেজুর গাছে মিষ্টি রসে কলসী ভরে যায়।
Add a comment...
Wait while more posts are being loaded