Profile cover photo
Profile photo
shariful islam
About
Posts

Post has attachment

খালেদা জিয়া যুদ্ধাপরাধীদের ছবি প্রদর্শন করায় বিএনপিতে ক্ষোভ । 
সূত্র-দৈনিক সমকাল,২৯/১২/১২।

রাজধানীতে গণসংযোগকালে পথসভায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া যুদ্ধাপরাধীদের 'ছবি প্রদর্শন' করায় দলের অধিকাংশ নেতাকর্মীর মধ্যে বিরাজ করছে চাপা ক্ষোভ। তাদের মতে, যেখানে সারা জাতি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে সোচ্চার, সেখানে বিএনপি চেয়ারপারসনের এ কাজটি করা 'সঠিক' হয়নি। ছবি প্রদর্শনের ঘটনাটি 'পরোক্ষভাবে' যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত জামায়াত নেতাদের পক্ষেই গেছে। অন্যদিকে, এ ঘটনায় খুশি হয়েছেন জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা। বুধবার রাজধানীতে দিনব্যাপী গণসংযোগ ও পাঁচটি পথসভায় বক্তব্য রাখেন বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া। নির্দলীয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের
দাবিতে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট এ কর্মসূচি পালন করে। পথসভাগুলোতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সংসদ উপনেতা সাজেদা চৌধুরীর সঙ্গে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে কারাবন্দি জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীর সঙ্গে একমঞ্চে বসা ছবি প্রদর্শন
করেন। একই সঙ্গে তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ সেলিম এবং জাসদ সভাপতি তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর সঙ্গে মতিউর রহমান নিজামীর করমর্দনরত ছবিও প্রদর্শন করেন।
বিএনপি যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে সরকারবিরোধী আন্দোলন করছে বলে সরকারি দলের সমালোচনার জবাবে খালেদা জিয়া এসব ছবি প্রদর্শন করেন। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, তারা জামায়াতের সঙ্গে জোট বাঁধলে এবং একমঞ্চে বসে আন্দোলন করলে যুদ্ধাপরাধী হয় না। বিএনপির সঙ্গে জোট বাঁধলে যুদ্ধাপরাধী হয়ে যায়।
অবশ্য দলের 'চেইন অব কমান্ড' রক্ষায় বিএনপি নেতাকর্মীরা কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। দলের কয়েকজন নেতাকর্মী জানান, যুদ্ধাপরাধী হিসেবে জামায়াতের নেতাদের ছবি প্রদর্শন না করে কারাবন্দি দলীয় নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছবি প্রদর্শন করলেও কিছুটা যৌক্তিক হতো। দলের নেতার পক্ষে তার অবস্থান নেওয়াটাই স্বাভাবিক। জামায়াতকে জোটে রাখতে দলের ক্ষতি করা কোনো মতেই উচিত নয়। তারা জামায়াতকে সুবিধাবাদী দল হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, সুযোগ পেলে তারা বিএনপিকেই 'ঘায়েল' করবে।
মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া বিএনপির এক নেতা সমকালকে বলেন, জামায়াত বিএনপির জন্য এখন রীতিমতো 'বোঝা' হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারপরও জামায়াতের 'লবিস্ট'রা খালেদা জিয়াকে নির্বাচনী ভোটের হিসাব-নিকাশ দেখিয়ে তাদের পক্ষে বক্তব্য দিতে বাধ্য করাচ্ছেন। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকেই ওই ছবি প্রদর্শনের জন্য খালেদা জিয়াকে সরবরাহ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
বিএনপির অনেক নেতাকর্মী মনে করেন, খালেদা জিয়ার ছবি প্রদর্শনের বিষয়টি পরোক্ষভাবে যুদ্ধাপরাধীদের 'পক্ষে' চলে গেছে। এতে সরকারি দলের আরও জোরালোভাবে বিএনপি যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে বলে অভিযোগ করে বক্তব্য দিতে সুবিধা হবে। তারা এও বলছেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এখন সময়ের দাবি। নতুন প্রজন্ম যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পক্ষে। তাদের ভোট টানতে হলে বিএনপিকে অবশ্য যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পক্ষে জোরালো বক্তব্য-বিবৃতি দিতে হবে।

 খালেদা জিয়া যুদ্ধাপরাধীদের ছবি প্রদর্শন করায় বিএনপিতে ক্ষোভ । 
সূত্র-দৈনিক সমকাল,২৯/১২/১২। 

রাজধানীতে গণসংযোগকালে পথসভায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া যুদ্ধাপরাধীদের 'ছবি প্রদর্শন' করায় দলের অধিকাংশ নেতাকর্মীর মধ্যে বিরাজ করছে চাপা ক্ষোভ। তাদের মতে, যেখানে সারা জাতি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে সোচ্চার, সেখানে বিএনপি চেয়ারপারসনের এ কাজটি করা 'সঠিক' হয়নি। ছবি প্রদর্শনের ঘটনাটি 'পরোক্ষভাবে' যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত জামায়াত নেতাদের পক্ষেই গেছে। অন্যদিকে, এ ঘটনায় খুশি হয়েছেন জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা। বুধবার রাজধানীতে দিনব্যাপী গণসংযোগ ও পাঁচটি পথসভায় বক্তব্য রাখেন বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া। নির্দলীয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের
দাবিতে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট এ কর্মসূচি পালন করে। পথসভাগুলোতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সংসদ উপনেতা সাজেদা চৌধুরীর সঙ্গে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে কারাবন্দি জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীর সঙ্গে একমঞ্চে বসা ছবি প্রদর্শন 
করেন। একই সঙ্গে তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ সেলিম এবং জাসদ সভাপতি তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর সঙ্গে মতিউর রহমান নিজামীর করমর্দনরত ছবিও প্রদর্শন করেন। 
বিএনপি যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে সরকারবিরোধী আন্দোলন করছে বলে সরকারি দলের সমালোচনার জবাবে খালেদা জিয়া এসব ছবি প্রদর্শন করেন। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, তারা জামায়াতের সঙ্গে জোট বাঁধলে এবং একমঞ্চে বসে আন্দোলন করলে যুদ্ধাপরাধী হয় না। বিএনপির সঙ্গে জোট বাঁধলে যুদ্ধাপরাধী হয়ে যায়।
অবশ্য দলের 'চেইন অব কমান্ড' রক্ষায় বিএনপি নেতাকর্মীরা কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। দলের কয়েকজন নেতাকর্মী জানান, যুদ্ধাপরাধী হিসেবে জামায়াতের নেতাদের ছবি প্রদর্শন না করে কারাবন্দি দলীয় নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছবি প্রদর্শন করলেও কিছুটা যৌক্তিক হতো। দলের নেতার পক্ষে তার অবস্থান নেওয়াটাই স্বাভাবিক। জামায়াতকে জোটে রাখতে দলের ক্ষতি করা কোনো মতেই উচিত নয়। তারা জামায়াতকে সুবিধাবাদী দল হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, সুযোগ পেলে তারা বিএনপিকেই 'ঘায়েল' করবে।
মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া বিএনপির এক নেতা সমকালকে বলেন, জামায়াত বিএনপির জন্য এখন রীতিমতো 'বোঝা' হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারপরও জামায়াতের 'লবিস্ট'রা খালেদা জিয়াকে নির্বাচনী ভোটের হিসাব-নিকাশ দেখিয়ে তাদের পক্ষে বক্তব্য দিতে বাধ্য করাচ্ছেন। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকেই ওই ছবি প্রদর্শনের জন্য খালেদা জিয়াকে সরবরাহ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
বিএনপির অনেক নেতাকর্মী মনে করেন, খালেদা জিয়ার ছবি প্রদর্শনের বিষয়টি পরোক্ষভাবে যুদ্ধাপরাধীদের 'পক্ষে' চলে গেছে। এতে সরকারি দলের আরও জোরালোভাবে বিএনপি যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে বলে অভিযোগ করে বক্তব্য দিতে সুবিধা হবে। তারা এও বলছেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এখন সময়ের দাবি। নতুন প্রজন্ম যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পক্ষে। তাদের ভোট টানতে হলে বিএনপিকে অবশ্য যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পক্ষে জোরালো বক্তব্য-বিবৃতি দিতে হবে।
 
 
 
 
 
Add a comment...

ভারতের নদীসংযোগ প্রকল্প বাতিল 
গৌতম লাহিড়ী, নয়াদিল্লী
(দৈনিক সমকাল-২৮/১২/১২)
ভারতের দ্বাদশ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (২০১২-২০১৭) থেকে বিতর্কিত উচ্চাভিলাষী আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্প বাদ দেওয়া হয়েছে। এই পরিকল্পনাকে 'কাল্পনিক' আখ্যা দিয়েছে জাতীয় পরিকল্পনা কমিশন। এর আগে দশম পঞ্চবার্ষিকী থেকে পরিকল্পনার দলিলে এই নদীসংযোগ বাস্তবায়নের কথা বারবার উল্লেখ করা হয়েছিল। নদীসংযোগ প্রকল্পের মাধ্যমে হিমালয়ের নদীগুলোর সঙ্গে দক্ষিণের নদীগুলোর সংযোগ স্থাপনের কথা ছিল। তবে এই প্রকল্প বাতিল হলেও হিমালয়ের নদীগুলো এবং দক্ষিণের নদীগুলো পৃথকভাবে সংযোগ স্থাপন করা হবে। এ
ক্ষেত্রে দক্ষিণের নদীগুলো (পেনিনসুলা নদী) একটির সঙ্গে অপরটির সংযোগ সৃষ্টি করার বিষয়টি ভারতের অগ্রাধিকারে রয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার দিলি্লর বিজ্ঞান ভবনে প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংয়ের সভাপতিত্বে জাতীয় উন্নয়ন পরিষদের বৈঠক ডাকা হয় দ্বাদশ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা অনুমোদনের জন্য। দেশের সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা বৈঠকে যোগ দেন। এই বৈঠক উপলক্ষে পরিকল্পনা কমিশন যে খসড়া পরিকল্পনা অনুমোদনের জন্য পেশ করে তাতে এই নদীসংযোগ পরিকল্পনা বাদ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
মণিপুরের টিপাইমুখ বাঁধের নাম উল্লেখ করে পরিকল্পনা কমিশন বলেছে, 'ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায় বাঁধ নির্মাণের বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিত।' পরিকল্পনা কমিশনের খসড়ায় বলা হয়েছে, 'আন্তঃনদী সংযোগ পরিকল্পনা নিয়ে ইতিমধ্যেই উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। আদৌ এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা যায় কি-না তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী যদি হিমালয়ের নদীগুলোর সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের নদীগুলোর সংযোগ করা হয় তা হলে ব্যয় হবে ৫ লাখ ৬০ হাজার কোটি রুপি। স্থলজমি ডুবিয়ে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হলে বাস্তুচ্যুত মানুষের পুর্নবাসনের জন্য অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হবে।'
খসড়ায় আরও বলা হয়েছে, 'প্রকল্পটি চালু থাকাকালে দৈনন্দিন কত ব্যয় হবে তার কোনো অনুমান পাওয়া যায়নি। পানি অন্যত্র তুলতে কত বিদ্যুৎ ব্যয় হবে তাও পরিষ্কার নয়।' এতে আরও উল্লেখ করা হয়, 'যদি নদী উপত্যকা এলাকা থেকে পানি অন্যত্র সরানো হয় তাহলে ভবিষ্যতে সে সব এলাকায় পানির অভাব ঘটবে কি-না তা জানা যায়নি। তাছাড়া ভারতের ভৌগোলিক যে অবস্থা তাতে উত্তর থেকে দক্ষিণে পানি সরিয়ে নিয়ে যেতে হলে মধ্য এবং পশ্চিম ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকা শুষ্ক হয়ে যাবে। দক্ষিণ ভারতের পূর্ব উপকূলে নদীগুলোর বহু ব-দ্বীপ রয়েছে। এগুলোর ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পরিবেশের ভারসাম্য বিঘি্নত হবে।'
পরিকল্পনা কমিশন লিখেছে, 'এতে সমুদ্রতল উঁচু হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে সমুদ্র তীরবর্তী বহু স্থান নিমজ্জিত হবে। বঙ্গোপসাগরে অযথা নিম্নচাপের সৃষ্টি হতে পারে।' এসব কারণে পরিকল্পনা কমিশন আন্তঃনদীসংযোগ প্রকল্প পরিত্যাগ করার পরামর্শ দিয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত বিরোধী দলের মুখ্যমন্ত্রীদের মধ্যে তামিলনাড়ূর জয়ললিতা, নরেন্দ্র মোদিসহ অন্যরা কেন্দ্রের নীতির সমালোচনা করেন।
পানিসম্পদ মন্ত্রীর বক্তব্য :ভারতের পানিসম্পদ মন্ত্রী পবন কুমার বানসাল বুধবার লোকসভায় বলেছেন, ইউপিএ সরকার উচ্চাভিলাষী আন্তঃনদীসংযোগ প্রকল্প বাতিল করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। তিনি বলেছেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সরকারের সামর্থ্যের বাইরে। তিনি বলেন, এই প্রকল্পে চার দশমিক চার লাখ কোটি রুপি প্রয়োজন। এই পরিমাণ অর্থ তাদের হাতে নেই। কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক রাহুল গান্ধী নদীসংযোগ প্রকল্পকে একটি খারাপ ধারণা হিসেবে আখ্যায়িত করে এটা পরিবেশের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনবে বলে মন্তব্য করার দুই মাস পর বানসাল প্রকল্পটি বাতিলের ঘোষণা দিলেন। তবে হিমালয় ও দক্ষিণের নদীগুলো পৃথকভাবে সংযোগ করা হবে। বানসাল বলেন, দক্ষিণের পাঁচটি নদীসংযোগ প্রকল্প কেন্দ্রের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে। রাজ্য সরকারের অনুমতি এবং পরিবেশগত ও পুনর্বাসন ইস্যু বিবেচনার পর তা বাস্তবায়নের পথে অগ্রসর হবে। দক্ষিণের ১৪টি প্রকল্পের মধ্যে এই পাঁচ প্রকল্প অগ্রাধিকারে রয়েছে। এটা বাস্তবায়নে ৩৩ হাজার কোটি রুপির প্রয়োজন হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে ৯ থেকে ১০ বছর সময় প্রয়োজন হবে। কানি-বেতোয়া প্রদেশের নদীসংযোগ প্রকল্পে উত্তর প্রদেশ ও মধ্য প্রদেশের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের প্রকল্প অগ্রাধিকারে রয়েছে। এতে করে কানি ও বেতোয়া নদী উড়িষ্যা ও ছত্তিশগড়ের অনেক এলাকা তলিয়ে ফেলবে। তবে বানসাল বলেছেন, কোনো প্রকল্পই সংশ্লিষ্ট রাজ্যের অনুমতি ছাড়া গ্রহণ করা হবে না। তিনি এসব প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নে মুখ্যমন্ত্রীদের বৈঠক আহ্বানের পক্ষে অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
ঢাকায় স্বস্তি :ভারতে হিমালয়ের নদীগুলোর সঙ্গে দক্ষিণের নদীগুলোর সংযোগ প্রকল্প বাতিল হওয়ার খবরে ঢাকায় স্বস্তি দেখা দিয়েছে। এই নদীসংযোগ প্রকল্পের বিষয়ে শুরু থেকেই বাংলাদেশে উদ্বেগ ছিল। বাংলাদেশের সরকারের তরফে এই উদ্বেগের কথা ভারতকে জানানো হলে ভারত বারবারই আশ্বাস দিয়েছে যে, হিমালয়ের নদীর সঙ্গে দক্ষিণের নদীর সংযোগ হবে না। তবে পৃথকভাবে নদীসংযোগের প্রভাব সম্পর্কে সতর্কভাবে পর্যালোচনা করছে বাংলাদেশ।
Add a comment...

Post has attachment



রবীন্দ্রনাথের প্রথম প্রেমিকা

আবদুশ শাকুর | তারিখ: ২৮-১২-২০১২


প্রেমেও অসাধারণ ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। প্রথম যৌবনে নিবেদিত তরুণীর প্রেম উপলব্ধ হয় কবির শেষ জীবনে এবং তার প্রতি নিজের আকর্ষণও আবিষ্কৃত হয় বিগত যৌবনে। অথচ বয়ঃসন্ধিক্ষণে নারীর একটুখানি ইঙ্গিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে পুরুষমাত্রই। এই পুরুষটি নিজের ভাবজগতে জীবনের শুরু থেকেই এমনই নিমগ্ন ছিলেন যে প্রেমিকার দৈহিক উৎপাতেও গায়ক-কবি শৈল্পিক ঘোর থেকে জেগে ওঠেননি। কিন্তু এসবেতে কিছু আসে যায়নি বিদুষী মারাঠি রূপসী তরুণী আন্না তড়খড়ের। উঠতি কবির উত্তরকৈশোর ও প্রথম যৌবনের সন্ধিক্ষণে দেখা সুঠাম সুপুরুষ রবীন্দ্রনাথের প্রতি ভালোবাসা তাঁর সংক্ষিপ্ত জীবনটির শেষ পর্যন্তই হূদয়ে পোষণ করে গেছেন আন্না।
সম্ভবত আন্না-ট্যাগোরের প্রণয়-সম্পর্কের বিচিত্র এই বিরল ধারার কারণেই লাখ লাখ পৃষ্ঠার রবীন্দ্রচর্চার পরিসরেও আন্না পান্ডুরং তড়খড়ের কোনো জায়গা হয় না। ফলে কাদম্বরী, রানু আর ওকাম্পোকে নিয়ে ক্রমবর্ধিষ্ণু কোলাহলের তলে অশ্রুতির পরম্পরায় আন্না-প্রসঙ্গটি আজ প্রায় সম্পূর্ণ বিস্মৃত। স্বকাল থেকে অগ্রবর্তিনী এই তড়খড়-কন্যাটিকে নিয়ে বক্ষ্যমাণ লেখাটি বস্তুত একটি স্মারক রচনা, যার উদ্দেশ্য: তাঁকে যথাযোগ্য মর্যাদায় রবীন্দ্রজীবনীর বিষয়ীভূত করে সুশিক্ষিত সুসংস্কৃত ও কৃতবিদ্য এই মহীয়সী নারীর স্মরণীয় অর্জনগুলোকে রবীন্দ্র-গবেষণার আওতায় নিয়ে আসা।
রবীন্দ্রনাথ ১৮৭৮ সালের আগস্টে মেজদা আইসিএস সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের কর্মস্থল আহমেদাবাদ ত্যাগ করে বোম্বাইতে তাঁর বন্ধু ডা. আত্মারাম পান্ডুরংয়ের পরিবারে আশ্রয় গ্রহণ করেন—প্রধানত স্পোকেন ইংলিশে সড়গড় ও ইংরেজদের আদবকায়দায় ধাতস্থ হওয়ার উদ্দেশ্যে। বঙ্গদেশের ব্রাহ্মসমাজের মতো মহারাষ্ট্র-গুজরাটের ‘প্রার্থনা সমাজ’-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা আত্মারামের পরিবার বোম্বাই অঞ্চলে ধর্ম ও সমাজ-সংস্কার আন্দোলনের ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা গ্রহণ করেছিল। আর তাঁর বিলাতফেরত কন্যা আন্না অগ্রণী ভূমিকা গ্রহণ করেছিলেন নবীন রবীন্দ্রনাথকে ইংরেজিয়ানায় প্রশিক্ষিত করে তোলার ক্ষেত্রে।
রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন:
‘কবির কাছ থেকে একটা ডাকনাম চাইলেন, দিলেম যুগিয়ে—সেটা ভালো লাগল তাঁর কানে। ইচ্ছে করেছিলেন সেই নামটি আমার কবিতার ছন্দে জড়িয়ে দিতে। বেঁধে দিলুম সেটাকে কাব্যের গাঁথুনিতে; শুনলেন সেটা ভোরবেলাকার ভৈরবী সুরে; বললেন, “কবি, তোমার গান শুনলে আমি বোধ হয় আমার মরণদিনের থেকেও প্রাণ পেয়ে জেগে উঠতে পারি।”’
প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায় অনুমান করেছেন, রবীন্দ্রনাথের দেওয়া ডাকনামটি হলো ‘নলিনী’। এটি তাঁর একটি অত্যন্ত প্রিয় নাম, প্রথম জীবনে রচিত বহু কাব্য-কবিতায় ও নাটকে নামটি ব্যবহূত হয়েছে। কাব্য-নাটকে ‘নলিনী’ চরিত্রটি প্রায়শই একটি চপল-স্বভাবা আপাত-নিষ্ঠুরা, অথচ প্রেমময়ী নারী। প্রশান্তকুমার পালের প্রশ্ন—বাস্তবের এই ‘নলিনী’ সম্পর্কেও রবীন্দ্রনাথের কি এই ধারণাই ছিল?
বহুকাল পরে ১৯২৭ সালের ১ জানুয়ারি অতুলপ্রসাদ সেন ও দিলীপকুমার রায়ের সঙ্গে আলাপে রবীন্দ্রনাথ এই তরুণীর কথা স্মরণ করেছেন:
‘তখন আমার বয়স বছর ষোলো। আমাকে ইংরেজি কথা বলা শেখানোর জন্যে পাঠানো হ’ল বম্বেতে একটি মারাঠি পরিবারে।...সে-পরিবারের নায়িকা একটি মারাঠি ষোড়শী। যেমন শিক্ষিতা, তেমনি চালাক-চতুর, তেমনি মিশুক।...তার স্তাবক-সংখ্যা নিতান্ত কম ছিল না—বিশেষ আরো এই জন্যে যে ঐ বয়সেই সে একবার বিলেত চক্র দিয়ে এসেছিল।
সেসময়ে মেয়েদের বিলেত-যাওয়া আজকের মতন পাড়া-বেড়ানো গোছের ছিল না, মনে রেখো।
‘আমার সঙ্গে সে প্রায়ই যেচে মিশতে আসত। কত ছুতো ক’রেই সে ঘুরত আমার আনাচে কানাচে।—আমাকে বিমর্ষ দেখলে দিত সান্ত্বনা, প্রফুল্ল দেখলে পিছন থেকে ধরত চোখ টিপে।
‘একথা আমি মানব যে আমি বেশ টের পেতাম যে ঘটবার মতন একটা কিছু ঘটছে, কিন্তু হায় রে, সে-হওয়াটাকে উস্কে দেওয়ার দিকে আমার না ছিল কোনোরকম তৎপরতা, না কোনো প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব। ‘একদিন সন্ধ্যাবেলা...সে আচম্্কা এসে হাজির আমার ঘরে। চাঁদনি রাত। চার দিকে সে যে কী অপরূপ আলো হাওয়া!...কিন্তু আমি তখন কেবলই ভাবছি বাড়ির কথা। ভালো লাগছে না কিছুই। মন কেমন করছে বাংলাদেশের জন্যে, আমাদের বাড়ির জন্যে, কলকাতার গঙ্গার জন্যে। হোমসিকেনস যাকে বলে।
সে ব’লে বসল: “আহা, কী এত ভাবো আকাশপাতাল!”
‘তার ধরনধারণ জানা সত্ত্বেও আমার একটু যেন কেমন কেমন লাগল। কারণ সে প্রশ্নটি করতে না করতে একেবারে আমার নেয়ারের খাটির উপরেই এসে বসল।
‘কিন্তু কী করি—যা হোক হুঁ হাঁ ক’রে কাজ সেরে দিই। সে কথাবার্তায় বোধহয় জুৎ পাচ্ছিল না, হঠাৎ বলল :
“আচ্ছা আমার হাত ধ’রে টানো তো—টাগ্্-অফ্্-ওয়ারে দেখি কে জেতে?”
‘আমি সত্যিই ধরতে পারি নি, কেন হঠাৎ তার এতরকম খেলা থাকতে টাগ্্-অফ্্-ওয়ারের কথাই মনে প’ড়ে গেল। এমন কি আমি এ শক্তি পরীক্ষায় সম্মত হ’তে না হ’তে সে হঠাৎ শ্লথভাবে হার মানা সত্ত্বেও আমার না হ’ল পুলক-রোমাঞ্চ না খুলল রসজ্ঞ দৃষ্টিশক্তি। এতে সে নিশ্চয়ই আমার ভবিষ্যৎ সম্বন্ধে বিশেষ রকম সন্দিহান হ’য়ে পড়েছিল।
‘শেষে একদিন বলল তেমনি আচম্্কা: “জানো কোনো মেয়ে ঘুমিয়ে পড়লে যদি তার দস্তানা কেউ চুরি করতে পারে তবে তার অধিকার জন্মায় মেয়েটিকে চুমো খাওয়ার?”
‘ব’লে খানিক বাদে আমার আরাম কেদারায় নেতিয়ে পড়ল নিদ্রাবেশে। ঘুম ভাঙতেই সেই চাইল পাশে তার দস্তানার দিকে। একটিও কেউ চুরি করে নি।’
বউঠাকরুন কাদম্বরী দেবী রবীন্দ্রনাথের সুপুরি-কাটা হাতের গুণ ছাড়া অন্য-কিছুরই প্রশংসা করতেন না, ‘এমন-কি চেহারারও খুঁত ধরে বিধাতার উপর রাগ ধরিয়ে দিতেন।’ কিন্তু এই তরুণীর মুখেই তিনি প্রথম শুনেছিলেন তাঁর চেহারার প্রশংসা। আন্না তাঁকে বলেছিলেন, ‘একটা কথা আমার রাখতেই হবে, তুমি কোনো দিন দাড়ি রেখো না, তোমার মুখের সীমানা যেন কিছুতেই ঢাকা না পড়ে।’
রবীন্দ্রনাথ তাঁর এই কথা অবশ্য রাখেননি, কিন্তু আন্নার প্রেমমুগ্ধ অন্তরের রূপটি এই অনুরোধের মধ্যেই ধরা পড়েছে। রসশাস্ত্রের বিচারে আন্না-কে অনেকটা প্রগল্ভা নায়িকার পর্যায়ে ফেলা যেতে পারে, কিন্তু তরুণ রবীন্দ্রনাথের কাছে না হলেও পরিণত রবীন্দ্রনাথের কাছে সে প্রেম যথেষ্ট গুরুত্ব লাভ করেছে। উপরোক্ত কথোপকথনের সূত্রেই তিনি বলেছিলেন:
‘কিন্তু সে মেয়েটিকে আমি ভুলি নি বা তার সে আকর্ষণকে কোনো লঘু লেবেল মেরে খাটো ক’রে দেখি নি কোনো দিন। আমার জীবনে তারপরে নানান্্ অভিজ্ঞতার আলোছায়া খেলে গেছে—বিধাতা ঘটিয়েছেন কত যে অঘটন—কিন্তু আমি একটা কথা বলতে পারি গৌরব ক’রে: যে, কোনো মেয়ের ভালোবাসাকে আমি কখনো ভুলেও অবজ্ঞার চোখে দেখি নি—তা সে-ভালোবাসা যে-রকমই হোক না কেন। প্রতি মেয়ের স্নেহ বলো, প্রীতি বলো, প্রেম বলো, আমার মনে হয়েছে একটা প্রসাদ—favouৎ: কারণ আমি একথা বারবারই উপলব্ধি করেছি যে প্রতি মেয়ের ভালোবাসা তা সে যে-রকমের ভালোবাসাই হোক না কেন—আমাদের মনের বনে কিছু না কিছু আফোটা ফুল ফুটিয়ে রেখে যায়— সে-ফুল হয়ত পরে ঝ’রে যায় কিন্তু তার গন্ধ যায় না মিলিয়ে।’
আন্না-র প্রেমকে রবীন্দ্রনাথ সর্বশ্রেষ্ঠ স্বীকৃতি দিয়েছেন শেষ বয়সে:
‘জীবনযাত্রার মাঝে মাঝে জগতর অচেনা মহল থেকে আসে আপন-মানুষের দূতী, হূদয়ের দখলের সীমানা বড়ো করে দিয়ে যায়। না ডাকতেই আসে, শেষকালে একদিন ডেকে আর পাওয়া যায় না। চলে যেতে যেতে বেঁচে-থাকার চাদরটার উপরে ফুলকাটা কাজের পাড় বসিয়ে দেয়, বরাবরের মতো দিনরাত্রির দাম দিয়ে যায় বাড়িয়ে।’
প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায় অনুমান করেছেন, শৈশবসংগীত কাব্যগ্রন্থের ‘ফুলের ধ্যান’ ও ‘অপ্সরা-প্রেম’ কবিতা-দুটিতে এই তরুণীর মর্মবেদনা কবির ভাষায় রূপ পেয়েছে এবং ‘আমি স্বপনে রয়েছি ভোর, সখী, আমারে জাগায়ো না’ গানটির মধ্যে দস্তানা চুরির কৌতুককর কাহিনির স্মৃতি জড়িয়ে আছে। মালতীপুঁথি-তে পাওয়া না গেলেও রবিজীবনীকারের ধারণা ‘ভগ্নহূদয়’ কাব্যের চতুর্থ সর্গে কবির অষ্টম গানটি—‘শুনেছি—শুনেছি কি নাম তাহার—/শুনেছি— শুনেছি তাহা!/নলিনী—নলিনী—নলিনী—/ কেমন মধুর আহা!’ ইত্যাদি আন্না-কে লক্ষ্য করেই রচিত।
রবীন্দ্রনাথের গ্যেটে ও তাঁহার প্রণয়িনীগণ-নামক প্রবন্ধটিতে এক জায়গায় আছে :
‘এক প্রকার তাস খেলা আছে, হারিলে চুম্বন দিতে হয়— গ্যেটে এই চুম্বনের পরিবর্তে কবিতা উপহার দিতেন—কিন্তু যে মহিলার তাঁহার নিকট হইতে চুম্বন প্রাপ্য থাকিত তাঁহার যে মর্ম্মে আঘাত লাগিত তাহা বলা বাহুল্য।’
এই বর্ণনার সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কোনো যোগ আছে কি না সেটা রসজ্ঞ পাঠকদের অনুমেয়—বলেছেন রবিজীবনীকার।
ডা. আত্মারাম পান্ডুরংয়ের (১৮২৩-১৮৯৮) কন্যা আন্না তড়খড়ের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের সাক্ষাৎ-সম্পর্ক মাত্র এক মাস বা তার সামান্য কিছু বেশি হলেও এঁর স্মৃতি বৃদ্ধ বয়স পর্যন্ত তাঁর মনে অম্লান ছিল। এই জন্য আন্না রবীন্দ্রপ্রণয়িনীদের মধ্যে অবশ্যই গণ্য।
১১ নভেম্বর ১৮৭৯ তারিখে বরোদা কলেজের উপাধ্যক্ষ হ্যারন্ড লিট্লেডলের সঙ্গে আন্না-র বিবাহ হয়।
১৮৮০ সালে আন্না বরোদার রানির গৃহশিক্ষক রূপে নিযুক্ত হন। বরোদাতে কিছুকাল থাকার পর লিট্লেডল-দম্পতি এডিনবরাতে চলে যান। আন্না-র দুটি কন্যা জন্মগ্রহণ করে। ভারত ত্যাগের পর মাতৃভূমির সঙ্গে বা নিজের পরিবারের সঙ্গে আন্না-র বিশেষ কোনো যোগাযোগ ছিল না বলে মনে হয়। আন্না-র মৃত্যু হয় ৫ জুলাই ১৮৯১ তারিখে এডিনবরা শহরে।
তাঁর মৃত্যুর পর বামাবোধিনী পত্রিকায় প্রকাশিত একটি প্রবন্ধে আন্না-সম্পর্কে বহু মূল্যবান তথ্য পরিবেশিত হয়। রচনাটির অংশবিশেষ এখানে উদ্ধৃত হলো:
‘বোম্বাইয়ের সুপ্রসিদ্ধ সমাজ-সংস্কারক আত্মারাম পান্ডুরংয়ের বিদুষী কন্যা গত ৫ই জুলাই তারিখে এডিনবরা নগরে মানবলীলা সংবরণ করেন—...যে সকল ভারতমহিলা পাশ্চাত্য শিক্ষায় সর্ব্বপ্রথমে সুশিক্ষিতা হন, আন্নাবাই তাঁহাদিগের মধ্যে একজন। তাঁহার পিতা সদালাপী, উন্নতমনা, মার্জ্জিতবুদ্ধি, জ্ঞানী ও পরম ধার্ম্মিক। ইনি বালিকা কন্যাকে অধ্যায়নার্থে ইংলন্ডে প্রেরণ করেন। ইহাতে ইনি সমাজের বিরাগভাজন হন। কিন্তু কিছুতেই ভয় পান নাই; জাতিভেদের বন্ধন উল্লঙ্ঘন করিয়া কিছুমাত্র দুঃখিত হন নাই। বুদ্ধিমতী আন্না অলৌকিকী শক্তির পরিচায়িকা। ষোড়শ বৎসরে তিনি যেরূপ গুণবতী হইয়া উঠিয়াছিলেন, সেরূপ দৃষ্টান্ত বিরল। ডাক্তার আনন্দীবাই যে অসামান্য মনস্বিতার পরিচয় দেন স্ত্রী কবি বঙ্গ-যুবতী কুমারী তরুদত্ত যে কবিত্বের লালিত্যে অখিল সভ্য জগৎকে বিমুগ্ধ করেন, ইঁহারও সেই শক্তি ছিল, বিকাশের সম্পূর্ণ সুযোগ হয় নাই।...গীতবাদ্যে তিনি সুনিপুণা ছিলেন। মাতৃভাষা মহারাষ্ট্রীয় ব্যতীত তিনি ইংরাজী, ফরাসী, জর্ম্মণ ও পর্ত্তুগীজ ভাষায় ব্যুৎপত্তি লাভ করেন। এই সকল ভাষায় কথোপকথন করিতে পারিতেন। তিনি সংস্কৃতও কিছু কিছু জানিতেন। তাঁহার রীতি নীতি চাল চলন এত ভাল ছিল, তিনি এরূপ সদালাপিনী ছিলেন, যে একবার যিনি তাঁহার সহিত বাক্যালাপ করিয়াছেন, তিনিই তাঁহার হূদয়গ্রাহিতার প্রশংসাবাদ না করিয়া থাকিতে পারিবেন না।
‘আন্নাবাই “নলিনী” (‘Lotus-Flower’) স্বাক্ষরিত বিবিধ প্রবন্ধ, ছোট ছোট গদ্য ও পদ্য দেশীয় ও বিলাতী সংবাদপত্র ও সাময়িক পত্রাদিতে লিখিতেন। চিকালগোদা নামক স্থানে মনের মত একটি বাটী নির্মাণ করাইয়া তিনি তাহাতে বাস করিতেন।
ভুবন বিখ্যাত বিদ্যাসাগর মহাশয়ের বালী হইতে প্রত্যাগমনকালে শকট হইতে পতনে উদরে বেদনা লাগে। এই বেদনাই তাঁহার সাংঘাতিক রোগের মুখ্য কারণ, আন্নাবাইয়েরও তদ্রূপ। একদা সেকেন্দারাবাদে একটি শকট দুর্ঘটনা দুই বৎসর পূর্ব্বে ঘটে, কিন্তু তদবধি ইঁহার স্বাস্থ্যভঙ্গ হয়। পীড়া নিবন্ধন ইতি গত এপ্রেলমাসে ইয়ুরোপ যাত্রা করেন; এবং সেখানেই পঞ্চত্ব প্রাপ্ত হন।...’
এই জীবনবৃত্তান্তে সবচেয়ে বেশি লক্ষণীয় বিষয়টি হচ্ছে যে, বিবাহিত জীবনেও তিনি রবীন্দ্রনাথকে ভোলেননি। সেই কিশোর-কবির প্রদত্ত আদরের ডাক নাম ‘নলিনী’ স্বাক্ষরেই তিনি প্রবন্ধাদি প্রকাশ করতেন— তাঁর অপেক্ষাকৃত পরিণত মনেও সেই ‘আপন-মানুষের দূত’ গভীর স্বাক্ষর এঁকে দিয়েছিলেন, এ তারই প্রমাণ। এ-প্রসঙ্গে এই তথ্যটিও উল্লেখযোগ্য যে, তাঁর এক ভ্রাতুষ্পুত্রের নাম রাখা হয়েছিল ‘রবীন্দ্রনাথ’।
এই পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘকাল পরেও রবীন্দ্রনাথের যোগাযোগ ছিল। আন্না-র কনিষ্ঠা ভগিনী মানক-কে ২৯ জানুয়ারি ১৯১৪ তারিখে রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন:
It is nice of you to write to me as you have done. Youৎ voice belongs to that little world of familiar faces in a city of strangers where I took my shelter when I was seventeen and where you were just emerging from your nebulous stage of indistinctness....The other day when I accepted an invitation to come to Bombay I hoped to see you and talk to you of the old days spent under your father’s roof.
[সূত্র : রবিজীবনী ২য় খণ্ড, পৃ. ৪-৫]
Photo
Add a comment...


রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে তুরস্কের প্রেসিডেন্টের চিঠি
গোলাম আযমদের ‘ফাঁসি’ না দিতে তুরস্কের আবদার

রাহীদ এজাজ | তারিখ: ২৮-১২-২০১২

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার আসামি গোলাম আযমসহ অন্য জামায়াত নেতাদের মৃত্যুদণ্ড না দেওয়ার অনুরোধ করেছে তুরস্ক। সম্প্রতি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে লেখা চিঠিতে এ অনুরোধ জানান তুরস্কের প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ গুল। তুরস্কের এ তৎপরতাকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ‘হস্তক্ষেপ’ বলে মনে করছে।
গত বুধবার বাংলাদেশে নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে আঙ্কারাকে ঢাকা জানিয়ে দিয়েছে, আবদুল্লাহ গুলের এ ধরনের তৎপরতা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের শামিল। আর বন্ধুরাষ্ট্র হিসেবে অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক না গলানোর নীতি মেনে চলবে তুরস্ক, এটাই বাংলাদেশের প্রত্যাশা।
যুদ্ধাপরাধের বিচার-প্রক্রিয়া শুরুর পর থেকে এই প্রথম কোনো দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে সরাসরি এ বিষয়ে ‘হস্তক্ষেপ’ করল। তুরস্কের প্রেসিডেন্টের চিঠিটি ১৭ ডিসেম্বর আঙ্কারা থেকে পাঠানো হয়। ২৩ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে লেখা চিঠি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৌঁছে দেয় ঢাকায় তুরস্কের দূতাবাস। গতকাল বৃহস্পতিবার চিঠি দুটি বঙ্গভবন ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র প্রথম আলোকে জানিয়েছে।
এদিকে তুরস্কের প্রেসিডেন্টের চিঠির পাশাপাশি ‘অন অ্যারাইভাল’ ভিসার (আগমন-পরবর্তী ভিসা) অপব্যবহার করে তুরস্কের একটি এনজিও প্রতিনিধিদলের বাংলাদেশ সফর নিয়েও অসন্তুষ্ট ঢাকা। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, যুদ্ধাপরাধের বিচারে তুরস্কের হস্তক্ষেপকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছে। এরই জের ধরে গত বুধবার ঢাকায় তুরস্কের রাষ্ট্রদূত মেহমুত ভারকুল ইরকুলকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করে সরকারের অসন্তুষ্টির কথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর পাল্টা হিসেবে গতকাল আঙ্কারায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত জুলফিকার রহমানকে তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়। তাঁকে তুরস্কের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন সে দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ওমর অনহুন।
তুরস্কের তৎপরতা সম্পর্কে জানতে চাইলে সাবেক পররাষ্ট্রসচিব ফারুক চৌধুরী গতকাল সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এখনো যুদ্ধাপরাধের মামলার রায় দেননি। এমন অবস্থায় তিনি (আবদুল্লাহ গুল) যে অনুরোধটি করেছেন, তা অস্বাভাবিক। কারণ প্রতিটি দেশেরই আইনের নিজস্ব গতি রয়েছে। এ ধরনের অনুরোধ আইনকে ব্যাহত করার শামিল।
তুরস্কের প্রেসিডেন্টের সমালোচনা করে সাবেক পররাষ্ট্রসচিব বলেন, তুরস্কে এখনো অনেক রাজবন্দী রয়েছেন। নিপীড়নমূলক আচরণের জন্য সে দেশের পুলিশের কুখ্যাতি রয়েছে। আর বিরোধী দলকে তুরস্কে সব সময় কঠোরভাবে দমন করা হয়। তুরস্কে যখন এ পরিস্থিতি বিরাজ করছে, তখন আবদুল্লাহ গুল যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে যে চিঠি লিখেছেন, সেটি মোটেই প্রত্যাশিত নয়।
ফারুক চৌধুরী আরও বলেন, তুরস্কে ইসলামপন্থী ও ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক শিবিরের বিরোধ নতুন নয়। আর ক্ষমতাসীন দলের প্রতিনিধি হিসেবে সে দেশের ইসলামপন্থী গোষ্ঠীকে সন্তুষ্ট করতেই আবদুল্লাহ গুল এ চিঠি লিখে থাকতেও পারেন।
গুলের চিঠি: কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, তুর্কি ভাষায় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে এক পৃষ্ঠার চিঠি লেখেন আবদুল্লাহ গুল। চিঠির সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে এর ইংরেজি অনুবাদ। চিঠিতে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট লিখেছেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অন্যদের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আযমের বিচার চলছে। প্রায় ৯০ বছর বয়সী এই নেতা মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি বলে শোনা যাচ্ছে। তিনিসহ আরও বেশ কিছু বয়োজ্যেষ্ঠ ইসলামপন্থী নেতা বিচারের মুখোমুখি রয়েছেন, যা অত্যন্ত উদ্বেগের।’
তুরস্কের প্রেসিডেন্টের মতে, যুদ্ধাপরাধের বিচার-প্রক্রিয়ার কারণে অর্থাৎ শীর্ষ ইসলামপন্থী নেতাদের শাস্তি দেওয়া হলে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক আর্থসামাজিক অগ্রগতি ব্যাহত হতে পারে। এর ফলে সামাজিক অস্থিতিশীলতা ও রক্তপাতের আশঙ্কা রয়েছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও ক্ষুণ্ন হতে পারে।
গুল বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে সামাজিক শান্তি প্রতিষ্ঠার স্বার্থে ‘ক্ষমা প্রদর্শন’ নীতি অনুসরণের অনুরোধ জানিয়েছেন। গোলাম আযমসহ অন্য নেতাদের মৃত্যুদণ্ড রোধ করার বিষয়টি বিবেচনার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।
তুরস্কের এ অবস্থান নতুন নয়: কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, আবদুল্লাহ গুলের চিঠি এবং মিথ্যা পরিচয় দিয়ে তুরস্কের এনজিও প্রতিনিধিদলের সফর নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হলেও যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে দেশটির এ অবস্থান নতুন নয়। ২০১১ সালের মে মাসে ইস্তাম্বুলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনির সঙ্গে বৈঠকে বিষয়টি ভুলে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। আর এ বছরের এপ্রিলে আঙ্কারায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান একই অনুরোধ করেন।
সরকারের অবস্থান: তুরস্কের প্রেসিডেন্টের চিঠি এবং মিথ্যা পরিচয় দিয়ে সে দেশের এনজিও প্রতিনিধিদলের ঢাকা সফরে বাংলাদেশ যে উদ্বিগ্ন ও ক্ষুব্ধ, তা তুরস্ককে কড়া ভাষায় জানানো হয়েছে। গত বুধবার সকালে ঢাকায় তুরস্কের রাষ্ট্রদূতকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়। এ সময় তাঁর কাছে ক্যানসুয়ু এইড অ্যান্ড সলিডারিটি অ্যাসোসিয়েশনের বাংলাদেশ সফরে ঢাকায় তুর্কি দূতাবাসের যুক্ত হওয়ার বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। এ ছাড়া তুরস্কের প্রেসিডেন্টের লেখা চিঠি সম্পর্কেও তাঁর কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। চিঠির বিষয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, যুদ্ধাপরাধের বিচারের রায়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলে সম্ভাব্য যেসব জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে, তার পরিপ্রেক্ষিতে বন্ধুপ্রতিম দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে পরামর্শ দিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট।
তবে তুরস্কের রাষ্ট্রদূতের ব্যাখ্যায় মোটেই সন্তুষ্ট হতে পারেনি বাংলাদেশ। তুরস্ককে দেওয়া চিঠিতে বলা হয়েছে, কূটনৈতিক শিষ্টাচারের ব্যত্যয় ঘটিয়ে কোনো রকম আগাম সংবাদ না দিয়েই তুরস্কের এনজিও প্রতিনিধিদলের ঢাকায় আগমন বাংলাদেশের কাছে ‘অসৌজন্যমূলক’ মনে কহয়েছে। রাজধানীতে পাঁচ দিনের অবস্থানে প্রতিনিধিদলটি অস্বাভাবিক তৎপরতায় জড়িয়ে পড়ে। ঢাকায় তুরস্কের দূতাবাসও সার্বক্ষণিকভাবে তাদের সব কর্মসূচিতে অংশ নেয়। দূতাবাসের এ ভূমিকা অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক। তাই পুরো বিষয়টিতে তুরস্কের সরকারের ভূমিকা নিয়ে সংগত কারণেই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
বাংলাদেশের চিঠিতে বলা হয়, এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ কঠোর ভাষায় বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র তুরস্কের এ ধরনের তৎপরতার নিন্দা জানায়। দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অব্যাহত রাখার স্বার্থে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপ্রত্যাশিত তৎপরতা রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয় চিঠিতে।
Add a comment...

Post has attachment

শীর্ষ নেতারা সাংগঠনিক নিয়ম মানছেন না
কাল আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন


জাতীয় সম্মেলনের আর মাত্র একদিন বাকি। কিন্তু গত সাড়ে তিন বছরের চাঁদা পরিশোধ করেননি আওয়ামী লীগের প্রায় সব ক'জন নীতিনির্ধারক নেতাই। তারা সাংগঠনিক বিধিবিধান মেনে চলছেন না। এ ব্যাপারে দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি নেতাদের কাছে বকেয়া চাঁদা উসুল করার নির্দেশ দিয়েছেন। গঠনতন্ত্রের ৪৭ (১) এর (ক) ধারায় 'আওয়ামী লীগ তহবিল' শিরোনামে বলা হয়েছে,

'কার্যনির্বাহী সংসদের সকল কর্মকর্তা ও সদস্যদের নির্দিষ্ট হারে মাসিক চাঁদা পরিশোধ করতে হবে।' এর মধ্যে প্রতি মাসে সভানেত্রী দেড় হাজার, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এক হাজার দুইশ', সাধারণ সম্পাদকসহ সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য এক হাজার, কার্যনির্বাহী সদস্য আটশ' এবং উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য দুই হাজার একশ' টাকা পরিশোধ করবেন। শুরু থেকেই সাংগঠনিক এ বাধ্যবাধকতা মেনে চলা হয়নি। একমাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার নির্ধারিত চাঁদার পুরোটাই পরিশোধ করেছেন। এর পরই রয়েছেন সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম। এ ছাড়া ৭৩ সদস্যের (আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু মারা গেছেন) কার্যনির্বাহী সংসদের কেউই তাদের নির্ধারিত চাঁদা পরিশোধ করেননি। ২০০৯ সালের ২৪ জুলাই জাতীয় সম্মেলনের পর থেকে তাদের ৪১ মাসের চাঁদা বকেয়া রয়েছে। এ তালিকায় মন্ত্রী এবং এমপিরাও রয়েছেন। দলের গঠনতান্ত্রিক বিধান অনুযায়ী, 'জাতীয় সংসদে নির্বাচিত আওয়ামী লীগ দলভুক্ত প্রত্যেক সদস্যের মাসিক চাঁদা ৫০০ টাকা।' এ বাধ্যবাধকতা ২৭৩ জন এমপির কেউই মানেননি। সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য দলীয় ফান্ডে চাঁদা দেওয়ার বিষয়টি বেশির ভাগ এমপির জানা নেই। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বেশ কয়েকজন এমপি রীতিমতো বিস্ময় প্রকাশ করেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মঙ্গলবার ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে আকস্মিক পরিদর্শনে এলে সাংগঠনিক এ বাধ্যবাধকতার বিষয়টি তার দৃষ্টিতে আনেন আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম। এ সময় অসন্তোষ প্রকাশ করেন শেখ হাসিনা। ফলে ওই সময় সেখানে উপস্থিত কেন্দ্রীয় নেতাদের অনেকেই তাদের নির্ধারিত চাঁদা পরিশোধ করেন। প্রধানমন্ত্রী সবার চাঁদা পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, চাঁদা বকেয়া থাকার জন্য তারা দায়ী নন। গত কার্যনির্বাহী সংসদের মেয়াদকালে দলের কোষাধ্যক্ষ চাঁদা আদায়ের উদ্যোগ নিতেন। এবার এ উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এ জন্য নেতারা দলের কোষাধ্যক্ষ এইচএন আশিকুর রহমানকে দুষছেন। চাঁদা অনাদায়ী সদস্যরা আজ সন্ধ্যা ৬টায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে অনুষ্ঠেয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে চাঁদা পরিশোধ করবেন। ১৯তম সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশন পর্যন্ত কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠক মুলতবি রাখা হবে।
এদিকে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ৪১ সদস্যের উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের কথা থাকলেও সেটা হয়নি। ২৮ সদস্যের উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হলেও তিন নেতা_ আবদুর রাজ্জাক, দেওয়ান ফরিদ গাজী এবং এমএ মান্নান মারা গেছেন। উপদেষ্টা পরিষদ সদস্যদের সমন্বয়ে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সেল গঠনের কথা থাকলেও তা হয়নি।
সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর মধ্যে ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুবলীগ, জাতীয় শ্রমিক লীগ এবং কৃষক লীগের সম্মেলন হয়েছে। তবে অন্য সহযোগী সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগ, ওলামা লীগ, আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ ও তাঁতি লীগের সম্মেলন প্রক্রিয়া এখনও ঝুলে আছে।
জাতীয় সম্মেলনে নতুন নেতৃত্বকে প্রাধান্য দেওয়ার সম্ভাবনা কম। বর্তমান নেতৃত্বে রদবদলের সম্ভাবনা তেমন না থাকলেও পদ-পদবি প্রত্যাশীদের মধ্যে তিন ধরনের টানাপড়েন চলছে। পদোন্নতি পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন অনেকে।
এলজিআরডিমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম আবারও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হচ্ছেন। এ পদে এখন পর্যন্ত আগ্রহী কারোর নাম শোনা যাচ্ছে না। আওয়ামী লীগের সম্মেলনে সব সময়ই সাধারণ সম্পাদকের পদে কে আসছেন, তা নিয়ে আলোচনা হয়ে থাকে। এবার সেটা হচ্ছে না। মোটামুটি সবাই নিশ্চিত, কিছু সীমাবদ্ধতা থাকার পরও সৈয়দ আশরাফুল ইসলামই সাধারণ সম্পাদক থাকছেন। আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলন হয়েছে ২০০৯ সালের ২৪ জুলাই।
The Samakal-27.12.12
Add a comment...

আরেকটি ধূমকেতু আসছে

হ্যালির ধূমকেতু নিয়ে সারাবিশ্বে হৈচৈ পড়ে গিয়েছিল ১৯৯৭ সালে। এমনভাবে বিশ্ববাসীকে আলোড়িত করবে আরেকটি ধূমকেতু আগামী নভেম্বরে। অন্য সৌরজগৎ থেকে আমাদের সৌরজগতের দিকে ধেয়ে আসছে বিরল সুপার ধূমকেতু আইএসওএন। ২০১৩ সালের নভেম্বরে এটিকে দেখা যাবে চাঁদের চেয়েও উজ্জ্বল রূপে। ধারণা করা হয়, বিংশ শতাব্দীতে মানুষের মাঝে সবচেয়ে বেশি আগ্রহ জাগিয়েছিল হ্যালির ধূমকেতু। অসংখ্য মানুষ অনেক কৌতূহল নিয়ে দেখেছে ধূমকেতুটিকে। আমাদের সৌরজগতে এটি হবে আইএসওএনের প্রথম সফর। অন্য ধূমকেতুগুলোর মতোই সম্ভবত এটিতেও থাকবে বিপুল গ্যাস। জ্যোতির্বিদরা বলছেন, আমাদের সৌরজগতের বাইরে ৪৬০ কোটি বছর আগে সৃষ্টি হয়েছে এ ধূমকেতুর।
এর আগমনে সে সময়কার উপাদানগুলো সম্পর্কে জানার বিরল এক সুযোগ সৃষ্টি হবে।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলছেন, সি/২০১২এস১ (আইএসওএন) নামের এই ধূমকেতু শনাক্ত করা হয় গত সেপ্টেম্বরে। আগামী নভেম্বরে এটি সূর্যের সবচেয়ে কাছাকাছি আসবে। হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির গবেষক টিমোথি স্পাহর বলেন, হ্যালির ধূমকেতু আমাদের যেভাবে আন্দোলিত করেছিল তেমনি সবার দৃষ্টি কাড়বে সুপার ধূমকেতুটি।
I have got the news from The Samakal-27.12.12
Add a comment...

রাজউকের ৫ হাজার কোটি টাকার শতাধিক বাড়ি ও প্লট বেহাত
দৈনিক ইত্তেফাক-২৫/১২/১২-

 রাজধানীতে ৪০ বছরে রাজউকের পাঁচ হাজার কোটি টাকার শতাধিক বাড়ি ও প্লট বেহাত হয়ে গেছে। জালিয়াতির মাধ্যমে রাজউকের আরো ৩৮টি বাড়ি আত্মসাতের চেষ্টা করছে সংঘবদ্ধ সরকারি ভূমি দখলকারী সিন্ডিকেট। চক্রটি অতিসমপ্রতি শত কোটি টাকা মূল্যের ধানমন্ডি ১ নম্বর সড়কের ১৩৯/১(এ) নম্বরের একটি সরকারি বাড়ি হাতিয়ে নিয়েছে। রাজউক এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এসব বাড়ি রক্ষায় তেমন কোন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। রাজউক ও মন্ত্রণালয়ের এক শ্রেণীর দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা বরং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সরকারি বাড়ি দখলকারীদের নানাভাবে সহায়তা করছে । কিন্তু রাজউক ও মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অভিযোগ অস্বীকার করে বলা হয়েছে, প্রতিটি বাড়ি রক্ষায় কর্তৃপক্ষ আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। তবে ভূমি জালিয়াত চক্র ভুয়া দলিলপত্র বানিয়ে আদালতের শরণাপন্ন নিয়ে আইনি জটিলতা ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।

রাজউকের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. নূরুল হুদা ইত্তেফাককে বলেছেন, 'সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারে আইনি লড়াই চলছে। ইতিমধ্যে শত কোটি টাকা মূল্যের পাঁচটি সরকারি বাড়ি উদ্ধার করা হয়েছে। বেহাত হওয়া অন্যান্য সরকারি সম্পদ রক্ষার প্রাণপণ চেষ্টা চলছে।' 

গুলশান, বনানী, বারিধারা, মতিঝিল, মহাখালী, দিলকুশা ও উত্তরার মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় রাজউকের মূল্যবান সম্পত্তি জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে দখল করে নেয়া হয়েছে। দখলকৃত প্লটে বাড়িঘর করে বসবাসও চলছে। এসব প্লট ও বাড়ির আয়তন দুই বিঘা পর্যন্ত। রাজউক এবং গৃহায়ণ এবং গণপূর্ত মন্ত্রণালয় কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন থেকেই এসব তথ্য জানা গেছে। বেহাত হওয়া সরকারি প্লটগুলো উদ্ধারে রাজউকের পক্ষ থেকে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ও রাজউকের যৌথ উদ্যোগে উচ্চ পর্যায়ের একাধিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

জানা গেছে, বেহাত হওয়া প্লটগুলোর অধিকাংশই এককালে পাকিস্তানি নাগরিকদের নামে বরাদ্দ দিয়েছিল তত্কালীন ডিআইটি। 

মুক্তিযুদ্ধের সময় তারা বাংলাদেশ ছেড়ে চলে গেলে প্লটগুলো বেদখল হয়ে যায়। এরকম শতাধিক প্লট ও বাড়ির তালিকা করে রাজউক সেগুলো উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু দখলকারীরা অত্যন্ত প্রভাবশালী হওয়ায় রাজউক তাদের সঙ্গে পেরে উঠছে না। সংঘবদ্ধ ভূমি জালিয়াত চক্র মামলা-মোকদ্দমা ফেঁদে দখল স্থায়ী করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। রাজউক সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান বাজারে এসব বেহাত হওয়া প্লট ও বাড়ির মূল্য পাঁচ হাজার কোটি টাকারও অধিক।

রাজউকের চলমান উদ্ধার তালিকায় ৩৮টি প্লট ও বাড়ির নাম রয়েছে যার বর্তমান বাজার মূল্য আড়াই হাজার কোটি টাকারও অধিক। গত ৪০ বছরে রাজউকের আরো ১০৮টি বাড়ি ও প্লট হাতছাড়া হয়ে গেছে। সেগুলো উদ্ধারে এক রকম হাল ছেড়েই দিয়েছে রাজউক।

রাজউকের একাধিক সূত্র জানায়, বরাদ্দপ্রাপ্তরা দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার পর একেকটি প্লটের মালিকানা দাবি করে একই নামের একাধিক ব্যক্তি রাজউকের শরণাপন্ন হয়। জাল দলিলপত্র তৈরি করে তারা মালিকানা দাবি করছেন। অনেকে আদালতের একতরফা রায় কিংবা ভুয়া রায়ের কপি দেখিয়েও সরকারি প্লট আত্মসাত্ করেছে। কিন্তু রাজউক তাদের নামে প্লট ও বাড়িগুলোর নামজারি করেনি। এক পর্যায়ে পেশি শক্তির মাধ্যমে প্রভাবশালীরা দখল নিশ্চিত করে। রাজউকের কিছু সংখ্যক অসাধু কর্মকর্তাকে হাত করে রাখায় দখলকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না।

রাজউকের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. নূরুল হুদা ইত্তেফাককে বলেন, সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। সে মোতাবেক রাজউক সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, গুলশান, বনানী ও বারিধারায় এ ধরনের বেশ কিছু প্লট ও বাড়ি রাজউকের রয়েছে। কিন্তু সেগুলো সম্পূর্ণ রাজউকের দখলে আনা কঠিন হয়ে পড়েছে। আইনি জটিলতার কারণে এসব প্লট ও বাড়ি নিলামে বিক্রি করে দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। এজন্য আপাতত রাজউকের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে বাড়িগুলো নিয়ে এমন কিছু না করার জন্য যাতে করে দখলদাররা সুবিধা পায়। তবে বাড়িগুলো উদ্ধারে আইনি প্রক্রিয়া চলছে। যেকোন মূল্যে সরকারের এই বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি রক্ষা করা হবে।

রাজউক চেয়ারম্যান আরো বলেন, একই নামের একাধিক ব্যক্তি এসে একটি প্লটের মালিকানা দাবি করেন। অথচ আমরা বুঝতে পারি, তাদের কেউই ওই প্লটের মালিক নন। এ ধরনের কিছু প্লট বেহাতও হয়ে গেছে। সেগুলো এখন আর উদ্ধার করা হয়তো সম্ভব নয়। অবশিষ্ট প্লটগুলো কিভাবে রক্ষা করা যায়, সে চেষ্টাই করছে রাজউক।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজউকের এক কর্মকর্তা ইত্তেফাককে বলেন, বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে এ ধরনের ১৮টি প্লট ও বাড়ি পানির দামে রাজউক বিক্রি করে দেয়। এ ঘটনায় মামলা হলে রাজউকের তত্কালীন চেয়ারম্যান শহিদ আলমসহ ডজনখানেক কর্মকর্তা জেলে যান। এরপরও রাজউকের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী জাল দলিলকারীদের সহযোগিতা করে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। সরকারের উচ্চ মহল থেকেও এ ব্যাপারে তদবির আসছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গুলশানের ১৪ নম্বর রোডের ৪ নম্বর বাড়িটি প্রায় দুই বিঘা আয়তনের। এ প্লটের পশ্চিম অংশে রয়েছে একটি তিনতলা আবাসিক ভবন। সামনে এক বিঘার মতো জায়গা ফাঁকা। সেখানে শিশুদের জন্য পার্কের আঙ্গিকে খেলার উপকরণ। আশপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বাহারি ফুল ও ফলের গাছ। বাড়ির চারপাশে উঁচু সীমানা প্রাচীর। তত্কালীন ডিআইটি এ প্লটটি ফাতেমা জোহরাকে বরাদ্দ দিয়েছিল। রাজউকের নথিতেও জাল দলিল করে দখলদার হিসেবে ফাতেমা জোহরার নামটি আছে। তবে বাড়ির নিরাপত্তাকর্মী আকরাম জানান, বাড়িটি রংপুর এলাকার জাতীয় পার্টির নেতা করিম উদ্দিন ভরসার। তার পরিবার-পরিজন দীর্ঘদিন ধরে এখানেই বাস করছেন।

গুলশানের ১০৯ নম্বর রোডের ৪ নম্বর বাড়িটি প্রায় দুই বিঘার প্লটে ছিমছাম একটি ডুপ্লেক্স ভবন। সামনে ফুলের বাগান। ফটকের পাশের দেয়ালে লেখা দারুল ইমাম। রাজউকের নথিতে এ প্লটের আগের বরাদ্দপ্রাপ্ত ও দখলকারী হিসাবে মো. শাহাবুদ্দিনের নাম রয়েছে।

গুলশানের ১১ নম্বর রোডের ৩ নম্বর প্লটের আয়তন অন্তত এক বিঘা। ভেতরে কিছু ঘরবাড়ি। আর বেশকিছু প্রাইভেট কার পরিত্যক্ত পড়ে আছে। ঘরবাড়িতে বসবাস করছেন শাহজাহান বেপারীসহ চার-পাঁচজন। শাহজাহান বেপারী ইত্তেফাককে বলেন, বাড়িটি সরকারি। কিন্তু সরকারের দখলে নেই। অন্য লোকেরা দেখাশোনা করার জন্য তাকে চাকরি ও থাকতে দিয়েছেন। আর গুলশান থানায় গাড়ি রাখার জায়গা নেই বলে আটক করা গাড়িগুলো এখানে রাখা হয়েছে। রাজউকের নথিতে জায়গাটির মালিক ও জাল দলিলকারীর নাম সৈয়দ আহমেদ হাসমী।

বনানীর ব্লক জি-৩, রোড-৭, বাড়ি ৩১-এ গিয়ে দেখা যায়, চারপাশে সীমানা প্রাচীর দেয়া বাড়িটির ফটকের একাংশের সামনে ইয়াকুব নামের এক ব্যক্তি পান-চা-সিগারেটের দোকান বসিয়েছেন। ভেতরে টিনশেড একটি ঘরে মমতাজ মিয়া সপরিবারে বসবাস করেন। আরেক অংশ ভাড়া দেয়া হয়েছে একটি পানীয় কোম্পানির কাছে। তারা সেখানে বোতল রাখার গুদাম বানিয়েছে। ইয়াকুব জানান, বাড়ির মালিক একজন সুফি। তিনি এখানে খানকা শরিফ বানাবেন। তার হয়ে দেখাশোনা করেন মমতাজ মিয়া। তিনি ইত্তেফাককে বলেন, অনেকদিন আগে মাওলানা শামসুল হকের মাধ্যমে জায়গাটা কেনা হয়েছিল খানকা শরিফ নির্মাণের জন্য। শিগগিরই ওই জায়গায় খানকা শরিফের নির্মাণ কাজ শুরু হবে। রাজউকের তালিকায় এ জায়গাটির মালিক ও জাল দলিলকারী হিসাবে নাম আছে সাইদ নূরুল গনির।

রাজউকের তালিকা

রাজউকের তৈরি গুলশান-বনানী ও বিভিন্ন এলাকার বিতর্কিত নথির তালিকায় আছে গুলশানের ৯৩ রোডের ১৫/সি প্লটটি। এটি জাল দলিল করে দখল করেছেন এম এম জলিল খান, ৯৬/৯৩ রোডের ১৯ নম্বর প্লট দখল করেছেন মো. ওহীদুল নবী। একইভাবে রোড ১০১/১০৩, প্লট ১৩ নেছার মোহাম্মদ খান, রোড ১০৮, প্লট ১৪ টি এ খান, রোড ১০৮/১১২, প্লট ১ আরিফুল হাসান, রোড ১০৯, প্লট ৪ মো. শাহাবুদ্দিন, রোড ১১৫, প্লট ১০ হারুন নেছা, রোড ১১৬, প্লট ৯ বিলকিস বানু, রোড ১১৭/গ, প্লট ৮০ নীঘাত পারভিন, রোড ৪৯/ক প্লট ১ আসাদুজ্জামান ও শওকত আলী চৌধুরী, রোড ৪৯ প্লট ১ এস এম এ তাকী ও শাহীন কোরাইশী, রোড ৪৭/৪৮, প্লট ২ রৌশন আরা বেগম, রোড ৪১, প্লট ৬ হাবিব সুলতানা জায়েদী, রোড ৪৪, প্লট ৩০/এ মোক্তার আহম্মদ আনসারী, রোড ৪৪/গ, প্লট ৩০/এ হোসনে আরা বেগম, রোড ৪৫/গ, প্লট ১১৩ এস কে রেজা চৌধুরী, রোড গ, প্লট ১০৫ মুস্তারী বেগম, রোড গ, প্লট ৭৯ আবদুল্লাহ ভাই, রোড ১৬/২১, প্লট ৬ শামসুল হক, রোড ৩, প্লট ৭২ মো. কেরামত আলী, রোড ৭১/৭৪, প্লট ৯ ইউসুফ আলী খান, রোড ৮৭, প্লট ৪ নম্বর এম এ ছাত্তার, রোড ৫৯, প্লট ১৯ হাফিজা বেগম, রোড ৫৪, প্লট ১৩ আবদুল মালেক, রোড ৫৩, প্লট ১২ মাহবুব আনাম, রোড ৫০, প্লট ১৯ মোস্তফা হায়দার, রোড গ-১১, প্লট ৩৫ আফসার উদ্দিন, রোড ১১, প্লট ৩ সৈয়দ আহমেদ হাসমী, রোড ১৪, প্লট ৪ নম্বর ফাতেমা জোহরা, রোড ২/১, প্লট ২ রওশন আরা বেগম গং ও রোড ৪৬/৫২, প্লট ২৭ নম্বর মো. নাঈম জাল দলিল করে দখল করেছেন।

বনানীর সি-ব্লকের ৬ নম্বর সড়কের ৬ নম্বর বাড়ি জাল দলিল করে দখল করেছেন মো. নেহাল উদ্দিন। ডি-ব্লকের ১৩ নম্বর রোডের ২৫ নম্বর বাড়ি জাল দলিল করে দখল করেছেন আবসার আলম ওসমানী, ই-ব্লকের ১৭/এ, ১২ নম্বর সড়কের ১২ নম্বর বাড়ি মো. আইয়ুব আনসারী, আই-ব্লকের ৩ নম্বর রোডের ২৮ নম্বর বাড়ি ওয়াহিদুর রহমান, জি-ব্লকের ৭ নম্বর রোডের ৩১ নম্বর বাড়ি সাইদ নূরুল গনি।

এছাড়া ২২ দিলকুশার প্লট জাল দলিল করে দখল করেছেন আবদুল জলিল ও ৫৪ মহাখালীর প্লটটি জাল দলিল করে দখলে রেখেছে ইউনাইটেড ট্রেডিং করপোরেশন। একইভাবে দিলকুশা বাণিজ্যিক এলাকায় ১ বিঘা ১৭ কাঠা আয়তন বিশিষ্ট ৩৭ নং প্লটটি হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে একটি চক্র। রাজউকের এ তালিকার শেষে বিশেষ দ্রষ্টব্য দিয়ে লেখা উপরোক্ত প্লটগুলোর লিজ গ্রহীতারা পাকিস্তানের নাগরিক। বর্তমানে বিভিন্ন ব্যক্তি উক্ত নাম ধারণ করে প্লটগুলো হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে।

রাজউকের বেহাত হওয়া অন্যান্য প্লট হচ্ছে সিইএন (এ) ১৫/সি, রোড ৯৩, পরিমাণ ৬ কাঠা, সিইএন (বি) ১৭, রোড-৯৯, পরিমাণ ১৮ কাঠা ১২ ছটাক, সিইএন (ডি) ২০, রোড ১০১/১০৩, পরিমাণ ২০ কাঠা ১০ ছটাক, সিইএন (জি) ১৬/বি, রোড-১০৮/১১২, পরিমাণ ১৫ কাঠা ১০ ছটাক, সিইএন (এইচ) ৪, রোড ১০৯, পরিমাণ ১৩ কাঠা ৬ ছটাক, সিইএন (এইচ) ৩২, রোড ১১৫, পরিমাণ-১৪ কাঠা ১ ছটাক, সিইএস (এ) ৪৭, রোড ১১৬, পরিমাণ ১৩ কাঠা ১০ ছটাক, সিইএস (এফ) ২ রোড বি/এ গুলশান এভিনিউ, পরিমাণ ১৯ কাঠা ৮ ছটাক, সিডব্লিউএন (এ) ০১ রোড ৪৯/কেএ পরিমাণ ২৭ কাঠা ৮ ছটাক, সিডব্লিউএন (এ) ২, রোড-৪৯, পরিমাণ ২১ কাঠা ৯ ছটাক, সিডব্লিউএন (এ) ১৮/৬/৫, রোড ৪৭/৪৮, পরিমাণ ১৯ কাঠা ১৩ ছটাক, সিডব্লিউএন (এ) ৪৩, রোড ৪১, পরিমাণ ১৭ কাঠা ১২ ছটাক, সিডব্লিউএন (বি) ৬, রোড ৪৪, পরিমাণ ৯ কাঠা ১৫ ছটাক, সিডব্লিউএন (বি) ২৮, রোড ৪৪, গুলশান এভিনিউ, পরিমাণ ১৩ কাঠা, সিডব্লিউএন (বি) ৩৪, রোড-গুলশান এভিনিউ, পরিমাণ ১৯ কাঠা ৪ ছটাক, সিডব্লিউএন (সি) ৩, রোড-গুলশান এভিনিউ, পরিমাণ ১৮ কাঠা ১২ ছটাক, সিডব্লিউএন (এ) ৮, রোড-গুলশান এভিনিউ, পরিমাণ ১৯ কাঠা ৮ ছটাক, সিডব্লিউএন (সি) ৫, রোড ১৬/২১, পরিমাণ ২৫ কাঠা, এনই (বি) ১/এ, রোড ৭১/৭৪, পরিমাণ ৩৯ কাঠা ৩ ছটাক, এনই (এস) ৪, রোড ৮৭, পরিমাণ ৮ কাঠা ১২ ছটাক, এনডব্লিউ (ই) ২ রোড ৫৯, পরিমাণ ১৭ কাঠা ১২ ছটাক, (এনডব্লিউআই) ৩ রোড ৫৩, পরিমাণ ২৪ কাঠা ৮ ছটাক, এনডব্লিউ (কে) ১১ রোড ৫০, পরিমাণ ১৮ কাঠা ১২ ছটাক, এসডব্লিউ (এ) ২৯, রোড ১১, গুলশান এভিনিউ, পরিমাণ ১৭ কাঠা ৮ ছটাক, এসডব্লিউ (এ) ৩০, রোড-১১, গুলশান এভিনিউ, পরিমাণ ১১ কাঠা ১২ ছটাক, এসডব্লিউ (সি) ১৩, রোড ১৪, পরিমাণ ১২ কাঠা ৩ ছটাক, এসডব্লিউ (এইচ) ৭, রোড ২/১, পরিমাণ ২০ কাঠা ১০ ছটাক, জিএনসি (এ) ৪৫, রোড ৪৬/৫২, পরিমাণ ৬ কাঠা ১৪ ছটাক, সিএনডব্লিউ (বি) ৩৪, পরিমাণ ১৪ কাঠা, এসডব্লিউ (সি) ১৩, পরিমাণ ১২ কাঠা ৯ ছটাক, এনডব্লিউ (স) ১ বিঘা ১ ছটাক, সিডব্লিউএন (বি) ৩, পরিমাণ ১১ কাঠা ২ ছটাক, সিডব্লিউএন (এ) ১, পরিমাণ ১ বিঘা ২ ছটাক, সিইএস (এ) ৪৭, পরিমাণ ১৭ কাঠা ১১ শতাংশ, সিডব্লিউএন (সি) ৩, পরিমাণ ১ বিঘা ২ শতাংশ, সিডব্লিউএন (বি) ১-এ, পরিমাণ ১ বিঘা ১৯ শতাংশ, সিডব্লিউএন (এ) ২, পরিমাণ ১ বিঘা ২ শতাংশ।
Add a comment...
Wait while more posts are being loaded