Profile

Cover photo
md.riyaz uddin khan
16 followers|4,580 views
AboutPostsPhotosVideos

Stream

md.riyaz uddin khan

commented on a video on YouTube.
Shared publicly  - 
 
কেমন আছেন ভাইয়া আমি নতুন আমি আপনার এই java programming লিখতেছি আমার জন্য দোয়া করবেন ভাইয়া
 ·  Translate
1
Add a comment...

md.riyaz uddin khan

Shared publicly  - 
 

ইসলামী জীবন যাপনের মধ্যেই প্রকৃত শান্তি সোহরাওয়ার্দী শুভ



মাথায় টুপি, মুখে দাঁড়ি পরনে পায়জামা পাঞ্জাবী, প্রথমে দেখা যে কেউ ভাববে হযতো কওমি মাদরাসার কোনো ছাত্র।
মাহমুদ বিন আলম www.muktoaoaz.com: মাথায় টুপি, মুখে দাঁড়ি পরনে পায়জামা পাঞ্জাবী, প্রথমে দেখা যে কেউ ভাববে হযতো কওমি মাদরাসার কোনো ছাত্র। কিন্তু না! তিনি বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের গর্বিত সদস্য মোঃ সোহরাওয়ার্দী শুভ। ইসলামী জীবন গড়ার ক্ষেত্রে যিনি এখন অনেক ক্রিকেটারের আইডল। নিজে ইসলামি হুকুম আহকাম মেনে চলার পাশাপাশি অন্য ক্রিকেটারদেরকেও ইসলামি হুকুম আহকাম মেনে চলতে উদ্বুদ্ধ করছেন তিনি। জীবনে এই পরিবর্তনকে তিনি দেখছেন আল্লাহর এক বিরাট রহমত হিসেবে। তিনি বলেন, আল্লাহর রহমত ব্যতিত এই পরিবর্তন কখনো সম্ভব নয়।
সোহরাওয়ার্দী এমন একজন ক্রিকেটার যিনি একটু সময় পেলেই সতীর্তদের নিয়ে হাসি আর আড্ডায় মেতে ওঠতেন। সময় পেলেই বন্ধুদেরকে নিয়ে আসর জমিয়ে তুলতেন। তিনিই এখন একটু সুযোগ পেলেই সাথিদেরকে ইসলামের কথা বলেন। সময় পেলেই বেড়িয়ে পরেন দাওয়াত ও তাবলিগের মেহনত নিয়ে। মানুষের দারে দারে গিয়ে তাদেরকে আল্লাহমুখী মসজিদমুখী হওয়ার দাওয়াত দেন। ইতিমধ্যে চিল্লাহ দিয়েছেন। বাইতুল্লাহর তাওয়াফও সেরে এসেছেন বছর কয়েক আগে। ইসলামী জীবন যাপন সম্পর্কে তিনি বলেন, নিয়ম তান্ত্রিক ইসলামি জীবন যাপনের মধ্যেই প্রকৃত শান্তি এবং নিরাপত্তা রয়েছে।
তার দাঁড়ি টুপি, ইসলামি জীবন-যাপন অনেকে বাকা চোখে দেখলেও তিনি এটাকে অন্তরায় হিসেবে দেখেন না। তিনি বলেন, কে কি বলে বলুক আমাকে তো আল্লাহকে খুশি করতে হবে। তাই আমি আমার মতো করে ইসলাম পালন করে যাচ্ছি। তিনি নিজে ইসলামি অনুশাসন মানার পাশাপাশি অন্যকেও এর দাওয়াত দেন এবং ইসলাম নিয়ে পরস্পর আলোচনা করেন। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, আমরা প্রায় সময় মাঠে জামাতে নামাজ পড়ি। এবং অনেকে এখন নিয়মিত নামাজ পড়ে। মুক্ত আওয়াজকে এভাবেই নিজের ইসলামি জীবন যাপনের কথা জানালেন মোঃ সোহরাওয়ার্দী শুভ। পাঠক! আগামী সংখ্যায় পড়–ন সোহরাওয়ার্দী শুভর বিস্তারিত সাক্ষাৎকার।

 ·  Translate
1
Add a comment...

md.riyaz uddin khan

Shared publicly  - 
 
টাঙ্গাইলে মহানবী সম্পর্কে কটূক্তি প্রতিবাদে বিক্ষোভ

টাঙ্গাইলের গোপালপুরে মহানবী হযরত মুহাম্মদ সা. এর চরিত্র সর্ম্পকে কটূক্তি করায় বিক্ষোভ মিছিল ও কটূক্তিকারীর দোকান ভাঙচুর করেছে বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসি। গোপালপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা : টাঙ্গাইলের গোপালপুরে মহানবী হযরত মুহাম্মদ সা. এর চরিত্র সর্ম্পকে কটূক্তি করায় বিক্ষোভ মিছিল ও কটূক্তিকারীর দোকান ভাঙচুর করেছে বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসি। ২৯ মে রোববার বিকেলে ঘটনাটি ঘটেছে গোপালপুর পৌরশহরের ডুবাইল গ্রামে। ঘটনায় ফুঁসে উঠেছে পুরো উপজেলাবাসী। গত ৭ মে সোমবার সকালে কটূক্তিকারী নিখিল জোয়ার্দার বাবুকে গ্রেফতার করেছে গোপালপুর থানা পুলিশ। তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল অব্যহৃত রয়েছে।
রোববার রাতে সরেজমিনে ওই এলাকায় গেলে ডুবাইল বাজার এলাকার মো. আব্দুল খালেকের পুত্র ও ডুবাইল ইমাম বাড়ি দাখিল মাদরাসা হতে চলতি বছরে দাখিল পরীক্ষায় অংশ গ্রহণকারি ফেরদৌস আহাম্মেদ সোহাগ (১৭) এবং তার সহপাঠি মো. আব্দুল মালেকের পুত্র আব্দুস সালাম মুন্সি (১৭) অভিযোগ করেন, তারা পরীক্ষা শেষে তাবলিগ জামাতে ৪০দিন সময় লাগিয়ে গ্রামে ফিরেছেন। দুই বন্ধু শনিবার আছর নামাজ শেষে বাজারের চাঁন মিঞার মনোহরি দোকানের সামনের মাচায় বসে গল্প করছিল। এসময় গ্রামের মৃত অনিলকান্ত জোয়ার্দারের কাপড় ব্যবসায়ি পুত্র নিখিল জোয়ার্দার বাবু (৫০) এসে তাদেরকে টুপি পড়া ও দাঁড়ি রাখা নিয়ে নানা ধরণের প্রশ্ন করে। এ সময় তারা মুসলমানদের দাঁড়ি রাখা ও টুপি পড়া একটি সুন্নত কাজ এবং এটি মহানবী হযরত মুহাম্মদ সা. নিজে করতেন বলে তাকে জানান। কথা শুনে মহানবী হযরত মুহাম্মদ সা. ও মুসলমানদের দাঁড়ির সঙ্গে ছাগলের দাড়ির তুলনা করে নানা কটূক্তি করে। পরে বিষয়টি তারা মুসল্লিদের জানালে নামাজে আগত কাবা রাইস প্রসেসিং এর শ্রমিক মো. সুজন মিঞা (৩০) অভিযোগ করেন, নিখিল জোয়ার্দার বাবু সুজনকে বলে মহানবী হযরত মুহাম্মদ সা. চরিত্রহীন ব্যক্তি ছিলেন। কোনো এক রাতে কোথাও যেনা করতে গিয়ে ধরা পড়েছিলেন। সেখানে তার লিঙ্গ কর্তন করে দেয়া হয়েছিল বলে মুসলমানেরা মুসলমানি (খাৎনা) করে। এ কথা শোনার পর এলাকাবাসির মধ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পরে এবং তারা বিক্ষোভ মিছিল করে অনিলের দর্জির দোকান ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে রাতেই গোপালপুর থানার এসআই দেওয়ান ইব্রাহিম ও এএসআই জহিরুল ইসলামের নেতৃত্বে গোপালপুর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং দোকানের মালামাল নিখিলের পরিবারের সদস্যদের নিকট বুঝিয়ে দেয়। ঘটনার দিনে সোমবার সকালে গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোসা. সুরাইয়া বেগম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পুলিশ অভিযুক্তকে সূতী কাঙ্গালদাস এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে।
গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোসা. সুরাইয়া বেগম জানান, ‘অভিযুক্ত নিখিল জোয়ার্দার বাবুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানায় তার বিরুদ্ধে পরদিনই গোপালপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-১১।’
গোপালপুর পৌর ইমাম পরিষদের সভাপতি মাওলানা আতাহার উদ্দিন বলেন, ‘উক্ত ঘটনায় আমরা ইমাম পরিষদের পক্ষ হতে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। ব্লাশফেমি আইন করে কটূক্তিকারিসহ ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানাসহ সকল অপরাধির দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দাবি করছি।’
উল্লেখ্য, উপজেলার আলমনগর ইউনিয়নের আলমনগর দক্ষিণপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ও ধানমন্ডি বয়েজ স্কুলের সহকারি প্রধান শিক্ষক মোদন মোহন একই ধরণের কটূক্তি করায় গত বছরের ১ আগষ্ট রাতে তার বাড়ি-ঘর ভাঙচুর করেছিল বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসি। এ ঘটনায় সর্বস্থরের আলেম ওলামাসহ ইসলাহুল মুসলিমিন পরিষদ এবং এলাকার সর্বস্তরের জনতা তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
 ·  Translate
1
Add a comment...

md.riyaz uddin khan

Shared publicly  - 
 
fইসলাম রক্ষার দাবিতে ইসলামপন্থীদের ঐক্যে বাধা কোথায়?

ইসলামের বারোটা বাজানোর সকল আয়োজন সম্পন্ন করেছে সরকার। কিন্তু নির্বিকার ইসলামের ঝান্ডাবাহী আলেম সমাজ।:


ইসলামের বারোটা বাজানোর সকল আয়োজন সম্পন্ন করেছে সরকার। কিন্তু নির্বিকার ইসলামের ঝান্ডাবাহী আলেম সমাজ। ইসলাম প্রিয় জনতার আবেদন আকুতি যেমন তাদের কাছে মূল্যহীন। তেমনি রক্তের মাঝেও নেই কোনো স্ফুরণ। এজেন্ডা মত একের পর এক ইসলাম বিরোধী নীতি প্রণয়ন করছে সরকার। নারী নীতি, শিক্ষানীতি, রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দিয়ে সব শেষে আন্তঃধর্ম বিয়ে আইন করে সরকার বুঝিয়ে দিল তাদের কর্মে বাধা দেয়ার ক্ষমতা কারো নেই। সরকারের মধ্যকার বামপন্থী মন্ত্রী এম.পিরা দেশকে সমাজতন্ত্রের চাদরে মোড়াতে ইসলামকে যেভাবে বুর্জুয়া, ধর্মান্ধ বলে বিতাড়নের পরিকল্পনা হচ্ছে, সবটাই সরকার সানন্দে সাধন করে দিচ্ছে।
সরকারের এহেন কর্মের প্রতিবাদে কী করা প্রয়োজন ছিল ইসলামপন্থীদের? তারা কি তা করতে পেরেছেন বা সে পরিকল্পনায় সংঘবদ্ধ হয়েছেন! কোনোটিই হয়নি, উল্টো মুসলমানদের যেখানে সর্বদা ঐক্যবদ্ধ শিষাঢালা প্রাচীরের মত থাকার কথা, সেখানে ইসলামপন্থী দলগুলো তসবির দানার মত বহু মত-পথে বিভক্ত। ইসলাম কায়েম না হোক অন্তত যেটুকু ধর্মকর্ম পালন করে এদেশের মানুষ নিজেদের ঈমান আকিদা নিয়ে বসবাস করছে তা রক্ষারও কোনো সু-পরিকল্পিত উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে জনমনে ব্যাপক হতাশার সাথে একটি প্রশ্ন বার বার আসছে, ইসলাম রক্ষার দাবিতে ইসলামপন্থীদের ঐক্যে বাধা কোথায়?
ঐক্যের ওয়াজ সবাই করে। সভা সেমিনার ও আলোচনার টেবিলে এ নীতি বাক্যটি ব্যাপক জনপ্রিয়। বক্তব্যের মাঠে তো এটা না হলে বক্তব্যই জমে না। কিন্তু নেই শুধু বাস্তবায়ন। ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর ভাবসাব দেখলে মনে হয়, অনেকটা যেন সবার ওপরে রাজনীতিই মুখ্য। প্রয়োজনে যে কোনো শর্তে তাগুতের সাথে আপোস করা যাবে। এবং তাকে কুরআন-সুন্নাহর কষ্টি পাথরে জায়েজ করতে গবেষণাও চলবে, মাগার নিজেরা ঐক্যবদ্ধ হওয়া যাবে না। অথবা এমন কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা যাবে না যাতে দলের স্বার্থের ব্যঘাত ঘটে। বস্তুবাদী রাজনীতির যেমন দর্শন সবার ওপরে দেশ, তারপর দল, এরপর জনগণ। আমাদের অবস্থাও তাই। এ ক্ষেত্রে অনেকে বলে আমাদের নিজস্ব গঠনতন্ত্র বা সংবিধান মত তো চলতে হবে। নতুবা তো দল থাকবে না। কিন্তু জাতির জিজ্ঞাসা ইসলাম না থাকলে আপনার দল থেকে লাভ কী। কী-ই বা হবে এদেশে বাস করে?এখন বড় প্রশ্ন কে নিবে এ মহান উদ্যোগ? সবাই নিলে তো বাস্তবতার মুখ দেখবে না। কারণ ঐক্যবদ্ধ হওয়ার যে মৌলিক প্রয়োজন তাও সবার কাছে সমানভাবে উপলব্ধিতে নেই। যারা রাজনীতি বিমুখ আলেম তারা মনে করেন আমাদের কাজ মসজিদ মাদরাসা রক্ষা করা যতক্ষণ না আমাদের এরিয়ায় কোনো ধরনের সমস্যা না আসে ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের কথা বলা যাবে না। আর এ ধরনের ঐক্য রাজনীতিবিদদের কাজ। আলহামদুলিল্লাহ আমরা এর সাথে নেই। এমন আলেমে দীনদের সংখ্যাও কম নয় যেমন ফকিহে মিল্লাত, শায়খুল ইসলাম, খতিবে জমান, তবিবে উম্মত এরা রাজনীতি তো করেই না রাজনীতিবিদরা যে রাস্তায় হাঁটেন পারতপক্ষে সেখান দিয়ে না হাঁটার চেষ্টা করেন। আর যারা রাজনীতি করে তারা বলেন এটা তো দলের শুরা বা নীতি নির্ধারকদের সিদ্ধান্ত। যতক্ষণ না দলীয় প্রধানের ইচ্ছা না হবে অথবা শরহে সদর না হবে ততক্ষণ বলা যাবে না। এ পরিস্থিতির কারণে বিড়ালের গলায় ঘন্টা বাঁধা যায় না। যারা দুর্বল তারা যেমন তাদের দুর্বলতা নিয়ে নামসর্বস্ব প্রতিবাদ আর হালুয়া রুটির ভাগের আশায় ব্যস্ত। এমনি যারা সবল তারা নিজেদের কর্তত্ব রক্ষার অন্ধ অহমিকায় দর হাকানোর কর্মসূচিতে লিপ্ত। তাদের ধারণা কাদের নিয়ে ঐক্য করব, আমাদের চেয়ে বড় কে আছে। লোক নেই বল নেই শুধু শুধু ভাগ দেয়ার কী প্রয়োজন? জনতার জিজ্ঞাসা কত দিন চলবে আপনাদের এ নিজস্বার্থ চিন্তা।
জাতীয় রাজনীতির করুণ ক্রান্তিকাল। বস্তুবাদী রাজনীতির সকল ময়লা আবর্জনায় দেশ নোংরা রাজনীতিতে নিমজ্জিত। ক্ষমতার অপব্যবহার ও পরিবার তন্ত্রের বিষবৃক্ষ দেশকে হাড্ডিসার কঙ্কালে পরিণত করেছে। সুশীল সমাজ কুশীল সমাজ সবাই দুই রাজনীতিক দলের চাটুকারিতে ব্যস্ত। দেশের অর্থনীতির চাকা শুধু মন্থরই নয় রীতিমত সবগুলো পাংচার। বাংলাদেশ নামাক গাড়িটি এখন তার কাঙ্খিত সে রাজ পথে নেই। পড়ে আছে বিকল হয়ে মাঝপথে। সেখান খেকে উদ্ধার করার কোনো তৎপরতা তো নেই বরং জায়গাতেই কী করে তাকে লুটে নেয়া যায় অনেকটা সে আয়োজন। বিদেশি শকুনগুলোরও হায়ে না দৃষ্টি স্পষ্ট। কারণ বাংলাদেশকে কব্জায় নিতে পারলে দুই সুবিধা। এক. ভূ রাজনীতিতে সা¤্রাজ্যবাদের নতুন রোড তৈরি, দুই. ইসলাম নামক যে অনিবার্য সভ্যতা ধেয়ে আসছে তার প্রতিরোধ। যে দেশে নূন আনতে পান্তা ফুরায় সে দেশে ভিভিআইপিদের এমন আতিথিয়তা যেন বলে দেয় আমাদের স্বাধীনতা শুধু মোসাহেবদের পদলেহন করে আজ্ঞাবহ জাতি হিসেবে বেঁচে থাকা।
যে জাতির রক্তে বহমান ঈমানের তপ্ত শিখা। যে শক্তির কাছে দুনিয়ার সকল শক্তি পরাজিত। তাদের এমন অসহায় আত্মসমর্পণ নিজেদের দুর্বলতা ছাড়া কিছুই নয়। এখনো এদেশের ইসলামপ্রিয় জনতা জানে না কেন ঐক্যবদ্ধ হতে পারে না তাদের চালিকা শক্তি আলেম সমাজ। সবার রাজনীতির উৎস যদি ইসলাম হয় আল্লাহর সন্তুষ্টিই যদি মুখ্য হয় তাহলে কেন এমন বিচ্ছিন্নতা। ইসলাম যদি সত্য ধর্মই হয় তাহলে ইসলাম এখানে কেন এত নির্যাতিত, অবহেলিত। ৯০% মানুষের বিশ্বাস যেখানে ইসলামের মন্ত্রে সিক্ত সেখানে কোন শক্তিতে ইসলাম বিদ্বেষীরা তাদের ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করে? কাদের প্রশ্রয়ে ধর্মহীন দাদা বাবুদের এমন আষ্ফালন। একের পর এক ধর্মীয় নীতির ওপর চপেটাঘাত।
কেউ কেউ রসিকতা করে বলে, ইসলাম পন্থীরা এ জন্য ঐক্যবদ্ধ হয় না কারণ তারা ঐক্যবদ্ধ হলে যদি ইসলাম কায়েম হয়ে যায়।
আহলে সুন্নত ওয়াল জমায়াত নামে নতুন একটি সংগঠন সেদিন ইঞ্জিনিয়ার্স ইনষ্টিটিউটে জাতীয় সেমিনারের আয়োজন করেছে। সেখানে প্রধান অতিথি বর্তমান দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তি আল্লামা আহমদ শফি বলেছেন, সকল বিবেধ ভুলে এখন ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। স্টেজে অনেক আলেমই উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু প্রশ্ন জাগে? তাদের কানে কি এই মুরুব্বির আবেদনটি গিয়েছে? যদি ঐক্যবদ্ধ হওয়ার অর্থ এমন হয় যে, আমার সব ঠিক থাকবে আর অন্যদের সব মতবাদ দিয়ে আমাদের নেতৃত্ব মেনে নিবে তাহলে তো এ সোনার হরিণ কোনো দিন ধরা যাবে না।
ইসলামী ঐক্যজোট নামে একটি জোট এখনো মানুষের কাছে পরিচিত। যার বর্তমান নেতৃত্বে আছে মুফতী ফজলুল হক আমিনী। ২০০০ সালে তৎকালীন আওয়ামী সরকারের নানান ইসলাম ও দেশ বিরোধী কর্মকাণ্ডের প্রতিরোধে দেশসেরা শায়খুল হাদিস ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর আল্লামা আজিজুল হক এর নেতৃত্বে ইসলামী ঐক্যজোট বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ আন্দোলন শুরু করেন। অভিজ্ঞ মহল একথা মানতে ভুল করবে না যে, তখন আওয়ামী সরকারের পতন হয়েছে হুজুরদের আন্দোলনে। এজন্য শায়খুল হাদিসসহ তার অনুসারীদের জেল জুলুম শাহাদাতের মত কঠিন পরীক্ষায় অবতীর্ণ হতে হয়েছে। কিন্তু চারদলীয় জোটের ক্ষমতা গ্রহণের পর সেই ইসলামী ঐক্যজোট, শায়খুল হাদিস ও দেশের হক্কানি ওলামায়ে কেরাম আশানুরুপ কিছুই অদায় করতে পারেনি। বরং ক্ষমতা ও মন্ত্রীত্ব পাওয়ার লালসায় সারা দেশের মানুষের কাছে পরিচিত ইসলামী ঐক্যজোটকে বিভক্ত করা হয়েছে। কালক্রমে পাঁচখন্ডে রুপ নেয় ঐক্যজোট।
সত্যিকারার্থে মূল্যায়ন করতে গেলে সেই দেশ কাঁপানো জোট এখন আছে বলে কেউ দাবি করবে না। তেমনি আলেমদের সেই স্পৃহাও এখন আর নেই। বরং আলেম সমাজই প্রকাশ্যে অপ্রকাশ্যে দুই দলের তল্পিবাহক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বরং ইতোমধ্যে পরিলক্ষিত হয়েছে যখনই কোনো আন্দোলন গজিয়ে ওঠে তখনই সরকার একশ্রেণীর আলেমদের বিশেষ দায়িত্ব দিয়ে মাঠে নামিয়ে ইসলাম কায়েম করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে দেয়। বাহবাহ ও মারহাবা প্রতিধ্বনি দিয়ে ইতি টানা হয় আন্দোলন। কাজের কাজে কিছুই হয় না হয় কিছু সাধারণ ছাত্র ও জনতার রক্ত ঝরানো, হামলা-মামলা ইত্যাদি। বিনিময়ে মুষ্ঠিমেয় কিছু লোকের হালুয়া রুটির রোজগার। যে জন্য সাধারণ ধর্মপ্রাণ জনতা ও ছাত্ররাও এখন বিশ্বাস নিয়ে কারও কারও ডাকে সাড়া দিচ্ছে না। তারা মনে করে তাদের মাথা বিক্রি করে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল তাদের পকেট ভর্তি করবে।
পীর মুরিদি তরিকায় বর্তমানে ইসলামী আন্দোলনের দিকে মানুষের দৃষ্টি আছে। বাংলাদেশে ঐতিহ্যগতভাবে ফিরাকি ময়দান যথেষ্ঠ উর্বর। তাই তাদের শক্তি সামর্থ অদূর ভবিষ্যতে আরও বাড়বে এটাই স্বাভাবিক। যে কারণে তারা এ মুহূর্তে একটি কার্যকর ঐক্যের উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারলে ফলপ্রসু হবে বলে অনেকে মনে করেন। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে অন্যান্য ইসলামি দলগুলোর নেতারা বলেন, তাদের যে অবস্থান এতে তারা কাউকে পাত্তা দিয়ে ঐক্যবদ্ধ হবে এমনটা বুঝা যায় না। অন্য দিকে নেতৃত্বের দিক থেকে তাদের যে জুনিয়রিটি তাও তারা ছাড় দিবে না। তাই ইসলামপন্থীরা তাদের নিয়ে বৃহৎ কোনো ঐক্য আশা করতে পারে না।
ইহুদিরা তাদের আলেমদের ঐক্যবদ্ধ করার জন্য যে চরম পন্থা অবলম্বন করেছে। হয়তো আমাদের তা আদর্শ হবে না। তবে যেদিন এদেশের ধর্মপ্রাণ জনতা বুঝবে যে ইহুদি আলেমদের মত আমাদেরও কিছু আলেমদের কারণে ইসলামের ক্ষতি হচ্ছে। ইসলাম বিদ্বেষী সরকার লাভবান হচ্ছে। বা মাদরাসা মক্তব ধ্বংস হচ্ছে। সেদিন সেই মাসআলা বাস্তবায়ন হবে যে রকম ফেতনা সৃস্টিকারী আলেম বা নেতার ক্ষেত্রে করা হয়। দয়া করে আপনারা এক কাতারে বসুন। রাজনীতির মাঠ প্রয়োজনে ভিন্ন থাক আন্ত ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে ইখতিলাফ না করে ইত্তেফাক হোন। দুনিয়ার কুফরি শক্তিগুলো যদি তাদের স্বার্থে জোটবদ্ধ হয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে মুসলমানদের বিরুদ্ধে আগ্রাসন চালাতে পারে। আল্লাহর কুরআনের আইন বদলাতে পারে আমরা কেন পারবো না নিজেদের রক্ষা করতে। ঐক্যবদ্ধ হতে। অন্যথায় আল্লাহর ও তার দীনের কিছুই হবে বরং আল্লাহ তার অন্য কোনো সম্প্রদায় দিয়ে তার দীন হেফাজত করবে তবে একজন ধর্মীয় নেতা বা আলেম হিসেবে দুনিয়ার জিল্লতি ও পরকালীন কঠিন আযাবই হবে সবার ঠিকানা।


মুহাম্মদ আবু সাঈদ নোমান
 ·  Translate
1
Add a comment...

md.riyaz uddin khan

Shared publicly  - 
 
মধ্যপ্রাচ্যে ইসলামের উত্থানে পশ্চিমারা আতঙ্কিত :ইরান



ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রমিন মেহমানপারাস্ত বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইসলামপন্থী দলগুলোর একের পর এক বিজয়ে পাশ্চাত্য ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছে।
তেহরানের মেহরাবাদ বিমান বন্দরে লন্ডন ফেরত ইরানি কূটনীতিকদের স্বাগত জানাতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেছেন।
তিনি বলেন, ইসলামপন্থীদের বিজয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে ভীতির সঞ্চার করেছে। তবে পাশ্চাত্য মধ্যপ্রাচ্যের জনগণের আন্দোলনকে লাইনচ্যুত করার যে ষড়যন্ত্র করছে, ইরান তা সফল হতে দেবে না।
তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের সম্পর্কে ফাটল সৃষ্টির জন্য পাশ্চাত্য ইরানভীতি ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে। তারা ইরানকে প্রধান হুমকি হিসেবে তুলে ধরছে।
ব্রিটেন থেকে ইরানি কূটনীতিকদের বহিস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইরানের সংসদে স্ক্রটেনের সঙ্গে সম্পর্ক শিথিল করার বিষয়ে যে বিল পাস হয়েছে, তার ভিত্তিতে ব্রিটিশ রাষ্টদূতকে ইরান ত্যাগ করতেই হত। এ অবস্থায় ব্রিটেন নিজের অপমান বুঝতে পেরে মঙ্গলবারের ছাত্র বিক্ষোভকে অজুহাত করে লন্ডনে ইরানি দূতাবাস বন্ধ করে দিয়েছে।
 ·  Translate
1
Add a comment...

md.riyaz uddin khan

Shared publicly  - 
 
গুয়ান্তানামো ফেরত এক মুসলিম বন্দির নির্মম কাহিনী ?


৯/১১ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র যতোটা না ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তারচে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সারা বিশ্বে মুসলিম সম্প্রদায়। এটা এই অর্থে যে, ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা তো বটেই সাধারণ মুসলমানরাও পড়েছে নিরাপত্তা হুমকিতে। শুধু সন্দেহের বশেই শত শত মুসলিম মার্কিন গোয়েন্দাদের শ্যেণ দৃষ্টিতে পড়েছে। অধিকাংশই অযথা হয়রানির শিকার হয়েছে। সন্ত্রাস দমনের নামে সবচে বিতর্কিত যে কাজটি যুক্তরাষ্ট্র করেছে তা হলো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই বিনা বিচারে দিনের পর দিন আটক রাখা। নির্যাতনের সুবিধার জন্য সুদূর কিউবাতে স্থাপিত গুয়ান্তানামো বে কারাগার এইসব ঘটনার সাক্ষী হয়ে এখনো আছে, থাকবেও চিরদিন।
গত কয়েক বছর ধরে বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার সংগঠন এবং সাধারণ মানুষের সমালোচনার মুখে কিছু কিছু বন্দিকে বিচারের আওতায় এনেছে যুক্তরাষ্ট্র। অনেকে এখনো বন্দি। তাদের কারো মামলা চলছে। ভাগ্যবান কেউ মুক্তি পেয়েছেন। এমনই একজন মুসলমান লাখদর বুমেদিয়েন ‘বুমেদিয়েন বনাম বুশ’ মামলার প্রধান বাদী। আমেরিকার সামরিক বন্দিশালা গুয়ান্তানামো বে’তে তিনি ২০০২ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত বিনা বিচারে আটক ছিলেন। তারই লেখা স্মৃতিচারণের কিছু অংশ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-
গুয়ান্তানামো বে’তে আমেরিকার বন্দিশিবিরের প্রথম সাতজন বন্দির মধ্যে আমিও একজন। আর আমাকে আটক করা হয়েছিল কোনো প্রকার ব্যাখ্যা এবং সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই। এই সময়টাতে আমার মেয়েরা বেড়ে উঠছে আমাকে ছাড়াই। তারা যখন দোলনায় তখন আমি বন্দিশালায়। এমনকি আমার সঙ্গে দেখা করা ফোনে কথা বলতেও দেওয়া হয়নি তাদের। আমি যে চিঠিগুলো লিখতাম তার বেশিরভাগই ফেরত আসত ‘অবিতরণযোগ্য’ বলে। পরিবার থেকে যে দু’একটা চিঠি আসত তাতে পুরোপুরি এবং অভাবনীয় রকমের কাটছাট করা হতো যাতে তাদের ভালবাসা ও সান্ত্বনার কথাগুলোর রেশমাত্র থাকত না।
বিদেশে কাজের সন্ধানে ১৯৯০ সালে আমি আলজেরিয়া ছাড়ি। ১৯৯৭ সালে আমার চাকরিদাতার নির্দেশে পরিবার নিয়ে বসনিয়া-হারজেগোভিনাতে চলে যাই। আমি কাজ করতাম সংযুক্ত আরব আমিরাতের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিতে। বলকান সহিংসতায় অভিভাবকহারা নিঃস্ব শিশুদের সাহায্যার্থে পরিচালিত মানবিক সাহায্য কর্মসূচির সারাজেভো কার্যালয়ের পরিচালক ছিলাম আমি। ১৯৯৮ সালে বসনিয়ার নাগরিকত্ব পাই। আমাদের একটা সুন্দর জীবন ছিল, কিন্তু ৯/১১ এর পর সব বদলে গেলো।
২০০১ সালের ১৯ অক্টোবর সকালে অফিসে গিয়ে দেখি একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা আমার জন্য অপেক্ষা করছে। কিছু প্রশ্ন জিজ্ঞেস করবেন বলে আমাকে তিনি ডেকে নিলেন। আমি স্বেচ্ছায় তার সব প্রশ্নের জবাব দিলাম। কিন্তু কি আশ্চর্য- এরপর আমাকে বলা হলো ‘আপনি বাসায় ফিরতে পারবেন না!’ অথচ যুক্তরাষ্ট্র তখন বলেছিল, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নাকি আমাকেসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে। মিডিয়াতে খবর বেরুলো- যুক্তরাষ্ট্রের দৃঢ় বিশ্বাস, আমি সারাজেভোতে মার্কিন দূতাবাস বোমা মেরে উড়িয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্র করছিলাম। আমি কখনই এমন চিন্তা করিনি- এক সেকেন্ডের জন্য- এই বিষয়টি বিবেচনা করুন।
আসল ব্যাপার হলো যুক্তরাষ্ট্র যে একটা বড় ভুল করছিল তা প্রথম থেকেই স্পষ্ট ছিল। বসনিয়ার উচ্চ আদালত আমেরিকার দাবির বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করেছে। তারা আমার বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ পায়নি এবং ছেড়ে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও আমাকে মুক্তি দেয়ার মুহূর্তেই আমেরিকার চরেরা আমাকে ও অপর পাঁচজনকে ধরে নিয়ে যায়। আমাদের গরু-ছাগলের মতো করে বেঁধে আমেরিকার নৌঘাঁটি গুয়ান্তানামোতে উড়িয়ে নেওয়া হলো। আমরা সেখানে পৌঁছলাম ২০০২ সালের ২০ জানুয়ারি।
তখনও আমেরিকানদের সুবিচারের প্রতি আমার বিশ্বাস ছিল। আমি বিশ্বাস করতাম আমার বন্দিকর্তা শিগগির তাদের ভুল বুঝতে পারবে এবং আমাকে ছেড়ে দেবে। কিন্তু যখন প্রশ্নকর্তাদের কোনো প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আমি সুযোগ পাচ্ছি না- কীভাবে আমি পারতাম- যখন আমি কোনো ভুলই করিনি? তারা দিনকে দিন আরো নিষ্ঠুর হতে লাগলো। টানা কয়েকদিন আমাকে ঘুমাতে দেয়া হতো না। কখনো টানা কয়েক ঘণ্টা কষ্টকর অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য করা হতো। এসব বিষয় আমি লিখতে চাই না। এসব ভয়ঙ্কর স্মৃতি আমি ভুলে যেতে চাই।
আমাকে কেন বন্দি করে রাখা হচ্ছে এ প্রশ্নের যখন জবাব পাচ্ছি না তখন আমি দুই বছরের অনশনে গেলাম। এই সময় তারা দিনে দুইবার আমার নাক দিয়ে গলা হয়ে পাকস্থলি পর্যন্ত পাইপ ঢুকিয়ে খাবার প্রবেশ করাতো। এটা ছিল তীব্র যন্ত্রণাদায়ক। কিন্তু আমি তো কোনো দোষ করিনি। আমি নিরপরাধ তাই আমি প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অটল থাকলাম।
অবশেষে, ২০০৮ সালে আমার ব্যাপারে সুষ্ঠু আইনি পদক্ষেপের দাবি আমেরিকার সর্বোচ্চ আদালতে গেল। আমার নামে একটি সিদ্ধান্ত এল। সুপ্রিমকোর্ট ঘোষণা দিলেন- যে কোনো সময় বা পরিস্থিতিতে আইন ও সংবিধান সমুন্নত থাকবে। কোর্ট রায় দেন, আমার মতো যারা বন্দি রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ যতোই গুরুতর হোক না কেন, আদালতে আসার অধিকার তাদের আছে। সুপ্রিমকোর্ট একটি মৌলিক সত্য স্বীকার করলেন, সরকার ভুল করেছে। আদালত আরও বললেন, একটা ভুলের কারণে কোনো ব্যক্তি প্রতিকূল সময় কাটাতে বাধ্য হতে পারে, হতে পারে এ সময়টা একটা প্রজন্ম পর্যন্ত বা তারও বেশি দীর্ঘ। এই ঝুঁকিটা এতোটাই গুরুত্বপূর্ণ যে উপেক্ষা করা যায় না।
এর পাঁচ মাস পরে ওয়াশিংটনে কেন্দ্রীয় জেলা কোর্টের বিচারক রিচার্ড জে লিওন আমাকে বন্দি রাখার কারণসমূহ পর্যালোচনা করেন। এরমধ্যে কিছু গোপন তথ্যও ছিল যা আমি আগে কখনো শুনিনি। বিচারকের সামনে শুনানির ঠিক আগ মুহূর্তে সরকার দূতাবাসে হামলার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ প্রত্যাহার করল। আদালত শুনানির পর আমাকে মুক্তি দেয়ার জন্য সরকারকে নির্দেশ দিলেন। বসনিয়াতে আটক অপর চারজনকেও ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হল।
গুয়ান্তানামোর একটি নোংরা কক্ষে ওই চারজনের সঙ্গে বসে আমি শুনছিলাম যখন একটা ঘরঘরে স্পিকারে বিচারক লিওন ওয়াশিংটন এজলাশ থেকে রায় পড়ে শুনাচ্ছিলেন। তিনি সকাতরে বলছিলেন, সরকার যেনো তার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল না করে। কারণ, একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের জবাব দেওয়ার জন্য তাদের সুযোগ পেতে সঠিক আইনি প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার মাঝখানে সাতটি বছর কেটে গেছে। আমার বিচারে এটা যথেষ্ট হয়েছে। সে দিনের স্মৃতি আমি কখনো ভুলতে পারব না। ১৫ মে, ২০০৯ সাল, আমি মুক্তি পেলাম।
এখন আমি স্ত্রী সন্তান নিয়ে প্রোভেন্সে বসবাস করি। ফ্রান্স সরকার আমাদের একটি বাড়ি দিয়েছে। আবার নতুন করে জীবন শুরু করেছি। আমাদের সেই ছোট্ট মেয়ে দু’টি এখন অনেক বড় হয়েছে। তাদের সঙ্গে নতুন করে পরিচিত হওয়ার সুখকর অভিজ্ঞতা হলো আমার। ২০১০ সালের আগস্টে আমি আমার শিশুপুত্র ইউসেফকে পেলাম। আমি এখন কারিগরি প্রশিক্ষণের আওতায় ড্রাইভিং শিখছি। নতুন করে জীবন গড়ছি। আমার আশা, আবার মানুষের সেবা করার সুযোগ পাব।
তবে যতোদূর সম্ভব, আমি যেহেতু গুয়ান্তানামোতে সাড়ে সাত বছর কাটিয়ে এসেছি সেহেতু খুব কম মানবাধিকার সংগঠনই আমাকে চাকরি দেওয়ার কথা ভাববে। আমি এখন আর গুয়ান্তানামো নিয়ে ভাবতে চাই না। সেই স্মৃতি শুধু বেদনার। কিন্তু আমার এই গল্প সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করছি কারণ এখনও সেখানে ১৭১ জন বন্দি মানবেতর জীবনযাপন করছে। তাদের মধ্যে একজন বেনকাসেম বেনসায়াহ। তাকেও আমার সঙ্গে বসনিয়া থেকে আটক করা হয়।
এখন প্রায় ৯০ জন বন্দিকে গুয়ান্তানামো থেকে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। এদের মধ্যে অনেকে আছেন সিরিয়া বা চীনের মতো দেশের- এখন যদি তাদের নিজ দেশে বা ইয়েমেনে পাঠানো হয় তাহলে তারা নির্যাতনের শিকার হতে পারে। কারণ যুক্তরাষ্ট্র এই দেশকে অস্থিতিশীল মনে করে। এবং তারা বন্দি থাকবে অনির্দিষ্টকাল; তারা বিপজ্জনক বা আমেরিকায় হামলা করবে এই কারণে নয়- কারণটা হলো গুয়ান্তানামোর দাগ তাদের শরীরে থাকার কারণে কেউ তাদের গ্রহণ করবে না, তাদের যাওয়ার জায়গা নেই। এমনকি আমেরিকাও তাদের একজনকেও মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দেবে না।
আমি বলেছি, আমার এই মামলা যেনো এখন আইন স্কুলগুলোতে পড়ানো হয়। এটাই হয়ত একসময় আমাকে অনেক শান্তি দেবে। কিন্তু যতোদিন গুয়ান্তানামো খোলা থাকবে এবং সেখানে নিরোপরাধ মানুষকে অন্যায়ভাবে আটকে রাখা হবে, সেই দুর্ভোগ আর অবিচারের কলঙ্কিত স্থানে যারা রয়েছেন তাদের জন্য আমার ভাবনাগুলো তোলা থাকবে।

নিউইয়র্ক টাইমস থেকে ভাষান্তর : জাহাঙ্গীর আলম
 ·  Translate
1
Add a comment...
In his circles
65 people
Have him in circles
16 people
Brodie Beta's profile photo
Muhammad Tasnim's profile photo
আসমা মণ্ডল's profile photo
Normando Flores's profile photo
Neil Richins's profile photo
anis islam's profile photo
abdollah Saiful's profile photo
A.M. JOY's profile photo
salma callela's profile photo

md.riyaz uddin khan

Shared publicly  - 
 
কওমি কমিশন নিয়ে আল্লামা আহমদ শফি অপপ্রচার থেকে সতর্ক থাকুন



কওমী সনদের স্বীকৃতি নিয়ে জাতি আজ দ্বিধাদ্বন্ধে, একদিকে বেফাক নেতৃবৃন্দের নতুন কওমী কমিশন নিয়ে প্রত্যাখ্যান মূলক বিবৃতি,
আরিফ বিন আহমদ ও ইসতিয়াক সিদ্দিকী www.muktoaoaz.com: কওমী সনদের স্বীকৃতি নিয়ে জাতি আজ দ্বিধাদ্বন্ধে, একদিকে বেফাক নেতৃবৃন্দের নতুন কওমী কমিশন নিয়ে প্রত্যাখ্যান মূলক বিবৃতি, অপরদিকে স্বার্থন্বেষী কিছু আলেমদের ষড়যন্ত্রমূলক মিডিয়ায় অপপ্রচার। সবমিলিয়ে আজ আশা নিরাশার দোলাচলে দোলছে আলেম সমাজ। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, কওমী স্বীকৃতি প্রদানের লক্ষ্যে কওমী কমিশন গঠনের প্রস্তাব নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ ও মুফতী রুহুল আমীন বেফাকের কয়েকজন নেতৃবৃন্দকে নিয়ে গত ৮ এপ্রিল বেফাক সভাপতি আল্লামা আহমদ শফির সাথে সাক্ষাত করেন। বৈঠকে বেফাকের পক্ষ থেকে কয়েকটি শর্তের ভিত্তিতে সরকারের প্রস্তাবে সম্মতি জানানো হয়। এবং বেফাকের পক্ষ থেকে আল্লামা আহমদ শফিকে চেয়ারম্যান করে ২১ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিশন গঠন করা হয়। উল্লেখ্য শর্তগুলো বেফাক নেতৃবৃন্দের সাথে পরামর্শ করে গৃহীত হয়েছিল। শর্ত ছিল পাঁচটি। (১) বিদ্যমান সিলেবাসে কোনভাবে সরকারের হস্তক্ষেপ করা যাবে না। (২) মাসলাকে দেওবন্দের (দেওবন্দের নীতিমালা) উপর অবিচল থাকতে হবে। (৩) কমিশনে সরকারের কোন প্রতিনিধি থাকতে পারবে না। (৪) বোর্ড হিসেবে বেফাককে এককভাবে স্বীকৃতি দিতে হবে। (৫) সরকারি অনুদান গ্রহণে বাধ্য করা যাবে না।
বঠকে বেফাকের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন বেফাক মহাসচিব আব্দুল জব্বার জাহানাবাদী, আবুল ফাতাহ মোহাম্মদ ইয়াহইয়া, আল্লামা আশরাফ আলী, নুরুল ইসলাম জিহাদী, নুর হোসাইন কাসেমী, আব্দুল কুদ্দুস, জুনায়েদ শওক বাবুনগরী, আশরাফ আলী নিজামপুরী প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। আরো উপস্থিত ছিলেন হাটহাজারী মাদ্রাসার প্রধান মুফতি আব্দুস সালাম চাটগামী ও মুহাদ্দিস সামশুল আলম। এরপর সরকার পক্ষের আলেমরা “মধ্যস্থতাকারী” একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে ৯ এপ্রিল রাতে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাত করেন। ঐ বৈঠকে বেফাক কর্তৃক গঠিত কওমী শিক্ষা কমিশনকে মনগড়াভাবে রদবদল করে নতুন কমিটি চুড়ান্ত করা হয়। যেখানে বেফাকের দেয়া অনেক সদস্যকে বাদ দিয়ে স্বার্থন্বেষীরা নতুন করে অনেককে অন্তর্ভূক্ত করেছে। এর আলোকে কওমী মাদরাসা সনদের সরকারি স্বীকৃতির লক্ষ্যে একটি প্রজ্ঞাপন জারী করা হয়। যাতে ছয় মাস সময়ের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়। এর পরদিনই কমিশনের সভাপতি আল্লামা আহমদ শফির পক্ষ থেকে রদবদলকৃত কমিশনকে প্রত্যাখ্যান করে এক বিবৃতি দেয়া হয়েছে। যাতে আল্লামা আহমদ শফি সাফ জানিয়ে দেন ৫ দফা শর্তের আলোকে স্বীকৃতি দেয়া হলে আমরা আছি। বিকল্পভাবে কোন স্বীকৃতির পক্ষে আমরা নাই। এ বক্তব্যের সাথে বেফাকের অন্যান্য নেতৃবৃন্দরাও একাত্বতা ঘোষণা করেন। এদিকে ‘মধ্যস্থতাকারীরা’ তাদের রাজনীতি স্বার্থ হাসিলে বেফাক সভাপতিকে নিয়ে বিভিন্ন দূরভিসন্ধীমূলক প্রচারণা চালানো আরম্ভ করেছে। আরো জানা যায়, কওমী কমিশনের জন্য আশকোনা হজ্ব ক্যাম্পে একটি অফিস নেয়া হয়। এবং এর উদ্বোধক হিসেবে আল্লামা আহমদ শফিকে আমন্ত্রিত করা হয়েছে মর্মে অপপ্রচার চালানো হয়। এ ব্যাপারে আল্লামা আহমদ শফির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে হুজুরকে নবগঠিত কমিশনের অফিসে এভাবে কোনো আমন্ত্রণ করা হয়নি। বরং হুজুর অনেক আগে থেকেই উক্ত কমিশন প্রত্যাখ্যানমূলক বিবৃতি দিয়ে আসছে। সুতরাং নবগঠিত কমিশনের অফিস নেয়া এবং উদ্ভোদন করার কোনো প্রশ্নই আসে না। আরো বলা হয়েছে, আল্লামা আহমদ শফি কমিশনের চেয়ারম্যানের দায়িত্বভার গ্রহণ প্রসঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের অবগতির নিমিত্বে স্বাক্ষরিত যে পত্রটি প্রচার করা হয়েছে তা ছিল পূর্বগঠিত কমিশনের প্রচারপত্র। অথচ এটা আওয়ামী ঘরানার কিছু স্বার্থান্বেষী আলেম এ ব্যাপারে মিথ্যা প্রচারণা চালিয়ে আসছে। যা নিয়ে আজ বিজ্ঞ আলেম সমাজ দ্বিধাহীনতায় ভুগছে। এ অপপ্রচার থেকে দেশবাসী এবং আলেম সমাজকে সতর্ক থাকার জন্য আল্লামা আহমদ শফি আহবান জানিয়েছেন।

 ·  Translate
1
Add a comment...

md.riyaz uddin khan

Shared publicly  - 
 
হরলিক্সের নামে বাচ্চাদের আমরা কি খাওয়াচ্ছি??


 সবার মাঝে ছড়িয়ে দিন এই আওয়াজ………..plzzzzzzzzzzzzzzzzzzzzz
টিউন করেছেন : পলাশ দেব | প্রকাশিত হয়েছে : 3 June, 2012 on 1:33 pm | 30 বার দেখা হয়েছে | 1
Ads by Techtunes - tAds
ফেসবুক গুঁতানোর সময় একটু আগে আমার সামনে লেখটা চলে আসে!! পড়ার পর আমি পুরাই অবাক হয়ে গিয়েছি। আর যেহেতু এটা বাচ্চাদের বিষয় এবং মূল লেখকের অনুমতি ও রয়েছে অন্য কোথাও প্রকাশ করার তাই পোষ্ট না করে পারলাম নাহ। কারণ আমাদের এই টিউনার পেজেও রয়েছে প্রতিদিন অসংখ্য ভিজিটর। যাদের মধ্যে রয়েছে অনেক শিশুর বাবা-মা, ভাই-বোন! তাই তাদের জানানোর জন্যই টিপির “হেলথ কেয়ার” বিভাগে পোষ্ট টি দিলাম।
 সকাল বেলা উঠেই পেপার পড়ার অভ্যেস আর তার সাথে চা না হলে তো পেপার পড়া জমেই না। পেপার উল্টোতেই আমার চোখ কপাল উপরে উঠল, কাশতে কাশতে চা আমার সারা শরীরে পড়ে গেল। মা আমাকে নোটিশ করে বলল
“ ভূত দেখেছ নাকি পেপারে” আমি বললাম, “মা এটা তো ভূতের বাপ, ইহা সবাই দেখে, এই ভূত এখন মানুষ হয়ে গেছে, কেউ বোঝে, কেউ বোঝে না, আবার কেউ বুঝে এই ভূতকে মানুষের মত মানুষ বানানোর চেষ্টা করে” যা হোক এবার মূল প্রসঙ্গে আসা যাক, একটি বহুল প্রচলিত দৈনিক পত্রিকার এক পৃষ্ঠা জুড়ে একটি অ্যাড। “২ গ্লাস হরলিক্স = ৬৬৬ গ্রাম ইলিশ মাছের সমান আয়রন” “বেড়ে ওঠার ডোজ রোজ রোজ” “হরলিক্স তো রেগুলার খাবার কেন আপনি দিচ্ছেন না” হতভম্ব হয়ে কিছুক্ষন চিন্তা করলাম, আচ্ছা এ ধরনের অ্যাড কি হরলিক্স আবিস্কারের দেশ ব্রিটেনে দেওয়া হয়।যা হওক এই বিষয়ে আলোচনা একটু পরে করব।আগে মূল বিষয়টা যানা প্রয়োজন। আপনি যদি রেগলার প্রিন্ট মিডিয়া অথবা ইলেক্ট্রিক মিডিয়ার অ্যাডগুলো দেখে থাকেন তাহলে দেখবেন আপনি যাই খাবেন অথবা মাখবেন তার মধ্যেই ভিটামিন অথবা মিনারেল রয়েছে অথবা দুটো এক সঙ্গেই আছে। অ্যাডগুলো দেখে আপনার মনে হতে পারে ভিটামিন এবং মিনারেল খুবি দুর্লভ বস্তু এবং আপনাকে ভিটামিন এবং মিনারেল বিশাল পরিমানে ফুড সাপ্লিমেন্ট (খাবারের সম্পূরক)আকারে নিতে হবে। চলুন ভিটামিন এবং মিনারেল সম্পর্কে কিছুটা জানা যাক।l
ভিটামিন
ভিটামিন হচ্ছে জৈবিক পদার্থ যা মানুষের জন্য খুব কম পরিমানে প্রয়োজন হয় শরীরের নির্দিষ্ট কিছু কোষীর কাজ সম্পাদনের জন্য। মানুষের দেহ ভিটামিন তৈরী করতে পারে না, সুসাস্থের জন্য ভিটামিনগুলোকে আমাদের প্রতিদিনের খাবারের সাথে নিতে হয়।
মিনারেল
মিনারেল হচ্ছে অজৈবিক যা মানুষের দেহের গঠনমূলক পদার্থ, এটি এনজাইম এর বিশ্লেষনে সহকারি হিসেবে কাজ করে, স্নায়ুর সঞ্ছালনে সাহায্য করে, অম্ল এবং ক্ষারকের সাম্যবস্থা রক্ষা করে । মানুষের দেহ মিনারেল তৈরী করতে পারে না, প্রত্যেকটি মিনারেল প্রতিদিন খাবারের সাথে একটি নির্দিষ্ট পরিমানে নিতে হয়।
FDA(Food & Drug Administration-America) নির্দেশনা
“There are many good reasons to consider taking vitamin supplements, such as over-the-counter multivitamins. According to the American Academy of Family Physicians (AAFP), a doctor may recommend that you take them:
 for certain health problems
 if you eat a vegetarian or vegan diet
 if you are pregnant or breastfeeding
supplements may be useful when they fill a specific identified nutrient gap that cannot or is not otherwise being met by individual’s intake of food.”
অর্থাৎ, ভিটামিগুলো সাপ্লিমেন্ট আকারে উপরে উল্লেখিত কন্ডিশনে উপকারি হতে পারে কিন্তু এর উপকারিতা প্রমানিত নয়। আর নরমাল কন্ডিশনে তো নেয়ার প্রশ্নই আসে না।
আরো ভয়ংকর তথ্য আছেঃ
“As is the case with all dietary supplements, the decision to use supplemental vitamins should not be taken lightly, says Vasilios Frankos, Ph.D., Director of FDA’s Division of Dietary Supplement Programs”.
যদি ভিটামিগুলো প্রয়োজনের অতিরিক্ত নেওয়া তাহলে এটা প্রমানিত যে আপনার নিম্ন বর্নিত সমস্যাগুলো হতে পারেঃ
Fat-soluble Vitamins
 A (retinol, retinal, retinoic acid): Nausea, vomiting, headache, dizziness, blurred vision, clumsiness, birth defects, liver problems, possible risk of osteoporosis. You may be at greater risk of these effects if you drink high amounts of alcohol or you have liver problems, high cholesterol levels or don’t get enough protein.
 D (calciferol): Nausea, vomiting, poor appetite, constipation, weakness, weight loss, confusion, heart rhythm problems, deposits of calcium and phosphate in soft tissues. If you take blood thinners, talk to your doctor before taking vitamin E or vitamin K pills.
Water-soluble Vitamins
• B-3 (niacin): flushing, redness of the skin, upset stomach.
• B-6 (pyridoxine, pyridoxal, and pyridoxamine): Nerve damage to the limbs, which may cause numbness, trouble walking, and pain.
• C (ascorbic acid): Upset stomach, kidney stones, increased iron absorption.
• Folic Acid (folate): High levels may, especially in older adults, hide signs of B-12 deficiency, a condition that can cause nerve damage.
আপনার যকৃৎ নষ্ট হয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে, প্যারালাইজড, হার্ট এর সমস্যা হতে পারে।
 
হরলিক্স কি?
বাংলাদেশে যে হরলিক্সটি পাওয়া যায় সেটি হচ্ছে ফুড ফরটিফাইড। পাওডার দুধ, গম এবং বার্লির সংমিশ্রনে তৈরী হরলিক্সে বাহির থেকে ভিটামিন এবং মিনারেল অ্যাড করা হয়েছে ফুড সাপ্লিমেন্ট হিসেবে। হরলিক্স প্রস্তুকারি কোম্পানি হচ্ছে GlaxoSmithKline(GSK)।
“২ গ্লাস হরলিক্স = ৬৬৬ গ্রাম ইলিশ মাছের সমান আয়রন”
“বেড়ে ওঠার ডোজ
রোজ রোজ”
“হরলিক্স তো রেগুলার খাবার”
 
যেই ভিটামিন এবং মিনারেলগুলো উপকারি কিনা নিশ্চত নয় বরং অতিরিক্ত নেওয়ার কারনে সমস্যা হতে পারে সেগুলো আজ মানুষের সামনে অত্যন্ত আকর্ষনীয় কায়দায় ভুল তথ্য দিয়ে মানুষের সামনে তুলে ধরা হচ্ছে।
“বেড়ে ওঠার ডোজ
রোজ রোজ”
কতটুকু ভয়ংকর এই অ্যাডটি। ফুড সাপ্লিমেন্টগুলোর যেখানে কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ সেখানে এগুলোকে রেগুলার খাবার আর ডোজ(কার্যকরি পরিমান) হিসেবে পরিচিত করানো হচ্ছে।
হরলিক্স আবিস্কারের দেশ ব্রিটেনের অ্যাডগুলো দেখলামঃ
“Horlicks doesn’t just taste great; one mug contains 12 essential vitamins and minerals and is a rich source of Vitamin D – an essential aid to calcium absorption”.
“Horlicks contains a wide range of vitamins and minerals. Dr Frankie Phillips – an independent Nutrition Consultant and Registered Dietician – gives you the good news about how these vitamins and minerals are essential for wellbeing.
We all need a variety of essential vitamins and minerals to carry out important roles to keep us well”.
অ্যাডগুলোতে কোথাও লেখা নেই
“বেড়ে ওঠার ডোজ”
“Stronger, Taller, Sharper”
“২ গ্লাস হরলিক্স = ৬৬৬ গ্রাম ইলিশ মাছের সমান আয়রন”
এই অ্যাডগুলো তারা সাবকন্টিনেন্ট ছাড়া অন্য কোথাও দেয় না। কারন তারা সেই দেশে নিষিদ্ধ হয়ে যাবে।
 
আরো চমকপ্রদ তথ্য আছে।
২০০৪ সালে ডেনমার্কে হরলিক্স নিষিদ্ধ করা হয় অতিরিক্ত ভিটামিন এবং মিনারেল ব্যবহারের কারনে।
UK-তে “Stronger, Taller, Sharper”এই অ্যাডটি নিষিদ্ধ করা হয় ২০০৮ সালে তাও বাংলাদেশী টেলিভিশন এনটিভি এটি প্রচার করেছিল।
আরো মজার বিষয় হল ইউকের হরলিক্সটি ফুড ফরটিফাইড নয়। মানে এতে অতিরিক্ত কোন ভিটামিন অথবা মিনারেল অ্যাড করা হয়নি।
Stronger, Taller, Sharper এখন প্রমানিত?
“এটা প্রমানিত যে হরলিক্স বাচ্চাদের আরো Stronger, Taller, Sharper করে”
প্রথমে নিজকে প্রশ্ন করলাম এই research ইন্ডিয়াতে কেন হোল, ইউকেতে কেন হল না।
ইন্ডিয়া হচ্ছে সেই দেশ যারা সমগ্র পৃথিবীর ৭৫ ভাগ ভেজাল ঔষধ পৃথিবীতে রপ্তানি করে। যাদের ফুড এবং ড্রাগ পলিসি সবচেয়ে দুর্বল।
এটা এমনি একটি research যা GlaxoSmithKline ইন্ডিয়া আর বাংলাদেশে ব্যবহার করে তাদের ইউকের ওয়েবসাইটে এ রকম কোন তথ্য নাই।
দুই দেশ দুই নীতি?
Pharmacy-তে একটি টার্ম কমন ব্যবহার করা হয় Slow poisoning এটা অনেকটা Arsenicosis এর মত মানে আপনি পানির সাথে বিষ খাচ্ছেন কিন্তু তৎক্ষনাত বুঝবেন না ।বুঝবেন ৫-১০ বৎসর পরে। নাহ আমি খাবারের বিষের কথা বলছি না এটি হচ্ছে চিন্তার পচন।মানুষকে চিন্তা খাওয়াতে পারলে সে সব খায়।
আমার এখনও মনে আছে আমাদের বাপ-দাদাদের সময় সফট ড্রিংসগুলো অতিথি আপ্যায়ন এর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল কিন্তু আমাদের জেনারেশন সেইটাকে রেগুলার পানীয় হিসেবে গ্রহন করল। তারা মদকে ধরল সেলিব্রশনের একটি উপায় হিসাবে।আমাদের পরবর্তি জেনারেশন হয়তবা used to হয়ে যাবে।
বিউটি প্রডাক্ট ফেয়ার এন্ড লাভলীকে দেখে এক সময় আমরা গালি দিতাম। কিন্তু সেই ফেয়ার এন্ড লাভলী এখন “ফেয়ার এন্ড লাভলী এন্ড ফেয়ার লাভলি” হয়ে গেছে। এবং বাজারে এখন বিউটি প্রডাক্ট ছাড়া আসলে অন্য প্রডাক্ট পাওয়া খুবি ভার।
হরলিক্স এক গ্লাস থেকে দুই গ্লাস হয়ে গেছে।
পারফিউম আর ডিওড্রেন্ট এর অ্যাড দেখলে তো গলায় ফাসি দিতে ইচ্ছে করে।
একটা সময় পৃথিবাকে ব্রিটিশরা colonization মাধ্যমে চালাত। সেই colonization হয়তবা শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু আমাদের চিন্তাকে যে colonized করে ফেলছে সেটা
 ·  Translate
1
Borun Debnath's profile photo
 
tnx
Add a comment...

md.riyaz uddin khan

Shared publicly  - 
 
১২ দলে ১৩ সংকট!

বর্তমান সরকারের নানামুখি ইসলাম বিরোধী কর্মতৎপরতাসহ জনদুর্ভোগের প্রতিবাদ ও প্রতিরোধে গঠিত হওয়া ইসলামী ও সমমনা ১২ দলের বর্তমান হাল সুবিধার নয়।



বর্তমান সরকারের নানামুখি ইসলাম বিরোধী কর্মতৎপরতাসহ জনদুর্ভোগের প্রতিবাদ ও প্রতিরোধে গঠিত হওয়া ইসলামী ও সমমনা ১২ দলের বর্তমান হাল সুবিধার নয়। প্রশ্ন ওঠেছে এ দলের পরিচালনা ও সার্বিক তত্ত্বাবধান নিয়ে। প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে এ দলের প্রধান হিসাবে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে ধরা হলেও বর্তমানে এতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর হস্তক্ষেপ লক্ষ করা যাচ্ছে। যে কারণে আগের মতো মাঠে দেখা যাচ্ছে না ১২ দলকে। দলে থাকা কয়েকজন নেতাকর্মীকে এর প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করতেও দেখা গেছে। ১২ দলের সর্বশেষ গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয় ২৭ এপ্রিল শুক্রবার। বায়তুল মোকাররম উত্তর গেট থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি কাকরাইল হয়ে মালিবাগ গিয়ে পুলিশি বাধার মুখে শেষ হয়। ওই মিছিলে জামায়াত কর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। এবং যুদ্ধাপরাধ ইস্যুতে আটক জামায়াত নেতাদের মুক্তি চেয়ে শ্লোগানও দেয়া হয়। উল্লেখিত ব্যাপারগুলো সবার কাছে এখন প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলছে ১২ দলকে।
গত বছরের জুন মাসে সরকারের সংবিধান থেকে আল্লাহর ওপর আস্থা বাদ ও বিতর্কিত নারীনীতি পাশের প্রতিবাদের মুখে গঠিত হয় ইসলামী ও সমমনা ১২ দল। দলের তখনকার ইসলামি বড় দলগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত আন্দোলনসহ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশও ছিল। তবে দল গঠনের ক দিন পরই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নিজেদেরকে প্রত্যাহার করে নেয় ১২ দল থেকে। ইসলামী ও সমমনা ১২ দল গঠনের পর গত বছর ১০ ও ১১ জুলাই ৩০ ঘন্টার হরতাল দিয়ে আলোচনায় চলে আসে। এর পর বিভিন্ন ইস্যুতে একেরপর এক কর্মসূচির ডাক দিয়ে মাঠ দখলের কাজও ভালই করেছে ১২ দল। কিন্তু ১২ দল গঠনের ইস্যু শেষ না হলেও মাঝখান থেকে দুর্বল হতে থাকে দলটি। ১২ দলে থাকা কয়েকটি দল সম্প্রতি গঠিত ১৮ দলেও জোটবদ্ধ হয়। বেশ কিছু দিন আগে ১২ দল ১৫ দলে জনসংখ্যা বৃদ্ধি করার কথা শুনলেও এখন শোনা যাচ্ছে দল গোটানোর কথা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ১২ দলে শরিক এক নেতা বলেন, দলে হঠাৎ করেই অশুভ শক্তির ছায়া লক্ষ করা যাচ্ছে। এ করণে অনেককে নিষ্কৃয় থাকতে দেখা যাচ্ছে। এ বিষয়ে ১২ দলের অন্যতম শরিক খেলাফত আন্দোলনের মহসচিব মাওলানা জাফরুল্লাহ খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ১২ দল আগে যেমন ছিল তেমনই আছে। সবাই কাজ করছেন। তিনি ১২ দলে জামায়াতে ইসলামীর সম্পৃক্ততা বিষয়ে বলেন, এটা মিথ্যা গুজব। ১৮ দলে যুক্ত হওয়া বিষয়ে তিনি বলেন, ১৮ দলে যারা গেছে তারা রাজনীতির জন্য গেছে। আমরা ১২ দল করেছি রাজনীতির জন্য নয়। এটা ঈমান রক্ষার আন্দোলন। এটা থাকবে।


মুক্ত আওয়াজ রিপোর্ট :
 ·  Translate
1
Add a comment...

md.riyaz uddin khan

Shared publicly  - 
 
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বেশি সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য অতিরিক্ত ৭০ মিলিয়ন ডলার দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। পেন্টাগনের অনুরোধে আমেরিকান কংগ্রেস ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা প্রোগ্রামের আওতাভুক্ত আয়রন ড্যাম প্রজেক্টের উন্নতির জন্য এই সহায়তা দিচ্ছে। বৃহস্পতিবার পেন্টাগনে ইসরায়েলি মুখপাত্র ইহুদ বারাকের সঙ্গে এক বৈঠকের পর মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লিওন পেনেট্টা যুক্তরাষ্ট্রের এই পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, 'আমরা আগামী ৩ বছরের জন্য ইসরায়েলের এই প্রতিরক্ষা কর্মসূচিতে অতিরিক্ত অর্থ সাহায্য করব'। যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই ইসরায়েলকে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য ২০৫ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করেছে, যা দেশটির দেওয়া অন্য যে কোনো দেশের জন্য অর্থ সাহায্যের মধ্যে সর্বোচ্চ। আল-জাজিরা।
 ·  Translate
1
Add a comment...

md.riyaz uddin khan

Shared publicly  - 
 
বাহরাইনে ৫ মাসে ৩০টি মসজিদ ধ্বংস

বাহরাইনের অনির্বাচিত রাজতান্ত্রিক সরকার গত পাঁচ মাসে অন্ততঃ ৩০টি মসজিদ ধ্বংস করেছে। বাহরাইনের একজন ধর্মীয় নেতা এ কথা জানিয়েছেন।
উপসাগরীয় এ দেশটিতে গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে সরকারবিরোধী আন্দোলন চলে আসছে। আন্দোলন দমনের অংশ হিসেবে এসব মসজিদ ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির ধর্মীয় নেতা সাইয়েদ আব্দুল্লাহ আল-ঘোরিফি। গতকাল রাজধানী মানামায় আয়োজিত এক সমাবেশে এ কথা বলেছেন তিনি। ভারতের বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল জি নিউজ আজ এ খবর দিয়েছে। এত বেশি সংখ্যক মসজিদ ধ্বংসের ঘটনায় দেশটিতে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা শুরু হতে পারে বলে অনেকেই আশঙ্কা করছেন। বাহরাইনের মোট জনসংখ্যার শতকরা ৭০ ভাগ শিয়া মুসলমান।
ফেব্রুয়ারি মাস থেকে সরকারবিরোধী আন্দোলন শুরুর পর এ পর্যন্ত বহু মানুষ নিহত হয়েছে এবং শত শত মানুষকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে ডাক্তার, নার্স ও বহু মানবাধিকার কর্মী রয়েছেন। এ ছাড়া, বহু মানুষকে বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। দেশটির সরকারবিরোধী আন্দোলন ঠেকানোর জন্য সৌদি আরবসহ পারস্য উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ সেখানে সেনা ও পুলিশ পাঠিয়েছে।
 ·  Translate
1
Add a comment...

md.riyaz uddin khan

Shared publicly  - 
 
মুসলিম সংহতি :

ইসরাইলের আতঙ্কবিশ্ব এ কথা আজ সবাই জানেন, ইসরাইলে বৃষ্টি হলে পশ্চিমারা ছাতা ধরে। বিশেষ করে পশ্চিমা যেসব দেশ ইসরাইলের হয়ে যুদ্ধ করতেও পিছপা হয়না তারা। তাদের ধারণা কোনো তুচ্ছ কারণেও ইসরাইল ব্যথা পেলে সমগ্র বিশ্বই বেদনাবোধ করে। তাদের এই ধারণা এবং ইসরাইলের প্রকৃত স্বরূপ নিয়ে আলোচনা করা যাক।
ইসরাইল নিজ স্বার্থ-সুখ ছাড়া কিছুই বোঝে না এমন এক চরম আত্ম-পূজারি। ইসরাইলের এই একক আত্ম-পূজারি মনোভাবের কারণে বিশ্ব আজ স্বর্গের সিঁড়ি থেকে প্রচণ্ড বেগে ধাবিত হচ্ছে নরকের দিকে।
এভাবে আত্ম-অহমিকায় ভরপুর অতিক্ষুদ্র একটি গোষ্ঠী বিশ্বের প্রতিদিনের কাজ-কর্মের ওপর অপ-প্রভাব বিস্তার করছে। তাদের এ অপ-প্রভাবের জেরেই বিশ্বে বিধ্বংসী যুদ্ধের অবতারণা ঘটে। এ রকম যুদ্ধের মোকাবেলা করতে যেয়ে বিশ্বের নানা দেশকে আর্থ-সামাজিক-নৈতিক দেউলিয়াত্বের অতল গহ্বরে পতিত হতে হয়।
বিশ্বের বিরাজমান সব সংকটের মূলে ইহুদিবাদীরা নেই- অহেতুক সে রকম শিশুসুলভ তর্কে এখন কারো জড়িয়ে পড়া ঠিক হবে না। ইহুদিবাদী অপরাধী চক্রের কোনো অস্তিত্ব নেই বলে এ চক্রের সঙ্গে জড়িতরা নিজেদের পিঠ বাঁচানোর তাগিদে ভাল মানুষি ভাব দেখিয়ে বেড়ায়। তারা আরো দাবি করেন, ইহুদিবাদী অপরাধ চক্র নিয়ে যা বলা হচ্ছে তা নেহাৎই রটনা মাত্র।
বর্তমান বিশ্বের সমগ্র ঘটনাক্রমের নেপথ্যে রয়েছে ইহুদিবাদীদের স্বার্থ। বিশ্বের ক্ষমতার রাজনীতি থেকে ইহুদিবাদীদের স্বার্থের প্রসঙ্গটি সরিয়ে নেয়া হলে সমগ্র দৃশ্যপট অন্ধকার হয়ে যাবে। ইহুদিবাদীরা চেয়েছে ইরাক ধ্বংস হোক। ইরাক ধ্বংস হয়েছে। একই কাণ্ড ঘটেছে আফগানিস্তান লিবিয়াসহ অন্যত্র। ইহুদিবাদীদের স্বার্থ রক্ষার কারণে বলি হতে হয়েছে বিশ্বের লাখ লাখ মানুষকে। এ যেনো ‘লা কোশার নোস্ট্রা’ নামের ইহুদিবাদী অপরাধ চক্রের পাণ্ডারা তুড়ি দিলেন আর শহরের বিভিন্ন রাস্তায় অনেকের মৃতদেহ পড়ে গেল। ‘লা কোশার নোস্ট্রা’র পাণ্ডারা এসবই করছে ঈশ্বরের নামে। তাদের পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়াবে যারা, তাদেরকে কোন? ঈশ্বর রক্ষা করতে আসে বলে ঔদ্ধত্যপূর্ণ গলাবাজি করে তারা।
অথচ সাধারণ যুক্তির ভিত্তিতেই আমরা বুঝতে পারছি, পশ্চিম দেশগুলোর ইশারায় মুসলমান দেশগুলোর সঙ্গে যুদ্ধে বা বিরোধে জড়িয়ে পড়েছে যে সব দেশ প্রকৃতপক্ষে তাদের কোনো লাভ হচ্ছে না। লাভের গুড় শেষ পর্যন্ত গিয়ে উঠছে ইসরাইলের ঘরে। ইরাক, আফগানিস্তান, লিবিয়াতে এমন ভয়াবহ রক্তপাত, এমন সব ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের পরও ইসরাইল সামান্য গ্লানি পর্যন্ত অনুভব করেনি বরং আবার নতুন করে ইরানের বিরুদ্ধে আদা-পানি খেয়ে লেগেছে ইহুদিবাদী মক্ষীরানি। নরমুণ্ডধারী কাপালিকের মদমত্ত নাচ শুরু করেছে ইহুদিবাদী ডাকিনী। অন্যদিকে তার এ নৃত্যের দর্শকদের মধ্যে বেশির ভাগ হলো যুদ্ধের নীল ছবিতে আসক্ত খৃষ্ট ধর্মের উপাসক।
ইসরাইল কেনো এমনভাবে ইরানের বিরুদ্ধে ক্ষেপে উঠলো? তার উত্তর সহজ, বিশ্বে একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তারের মরণপণ যে চেষ্টা করেছিল ইসরাইল, সে চেষ্টায় গুড়েবালি দিয়েছে ইরান। তাই ইরান-আতংক ইসরাইলকে পেয়ে বসেছে কঠিনভাবে। ইরান আতংক ইসরাইলের মনোবিকার হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইসরাইল মনেপ্রাণে চাচ্ছে ধ্বংস হয়ে যাক ইরান।
প্রথমেই একটি কথা জেনে নিতে হবে, ইসরাইলের পক্ষে সাধারণ কোনো যুদ্ধে জয়ী হওয়া সম্ভব নয়। দুই পক্ষকে সমান সুযোগ করে দেয়া হলেও প্রকৃতিগত কারণে এ ধরনের যুদ্ধে ইসরাইল বিজয়ী হতে পারবে না। রাজনৈতিক জগতে ইসরাইলকে টিকে থাকতে হলে অবিরাম মিথ্যাচার ও কাপালিক তন্ত্রমন্ত্র ও কুহক জাল বিস্তারের আশ্রয় নিতে হবে। বিশ্ব বাস্তবতায় পরিবর্তন ঘটাতে হবে। বিশ্বের প্রকৃত অবস্থা তুলে ধরার বদলে মর্জি মাফিক অবস্থাকে বিশ্ব বাস্তবতা বলে চালাতে হবে ইসরাইলকে-এর কোনো বিকল্প নেই।
দ্বিতীয়ত ইসরাইলকে টিকে থাকতে হলে বিশ্বে দ্বন্দ্ব সংঘাতের প্রয়োজন পড়বে। বরং বলা ভালো ইসরাইলকে দ্বন্দ্ব সংঘাত ঘটাতে হবে। কেননা, পৃথিবীর বহু দেশ থেকে ইহুদিবাদীরা জড়ো হয়েছে ইসরাইলে। তাদেরকে একত্রিত রাখার ক্ষেত্রে আশেপাশের দেশগুলোতে অবিরাম অস্থিতিশীলতা ইসরাইলকে সহায়তা করবে।
এবার আমরা লক্ষ্য দিতে পারি ইরানের দিকে।
মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশগুলোর মতো ইরান আরবি ভাষাভাষী দেশ নয়। তবে এ দেশটি আরব দেশগুলোর ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী। ইসরাইলের নেতারা ভালো করেই জানেন, ১৯৭৯ সালে কার বিরুদ্ধে বিজয় লাভ করেছিল ইরান। আজকের মধ্যপ্রাচ্যে পশ্চিমা যে দখলদার শক্তি ৩০ কোটি আরববাসীর জীবনকে বিষিয়ে তুলেছে তাদের বিরুদ্ধেই বিপ্লব করে ১৯৭৯ সালে বিজয়ী হয়েছিল ইরান।
ইসরাইলের জন্য আরো ভয়াবহ কথা হল, সে থেকেই ইরান স্বাধীন নীতি অনুসরণ করছে। দেশের জন্য যা ভাল ঠাণ্ডা মাথায় সে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে ইরান। ইরানের এ ধরনের তৎপরতা প্রতিদিনই ইসরাইল ও পশ্চিমা কোনো কোনো দেশের জন্য মারাত্মক হুমকির মতো মনে হচ্ছে। এ ধরনের তৎপরতা ইরান যে নির্বিবাদে করতে পারছে তা ইসরাইলের জন্য হুমকি হয়ে উঠেছে।
গত এক দশক ধরে দেখা যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের রঙ্গমঞ্চে যে সব কুশিলব আবির্ভূত হয়েছেন তাদের মধ্যে একমাত্র ইরানই যুক্তির ভাষায় কথা বলছে। ইরান কোনো হম্ভি-তম্ভি করছে না, হুমকি দিচ্ছে না বা রক্ত চোখে তাকাচ্ছে না। অন্য দেশে কোনো ধরনের বোমা হামলার সঙ্গে ইরান জড়িত নয়; শত্রু দেশের হয়ে কর্মরত বিজ্ঞানীদের গুপ্তহত্যার পথ বেছে নেয়নি কিংবা নিজের পররাষ্ট্র নীতির লক্ষ্যমাত্রা বোঝাতে গিয়ে মাফিয়া চক্রের ভাষায় কথা বলেনি ইরান ।
ইরানের প্রেসিডেন্ট আহমাদিনেজাদকে সর্বাত্মক সমর্থন দিচ্ছে সংসদ; তিনি কথা বলেন বিনম্র ও যুক্তির ভাষায়। তিনি উন্মুক্ত বিতর্ক ও স্বাধীন মত প্রকাশে বিশ্বাস করেন। এ ছাড়া তিনি সব সময় অন্যদের সঙ্গে আলোচনার জন্য প্রস্তুত রয়েছেন বলেও ঘোষণা করছেন।
ইসরাইল যে ধরনের ক্ষিপ্ত ও বিকারগ্রস্ত আচরণ করছে ইরান তা করে না। ইরানের আচরণ শান্ত ও সংযত। আর এ জন্য ইসরাইলের কাছে ইরান হয়ে উঠেছে হুমকি।
ইসরাইলের জন্য আরেকটি অসহনীয় বিষয় হলো মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশগুলোর মতো ইরানেরও রয়েছে অঢেল প্রাকৃতিক সম্পদের ভাণ্ডার। এ সম্পদের কারণেই ইহুদিবাদী ইসরাইল ও পশ্চিমা দেশগুলো ইরানকে এক সময় পুতুল সরকারের মাধ্যমে শাসন করার চেষ্টা করেছে। ইরানের জনগণ নির্যাতনের মুখে পড়েছে। প্রতিবেশী মুসলিম দেশগুলোর মতো এক সময় ইরানও রাজনৈতিক ভাবে অধিকৃত হয়েছিল। কিন্তু এ সবের বিরুদ্ধে বিপ্লব করেছে এবং এ জন্য ইরানকে ‘ন্যাশনাল এনডোমেন্ট ফর ডেমোক্রেসি’ জাতীয় কোনো গোষ্ঠীর সহায়তা নিতে হয়নি। ইরান শুধু বিপ্লবই করেনি বরং একটি আধুনিক রাজনৈতিক ধারা গড়ে তুলেছে এবং প্রজাতন্ত্র পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থা চালু করেছে। ইরানের নারী-পুরুষ নির্বিশেষে আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা স্বাধীনভাবে জীবন যাপন করছে- এ বিষয়টিও ইসরাইলের জন্য দগদগে এক ঘায়ের মতো যন্ত্রণাদায়ক হয়ে উঠেছে। ইসরাইল চায়, মধ্যপ্রাচ্য তথা আরব দেশগুলোর মানুষগুলো ছন্দছাড়া অবস্থায় থাকবে এবং মাদকাসক্ত তেলাপোকার মত দিশেহারা হয়ে ছুটে বেড়াবে।
একটি কথা সবাইকে মনে রাখতে হবে, তাহলো সমগ্র বিশ্বের সকলের কল্যাণের লক্ষ্যে ‘পরমাণু শক্তিধর ইরান’কে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই বরং এ লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করতে সবার একযোগে এগিয়ে আসা উচিত। এ লক্ষ্য অর্জিত হলে তার দীর্ঘ মেয়াদি সুফল পাওয়া যাবে। এ লক্ষ্য অর্জন না হলে পরমাণু শক্তিধর ইসরাইলের হাতে বিষাক্ত তেজস্ক্রিয় উপাদানই কেবল থাকবে না; বরং বিশ্বের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত করার নৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অবক্ষয় ঘটানোর মতো উপাদান থাকবে। এক কথায় বিশ্ব মানুষের টিকে থাকার অযোগ্য হয়ে যাবে
 ·  Translate
1
Add a comment...
People
In his circles
65 people
Have him in circles
16 people
Brodie Beta's profile photo
Muhammad Tasnim's profile photo
আসমা মণ্ডল's profile photo
Normando Flores's profile photo
Neil Richins's profile photo
anis islam's profile photo
abdollah Saiful's profile photo
A.M. JOY's profile photo
salma callela's profile photo
Basic Information
Gender
Male