Profile cover photo
Profile photo
Ahmed Jalal
875 followers
875 followers
About
Ahmed's posts

Post has shared content
‘আমরা মৈত্রী’
http://www.beshto.com/contentid/799446
‘আমরা মৈত্রী’ নামে নতুন একটি সামাজিক সংগঠন আত্মপ্রকাশ করেছে। ছাত্র মৈত্রীর সাবেক সভাপতি ও ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সাবেক সমন্বয়ক রফিকুল ইসলাম সুজনকে সমন্বয়ক করে বুধবার পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট সংগঠনের কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন : ছাত্র মৈত্রীর সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুক্তার হোসেন নাহিদ, ছাত্র মৈত্রীর সাবেক সভাপতি ও গণজাগরণ মঞ্চের অন্যতম সংগঠক বাপ্পাদিত্য বসু, ছাত্র মৈত্রীর সাবেক সহ সভাপতি শামীমা সুলতানা শাওন এবং ছাত্র মৈত্রীর সাবেক সহ সাধারণ সম্পাদক মনোজ বাড়ৈও। কেন্দ্রীয় এই সমন্বয় কমিটি আগামী ৬ মাসের মধ্যে সংগঠনের ঘোষণা কর্মসূচি ও গঠনতন্ত্র প্রণয়ন, সদস্য সংগ্রহ করে কনভেনশনের মধ্য দিয়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করবে। ঘোষণা কর্মসূচি ও গঠনতন্ত্র প্রণয়নের লক্ষ্যে ছাত্র মৈত্রীর সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা শহীদুল ইসলাম রাসুকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। সংগঠনের অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। সভায় সংগঠনের প্রধান সমন্বয়ক রফিকুল ইসলাম সুজন বলেন, ‘আমরা মৈত্রী’ রাজনীতি সচেতন একটি সামাজিক সংগঠন হলেও কোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের লেজুড়বৃত্তি করবে না। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে ‘আমরা মৈত্রী’ সামাজিক অসঙ্গতি, শিক্ষা সংকট, বেকারত্ব, সাম্প্রদায়িকতা, জঙ্গিবাদ, সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন, নারী নির্যাতনসহ নানামুখী সংকটের বিপরীতে সামাজিক শক্তির যুথবদ্ধতার ওপর গুরুত্বারোপ করবে। ‘আমরা মৈত্রী’ সংগঠনের ঘোষণায় বলা হয় : আমরা মৈত্রী। আমরা বাংলাদেশের মৈত্রী। যে বাংলাদেশ ১৯৭১ সালে জন্ম নিয়েছিল জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্রকে ভিত্তি করে, আমরা সেই বাংলাদেশের মৈত্রী। মুক্তিযুদ্ধের সেই বাংলাদেশ যখন ক্ষতবিক্ষত হয়, আমরাও তার সাথে ক্ষতবিক্ষত হই। একুশে ফেব্র“য়ারি, ২৬ মার্চ, ১৬ ডিসেম্বরের বাংলাদেশ যখন আবার লড়াইয়ে ঘুরে দাঁড়াও, আমরাও সেই সাথে প্রত্যয় ঘোষণা করি ঘুরে দাঁড়ানোর, লড়াই করার। আমরা রাজনীতি সচেতন, কিন্তু কোনো রাজনৈতিক দলের লেজুড় নই। মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের যে রাজনীতি, আমাদের দর্শন তাই- জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র। সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী উগ্র সশস্ত্র জঙ্গিবাদ যখন বাংলাদেশের ওপর আঘাত হানতে উদ্যত, তখন আমরা জানবাজি লড়াইয়ে প্রস্তুত। বিশ্বমানবের পরম শত্র“ সাম্রাজ্যবাদ যখন বাংলাদেশ কিংবা সারা দুনিয়ার যেকোনো প্রান্তে তার বিষ নিঃশ্বাস ফেলে, আমরা বাংলাদেশের পক্ষে লড়াইয়ে প্রস্তুত। আমাদের সংহতি বাংলাদেশের সীমানা পেরিয়ে দুনিয়ার সেই প্রান্তের সেই আক্রান্ত মানবতার পক্ষে। বাংলাদেশের স্বকীয় সংস্কৃতিকে ধারণ করে আমাদের সম্মান দুনিয়ার সকল মানুষের নিজস্বতার প্রতি। আমাদের শেকড় কর্মযোগী কৃষক, খেতমজুর, শ্রমিকের শ্রমে গাঁথা। চিরবঞ্চিত ওই মেহনতি মানুষের জীবনদর্শনই আমাদের দর্শন। সব হাতে কাজ, সব মুখে ভাত আমাদের চাওয়া। বেকারত্বের নীল বিষে যুবককে তিলে তিলে মারে, আমাদের শক্তির উৎস সেই। শিক্ষার ওপর যখন সাম্প্রদায়িকতার আঁচড় নেমে আসে, আমরা উদ্বিগ্ন হই। শিক্ষাকে যখন মুনাফার পণ্যে পরিণত করা হয়, তার বিপরীতে আমরা চাই শিক্ষার দ্বার হোক অবারিত। মাতৃরূপী নারীকে যারা মানুষের বদলে ভোগের বস্তুরূপে দেখে, আমাদের সংগ্রাম সেই নরপশুদের বিরুদ্ধে। গ্রাম শহর, মেহনতি-মালিক, ধনী-গরিব, নারী-পুরুষ ইত্যকার সকল বৈষম্যের বিপরীতে আমরা চাই এক মহৎ মানবিক কল্যাণমুখী সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা। যে ব্যবস্থা প্রবর্তনে আমাদের পূর্বপুরুষরা লড়ে রচনা করেছিলেন শত বছরের সংগ্রামের ইতিহাস। আমরা সেই বাংলাদেশের মৈত্রী। সূর্যসেন, প্রীতিলতা, ক্ষুদিরাম, বিনয়, বাদল, দীনেশ, তিতুমীর, সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার, শফিউর, মোস্তফা, বাবুল, ওয়াজিউল্লাহ, আসাদ, মতিউর, একাত্তরের ত্রিশ লাখ শহিদ, মতিউল, কাদের, জয়নাল, দিপালী, কাঞ্চন, মিলন, নূর হোসেন, জামিল, রীমু, রূপম, ফারুক, আইয়ুব, পান্না, বাবলু, আসলাম, বারী, সেলিম, নাসিম, শামীম, রাসেল, সানি প্রমুখ বীর শহিদেরা আমাদের মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর প্রেরণা। আমরা সেই শহীদদের আত্মদানের মৈত্রী।

Post has attachment
‘আমরা মৈত্রী’
http://www.beshto.com/contentid/799446
‘আমরা মৈত্রী’ নামে নতুন একটি সামাজিক সংগঠন আত্মপ্রকাশ করেছে। ছাত্র মৈত্রীর সাবেক সভাপতি ও ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সাবেক সমন্বয়ক রফিকুল ইসলাম সুজনকে সমন্বয়ক করে বুধবার পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট সংগঠনের কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন : ছাত্র মৈত্রীর সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুক্তার হোসেন নাহিদ, ছাত্র মৈত্রীর সাবেক সভাপতি ও গণজাগরণ মঞ্চের অন্যতম সংগঠক বাপ্পাদিত্য বসু, ছাত্র মৈত্রীর সাবেক সহ সভাপতি শামীমা সুলতানা শাওন এবং ছাত্র মৈত্রীর সাবেক সহ সাধারণ সম্পাদক মনোজ বাড়ৈও। কেন্দ্রীয় এই সমন্বয় কমিটি আগামী ৬ মাসের মধ্যে সংগঠনের ঘোষণা কর্মসূচি ও গঠনতন্ত্র প্রণয়ন, সদস্য সংগ্রহ করে কনভেনশনের মধ্য দিয়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করবে। ঘোষণা কর্মসূচি ও গঠনতন্ত্র প্রণয়নের লক্ষ্যে ছাত্র মৈত্রীর সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা শহীদুল ইসলাম রাসুকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। সংগঠনের অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। সভায় সংগঠনের প্রধান সমন্বয়ক রফিকুল ইসলাম সুজন বলেন, ‘আমরা মৈত্রী’ রাজনীতি সচেতন একটি সামাজিক সংগঠন হলেও কোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের লেজুড়বৃত্তি করবে না। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে ‘আমরা মৈত্রী’ সামাজিক অসঙ্গতি, শিক্ষা সংকট, বেকারত্ব, সাম্প্রদায়িকতা, জঙ্গিবাদ, সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন, নারী নির্যাতনসহ নানামুখী সংকটের বিপরীতে সামাজিক শক্তির যুথবদ্ধতার ওপর গুরুত্বারোপ করবে। ‘আমরা মৈত্রী’ সংগঠনের ঘোষণায় বলা হয় : আমরা মৈত্রী। আমরা বাংলাদেশের মৈত্রী। যে বাংলাদেশ ১৯৭১ সালে জন্ম নিয়েছিল জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্রকে ভিত্তি করে, আমরা সেই বাংলাদেশের মৈত্রী। মুক্তিযুদ্ধের সেই বাংলাদেশ যখন ক্ষতবিক্ষত হয়, আমরাও তার সাথে ক্ষতবিক্ষত হই। একুশে ফেব্র“য়ারি, ২৬ মার্চ, ১৬ ডিসেম্বরের বাংলাদেশ যখন আবার লড়াইয়ে ঘুরে দাঁড়াও, আমরাও সেই সাথে প্রত্যয় ঘোষণা করি ঘুরে দাঁড়ানোর, লড়াই করার। আমরা রাজনীতি সচেতন, কিন্তু কোনো রাজনৈতিক দলের লেজুড় নই। মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের যে রাজনীতি, আমাদের দর্শন তাই- জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র। সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী উগ্র সশস্ত্র জঙ্গিবাদ যখন বাংলাদেশের ওপর আঘাত হানতে উদ্যত, তখন আমরা জানবাজি লড়াইয়ে প্রস্তুত। বিশ্বমানবের পরম শত্র“ সাম্রাজ্যবাদ যখন বাংলাদেশ কিংবা সারা দুনিয়ার যেকোনো প্রান্তে তার বিষ নিঃশ্বাস ফেলে, আমরা বাংলাদেশের পক্ষে লড়াইয়ে প্রস্তুত। আমাদের সংহতি বাংলাদেশের সীমানা পেরিয়ে দুনিয়ার সেই প্রান্তের সেই আক্রান্ত মানবতার পক্ষে। বাংলাদেশের স্বকীয় সংস্কৃতিকে ধারণ করে আমাদের সম্মান দুনিয়ার সকল মানুষের নিজস্বতার প্রতি। আমাদের শেকড় কর্মযোগী কৃষক, খেতমজুর, শ্রমিকের শ্রমে গাঁথা। চিরবঞ্চিত ওই মেহনতি মানুষের জীবনদর্শনই আমাদের দর্শন। সব হাতে কাজ, সব মুখে ভাত আমাদের চাওয়া। বেকারত্বের নীল বিষে যুবককে তিলে তিলে মারে, আমাদের শক্তির উৎস সেই। শিক্ষার ওপর যখন সাম্প্রদায়িকতার আঁচড় নেমে আসে, আমরা উদ্বিগ্ন হই। শিক্ষাকে যখন মুনাফার পণ্যে পরিণত করা হয়, তার বিপরীতে আমরা চাই শিক্ষার দ্বার হোক অবারিত। মাতৃরূপী নারীকে যারা মানুষের বদলে ভোগের বস্তুরূপে দেখে, আমাদের সংগ্রাম সেই নরপশুদের বিরুদ্ধে। গ্রাম শহর, মেহনতি-মালিক, ধনী-গরিব, নারী-পুরুষ ইত্যকার সকল বৈষম্যের বিপরীতে আমরা চাই এক মহৎ মানবিক কল্যাণমুখী সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা। যে ব্যবস্থা প্রবর্তনে আমাদের পূর্বপুরুষরা লড়ে রচনা করেছিলেন শত বছরের সংগ্রামের ইতিহাস। আমরা সেই বাংলাদেশের মৈত্রী। সূর্যসেন, প্রীতিলতা, ক্ষুদিরাম, বিনয়, বাদল, দীনেশ, তিতুমীর, সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার, শফিউর, মোস্তফা, বাবুল, ওয়াজিউল্লাহ, আসাদ, মতিউর, একাত্তরের ত্রিশ লাখ শহিদ, মতিউল, কাদের, জয়নাল, দিপালী, কাঞ্চন, মিলন, নূর হোসেন, জামিল, রীমু, রূপম, ফারুক, আইয়ুব, পান্না, বাবলু, আসলাম, বারী, সেলিম, নাসিম, শামীম, রাসেল, সানি প্রমুখ বীর শহিদেরা আমাদের মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর প্রেরণা। আমরা সেই শহীদদের আত্মদানের মৈত্রী।

Post has shared content
‘আমরা মৈত্রী’ সংগঠনের আত্মপ্রকাশ
........................
সমন্বয়ক রফিকুল ইসলাম সুজন
..................
নিজস্ব প্রতিবেদক : ‘আমরা মৈত্রী’ নামে নতুন একটি সামাজিক সংগঠন আত্মপ্রকাশ করেছে। ছাত্র মৈত্রীর সাবেক সভাপতি ও ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সাবেক সমন্বয়ক রফিকুল ইসলাম সুজনকে সমন্বয়ক করে বুধবার পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট সংগঠনের কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন : ছাত্র মৈত্রীর সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুক্তার হোসেন নাহিদ, ছাত্র মৈত্রীর সাবেক সভাপতি ও গণজাগরণ মঞ্চের অন্যতম সংগঠক বাপ্পাদিত্য বসু, ছাত্র মৈত্রীর সাবেক সহ সভাপতি শামীমা সুলতানা শাওন এবং ছাত্র মৈত্রীর সাবেক সহ সাধারণ সম্পাদক মনোজ বাড়ৈও। কেন্দ্রীয় এই সমন্বয় কমিটি আগামী ৬ মাসের মধ্যে সংগঠনের ঘোষণা কর্মসূচি ও গঠনতন্ত্র প্রণয়ন, সদস্য সংগ্রহ করে কনভেনশনের মধ্য দিয়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করবে। ঘোষণা কর্মসূচি ও গঠনতন্ত্র প্রণয়নের লক্ষ্যে ছাত্র মৈত্রীর সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা শহীদুল ইসলাম রাসুকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। সংগঠনের অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। সভায় সংগঠনের প্রধান সমন্বয়ক রফিকুল ইসলাম সুজন বলেন, ‘আমরা মৈত্রী’ রাজনীতি সচেতন একটি সামাজিক সংগঠন হলেও কোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের লেজুড়বৃত্তি করবে না। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে ‘আমরা মৈত্রী’ সামাজিক অসঙ্গতি, শিক্ষা সংকট, বেকারত্ব, সাম্প্রদায়িকতা, জঙ্গিবাদ, সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন, নারী নির্যাতনসহ নানামুখী সংকটের বিপরীতে সামাজিক শক্তির যুথবদ্ধতার ওপর গুরুত্বারোপ করবে। ‘আমরা মৈত্রী’ সংগঠনের ঘোষণায় বলা হয় : আমরা মৈত্রী। আমরা বাংলাদেশের মৈত্রী। যে বাংলাদেশ ১৯৭১ সালে জন্ম নিয়েছিল জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্রকে ভিত্তি করে, আমরা সেই বাংলাদেশের মৈত্রী। মুক্তিযুদ্ধের সেই বাংলাদেশ যখন ক্ষতবিক্ষত হয়, আমরাও তার সাথে ক্ষতবিক্ষত হই। একুশে ফেব্র“য়ারি, ২৬ মার্চ, ১৬ ডিসেম্বরের বাংলাদেশ যখন আবার লড়াইয়ে ঘুরে দাঁড়াও, আমরাও সেই সাথে প্রত্যয় ঘোষণা করি ঘুরে দাঁড়ানোর, লড়াই করার। আমরা রাজনীতি সচেতন, কিন্তু কোনো রাজনৈতিক দলের লেজুড় নই। মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের যে রাজনীতি, আমাদের দর্শন তাই- জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র। সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী উগ্র সশস্ত্র জঙ্গিবাদ যখন বাংলাদেশের ওপর আঘাত হানতে উদ্যত, তখন আমরা জানবাজি লড়াইয়ে প্রস্তুত। বিশ্বমানবের পরম শত্র“ সাম্রাজ্যবাদ যখন বাংলাদেশ কিংবা সারা দুনিয়ার যেকোনো প্রান্তে তার বিষ নিঃশ্বাস ফেলে, আমরা বাংলাদেশের পক্ষে লড়াইয়ে প্রস্তুত। আমাদের সংহতি বাংলাদেশের সীমানা পেরিয়ে দুনিয়ার সেই প্রান্তের সেই আক্রান্ত মানবতার পক্ষে। বাংলাদেশের স্বকীয় সংস্কৃতিকে ধারণ করে আমাদের সম্মান দুনিয়ার সকল মানুষের নিজস্বতার প্রতি। আমাদের শেকড় কর্মযোগী কৃষক, খেতমজুর, শ্রমিকের শ্রমে গাঁথা। চিরবঞ্চিত ওই মেহনতি মানুষের জীবনদর্শনই আমাদের দর্শন। সব হাতে কাজ, সব মুখে ভাত আমাদের চাওয়া। বেকারত্বের নীল বিষে যুবককে তিলে তিলে মারে, আমাদের শক্তির উৎস সেই। শিক্ষার ওপর যখন সাম্প্রদায়িকতার আঁচড় নেমে আসে, আমরা উদ্বিগ্ন হই। শিক্ষাকে যখন মুনাফার পণ্যে পরিণত করা হয়, তার বিপরীতে আমরা চাই শিক্ষার দ্বার হোক অবারিত। মাতৃরূপী নারীকে যারা মানুষের বদলে ভোগের বস্তুরূপে দেখে, আমাদের সংগ্রাম সেই নরপশুদের বিরুদ্ধে। গ্রাম শহর, মেহনতি-মালিক, ধনী-গরিব, নারী-পুরুষ ইত্যকার সকল বৈষম্যের বিপরীতে আমরা চাই এক মহৎ মানবিক কল্যাণমুখী সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা। যে ব্যবস্থা প্রবর্তনে আমাদের পূর্বপুরুষরা লড়ে রচনা করেছিলেন শত বছরের সংগ্রামের ইতিহাস। আমরা সেই বাংলাদেশের মৈত্রী। সূর্যসেন, প্রীতিলতা, ক্ষুদিরাম, বিনয়, বাদল, দীনেশ, তিতুমীর, সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার, শফিউর, মোস্তফা, বাবুল, ওয়াজিউল্লাহ, আসাদ, মতিউর, একাত্তরের ত্রিশ লাখ শহিদ, মতিউল, কাদের, জয়নাল, দিপালী, কাঞ্চন, মিলন, নূর হোসেন, জামিল, রীমু, রূপম, ফারুক, আইয়ুব, পান্না, বাবলু, আসলাম, বারী, সেলিম, নাসিম, শামীম, রাসেল, সানি প্রমুখ বীর শহিদেরা আমাদের মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর প্রেরণা। আমরা সেই শহীদদের আত্মদানের মৈত্রী।

Photo
Photo
4/19/17
2 Photos - View album

Post has attachment
‘আমরা মৈত্রী’ সংগঠনের আত্মপ্রকাশ
........................
সমন্বয়ক রফিকুল ইসলাম সুজন
..................
নিজস্ব প্রতিবেদক : ‘আমরা মৈত্রী’ নামে নতুন একটি সামাজিক সংগঠন আত্মপ্রকাশ করেছে। ছাত্র মৈত্রীর সাবেক সভাপতি ও ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সাবেক সমন্বয়ক রফিকুল ইসলাম সুজনকে সমন্বয়ক করে বুধবার পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট সংগঠনের কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন : ছাত্র মৈত্রীর সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুক্তার হোসেন নাহিদ, ছাত্র মৈত্রীর সাবেক সভাপতি ও গণজাগরণ মঞ্চের অন্যতম সংগঠক বাপ্পাদিত্য বসু, ছাত্র মৈত্রীর সাবেক সহ সভাপতি শামীমা সুলতানা শাওন এবং ছাত্র মৈত্রীর সাবেক সহ সাধারণ সম্পাদক মনোজ বাড়ৈও। কেন্দ্রীয় এই সমন্বয় কমিটি আগামী ৬ মাসের মধ্যে সংগঠনের ঘোষণা কর্মসূচি ও গঠনতন্ত্র প্রণয়ন, সদস্য সংগ্রহ করে কনভেনশনের মধ্য দিয়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করবে। ঘোষণা কর্মসূচি ও গঠনতন্ত্র প্রণয়নের লক্ষ্যে ছাত্র মৈত্রীর সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা শহীদুল ইসলাম রাসুকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। সংগঠনের অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। সভায় সংগঠনের প্রধান সমন্বয়ক রফিকুল ইসলাম সুজন বলেন, ‘আমরা মৈত্রী’ রাজনীতি সচেতন একটি সামাজিক সংগঠন হলেও কোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের লেজুড়বৃত্তি করবে না। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে ‘আমরা মৈত্রী’ সামাজিক অসঙ্গতি, শিক্ষা সংকট, বেকারত্ব, সাম্প্রদায়িকতা, জঙ্গিবাদ, সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন, নারী নির্যাতনসহ নানামুখী সংকটের বিপরীতে সামাজিক শক্তির যুথবদ্ধতার ওপর গুরুত্বারোপ করবে। ‘আমরা মৈত্রী’ সংগঠনের ঘোষণায় বলা হয় : আমরা মৈত্রী। আমরা বাংলাদেশের মৈত্রী। যে বাংলাদেশ ১৯৭১ সালে জন্ম নিয়েছিল জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্রকে ভিত্তি করে, আমরা সেই বাংলাদেশের মৈত্রী। মুক্তিযুদ্ধের সেই বাংলাদেশ যখন ক্ষতবিক্ষত হয়, আমরাও তার সাথে ক্ষতবিক্ষত হই। একুশে ফেব্র“য়ারি, ২৬ মার্চ, ১৬ ডিসেম্বরের বাংলাদেশ যখন আবার লড়াইয়ে ঘুরে দাঁড়াও, আমরাও সেই সাথে প্রত্যয় ঘোষণা করি ঘুরে দাঁড়ানোর, লড়াই করার। আমরা রাজনীতি সচেতন, কিন্তু কোনো রাজনৈতিক দলের লেজুড় নই। মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের যে রাজনীতি, আমাদের দর্শন তাই- জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র। সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী উগ্র সশস্ত্র জঙ্গিবাদ যখন বাংলাদেশের ওপর আঘাত হানতে উদ্যত, তখন আমরা জানবাজি লড়াইয়ে প্রস্তুত। বিশ্বমানবের পরম শত্র“ সাম্রাজ্যবাদ যখন বাংলাদেশ কিংবা সারা দুনিয়ার যেকোনো প্রান্তে তার বিষ নিঃশ্বাস ফেলে, আমরা বাংলাদেশের পক্ষে লড়াইয়ে প্রস্তুত। আমাদের সংহতি বাংলাদেশের সীমানা পেরিয়ে দুনিয়ার সেই প্রান্তের সেই আক্রান্ত মানবতার পক্ষে। বাংলাদেশের স্বকীয় সংস্কৃতিকে ধারণ করে আমাদের সম্মান দুনিয়ার সকল মানুষের নিজস্বতার প্রতি। আমাদের শেকড় কর্মযোগী কৃষক, খেতমজুর, শ্রমিকের শ্রমে গাঁথা। চিরবঞ্চিত ওই মেহনতি মানুষের জীবনদর্শনই আমাদের দর্শন। সব হাতে কাজ, সব মুখে ভাত আমাদের চাওয়া। বেকারত্বের নীল বিষে যুবককে তিলে তিলে মারে, আমাদের শক্তির উৎস সেই। শিক্ষার ওপর যখন সাম্প্রদায়িকতার আঁচড় নেমে আসে, আমরা উদ্বিগ্ন হই। শিক্ষাকে যখন মুনাফার পণ্যে পরিণত করা হয়, তার বিপরীতে আমরা চাই শিক্ষার দ্বার হোক অবারিত। মাতৃরূপী নারীকে যারা মানুষের বদলে ভোগের বস্তুরূপে দেখে, আমাদের সংগ্রাম সেই নরপশুদের বিরুদ্ধে। গ্রাম শহর, মেহনতি-মালিক, ধনী-গরিব, নারী-পুরুষ ইত্যকার সকল বৈষম্যের বিপরীতে আমরা চাই এক মহৎ মানবিক কল্যাণমুখী সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা। যে ব্যবস্থা প্রবর্তনে আমাদের পূর্বপুরুষরা লড়ে রচনা করেছিলেন শত বছরের সংগ্রামের ইতিহাস। আমরা সেই বাংলাদেশের মৈত্রী। সূর্যসেন, প্রীতিলতা, ক্ষুদিরাম, বিনয়, বাদল, দীনেশ, তিতুমীর, সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার, শফিউর, মোস্তফা, বাবুল, ওয়াজিউল্লাহ, আসাদ, মতিউর, একাত্তরের ত্রিশ লাখ শহিদ, মতিউল, কাদের, জয়নাল, দিপালী, কাঞ্চন, মিলন, নূর হোসেন, জামিল, রীমু, রূপম, ফারুক, আইয়ুব, পান্না, বাবলু, আসলাম, বারী, সেলিম, নাসিম, শামীম, রাসেল, সানি প্রমুখ বীর শহিদেরা আমাদের মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর প্রেরণা। আমরা সেই শহীদদের আত্মদানের মৈত্রী।

Photo
Photo
4/19/17
2 Photos - View album

Post has shared content
অমেরিকাও তো জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কথা যেমন হেফাজত...
http://www.beshto.com/contentid/798909
বিশ্ব সাম্রজ্যবাদের মোড়ল অমেরিকার রাষ্ট্রীয় নীতিতে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ বিরোধী বক্তব্যে যেনো আগুন জ্বলে কিন্তু বিশ্বে জঙ্গিবাদ উত্থান পর্ব, লালল পালনকারী বা জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করার নেপথ্যে ওই পরমানু শক্তিধর রাষ্ট্রযন্ত্রেরও হাত রয়েছে। তারাই জঙ্গিবাদ সন্ত্রাসবাদ সৃষ্টি করে, কখনো সেই সৃষ্টিকারী জঙ্গিদের গায়ে তকমা লাগিয়ে অথবা জঙ্গিবাদ উস্কে দিয়ে, জঙ্গিবাদের ধুয়া তুলে দেশে দেশে যুদ্ধ বিগ্রহ আর দখলনীতি নতুন কিছু নয়। তাহলে কি হলো মুখে শুধু চাউর ঘটালো ‘ আমরা জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ বিরোধী ভূমিকায় অবর্তীন, অন্যদিকে মনে প্রাণে লালন ধারণ করে যদি অসভ্যতা,বর্বরতা সেক্ষেত্রে প্রশ্ন থেকেই যায়। এভাবে চলতে থাকলে হয়তবা একটা সময় ‘হেফাজত’ নামক গজিয়ে উঠা সংগঠনটি দেশ জিম্মিদশায় ফেলতে পারে! কারণ অতীতে এবং বর্তমান সময়ে হেফাজত’র কর্মকাণ্ড দেশপ্রেমিক জনগণ দেখেছে। তাদের আদর্শ,ধ্যান ধারনা, পরিকল্পনা এসব বাংলার মানুষের কাছে পরিস্কার। তবুও বার বার কেন নমনয়ী! তাদের সঙ্গে তো আদর্শিক কোনো ধরণের দেনদরবার হতে পারে না। বলাবাহুল্য, এ দেশে ধর্ম ব্যবসায়ীদের সর্বপ্রথম রাজনীতি বা সমাজে কারা প্রতিষ্ঠিত করার জায়গা তৈরি করে দিয়েছে। স্বাধীনতাত্তর বাংলাদেশে কারা প্রথম ধর্ম ব্যবসায়ের স্থানগুলো সুসজ্জিত করে দিয়েছিলো। কারা সর্বপ্রথম ধর্ম নিয়ে রাজনীতির নামে ব্যবসা শুরু করেছিলো। পরবর্তীতে কারো তাদের আরো পৃষ্ঠপোষকতা করে। এরপরে কারা তাদের ভীত আরো শক্তিশালী করার ক্ষেত্র তৈরি করে দিয়েছিলো। নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। যদিও ধর্ম নিয়ে যারাই ব্যবসা করে আসছে এবং তাদের পৃষ্ঠপোষক করছে, সেসব দল বা ব্যক্তিবর্গকে চরম খেসারত দিতে হয়, হচ্ছে,এটাই ইতিহাসের গতিপথ। ধর্ম ব্যবসায়ীদের রুখতে দেশের তারুণ্যের প্রবল শক্তি অকুতোভয়। ওইসব ধর্ম ব্যবসায়ীদের প্রতিরোধে দেশের ছাত্র, শিক্ষক, কৃষক, শ্রমিক, ব্যবসায়ী, মেহনতি মানুষ ঐক্যবদ্ধ। 

Post has attachment
অমেরিকাও তো জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কথা যেমন হেফাজত...
http://www.beshto.com/contentid/798909
বিশ্ব সাম্রজ্যবাদের মোড়ল অমেরিকার রাষ্ট্রীয় নীতিতে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ বিরোধী বক্তব্যে যেনো আগুন জ্বলে কিন্তু বিশ্বে জঙ্গিবাদ উত্থান পর্ব, লালল পালনকারী বা জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করার নেপথ্যে ওই পরমানু শক্তিধর রাষ্ট্রযন্ত্রেরও হাত রয়েছে। তারাই জঙ্গিবাদ সন্ত্রাসবাদ সৃষ্টি করে, কখনো সেই সৃষ্টিকারী জঙ্গিদের গায়ে তকমা লাগিয়ে অথবা জঙ্গিবাদ উস্কে দিয়ে, জঙ্গিবাদের ধুয়া তুলে দেশে দেশে যুদ্ধ বিগ্রহ আর দখলনীতি নতুন কিছু নয়। তাহলে কি হলো মুখে শুধু চাউর ঘটালো ‘ আমরা জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ বিরোধী ভূমিকায় অবর্তীন, অন্যদিকে মনে প্রাণে লালন ধারণ করে যদি অসভ্যতা,বর্বরতা সেক্ষেত্রে প্রশ্ন থেকেই যায়। এভাবে চলতে থাকলে হয়তবা একটা সময় ‘হেফাজত’ নামক গজিয়ে উঠা সংগঠনটি দেশ জিম্মিদশায় ফেলতে পারে! কারণ অতীতে এবং বর্তমান সময়ে হেফাজত’র কর্মকাণ্ড দেশপ্রেমিক জনগণ দেখেছে। তাদের আদর্শ,ধ্যান ধারনা, পরিকল্পনা এসব বাংলার মানুষের কাছে পরিস্কার। তবুও বার বার কেন নমনয়ী! তাদের সঙ্গে তো আদর্শিক কোনো ধরণের দেনদরবার হতে পারে না। বলাবাহুল্য, এ দেশে ধর্ম ব্যবসায়ীদের সর্বপ্রথম রাজনীতি বা সমাজে কারা প্রতিষ্ঠিত করার জায়গা তৈরি করে দিয়েছে। স্বাধীনতাত্তর বাংলাদেশে কারা প্রথম ধর্ম ব্যবসায়ের স্থানগুলো সুসজ্জিত করে দিয়েছিলো। কারা সর্বপ্রথম ধর্ম নিয়ে রাজনীতির নামে ব্যবসা শুরু করেছিলো। পরবর্তীতে কারো তাদের আরো পৃষ্ঠপোষকতা করে। এরপরে কারা তাদের ভীত আরো শক্তিশালী করার ক্ষেত্র তৈরি করে দিয়েছিলো। নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। যদিও ধর্ম নিয়ে যারাই ব্যবসা করে আসছে এবং তাদের পৃষ্ঠপোষক করছে, সেসব দল বা ব্যক্তিবর্গকে চরম খেসারত দিতে হয়, হচ্ছে,এটাই ইতিহাসের গতিপথ। ধর্ম ব্যবসায়ীদের রুখতে দেশের তারুণ্যের প্রবল শক্তি অকুতোভয়। ওইসব ধর্ম ব্যবসায়ীদের প্রতিরোধে দেশের ছাত্র, শিক্ষক, কৃষক, শ্রমিক, ব্যবসায়ী, মেহনতি মানুষ ঐক্যবদ্ধ। 

Post has shared content
উৎকণ্ঠাহীন দিনের প্রত্যাশা
http://www.beshto.com/contentid/798750
বাঙালির জীবনে অন্যরকম এক আবেদন নিয়ে আসে বৈশাখ। প্রত্যেকটি বাঙালির চাওয়া থাকে নতুন বছরটি অবশ্যই ভালো যাক। এই উদ্দেশ্য থেকেই গ্রামে গঞ্জে এবং হাল আমলে শহরেও ছড়িয়ে পড়েছে বৈশাখের উৎসব আয়োজন। স্বাগত বাংলা নববর্ষ ১৪২৪। আজ শুক্রবার পহেলা বৈশাখ। বাঙালি জনগোষ্ঠীর চৈত্রসংক্রান্তি, হালকাতা ও বর্ষবরণ উপলক্ষে নানা আয়োজন নিয়ে আজ সকাল থেকে বর্ণিল ও বর্ণাঢ্য উৎসবে মেতে উঠবে সারাদেশের মানুষ! টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া, রূপসা থেকে পাথুরিয়া সর্বত্রই বর্ষবরণ উৎসবের আমেজ! পাশাপাশি কামনা যেনো, অতীতের দুঃখ গ্লানি মুছে গিয়ে নতুন বছরে সুখ শান্তি বিরাজ করে। সামনে শান্তি ও সচ্ছলতার সাথে উৎকণ্ঠাহীন দিনের প্রত্যাশা একাত্তরের মুখপত্র ‘ দৈনিক বিপ্লবী বাংলাদেশ পত্রিকার’ পরিবারবর্গ।। নতুন বছর সবার জীবনে কল্যাণ নিয়ে আসুক। একেকটি জীবন হোক সুখের আধার। এই প্রত্যাশায় সবাইকে, শুভ নববর্ষ। বলাবাহুল্য, ‘হেফাজত’ নামক গজিয়ে ওঠা সংগঠন বাঙ্গালীর সংস্কৃতির ঘোরতর বিরোধী। এককথায় বলা যায় সভ্য সমাজ সভ্যতার উল্টো পথে হেঁটে চলাদের আস্ফালন বা হুঙ্কারও চলছে। তাদের এহেন বর্বরতা ঘূন্যতম বিষয়গুলো সমাজ সচেতনদের ভাবিয়ে তুলছে। ক্রমেই হেফাজতিদের আস্ফালনে রাজনৈতিক বিশ্লেষক, সাংস্কৃতিক গভেষকসহ মুক্ত চেতনার ব্যক্তিবর্গ হতাশ। যদিও এবারের বাংলা বর্ষবরণের অন্যতম অনুসঙ্গ মঙ্গল শোভাযাত্রা। ১৯৮৯ সাল থেকে মঙ্গল শোভাযাত্রা পহেলা বৈশাখের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। শুধুমাত্র ইউনেস্কোর স্বীকৃতির কারণেই নয়, জঙ্গিবাদ ও মৌলবোদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে মঙ্গল শোভাযাত্রা ভিন্ন রকমের গুরত্ব বহন করে বলে মন্তব্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের। ২০১৬ সালের নভেম্বরে ইউনেস্কো রিপ্রেজেন্টেটিভ লিস্ট অব ইনট্যানজিয়েবল কালচারাল হেরিটেজ অফ হিউমিনিটি’র তালিকায় বাংলাদেশের মঙ্গল শোভাযাত্রাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ইতিহাস ঘেটেঘুটে যতদূর জানা যায়, পহেলা বৈশাখ উদযাপনের সময় কাল প্রায় ৪৫১ বছরের অধিক পুরানো। ৯৬৩ হিজরী, ২ রবিউস সানী, ১৪ এপ্রিল ১৫৫৬ সালে প্রথম পহেলা বৈশাখ পালনের রেওয়াজ শুরু হয়। এ রেওয়াজ চালু করেন তৎকালীন সময়ের দিল্লীর সম্রাট জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ আকবর। সারা বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা বাঙালিরাও নিজ নিজ কমিউনিটিতে পালন করে পহেলা বৈশাখ। সেই হিসেবে পহেলা বৈশাখ হচ্ছে বাঙালিদের সার্বজনিন লোকউৎসব। গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জি অনুসারে এপ্রিল মাসের ১৪ ও ১৫ তারিখে পহেলা বৈশাখ পালন হয়। আধুনিক ও প্রাচীন সব পঞ্জিকাতেই এর মিল রয়েছে। তবে বাংলা একাডেমি প্রণীত বর্ষপঞ্জিতে ১৪ এপ্রিলকে পহেলা বৈশাখ নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের রাজনীতিতে চরম ক্রান্তিকাল বিরাজমান। মূলত : সঙস্কৃতি কৃষ্টি কালচার নিয়ে হেফাজত ইসলাম উদ্ধ্যত্বপূর্ন বক্তব্যে দেশের প্রগতিশীল ব্যক্তিবর্গসহ বিশিষ্টজনরা তীব্র ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আদর্শের রাজনীতির প্রতি তরুণদের চাহিদা রয়েছে । তারুণ্য সব সময়ই নিজের ক্ষুদ্র গণ্ডিকে ছাপিয়ে গিয়ে বৃহৎ ও মহৎ কিছু অর্জনে শরিক হতে চায়। এদিক থেকে দেশ ও মানুষের কল্যাণে বীরত্বপূর্ণ সংগ্রাম তাকে টানে। আর তাই একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে এ দেশের তরুণেরা দলমত নির্বিশেষে অকুতোভয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। বীরের সর্বশ্রেষ্ঠ ভূমিকা হলো আত্মত্যাগের মাধ্যমে বিজয় অর্জন। এদিকে, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ এক বিৃত্তিতে বলেছেন, তেঁতুল হুজুর গোষ্ঠী’ ছাড় পেলে আবার যুদ্ধে নামবে। আওয়ামী লীগের জোট শরিক দলটির সভাপতি হাসানুল হক ইনু ও সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার বুধবার এক বিবৃতিতে ‘তেঁতুল হুজুর গোষ্ঠী’র বিরুদ্ধে সবাই সোচ্চার হওয়ার আহ্বানও জানিয়েছে। জাসদের বিবৃতিতে বলা হয়, “তেঁতুল হুজুর গোষ্ঠীর রাজনৈতিক অবস্থান শুধু সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে ভাস্কর্য স্থাপনের বিরোধীই নয়, এই ‘তেঁতুল হুজুর গোষ্ঠী’ বাংলাদেশের স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলন, সকল গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল আন্দোলনবিরোধী অন্ধকারের শক্তি।” তাদের ‘তালেবান, আইএস, আল কায়দার বাংলাদেশি সংস্করণ’ আখ্যায়িত করে বিবৃতিতে বলা হয়, “তেঁতুল হুজুর গোষ্ঠীকে সামান্য ছাড় দেওয়া হলে তারা আবারও বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও সংবিধানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করবে।” আহমদ শফী নেতৃত্বাধীন হেফাজত ২০১৩ সালে ব্লগারদের শাস্তির দাবিতে ঢাকায় মতিঝিলে সমাবেশ ডেকে ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছিল। পরে পুলিশি অভিযানে তাদের তুলে দেওয়া হয়েছিল। ওই সময় আহমদ শফীর একটি ওয়াজে নারীদের তেঁতুলের সঙ্গে তুলনা করা হলে তাকে ‘তেঁতুল হুজুর’ নামে ডাকতে থাকেন অনেকে। এবার ভাস্কর্য অপসারণের দাবি জানিয়ে সেবারের মতো মতিঝিলে জড়ো হয়ে হুমকি দিয়ে আসছিল হেফাজত। বাংলাদেশ কমিউনিষ্ট পার্টি (সিপিবি) বিবৃত্তিতে বলেছেন, হেফাজতে মিতালি হবে আত্মঘাতী। সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম এবং সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবু জাফর আহমেদ ভাস্কর্য বিষয়ে বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর এ সিদ্ধান্তকে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারা থেকে পদস্খলন’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। বিবৃতিতে বলা হয়, এ ধরণের সিদ্ধান্ত অনেক ক্ষেত্রে পাকিস্তানি আমলের সাম্প্রদায়িক পশ্চাদপদতাকেও ছাড়িয়ে গেছে। “সাম্প্রদায়িকতা ও সাম্প্রদায়িক শক্তির কাছে আত্মসমর্পণ এবং তার সঙ্গে মিতালি স্থাপনের যে নীতি সরকার অনুসরণ করছে, তা একদিকে যেমন মুক্তিযুদ্ধের অবশিষ্ট অর্জনগুলোকে বিনষ্ট করবে, সঙ্গে সঙ্গে হবে চরম আত্মঘাতী।” এ ধরণের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের বিকাশ ও বিস্তারের ক্ষেত্র তৈরি করবে বলেও মনে করে সিপিবি। সিপিবির বিবৃতির আগে বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে ছাত্র ইউনিয়নও একই প্রতিক্রিয়া জানায়। ছাত্র ইউনিয়ন নেতারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কথা বললেও হেফাজতে ইসলামের মতো সংগঠনগুলোর দাবিতে তার সায় জঙ্গিবাদে মদদ জোগাবে। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ডাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন জায়গায় অনুষ্ঠান করতে পুলিশের অনুমতি না দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। নেতৃবৃন্দ বলেন, “প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠীর স্বার্থ চরিতার্থ করার পথে না হেঁটে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অসাম্প্রদায়িক সমাজ রাষ্ট্র বিনির্মাণের পথে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানাই।” অপরদিকে হেফাজতে ইসলামের দাবি মানার মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর দল আওয়ামী লীগকেই আদর্শিকভাবে ‘পরাজিত করেছেন’ বলে মন্তব্য এসেছে উদীচীর সমাবেশ থেকে। সুপ্রিম কোর্ট থেকে ভাস্কর্য সরানো এবং কওমি মাদ্রাসার সনদের স্বীকৃতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় ১৩ এপ্রিল বৃহস্পতিবার রাজধানীর শাহবাগে উদীচীর প্রতিবাদ সমাবেশে এই মন্তব্য করেন প্রকাশক রবীন আহসান। সমাবেশ থেকে ভাস্কর্য অপসারণ এবং পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠান ‘সঙ্কুচিত’ করা প্রতিরোধের আহ্বানও জানানো হয়। উদীচীর সমাবেশে রবীন আহসান বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাহক দাবিকারী প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণায় ভাস্কর্য সরানোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এটা আমাদের মাথা নত করার ইতিহাস । “হেফাজতিরা সারাদেশের ভাস্কর্য সরানোর যে পরিকল্পনা এঁটেছে, সেটার প্রথম বিজয় এটা। অপরাজেয় বাংলাসহ সব ভাস্কর্য সরানোর মাধ্যমে সেই পরিকল্পনা তারা বাস্তবায়ন করে ছাড়বে।” উদীচীর সভাপতি অধ্যাপক সফিউদ্দিন আহমদ প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, “আপনি এতদিনে কেন ভাস্কর্যের বিষয়ে বিরূপ মনোভাব প্রকাশ করছেন? হেফাজত তো আগে বলেছে, হেফাজতের আগে আপনি বলেন নাই কেন?” চট্টগ্রামে পহেলা বৈশাখের চিত্র নষ্ট করার প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা দুর্জয় প্রত্যয় নিয়ে বলছি, আমরা মঙ্গলযাত্রা বের করবই। আমরা কখনও কোনো বাধা বিপত্তিকে মানব না।” এদিকে,দীর্ঘ নিরবতার পর দেশের বাম ঘরোনার প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ রাজনীতিক বোদ্ধা ডাকসুর সাবেক ভিপি বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি কমরেড রাশেদ খান মেনন ‘হেফাজত’ বিষয়ক বক্তব্য দিলেন। সাম্যের সমাজ কায়েমে দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন সংগ্রামে অগ্রসেনানী কমরেড মেনন। বলা যায়, বামপন্থী রাজনীতির আরেক দিকপাল কমরেড রাশেদ খান মেনন। তিনি বলেছেন, হেফাজতের সঙ্গে আপস অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক চেতনাবোধকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। বলেন, ‘একটি মহল বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও ভাষার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এতে প্রগতিশীল শক্তির হাত সংকুচিত করবে। এজন্য এর বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। ১৩ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি প্রাঙ্গণে ‘ঢাকাবাসী’ আয়োজিত চৈত্র সংক্রান্তি উৎসব উপলক্ষে র‌্যালির উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন। কমরেড মেনন বলেন, চট্টগ্রামে বাঙালির লোকজ ঐতিহ্যের দেয়ালচিত্র পোড়া মোবিলের কালো আবরণে ঢেকে দেওয়া, সন্ধ্যার আগেই নববর্ষের উৎসব শেষ করতে বলা, এসব ঘটনাপ্রবাহ গণতান্ত্রিক চেতনাবোধকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। পহেলা বৈশাখ নিয়ে যা কিছু হচ্ছে, তা অশনিসংকেত। এটি সর্বজনীন ও অসাম্প্রদায়িক উৎসব। যারা এর বিরুদ্ধে কথা বলছে, তারা সম্প্রীতির শত্র“। এরা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করতে চায়। নারীদের এগিয়ে চলার পথ রুদ্ধ করতে চায়। অগ্রগতির পথে ব্যারিকেড দিতে চায়, তাই এদেরকে রুখে দাঁড়ানো ছাড়া আর কোনও পথ নেই।’ যাইহোক বাংলাদেশ বাংলাদেশ’র ভুখণ্ডের ইতিহাস নির্মাতার ক্ষেত্রে কমরেড রাশেদ খান মেনন’র ভূমিকা সময়ের সাহসী যোদ্ধা....অগ্রসেনানী। এদেশে জনকল্যানমুখী রাজনীতিতে কমরেড মেনন ইতিহাসের নানা স্তরে মাইলফলক ভূমিকা রেখেছেন। পরিশেষে ঐক্যের মিছিলে শামিল হওয়ার এখনই সময়। আর কোনো ধরণের কালক্ষেপন, ভুল সিদ্ধান্ত, মান অভিমান,মধ্যকার বিভেদ বিভাজনের রূপরেখা উপরে ফেলে কমরেড রাশেদ খান মেননদের এককাতারে একই প¬াটফর্মে আবদ্ধ হয়ে প্রতিবাদ,প্রতিরোধের দূর্গ গড়ে তোলার বিকল্প নেই। নইলে সমাজ সভ্যতা সবকিছু হয়তবা চলে যাবে নষ্টদের দখলে। যেভাবে হেফাজত এগুচ্ছে...। এক্ষেত্রে আপোষকামিতা ছুড়ে ফেলে নতুন বছরের শুরুতেই সর্বত্র সচেতনাবোধ জাগ্রত করে সাম্প্রদায়িক শক্তির আস্ফালন হুঙ্কার এর বিরুদ্ধে অসাম্প্রদায়িক শক্তির ছোয়ায় স্বপ্নের শান্তির সুখের বাংলাদেশ গড়ার পথ বেয়ে চলবে এই প্রত্যাশায়...। লেখক : আহমেদ জালাল ; নির্বাহী ও বার্তা প্রধান, একাত্তরের মুখপত্র ‘দৈনিক বিপ্লবী বাংলাদেশ’।

Post has attachment
উৎকণ্ঠাহীন দিনের প্রত্যাশা
http://www.beshto.com/contentid/798750
বাঙালির জীবনে অন্যরকম এক আবেদন নিয়ে আসে বৈশাখ। প্রত্যেকটি বাঙালির চাওয়া থাকে নতুন বছরটি অবশ্যই ভালো যাক। এই উদ্দেশ্য থেকেই গ্রামে গঞ্জে এবং হাল আমলে শহরেও ছড়িয়ে পড়েছে বৈশাখের উৎসব আয়োজন। স্বাগত বাংলা নববর্ষ ১৪২৪। আজ শুক্রবার পহেলা বৈশাখ। বাঙালি জনগোষ্ঠীর চৈত্রসংক্রান্তি, হালকাতা ও বর্ষবরণ উপলক্ষে নানা আয়োজন নিয়ে আজ সকাল থেকে বর্ণিল ও বর্ণাঢ্য উৎসবে মেতে উঠবে সারাদেশের মানুষ! টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া, রূপসা থেকে পাথুরিয়া সর্বত্রই বর্ষবরণ উৎসবের আমেজ! পাশাপাশি কামনা যেনো, অতীতের দুঃখ গ্লানি মুছে গিয়ে নতুন বছরে সুখ শান্তি বিরাজ করে। সামনে শান্তি ও সচ্ছলতার সাথে উৎকণ্ঠাহীন দিনের প্রত্যাশা একাত্তরের মুখপত্র ‘ দৈনিক বিপ্লবী বাংলাদেশ পত্রিকার’ পরিবারবর্গ।। নতুন বছর সবার জীবনে কল্যাণ নিয়ে আসুক। একেকটি জীবন হোক সুখের আধার। এই প্রত্যাশায় সবাইকে, শুভ নববর্ষ। বলাবাহুল্য, ‘হেফাজত’ নামক গজিয়ে ওঠা সংগঠন বাঙ্গালীর সংস্কৃতির ঘোরতর বিরোধী। এককথায় বলা যায় সভ্য সমাজ সভ্যতার উল্টো পথে হেঁটে চলাদের আস্ফালন বা হুঙ্কারও চলছে। তাদের এহেন বর্বরতা ঘূন্যতম বিষয়গুলো সমাজ সচেতনদের ভাবিয়ে তুলছে। ক্রমেই হেফাজতিদের আস্ফালনে রাজনৈতিক বিশ্লেষক, সাংস্কৃতিক গভেষকসহ মুক্ত চেতনার ব্যক্তিবর্গ হতাশ। যদিও এবারের বাংলা বর্ষবরণের অন্যতম অনুসঙ্গ মঙ্গল শোভাযাত্রা। ১৯৮৯ সাল থেকে মঙ্গল শোভাযাত্রা পহেলা বৈশাখের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। শুধুমাত্র ইউনেস্কোর স্বীকৃতির কারণেই নয়, জঙ্গিবাদ ও মৌলবোদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে মঙ্গল শোভাযাত্রা ভিন্ন রকমের গুরত্ব বহন করে বলে মন্তব্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের। ২০১৬ সালের নভেম্বরে ইউনেস্কো রিপ্রেজেন্টেটিভ লিস্ট অব ইনট্যানজিয়েবল কালচারাল হেরিটেজ অফ হিউমিনিটি’র তালিকায় বাংলাদেশের মঙ্গল শোভাযাত্রাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ইতিহাস ঘেটেঘুটে যতদূর জানা যায়, পহেলা বৈশাখ উদযাপনের সময় কাল প্রায় ৪৫১ বছরের অধিক পুরানো। ৯৬৩ হিজরী, ২ রবিউস সানী, ১৪ এপ্রিল ১৫৫৬ সালে প্রথম পহেলা বৈশাখ পালনের রেওয়াজ শুরু হয়। এ রেওয়াজ চালু করেন তৎকালীন সময়ের দিল্লীর সম্রাট জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ আকবর। সারা বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা বাঙালিরাও নিজ নিজ কমিউনিটিতে পালন করে পহেলা বৈশাখ। সেই হিসেবে পহেলা বৈশাখ হচ্ছে বাঙালিদের সার্বজনিন লোকউৎসব। গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জি অনুসারে এপ্রিল মাসের ১৪ ও ১৫ তারিখে পহেলা বৈশাখ পালন হয়। আধুনিক ও প্রাচীন সব পঞ্জিকাতেই এর মিল রয়েছে। তবে বাংলা একাডেমি প্রণীত বর্ষপঞ্জিতে ১৪ এপ্রিলকে পহেলা বৈশাখ নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের রাজনীতিতে চরম ক্রান্তিকাল বিরাজমান। মূলত : সঙস্কৃতি কৃষ্টি কালচার নিয়ে হেফাজত ইসলাম উদ্ধ্যত্বপূর্ন বক্তব্যে দেশের প্রগতিশীল ব্যক্তিবর্গসহ বিশিষ্টজনরা তীব্র ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আদর্শের রাজনীতির প্রতি তরুণদের চাহিদা রয়েছে । তারুণ্য সব সময়ই নিজের ক্ষুদ্র গণ্ডিকে ছাপিয়ে গিয়ে বৃহৎ ও মহৎ কিছু অর্জনে শরিক হতে চায়। এদিক থেকে দেশ ও মানুষের কল্যাণে বীরত্বপূর্ণ সংগ্রাম তাকে টানে। আর তাই একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে এ দেশের তরুণেরা দলমত নির্বিশেষে অকুতোভয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। বীরের সর্বশ্রেষ্ঠ ভূমিকা হলো আত্মত্যাগের মাধ্যমে বিজয় অর্জন। এদিকে, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ এক বিৃত্তিতে বলেছেন, তেঁতুল হুজুর গোষ্ঠী’ ছাড় পেলে আবার যুদ্ধে নামবে। আওয়ামী লীগের জোট শরিক দলটির সভাপতি হাসানুল হক ইনু ও সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার বুধবার এক বিবৃতিতে ‘তেঁতুল হুজুর গোষ্ঠী’র বিরুদ্ধে সবাই সোচ্চার হওয়ার আহ্বানও জানিয়েছে। জাসদের বিবৃতিতে বলা হয়, “তেঁতুল হুজুর গোষ্ঠীর রাজনৈতিক অবস্থান শুধু সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে ভাস্কর্য স্থাপনের বিরোধীই নয়, এই ‘তেঁতুল হুজুর গোষ্ঠী’ বাংলাদেশের স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলন, সকল গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল আন্দোলনবিরোধী অন্ধকারের শক্তি।” তাদের ‘তালেবান, আইএস, আল কায়দার বাংলাদেশি সংস্করণ’ আখ্যায়িত করে বিবৃতিতে বলা হয়, “তেঁতুল হুজুর গোষ্ঠীকে সামান্য ছাড় দেওয়া হলে তারা আবারও বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও সংবিধানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করবে।” আহমদ শফী নেতৃত্বাধীন হেফাজত ২০১৩ সালে ব্লগারদের শাস্তির দাবিতে ঢাকায় মতিঝিলে সমাবেশ ডেকে ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছিল। পরে পুলিশি অভিযানে তাদের তুলে দেওয়া হয়েছিল। ওই সময় আহমদ শফীর একটি ওয়াজে নারীদের তেঁতুলের সঙ্গে তুলনা করা হলে তাকে ‘তেঁতুল হুজুর’ নামে ডাকতে থাকেন অনেকে। এবার ভাস্কর্য অপসারণের দাবি জানিয়ে সেবারের মতো মতিঝিলে জড়ো হয়ে হুমকি দিয়ে আসছিল হেফাজত। বাংলাদেশ কমিউনিষ্ট পার্টি (সিপিবি) বিবৃত্তিতে বলেছেন, হেফাজতে মিতালি হবে আত্মঘাতী। সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম এবং সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবু জাফর আহমেদ ভাস্কর্য বিষয়ে বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর এ সিদ্ধান্তকে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারা থেকে পদস্খলন’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। বিবৃতিতে বলা হয়, এ ধরণের সিদ্ধান্ত অনেক ক্ষেত্রে পাকিস্তানি আমলের সাম্প্রদায়িক পশ্চাদপদতাকেও ছাড়িয়ে গেছে। “সাম্প্রদায়িকতা ও সাম্প্রদায়িক শক্তির কাছে আত্মসমর্পণ এবং তার সঙ্গে মিতালি স্থাপনের যে নীতি সরকার অনুসরণ করছে, তা একদিকে যেমন মুক্তিযুদ্ধের অবশিষ্ট অর্জনগুলোকে বিনষ্ট করবে, সঙ্গে সঙ্গে হবে চরম আত্মঘাতী।” এ ধরণের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের বিকাশ ও বিস্তারের ক্ষেত্র তৈরি করবে বলেও মনে করে সিপিবি। সিপিবির বিবৃতির আগে বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে ছাত্র ইউনিয়নও একই প্রতিক্রিয়া জানায়। ছাত্র ইউনিয়ন নেতারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কথা বললেও হেফাজতে ইসলামের মতো সংগঠনগুলোর দাবিতে তার সায় জঙ্গিবাদে মদদ জোগাবে। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ডাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন জায়গায় অনুষ্ঠান করতে পুলিশের অনুমতি না দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। নেতৃবৃন্দ বলেন, “প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠীর স্বার্থ চরিতার্থ করার পথে না হেঁটে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অসাম্প্রদায়িক সমাজ রাষ্ট্র বিনির্মাণের পথে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানাই।” অপরদিকে হেফাজতে ইসলামের দাবি মানার মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর দল আওয়ামী লীগকেই আদর্শিকভাবে ‘পরাজিত করেছেন’ বলে মন্তব্য এসেছে উদীচীর সমাবেশ থেকে। সুপ্রিম কোর্ট থেকে ভাস্কর্য সরানো এবং কওমি মাদ্রাসার সনদের স্বীকৃতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় ১৩ এপ্রিল বৃহস্পতিবার রাজধানীর শাহবাগে উদীচীর প্রতিবাদ সমাবেশে এই মন্তব্য করেন প্রকাশক রবীন আহসান। সমাবেশ থেকে ভাস্কর্য অপসারণ এবং পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠান ‘সঙ্কুচিত’ করা প্রতিরোধের আহ্বানও জানানো হয়। উদীচীর সমাবেশে রবীন আহসান বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাহক দাবিকারী প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণায় ভাস্কর্য সরানোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এটা আমাদের মাথা নত করার ইতিহাস । “হেফাজতিরা সারাদেশের ভাস্কর্য সরানোর যে পরিকল্পনা এঁটেছে, সেটার প্রথম বিজয় এটা। অপরাজেয় বাংলাসহ সব ভাস্কর্য সরানোর মাধ্যমে সেই পরিকল্পনা তারা বাস্তবায়ন করে ছাড়বে।” উদীচীর সভাপতি অধ্যাপক সফিউদ্দিন আহমদ প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, “আপনি এতদিনে কেন ভাস্কর্যের বিষয়ে বিরূপ মনোভাব প্রকাশ করছেন? হেফাজত তো আগে বলেছে, হেফাজতের আগে আপনি বলেন নাই কেন?” চট্টগ্রামে পহেলা বৈশাখের চিত্র নষ্ট করার প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা দুর্জয় প্রত্যয় নিয়ে বলছি, আমরা মঙ্গলযাত্রা বের করবই। আমরা কখনও কোনো বাধা বিপত্তিকে মানব না।” এদিকে,দীর্ঘ নিরবতার পর দেশের বাম ঘরোনার প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ রাজনীতিক বোদ্ধা ডাকসুর সাবেক ভিপি বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি কমরেড রাশেদ খান মেনন ‘হেফাজত’ বিষয়ক বক্তব্য দিলেন। সাম্যের সমাজ কায়েমে দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন সংগ্রামে অগ্রসেনানী কমরেড মেনন। বলা যায়, বামপন্থী রাজনীতির আরেক দিকপাল কমরেড রাশেদ খান মেনন। তিনি বলেছেন, হেফাজতের সঙ্গে আপস অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক চেতনাবোধকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। বলেন, ‘একটি মহল বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও ভাষার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এতে প্রগতিশীল শক্তির হাত সংকুচিত করবে। এজন্য এর বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। ১৩ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি প্রাঙ্গণে ‘ঢাকাবাসী’ আয়োজিত চৈত্র সংক্রান্তি উৎসব উপলক্ষে র‌্যালির উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন। কমরেড মেনন বলেন, চট্টগ্রামে বাঙালির লোকজ ঐতিহ্যের দেয়ালচিত্র পোড়া মোবিলের কালো আবরণে ঢেকে দেওয়া, সন্ধ্যার আগেই নববর্ষের উৎসব শেষ করতে বলা, এসব ঘটনাপ্রবাহ গণতান্ত্রিক চেতনাবোধকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। পহেলা বৈশাখ নিয়ে যা কিছু হচ্ছে, তা অশনিসংকেত। এটি সর্বজনীন ও অসাম্প্রদায়িক উৎসব। যারা এর বিরুদ্ধে কথা বলছে, তারা সম্প্রীতির শত্র“। এরা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করতে চায়। নারীদের এগিয়ে চলার পথ রুদ্ধ করতে চায়। অগ্রগতির পথে ব্যারিকেড দিতে চায়, তাই এদেরকে রুখে দাঁড়ানো ছাড়া আর কোনও পথ নেই।’ যাইহোক বাংলাদেশ বাংলাদেশ’র ভুখণ্ডের ইতিহাস নির্মাতার ক্ষেত্রে কমরেড রাশেদ খান মেনন’র ভূমিকা সময়ের সাহসী যোদ্ধা....অগ্রসেনানী। এদেশে জনকল্যানমুখী রাজনীতিতে কমরেড মেনন ইতিহাসের নানা স্তরে মাইলফলক ভূমিকা রেখেছেন। পরিশেষে ঐক্যের মিছিলে শামিল হওয়ার এখনই সময়। আর কোনো ধরণের কালক্ষেপন, ভুল সিদ্ধান্ত, মান অভিমান,মধ্যকার বিভেদ বিভাজনের রূপরেখা উপরে ফেলে কমরেড রাশেদ খান মেননদের এককাতারে একই প¬াটফর্মে আবদ্ধ হয়ে প্রতিবাদ,প্রতিরোধের দূর্গ গড়ে তোলার বিকল্প নেই। নইলে সমাজ সভ্যতা সবকিছু হয়তবা চলে যাবে নষ্টদের দখলে। যেভাবে হেফাজত এগুচ্ছে...। এক্ষেত্রে আপোষকামিতা ছুড়ে ফেলে নতুন বছরের শুরুতেই সর্বত্র সচেতনাবোধ জাগ্রত করে সাম্প্রদায়িক শক্তির আস্ফালন হুঙ্কার এর বিরুদ্ধে অসাম্প্রদায়িক শক্তির ছোয়ায় স্বপ্নের শান্তির সুখের বাংলাদেশ গড়ার পথ বেয়ে চলবে এই প্রত্যাশায়...। লেখক : আহমেদ জালাল ; নির্বাহী ও বার্তা প্রধান, একাত্তরের মুখপত্র ‘দৈনিক বিপ্লবী বাংলাদেশ’।

উৎকণ্ঠাহীন দিনের প্রত্যাশা
http://www.beshto.com/contentid/798750
বাঙালির জীবনে অন্যরকম এক আবেদন নিয়ে আসে বৈশাখ। প্রত্যেকটি বাঙালির চাওয়া থাকে নতুন বছরটি অবশ্যই ভালো যাক। এই উদ্দেশ্য থেকেই গ্রামে গঞ্জে এবং হাল আমলে শহরেও ছড়িয়ে পড়েছে বৈশাখের উৎসব আয়োজন। স্বাগত বাংলা নববর্ষ ১৪২৪। আজ শুক্রবার পহেলা বৈশাখ। বাঙালি জনগোষ্ঠীর চৈত্রসংক্রান্তি, হালকাতা ও বর্ষবরণ উপলক্ষে নানা আয়োজন নিয়ে আজ সকাল থেকে বর্ণিল ও বর্ণাঢ্য উৎসবে মেতে উঠবে সারাদেশের মানুষ! টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া, রূপসা থেকে পাথুরিয়া সর্বত্রই বর্ষবরণ উৎসবের আমেজ! পাশাপাশি কামনা যেনো, অতীতের দুঃখ গ্লানি মুছে গিয়ে নতুন বছরে সুখ শান্তি বিরাজ করে। সামনে শান্তি ও সচ্ছলতার সাথে উৎকণ্ঠাহীন দিনের প্রত্যাশা একাত্তরের মুখপত্র ‘ দৈনিক বিপ্লবী বাংলাদেশ পত্রিকার’ পরিবারবর্গ।। নতুন বছর সবার জীবনে কল্যাণ নিয়ে আসুক। একেকটি জীবন হোক সুখের আধার। এই প্রত্যাশায় সবাইকে, শুভ নববর্ষ। বলাবাহুল্য, ‘হেফাজত’ নামক গজিয়ে ওঠা সংগঠন বাঙ্গালীর সংস্কৃতির ঘোরতর বিরোধী। এককথায় বলা যায় সভ্য সমাজ সভ্যতার উল্টো পথে হেঁটে চলাদের আস্ফালন বা হুঙ্কারও চলছে। তাদের এহেন বর্বরতা ঘূন্যতম বিষয়গুলো সমাজ সচেতনদের ভাবিয়ে তুলছে। ক্রমেই হেফাজতিদের আস্ফালনে রাজনৈতিক বিশ্লেষক, সাংস্কৃতিক গভেষকসহ মুক্ত চেতনার ব্যক্তিবর্গ হতাশ। যদিও এবারের বাংলা বর্ষবরণের অন্যতম অনুসঙ্গ মঙ্গল শোভাযাত্রা। ১৯৮৯ সাল থেকে মঙ্গল শোভাযাত্রা পহেলা বৈশাখের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। শুধুমাত্র ইউনেস্কোর স্বীকৃতির কারণেই নয়, জঙ্গিবাদ ও মৌলবোদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে মঙ্গল শোভাযাত্রা ভিন্ন রকমের গুরত্ব বহন করে বলে মন্তব্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের। ২০১৬ সালের নভেম্বরে ইউনেস্কো রিপ্রেজেন্টেটিভ লিস্ট অব ইনট্যানজিয়েবল কালচারাল হেরিটেজ অফ হিউমিনিটি’র তালিকায় বাংলাদেশের মঙ্গল শোভাযাত্রাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ইতিহাস ঘেটেঘুটে যতদূর জানা যায়, পহেলা বৈশাখ উদযাপনের সময় কাল প্রায় ৪৫১ বছরের অধিক পুরানো। ৯৬৩ হিজরী, ২ রবিউস সানী, ১৪ এপ্রিল ১৫৫৬ সালে প্রথম পহেলা বৈশাখ পালনের রেওয়াজ শুরু হয়। এ রেওয়াজ চালু করেন তৎকালীন সময়ের দিল্লীর সম্রাট জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ আকবর। সারা বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা বাঙালিরাও নিজ নিজ কমিউনিটিতে পালন করে পহেলা বৈশাখ। সেই হিসেবে পহেলা বৈশাখ হচ্ছে বাঙালিদের সার্বজনিন লোকউৎসব। গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জি অনুসারে এপ্রিল মাসের ১৪ ও ১৫ তারিখে পহেলা বৈশাখ পালন হয়। আধুনিক ও প্রাচীন সব পঞ্জিকাতেই এর মিল রয়েছে। তবে বাংলা একাডেমি প্রণীত বর্ষপঞ্জিতে ১৪ এপ্রিলকে পহেলা বৈশাখ নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের রাজনীতিতে চরম ক্রান্তিকাল বিরাজমান। মূলত : সঙস্কৃতি কৃষ্টি কালচার নিয়ে হেফাজত ইসলাম উদ্ধ্যত্বপূর্ন বক্তব্যে দেশের প্রগতিশীল ব্যক্তিবর্গসহ বিশিষ্টজনরা তীব্র ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আদর্শের রাজনীতির প্রতি তরুণদের চাহিদা রয়েছে । তারুণ্য সব সময়ই নিজের ক্ষুদ্র গণ্ডিকে ছাপিয়ে গিয়ে বৃহৎ ও মহৎ কিছু অর্জনে শরিক হতে চায়। এদিক থেকে দেশ ও মানুষের কল্যাণে বীরত্বপূর্ণ সংগ্রাম তাকে টানে। আর তাই একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে এ দেশের তরুণেরা দলমত নির্বিশেষে অকুতোভয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। বীরের সর্বশ্রেষ্ঠ ভূমিকা হলো আত্মত্যাগের মাধ্যমে বিজয় অর্জন। এদিকে, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ এক বিৃত্তিতে বলেছেন, তেঁতুল হুজুর গোষ্ঠী’ ছাড় পেলে আবার যুদ্ধে নামবে। আওয়ামী লীগের জোট শরিক দলটির সভাপতি হাসানুল হক ইনু ও সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার বুধবার এক বিবৃতিতে ‘তেঁতুল হুজুর গোষ্ঠী’র বিরুদ্ধে সবাই সোচ্চার হওয়ার আহ্বানও জানিয়েছে। জাসদের বিবৃতিতে বলা হয়, “তেঁতুল হুজুর গোষ্ঠীর রাজনৈতিক অবস্থান শুধু সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে ভাস্কর্য স্থাপনের বিরোধীই নয়, এই ‘তেঁতুল হুজুর গোষ্ঠী’ বাংলাদেশের স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলন, সকল গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল আন্দোলনবিরোধী অন্ধকারের শক্তি।” তাদের ‘তালেবান, আইএস, আল কায়দার বাংলাদেশি সংস্করণ’ আখ্যায়িত করে বিবৃতিতে বলা হয়, “তেঁতুল হুজুর গোষ্ঠীকে সামান্য ছাড় দেওয়া হলে তারা আবারও বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও সংবিধানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করবে।” আহমদ শফী নেতৃত্বাধীন হেফাজত ২০১৩ সালে ব্লগারদের শাস্তির দাবিতে ঢাকায় মতিঝিলে সমাবেশ ডেকে ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছিল। পরে পুলিশি অভিযানে তাদের তুলে দেওয়া হয়েছিল। ওই সময় আহমদ শফীর একটি ওয়াজে নারীদের তেঁতুলের সঙ্গে তুলনা করা হলে তাকে ‘তেঁতুল হুজুর’ নামে ডাকতে থাকেন অনেকে। এবার ভাস্কর্য অপসারণের দাবি জানিয়ে সেবারের মতো মতিঝিলে জড়ো হয়ে হুমকি দিয়ে আসছিল হেফাজত। বাংলাদেশ কমিউনিষ্ট পার্টি (সিপিবি) বিবৃত্তিতে বলেছেন, হেফাজতে মিতালি হবে আত্মঘাতী। সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম এবং সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবু জাফর আহমেদ ভাস্কর্য বিষয়ে বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর এ সিদ্ধান্তকে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারা থেকে পদস্খলন’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। বিবৃতিতে বলা হয়, এ ধরণের সিদ্ধান্ত অনেক ক্ষেত্রে পাকিস্তানি আমলের সাম্প্রদায়িক পশ্চাদপদতাকেও ছাড়িয়ে গেছে। “সাম্প্রদায়িকতা ও সাম্প্রদায়িক শক্তির কাছে আত্মসমর্পণ এবং তার সঙ্গে মিতালি স্থাপনের যে নীতি সরকার অনুসরণ করছে, তা একদিকে যেমন মুক্তিযুদ্ধের অবশিষ্ট অর্জনগুলোকে বিনষ্ট করবে, সঙ্গে সঙ্গে হবে চরম আত্মঘাতী।” এ ধরণের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের বিকাশ ও বিস্তারের ক্ষেত্র তৈরি করবে বলেও মনে করে সিপিবি। সিপিবির বিবৃতির আগে বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে ছাত্র ইউনিয়নও একই প্রতিক্রিয়া জানায়। ছাত্র ইউনিয়ন নেতারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কথা বললেও হেফাজতে ইসলামের মতো সংগঠনগুলোর দাবিতে তার সায় জঙ্গিবাদে মদদ জোগাবে। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ডাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন জায়গায় অনুষ্ঠান করতে পুলিশের অনুমতি না দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। নেতৃবৃন্দ বলেন, “প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠীর স্বার্থ চরিতার্থ করার পথে না হেঁটে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অসাম্প্রদায়িক সমাজ রাষ্ট্র বিনির্মাণের পথে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানাই।” অপরদিকে হেফাজতে ইসলামের দাবি মানার মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর দল আওয়ামী লীগকেই আদর্শিকভাবে ‘পরাজিত করেছেন’ বলে মন্তব্য এসেছে উদীচীর সমাবেশ থেকে। সুপ্রিম কোর্ট থেকে ভাস্কর্য সরানো এবং কওমি মাদ্রাসার সনদের স্বীকৃতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় ১৩ এপ্রিল বৃহস্পতিবার রাজধানীর শাহবাগে উদীচীর প্রতিবাদ সমাবেশে এই মন্তব্য করেন প্রকাশক রবীন আহসান। সমাবেশ থেকে ভাস্কর্য অপসারণ এবং পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠান ‘সঙ্কুচিত’ করা প্রতিরোধের আহ্বানও জানানো হয়। উদীচীর সমাবেশে রবীন আহসান বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাহক দাবিকারী প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণায় ভাস্কর্য সরানোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এটা আমাদের মাথা নত করার ইতিহাস । “হেফাজতিরা সারাদেশের ভাস্কর্য সরানোর যে পরিকল্পনা এঁটেছে, সেটার প্রথম বিজয় এটা। অপরাজেয় বাংলাসহ সব ভাস্কর্য সরানোর মাধ্যমে সেই পরিকল্পনা তারা বাস্তবায়ন করে ছাড়বে।” উদীচীর সভাপতি অধ্যাপক সফিউদ্দিন আহমদ প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, “আপনি এতদিনে কেন ভাস্কর্যের বিষয়ে বিরূপ মনোভাব প্রকাশ করছেন? হেফাজত তো আগে বলেছে, হেফাজতের আগে আপনি বলেন নাই কেন?” চট্টগ্রামে পহেলা বৈশাখের চিত্র নষ্ট করার প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা দুর্জয় প্রত্যয় নিয়ে বলছি, আমরা মঙ্গলযাত্রা বের করবই। আমরা কখনও কোনো বাধা বিপত্তিকে মানব না।” এদিকে,দীর্ঘ নিরবতার পর দেশের বাম ঘরোনার প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ রাজনীতিক বোদ্ধা ডাকসুর সাবেক ভিপি বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি কমরেড রাশেদ খান মেনন ‘হেফাজত’ বিষয়ক বক্তব্য দিলেন। সাম্যের সমাজ কায়েমে দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন সংগ্রামে অগ্রসেনানী কমরেড মেনন। বলা যায়, বামপন্থী রাজনীতির আরেক দিকপাল কমরেড রাশেদ খান মেনন। তিনি বলেছেন, হেফাজতের সঙ্গে আপস অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক চেতনাবোধকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। বলেন, ‘একটি মহল বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও ভাষার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এতে প্রগতিশীল শক্তির হাত সংকুচিত করবে। এজন্য এর বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। ১৩ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি প্রাঙ্গণে ‘ঢাকাবাসী’ আয়োজিত চৈত্র সংক্রান্তি উৎসব উপলক্ষে র‌্যালির উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন। কমরেড মেনন বলেন, চট্টগ্রামে বাঙালির লোকজ ঐতিহ্যের দেয়ালচিত্র পোড়া মোবিলের কালো আবরণে ঢেকে দেওয়া, সন্ধ্যার আগেই নববর্ষের উৎসব শেষ করতে বলা, এসব ঘটনাপ্রবাহ গণতান্ত্রিক চেতনাবোধকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। পহেলা বৈশাখ নিয়ে যা কিছু হচ্ছে, তা অশনিসংকেত। এটি সর্বজনীন ও অসাম্প্রদায়িক উৎসব। যারা এর বিরুদ্ধে কথা বলছে, তারা সম্প্রীতির শত্র“। এরা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করতে চায়। নারীদের এগিয়ে চলার পথ রুদ্ধ করতে চায়। অগ্রগতির পথে ব্যারিকেড দিতে চায়, তাই এদেরকে রুখে দাঁড়ানো ছাড়া আর কোনও পথ নেই।’ যাইহোক বাংলাদেশ বাংলাদেশ’র ভুখণ্ডের ইতিহাস নির্মাতার ক্ষেত্রে কমরেড রাশেদ খান মেনন’র ভূমিকা সময়ের সাহসী যোদ্ধা....অগ্রসেনানী। এদেশে জনকল্যানমুখী রাজনীতিতে কমরেড মেনন ইতিহাসের নানা স্তরে মাইলফলক ভূমিকা রেখেছেন। পরিশেষে ঐক্যের মিছিলে শামিল হওয়ার এখনই সময়। আর কোনো ধরণের কালক্ষেপন, ভুল সিদ্ধান্ত, মান অভিমান,মধ্যকার বিভেদ বিভাজনের রূপরেখা উপরে ফেলে কমরেড রাশেদ খান মেননদের এককাতারে একই প¬াটফর্মে আবদ্ধ হয়ে প্রতিবাদ,প্রতিরোধের দূর্গ গড়ে তোলার বিকল্প নেই। নইলে সমাজ সভ্যতা সবকিছু হয়তবা চলে যাবে নষ্টদের দখলে। যেভাবে হেফাজত এগুচ্ছে...। এক্ষেত্রে আপোষকামিতা ছুড়ে ফেলে নতুন বছরের শুরুতেই সর্বত্র সচেতনাবোধ জাগ্রত করে সাম্প্রদায়িক শক্তির আস্ফালন হুঙ্কার এর বিরুদ্ধে অসাম্প্রদায়িক শক্তির ছোয়ায় স্বপ্নের শান্তির সুখের বাংলাদেশ গড়ার পথ বেয়ে চলবে এই প্রত্যাশায়...। লেখক : আহমেদ জালাল ; নির্বাহী ও বার্তা প্রধান, একাত্তরের মুখপত্র ‘দৈনিক বিপ্লবী বাংলাদেশ’।

Post has shared content
হেফাজতকে প্রতিরোধের দূর্গ গড়ে তোলার বিকল্প নেই
http://www.beshto.com/contentid/798729
দীর্ঘ নিরবতার পর দেশের বাম ঘরোনার প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ রাজনীতিক বোদ্ধা ডাকসুর সাবেক ভিপি বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি কমরেড রাশেদ খান মেনন ‘হেফাজত’ বিষয়ক বক্তব্য দিলেন। সাম্যের সমাজ কায়েমে দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন সংগ্রামে অগ্রসেনানী কমরেড মেনন। বলা যায়, বামপন্থী রাজনীতির আরেক দিকপাল কমরেড রাশেদ খান মেনন। তিনি বলেছেন, হেফাজতের সঙ্গে আপস অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক চেতনাবোধকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। বলেন, ‘একটি মহল বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও ভাষার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এতে প্রগতিশীল শক্তির হাত সংকুচিত করবে। এজন্য এর বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। ১৩ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি প্রাঙ্গণে ‘ঢাকাবাসী’ আয়োজিত চৈত্র সংক্রান্তি উৎসব উপলক্ষে র‌্যালির উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন। কমরেড মেনন বলেন, চট্টগ্রামে বাঙালির লোকজ ঐতিহ্যের দেয়ালচিত্র পোড়া মোবিলের কালো আবরণে ঢেকে দেওয়া, সন্ধ্যার আগেই নববর্ষের উৎসব শেষ করতে বলা, এসব ঘটনাপ্রবাহ গণতান্ত্রিক চেতনাবোধকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। পহেলা বৈশাখ নিয়ে যা কিছু হচ্ছে, তা অশনিসংকেত। এটি সর্বজনীন ও অসাম্প্রদায়িক উৎসব। যারা এর বিরুদ্ধে কথা বলছে, তারা সম্প্রীতির শত্র“। এরা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করতে চায়। নারীদের এগিয়ে চলার পথ রুদ্ধ করতে চায়। অগ্রগতির পথে ব্যারিকেড দিতে চায়, তাই এদেরকে রুখে দাঁড়ানো ছাড়া আর কোনও পথ নেই।’ যাইহোক বাংলাদেশ বাংলাদেশ’র ভুখণ্ডের ইতিহাস নির্মাতার ক্ষেত্রে কমরেড রাশেদ খান মেনন’র ভূমিকা সময়ের সাহসী যোদ্ধা....অগ্রসেনানী। এদেশে জনকল্যানমুখী রাজনীতিতে কমরেড মেনন ইতিহাসের নানা স্তরে মাইলফলক ভূমিকা রেখেছেন। পরিশেষে ঐক্যের মিছিলে শামিল হওয়ার এখনই সময়। আর কোনো ধরণের কালক্ষেপন, ভুল সিদ্ধান্ত, মান অভিমান,মধ্যকার বিভেদ বিভাজনের রূপরেখা উপরে ফেলে কমরেড রাশেদ খান মেননদের এককাতারে একই প্লাটফর্মে আবদ্ধ হয়ে প্রতিবাদ,প্রতিরোধের দূর্গ গড়ে তোলার বিকল্প নেই। নইলে সমাজ সভ্যতা সবকিছু হয়তবা চলে যাবে নষ্টদের দখলে। যেভাবে হেফাজত এগুচ্ছে...। এক্ষেত্রে আপোষকামিতা ছুড়ে ফেলে সর্বত্র সচেতনাবোধ জাগ্রত করে সাম্প্রদায়িক শক্তির আস্ফালন হুঙ্কার এর বিরুদ্ধে অসাম্প্রদায়িক শক্তির ছোয়ায় গড়বে স্বপ্নের শান্তির সুখের বাংলাদেশ। এবং একইসঙ্গে হেফাজতকে নিষিদ্ধ করা হোক এই প্রত্যাশায়...। জয় হোক মেহনতি মানুষের। Mail : ahmedjalalbsl@gmail.com
Wait while more posts are being loaded