Profile

Cover photo
Ahmed Jalal
Worked at www.sheershanews.com
Attends Bangladesh University of Engineering and Technology
Lived in Bangladesh
867 followers|290,104 views
AboutPostsPhotosVideos

Stream

Ahmed Jalal

Shared publicly  - 
 
 
 বরিশালে মাদক বাণিজ্যে’র শক্তিশালী নেটওয়ার্ক ................................ পর্দার অন্তরালে অস্ত্র ব্যবসা
http://www.beshto.com/contentid/753885
বরিশাল নগরীতে রমরমা মাদক বাণিজ্যে’র শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে। বিশেষ করে ইয়াবার নেটওয়ার্ক নগর পেরিয়ে পুরো বিভাগজুড়ে বি¯তৃত। বিশেষ করে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীরা বিকিনিতে নিত্য নতুন কৌশল অবলম্বন করে চলছে। যদিও মাদকের হোলসেলার কিংবা নেপথ্যে থেকে মাদক সাম্রাজ্য ধরে রাখতে ওইসব পর্দার অন্তরালে থাকারা সর্বদাই থাকছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। মাদক সম্রাটদের মধ্য আবার কেউ কেউ পর্দার অন্তরালে থেকে অস্ত্র ব্যবসা চালিয়ে আসার অভিযোগ রয়েছে। ওদিকে, মাঠ পর্যায়ে যারা মাদক বিকিকিনি করছে তারা মাছে মাঝে ধরা পড়ে। কিন্তু তাদেরকে বেশিদিন কারাগারে আটকে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। আইনের ফাঁকফোঁকর দিয়ে বেড়িয়ে ফের জড়িয়ে পড়ে মাদক বাণিজ্যে। একাধিক সূত্রের ভাষ্য, মাদক বিক্রেতারা আটক হলে পর্দার অন্তরালে থাকারাই তাদেরকে জামিনে বের করে আনার ব্যবস্থা করেন। সেক্ষেত্রে মাদক ব্যবসায়ীরা অনেকটা নির্ভয়ে মাদক বাণিজ্য চালিয়ে আসছে। আবার কখনো কখনো এমনও ঘটে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী পকেটে মাদক গুজে দিয়ে নিরাপরাধ কিশোর,যুবকদের জিম্মিদশায় রেখে মোটা অঙ্কের দেনদরবারে অর্থ হাতিয়ে নেয়ারও অভিযোগ রয়েছে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কতিপয় অসাধু পুলিশ সদস্য এসব বাণিজ্য করে পকেটে পুরে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা। আবার কাউকে হয়রানি করতে শত্র“পক্ষের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে নিরাপরাধ ব্যক্তিদেরও ফাঁসিয়ে দেয়ার চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছেন অসাধু পুলিশ সদস্যরা। যদিও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা স্বচ্ছতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে হার্ডলাইনে অবস্থান করছেন। এক্ষেত্রে বরিশাল মেট্টোপলিটনের চৌকশ পুলিশ কমিশনার এস.এম রুহুল আমিন অপরাধীদের বিষয়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। তিনি এখানে যোগদানের পর একদিকে কেউ যেন অন্যায়ভাবে হয়রানির শিকার না হয় অন্যদিকে অপরাধীদের কোনোভাবেই ছাড় দিতে নারাজ। এই চৌকশ পুলিশ কর্মকর্তার ভূমিকা ইতোমধ্যে জনমনে প্রশংসিত। সূত্র বলছে, গোলাপি রঙ্গের ছোট্ট বড়িটিকে কেউ বলে ইয়াবা, কেউ বলে জিপি, কেউ বলে হর্সপাওয়ার, কেউবা বলে বাবা, আবার কেউ কেউ আদর করেন ডাকেন মারহাবা কিংবা গুট্টি নামে। তবে যে নামেই ডাকা হোক না কেন বরিশালে ইয়াবা ‘বাবা’ নামেই সর্বাধিক পরিচিতি পেয়েছে। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পরিবর্তন এসেছে মাদকের ধরণ, চাহিদা, এমনকি সেবন ও বিস্তারে। আশির দশকের শুরুতে হেরোইন। একই দশকের শেষদিকে আসে ফেনসিডিল। আর ফেনসিডিলের মূল্যবৃদ্ধি কারণে নব্বই দশকের শেষদিকে আসে এই মরণনেশা ইয়াবা। প্রথমদিকে ইয়াবার বিষয়ে ততটা গুরুত্ব না দেয়ায় এর ভয়াবহ বিস্তার ঘটেছে গোটা দেশে। সময়ের ব্যবধানে এ রাজকীয় নেশা বর্তমানে মধ্যবিত্ত এমনকি নিম্নবিত্তকেও পেয়ে বসেছে। বরিশালে আশঙ্কাজনক হারে ছড়িয়ে পড়েছে ইয়াবা। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা গড়ে তোলে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক। “ফেন্সিডিলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে দিনে দিনে এই ইয়াবা আসক্তের সংখ্যা বাড়ছে”-এমনটাই ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। পুলিশের একটি সূত্রে জানা গেছে, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে ব্যবসায়ীসহ নানা শ্রেনী পেশার মানুষ ইয়াবার জালে জড়িয়ে পড়ছে। আর এই সুযোগে মাদকব্যবসায়ীরা নকল ও ভেজাল ইয়াবা বিক্রি করছে দেদারছে, যা স্বাস্থ্যের জন্য ভয়াবহ ক্ষতিকর। একটি সূত্র জানায়, বর্তমানে ৩২ ধরনের মাদক সেবন চলছে। এ পর্যন্ত ভিন্ন ভিন্ন নামের যেসব মাদক উদ্ধার হয়েছে সেগুলো হচ্ছে হেরোইন, গাঁজা, চোলাই মদ, দেশি মদ, বিদেশি মদ, বিয়ার, রেক্টিফায়েড স্পিরিট, কেডিন, ফেনসিডিল, তাড়ি, প্যাথেডিন, ব্রুপ্রেনরফিন, টিডি জেসিক, ভাঙ্, কোডিন ট্যাবলেট, ফারমেনটেড, ওয়াশ (জাওয়া), বনোজেসিক ইনজেকশন (ব্রুপ্রেনরফিন), টেরাহাইড্রোবানাবিল, মরফিন, ইয়াবা, আইসপিল, ভায়াগ্রা, সেনাগ্রা, টলুইন, পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট, মিথাইল, ইথানল ও কিটোন। এ ছাড়া ইনোকটিন, সিডাঙ্নিসহ বিভিন্ন ঘুমের ট্যাবলেট, জামবাকসহ ব্যথানাশক ওষুধ গ্রহণ করে কিংবা টিকটিকির লেজ পুড়িয়ে কেউ কেউ নেশা করে থাকে। অন্যদিকে মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের নামে নগরীতে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে নানা প্রতিষ্ঠান। কেন্দ্রগুলোতে নিরাময়ের নামে উল্টো মাদক ব্যবসা চলছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। অন্ধকার, স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ, জেলখানার মতো ছোট ছোট কক্ষে মাদকাসক্তদের তালাবন্দী রেখে চলছে তথাকথিত নিরাময় কেন্দ্রের চিকিৎসা। যতদূর জানা যায়. বরিশালে বেশ কয়েক জন ইয়াবার ডিলার রয়েছেন। এরমধ্যে দর্পন নামের এক ব্যক্তি অন্যতম। তিনি রাজধানীতে থাকেন। মাঝে মাঝে বরিশালে আসেন কাজ শেষ করে ফিরে যান। বরিশাল শিল্প নগরী (বিসিক) এলাকায় বাবুল সাম্প্রতিক সময়ে নগরীতে মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে অন্যতম। ভাটারখাল এলাকার চিহ্নিত বেশ কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী রয়েছেন। এদের মধ্যে অন্যতম লাবনী, মালেক ওরফে গাঁজা মালেক,রাজিব,স্বরোড এলাকায় নাছির,ইউনুস। বেলতলায় জুয়েল ওরফে ইলেকট্টিক জুয়েল,মরকখোলার পুলে রফিক ওরফে বাশ রফিক, কাউনিয়ায় মোহন ওরফে খাজা মোহন, গোড়াচাঁদ দাস রোডে লাকী ওরফে সুন্দরী লাকী.লিজা ওরফে মনিরা। উদয়ন স্কুল লাগায়ো সিটি মার্কেট ও আশপাশ এলাকায় মাদক বিক্রি করছে ব্রাউন কম্পাউন্ড ’র বাসিন্দা সান্টু। সদর রোডে চৌধুরী সরোয়ার বাবু। সিএন্ডবি ১ নং পুল এলাকায় মিরাজ,গীর্জা মহল্লায় সমিতা,বিএম কলেজ এলাকায় মেহেদি ও তসলিম। ভাটিখানা ও ব্যাঞ্চ রোড এলাকায় রয়েছেন বেশ কয়েক জন মাদক ব্যবসায়ী। এদের মধ্যে রয়েছেন সাগর ওরফে তেল সাগর। এরবাইরে নগরীতে মাঠ পর্যায়ে রয়েছে শতাধিক চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। গৌরনদী : বরিশালে সবচেয়ে বেশি ইয়াবা ও অন্যান্য মাদকদ্রব্য বিক্রি হয় গৌরনদী উপজেলায়। এই উপজেলার এমন কোন এলাকা নেই যেখানে মরণ নেশা ইয়াবা ট্যাবলেট, হেরোইন, ফেনসিডিল, গাঁজাসহ অন্যান্য মাদকদ্রব্য পাওয়া যায় না। বিশেষ করে উপজেলার নন্দনপট্টি, রাজাপুর, বেজগাতি, মোল্লাবাড়ি বাসষ্ট্যান্ড, কটকস্থল ও বার্থী এলাকায় দিনরাত সমানতালে ভ্রাম্যমান মাদকের হাট বসে। এছাড়াও উপজেলা ও পৌর এলাকার প্রায় ৩০টি স্পটে মাদকদ্রব্য বিক্রি হচ্ছে। প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত উপজেলার নন্দনপট্টি, রাজাপুর ও বেজগাতি গ্রামে বসে মাদকের ভ্রাম্যমান হাট। ওই এলাকার প্রভাবশালী এক ইউপি সদস্যর ছত্রছায়ায় এ মাদক ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে। তিনিই মাদকের ডিলার। তার অধীনে রয়েছে নারী, যুবক, কিশোরসহ বিভিন্ন স্কুল-কলেজে পড়–য়া প্রায় ৩০/৩৫ জন শিক্ষার্থী। ঝালকাঠি : ঝালকাঠি পৌর এলাকার রামনগর গ্রামের সাহা বাড়ীর মৃতঃ রনোজিৎ রায় এর ছেলে অসিম রায় ওরফে অসিম সাহা। ঝালকাঠি সদর বাস র্টারমিনালে ও নথুল্লাবাদ, কাশিপুর বাস র্টারমিনালে রেন্টেকার এর ড্রাইভার এর আড়ালে মাদক ব্যবসা দিীর্ঘ দিন ধরে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জোলায় মাদক ব্যবসা করে চলছে। আর এ মাদক ব্যবসা বন্ধের জন্য চাপ প্রয়োগ করলে উল্টো ওই মাদক ব্যবসায়ী অসিম এলাকাবাসীদের বিভিন্ন ভয়ভিতি ও মিথ্যা মামলার ফাঁসাবে বলে হুমকি দেয় । ড্রাইভার এর আড়ালে এলাকার শতাধিক স্পটে তার দোকান থেকে দেশি চোলাই মদ, হিরোইন, ফেন্সিডিল সহ নানা রকমের মাদক দ্রব্য বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। নথুল্লাবাদ বাস র্টামিনাল ,গরিয়ার পাড় ,কাশিপুরবাজার , রূপাতলি বাস টার্মিনাল তার মাদকের স্পট রয়েছে। সে দীর্ঘ দিন ধরে বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন নাম ধারণ করে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। তত্তাবধায়ক সরকার আমলে তার বিভিন্ন স্পট বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ভারত পালিয়ে যায়। আবার ভারত থেকে ফিরে এসে মাদক ব্যবসা করে আসছে । বানারীপাড়া : হাত বাড়ালেই পাওয়া যাচ্ছে গাঁজা, ফেন্সিডিল,ইয়াবা,রেকটিফাইড স্পিরিট ও কষ সহ নানা ধরনের মাদক দ্রব্য। নানা বয়স ও শ্রেনী পেশার মানুষ মাদকাসক্ত হয়ে ধীরে ধীরে পৌঁছে যাচ্ছে মৃত্যুর দুয়ারে। মাদক সেবনের ফলে অনেকেই ইতোমধ্যে চোখের দৃৃষ্টি শক্তি ও মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে অন্ধকার জগতের বাসিন্দা হয়েছেন। এলাকায় বেড়ে গেছে চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাই সহ নানা সন্ত্রাসী কর্মকান্ড। বানারীপাড়ায় মাদক সেবীদের পছন্দের তালিকার শীর্ষে রয়েছে গাঁজা, ইয়াবা, ফেন্সিডিল ও রেকটিফাইড স্পিরিট। পৌর শহর সহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অর্ধ শতাধিক স্পটে মাদক বিক্রি হয়। মাদক বিক্রির অন্যতম স্পট গুলো হলো পৌর শহরের কলেজ মোড়,মধুচাকের সামনের ও পিছনের সড়ক,মাছরং দেবুর মোড়, টিএন্ডটি মোড়,বাস স্ট্যান্ড,আলতা,উপজেলা পরিষদের পিছনের বাঁশ তলার মোড়,ঘোষের বাড়ি,রায়ের হাট,উত্তরপাড় বাজার ও জম্বদ্বীপ ব্রীজ। বরিশাল – বানারীপাড়া সড়কে প্রতিদিন ২০/২৫টি মটর সাইকেলে করে ফেন্সিডিল,’গাঁজা ও ইয়াবা বানারীপাড়া ও স্বরুপকাঠীতে নিয়ে আসার কাজে অর্ধশত মাদক সেবী ও মাদক ব্যবসায়ী যুবক সক্রিয় রয়েছে। ওই সড়কে বরিশালের গড়িয়ারপাড়,উজিপুরের গুঠিয়া, নারায়নপুর ও ঝালকাঠীর গুয়াচিত্রা বাজার থেকে এই মাদক হাত বদল হয়ে থাকে। বানারীপাড়া পৌর শহর সহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার সাইনবোর্ড ঝুঁলিয়ে নেপথ্যে রেকটিফাইড স্পিরিট বিক্রি করা হয়। যা স্থানীয় ভাবে আর.এস নামে পরিচিত। শুধু পৌর শহরেই নয় উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছে সর্বনাশা মাদক। এদিকে ড্যান্ডি নামক একধরনের কষ সাম্প্রতিক সময়ে মাদক সেবীদের কাছে প্রিয় হয়ে উঠেছে। পলি ব্যাগে কষ নিয়ে হাওয়া দিয়ে শ্বাস গ্রহন করে নেশা অনুভব করা হয়। কিশোরদের কাছে এটা বেশি প্রিয়। মাদক ব্যবসার সাথে সব সময় সরকারী দলের লোকজন জড়িত থাকে। যার ব্যত্যয় ঘটেনি এবারও। আ’লীগের দু’টি অঙ্গ সংগঠনের কয়েক শীর্ষ নেতা ও পৌর ছাত্র দলের এক শীর্ষ নেতা এ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন। আগৈলঝাড়া : আগৈলঝাড়ায় মাদক বিক্রি ও সেবনের কয়েকটি চিহ্নিত স্পট হচ্ছে গৈলা হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকা, গৈলা এতিমখানার পাশে, উপজেলা সদরের হেলিপ্যাড, উপজেলা সদরের কালীখোলা, পয়সারহাটের পূর্ব ও পশ্চিমপাড়ের ভ্যানস্ট্যান্ড, বাগধা, পাকুরিতা স্কুল এলাকা, জোবারপাড়-নাঘিরপাড়ের ব্রিজ ও স্কুল এলাকা, বড়মগরার উত্তরপাড়, আস্কর বাঁশতলা, কান্দিরপাড়, ছয়গ্রাম বন্দর, মিশ্রিপাড়া ও স্লুইজগেট, কালুরপাড়, সাহেবেরহাট, মাগুরা বাজার, ভালুকশী, পূর্ব সূজনকাঠী, রামেরবাজার, রামানন্দের আঁকসহ আরও কয়েকটি স্থানে প্রতিনিয়ত মাদকবিক্রি ও সেবন চলছে। টেকেরহাটে পুলিশ চেকপোস্ট বসার কারণে মাদক পাচারকারীরা আগৈলঝাড়ার আশেপাশে কোন পুলিশী চেকপোস্ট না থাকায় নিরাপদ ট্রানজিট হিসেবে এ রুটটি অধিক নিরাপদ হিসেবে ব্যবহার করছে। যশোর-গোপালগঞ্জ থেকে মাদকের চালান পয়সারহাট-আগৈলঝাড়া হয়ে মোটরসাইকেলে করে বরিশাল সদরসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় পাচার করে আসছে। মাঝে মাঝে পুলিশ চেকপোস্ট বসালে মাদক ব্যবসায়ীরা রুট পরিবর্তন করে ত্রিমুখী ও আমবৌলা খেয়াঘাট দিয়ে পারাপার করছে। ব্যবসায়ীরা রামশীল-রাজিহার-চাঁদশী হয়ে গৌরনদী ও রাজিহার থেকে ঘোষেরহাট রুট ব্যবহার করছে। এদিকে আগ্নেয়াস্ত্র! অস্ত্র ব্যবসায়ী। অস্ত্রই যেন ওদের অলঙ্কার। ওরা থাকেন পর্দার অন্তরালে। রক্তের হোলিখেলায় অস্ত্র বিকিকিনিতে থাকেন মত্ত। প্রতাপশালীদের ছত্রছায়ায়ই এহেন ব্যবসা করার অভিযোগ রয়েছে। বরিশালের বাজার রোডের ওমর ছিলেন ভয়ঙ্কর অস্ত্র ব্যবসায়ী। ক্রসফায়ারে নিহতের আগে অনেকেই জানতো না ওমরের পাইকারী অস্ত্র ব্যবসায়ের খবর। পর্দার অন্তরালে থেকেই চালিয়ে যেতেন অস্ত্র ব্যবসা। ওমর নেই কিন্তু থেমে নেই অস্ত্র ব্যবসা। পর্দার অন্তরালে থেকে বরিশাল অঞ্চলে চলছে এই অস্ত্র ব্যবসা। এক্ষেত্রে রাগব বোয়ালরা অন্তরালে থাকছে আর মাঠ পর্যায়ে সিন্ডিকেটের সদস্যদের অস্ত্র সরবরাহে কিংবা অপরাধ সাম্রাজ্যর আধিপত্য বিস্তারে সেনাপতির দায়িত্বে রাখা হয়েছে। যদিও এই অঞ্চলে স্বাধীনতার উষালগ্ন থেকেই অস্ত্রের ঝনঝনানি শুরু হয়। এরপর কত প্রাণ যে কেড়ে নিল হিসেব নেই তার। অবশ্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের স্বচ্ছতায় পথ বেয়ে চলায় বলা যায় বরিশাল আণ্ডারওয়ার্ল্ডের ভীত এখন নড়বড়ে। তবুও পর্দার অন্তরালে থাকা আন্ডারওয়ার্ল্ড নিয়ন্ত্রণে রাখাদের কলকাঠিতে মাঝে মাঝে নড়েচড়ে উঠে মাঠের সেনাপতিরা। এদের অনেকেই আবার কোনো না কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত। তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, বরিশাল অপরাধ সাম্রাজ্য মূলত রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী নেতারা নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। এদের আর্শিবাদপুষ্টরাই মাঠ পর্যায়ে কখনো কখনো অস্ত্রের মহড়ায় আতংকের জনপদে পরিণত করে। কখনো বয়ে দেয় রক্তের বন্যা। এরাই অপহরণে আদায়ে করে মুক্তিপণ,চাঁদাবাজী কিংবা আধিপত্য বিস্তারে খুন জখমের ঘটনার জন্ম দিচ্ছে। পর্দার অন্তরালে থাকারা তাদের কাছে অস্ত্র সরবরাহ অথবা বিক্রি করছে। দেশের পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে বরিশাল আণ্ডারওয়ার্ল্ডে থরকম্প শুরু হয়েছিলো। যা ছিলো এখানকার অপরাধ জগতে অপরাধীদের সবচেয়ে বিপদজনক সময়। তৎকালীন সময়ে আন্ডারওয়ার্ল্ডের অপরাধীরা বরিশাল ছেড়ে পালিয়ে নিরাপদে আশ্রয় নেয়। কেউ কেউ বিদেশে পাড়ি জমায়। তত্তাবধায়ক সরকার পরবর্তী অপরাধীদের অনেকেই নিজ এলাকায় ফিরে আসেন। কিন্তু আগের মতো দিনেদুপুরে প্রকাশ্যে গোলাগুলি, রাস্তা থেকে জোরপূর্বক সুন্দরী তরুণী তুলে নেয়ার নিত্য নৈমত্তিক ঘটনার বিপরীতে বর্তমান প্রেক্ষাপট। এরপরও মাঝে মাঝে এখানকার আণ্ডারওয়ার্ল্ডের সন্ত্রাসীরা নড়েচড়ে ওঠে। কখনো ঝাঁকুনি দেয় অপরাধজগত। বিদ্রোহ করে নিজেদের মধ্যকার কোন্দলে। আর এসব পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করছে রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা। এক্ষেত্রে দেশের বড় দুটি দলের নেতাদের আর্শিবাদপুষ্ঠরা এলাকা ভিত্তিক সেনাপতির দায়িত্বে রয়েছে । বিস্ময়কর হলেও সত্যি অপরাধ জগতের সঙ্গে সম্পূক্ত নগরীর বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান টিপু এখনো রয়েছেন বহাল তবিয়তে। যিনি তত্তাবধায়ক সরকারের আমলে আওয়ামী লীগতে লক্ষ্য করে সদর রোডে প্রকাশ্যে অস্ত্র উচিয়ে গুলিবর্ষন করেছিলো। সেই টিপু কি এমন কারিশমায় কৌশলী পন্থায় বহাল থেকে অপরাধ সাম্রাজ্য টিকিয়ে রখেছেন। বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আহসান হাবীব কামালের ঘনিষ্ঠ টিপু। এই সুবাধে নগর ভবনও অনেকটা নিয়ন্ত্রণ করছেন তিনি। সবমিলিয়ে অপরাধ সাম্রাজ্যের মূলৎপাটনে সরকারের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা স্বচ্ছতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বরিশালেও সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা অপরাধ সাম্রাজ্যের মূলৎপাটন করবেন এরকমই প্রত্যশা শান্তিপ্রিয় নারী পুরুষের।
 ·  Translate
বরিশাল নগরীতে রমরমা মাদক বাণিজ্যে’র শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে। বিশেষ করে ইয়াবার নেটওয়ার্ক নগর পেরিয়ে পুরো বিভাগজুড়ে বি¯তৃত। বিশেষ করে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীরা বিকিনিতে নিত্য নতুন কৌশল অবলম্বন করে...
View original post
1
Add a comment...

Ahmed Jalal

Shared publicly  - 
 
 
 ঘুষের বাজার : বরিশাল সেটেলমেন্ট অফিস
http://www.beshto.com/contentid/753882
ঘুষ আর ঘুষ। ঘুষের টাকা ছাড়া ফাইল নড়ে না বরিশাল সেটেলমেন্ট অফিসে। এই ঘুষ বাণিজ্যের হোতা অফিসের কর্তারা। দুর্নীতিতে আষ্টেপৃষ্টে লেগে থাকা এই অফিসের কর্তাদের রয়েছে পালিত দালাল চক্র। এদের মাধ্যমে ঘুষের লেনদেন করা হয়। এছাড়া অফিসের কর্মচারীরাও ঘুষ বাণিজ্যে বেশ মাতোয়ারা। এখানকার কর্তারা নিজেদের সাধু হিসেবে জাহির করে বাস্তবে ঘুষের টাকা চাই,দিতে হবে নইলে কোনো কাজ হবে না। জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এহেন ঘুষ বাণিজ্যে দিশোহারা সাধারণ জনগণ। সেবা নিতে এসে উল্টো হয়রানির শিকার হচ্ছে প্রতিনিয়ত। ভোগান্তি শেষ নেই। কিন্তু এই ভোগান্তি ও ঘুষ বাণিজ্যে থেকে পরিত্রানের উপায় কি? তাহলে সরকারের দায়িত্বশীলরা কি খাবি খাচ্ছে? প্রশ্ন ভুক্তভোগীদের। ঘুষ বাণিজ্যের নেতৃত্বে রয়েছেন ৬ কর্তা। এরা হলেন, সহকারী জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার (এ.এস.ও) মো. এনায়েত হোসেন,আঃ হালিম, শংকর নারায়ন দে, আঃ লতিফ চৌধুরী, উত্তম কুমার, আবুল হোসেন। এখানকার ঘুষ বাণিজ্যের বিষয়টি অপেন সিক্রেট। দীর্ঘ দিন ধরে এহেন ঘুষের কারবার চলে আসলেও এ যেন দেখার কেউ নেই। সরকারের দায়িত্বশীলরা রয়েছেন নিরব ভূমিকায়। মূলত: সবই চলছে ম্যানেজ প্রক্রিয়ায়। এরফলে বরিশাল জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসের ঘুষের বাজার বন্ধ হচ্ছে না। আর বন্দ হবে কিনা তাও সন্দিহান! এই অফিসে রয়েছে বেশ কয়েক জন দালাল। এদের মাধ্যমেই বেশিরভাগ ঘুষের লেনদেন হয়। অনুসন্ধানে জানা গেছে, অফিসে ছোট,মাঝারি ও বড় মাপের কর্মকর্তা ঘুষ বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনেক ক্ষেত্রে এসকল অসাধু কর্মকর্তা ৩০ ধারায় একটি মামলায় ২০ হাজার থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ভূক্তভোগীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে। ফলে প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছে অনেকে। সূত্র জানায়, এসব কর্মকর্তার যোগসাজশে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা সরকারি খাত থেকে হাতিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি বগুড়া-আলেকান্দা মৌজার ৩০ ধারা কার্যক্রম শুরু হয়। ওই এলাকার বাসিন্দা জমির মালিকানা তাদের সংশি¬ষ্ট কাগজপত্রাদি সংশোধনের লক্ষ্যে উঠে পরে লাগে। আবার অনেকে পক্ষ প্রতিপক্ষদের জমির উপর ৩০ ধারার মাধ্যমে আপত্তি জানায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে দক্ষিণ আলেকান্দা ১১ নং ওয়ার্ডের বসবাসকারী মো. জয়নাল বেপারী ক্রয়কৃত জমি তার প্রাক্তন মালিকের মাঠ জরিপে রেকর্ড হয়। কিন্তু বিষয়টি জয়নাল বেপারীর অজানা থাকে। পরে জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসের একটি নোটিশের মাধ্যমে অবগত হয়। তারই ধারাবাহিকতায় ৩০ ধারা অনুষ্ঠিতব্য শুনানীতে কাগজপত্র নিয়ে একসময় উপস্থিত হয় জয়নাল। ভূক্তভোগী জয়নাল অভিযোগ করে বলেন, তার ওই আপত্তি মামলা শুনানীর দায়িত্ব পালন করে শংকর নারায়ন দে ও আবুল হোসেন। শুনানী চলাকালীন ওই দুই কর্মকর্তা প্রকাশ্যে আমার কাছে ৪০ হাজার টাকা দাবি করে। এসময় আমি ৬ হাজার টাকা অফিসের ফান্ডে জমা দিয়েছি বললে মানতে চায়না তারা। তাদের দাবিকৃত টাকা না দিলে শুনানী পক্ষে হবেনা মর্মে প্রকাশ করে ফাইলটি রেখে দেয়। শুধু জয়নালই নয়, প্রতিনিয়ত অসাধু কর্মকর্তাদের রোষানলের শিকার হতে হয় প্রকৃত জমির মালিকদের। সরকারি নিয়ম-নীতি তোয়াক্কা না করে নিজেদের পকেট ভারী করতে সবসময় ব্যস্ত থাকে অসাধু চক্রটি। সংশি¬ষ্ট সূত্রে জানা যায়, সেটেলমেন্ট (ভূমি জরিপ) অফিসে উৎকোচ হোতা ওই কর্মকর্তাদের সঙ্গে সহযোগিতায় রয়েছে কয়েক জন চিহ্নিত দালাল। এই দালালরা মুখোশ পরিহিত ভদ্রলোক। বিভিন্ন ব্যানার সেটে কর্মকর্তাদের সঙ্গে আতাত করে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। এসকল দালালরা নিজেদেরকে বিভিন্নভাবে জাহির করে। বিভিন্ন ধরণের পরিচয়ে এরা দালালীপনা করে আসছেন। মাঠপর্যায়ে এদের দেখা না গেলেও বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গের নাম ব্যবহার করে ভূমি অফিসের দালালী কাজে লিপ্ত থাকে তারা। দালাল চক্রের মধ্যে অন্যতম রনি নামের এক যুবক। এই রনির বিরুদ্ধে রয়েছে অন্তহীন অভিযোগ। শুধু সেটেলমেন্ট অফিস নয়, বরিশালের বিভিন্ন দপ্তরের সংশি¬ষ্ট কর্মকর্তাদের নাম ভাঙ্গিয়ে দালালী করে আসছেন রনি। একসময়ে দালাল হিসেবে পরিচিত রনি রাজধানীতে ক্যানভাসার’র কাজ করতো। সে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পরিচয় দিয়ে সাধারণ জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছেন। আর হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা। এরবাইরে এই রনি বিভিন্ন মেয়েদের ব¬াকমেইলের ফাঁদে ফেলে অর্থ লুটে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। কোন ব্যক্তি ৩০ ধারায় উপস্থিত হলে তাদের কৌশলে বাগিয়ে নিয়ে চুক্তি করে। অনেক সময় ওই দালাল সদস্যেদের ফাঁদে পড়ে সর্বস্ব হারাচ্ছে অধিকাংশরাই। এ প্রসঙ্গে বরিশাল জোনাল সেটেলমেন্ট (উপ-সচিব) মো. এজাজ আহম্মেদ জাবের জানান, ঘুষ বাণিজ্যের বিষয়টি তার জানা নাই। কিন্তু বিনামূল্যে আপত্তি ফরম দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। সেক্ষেত্রে ৩০ ধারা শুনানীতে কোন প্রকারের লেনদেনের সুযোগ নেই। এসব প্রসঙ্গে সেটেলমেন্ট অফিসের শীর্ষ কর্মকর্তাদের আশু দৃষ্টি কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।
 ·  Translate
ঘুষ আর ঘুষ। ঘুষের টাকা ছাড়া ফাইল নড়ে না বরিশাল সেটেলমেন্ট অফিসে। এই ঘুষ বাণিজ্যের হোতা অফিসের কর্তারা। দুর্নীতিতে আষ্টেপৃষ্টে লেগে থাকা এই অফিসের কর্তাদের রয়েছে পালিত দালাল চক্র। এদের মাধ্যমে ঘুষের...
View original post
1
Add a comment...

Ahmed Jalal

Shared publicly  - 
 
 
আমার ধর্মের নাম সোজা ভাষায় মানবতা। আমি বলি মানববাদ। বুদ্ধিজীবীরা বলেন মানবতন্ত্র। অনেকে ভাবেন আমি বুঝি ধর্মগ্রন্থ
1 comment on original post
1
Add a comment...

Ahmed Jalal

Shared publicly  - 
 
  যেকোনো সময়ে বরিশাল মহানগর আ’লীগের কমিটি ঘোষণা.
http://www.times24.net/All_Bangla/26725/------
আহমেদ জালাল, টাইমস ২৪ ডটনেট, বরিশাল থেকে: বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের পূর্নাঙ্গ কমিটি গঠণ হলেও ঝুলে আছে মহানগর কমিটি। আওয়ামী রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন মহানগর কমিটির শীর্ষ পদে কে কে আসছেন এরকম প্রশ্ন নানা আলোচনায় আলোচিত হচ্ছে। বরিশালকে গোটা দক্ষিণাঞ্চল রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু বলা হয়। এখানকার রাজনীতির প্রভাব পড়ে পুরো বিভাগে। আর এ কারণে বরিশাল জেলা ও মহানগর রাজনীতির শীর্ষ পর্যায়ে নেতৃত্বে আসীন হওয়ার বিষয়টি স্ব স্ব দলের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ন বিষয়। সম্প্রতি জেলা আ’লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পর মধ্যকার রাজনীতির বিভাজনের একাংশ’র মাঝে নিরবে ক্ষোভ প্রকাশ করে। তাঁদের ভাষ্য, প্রয়াত নেতা শওকত হোসেন হিরণ অনুসারীদের জেলা কমিটিতে ঠাঁই পায়নি। অবশ্য মহানগর রাজনীতির শীর্ষ পদে আসীনে দীর্ঘ দিন ধরে দৌঁড়ঝাপ করে আসছিলেন এরমধ্যে কয়েক জন জেলা কমিটিতে ঠাঁই পেয়েছেন। এদের মধ্যে অন্যতম আ’লীগ নেতা জাহিদ ফারুক শামীম(কর্নেল অব:)। দলীয় সূত্র বলছে, যেকোনো সময়ে মহানগর আ’লীগের কমিটি ঘোষণা আসতে পারে। সেক্ষেত্রে শীর্ষ পদে কে কে ঠাঁই পাচ্ছেন এ নিয়ে চলছে নানা জল্পনা কল্পনা। জেলা কমিটি ঘোষণার পর জোরেশারো মহানগর আ’লীগের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে শীর্ষ পদে ঠাঁই পেতে লক্ষ্যনীয় দৌঁড়ঝাপ পরিলক্ষিত হচ্ছে। মহানগরের গুরুত্বপূর্ন পদে অধিষ্ঠিত হতে সম্ভাব্যরা নানামুখী কৌশলে রাজনীতির মাঠে পা রাখছেন। বিশেষ করে মহানগরের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদের লড়াইয়ের বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনায় আলোচিত। বলা যায়, দলের ভাইটাল পদে অভিষেক ঘটাতে আপ্রান চেষ্ট চালাচ্ছেন সম্ভাব্যরা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৩ সালের ২৭ ডিসেম্বর দলের সম্মেলনে অ্যাড. শওকত হোসেন হিরণ সভাপতি ও অ্যাড.আফজালুল করিমকে সাধারণ সম্পাদক করে বরিশাল মহানগর কমিটি গঠণ করা হয়। ২০১৪ সালের ৯ এপ্রিল অ্যাড.শওকত হোসেন হিরণ না ফেরার দেশে চলে যান। বলাবাহুল্য, অ্যাড.শওকত হোসেন হিরণ এরশাদ শাসনামলের শেষের দিকে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালে নির্বাচিত হন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এবং পরবর্তীতে সাংসদ। ১৯৯৮ সালে জাপার রাজনীতিকে গুড বাই জানিয়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যোগদান করেন হিরণ। এরপর মহানগরের দূর্বল আওয়ামী রাজনীতিকে সু সংগঠিত করে দল ও দলের বাইরেও নেতৃত্বের সুনাম কুড়ান। দলের হাইকমান্ডও হিরণ’র সাংগঠনিক কর্মকান্ডে ছিলেন মুগ্ধ। হিরণের অকাল মৃত্যুতে নেতৃত্ব শূন্য হ য ব র ল পরিস্থিতির মুখে পড়ে মহানগরের আওয়ামী রাজনীতি। ভেঙ্গে পড়ে দলের চেইন অব কমান্ড। সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজালুল করিমও বলেছেন,প্রয়াত নেতা শওকত হোসেন হিরণ’র মৃত্যুর পর দলে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। দলের জন্য যারা নিবেদিত তাদের ভাষ্য, যোগ্যদের নিয়ে দ্রুত কমিটি গঠণ করে সংগঠনকে গতিশীলের দিকে ধাবিত করাটা অত্যাবশ্যাক হয়ে পড়েছে। রাজনীতিকরা বলছেন, গঠনমূলক রাজনীতির মাধ্যমে দলকে গতিশীল করে শক্ত ভীতে দাড় করানো সম্ভব। আর গঠনমূলক রাজনীতি যারা করেন তারাই দলের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠেন। সেক্ষেত্রে দলের কমিটিতে সাংগঠনিক ব্যক্তিদের বেশি প্রয়োজন। কিন্তু মহানগরে শীর্ষ পদের লড়াইয়ে জনপ্রিয় নেতাদের অভাব রয়েছে। অবশ্য দলের মধ্যে ত্যাগী ও নিবেদিত অনেক নেতাকর্মী রয়েছেন। যারা দুর্দিনেও দলকে আগলে ধরে রেখেছেন। দলের জন্য রয়েছে অনেক ত্যাগ। তৃনমূল কর্মীদের দাবি যোগ্যদের ঠাঁই দিয়ে কমিটি গঠন হলে মহানগর আ’লীগের রাজনীতি আবার প্রাণ ফিরে পাবে। দলের একটি সূত্র বলছে, মহানগর কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করবে কেন্দ্রীয় কমিটি। মহানগর রাজনীতিতে শীর্ষ পদে আসীনে সম্ভাব্যদের মধ্যে রয়েছেন জেবুন্নেছা আফরোজ এমপি, বর্তমান মহানগর আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক আফজালুল করিম, সাবেক এসপি মাহবুবউদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম, একসময়ের তুখোড় ছাত্রনেতা আ’লীগ নেতা মাহামুদুল হক খান মামুন, যুবলীগের কেন্দ্রীয় সদস্য সাদিক আবদুল্লাহ, আওয়ামী লীগ নেতা শিল্পপতি মশিউর রহমান খান। এছাড়া বরিশাল সদর উপজেলা চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান রিন্টুর নামও মহল বিশেষ উচ্চারিত হচ্ছে। তিনি শীর্ষ পদে থাকতে লবিং চালাচ্ছেন বলে একটি সূত্র জানিয়েছেন। ওদিকে আরো আগেই প্রস্তাবিত কমিটির তালিকাও কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। সূত্র বলছে, প্রয়াত নেতা হিরণ’র অকাল মৃত্যুর পর সদর আসনের এমপি জেবুন্নেছা আফরোজকে সভাপতি অন্তর্ভুক্ত করে প্রস্তাবিত পূর্ণাঙ্গ কমিটি পুনরায় কেন্দ্রে পাঠানো হয়। সাধারণ সম্পাদক আফজালুল করিম’র ভাষ্য, প্রয়াত মেয়র শওকত হোসেন হিরণের সহধর্মীনিকে সভাপতি অন্তর্ভুক্ত করে পাঠানো কমিটি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এই গুরুত্বপূর্ন দুটি পদ নিয়েই আওয়ামী রাজনীতির মাঠে উত্তাপ ছড়াচ্ছে। কে হচ্ছেন সভাপতি? এমপি জেবুন্নেছা আফরোজ নাকি এরবাইরে চমকের মতো অন্য কেউ আসছেন? আর আফজালুল করিমই কি সাধারণ সম্পাদক পদে থাকছেন? নানা জনের নানা প্রশ্ন বিভিন্ন মহলে ধুমায়িত হচ্ছে। সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়েও বিভাজন চরমে। কেউ বলছেন, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক অ্যাড.আফজালুল করিমই বহাল থাকছেন। কেউ বলছে, যুবলীগের কেন্দ্রীয় সদস্য সাদিক আব্দুল¬াহ সাধারণ সম্পাদক হচ্ছেন। কোনটি চড়ান্ত,নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে গুরুত্বপূর্ন পদের লড়াইয়ে স্ব স্ব অনুসারীরা রাজনীতির মাঠে চাউর ঘটচ্ছে যে কমিটি চুড়ান্ত। তাদের নেতাই গুরুত্বপূর্ন পদ পাচ্ছেন। বলা হচ্ছে, এমপি জেবুন্নেছা আফরোজ সভাপতি আর অ্যাড.আফজালুল করিম সাধারণ সম্পাদক হচ্ছেন। অন্যদিকে চাউর ঘটানো হচ্ছে সাধারণ সম্পাদক পদে যুবলীগ নেতা সাদিক আব্দুল¬াহ’র অভিষেক ঘটতে যাচ্ছে। তাহলে আফজালুল করিম কি ছিটকে পড়বেন? রাজনীতির গতি প্রকৃতি কখন কোন দিকে মোড় নেয় বলা মশকিল। কার ললাটে জুটবে সাধারণ সম্পাদক পদ বিষয়টি পরিস্কার নয়। এরমধ্যে সদ্য ঘোষিত বরিশাল জেলা আ’লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সহ সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন কর্নেল (অব:) জাহিদ ফারুক শামীম। সেক্ষেত্রে রাজনীতির হিসেব নিকেশ পাল্টে যেতে যাচ্ছে। এদিকে,হিরণ’র প্রয়ানের পর যুবলীগ নেতা সাদিক আব্দুল¬াহমুখী রাজনীতিতে ভীড়েন ছাত্র যুবকদের একাংশ। কেউ কেউ বলছেন, বরিশাল মহানগর রাজনীতিতে সাদিক আব্দুল¬াহ গুরুত্বপূর্ন নেতার ভূমিকায় পথ বেয়ে চলছেন। ভক্তরা বলছে, সাদিক আব্দুল¬াহ সাংগঠনিকভাবেই এগুচ্ছেন। তিনি দলকে শক্তিশালী কাঠামোতে দাড় করাতে কাজ করে চলছেন। সবমিলিয়ে বরিশাল মহানগর রাজনীতির শীর্ষ পদে কে কে আসছেন নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে যোগ্য ও নিবেদিতরাই শীর্ষ পদে আসীন হবেন এরকমই ভাষ্য একাধিক সূত্রের। সংগঠনকে চাঙ্গা কিংবা গতিশীল করতে দলের নিবেদিত ব্যক্তিদের ঠাঁই দেয়া উচিৎ বলে মন্তব্য রাজনৈতিক বিশে-ষকদের। প্রসঙ্গত: ১৯৯৮ সালে গঠিত শহর কমিটি জোড়া তালি দিয়েই চলছিলো মহানগর আ’লীগের কার্যক্রম। অনেক আগে মারা গেছেন শহর কমিটির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান শাহজাহান। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর বরিশাল ছেড়ে ঢাকায় চলে যান শহর কমিটির সভাপতি অ্যাড. গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল। সেই থেকে তিনি আর বরিশালের রাজনীতিতে সম্পূক্ত হননি। ২০০৩ সালে শহর কমিটি ভেঙে গঠন করা হয় মহানগর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটি। আহবায়কের দায়িত্ব পান প্রয়াত নেতা শওকত হোসেন হিরন। দায়িত্ব পেয়ে দলকে গতিশীল করতে মাঠে নেমে পড়েন হিরণ। অতঃপর স্বল্প সময়ের মধ্যে নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করেন।
 ·  Translate
1
Add a comment...

Ahmed Jalal

Shared publicly  - 
 
 নিয়ম নীতির বালাই নেই
.http://www.times24.net/All_Bangla/26581/%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A6%AE-%E0%A6%A8%E0%A7%80%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%B0-%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%87-%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%87
আহমেদ জালাল, টাইমস ২৪ ডটনেট, বরিশাল থেকে: বরিশাল নগরীসহ পুরো বিভাগজুড়ে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠছে নানা কিসিমের মাদ্রাসা। নেই কোনো ধরণের নিয়ম নীতির বালাই। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তথা সরকারের দায়িত্বশীল কর্তা ব্যক্তিদের চোখ ফাঁকি দিয়ে গড়ে ওঠা এই সকল মাদ্রাসা হুমকিস্বরূপ। এসব মাদ্রাসা’র লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে পরিস্কার নয়। এরা খ্যাতনামা ধর্মীয় ব্যক্তিদের নাম ভাঙ্গিয়ে কৌশলী পন্থায় চাঁদাবাজি করে আসছে। অন্যদিকে কোমলমতি শিশুদের নানা প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন স্থান থেকে এনে নামকাওয়াস্তে সাইনবোর্ডের ব্যানার রেখে তাদের মাধ্যমেই রশিদ দিয়ে কৌশলে চাঁদাবাজি করানো হয়। কোমলমতি শিশুদের নেই কোনো জীবনের নিরাপত্তা। এদেরকে পাচারকারীদের হাতেও তুলে দিতে পারে কিংবা পরবর্তীতে গড়ে তোলা হয় জঙ্গিমনোভাবাপন্ন হিসেবে। অনুসন্ধানে এসব তথ্য বেড়িয়ে এসেছে। 
কেস স্টাডি-১: নগরীর রূপাতলী গ্যাস্টারবাইন এলাকায় মো: সলিম উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি বছর দুয়েক আগে গড়ে তুলেন নুরানী দারুল কুরআন হাফিজিয়া মাদ্রাসা। এই মাদ্রাসার পরিচালক সলিম উদ্দিন নিজেই। তিনি
আগে একটি মসজিদের ইমামতি করতেন বলে জানান। ইমামতিতে অযোগ্য বিবেচিত হওয়ায় নেমে পড়েন মাদ্রাসার নামে চাঁদাবাজিতে। যাইহোক ওই মাদ্রাসার পরিচালক সলিম আর সুপার তার মেয়ে হাফজা। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মাদ্রাসার সাইনবোর্ড ঝুঁলছে কিন্তু কোনো ছাত্র এবং শিক্ষক নেই। প্রথমে নুরানী দারুল কুরআন হাফিজিয়া মাদ্রাসা নামে সাইনবোর্ড ব্যবহার করে বিভাগের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বেশ কয়েক জন দালাল রেখে রশিদের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলন করে। সলিম উদ্দিনের পালিত দালালদের সঙ্গে অর্থের ভাগবাটোয়া নিয়ে দ্বন্দ্ব হলে মাদ্রাসার নাম পরিবর্তন করে ফেলেন তিনি। একই সঙ্গে আগের পালিত দালালদের বাদ দিয়ে নতুন দালাল নিযুক্ত করেন। আর মাদ্রাসার নাম পরিবর্তন করে নতুন নাম রাখেন হযরত কায়েদ সাহেব (রহ:) নূরানী হাফিজিয়া মহিলা মাদ্রাসা ও লিল্লাহ বোর্ডি এতিমখানা। কোন পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি পরিচালক সলিম উদ্দিন। হয়ে পড়েন কিংকতর্ব্যবিমূঢ! কি বলবেন ভেবে পাচ্ছিলেন না। একাধিকবার প্রশ্নের পর বললেন কিছু পড়াশুনা করেছি। পরিচালক সলিম উদ্দিনের মেয়ে হচ্ছেন মাদ্রাসার সুপার। বললেন, তার মেয়ে হাফেজ, ঢাকায় থাকেন। যদি তিনি ঢাকায় বসবাস করেন তাহলে সাইনবোর্ড সাটানো মাদ্রাসার সুপার হলেন কিভাবে এমন প্রশ্নে বললেন, আগে এখানে কয়েক জন ছাত্র ছিলো, রশিদের মাধ্যমে চাঁদা কালেকশন হতো, কিন্তু যারা চাঁদা কালেকশন করতো তারা অনেক টাকা মেরে দিয়েছে। এজন্য সে বেশিরভাগ সময়ই ঢাকায়ই থাকে। তবে মাঝে মাঝে এসে মাদ্রাসার খোঁজ খবর নেয়। মাদ্রাসার নামে অর্থ কালেকশন কে কে করতো এমন প্রশ্নে বললেন অনেকেই করতো, তাদের অধিকাংশই আমার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে তাদের নিজেদের আখের গুছিয়েছে। সূত্র নিশ্চিত করেছে, হযরত কায়েদ সাহেব (রহ:) এর সাইনবোর্ড সেটে দিয়ে বরিশাল অঞ্চলে দেদারসে রশিদের মাধ্যমে চাঁদাবাজি করে নিজের আখের গুছিয়েছেন শুক্কুর নামের এক ব্যক্তি। ওই মাদ্রাসার পরিচালক সলিম উদ্দিন বলেছেন, শুক্কুরসহ কয়েকজন অর্থ উত্তোলণ করে পকেটে পুরে নিয়েছেন। 
কেস স্টাডি-২: নগরীর রুপাতলী আহম্মদ মোল্লা সড়কে গড়ে উঠেছে এসহাকিয়া কারিমিয়া ক্বিরাতুল কুরআন মাদ্রাসা এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডি। সলিম উদ্দিনের দালাল ছিলো শুক্কুর। এই শুক্কুর হযরত কায়েদ সাহেব (রহ:) এর নাম ব্যবহার করে গড়ে উঠা মাদ্রাসা থেকে বেড়িয়ে এসে নিজেই গড়ে তুলেন এসহাকিয়া কারিমিয়া ক্বিরাতুল কুরআন মাদ্রাসা এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডি। একসময়ে শুক্কুর ভ্যান গাড়ি চালাতো। থাকতো চাঁদমারিতে। এরপর সলিম উদ্দিনের দালাল হিসেবে কাজ করতো। যাইহোক শুক্কুর নিজেই মাদ্রাসা গড়ে তুলে নেমে পড়েন চাঁদাবাজিতে। একাধিক সূত্র জানায়, শুক্কুর নাম পরিবর্তন করে রাখেন আব্দুল ইউসুফ। আবার নামের পিছনে জুড়ে দিয়েছেন ক্বারী শব্দ। এই মাদ্রাসায় রয়েছেন কয়েকজন শিক্ষক। এরমধ্যে এরশাদুল নামে একজন ধান্ধাবাজ রয়েছেন। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, কোমলমতি কয়েক জন শিশু রয়েছে। তাদেরকে হাতে লাঠি নিয়ে পাঠদান করছে এক কিশোর। ওই কিশোর জানায়, শুক্কুর নামে এখানে কোনো শিক্ষক নেই। তবে আব্দুল ইউসুফ নামে একজন ক্বারী রয়েছেন। তার ভাষ্য, ফেরদৌস নামের এক ব্যক্তি  কুরআন শিক্ষাবোর্ডের পরিচালক, সে আমার আপন ভাই, সেই সুবাধে আমি এখানে পাঠদান করাচ্ছি। বাকী শিক্ষকরা কোথায়? এবং তাদের সেল ফোন নাম্বার চাইলে ওই কিশোর জানায়, এই মুহুর্তে তাদের অবস্থান আমার জানা নেই। এবং তাদের সেল ফোন নাম্বারও আমার কাছে নেই। কিশোর আরো জানায়, আমি এখানের শিক্ষক নই, আমাকে রান্না করার জন্য রাখা হয়েছে। সূত্র জানায়, মাদ্রাসাটিতে ২০/২৫ শিশু অধ্যায়ন করছে। এদের মধ্যে সরেজমিনে কয়েক জনকে দেখা গেছে। এরা হলো পাথরঘাটার দেলোয়ার হোসেনের পুত্র আরিফ ও একই এলাকার সোবাহান হোসেনের পুত্র মনির হোসেন, কবির হোসেনের পুত্র শুক্কুর, মঠবাড়িয়ার এনায়েত হোসেনের পুত্র রাকিব। এসব প্রসঙ্গে শুক্কুর ও অন্যান্য শিক্ষকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে পাওয়া যায়নি। এদিকে, বরিশাল অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা থেকে এসব শিশুদের এনে কৌশলী পন্থায় রশিদ ধরিয়ে দিয়ে অর্থ উত্তোলণে নামানো হয়। এদের জীবনের নেই কোনো নিরাপত্তা। সচেতন মহলের প্রশ্ন এসব শিশুদেরকে তো পাচারও করতে পারে। বিপরীতদিকে এদেরকে জঙ্গিমনোভাবাপন্ন হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। অভিজ্ঞমহল বলছেন, বরিশালের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তথা সরকারের দায়িত্বশীল কর্তা ব্যক্তিদের কোনো ধরণের নিয়ম নীতির বালাই ছাড়া অলিগলিতে গড়ে ওঠা মাদ্রাসাগুলোর দিকে নজরদারী বাড়ানো দরকার।

টাইমস ২৪ ডটনেট/দুনিয়া/১২,৩৯৩
 ·  Translate
নিয়ম নীতির বালাই নেই - আহমেদ জালাল, টাইমস ২৪ ডটনেট, বরিশাল থেকে: বরিশাল নগরীসহ পুরো বিভাগজুড়ে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠছে নানা কিসিমের মাদ্রাসা। নেই কোনো ধরণের নিয়ম নীতির বালাই। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তথা সরকারের দায়িত্বশীল কর্তা
1
Add a comment...

Ahmed Jalal

Shared publicly  - 
 
 রতœগর্ভা বরিশালে মদ আর লাশের রাজনীতি!
চন্দ্রদ্বীপ থেকে বাকেরগঞ্জ তথা বরিশাল জেলায় বির্বতিত হতে এতদ্বঞ্চলের যে সকল রতœতুল্য সন্তানেরা ভূমিকা রেখেছেন এবং বরিশালের ইতিহাস - ঐতিহ্য, শিক্ষা - সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছেন, সেই সকল মনীষীদের অবদানকে বিসর্জন দিয়ে, আজ যেন সেই ঐতিহ্যকে ম্লান করে দেয়ার এক অদ্ভূত বাণিজ্যিক ও সন্ত্রাসী উন্মাদনায় মত্ত একদল স্বার্থান্বেসী।  ইতিহাস ঐতিহ্যের রতœগর্ভা বরিশালে স্বাধীনতাত্তর মদ আর লাশের রাজনীতি চলে আসছে। কত প্রাণ যে ঝরেছে! তা বেশুমার।
 ১৯৭৩ সালে বিএম কলেজ ক্যাম্পাসে সদরুল-নজরুল-সমরেশ হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে বরিশালে খুনের রাজনীতি শুরু হয়। ওই তিনটি হত্যাসহ অর্ধশতাধিক রাজনৈতিক নেতা-কর্মী খুন হলেও অধিকাংশেরই বিচার হয়নি। এরবাইরে আন্ডারওয়ার্ল্ডের আধিপত্য বিস্তারে বিশেষ করে বরিশালের উত্তরাঞ্চলে অসংখ্য খুনের ঘটনা ঘটে। রাজনৈতিক কিংবা আন্ডারওয়ার্ল্ডের আধিপত্য বিস্তারে সময়-অসময়ে অপরাধ জগতের সন্ত্রাসীরা নড়েচড়ে উঠে কিলিং মিশনে অংশ নেয়। একাধিক সূত্রের ভাষ্য, বরিশালে মদ আর লাশের রাজনীতির দৃষ্টান্ত রচিত হয়েছে। বরিশালে গত দু’বছরে একটি অভিজাত ক্লাবে দুইটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। যার পরিণতি ছিলো মৃত্যু। এসব মৃত্যু সমাজে অনেকের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে আছে। এরকম অস্বাভাবিক মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না যেন সচেতন মহল। নানা প্রশ্ন ঘুরে ফিরে আসে বার বার। তবে কি এসব অভিজাত ক্লাবে, আস্তানায়, পানশালায় মদ্য পানের ক্ষেত্রে কোনো রকমের নিয়ম নীতির বালাই নেই! যে কেউ ইচ্ছে করলেই অবাধে মদ্যপান সম্ভব? আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় এ ধরণের শৈথিল্য সামাজিক বিশৃঙ্খলার ক্ষেত্র তৈরি করে দেয়।  এ ক্ষেত্রে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা কোনোভাবেই সন্তোষজনক নয়। জনশ্র“তি আছে, বিগত কয়েক বছরে এরই সুযোগ নিচ্ছে  সমাজের রংচোরা কতিপয় মদ সন্ত্রাসী, সমাজের উচ্চ মহলের সান্নিধ্যে যারা লুকিয়ে থাকেন। প্রশ্ন হচ্ছে ওই দুটি মৃত্যুর ঘটনায় মদ্যপানের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কিনা? বিশেষ করে অধিক মদ্যপান খুনের কোনো কৌশল হিসেবে কাজ করছে কিনা? এরকম ষড়যন্ত্রের ফাঁদে পড়ে যখন কোনো জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতা বা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি সবাইকে ছেড়ে না ফেরার দেশে চলে যান, তখন সেই ক্ষতি সাধারণ মানুষ কিছুতেই মেনে নিতে চান না। এমন মৃত্যুর পিছনে তবে কি মদ্যপান অন্য রকম সন্ত্রাসের জায়গা তৈরি করে নিচ্ছে ? ওই সকল ঘটনায় যারা তৎসময়ে আক্রান্ত ব্যক্তির আশেপাশে ছিলেন তাঁদের ভূমিকা-ই বা কি  ছিলো ? ঘটনা পরবর্তীতে চিকিৎসার নামে যে ধরণের বিশৃঙ্খলা, বাঁধা,বিঘœ’র সৃষ্টি হয়েছে তা কি দৈব্যক্রমে নাকি এর পিছনেও কলকাঠি নেড়েছেন কেউ। বিষয়টি গভীরভাবে দেখা দরকার। জন আকাঙ্খার দিকে দৃষ্টি রেখে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী যথাযথভাবে গুরুত্ব  দিয়ে উপযুক্ত আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন এবং এসকল মৃত্যু রহস্য জনসাধারণের সামনে সঠিকভাবে তুলে ধরবেন এমনটাই আশা করেন সচেতন মহল। গর্বের বরিশালে এখন জনমনে সর্বত্র আতঙ্ক তাড়া করে ফিরছে। আতঙ্ক আর আতঙ্ক। হঠাৎ করেই অশান্ত জনপদে পরিণত হয়েছে বরিশাল। বলা যেতে পারে এটা সামাজিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে চরমভাবে অশনী সঙ্কেত। অশুভ শক্তির ঘেরাটোপে বন্দী যেন মানবতা। একদিকে দানবদের অট্টহাসি আরেকদিকে মানবতার ক্রন্দন। মানব, সমাজ ,সভ্যতা যেন অসভ্যদের কব্জায় চলে যাচ্ছে। জনতার উদ্বেগ উৎকন্ঠা কমছে না বরংচ পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। বরিশাল নগরীসহ পুরো বিভাগজুড়ে চরম এক অস্থিরতা বিরাজমান। আর এই অস্থিরতা শুধুই আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্রিক। ক্ষমতার দ্বন্দ্ব^। কখনো কখনো আধিপত্য বিস্তারে নেপথ্যে কলকাঠি নেড়ে আন্ডারওয়ার্ল্ডের সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করা হয়। ইদানিং বরিশাল নগরীতে ক্ষমতাসীন দল আ’লীগের মধ্যকার দ্বন্দ্ব সংঘাত চরমে। যদিও সংঘাতের কারণ একটি হত্যাকে কেন্দ্র করে। গত ১ জুন রাত ১০টার দিকে বরিশাল পলিটেকনিক কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক নেতা রেজাউল ইসলাম রেজাকে দুর্র্বৃত্তরা কুপিয়ে হত্যা করে। রেজা পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ভরিপাশা গ্রামের মৃত: আবদুল ছত্তারের ছেলে। এ ঘটনায় বরিশাল কোতোয়ালী মডেল থানায় নিহতের বড় ভাই রিয়াজুল ইসলাম বাদি হয়ে মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি মো: জসীম উদ্দিনসহ ১৪ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাইদুল, জাহিদ, রাকিব, যুবলীগ কর্মী মেহেদী হাসান ওরফে বড় মেহেদী, ছোট মেহেদী, রুহুল প্রমুখ। প্রসঙ্গত : রেজা ছিলেন প্রয়াত মেয়র শওকত হোসেন হিরণ’র অনুসারী। সঙ্গত কারণেই মহানগর ছাত্রলীগ সভাপতি জসিমের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে উঠে। প্রয়াত নেতা হিরণ পরপারে পাড়ি দেয়ার পর নেতৃত্ব শূন্যতায় বরিশালে বিশেষ করে হিরণ অনুসারীদের অবস্থা সাগরে হাবুডুবু খাওয়ার মতো। অনেকটা কিংকর্তব্যবিমূঢ়! কেউ কেউ ভিড়ে যায় দলের ম্যধকার বিভাজনের বিরোধী শিবিরে। এরকম পরিস্থিতিতে উচ্চতর শিক্ষায় রেজা রাজধানীতে বসবাস করে আসছিলেন। একপর্যায়ে রেজাকে কাছে টেনে নেন জসিম বিরোধী শিবির জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক। যিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্য নির্বাহী কমিটির সদস্য ও এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর ভক্ত। বরিশাল আ’লীগের অভিভাবক খ্যাত হাসানাত আব্দুল্লাহ’র জেষ্ঠ্য পুত্র যুবলীগের কেন্দ্রীয় সদস্য সেরনিয়াবাত সাদেক আব্দুল্লাহর অনুসারী হিসেবে পরিচিত রাজ্জাক। রেজাকে বরিশালে নিয়ে আসার কারণ : রেজা বরিশাল পলিটেকনিক কলেজ ইনস্টিটিউটের ছাত্র থাকাবস্থায় ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলো। ঢাকা থেকে নিয়ে আসার পর কলেজটিকে দেখভাল করার দায়িত্ব দেয়া হয় রেজাকে। সাংগঠনিক দক্ষতায় পুরো ক্যাম্পাস রেজার নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। ভেতরে ভেতরে কোনো এক মহল নানা ছকও কষছে কিভাবে রেজার নিয়ন্ত্রণ কিংবা আধিপত্য বিস্তার খর্ব করা যায়। ওদিকে, রেজার সঙ্গে ক্যাম্পাসের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে মনস্তাতিক লড়াই চলে আসছিলো সাদিক আব্দুল্লাহ’র আরেক অনুসারী ছাত্রলীগ নেতা রাজিব হোসেনের। উভয়ই চাচ্ছিল তাদের পছন্দের নেতৃত্ব কলেজ ক্যাম্পাসের রাজনীতিতে ঠাঁই দিতে। দ্বন্ব প্রকট আকার ধারণ করলে উভয়ই স্ব স্ব সমর্থক নিয়ে মোটরসাইকেলে চেপে সাদিক আব্দুল্লাহ’র কালি বাড়ি রোডস্থ বাসভবনমুখী হন। মূলত: মধ্যকার দ্বন্দ্বের অবসানের জন্য তাদের নেতার বাসায় গিয়েছিলেন। নেতার বাসায় বসেই রেজা ও রাজিবের মধ্যে বাকযুদ্ধ ঘটে। কিছু সময় অবস্থানের পর প্রথমে মোটরসাইকেলে চেপে বেড়িয়ে পড়েন রাজিব। কিছুক্ষণ পর বের হন রেজা। ক্যাম্পাসে পৌঁছামাত্রা পূর্ব থেকে ওৎপেতে থাকা দুর্বৃত্তরা রেজা ও তার সমর্থকদের উপর পৈশাচিক কায়দায় হামলে পড়ে। কুপিয়ে হত্যা করে রেজাকে। তাহলে প্রশ্ন উঠতেই পারে রেজা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে রাজিব দ্বন্দ্ব ইস্যু ব্যবহার করা হয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে রেজা-রাজিব দ্বন্দ্বে আব্দুর রাজ্জাকের কি ভূমিকা ছিলো। তিনি সমাধানের পথে আসেননি নাকি দ্বন্দ্ব জিইয়ে রাখতে চেয়েছিলেন? হয়তবা সমাধানের চেষ্টা করে সফল হতে পারেননি রাজ্জাক এমনও তো হতে পারে। আবার রেজা রাজিবের মধ্যকার দ্বন্দ্বের এহেন মোক্ষম সময়ে সাদিক আব্দুল্লাহকে বিতর্কের আবর্তে জড়াতে দলের অন্য কোনো গ্র“প কিলিং মিশন’র জন্ম দিলো। কথা উঠেছে, রেজা মহানগর ছাত্রলীগ সভাপতি জসিম উদ্দিন বলয় থেকে রাজ্জাক বলয়ে ইন হওয়ার পর একটা লড়াই চলছিলো।  ক্ষোভ জন্মে কখন বাগে পাওয়া যায়। ক্ষেপে যান জসিম ও তার সহযোগীরা। এ কারণে হয়তবা জসিম মোক্ষম সময় হিসেবে রেজা রাজিবের দ্বন্দ্ব ইস্যুকে পুঁজি করে নেপথ্যে কলকাঠি নেড়ে টার্গেট বাস্তবায়ন করেছিলেন। একজনের বলয় থেকে আরেকজনের বলয়ে যাওয়ার কারণে নির্মমভাবে খুনের নেশায় মত্ত নাও থাকতে পারেন জসিম। থাকতেও পারেন। রাজনীতিকরা বলছেন, রাজনৈতিক টার্গেট কিলিং মিশনের শিকার ছাত্রনেতা রেজাউল ইসলাম রেজা। যাইহোক হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে বরিশাল আওয়ামী রাজনীতি এলাহীকাণ্ডে পরিণত। উত্তপ্ত আওয়ামী লীগের রাজনীতির মাঠ। রাজপথে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচী। বিশেষ করে জসিম উদ্দিনকে হত্যাকাণ্ডে আসামি করায় ঘোলাটে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।  জসিম সোশ্যাল মিডিয়ায় বরিশাল আ’লীগের অভিভাবক আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ’র পরিবারের বিরুদ্ধে বিষোদগারমূলক স্ট্যাটাসও দেয়।  যা বিভিন্ন পত্রিকায় শিরোনামে রূপ নেয়। জসিম সমর্থকরা চাউর ঘটায় হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জসিমের কোনো ধরণের সম্পূক্ততা নেই। হত্যাকাণ্ড বিষয়ে জসিম সমর্থকরা মাঠে নামে। বিপরীতদিকে জসিমকে গ্রেপ্তারের দাবিতে রাজপথে নেমে পড়ে আ’লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। কিন্তু মাঠের শক্তি প্রদর্শনে আসামি জসিম সমর্থকরা মার খাচ্ছে। জসিম বিরোধী নেতাকর্মীদের ভাষ্য, নিহতের পরিবার জসিমকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছে। আর এই হত্যাকাণ্ডের কলকাঠি নেড়েছেও জসিম। ওই ছাত্রলীগ নেতাকে খুনি হিসেবে আখ্যায়িত করে বলছেন,জসিম নিজেকে রক্ষায় মাঠে সহযোগীদের নামিয়ে অশান্ত ও নৈরাজ্যকর পরিবেশ সৃষ্টির পাঁয়তারা করে আসছে। এদিকে, ইতোমধ্যে হত্যা মামলার দু’আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এরা হলেন মেহেদি হাসান ও কালা জাহিদ। এরমধ্যে জাহিদের ১৬১ ধারায় পুলিশ এবং ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দী রেকর্ড করা হয়েছে। জবানবন্দীতে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে জাহিদ ওরফে কালা জাহিদ। স্বীকারোক্তিতে হত্যার সাথে জড়িত প্রায় ২০ জনের নাম প্রকাশ করেছেন জাহিদ। এদের মধ্যে সাইদুর রহমান, জাহিদ নিজে, রাকিব, রাজিব, মেহেদী ওরফে ছোট মেহেদী, মেহেদী ওরফে বড় মেহেদী, ফয়সাল, কনক, মূসা, বেল¬াল, জিতু, রুহুল, মুন্না, খলিল, ছোট ফয়সালসহ ২০জনের কিলিং মিশনে অংশ গ্রহনের কথা স্বীকার করেছে জাহিদ। তবে কি ছাত্রনেতা রেজা হত্যাকাণ্ডও কি শেষমেষ তিমিরেই ঢাকা পড়বে? এই হত্যাকাণ্ডের ঘাতকরা যাতে কোনোভাবেই পাড় পেয়ে না যেতে পারে এরকম আশা আম জনতার। সবমিলিয়ে বরিশালে মদ সন্ত্রাস আর খুন সন্ত্রাসের রাজনীতির বলয় থেকে বেড়িয়ে নতুন সমাজ বির্নিমাণের পথ বেয়ে চলবে রাজনীতিবিদরা এরকমই প্রত্যাশা শান্তিপ্রিয় নারী পুরুষের। প্রসঙ্গত: বরিশালের আদি নাম চন্দ্রদ্বীপ। দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় মুসলিম আধিপত্য বিস্তারকালে রাজা দনুজমর্দন কর্তৃক ‘চন্দ্রদ্বীপ' নামে স্বাধীন রাজ্যটি প্রতিষ্ঠিত হয়। চতুর্দশ শতাব্দী পর্যন্ত এ অঞ্চল চ›                                                  দ্রদ্বীপ নামে প্রসিদ্ধি লাভ করে। রাজ্য প্রতিষ্ঠার পূর্বে এ অঞ্চল ‘বাকলা' নামে পরিচিত ছিল। ‘বাকলা' অর্থ শস্য ব্যবসায়ী যা আরবী শব্দ থেকে আগত। জনৈক ড. কানুনগো নামীয় এক ব্যক্তি বাকলা বন্দর নির্মাণ করেন। এ সামুদ্রিক বন্দরে আরব ও পারস্যের বণিকরা বাণিজ্য করতে আসতেন। অতি প্রাচীন বৈদেশিক মানচিত্রে বাকলা-চন্দ্রদ্বীপ নাম বড় অক্ষরে অঙ্কিত দেখা যায়। ১৭৯৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এ জেলা বাকলা-চন্দ্রদ্বীপ নামে পরিচিত ছিল। ১৭৯৭ খ্রিস্টাব্দে ঢাকা জেলার দক্ষিণাঞ্চল নিয়ে বাকেরগঞ্জ জেলা প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৮০১ সালে জেলার সদর দপ্তর বাকেরগঞ্জ জেলাকে বরিশালে (গিরদে বন্দর) স্থানান্তরিত করা হয়।
 ·  Translate
1
Add a comment...

Ahmed Jalal

Shared publicly  - 
 
 বরিশালে মাদক বাণিজ্যে’র শক্তিশালী নেটওয়ার্ক ................................ পর্দার অন্তরালে অস্ত্র ব্যবসা
http://www.beshto.com/contentid/753885
বরিশাল নগরীতে রমরমা মাদক বাণিজ্যে’র শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে। বিশেষ করে ইয়াবার নেটওয়ার্ক নগর পেরিয়ে পুরো বিভাগজুড়ে বি¯তৃত। বিশেষ করে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীরা বিকিনিতে নিত্য নতুন কৌশল অবলম্বন করে চলছে। যদিও মাদকের হোলসেলার কিংবা নেপথ্যে থেকে মাদক সাম্রাজ্য ধরে রাখতে ওইসব পর্দার অন্তরালে থাকারা সর্বদাই থাকছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। মাদক সম্রাটদের মধ্য আবার কেউ কেউ পর্দার অন্তরালে থেকে অস্ত্র ব্যবসা চালিয়ে আসার অভিযোগ রয়েছে। ওদিকে, মাঠ পর্যায়ে যারা মাদক বিকিকিনি করছে তারা মাছে মাঝে ধরা পড়ে। কিন্তু তাদেরকে বেশিদিন কারাগারে আটকে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। আইনের ফাঁকফোঁকর দিয়ে বেড়িয়ে ফের জড়িয়ে পড়ে মাদক বাণিজ্যে। একাধিক সূত্রের ভাষ্য, মাদক বিক্রেতারা আটক হলে পর্দার অন্তরালে থাকারাই তাদেরকে জামিনে বের করে আনার ব্যবস্থা করেন। সেক্ষেত্রে মাদক ব্যবসায়ীরা অনেকটা নির্ভয়ে মাদক বাণিজ্য চালিয়ে আসছে। আবার কখনো কখনো এমনও ঘটে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী পকেটে মাদক গুজে দিয়ে নিরাপরাধ কিশোর,যুবকদের জিম্মিদশায় রেখে মোটা অঙ্কের দেনদরবারে অর্থ হাতিয়ে নেয়ারও অভিযোগ রয়েছে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কতিপয় অসাধু পুলিশ সদস্য এসব বাণিজ্য করে পকেটে পুরে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা। আবার কাউকে হয়রানি করতে শত্র“পক্ষের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে নিরাপরাধ ব্যক্তিদেরও ফাঁসিয়ে দেয়ার চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছেন অসাধু পুলিশ সদস্যরা। যদিও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা স্বচ্ছতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে হার্ডলাইনে অবস্থান করছেন। এক্ষেত্রে বরিশাল মেট্টোপলিটনের চৌকশ পুলিশ কমিশনার এস.এম রুহুল আমিন অপরাধীদের বিষয়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। তিনি এখানে যোগদানের পর একদিকে কেউ যেন অন্যায়ভাবে হয়রানির শিকার না হয় অন্যদিকে অপরাধীদের কোনোভাবেই ছাড় দিতে নারাজ। এই চৌকশ পুলিশ কর্মকর্তার ভূমিকা ইতোমধ্যে জনমনে প্রশংসিত। সূত্র বলছে, গোলাপি রঙ্গের ছোট্ট বড়িটিকে কেউ বলে ইয়াবা, কেউ বলে জিপি, কেউ বলে হর্সপাওয়ার, কেউবা বলে বাবা, আবার কেউ কেউ আদর করেন ডাকেন মারহাবা কিংবা গুট্টি নামে। তবে যে নামেই ডাকা হোক না কেন বরিশালে ইয়াবা ‘বাবা’ নামেই সর্বাধিক পরিচিতি পেয়েছে। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পরিবর্তন এসেছে মাদকের ধরণ, চাহিদা, এমনকি সেবন ও বিস্তারে। আশির দশকের শুরুতে হেরোইন। একই দশকের শেষদিকে আসে ফেনসিডিল। আর ফেনসিডিলের মূল্যবৃদ্ধি কারণে নব্বই দশকের শেষদিকে আসে এই মরণনেশা ইয়াবা। প্রথমদিকে ইয়াবার বিষয়ে ততটা গুরুত্ব না দেয়ায় এর ভয়াবহ বিস্তার ঘটেছে গোটা দেশে। সময়ের ব্যবধানে এ রাজকীয় নেশা বর্তমানে মধ্যবিত্ত এমনকি নিম্নবিত্তকেও পেয়ে বসেছে। বরিশালে আশঙ্কাজনক হারে ছড়িয়ে পড়েছে ইয়াবা। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা গড়ে তোলে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক। “ফেন্সিডিলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে দিনে দিনে এই ইয়াবা আসক্তের সংখ্যা বাড়ছে”-এমনটাই ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। পুলিশের একটি সূত্রে জানা গেছে, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে ব্যবসায়ীসহ নানা শ্রেনী পেশার মানুষ ইয়াবার জালে জড়িয়ে পড়ছে। আর এই সুযোগে মাদকব্যবসায়ীরা নকল ও ভেজাল ইয়াবা বিক্রি করছে দেদারছে, যা স্বাস্থ্যের জন্য ভয়াবহ ক্ষতিকর। একটি সূত্র জানায়, বর্তমানে ৩২ ধরনের মাদক সেবন চলছে। এ পর্যন্ত ভিন্ন ভিন্ন নামের যেসব মাদক উদ্ধার হয়েছে সেগুলো হচ্ছে হেরোইন, গাঁজা, চোলাই মদ, দেশি মদ, বিদেশি মদ, বিয়ার, রেক্টিফায়েড স্পিরিট, কেডিন, ফেনসিডিল, তাড়ি, প্যাথেডিন, ব্রুপ্রেনরফিন, টিডি জেসিক, ভাঙ্, কোডিন ট্যাবলেট, ফারমেনটেড, ওয়াশ (জাওয়া), বনোজেসিক ইনজেকশন (ব্রুপ্রেনরফিন), টেরাহাইড্রোবানাবিল, মরফিন, ইয়াবা, আইসপিল, ভায়াগ্রা, সেনাগ্রা, টলুইন, পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট, মিথাইল, ইথানল ও কিটোন। এ ছাড়া ইনোকটিন, সিডাঙ্নিসহ বিভিন্ন ঘুমের ট্যাবলেট, জামবাকসহ ব্যথানাশক ওষুধ গ্রহণ করে কিংবা টিকটিকির লেজ পুড়িয়ে কেউ কেউ নেশা করে থাকে। অন্যদিকে মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের নামে নগরীতে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে নানা প্রতিষ্ঠান। কেন্দ্রগুলোতে নিরাময়ের নামে উল্টো মাদক ব্যবসা চলছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। অন্ধকার, স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ, জেলখানার মতো ছোট ছোট কক্ষে মাদকাসক্তদের তালাবন্দী রেখে চলছে তথাকথিত নিরাময় কেন্দ্রের চিকিৎসা। যতদূর জানা যায়. বরিশালে বেশ কয়েক জন ইয়াবার ডিলার রয়েছেন। এরমধ্যে দর্পন নামের এক ব্যক্তি অন্যতম। তিনি রাজধানীতে থাকেন। মাঝে মাঝে বরিশালে আসেন কাজ শেষ করে ফিরে যান। বরিশাল শিল্প নগরী (বিসিক) এলাকায় বাবুল সাম্প্রতিক সময়ে নগরীতে মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে অন্যতম। ভাটারখাল এলাকার চিহ্নিত বেশ কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী রয়েছেন। এদের মধ্যে অন্যতম লাবনী, মালেক ওরফে গাঁজা মালেক,রাজিব,স্বরোড এলাকায় নাছির,ইউনুস। বেলতলায় জুয়েল ওরফে ইলেকট্টিক জুয়েল,মরকখোলার পুলে রফিক ওরফে বাশ রফিক, কাউনিয়ায় মোহন ওরফে খাজা মোহন, গোড়াচাঁদ দাস রোডে লাকী ওরফে সুন্দরী লাকী.লিজা ওরফে মনিরা। উদয়ন স্কুল লাগায়ো সিটি মার্কেট ও আশপাশ এলাকায় মাদক বিক্রি করছে ব্রাউন কম্পাউন্ড ’র বাসিন্দা সান্টু। সদর রোডে চৌধুরী সরোয়ার বাবু। সিএন্ডবি ১ নং পুল এলাকায় মিরাজ,গীর্জা মহল্লায় সমিতা,বিএম কলেজ এলাকায় মেহেদি ও তসলিম। ভাটিখানা ও ব্যাঞ্চ রোড এলাকায় রয়েছেন বেশ কয়েক জন মাদক ব্যবসায়ী। এদের মধ্যে রয়েছেন সাগর ওরফে তেল সাগর। এরবাইরে নগরীতে মাঠ পর্যায়ে রয়েছে শতাধিক চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। গৌরনদী : বরিশালে সবচেয়ে বেশি ইয়াবা ও অন্যান্য মাদকদ্রব্য বিক্রি হয় গৌরনদী উপজেলায়। এই উপজেলার এমন কোন এলাকা নেই যেখানে মরণ নেশা ইয়াবা ট্যাবলেট, হেরোইন, ফেনসিডিল, গাঁজাসহ অন্যান্য মাদকদ্রব্য পাওয়া যায় না। বিশেষ করে উপজেলার নন্দনপট্টি, রাজাপুর, বেজগাতি, মোল্লাবাড়ি বাসষ্ট্যান্ড, কটকস্থল ও বার্থী এলাকায় দিনরাত সমানতালে ভ্রাম্যমান মাদকের হাট বসে। এছাড়াও উপজেলা ও পৌর এলাকার প্রায় ৩০টি স্পটে মাদকদ্রব্য বিক্রি হচ্ছে। প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত উপজেলার নন্দনপট্টি, রাজাপুর ও বেজগাতি গ্রামে বসে মাদকের ভ্রাম্যমান হাট। ওই এলাকার প্রভাবশালী এক ইউপি সদস্যর ছত্রছায়ায় এ মাদক ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে। তিনিই মাদকের ডিলার। তার অধীনে রয়েছে নারী, যুবক, কিশোরসহ বিভিন্ন স্কুল-কলেজে পড়–য়া প্রায় ৩০/৩৫ জন শিক্ষার্থী। ঝালকাঠি : ঝালকাঠি পৌর এলাকার রামনগর গ্রামের সাহা বাড়ীর মৃতঃ রনোজিৎ রায় এর ছেলে অসিম রায় ওরফে অসিম সাহা। ঝালকাঠি সদর বাস র্টারমিনালে ও নথুল্লাবাদ, কাশিপুর বাস র্টারমিনালে রেন্টেকার এর ড্রাইভার এর আড়ালে মাদক ব্যবসা দিীর্ঘ দিন ধরে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জোলায় মাদক ব্যবসা করে চলছে। আর এ মাদক ব্যবসা বন্ধের জন্য চাপ প্রয়োগ করলে উল্টো ওই মাদক ব্যবসায়ী অসিম এলাকাবাসীদের বিভিন্ন ভয়ভিতি ও মিথ্যা মামলার ফাঁসাবে বলে হুমকি দেয় । ড্রাইভার এর আড়ালে এলাকার শতাধিক স্পটে তার দোকান থেকে দেশি চোলাই মদ, হিরোইন, ফেন্সিডিল সহ নানা রকমের মাদক দ্রব্য বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। নথুল্লাবাদ বাস র্টামিনাল ,গরিয়ার পাড় ,কাশিপুরবাজার , রূপাতলি বাস টার্মিনাল তার মাদকের স্পট রয়েছে। সে দীর্ঘ দিন ধরে বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন নাম ধারণ করে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। তত্তাবধায়ক সরকার আমলে তার বিভিন্ন স্পট বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ভারত পালিয়ে যায়। আবার ভারত থেকে ফিরে এসে মাদক ব্যবসা করে আসছে । বানারীপাড়া : হাত বাড়ালেই পাওয়া যাচ্ছে গাঁজা, ফেন্সিডিল,ইয়াবা,রেকটিফাইড স্পিরিট ও কষ সহ নানা ধরনের মাদক দ্রব্য। নানা বয়স ও শ্রেনী পেশার মানুষ মাদকাসক্ত হয়ে ধীরে ধীরে পৌঁছে যাচ্ছে মৃত্যুর দুয়ারে। মাদক সেবনের ফলে অনেকেই ইতোমধ্যে চোখের দৃৃষ্টি শক্তি ও মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে অন্ধকার জগতের বাসিন্দা হয়েছেন। এলাকায় বেড়ে গেছে চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাই সহ নানা সন্ত্রাসী কর্মকান্ড। বানারীপাড়ায় মাদক সেবীদের পছন্দের তালিকার শীর্ষে রয়েছে গাঁজা, ইয়াবা, ফেন্সিডিল ও রেকটিফাইড স্পিরিট। পৌর শহর সহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অর্ধ শতাধিক স্পটে মাদক বিক্রি হয়। মাদক বিক্রির অন্যতম স্পট গুলো হলো পৌর শহরের কলেজ মোড়,মধুচাকের সামনের ও পিছনের সড়ক,মাছরং দেবুর মোড়, টিএন্ডটি মোড়,বাস স্ট্যান্ড,আলতা,উপজেলা পরিষদের পিছনের বাঁশ তলার মোড়,ঘোষের বাড়ি,রায়ের হাট,উত্তরপাড় বাজার ও জম্বদ্বীপ ব্রীজ। বরিশাল – বানারীপাড়া সড়কে প্রতিদিন ২০/২৫টি মটর সাইকেলে করে ফেন্সিডিল,’গাঁজা ও ইয়াবা বানারীপাড়া ও স্বরুপকাঠীতে নিয়ে আসার কাজে অর্ধশত মাদক সেবী ও মাদক ব্যবসায়ী যুবক সক্রিয় রয়েছে। ওই সড়কে বরিশালের গড়িয়ারপাড়,উজিপুরের গুঠিয়া, নারায়নপুর ও ঝালকাঠীর গুয়াচিত্রা বাজার থেকে এই মাদক হাত বদল হয়ে থাকে। বানারীপাড়া পৌর শহর সহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার সাইনবোর্ড ঝুঁলিয়ে নেপথ্যে রেকটিফাইড স্পিরিট বিক্রি করা হয়। যা স্থানীয় ভাবে আর.এস নামে পরিচিত। শুধু পৌর শহরেই নয় উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছে সর্বনাশা মাদক। এদিকে ড্যান্ডি নামক একধরনের কষ সাম্প্রতিক সময়ে মাদক সেবীদের কাছে প্রিয় হয়ে উঠেছে। পলি ব্যাগে কষ নিয়ে হাওয়া দিয়ে শ্বাস গ্রহন করে নেশা অনুভব করা হয়। কিশোরদের কাছে এটা বেশি প্রিয়। মাদক ব্যবসার সাথে সব সময় সরকারী দলের লোকজন জড়িত থাকে। যার ব্যত্যয় ঘটেনি এবারও। আ’লীগের দু’টি অঙ্গ সংগঠনের কয়েক শীর্ষ নেতা ও পৌর ছাত্র দলের এক শীর্ষ নেতা এ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন। আগৈলঝাড়া : আগৈলঝাড়ায় মাদক বিক্রি ও সেবনের কয়েকটি চিহ্নিত স্পট হচ্ছে গৈলা হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকা, গৈলা এতিমখানার পাশে, উপজেলা সদরের হেলিপ্যাড, উপজেলা সদরের কালীখোলা, পয়সারহাটের পূর্ব ও পশ্চিমপাড়ের ভ্যানস্ট্যান্ড, বাগধা, পাকুরিতা স্কুল এলাকা, জোবারপাড়-নাঘিরপাড়ের ব্রিজ ও স্কুল এলাকা, বড়মগরার উত্তরপাড়, আস্কর বাঁশতলা, কান্দিরপাড়, ছয়গ্রাম বন্দর, মিশ্রিপাড়া ও স্লুইজগেট, কালুরপাড়, সাহেবেরহাট, মাগুরা বাজার, ভালুকশী, পূর্ব সূজনকাঠী, রামেরবাজার, রামানন্দের আঁকসহ আরও কয়েকটি স্থানে প্রতিনিয়ত মাদকবিক্রি ও সেবন চলছে। টেকেরহাটে পুলিশ চেকপোস্ট বসার কারণে মাদক পাচারকারীরা আগৈলঝাড়ার আশেপাশে কোন পুলিশী চেকপোস্ট না থাকায় নিরাপদ ট্রানজিট হিসেবে এ রুটটি অধিক নিরাপদ হিসেবে ব্যবহার করছে। যশোর-গোপালগঞ্জ থেকে মাদকের চালান পয়সারহাট-আগৈলঝাড়া হয়ে মোটরসাইকেলে করে বরিশাল সদরসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় পাচার করে আসছে। মাঝে মাঝে পুলিশ চেকপোস্ট বসালে মাদক ব্যবসায়ীরা রুট পরিবর্তন করে ত্রিমুখী ও আমবৌলা খেয়াঘাট দিয়ে পারাপার করছে। ব্যবসায়ীরা রামশীল-রাজিহার-চাঁদশী হয়ে গৌরনদী ও রাজিহার থেকে ঘোষেরহাট রুট ব্যবহার করছে। এদিকে আগ্নেয়াস্ত্র! অস্ত্র ব্যবসায়ী। অস্ত্রই যেন ওদের অলঙ্কার। ওরা থাকেন পর্দার অন্তরালে। রক্তের হোলিখেলায় অস্ত্র বিকিকিনিতে থাকেন মত্ত। প্রতাপশালীদের ছত্রছায়ায়ই এহেন ব্যবসা করার অভিযোগ রয়েছে। বরিশালের বাজার রোডের ওমর ছিলেন ভয়ঙ্কর অস্ত্র ব্যবসায়ী। ক্রসফায়ারে নিহতের আগে অনেকেই জানতো না ওমরের পাইকারী অস্ত্র ব্যবসায়ের খবর। পর্দার অন্তরালে থেকেই চালিয়ে যেতেন অস্ত্র ব্যবসা। ওমর নেই কিন্তু থেমে নেই অস্ত্র ব্যবসা। পর্দার অন্তরালে থেকে বরিশাল অঞ্চলে চলছে এই অস্ত্র ব্যবসা। এক্ষেত্রে রাগব বোয়ালরা অন্তরালে থাকছে আর মাঠ পর্যায়ে সিন্ডিকেটের সদস্যদের অস্ত্র সরবরাহে কিংবা অপরাধ সাম্রাজ্যর আধিপত্য বিস্তারে সেনাপতির দায়িত্বে রাখা হয়েছে। যদিও এই অঞ্চলে স্বাধীনতার উষালগ্ন থেকেই অস্ত্রের ঝনঝনানি শুরু হয়। এরপর কত প্রাণ যে কেড়ে নিল হিসেব নেই তার। অবশ্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের স্বচ্ছতায় পথ বেয়ে চলায় বলা যায় বরিশাল আণ্ডারওয়ার্ল্ডের ভীত এখন নড়বড়ে। তবুও পর্দার অন্তরালে থাকা আন্ডারওয়ার্ল্ড নিয়ন্ত্রণে রাখাদের কলকাঠিতে মাঝে মাঝে নড়েচড়ে উঠে মাঠের সেনাপতিরা। এদের অনেকেই আবার কোনো না কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত। তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, বরিশাল অপরাধ সাম্রাজ্য মূলত রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী নেতারা নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। এদের আর্শিবাদপুষ্টরাই মাঠ পর্যায়ে কখনো কখনো অস্ত্রের মহড়ায় আতংকের জনপদে পরিণত করে। কখনো বয়ে দেয় রক্তের বন্যা। এরাই অপহরণে আদায়ে করে মুক্তিপণ,চাঁদাবাজী কিংবা আধিপত্য বিস্তারে খুন জখমের ঘটনার জন্ম দিচ্ছে। পর্দার অন্তরালে থাকারা তাদের কাছে অস্ত্র সরবরাহ অথবা বিক্রি করছে। দেশের পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে বরিশাল আণ্ডারওয়ার্ল্ডে থরকম্প শুরু হয়েছিলো। যা ছিলো এখানকার অপরাধ জগতে অপরাধীদের সবচেয়ে বিপদজনক সময়। তৎকালীন সময়ে আন্ডারওয়ার্ল্ডের অপরাধীরা বরিশাল ছেড়ে পালিয়ে নিরাপদে আশ্রয় নেয়। কেউ কেউ বিদেশে পাড়ি জমায়। তত্তাবধায়ক সরকার পরবর্তী অপরাধীদের অনেকেই নিজ এলাকায় ফিরে আসেন। কিন্তু আগের মতো দিনেদুপুরে প্রকাশ্যে গোলাগুলি, রাস্তা থেকে জোরপূর্বক সুন্দরী তরুণী তুলে নেয়ার নিত্য নৈমত্তিক ঘটনার বিপরীতে বর্তমান প্রেক্ষাপট। এরপরও মাঝে মাঝে এখানকার আণ্ডারওয়ার্ল্ডের সন্ত্রাসীরা নড়েচড়ে ওঠে। কখনো ঝাঁকুনি দেয় অপরাধজগত। বিদ্রোহ করে নিজেদের মধ্যকার কোন্দলে। আর এসব পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করছে রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা। এক্ষেত্রে দেশের বড় দুটি দলের নেতাদের আর্শিবাদপুষ্ঠরা এলাকা ভিত্তিক সেনাপতির দায়িত্বে রয়েছে । বিস্ময়কর হলেও সত্যি অপরাধ জগতের সঙ্গে সম্পূক্ত নগরীর বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান টিপু এখনো রয়েছেন বহাল তবিয়তে। যিনি তত্তাবধায়ক সরকারের আমলে আওয়ামী লীগতে লক্ষ্য করে সদর রোডে প্রকাশ্যে অস্ত্র উচিয়ে গুলিবর্ষন করেছিলো। সেই টিপু কি এমন কারিশমায় কৌশলী পন্থায় বহাল থেকে অপরাধ সাম্রাজ্য টিকিয়ে রখেছেন। বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আহসান হাবীব কামালের ঘনিষ্ঠ টিপু। এই সুবাধে নগর ভবনও অনেকটা নিয়ন্ত্রণ করছেন তিনি। সবমিলিয়ে অপরাধ সাম্রাজ্যের মূলৎপাটনে সরকারের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা স্বচ্ছতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বরিশালেও সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা অপরাধ সাম্রাজ্যের মূলৎপাটন করবেন এরকমই প্রত্যশা শান্তিপ্রিয় নারী পুরুষের।
 ·  Translate
বরিশাল নগরীতে রমরমা মাদক বাণিজ্যে’র শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে। বিশেষ করে ইয়াবার নেটওয়ার্ক নগর পেরিয়ে পুরো বিভাগজুড়ে বি¯তৃত। বিশেষ করে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীরা বিকিনিতে নিত্য নতুন কৌশল অবলম্বন করে...
1
1
Add a comment...

Ahmed Jalal

Shared publicly  - 
 
 .........অমর প্রেম কাহিনী................. বাকের-খনির স্মৃতিবিজড়িত অঞ্চলই পরিচিত পায় বাকেরগঞ্জ
http://www.beshto.com/contentid/753884
মুর্শিদাবাদের নবাব ছিলেন মুর্শিদ কুলি খাঁ। প্রখর মেধার অধিকারী আগা বাকের যুদ্ধবিদ্যাতেও পারদর্শী ছিলেন। তার পালিত ছেলে আগা বাকের খাঁ। বাকের খাঁকে প্রাণের চেয়েও বেশি ভালোবাসতেন মুর্শিদ কুলি খাঁ। তার উজীরে আলা ছিলেন জাঁহানদার খাঁ। তার ছেলের নাম জয়নুল। এই আগা বাকের খাঁ আর জয়নুলের চরিত্র ছিল যাকে বলে একদম বিপরীত। আগা বাকের খাঁ ছিলেন খাঁটি সজ্জন ব্যক্তি। মুর্শিদাবাদের মানুষও তাঁকে ভীষণ ভালোবাসতেন। ওদিকে জয়নুল ছিল একটা আস্ত শয়তান। নায়েব দয়াল দাসের সঙ্গে ঘোঁট পাকিয়ে কুলবধূদের সতীত্ব নাশ করা ছিল তার নেশা। বন্ধু ছিল বর্গী দস্যু সর্দার চায়েসতু আর আরাকান-মগ দস্যু সর্দার ওলাংপু। নধশবৎমড়হলবৎ নধশবৎ-শযড়হরনবাব মুর্শিদ কুলি খাঁর রংমহলের নাম ছিল আরামবাগ। এই আরামবাগের সেরা নর্তকী ছিলো খনি বেগম। রূপে-গুণে অতুলনীয়া। এই খনি বেগমের সঙ্গে প্রেম হয়ে যায় আগা বাকের খাঁর। কিন্তু একদিন সে কথা জেনে যান মুর্শিদ কুলি খাঁ। তাও এক নাটকীয় ঘটনায়। একদিন রংমহলে গেছেন নবাব। নর্তকীরা এসে নাচ-গান শুরু করল। কিন্তু নবাব খেয়াল করলেন, নেই সেরা নর্তকী খনি বেগম। বিরক্ত হয়ে হাঁকডাক জুড়ে দিলেন। তখন জাঁহানদার খাঁ এসে জানালেন বাকের খাঁ-খনি বেগমের প্রেমের কথা। সে রাতেই নাকি তারা দুজনে পালিয়ে যাচ্ছিলেন মুর্শিদাবাদ ছেড়ে। পথরোধ করে জয়নুল। তখন বাকের খাঁ এক কোপে জয়নুলের মাথা ধড় থেকে আলাদা করে দেয়। তবে ধরা পরে বাকের-খনি। তাদের আটকে রাখা হয়েছে কারাগারে। বাকের খাঁর অপরাধ গুরুতর। না, খনি বেগমের সঙ্গে তার প্রেমের বিষয়ে নবাব তেমন রাগান্বিত হননি। প্রেম যে হৃদয়ের ব্যাপার, তা যে নিয়ম-কানুন মানে না, সেটা জানেন নবাব। কিন্তু বাকের খাঁ তো রীতিমতো খুনি। অবশ্য বাকের খাঁ সে কথা স্বীকার করলেন না। তিনি বরং বললেন আরেক গল্প। জয়নুল নাকি খনি বেগমের সতীত্ব নাশ করতে এসেছিল। পরে বাকের খাঁর সঙ্গে যুদ্ধে না পেরে পালিয়ে গেছে। নবাব অবশ্য জাঁহানদার খাঁর কথাই বিশ্বাস করলেন। বিচারে রায় হলো, বাকের খাঁকে বাঘের খাঁচায় নিক্ষেপ করা হবে। পরদিন সকালে বাকের খাঁকে বাঘের খাঁচায় নিক্ষেপ করা হলো। আর প্রেমের শক্তিতে বলীয়ান বাকের খাঁ খালি হাতেই হারিয়ে দিলেন বাঘকে। রাজ্যে তার নামে জয়জয়কার শুরু হলো। কিন্তু রংমহলে গিয়ে দেখা গেল, খনি বেগম কোথাও নেই। বদলে পরে আছে একটা চিরকুট। খনি বেগমকে নিয়ে পালিয়ে গেছে জয়নুল। এবার সব কথা পরিস্কার বোঝা গেল। পুত্রের কুকীর্তির কথা জানতে পারলেন জাঁহানদার খাঁও। সঙ্গে সঙ্গে জাঁহানদার খাঁ আর আগা বাকের খাঁ ছুটলেন জয়নুলের বন্ধু দস্যুদের আস্তানায়। দক্ষিণের জঙ্গলের পানে। অনেক খুঁজে খুঁজে তবেই শেষে দস্যুদের আস্তানা খুঁজে পাওয়া গেল। ভীষণ যুদ্ধে তাদের পরাজিত করে তাড়িয়ে দেয়া হল। তারপর খুঁজে বের করা হলো সেই ঘর, যেখানে খনি বেগমকে নিয়ে লুকিয়ে আছে জয়নুল। জাঁহানদার খাঁ যখন ওখানে পৌঁছালেন, সেখানে তখন এক ভয়ংকর পরিস্থিতি। জ্যান্ত সাপ নিয়ে খনি বেগমকে ভয় দেখাচ্ছে জয়নুল। কিন্তু খনি বেগম কিছুতেই ধরা দেবে না জয়নুলের হাতে। যেই সেখানে উপস্থিত হলেন জাঁহানদার খাঁ, হকচকিয়ে জয়নুল তাড়াহুড়ো করে ঘুরতে গেল, আর সাপটা তাকেই কামড়ে দিল। কিন্তু মরার আগে ছোরা বের করে খনি বেগমের গায়ে আমূল বসিয়ে দিল সে। যাকে সে পেল না, তাকে সে কাউকে পেতে দেবে না। ততক্ষণে চলে এসেছেন আগা বাকের খাঁও। কিন্তু আর তো কিছু করার নেই। নিজ হাতে পুত্রের শাস্তি নিশ্চিত করে আত্মহত্যা করলেন জাঁহানদার খাঁও। আর প্রিয়তমার শোকে পাগলের মতো হয়ে গেলেন বাকের খাঁ। বাকের ছুটে এসে জড়িয়ে ধরে খনি বেগমকে। মৃত্যু পথযাত্রী খনি বেগম কোনোমতে উচ্চারণ করে- দুঃখ এ দুনিয়ায় আমাদের মিলন হলো না। পরকালে আমি আপনার জন্য অপেক্ষা করব। এটাই ছিল খনি বেগমের শেষ কথা। বাকেরগঞ্জের নির্জন নদীতীরে অরণ্য ছায়ায় সমাধি হয় খনি বেগমের। বাকের সব কিছু ত্যাগ করে রয়ে যায় সেই সমাধির কাছে। বাকের-খনির স্মৃতিবিজড়িত ওই অঞ্চলটাই পরে পরিচিত হয় বাকেরগঞ্জ নামে। বাকের খাঁর নামানুসারেই বাকলা-চন্দ্রদ্বীপ (পটুয়াখালি-বরিশাল) অঞ্চলের নাম হয় বাকেরগঞ্জ। ঐতিহ্য্যবাহী বাকরখানি রুটির নামের পেছনেও রয়েছে বাকের-খনির প্রেমের ইতিহাস। নামকরণের জনশ্র“তি : অবশ্য নামকরণের ব্যাপারে অন্য আরেকটি জনশ্র“তি রয়েছে। সে অনুযায়ী, মির্জা আগা বাকের ঢাকায় বাকরখানি রুটি প্রচলন করেন। তিনি বৃহত্তর বরিশালের জায়গীরদার ছিলেন। তার প্রেয়সী ছিল আরামবাগের নর্তকী খনি বেগম। তাদের মধ্যে গভীর প্রেম ছিল বলে কথিত আছে। পরবর্তীতে আগা বাকের ২য় মুর্শিদ কুলি খাঁর কন্যাকে বিয়ে করেন। কিন্তু খনি বেগমের স্মৃতি তিনি ভুলে যান নি। তার আবিস্কৃত এবং প্রিয় খাদ্য বিশেষভাবে তৈরি রুটির নাম তার প্রেমকাহিনীর উপর ভিত্তি করেই নামকরণ করা হয়েছিল বাকের-খনি রুটি। পরবর্তীতে এই নাম কিছুটা অপভ্রংশ হয়ে বাকরখানি নাম ধারণ করে। জনশ্র“তি মেনে নিলে ধরে নিতে হয়, বাখরখানির সৃষ্টি আঠারো শতকের মাঝামাঝি সময়ে। জনশ্র“তি অনুসারে, জমিদার আগা বাকের তথা আগা বাকির খাঁর নামানুসারে এই রুটির নামকরণ করা হয়েছে। পরিচিতি : করখানি ময়দা দিয়ে তৈরি রুটি জাতীয় খাবার বিশেষ। এটি বাংলাদেশের পুরান ঢাকাবাসীদের সকালের নাস্তা হিসাবে একটি অতি প্রিয় খাবার। ময়দার খামির থেকে রুটি বানিয়ে তা মচমচে বা খাস্তা করে ভেজে বাকরখানি তৈরি করা হয়। ছোট-বড় বিভিন্ন আকারের বাকরখানি পাওয়া যায় পুরান ঢাকায়। বাকরখানিতে সাধারণত ময়দার সাথে স্বাধবর্ধক আর কিছু দেয়া হয় না। তবে চিনি দেয়া বাকরখানিও একেবারে বিরল নয়। চট্টগ্রাম অঞ্চলের বাকরখানি রসালো ও সুমিষ্ট। ঢাকার একসময়ে প্রসিদ্ধ রুটির মধ্যে অন্যতম ছিল এই বাকরখানি। বাকরখানি এতই প্রসিদ্ধ ছিল যে এটি উপঢৌকন হিসেবে প্রেরিত হতো। এখনও পুরনো ঢাকার কোনো কোনো অঞ্চলে তৈরি হয় বাকরখানি। সেখানে তা 'শুখা' (শুকনা) নামেও পরিচিত। বাকরখানির উপকরণ : বাকরখানি হচ্ছে মূলত এক রকমের রুটি যা বানানো হয় প্রচুর মাখন বা ডালডা দিয়ে তৈরি ময়দার খামির দিয়ে। এবং ছোট আকৃতিতে বেলে নিয়ে সেঁকা হয় উত্তপ্ত তন্দুরে। অতীতে ময়দার সাথে মালাই এবং মাখন মিশিয়ে খামির তৈরি করবার চল ছিল। তবে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় জিনিসপত্রের দাম বেড়ে গেলে দুধমালাইয়ের পরিবর্তে বাকরখানিতে ডালডা ব্যবহারের প্রচলন শুরু হয়৷ কোথায় পাওয়া যায় : পুরানো ঢাকায় আজও সকালের নাশতা হোক কিংবা বিকালের চায়ের কাপ, সর্বত্রই বাকরখানির বিচরণ সদর্পে। গরুর মাংস ভুনা কিংবা গরম রসগোল্লা, অথবা মিষ্টি পায়েস, এক কাপ দুধ চা- সব কিছুর সাথেই বাকরখানি দারুণ উপাদেয়। প্রচলিত আছে যে ভালো বাকরখানি সেটাকেই বলা হবে যা কিনা মুখে দিলেই মাখনের মতন মিলিয়ে যাবে, হাতের স্পর্শে ভেঙ্গে হবে ঝুরঝুরে। আমলীগোলা, ইসলামবাগ, হাজারিবাগ, লালবাগ,চকবাজার, আবুল হাসনাত রোড, আগা সাদেক রোড, নাজিরাবাজার, বংশাল, সিদ্দিকবাজার, বনগ্রাম, মৈশন্ডি, লক্ষ্মীবাজার, একরামপুর, সুত্রাপুর, গেন্ডারিয়া, নারিন্দা, দয়াগঞ্জ এক কথায় পুরনো ঢাকার সর্বত্র অলিগলিতে বাকরখানির দোকান নজরে পড়ে আজও। আর এসব দোকান হতেই প্ল্যাস্টিকের আবরণে আবৃত হয়ে সুস্বাদু এই রুটি বিক্রির জন্য পৌঁছে যায় ঢাকার বিভিন্ন স্থানে। সুতরাং বাকরখানি মিলবে ঢাকা শহরের বড় মিষ্টির দোকান আর সুপারশপ গুলোতেও। রকমারি : নানান রকমের বাকরখানি কিনতে পাওয়া যাবে পুরানো ঢাকার এইসব দোকান গুলিতে। খাস্তা বাকরখানি ছাড়াও মিলবে পনির বাকরখানি, মিষ্টি বাকরখানি, কিমা বাকরখানি, নারকেলের বাকরখানি প্রভৃতি। রুটি বা পরোটা ঠান্ডা হলেই স্বাদ নষ্ট হয়ে যায়, কিন্তু বাকরখানি ঠাণ্ডা হলেও থাকে একইরকম সুস্বাদু। সাতদিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়। বংশ পরম্পরায় সুনিপুণ কারিগরেরা তো তৈরি করেই যাচ্ছেন ঐতিহ্যবাহী এই খাবারকে, সেই সাথে আসুন জেনে নেই কি করে একজন সাধারণ রাঁধুনি ঘরে বসেই তৈরি করতে পারবেন উপাদেয় বাকরখানি। বাকরখানির ঘরোয়া রেসিপি- খামির তৈরির জন্য : ১ কাপ ময়দার মাঝে ১/৪ কাপ গলানো ডালডা, অল্প তেল ও লবণ দিয়ে ময়ান দিন। এবং তৈরি করে নিন মোলায়েমে খামির। যদি প্রয়োজন হয় তাহলে অল্প পানি দিতে পারেন। পানির বদলে মালাই বা ঘন দুধ এবং ডালডার পরিবর্তে মাখন ব্যবহার করলে স্বাদে বেড়ে যাবে বহুগুণ। খামির তৈরি করে ভালো করে ঢেকে রেখে দিন ২/৩ ঘণ্টা। ডালডার প্রলেপ তৈরির জন্য- : ১/৪ কাপ ডালডা নিন, চুলায় গরম করে গলিয়ে আবার ঠাণ্ডা করে নিন। সাথে ১ কাপ সয়াবিন তেল মিশিয়ে বিট করে রাখুন। ময়দার প্রলেপ এর জন্য- : ১ কাপ ময়দা, ১/৪ কাপ সয়াবিন তেল ও সামান্য ঘি হাত দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে ঝুরঝুরে করে রাখুন। বাকরখানির মাঝে চিনি,পনির বা মাংস ঝুরি দিতে চাইলে এই মিশ্রণের মাঝেই মিশিয়ে রাখুন। বাকরখানি তৈরি : খামিরকে চার ভাগ করে নিন ও যতটা সম্ভব পাতলা রুটি বেলুন। রুটির চারদিকে কিছুটা জায়গা ফাঁকা রেখে বাকি স্থানে ডালডার প্রলেপ দিন সমান ভাবে এবং ময়দার ঝুরঝুরে মিশ্রণ ছিটিয়ে দিন। রুটিকে ২ ভাজ করুন, আবার ডালডা ও ময়দার প্রলেপ দিন। আবার ভাজ করুন ও ঢেকে রাখুন আরও এক টুকরো। এভাবে সব খামির দিয়ে তৈরি করে নিন। এরপর উক্ত খামির থেকে ছোট ছোট লেচি কেটে গোল রুটি বেলে নিন। চাকু দিয়ে দুটো আঁচড় দিন এবং তন্দুরে সেঁকে নিন। নতুবা প্রি হিট করা ওভেনে ১৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাযয় ২০ থেকে ২৫ মিনিট বেক করে নিন লাল মুচমুচে হওয়া পর্যন্ত। ব্যাস, তৈরি হয়ে গেলো পুরানো ঢাকার ঐতিহ্য আপনার ঘরেই! অতুলনীয় স্বাদের জন্য হোক কিংবা হোক আগা বাকের-খনি বেগমের অমর প্রেমগাঁথার জন্য, পুরানো ঢাকার ঘরে ঘরে আজও সমাদৃত বাকরখানি রুটি। টিকে আছে শত শত বছরের ঐতিহ্য ধারণ করে, আর টিকে থাকবে আরও বহুকাল।
 ·  Translate
মুর্শিদাবাদের নবাব ছিলেন মুর্শিদ কুলি খাঁ। প্রখর মেধার অধিকারী আগা বাকের যুদ্ধবিদ্যাতেও পারদর্শী ছিলেন। তার পালিত ছেলে আগা বাকের খাঁ। বাকের খাঁকে প্রাণের চেয়েও বেশি ভালোবাসতেন মুর্শিদ কুলি খাঁ। তার...
1
Add a comment...

Ahmed Jalal

Shared publicly  - 
 
 ঘুষের বাজার : বরিশাল সেটেলমেন্ট অফিস
http://www.beshto.com/contentid/753882
ঘুষ আর ঘুষ। ঘুষের টাকা ছাড়া ফাইল নড়ে না বরিশাল সেটেলমেন্ট অফিসে। এই ঘুষ বাণিজ্যের হোতা অফিসের কর্তারা। দুর্নীতিতে আষ্টেপৃষ্টে লেগে থাকা এই অফিসের কর্তাদের রয়েছে পালিত দালাল চক্র। এদের মাধ্যমে ঘুষের লেনদেন করা হয়। এছাড়া অফিসের কর্মচারীরাও ঘুষ বাণিজ্যে বেশ মাতোয়ারা। এখানকার কর্তারা নিজেদের সাধু হিসেবে জাহির করে বাস্তবে ঘুষের টাকা চাই,দিতে হবে নইলে কোনো কাজ হবে না। জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এহেন ঘুষ বাণিজ্যে দিশোহারা সাধারণ জনগণ। সেবা নিতে এসে উল্টো হয়রানির শিকার হচ্ছে প্রতিনিয়ত। ভোগান্তি শেষ নেই। কিন্তু এই ভোগান্তি ও ঘুষ বাণিজ্যে থেকে পরিত্রানের উপায় কি? তাহলে সরকারের দায়িত্বশীলরা কি খাবি খাচ্ছে? প্রশ্ন ভুক্তভোগীদের। ঘুষ বাণিজ্যের নেতৃত্বে রয়েছেন ৬ কর্তা। এরা হলেন, সহকারী জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার (এ.এস.ও) মো. এনায়েত হোসেন,আঃ হালিম, শংকর নারায়ন দে, আঃ লতিফ চৌধুরী, উত্তম কুমার, আবুল হোসেন। এখানকার ঘুষ বাণিজ্যের বিষয়টি অপেন সিক্রেট। দীর্ঘ দিন ধরে এহেন ঘুষের কারবার চলে আসলেও এ যেন দেখার কেউ নেই। সরকারের দায়িত্বশীলরা রয়েছেন নিরব ভূমিকায়। মূলত: সবই চলছে ম্যানেজ প্রক্রিয়ায়। এরফলে বরিশাল জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসের ঘুষের বাজার বন্ধ হচ্ছে না। আর বন্দ হবে কিনা তাও সন্দিহান! এই অফিসে রয়েছে বেশ কয়েক জন দালাল। এদের মাধ্যমেই বেশিরভাগ ঘুষের লেনদেন হয়। অনুসন্ধানে জানা গেছে, অফিসে ছোট,মাঝারি ও বড় মাপের কর্মকর্তা ঘুষ বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনেক ক্ষেত্রে এসকল অসাধু কর্মকর্তা ৩০ ধারায় একটি মামলায় ২০ হাজার থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ভূক্তভোগীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে। ফলে প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছে অনেকে। সূত্র জানায়, এসব কর্মকর্তার যোগসাজশে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা সরকারি খাত থেকে হাতিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি বগুড়া-আলেকান্দা মৌজার ৩০ ধারা কার্যক্রম শুরু হয়। ওই এলাকার বাসিন্দা জমির মালিকানা তাদের সংশি¬ষ্ট কাগজপত্রাদি সংশোধনের লক্ষ্যে উঠে পরে লাগে। আবার অনেকে পক্ষ প্রতিপক্ষদের জমির উপর ৩০ ধারার মাধ্যমে আপত্তি জানায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে দক্ষিণ আলেকান্দা ১১ নং ওয়ার্ডের বসবাসকারী মো. জয়নাল বেপারী ক্রয়কৃত জমি তার প্রাক্তন মালিকের মাঠ জরিপে রেকর্ড হয়। কিন্তু বিষয়টি জয়নাল বেপারীর অজানা থাকে। পরে জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসের একটি নোটিশের মাধ্যমে অবগত হয়। তারই ধারাবাহিকতায় ৩০ ধারা অনুষ্ঠিতব্য শুনানীতে কাগজপত্র নিয়ে একসময় উপস্থিত হয় জয়নাল। ভূক্তভোগী জয়নাল অভিযোগ করে বলেন, তার ওই আপত্তি মামলা শুনানীর দায়িত্ব পালন করে শংকর নারায়ন দে ও আবুল হোসেন। শুনানী চলাকালীন ওই দুই কর্মকর্তা প্রকাশ্যে আমার কাছে ৪০ হাজার টাকা দাবি করে। এসময় আমি ৬ হাজার টাকা অফিসের ফান্ডে জমা দিয়েছি বললে মানতে চায়না তারা। তাদের দাবিকৃত টাকা না দিলে শুনানী পক্ষে হবেনা মর্মে প্রকাশ করে ফাইলটি রেখে দেয়। শুধু জয়নালই নয়, প্রতিনিয়ত অসাধু কর্মকর্তাদের রোষানলের শিকার হতে হয় প্রকৃত জমির মালিকদের। সরকারি নিয়ম-নীতি তোয়াক্কা না করে নিজেদের পকেট ভারী করতে সবসময় ব্যস্ত থাকে অসাধু চক্রটি। সংশি¬ষ্ট সূত্রে জানা যায়, সেটেলমেন্ট (ভূমি জরিপ) অফিসে উৎকোচ হোতা ওই কর্মকর্তাদের সঙ্গে সহযোগিতায় রয়েছে কয়েক জন চিহ্নিত দালাল। এই দালালরা মুখোশ পরিহিত ভদ্রলোক। বিভিন্ন ব্যানার সেটে কর্মকর্তাদের সঙ্গে আতাত করে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। এসকল দালালরা নিজেদেরকে বিভিন্নভাবে জাহির করে। বিভিন্ন ধরণের পরিচয়ে এরা দালালীপনা করে আসছেন। মাঠপর্যায়ে এদের দেখা না গেলেও বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গের নাম ব্যবহার করে ভূমি অফিসের দালালী কাজে লিপ্ত থাকে তারা। দালাল চক্রের মধ্যে অন্যতম রনি নামের এক যুবক। এই রনির বিরুদ্ধে রয়েছে অন্তহীন অভিযোগ। শুধু সেটেলমেন্ট অফিস নয়, বরিশালের বিভিন্ন দপ্তরের সংশি¬ষ্ট কর্মকর্তাদের নাম ভাঙ্গিয়ে দালালী করে আসছেন রনি। একসময়ে দালাল হিসেবে পরিচিত রনি রাজধানীতে ক্যানভাসার’র কাজ করতো। সে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পরিচয় দিয়ে সাধারণ জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছেন। আর হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা। এরবাইরে এই রনি বিভিন্ন মেয়েদের ব¬াকমেইলের ফাঁদে ফেলে অর্থ লুটে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। কোন ব্যক্তি ৩০ ধারায় উপস্থিত হলে তাদের কৌশলে বাগিয়ে নিয়ে চুক্তি করে। অনেক সময় ওই দালাল সদস্যেদের ফাঁদে পড়ে সর্বস্ব হারাচ্ছে অধিকাংশরাই। এ প্রসঙ্গে বরিশাল জোনাল সেটেলমেন্ট (উপ-সচিব) মো. এজাজ আহম্মেদ জাবের জানান, ঘুষ বাণিজ্যের বিষয়টি তার জানা নাই। কিন্তু বিনামূল্যে আপত্তি ফরম দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। সেক্ষেত্রে ৩০ ধারা শুনানীতে কোন প্রকারের লেনদেনের সুযোগ নেই। এসব প্রসঙ্গে সেটেলমেন্ট অফিসের শীর্ষ কর্মকর্তাদের আশু দৃষ্টি কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।
 ·  Translate
ঘুষ আর ঘুষ। ঘুষের টাকা ছাড়া ফাইল নড়ে না বরিশাল সেটেলমেন্ট অফিসে। এই ঘুষ বাণিজ্যের হোতা অফিসের কর্তারা। দুর্নীতিতে আষ্টেপৃষ্টে লেগে থাকা এই অফিসের কর্তাদের রয়েছে পালিত দালাল চক্র। এদের মাধ্যমে ঘুষের...
1
1
Add a comment...

Ahmed Jalal

Shared publicly  - 
 
  http://www.beshto.com/contentid/753881
বরিশাল পাসপোর্ট কার্যালয় : নিরবে চলে গেলেন দুর্নীতিবাজ কর্তা শাওন
বরিশাল পার্সপোর্ট কার্যালয়ে ঘুষ দুর্নীতির কালো অধ্যায় রচনা করে নিরবে চলে গেলেন সুমনা সারমিন শাওন। কোনো ধরণের হাকডাক ছাড়াই বদলী হয়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন তিনি। বিভঅগীয় পার্সপোর্ট অফিসে তিনি সহকারী পরিচালকের দায়িত্ব গ্রহণের পর দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করে চরমভাবে বিতর্কিত হয়েছিলেন। একাধিকবার গণমাধ্যমে মিডিয়ার শিরোনামেও রূপ নেয় তার দুর্নীতির নানাবিধ ফিরিস্তি। এমনকি পার্সপোর্ট অফিসে সুমনা শারমিনের ঘুষ বাণিজ্যের কারণে তদন্ত কমিটিও গঠন হয়েছিলো। জেলা প্রশাসন থেকে তদন্ত টিম পাঠানো হয়। মুখোশ পরিহিত ওই কর্তা নিজেকে সর্বদা ধোয়া তুলশী পাতা হিসেবে জাহির করতেন। কিন্তু বিধি বাম! শেষ রক্ষা হলো না তার। নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তার কাছে সেখানকার দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য এবং দালালরা পার্সপোর্ট করাতে ঘুষ চেয়ে বেকায়দায় পড়ে যান শাওন। এরপর কয়েক পুলিশ সদস্য বরখাস্ত হয়। যদিও ভুক্তভোগীদের দাবি ছিলো দুর্নীতিবাজ কর্তা শাওনের মুখেঅশ উন্মোচন এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি। এরপরই এখান থেকে বদলী হয়ে যান শাওন। যাইহোক ওই দুর্নীতিবাজ কর্তার বদলীর পর এখানে অতিসম্প্রতি পরিচালকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন নুরুল হুদা। তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর ঘুষ কিংবা দালাল চক্রের তেমন কোনো উৎপাত পরিলক্ষিত হয়নি। যদিও গনেশ উল্টে যেতে কতক্ষণ। এ প্রশ্ন সচেতন মহলের। অভিজ্ঞ মহলের ভাষ্য, বিভাগীয় পার্সপোর্ট অফিস’র পুরোপুরি ঘুষ বাণিজ্যে বন্ধ হোক। পাশাপাশি দালালমুক্ত রাখা হোক। একটি সূত্র জানিয়েছে, পরিচালকের দায়িত্ব গ্রহণের পর নুরুল হুদা স্বচ্ছতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি অফিস স্টাফদের সাফ জানিয়ে দিয়েছেন এখানে কোনো ধরণের ঘুষ বাণিজ্যে চলবে না। একই সঙ্গে অফিসের অভ্যন্তরে দালালদের আনাগোনা বন্ধ থাকবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে সহায়ক হিসেবেই থাকছে,থাকবে পার্সপোর্ট অফিস। সূত্রটি আরো জানায়, পরিচালক নুরুল হুদা কোনো রকমের তোষামদি পছন্দ করেন না। অপর একটি সূত্র জানায়, অফিসের আগের স্টাফদের মধ্যে চিহ্নিত ঘুষখোর কয়েকজন রয়েছেন। এরা এখনও খুব গোপনে ফাইল প্রতি অর্থ নিচ্ছে। এদের মধ্যে অন্যতম শহিদ ওরফে টাক শহিদ। কর্তা শহিদের ঘুষ বানিজ্যে অতিষ্ঠ বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত নারী পুরুষ। এছাড়া শহিদের বিরুদ্ধে রয়েছে এন্তার অভিযোগ। পার্সপোর্ট কার্যালয়ে কানপাতলেই শোনা যায় ম্যাডাম সুমনা শারমিন ও শহিদের ঘুষ বাণিজ্যে। এটা সবাই জানে শুধু মানুষ নয় ভবনের ইট,পাথর ,বালু কনাও জানে ম্যাডাম আর শহিদ যে কত বড় ধান্ধাবাজ কর্তা। ওদিকে, যে দেশের প্রধানমন্ত্রী দেশকে একধাপ এগিয়ে নিতে দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গিকারে দিবারাত্রি পরিশ্রম করে চলেছেন। দেশ ও মানুষের কল্যানে নিরলস পরিশ্রমে অনিয়ম দুর্নীতর বিষ বৃক্ষ নিধনে সদা জাগ্রত। দেশের উন্নয়নে মেঘা মেঘা প্রকল্প হাতে নিয়েছেন,কাজ করছেন। যিনি চ্যাম্পিয়ানস অব আর্থ পুরস্কারে ভূষিত হয়ে বিশ্ব দরবারে সুনাম কুড়িয়েছেন। আর সেই আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের আমলে বরিশাল পার্সপোর্ট অফিসে ঘুষ বানিজ্যের বিষয়টি রীতিমত লজ্জাকর। সচেতন মহলের প্রত্যাশা নতুন পরিচালক নুরুল হুদা যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করবেন। এবং এই পরিচালকের দায়িত্ব পালন যেন বরিশাল পার্সপোর্ট অফিসে স্বচ্ছতার দৃষ্টান্ত হিসেবে রূপ পায়। এসব প্রসঙ্গে বরিশাল বিভাগীয় পার্সপোর্ট অফিসের পরিচালক নুরুল হাদা এ প্রতিবেদককে বলেন, আগে কে কি করছে তা আমার জানা নেই। বলেন, পার্সপোর্ট অফিসে ঘুষ বাণিজ্যের কোনো প্রশ্ন আসে না।
 ·  Translate
বরিশাল পার্সপোর্ট কার্যালয়ে ঘুষ দুর্নীতির কালো অধ্যায় রচনা করে নিরবে চলে গেলেন সুমনা সারমিন শাওন। কোনো ধরণের হাকডাক ছাড়াই বদলী হয়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন তিনি। বিভঅগীয় পার্সপোর্ট অফিসে তিনি...
1
Add a comment...

Ahmed Jalal

Shared publicly  - 
 
 বরিশাল পাসপোর্ট কার্যালয় : নিরবে চলে গেলেন দুর্নীতিবাজ কর্তা শাওন
..............
 বরিশাল পার্সপোর্ট কার্যালয়ে ঘুষ দুর্নীতির কালো অধ্যায় রচনা করে নিরবে চলে গেলেন সুমনা সারমিন শাওন। কোনো ধরণের হাকডাক ছাড়াই বদলী হয়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন তিনি। বিভঅগীয় পার্সপোর্ট অফিসে তিনি সহকারী পরিচালকের দায়িত্ব গ্রহণের পর দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করে চরমভাবে বিতর্কিত হয়েছিলেন। একাধিকবার গণমাধ্যমে মিডিয়ার শিরোনামেও রূপ নেয় তার দুর্নীতির নানাবিধ ফিরিস্তি। এমনকি পার্সপোর্ট অফিসে সুমনা শারমিনের ঘুষ বাণিজ্যের কারণে তদন্ত কমিটিও গঠন হয়েছিলো। জেলা প্রশাসন থেকে তদন্ত টিম পাঠানো হয়। মুখোশ পরিহিত ওই কর্তা নিজেকে সর্বদা ধোয়া তুলশী পাতা হিসেবে জাহির করতেন। কিন্তু বিধি বাম! শেষ রক্ষা হলো না তার। নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তার কাছে সেখানকার দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য এবং দালালরা পার্সপোর্ট করাতে ঘুষ চেয়ে বেকায়দায় পড়ে যান শাওন। এরপর কয়েক পুলিশ সদস্য বরখাস্ত হয়। যদিও ভুক্তভোগীদের দাবি ছিলো দুর্নীতিবাজ কর্তা শাওনের মুখেঅশ উন্মোচন এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি। এরপরই এখান থেকে বদলী হয়ে যান শাওন। যাইহোক ওই দুর্নীতিবাজ কর্তার বদলীর পর এখানে অতিসম্প্রতি পরিচালকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন নুরুল হুদা। তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর ঘুষ কিংবা দালাল চক্রের তেমন কোনো উৎপাত পরিলক্ষিত হয়নি। যদিও গনেশ উল্টে যেতে কতক্ষণ। এ প্রশ্ন সচেতন মহলের। অভিজ্ঞ মহলের ভাষ্য, বিভাগীয় পার্সপোর্ট অফিস’র পুরোপুরি ঘুষ বাণিজ্যে বন্ধ হোক। পাশাপাশি দালালমুক্ত রাখা হোক। একটি সূত্র জানিয়েছে, পরিচালকের দায়িত্ব গ্রহণের পর নুরুল হুদা স্বচ্ছতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি অফিস স্টাফদের সাফ জানিয়ে দিয়েছেন এখানে কোনো ধরণের ঘুষ বাণিজ্যে চলবে না। একই সঙ্গে অফিসের অভ্যন্তরে দালালদের আনাগোনা বন্ধ থাকবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে সহায়ক হিসেবেই থাকছে,থাকবে পার্সপোর্ট অফিস। সূত্রটি আরো জানায়, পরিচালক নুরুল হুদা কোনো রকমের তোষামদি পছন্দ করেন না। অপর একটি সূত্র জানায়, অফিসের আগের স্টাফদের মধ্যে চিহ্নিত ঘুষখোর কয়েকজন রয়েছেন। এরা এখনও খুব গোপনে ফাইল প্রতি অর্থ নিচ্ছে। এদের মধ্যে অন্যতম শহিদ ওরফে টাক শহিদ। কর্তা শহিদের ঘুষ বানিজ্যে অতিষ্ঠ বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত নারী পুরুষ। এছাড়া শহিদের বিরুদ্ধে রয়েছে এন্তার অভিযোগ। পার্সপোর্ট কার্যালয়ে কানপাতলেই শোনা যায় ম্যাডাম সুমনা শারমিন ও শহিদের ঘুষ বাণিজ্যে। এটা সবাই জানে শুধু মানুষ নয় ভবনের ইট,পাথর ,বালু কনাও জানে ম্যাডাম আর শহিদ যে কত বড় ধান্ধাবাজ কর্তা। ওদিকে, যে দেশের প্রধানমন্ত্রী দেশকে একধাপ এগিয়ে নিতে দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গিকারে দিবারাত্রি পরিশ্রম করে চলেছেন। দেশ ও মানুষের কল্যানে নিরলস পরিশ্রমে অনিয়ম দুর্নীতর বিষ বৃক্ষ নিধনে সদা জাগ্রত। দেশের উন্নয়নে মেঘা মেঘা প্রকল্প হাতে নিয়েছেন,কাজ করছেন। যিনি চ্যাম্পিয়ানস অব আর্থ পুরস্কারে ভূষিত হয়ে বিশ্ব দরবারে সুনাম কুড়িয়েছেন। আর সেই আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের আমলে বরিশাল পার্সপোর্ট অফিসে ঘুষ বানিজ্যের বিষয়টি রীতিমত লজ্জাকর। সচেতন মহলের প্রত্যাশা নতুন পরিচালক নুরুল হুদা যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করবেন। এবং এই পরিচালকের দায়িত্ব পালন যেন বরিশাল পার্সপোর্ট অফিসে স্বচ্ছতার দৃষ্টান্ত হিসেবে রূপ পায়। এসব প্রসঙ্গে বরিশাল বিভাগীয় পার্সপোর্ট অফিসের পরিচালক নুরুল হাদা এ প্রতিবেদককে বলেন, আগে কে কি করছে তা আমার জানা নেই। বলেন, পার্সপোর্ট অফিসে ঘুষ বাণিজ্যের কোনো প্রশ্ন আসে না।
 ·  Translate
1
Add a comment...

Ahmed Jalal

Shared publicly  - 
 
 বরিশালে প্রয়াত নেতা হিরণ’র শূন্যতায়...
.http://www.times24.net/All_Bangla/26579/%E0%A6%AC%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%B6%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A7%87-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%9F%E0%A6%BE%E0%A6%A4-%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%A4%E0%A6%BE-%E0%A6%B9%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A6%A3%E2%80%99%E0%A6%B0-%E0%A6%B6%E0%A7%82%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A7%9F  
আহমেদ জালাল, টাইমস ২৪ ডটনেট, বরিশাল থেকে: বরিশালের প্রয়াত নেতা অ্যাড. শওকত হোসেন হিরণ’র শূন্যতায় গুমড়ে গুমড়ে কাঁদছে দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। পাশাপাশি বরিশালে সাম্প্রতিককালে অপরাজনীতির কারণে জনপ্রিয় এই নেতাকে বেশি বেশি মনে করছে নানা শ্রেনী পেশার মানুষ। জনমনের প্রশ্ন হিরণ’র শূন্যতা পূরন করা কি সম্ভব? আজ তিনি নেই কিন্তু তাঁর কর্মময় জীবন আম জনতার কাছে যুগ যুগান্তর স্মরণীয় বরনীয় হয়ে থাকবে। বিশেষ করে দলের নেতাকর্মীদের তাঁর আদর্শকে লালন ও ধারণে একধাপ এগিয়ে নিতে পারে। কিছু মানুষ সূর্যের মতো উদিত হয়, মেধা, মনন আর সৃষ্টির কল্যাণে আলোকিত হয়ে ওঠে জগৎ সংসার। পৃথিবী থেকে চলে  গেলেও তাদের কর্ম, সততা, জনপ্রিয়তা ও অধ্যবসায়ের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকেন-থাকবেন যুগ যুগ ধরে। তেমনি আলোকিত মানুষদের প্রতিনিয়তই আমরা হারিয়ে চলেছি সময়ের পরিক্রমায়। মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়া নিয়তির এক অমোঘ নিয়ম। মৃত্যুজনিত শূন্যতা কখনো পূরণ হওয়ার নয়। তবুও চিরাচরিত নিয়ম!!! রহস্যময় জগত সংসার। আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা নেতাকে হারানোর  বেদনা সর্বত্র তাড়া করে ফিরছে বিশেষ করে হিরণভক্তদের মাঝে। গঠণমলূক নেতা হিরণ, তিনি যে নেই  কি যে অভাববোধ! ভক্ত কর্মী সমর্থকরা যেন কষ্টের এক পাহার বেয়ে চলছে। নিরবে চোখের জ্বলও ফেলেন তারা।  বরিশালের শান্তির দূত খ্যাত অ্যাড. শওকত হোসেন হিরণ। হিরণময় জ্যোতির মনন-প্রজ্ঞা, সৃষ্টি- সোচ্চারে জাতি পেয়েছে নির্দেশনা, তরুণরা দিশা। প্রখর ও প্রজ্ঞাবান এ ব্যক্তির প্রয়াণ হলেও সমাজ,রাজনীতি,জনপ্রতিনিধিত্বে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান অতুলনীয়। এ অবদান বরিশালবাসীর অগ্রযাত্রার সারথি হয়ে থাকবে। হিরণ নেই কিন্তু  তাঁর কর্মময় বরিশালবাসীর আলোর দিশোরী। প্রিয়জন হারানো শোকের কান্না। সাবেক জননন্দিত সিটি  মেয়র প্রয়াত এমপি শওকত হোসেন হিরণ’র মৃত্যতে শোকে কাতর দল মত নির্বিশেষের মানুষ। এখনও গুমড়ে গুমড়ে কাঁদছে হিরণ ভক্তরা। যদিও মৃত্যু অবধারিত এবং স্বাভাবিক। এটাই বাস্তবতা। কিন্তু কোন কোন মৃত্যু মানুষকে কাদাঁয়,ভাবায় অনন্তকাল। তবে মৃত্যু নিয়ে কোন ব্যক্তি বিশেষের প্রাধাণ্য থাকে না। আবার এটাও সত্য কোন  কোন মৃত্যু মেনে নেয়া যায় না। বরিশাল অঞ্চলের পেক্ষাপটে দৃষ্টান্ত প্রয়াত আওয়ামী লীগ  নেতা অ্যাড.শওকত হোসেন হিরণ। অমোঘ নিয়ম। বলা যায় অকাল মৃত্যু। হিরণ’র মৃত্যুতে মানুষ কেঁদেছে অঝোর ধারায়। অথচ তাদের অনেকে হিরণ’র সাথে রক্তের সম্পর্ক নেই। নীতি-আদর্শ সর্বোপরি নেতার জন্য অনুসারী বা শুভাকাঙ্খীদের কান্না বরিশাল প্রেক্ষাপটে সেদিন দেখা গেছে হিরন’র মরদেহ বরিশালে পৌঁছানোর পর। সেই নেতার আদরের কন্যা বধূ সাজতে যাচ্ছে। ঘটা করে আয়োজনে বর আসবে রাজকুমারের বেশে। হয়তোবা থাকবে হাজারো অতিথি। পরিবেশ হয়ে উঠবে আনন্দময়। অথচ পিতা শওকত হোসেন হিরণ সেখানে অনুপস্থিত। দেশের রাজনীতিকরা বলেছেন, শওকত হোসেন হিরণ ছিলেন বরিশালের উন্নয়নের রূপকার। তাঁর কর্মদক্ষতা আর আন্তরিকতার কারণেই তাকে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন দেয়া হয় এবং তিনি নির্বাচিত হন। কিন্তু ফুলটি ফোটার আগেই ঝরে গেগল। কারণ সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই চলে গেলেন না ফেরার দেশে।’ শওকত হোসেন হিরণ ছিলেন দেশ ও জাতির একজন সূর্য্য সন্তান। তিনি আমৃত্যু মানুষের কল্যাণে কাজ করে  গেছেন। জনগণের বিপদের বন্ধু এবং সুখ ও দুঃখের সাথী ছিলেন সংসদ সদস্য শওকত হোসেন হিরণ। প্রফেট অব নন ভায়োলেন্স মহাত্মা গান্ধী নিহতের পর শোক বার্তায় নোবেল বিজয়ী জর্জ বার্নাড শ’র উক্তি ছিল-To be too good is a dangerous things এমনটা শওকত হোসেন হিরণের বেলায়ও প্রযোজ্য। ২০১৪ সালের ২২ মার্চ শনিবার রাত ১০ টায় হিরণ বরিশাল ক্লাবের সামনে ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে হঠাৎ পড়ে গিয়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান। এবং অচেতন হয়ে পড়েন। তাৎক্ষণিক তাকে শের-ই- বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করেন। রাত সাড়ে বারোটার দিকে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় এ্যাপোলো হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। সেখানে তার মস্তিষ্কে ‘ডিকমপ্রেসিভ ক্রানেকটমি’ নামে একটি অস্ত্রোপচার করা হয়। পরে মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২৪ মার্চ রাতে হিরণকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর নিয়ে যাওয়া হয়।  সেখানে ২৫ মার্চ সকালে তার একটি অস্ত্রোপচার করা হয়। এরপরও অবস্থার কোন উন্নতি না হওয়ায় ২৭ মার্চ রাতে দেশে ফিরিয়ে এনে পুনরায় অ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। পরিবারের সদস্যদের সম্মতিক্রমে ঢাকার এ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাংসদ হিরণের লাইফ সাপোর্ট খুলে ফেলা হলে তিনি চলে যান না ফেরার  দেশে। ৩২ বছরের টানা রাজনৈতিক জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটিয়ে ১৯দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে ৯ এপ্রিল মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে পরপারে চলে যান বরিশাল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য, সিটি কর্পোরেশনের সাবেক জননন্দিত সফল মেয়র এবং মহানগর আ’লীগের সভাপতি আলহাজ্ব শওকত হোসেন হিরণ। অর্থাৎ বরিশালের একটি উজ্জল লক্ষত্রের ছন্দপতন।  হিরণের মৃত্যুর খবর মুহুর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে বরিশালসহ  গোটা দক্ষিণাঞ্চলবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। দলমত নির্বিশেষে সর্বস্তরের জনতা গভীর শোকে বিমূর হয়ে পরেন। স্তব্ধ হয়ে পড়ে নগরীর কর্মচাঞ্চল্য। দলীয় নেতাকর্মী ও শুভান্যুধায়ীরা নগরীর আলেকান্দার হিরণের বাসভবনে জড়ো হতে থাকেন।  চোখের জল মনের অজান্তে গড়িয়ে পড়ে বরিশালের নানা শ্রেনী পেশার মানুষের। হিরণ’র শূন্যতা অপুরনীয়। বরিশালের গর্ব এই মহান ব্যক্তির অকাল প্রয়াণে’র বিষয়টি কোনভাবেই মেনে নিতে পারেনি। কেউ কেউ দলের রাজনীতি থেকে নিজেদের গুটিয়ে রেখেছেন। কেউ বাকরুদ্ধ। আবার কেউ কেউ শত বাধা অতিক্রম করে আপপেট হচ্ছে। কারণ হিরণ ছিলেন বরিশাল আওয়ামী লীগকে শক্ত ভীতে দাড় করানোর কারিগর। তিনি ছিলেন সাংগঠনিক নেতা। বিএনপির দূর্গ খ্যাত বরিশালে আওয়ামী রাজনীতিকে শক্ত ভীতে দাড় করাতো স্বক্ষম হন। শওকত হোসেন হিরণ ১৯৫৬ সালের ১৫ অক্টোবর পটুয়াখালীর বাউফল এলাকার মৃত আবুল হাশেম মিয়া ও মৃত জয়নব বেগমের সংসারে জন্মগ্রহণ করেন।১৯৭৩ সালে বরিশাল ল’কলেজ সক্রিয় রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন হিরণ। তৎকালীন সময়ে তিনি জাসদ ছাত্রলীগে যোগদান করেন। ১৯৭৯ সালে জাসদ ছাত্রলীগ ছেড়ে বিএনপি’র ছাত্র রাজনীতির সাথে জড়িত হন। ১৯৮৬ সালে তিনি যুক্ত হন এরশাদের জাতীয় পার্টির সাথে। সর্বশেষ ১৯৯৮ সালে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যোগাদন করেন। এরশাদ সরকারের আমলে বরিশাল সদর উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। পরবর্তীতে দুই বার জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে বরিশাল-৫ (সদর) আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নিয়েও পরাজিত হন। ২০০৮ সালের বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে মেয়র নির্বাচিত হন। তবে ২০১৩ সালের ১৫ জুন বিসিসি’র নির্বাচনে তিনি বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী আহসান হাবিব কামালের কাছে পরাজিত হন। অবশ্য সেক্ষেত্রে কথা উঠেছিল নিজ দলের একটি অংশ প্রকাশ্যে ও গোপনে আতাতের ষড়যন্ত্রে হিরণকে কৌশলে পরাজিত করা হয়েছে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীর নির্বাচনে তিনি বরিশাল সদর আসন থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় সাংসদ নির্বাচিত হন। 

টাইমস ২৪ ডটনেট/দুনিয়া/১২,৩৯১
 ·  Translate
বরিশালে প্রয়াত নেতা হিরণ’র শূন্যতায়... -   আহমেদ জালাল, টাইমস ২৪ ডটনেট, বরিশাল থেকে: বরিশালের প্রয়াত নেতা অ্যাড. শওকত হোসেন হিরণ’র শূন্যতায় গুমড়ে গুমড়ে কাঁদছে দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। পাশাপাশি বরিশালে সাম্প্রতিককালে অপরাজনীতির কারণে জনপ্রিয় এই নেতাকে
1
Add a comment...
People
Have him in circles
867 people
Ocena Pothik's profile photo
Rahat Mollik's profile photo
Mamun. Sp's profile photo
Nusrat Jahan's profile photo
Md. Masum Khan's profile photo
Ajit Ray's profile photo
nomani mamun's profile photo
Md Sapon's profile photo
Tapan Kumer Das's profile photo
Education
  • Bangladesh University of Engineering and Technology
    present
Basic Information
Gender
Male
Work
Occupation
Journalist
Employment
  • www.sheershanews.com
    staff reporter
  • www.bestnewsbd.com
    special correspondent
  • Daily Shadhinmot Barisal Bureau cheif · Barisal
Places
Map of the places this user has livedMap of the places this user has livedMap of the places this user has lived
Previously
Bangladesh - Ahmed Jalal.(Journalist) - Dhaka - Dhaka