Profile cover photo
Profile photo
SUDIP NATH
69 followers -
Sudip nath , Agartala
Sudip nath , Agartala

69 followers
About
Posts

Post has attachment
আগরতলা শহরের কেন্দ্রস্থলটা ঠিক একটা গামলার মতো। তবে কেউ যদি মনে করেন, এটাই আগরতলা শহরের সমগ্র অঞ্চল, তাহলে তা হবে হঠকারিতা। এটা সাবেক আগরতলা শহর। ইতিমধ্যেই এই শহর অনেক বিস্তৃত হয়েছে উত্তর থেকে দক্ষিণে ও পুব দিকে। বলদাখাল সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকাও এখন শহরের মধ্যেই পড়ে। অথচ সাম্প্রতিক দুই দফা বন্যার সময়ে ফেইসবুকের দেয়ালে দেয়ালে ঐ গামলাটাকেই আগরতলা শহর হিসেবে চিহ্নিত করেছেন শহরের ইঞ্জিনিয়ার সহ বুদ্ধিজীবীরা সকলেই।

যাইহোক, সব মিলিয়ে, উপরে উল্লেখিত পরিস্থিতিটা কিন্তু এখানেও মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। এর পেছনের কারণগুলো বিচার বিশ্লেষণ করলে যে মোদ্দা কথাটা বেড়িয়ে আসে, তা হচ্ছে, প্রকৃতির উপর অযাচিত হস্থক্ষেপ। মূল কারণ কিন্তু শুধু মাত্র আগরতলা নামক সাবেক বা সাম্প্রতিক শহরেই সীমাবদ্ধ নয়। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া দুই দুইটি মারাত্মক বন্যা আর নিত্যনৈমত্তিক বন্যার মধ্যেও কোনো মৌলিক তফাৎ নেই। ড্রেইন পরিষ্কার রেখে বা পুকুর সংরক্ষণ করেও, এর থেকে পরিত্রাণের পথ সুদূরপরাহত।

সুদীর্ঘ কাল আমরা অযাচিত ভাবে হাওড়া নদীর উৎস থেকে শুরু করে শহরের পার্শবর্তি সমগ্র অঞ্চলকেই নির্মমভাবে আঘাত করে চলেছি। এসব সবাই বুঝেও বুঝি না। এই বিষয়ের মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক হলো ভূমি ক্ষয়ের উপযুক্ত পরিস্থিতি তৈরি করা। হাওড়া নদীর সমস্ত ছোট বড় ছড়া তথা স্রোতস্বিনীগুলোর পাড়ে পাড়ে নিদারুণ ভুমিক্ষয়ের ফলে, বয়ে আসা মাটি জলে মিশে কোথায় যায় ? ত্রিপুয়ার রাবার চাষ এই ধরণের একটি উৎপাত। হাওড়া নদীর জলের রঙ স্বচ্ছ নয় কেনো ? এসব কথা একটা বাচ্চাও বোঝে, কিন্তু বোঝে না ইঞ্জিনিয়াররা, আর পলিসি মেকার নেতারা আর আমলারা। এখন সবাই ঐ ছোট্ট গামলা সুরক্ষিত রাখতে উঠেপড়ে লেগেছেন। এসব হচ্ছে উদ্ভট আর লোক দেখানো কাজ। জলের সমোচ্চশীলতা ধর্মের জন্যই এই গামলা কোনোদিনই বন্যা এবং শহরের লাগোয়া পশ্চিমে অবস্থিত বাংলাদেশের আখাউড়া অঞ্চলের বিস্তৃত ওয়াটার লগিং (Waterlogging) থেকে মুক্তি পাবে না। একথা হলফ করেই বলা যায়।

কদিন আগেই এক মন্ত্রী স্বীকার করেছেন, এই গামলায় নাকি বাংলাদেশের জল বিপরীতমূখী হয়ে ঢুকেছে। এটা জলের সমোচ্চশীলতা ধর্মের জন্যেই হবে। এবং এই সূত্র থেকেই বলা যায়, আগরতলার বন্যা শুধু আগরতলা বা ত্রিপুরা বা ভারতের একার সমস্যা নয়, এটা একটা আন্তর্জাতিক একটা সমস্যা। আরো বলা যায়, আগরতলার এই গামলাটা একদিন না একদিন হরপ্পা মহেঞ্জোদারোর মতই পরিত্যক্ত শহর হিসেবে চিহ্নিত হবে। এই গামলার ভিতরের বড়লোকেরা টিলা অঞ্চলে তাদের বাসস্থানের বিকেন্দ্রিভবন ঘটাতে বাধ্য হবে। তাদের সাথে গরীবরাও রোজগারের স্বার্থে, নূতন এলাকায় বসতি স্থাপন করবে। এমতাবস্থায়, নিয়তির হাতে আত্মসর্মপন করে নিশ্চল বসে থাকা ছাড়া আর কোন উপায় থাকে না।
Add a comment...

Post has attachment
মহামান্য সর্বোচ্চ আদালত যে রায় ঘোষণা করেছে তাতে মুসলিম সমাজে প্রচলিত অন্য ধরণের তালাকের পদ্ধতিগুলো নিয়েও আলোচনা করেছে। যেমন talaq-e-ahsan এবং talaq-e-hasan/talaq-e-ehasan ইত্যাদি। এমতাবস্থায় এটাতে বিভ্রান্তির অবকাশ মোটেই নেই যে, ঐ সমাজে কয়েক ধরণের তালাকই প্রচলিত।
ভারতের সর্বোচ্চ আদালত ২২-৮-২০১৭ তারিখে ঐ রায়ে মুসলমানদের এই তিন তালাক প্রথাকে অসাংবিধানিক বলে ঘোষণা করেছে। পর পর তিনবার তালাক উচ্চারণ করে অথবা চিঠি লিখে, সামাজিক মাধ্যম বা ফোনে তিনবার তালাক উচ্চারণ করে যে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দেওয়া হয়, তার বিরুদ্ধে ৫জন মুসলিম নারী সুপ্রিম কোর্টের কাছে আবেদন করেছিলেন। তারই প্রেক্ষিতে ৫ সদস্যক এক সাংবিধানিক বেঞ্চের ২ জন বিপক্ষে ও ৩ জন পক্ষে এই রায় দিয়েছে। এই রায় নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে ভারতের মুসলমান প্রধান এলাকাগুলোতেও।

কিন্তু বাংলাদেশ বা পাকিস্তানের মত মুসলমান-প্রধান দেশ সহ বিভিন্ন দেশে এই তিন তালাক নিষিদ্ধ হয়েছে দীর্ঘদিন আগেই। পাকিস্তান সৃষ্টির লগ্ন থেকেই নারী আন্দোলন কর্মীরা তিন তালাক বন্ধের জন্য চাপ দিচ্ছিল। পাকিস্থানে তখন আইয়ুব খান ছিলেন ক্ষমতার শীর্ষে। নারী অধিকার কর্মীরা তখন হুমকি দিয়েছিল, এই তিন তালাক তথা তালাক-ই-বাদাত বিষয়ে মুসলিম পারিবারিক আইনে যদি পরিবর্তন না আনা হয়, তাহলে তারা আইয়ুব খান বিরোধী আন্দোলন গড়ে তুলবেন। ফলে ১৯৬১ সালে মুসলিম পারিবারিক আইনে সংস্কার সাধন করতে একরকম বাধয় হয়েছিল আইয়ুব খান সরকার। তখন বলা হয়েছিল, মুখে-মুখে তিন তালাকের কোন আইনগত বৈধতা থাকবে না। আইয়ুব খান সরকার তালাকের ক্ষেত্রে যে সংস্কার এনেছিল সেটি এখনো বাংলাদেশে চালু আছে। বাংলাদেশে আদালতের মাধ্যমে এবং পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতেও বিবাহ বিচ্ছেদ এখন সম্ভব।

এবার ঐসব বিভিন্ন ধরণের তালাকগুলোর দিকে দৃষ্টিপাত করা যাক। বিভিন্ন দেশে, পদ্ধতিগত দিক দিয়ে, পুরুষ কর্তৃক দেয় তালাক মুখ্যত তিন প্রকারঃ-
ক) তালাক-ই-আহসান বা সর্বোত্তম তালাক
খ) তাকাল-ই-হাসান বা উত্তম তালাক
গ) তালাক-ই-বিদ্দাত বা শরিয়া বিরুদ্ধ তালাক
Add a comment...

Post has attachment
মহামান্য সর্বোচ্চ আদালত যে রায় ঘোষণা করেছে তাতে মুসলিম সমাজে প্রচলিত অন্য ধরণের তালাকের পদ্ধতিগুলো নিয়েও আলোচনা করেছে। যেমন talaq-e-ahsan এবং talaq-e-hasan/talaq-e-ehasan ইত্যাদি। এমতাবস্থায় এটাতে বিভ্রান্তির অবকাশ মোটেই নেই যে, ঐ সমাজে কয়েক ধরণের তালাকই প্রচলিত।
ভারতের সর্বোচ্চ আদালত ২২-৮-২০১৭ তারিখে ঐ রায়ে মুসলমানদের এই তিন তালাক প্রথাকে অসাংবিধানিক বলে ঘোষণা করেছে। পর পর তিনবার তালাক উচ্চারণ করে অথবা চিঠি লিখে, সামাজিক মাধ্যম বা ফোনে তিনবার তালাক উচ্চারণ করে যে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দেওয়া হয়, তার বিরুদ্ধে ৫জন মুসলিম নারী সুপ্রিম কোর্টের কাছে আবেদন করেছিলেন। তারই প্রেক্ষিতে ৫ সদস্যক এক সাংবিধানিক বেঞ্চের ২ জন বিপক্ষে ও ৩ জন পক্ষে এই রায় দিয়েছে। এই রায় নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে ভারতের মুসলমান প্রধান এলাকাগুলোতেও।

কিন্তু বাংলাদেশ বা পাকিস্তানের মত মুসলমান-প্রধান দেশ সহ বিভিন্ন দেশে এই তিন তালাক নিষিদ্ধ হয়েছে দীর্ঘদিন আগেই। পাকিস্তান সৃষ্টির লগ্ন থেকেই নারী আন্দোলন কর্মীরা তিন তালাক বন্ধের জন্য চাপ দিচ্ছিল। পাকিস্থানে তখন আইয়ুব খান ছিলেন ক্ষমতার শীর্ষে। নারী অধিকার কর্মীরা তখন হুমকি দিয়েছিল, এই তিন তালাক তথা তালাক-ই-বাদাত বিষয়ে মুসলিম পারিবারিক আইনে যদি পরিবর্তন না আনা হয়, তাহলে তারা আইয়ুব খান বিরোধী আন্দোলন গড়ে তুলবেন। ফলে ১৯৬১ সালে মুসলিম পারিবারিক আইনে সংস্কার সাধন করতে একরকম বাধয় হয়েছিল আইয়ুব খান সরকার। তখন বলা হয়েছিল, মুখে-মুখে তিন তালাকের কোন আইনগত বৈধতা থাকবে না। আইয়ুব খান সরকার তালাকের ক্ষেত্রে যে সংস্কার এনেছিল সেটি এখনো বাংলাদেশে চালু আছে। বাংলাদেশে আদালতের মাধ্যমে এবং পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতেও বিবাহ বিচ্ছেদ এখন সম্ভব।

এবার ঐসব বিভিন্ন ধরণের তালাকগুলোর দিকে দৃষ্টিপাত করা যাক। বিভিন্ন দেশে, পদ্ধতিগত দিক দিয়ে, পুরুষ কর্তৃক দেয় তালাক মুখ্যত তিন প্রকারঃ-
ক) তালাক-ই-আহসান বা সর্বোত্তম তালাক
খ) তাকাল-ই-হাসান বা উত্তম তালাক
গ) তালাক-ই-বিদ্দাত বা শরিয়া বিরুদ্ধ তালাক
Add a comment...

Post has attachment
SUDIP NATH commented on a post on Blogger.
মহামান্য সর্বোচ্চ আদালত যে রায় ঘোষণা করেছে তাতে মুসলিম সমাজে প্রচলিত অন্য ধরণের তালাকের পদ্ধতিগুলো নিয়েও আলোচনা করেছে। যেমন talaq-e-ahsan এবং talaq-e-hasan/talaq-e-ehasan ইত্যাদি। এমতাবস্থায় এটাতে বিভ্রান্তির অবকাশ মোটেই নেই যে, ঐ সমাজে কয়েক ধরণের তালাকই প্রচলিত।
ভারতের সর্বোচ্চ আদালত ২২-৮-২০১৭ তারিখে ঐ রায়ে মুসলমানদের এই তিন তালাক প্রথাকে অসাংবিধানিক বলে ঘোষণা করেছে। পর পর তিনবার তালাক উচ্চারণ করে অথবা চিঠি লিখে, সামাজিক মাধ্যম বা ফোনে তিনবার তালাক উচ্চারণ করে যে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দেওয়া হয়, তার বিরুদ্ধে ৫জন মুসলিম নারী সুপ্রিম কোর্টের কাছে আবেদন করেছিলেন। তারই প্রেক্ষিতে ৫ সদস্যক এক সাংবিধানিক বেঞ্চের ২ জন বিপক্ষে ও ৩ জন পক্ষে এই রায় দিয়েছে। এই রায় নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে ভারতের মুসলমান প্রধান এলাকাগুলোতেও।

কিন্তু বাংলাদেশ বা পাকিস্তানের মত মুসলমান-প্রধান দেশ সহ বিভিন্ন দেশে এই তিন তালাক নিষিদ্ধ হয়েছে দীর্ঘদিন আগেই। পাকিস্তান সৃষ্টির লগ্ন থেকেই নারী আন্দোলন কর্মীরা তিন তালাক বন্ধের জন্য চাপ দিচ্ছিল। পাকিস্থানে তখন আইয়ুব খান ছিলেন ক্ষমতার শীর্ষে। নারী অধিকার কর্মীরা তখন হুমকি দিয়েছিল, এই তিন তালাক তথা তালাক-ই-বাদাত বিষয়ে মুসলিম পারিবারিক আইনে যদি পরিবর্তন না আনা হয়, তাহলে তারা আইয়ুব খান বিরোধী আন্দোলন গড়ে তুলবেন। ফলে ১৯৬১ সালে মুসলিম পারিবারিক আইনে সংস্কার সাধন করতে একরকম বাধয় হয়েছিল আইয়ুব খান সরকার। তখন বলা হয়েছিল, মুখে-মুখে তিন তালাকের কোন আইনগত বৈধতা থাকবে না। আইয়ুব খান সরকার তালাকের ক্ষেত্রে যে সংস্কার এনেছিল সেটি এখনো বাংলাদেশে চালু আছে। বাংলাদেশে আদালতের মাধ্যমে এবং পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতেও বিবাহ বিচ্ছেদ এখন সম্ভব।

এবার ঐসব বিভিন্ন ধরণের তালাকগুলোর দিকে দৃষ্টিপাত করা যাক। বিভিন্ন দেশে, পদ্ধতিগত দিক দিয়ে, পুরুষ কর্তৃক দেয় তালাক মুখ্যত তিন প্রকারঃ-
ক) তালাক-ই-আহসান বা সর্বোত্তম তালাক
খ) তাকাল-ই-হাসান বা উত্তম তালাক
গ) তালাক-ই-বিদ্দাত বা শরিয়া বিরুদ্ধ তালাক
Add a comment...

Post has attachment

Post has attachment
SUDIP NATH commented on a post on Blogger.

গত ৫.১.২০১৭ তারিখের ঘটনা। ঘটনাস্থল ত্রিপুরা জুটমিলের কাছে জাতীয় সড়ক। একটি তরতাজা যুবক হেলমেট মাথায় দিয়েই মোটর সাইকেলে তার সঙ্গী করে নিয়েছিল একটি তরতাজা কিশোরকে। ষোল বছর বয়েসী কিশোরের মাথায় হেলমেট ছিল না। যুবকটি একটা লড়ির পেছনে ছিল। সে তার সামনের লড়িটিকে ওভারটেক করতে যেয়ে, মাঝ রাস্তায় ঢুকে পড়ে। তৎক্ষণাৎ উল্টো দিক থেকে অতি দ্রুত আসছিল একটি যাত্রী বাহী টাটা ম্যাজিক গাড়ী। কিন্তু সে ম্যাজিক গাড়িটিকে লড়িটির জন্যে দেখতে পায় নি। আর এখানেই ঘটে যায় বিপত্তি। এমনটা অপ্রত্যাশিত নয়। তরুনটি বেঁচে যেত, যদি যুবকটিকে সে বাঁচাতে চেষ্টা না করত। প্রত্যক্ষদর্শির বিবরণে জানা যায়, কিশোরটি এই কারণেই নিজের জীবন বলি দিয়েছে।

এখানে কিন্তু একটা কথা আমাদের বুঝতে হবে যে, অপ্রত্যাশিত কারণে খুব কম সংখ্যক দুর্ঘটনাই ঘটে। প্রায় সমস্ত দুর্ঘটনাই ঘটে কতগুলি সুনির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে। এই সমস্ত দুর্ঘটনা গুলোকে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, প্রায় সবগুলো দুর্ঘটনাই এড়ানো যেতো। আর তার থেকেই আমরা এই সিদ্ধান্তে আসতে পারি যে, প্রায় সমস্ত দুর্ঘটনাই এড়ানো যায়। এইসব পরিস্থিতিগুলোকে কতগুলো সুনির্দিষ্ট ফ্যাক্টর দিয়ে সূত্রায়িত করা যায়।

আমরা অনেক সময় রাস্তার মাঝখানে চলে যাই, সামনের দৃশ্য আড়াল করে থাকা গাড়ি বা অন্য কিছুর পেছন থেকে। অদৃশ্য জায়গাটাকে বলা হয় ব্ল্যাক পয়েন্ট। এই কারনেই প্রায় এক তৃতীয়াংশ দুর্ঘটনা ঘটে। এই যে সামনের দৃশ্য আড়াল করে থাকা, কোন কিছুর পেছন থেকে হঠাৎ চলে যাওয়া, সেই অভ্যাসটি কিন্তু গড়ে উঠে সবার অলক্ষে, একেবারে ছোটবেলা থেকেই। ছোটবেলায় আমরা বাড়িতে, দরজার পেছন থেকে, আলমারি আসবাব পত্রের পেছন থেকে, নিশ্চিন্ত মনে ছুটে বের হই। তখন এমন কিছুই ঘটেনা। এই ভাবেই আমাদের মনে গড়ে উঠে বাজে একটি নেতিবাচক অভ্যাস। এই অভ্যাস দিনে দিনে শর্তাধীন পরাবর্তের সহায়তায়, বদভ্যাসে পরিনত হয়। এই নেতিবাচক তথা বদ অভ্যাসটি নিয়েই আমাদের ছেলেমেয়েরা পথচারী চালক হিসেবে চলতে শুরু করে গ্রাম-শহরের নির্জন ও ব্যস্ত রাস্তায় আর হাইওয়েতে। রাস্তায় যে গারিটা এগিয়ে আসছে, সেটা তত বিপদজনক নয়, যতটা বিপদজনক সেই থেমে থাকা গাড়িটা, যা এগিয়ে আসা গাড়ীটাকে আড়াল করে রাখে। শুধুমাত্র থেমে থাকা গারিই নয়, চলন্ত গাড়িও ব্ল্যাক পয়েন্ট সৃষ্টি করে বিপদ ঘটায়। অনুরূপ পরিস্থিতিকে একটা নির্দিষ্ট মনস্তাত্ত্বিক ফ্যাক্টরের দ্বারা সূত্রায়িত করা যায়। তা হচ্ছে, “ পথচারী বা চালক, লুকানো বিপদটি আগে থেকে আঁচ পড়তে পারেনি”। আর ঐ দিনের ঘটনায়, ওভারটেকের সময়ে, সামনে এগিয়ে চলা লড়িটিই ব্ল্যাক পয়েন্ট সৃষ্টি করে রাখছিল, যুবকটির ক্ষেত্রে। সে লড়িটির পেছনে থাকায়, আগত ম্যাজিক গাড়িটিকে দেখতে পায় নি। দেখতে না পেয়েই বিপজ্জনক এলাকায় ঢুকে পরে।

কিন্তু সমস্ত দুর্ঘটনা বিশ্লেষণ করলে এটাও দেখা যাবে যে, প্রতিটি ক্ষেত্রেই, মোটর ভেহিক্যাল আইনের, কোনও না কোন ধারা অমান্য করার কারণেই দুর্ঘটনা ঘটেছে। ত্রিপুরার সমস্ত রাস্তায় যানবাহনের গতির সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারিত করা করা আছে। অথচ দেখা যায় যে, অতিমাত্রায় গতিবেগের কারণেই প্রায় সব মারাত্মক একসিডেনটগুলো একের পর এক ঘটে চলেছে। তাছাড়াও রয়েছে মাত্রাতিরিক্ত আরোহি সংখ্যা। আমি হলফ করেই বলতে পারি যে, প্রত্যেকটা ঘটনা তদন্ত করলেই দেখা যাবে যে, কোন না কোন আইন ভাঙ্গা হয়েছে। তাই যদি হয়, তাহলে তো ধরেই নিতে হয় যে, ত্রিপুরায় যান দুর্ঘটনা জনিত আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটেছে। আর হতাহতের সংখ্যা যেখানে লাগামহীন, সেখানে এটাও মেনে নিতেই হয় যে, ত্রিপুরার আইনশৃঙ্খলার চূড়ান্ত অবনতিই ঘটেছে। আর তাই যদি হয়, তাহলে তার দায় আবশ্যিক ভাবেই বর্তায় স্বরাষ্ট্র দপ্তরের উপরই। এই সহজ কথাটা থেকে স্বরাষ্ট্র তথা মূখ্য মন্ত্রী যতই মুখ ফিরিয়ে রাখেন না কেন, মানুষ তা ঠিকই বোঝে। অথচ সড়ক সুরক্ষা সপ্তাহে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর থেকে আমরা কোন কথাই শুনতে পাইনা। তিনি সড়ক সুরক্ষা জনিত সমস্ত দায় দায়িত্ব দিয়ে রেখেছেন পরিবহণ মন্ত্রীর নিকট। এমতাবস্থায়, একটা প্রশ্ন কিন্তু সামনে চলে আসে, আর তা হল , পরিবহণ মন্ত্রীর কি ট্রাফিক বিভাগের উপর কোন কনট্রোল আছে ?

প্রত্যেক বছর জানুয়ারি মাসে ঘটা করেই পালন করা হয়ে থাকে সড়ক সুরক্ষা সপ্তাহ। এটা সমস্ত দেশ জুড়েই পালিত হয় আরও অনেক দিবসের মতই। এই সপ্তাহ এখন অনেকটা উৎসবের মেজাজ নিয়েই হাজির হয় বলেই অনুমান করা যায়। কত টাকা খরচ করা হয় এই দিবস পালন করতে তার হিসেব জানা নেই। তবে এই দিবসকে কেন্দ্র করে আরক্ষা দপ্তরের ট্রাফিক বিভাগে আর সারফেস ট্রান্সপোর্ট দপ্তরে সাজ সাজ রব পড়ে যায়। পরিবহন মন্ত্রী আমলাদের নিয়ে সভা করে ঠিক করে দেন, এই দিবস কিভাবে পালন করা হবে। কোথায় কোথায় সভা করতে হবে আর কত লোক জড়ো করতে হবে ইত্যাদি। কিন্তু মৃতদের পরিবারের প্রতি কোন শোকবার্তা পাঠানো হয় কিনা জানা নেই।

এবছরও সপ্তাহ জুড়ে সারা ভারতেই সড়ক সুরক্ষা সপ্তাহ পালিত হচ্ছে। ত্রিপুরায় পরিবহন মন্ত্রি এক বছর আগে, সড়ক সুরক্ষা সপ্তাহ শুরু করার আগের দিন অর্থাৎ গত ১০-১-২০১৬ তারিখে এক সাংবাদিক সন্মেলন করে জানিয়েছিলেন, এই রাজ্যে নাকি দুর্ঘটনার সংখ্যা ক্রমহ্রাসমান। তিনি যুক্তি খাঁড়া করে বলেছিলেন, ২০১৩ সালে দুই শতাধিকের বেশি মানুষ মারা যায়। আর ২০১৪ সালে যান দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা দুইশ’ জনের নীচে চলে এসেছে। আরো বলেছিলেন, মোট দুর্ঘটনার সংখ্যাও নাকি কমেছে। আর দেখিয়েছিলেন যে, প্রতি বছরই ত্রিপুরায় যানবাহনের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। তাই যান দুর্ঘটনা ত্রিপুরায় ক্রমহ্রাসমান। আর ঘটা করে ১১-১-২০১৬ তারিখে পালন করা প্রকাশ্য কেন্দ্রীয় জমায়েতে তিনি বলেছেন, দুর্ঘটনার মূখ্য কারণই হচ্ছে আইন অমান্য করে যান চালনা। এই ছিল মন্ত্রি মহোদয়ের মূল কথা।

অথচ বাস্তবে, এই দপ্তর নয়, রাস্তার যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণের অর্থাৎ রাস্তাঘাটের আইনশৃঙ্খলার সামগ্রিক দিকটা সামলানো হয়, ট্রাফিক বিভাগ দিয়ে। জনগণ তথা আরোহী আর চালকেরা কিন্তু যে কোন পরিস্থিতিতেই ট্রাফিক বিভাগকেই সামনে দেখে এবং আইনের দিক থেকেও এটাই ঠিক। অথচ ট্রাফিট দপ্তরের মন্ত্রী নিশ্চুপ থাকেন এই ব্যাপারে।

এবার দেখে নেয়া যাক, যান দুর্ঘটনার সমস্যাকে আইনশৃঙ্খলা জনিত সমস্যা হিসেবে কতটুকু চিহ্নত করা যায়। প্রথমেই একটা প্রশ্নও সামনে এসে যায়। ত্রিপুরাতে যখন কাতারে কাতারে অসহায় মানুষ উগ্রপন্থী আক্রমনের কারণে মরে যেত, তখন কিন্তু সেই সমস্যাকে আইনশৃঙ্খলার সমস্যা হিসেবেই চিহ্নিত করে, স্বরাষ্ট্র দপ্তর মাথা ঘামাতো। কিন্তু সেই সমস্যা বিলীন হতে না হতেই ত্রিপুরার রাস্তায় রাস্তায় আইনশৃঙ্খলার চূড়ান্ত অবনতির এই সময়ে স্বীকার করা হচ্ছে না যে, এটা আরো বড় আইনশৃঙ্খলা জনিত সমস্যা। কারণ উগ্রপন্থী আক্রমনে যত মানুষ প্রাণ বিসর্জন দিয়েছে, তার থেকে অনেক বেশি মানুষ যান দুর্ঘটনায় ইতিমধ্যেই প্রাণ হারিয়েছে এবং তা সরকারি নথি-পত্রেই দেখা যায়।


এই হচ্ছে ত্রিপুরার সাধারণ অসহায় মানুষের হাল হকিকত। বোকার মত নিরীহ মানুষ কাতারে কাতারে মরে যাচ্ছে বা জীবন্মৃত অবস্থায় চলে যাচ্ছে। অগণিত পরিবার পথে বসে যাচ্ছে। শিশু কিশোর-কিশোরী পিতামাতাকে হারিয়ে দিশাহারা।

দুর্ঘটনায়, যাত্রীদের মৃত্যুর অন্যতম কারণ কিন্তু মাথায় আঘাত লাগা। মাথা ছাড়া শরীরের অন্য কোন অঙ্গে আঘাত লাগলে মৃত্যু হয়না, যদিও অল্প সংখ্যক মারাত্মক দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে বেশি রক্তপাত বা দেরিতে চিকিৎসার কারণেই মৃত্যুর সম্ভাবনা থাকে। এই ঘটনায়ও দুজনেই মাথায় আঘাত পেয়েই মারা গেছে।
তাছাড়া, মাথায় আঘাত থেকে বহুবিচিত্র স্থায়ী অস্থায়ী গুরুতর মানসিক ও স্নায়বিক রোগ দেখা দেয়। এই ধরণের কত রোগী যে, পরিবার সহ পথে বসে যায়, কে তার খোঁজ রাখে। এসবের আমরা খোঁজ পাইনা কারণ, তারা জীবন্মৃত হয়েই থাকে, থাকে সাধারণের দৃষ্টির বাইরে। আর আমরাও কেউ পেছনের দিকে আর তাকাই না।

এটা অস্বীকার করার যো নেই যে, যান চালকেরা নিজেদের জীবন বাজি রেখেই গাড়ি মোটর সাইকেল চালায়। তাই যদি হয় তাহলে তাদের উপর দোষ চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে কেন এই প্রশ্নটাই সর্বাগ্রে আমাদের সামনে এসে হাজির হয়। এই প্রশ্নটিকে সাইকো-স্যোসিও প্রেক্ষাপট থেকে বিচার বিশ্লেষণ করতে না পারলে, সব কিছুই শুধুমাত্র কথার কথাই থেকে যাবে। এই কথাটা প্রমানিত হতে কোন বাধা থাকেনা, যখন আমরা দেখি যে, এইভাবে সুরক্ষা সপ্তাহ পালন করেও কোন সুরাহা দেখা যাচ্ছে না। আর এখানেই রয়েছে, সমস্যাটি থেকে উৎরানোর মূল চাবিকাঠি।


আর আমাদের দেশের প্রতি পাঁচ জনে একজন যে মানিসিক ভারসাম্যহীন, তা কিন্তু কেউ বিবেচনায় আনার প্রয়োজন বোধ করে না। উগ্র মানসিক অবস্থা একটি বিপজ্জনক রোগ, যার জন্যেই বেশি দুর্ঘটনা ঘটে। তাই ড্রাইভিং লাইসেন্স দেয়ার আগে প্রতিটি আবেদনকারীর মানসিক অবস্থা যাচাই করা অতি-আবশ্যিক। প্রসঙ্গত উল্লেখ করতেই হয় যে, আমরা জন্ম সূত্রে মূখ্যত চার ধরণের মেজাজ নিয়ে জন্ম গ্রহন করি।

এগুলোকে মোটামুটি চারটি ভাগে ভাগ করা করা হয়। ১। অতি চঞ্চল বা CHOLERIC TYPE অনেকে বলে রগচটা ২। প্রাণচঞ্চল বা SANGINOUS TYPE অনেকে বলে হাসিখুশি ৩। নির্বিকার বা PHLEGMATIC TYPE অনেকে বলে আত্মপ্রতিষ্ঠ ৪। বিমর্ষ বা MELANCHOLIC TYPE অনেকে বলে ভীতু প্রকৃতির।

এই অতি চঞ্চল বা CHOLERIC TYPE মেজাজের কেউ উপযুক্ত পরিবেশে বিভিন্ন রকমের উগ্র আচরণ করে। এরা সবসময় মাত্রাতিরিক্ত সাহসী। এরা এক কথায়, প্রায়শই দুঃসাহসী কাজকর্মে জড়িয়ে পরে। এই ধরণের লোকেরা চালকের আসনে বসলে কি হয়, আর কি হচ্ছ, সহজেই তা অনুমেয়। ঐ দিনের যুবকের এবং টাটা ম্যাজিক চালকেরও চরিত্র কোলেরিক টাইপের বলাই বাহুল্য।

এসব অতশত পরিবহণ দপ্তরের নীতি নির্ধারকেরা বোঝেন কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠা স্বাভাবিক। প্রশ্নের উত্তর অবশ্যই আসবে যে তারা এসব কিছুই বোঝেন না বা তাদের অন্য কোন গোপন উদ্দেশ্য আছে। তার প্রমাণ স্বরূপ বলা যেতে পারে, তাহলে তো, ড্রাইভিং লাইসেনস ইস্যু করার আগে, সমস্ত ক্ষেত্রেই প্রার্থির সাইকোলজিক্যাল পরীক্ষা করা হত। কিন্তু কোনও ধরণের মানসিক রোগ নিয়ে কোন আবেদনকারী হাজির হয় কিনা এবং তা যাচাই করা হয় কিনা, তার জবাব কিন্তু, অতীত কাল থেকেই না বাচক।

তদুপরি, কুসংস্কার বসে, দুর্ঘটনার ফাঁড়া কাটাতে মাদুলি নিয়ে, আর জ্যোতিষের কাছে গিয়ে আগাম রত্ন ধারণ করে, আর তথাকথিত ইশ্বরের কাছে মানত তথা মানসী করে, নিশ্চিন্তে এক্সেলেটার চাপতে দুঃসাহসী হয়ে পড়ে অনেক চালক। উল্লেখিত অতি চঞ্চল বা CHOLERIC TYPE মেজাজের উচ্চ পর্যায়ে থাকা কেউ যদি, মানসিক দিক দিয়ে এইসব কুসংস্কারের দিকে ঝুকে পড়ে, তবে তো আর কথাই নেই। আর কিনা বিজ্ঞান মন্ত্রী, নিজের অজান্তেই হোক বা জ্ঞানতই হোক, স্বয়ং সরাকারি কাগজের অপব্যবহার করে, জ্যোতিষ চর্চায় মদত দেন। এ নিয়ে কম জল ঘোলা হয় নি, অথচ সরকার তরফে এ নিয়ে টু শব্দটি নেই এখনো। এই হচ্ছে আমাদের রাজ্যের হাল আমলের পরিস্থিতি।

আর এটাও সর্বজনবিদিত যে, ত্রিপুরা রাজ্যের সড়ক নিরাপত্তাকে, হাতে ধরে শেষ করে দিয়েছে এই রাজ্য সরকার নিজেই। অনেকে বলতে পারেন কি সেই কারণ। এবার সেই দিকেই একটু আঙ্গুল তোলা যাক।
রাজ্য সরকার বছরের পর বছর ধরে, তার কর্পোরেশনগুলোর মাধ্যমে লোন দিয়েছে জীপ গাড়ি আর অটো রিক্সা কেনার জন্যে। কাগজে প্রায়শই বিজ্ঞাপন দেয়া হচ্ছে বেকারদের আকর্ষন করার জন্যে। প্রচুর ভর্তুকির ব্যবস্থা সহ এই সব তিন চাকা চার চাকার গাড়ি ত্রিপুরায় পথে নেমেছে যেসবে শাটল যাত্রি পরিবহণ করা যায় না। আবারো বলছি, বাস ছাড়া অন্য কোন ধরণের যানবাহন, যাত্রি পিছু ভাড়া নিয়ে রাস্তায় চলতে পারে না। এইসব একমাত্র রিজার্ভ হিসাবেই চলতে পারে। অথচ ত্রিপুরায় ক্যাডার তৈরির উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে, অত্যন্ত কৌশলের সাথেই এইসব যানের অতি মাত্রায় রাস্তায় নামার ব্যবস্থা করে দেয়া হয়েছে। যার ফলশ্রুতিতেই ত্রিপুরায় বাসগুলো পথে বসে গেছে। রাধানগর স্ট্যান্ডের সামনে, এইসব ক্যাডাররা সরকারের দেয়া বাসের চালক আর কনডাক্টরদের উপর হামলাও করেছে, যেন বাস রাস্তায় না চালানো হয়। এই জীপ গাড়ি আর অটোর দৌরাত্বেই ত্রিপুরার রাস্তায় রাস্তায় দুর্ঘটনা প্রাদুর্ভাব ঘটেছে, যা ট্রাফিক দপ্তরের আমলারা ভাল করেই জানেন এবং বলেও থাকেন। আর ট্রাফিক বিভাগের উপর মোটর চালক মালিকের সংগঠনগুলোর কতটুকু নিয়ন্ত্রন আছে তা সকলেই জানেন।

যান দুর্ঘটনা কাকে কখন কিভাবে কোথায় বিপদে ফেলবে কেউ বলতে পারে না। আমরা সবাই মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে রয়েছি। কেউ জীবনে একাধিক বার যান দুর্ঘটনার সাথে জড়িত হন না। আমরা যারা দুর্ঘটনায় পড়ি, তারা সবাই চোর পালালে বুদ্ধি বাড়াই। তাই এমনটা হয়। অথবা জীবন্মৃত হয়ে অন্তরালে চলে যাই।
Add a comment...

Post has attachment
SUDIP NATH commented on a post on Blogger.
Add a comment...

Post has attachment
SUDIP NATH commented on a post on Blogger.
চিরশ্রী... খুব খুশি হলাম তোমার এই লেখা পড়ে ... আরও লিখতে হবে ... এমন লেখা ...
Add a comment...

Post has attachment
SUDIP NATH commented on a post on Blogger.


(C)Imageঃছবি
আলো ছাড়া সভ্যতার কথা ভাবাই যায়না। কিন্তু অতিরিক্ত আলোও সবার জন্যে অত্যন্ত ক্ষতিকারক। আজকের এই উন্নত তথা উন্নয়নের জোয়ারে ভাসা বিশ্ব, আলোক দূষণে ক্ষতিগ্রস্ত করে তুলছে সমগ্র জীবজগতকে। এ নিয়ে ভাবনা-চিন্তা তো দূরের কথা, আমরা আলো ছাড়া এখন যেন আর কিছু ভাবতেই পারি না। অন্ধকার হলো খারাপের প্রতীক, আর আলো হলো সব ‘ভালো’র প্রতীক। বিজ্ঞান কিন্তু বলছে অন্যরকম কথা। বিজ্ঞান বলছে, আলোর যেমন প্রয়োজন রয়েছে, তেমন অন্ধকারেরও দরকার আছে। স্নায়ুর শৈথিল্য এবং ঘুমের জন্য অন্ধকার অত্যন্ত জরুরি একটা উপাদান। নইলে জৈবিক ঘড়ি তথা বায়োলজিক্যাল ক্লক বিঘ্নিত হবেই। এর ফলে নানা ধরণের মানসিক ব্যাধির সূত্রপাত হতে পারে যেকোনো ব্যক্তির।

শৈশবে আমাদের পাখিদের কিচিরমিচির ডাকে সকালে ঘুম ভাঙত। বিকেলেও পাখির ডাক শুনতে পেতাম। কিন্তু এখন যে ভাবে রাস্তার আলো জ্বলে থাকে তাতে পাখিরা মনে হয় দিন-রাত বুঝতেই পারে না। আধুনিক জীবনের সঙ্গে পাল্লা দিতে সবাই ছুটছে আলোর পিছনে। আলোয় ঝলমল করছে সারা শহর। মায়াবী আলোয় চেনা শহরকেও যেন অচেনা লাগে। কিন্তু কে জানত, সেই আলোর আড়ালে লুকিয়ে বিপদের ঘন অন্ধকার। ১৮৭৯ সালে টমাস আলভা এডিশন আবিষ্কৃত ইনক্যানডিসেন্ট বাল্ব প্রথম জ্বলতে শুরু করে নিউ ইয়র্ক শহরে। সেই থেকেই শুরু। বলতে গেলে ওই সময় থেকেই বৈদ্যুতিক আলোর নতুন অধ্যায়ের শুরু। শহরকে আলোকমালায় সাজিয়ে তুলতে এখন বিশ্বজুড়ে ইঁদুর দৌড় শুরু হয়েছে। আবাসিক বাড়ি, অফিস ভবন, সেতু, ফ্লাইওভার, শহরের রাজপথ, হাইওয়ে, সর্বত্র আলোর বন্যা। হাজার হাজার ওয়াটের আলোয় ঝলসে যাচ্ছে চোখ। মুছে যাচ্ছে রাতের অন্ধকার। আর সেটাই সভ্যতার কাল হয়ে দাঁড়াচ্ছে। অত্যধিক আলোর ব্যবহার জন্ম দিচ্ছে আলোক দূষণ বা ‘লাইট পলিউশন’-এর।

আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশে ‘আলোক দূষণ’ নিয়ে গবেষণা তো দূরের কথা, কোনো ভাবনাচিন্তাই শুরু হয়নি। ফলে সবার অজান্তেই আলোক দূষণের শিকার হচ্ছেন সাধারণ নাগরিকরা। সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত শহরাঞ্চলের মানুষ। আলোর প্রভাবে বিভিন্ন রোগ-ব্যাধিরও শিকার হচ্ছে মানুষ। তালিকায় রয়েছে মাথাব্যথা, চর্মরোগ, শারীরিক ক্লান্তি ও মানসিক অবসাদ। উবে যাচ্ছে রাতের ঘুম। বাড়ছে মানসিক উদ্বেগ। তৈরি হচ্ছে যৌন অক্ষমতা। দৃষ্টি ক্ষমতাও কমে যাচ্ছে।

একসময় রাতের অন্ধকারে খালি চোখেই মহাজাগতিক দৃশ্য দেখতে পাওয়া যেত। মহাকাশে নক্ষত্রদের বিচরণ, ছায়াপথ সব কিছুই মায়াবী হয়ে চোখের সামনে ভেসে উঠত। কিন্তু আলোর দাপটে শহুরে জীবন থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে রাত। কয়েক বছর আগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অধীন ‘ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যান্সার’ (আইএআরসি ) মারণরোগটির জন্য যে সব বিষয়কে কারণ হিসাবে চিহ্নিত করেছিল, তার অন্যতম রাতের ডিউটি। সমীক্ষায় দেখা গেছে, রাতে যাঁদের কর্মস্থলে কাটাতে হয়, তাঁদের মধ্যে স্তন ও প্রস্টেট ক্যান্সারে আক্রান্তের সংখ্যা অনেক বেশি। অতিরিক্ত আলো মানুষের রাতের ঘুম কেড়ে নেয়। দীর্ঘদিন ধরে এই অবস্থা চলতে থাকলে হরমোন ক্ষরণের উপর প্রভাব পড়ে। বাস্তুতন্ত্রে আঘাত রাতের আলো যে শুধু মানুষের স্বাস্থ্যহানি ঘটাচ্ছে তা নয়, প্রকৃতির ভারসাম্যও সমূলে বিনষ্ট করছে।

দিনের আলো এবং রাতের আঁধারের সাথে ভারসাম্য গড়ে উঠেছে প্রাণীর প্রাকৃতিক কারণেই। দিনে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়, রক্তচাপ বাড়ে, কাজকর্ম ও চলাচল বাড়ে, মেলাটনিন থাইরোট্রপিন গ্রোল্যাকটিন ও কর্টিকোট্রপিন ইত্যাদি হরমোন নিঃসরণ কমে যায়। রাতে শরীরের তাপমাত্রা ও রক্তচাপ কমে যায় এবং মেলাটনিল সহ অন্য কিছু হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যায়। দৈনিক এই আবর্তন এবং বাৎসরিক ঋতুচক্রের সাথে আমাদের বন্ধন বায়োলজিক্যালি সেট আপ হয়ে রয়েছে বংশানুক্রমে। এই সেট আপের ছন্দপতন ঘটাচ্ছে তথাকথিত উন্নয়নের তহবিলে গড়ে উঠা রাতের আলোক সজ্জা। আমরা রাত জেগে আলোর বন্যায় অন্দরমহলে পড়াশোনা, কাজকর্ম করি, কম্পিউটার চালাই, টিভির সামনে কারণে অকারণে হাঁ করে বসে থাকি। তখন আমাদের শারীরবৃত্তীয় কাজ এলোমেলো হয়ে যায়। লক্ষ বছর ধরে গড়ে উঠা অভিযোজন প্রক্রিয়া বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।

জীবজগতে বেশ কিছু কীটপতঙ্গ এবং অন্যান্য প্রজাতির প্রাণী রয়েছে, যারা পুরোপুরি উদ্ভিদের উপর নির্ভরশীল। এমনকি, তাদের বাসস্থান এবং খাদ্য উদ্ভিদের বিভিন্ন অঙ্গ থেকে আসে। অনেক উদ্ভিদ আছে যাদের ফুল রাতে ফোটে। রাতের অন্ধকারেই কীটপতঙ্গরা ফুলে গিয়ে বসে এবং সেখান থেকে তাদের আহার সংগ্রহ করে। খাবারের টানেই এক ফুল থেকে অন্য ফুলে ঘুরে বেড়ায় তারা। এর মাধ্যমে তারা অজান্তেই পরাগ সংযোগ ঘটায়। তা থেকেই যে ওই সব উদ্ভিদের ফল এবং বীজের জন্ম হয়, তা সকলেরই জানা। এভাবে অনেক উদ্ভিদের বংশ বিস্তারে কীটপতঙ্গরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। কিন্তু সেই প্রক্রিয়ায় বাধার প্রাচীর গড়ে তুলছে রাতের কৃত্রিম আলো। তাছাড়া, কৃত্রিম আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য অনেক সময় এমন জায়গায় গিয়ে পৌঁছচ্ছে যে, নিশাচর সব কীটপতঙ্গ রাতে আস্তানা ছেড়ে বেরোতেই ভয় পাচ্ছে। ফলে তারা ফুলে গিয়ে বসতে পারছে না। তার জেরেই এ ধরনের উদ্ভিদের বংশবিস্তার থমকে যাচ্ছে। আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের প্রভাবে উদ্ভিদের স্টমাটা বা পত্ররন্ধ্রও সারারাত খোলা থাকছে। ফলে উদ্ভিদের প্রয়োজনীয় রস বাষ্প আকারে বেরিয়ে যাচ্ছে। তাতে জলের অভাব ঘটছে উদ্ভিদের দেহে। আর সেই কারণেও শহরে গাছের পাতা বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছে, গাছের মেটাবলিজম চূড়ান্ত ভেবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। উদ্ভিদের শারীরবৃত্তিয় কার্যকলাপে ‘ফটো পিরিয়ডিজম’ বা আলোক পর্যায়বৃত্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যেখানে একটি উদ্ভিদের ‘লাইট পিরিয়ড’ এবং ‘ডার্ক পিরিয়ড’—দুটোর মধ্যে একটা নির্দিষ্ট অনুপাত থাকে। যা উদ্ভিদের ফুল ফোটানো নিয়ন্ত্রণ করে। কুঁড়ি উত্পাদনেও সাহায্য করে। কিন্তু রাতভর আলো জ্বলে থাকায় সেই ভারসাম্যে ব্যাঘাত ঘটছে। জীবজন্তু এবং জলজ প্রাণীর জীবনেও গভীর বিপদ ডেকে আনছে এই কৃত্রিম রাতের আলো।

নয়া এক গবেষণা থেকে প্রকাশ, বিশ্ব জনসংখ্যার ৮৩ শতাংশ মানুষ রাতে আলোক দূষণের মধ্যে থাকে। রাত্রিতে অন্ধকার যদি গোধূলির সময়ের চেয়ে অধিক না হয়, তাহলে নিশাচর প্রাণীরা অসুবিধায় পড়ে কষ্ট পায়। শুধু তাই নয়, মানুষও কষ্ট পায় অনিদ্রা সহ বিভিন্ন রোগে, যে রোগগুলো আলোক দূষণের সাথে সম্পৃক্ত। বর্তমানে সব থেকে আলোকোজ্জ্বল রাত পাচ্ছে সিঙ্গাপুর, কুয়েত এবং কাতার। ফলে এই দেশগুলোর মানুষ রয়েছে তীব্র আলোক দূষণের মধ্যে। রাত্রিকালীন আলোক দূষণ হয় আফ্রিকার দেশ চাঁদ এবং মধ্য আফ্রিকা প্রজাতন্ত্র ও মাদাগাস্কারে। একটি তথ্যে দেখা যায়, বিশ্ব জনসংখ্যার ৮৩ শতাংশ এবং আমেরিকা ও ইউরোপ মহাদেশের ৯৯ শতাংশ মানুষ স্বাভাবিক তারাভরা রাতের চেয়ে ১০ শতাংশ বেশি উজ্জ্বল আলোর আকাশের নীচে থাকতে বাধ্য হচ্ছে।

এটাও আজ বৈজ্ঞানিক গবেষণায় প্রমাণিত সত্যি যে, মানুষের জীবনের সৃষ্টির সময় থেকে প্রকৃতির সাথে যে মেলবন্ধন তৈরি হয়েছে, তা যদি নড়ে যায়, তাহলে মানব মনেও তার মারাত্মক প্রভাব পড়ে। অন্ধকার আর আলোর সাথে চিরায়ত যে সম্পর্ক শরীরের তৈরি হয়েছে, তার যদি ছন্দপতন ঘটে, তাহলে শরীরের বায়োলজিক্যাল কাজ এলোমেলো হয়ে যায়। মস্তিষ্কের ভিতরের কার্যকলাপ বাইরের সাথে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। দেখা দেয় ক্লান্তি, অবসাদ, রক্ত চাপের, পরিপাকের এবং ঘুমের সমস্যা সহ অনেক সমস্যা এবং সর্বোপরি অলসতা। আমাদের চোখের রেটিনায় আলো এসে নার্ভের মাধ্যমে হাইপোথ্যালামাস গ্রন্থিতে ঘনীভূত মেলাটোনিন হরমোনকে নিয়ন্ত্রণ করে। আলোর অনুপস্থিতিতে মেলাটোনিন নিঃসরণ বেড়ে যায়। অতিরিক্ত মেলাটোনিনের নিঃসরণে যেমন আমাদের মস্তিষ্কে অবসাদ তথা ডিপ্রেশন তথা নিস্তেজনা সৃষ্ট হয়, বিপরীতে অতিরিক্ত আলো আমাদের ঘুম ব্যাহত করে এবং ম্যানিক সাইকোসিস ও অন্যান্য অনেক উত্তেজিত মানসিক ভারসাম্যহীন রোগও সৃষ্টি করে। দিন-রাতের দৈর্ঘ্যের তারতম্যের ফলে শীত ও গ্রীষ্মে অবসাদ ও উত্তেজনার রকমফের আজ ক্রনোবায়োলিজির বিজ্ঞানীদের দ্বারা পরিক্ষিত সত্য।
(সূত্র: ইন্টারনেট ও কিছু পুস্তক)
Add a comment...

Post has attachment
SUDIP NATH commented on a post on Blogger.
গণতান্ত্রিক সমাজে রাষ্ট্রের সার্বভৌম ক্ষমতা থাকে কিন্তু জনগণের নয়
Add a comment...
Wait while more posts are being loaded