Profile

Cover photo
Nure Alam Masud
Works at Manarat International University
Attended Manarat International University, Dhaka.
Lives in Dhaka, Bangladesh
1,574 followers|881,734 views
AboutPostsCollectionsPhotosYouTube+1'sReviews

Stream

Pinned

Nure Alam Masud

Shared publicly  - 
 
...সেজন্যে ছুটি নিতে হবে ! ছেড়ে দিতে হবে পানপাত্র পূর্ণ করার চাকরি, কিংবা কথার জাদুর শো ! সেই ছুটির নিবেদন, আবেদন অথবা দরখাস্ত কিভাবে করতে হয়, তা-ও আমি আসলে জানি না। “শেষবার” কথাটা যে কিভাবে বলতে হয়, তা আমি কখনো শিখিনি। একই কথা চর্চা করতে করতে মানুষ কথার জাদুকর হয়ে ওঠে। কিন্তু “শেষ” জাদু বারবার চর্চা করার সুযোগ হয় না। তাই সমাপনী বক্তব্য কখনোই জাদুকরের মনমতো হয় না। তার শেষ কথাটা সবসময়ই অসমাপ্ত, imperfect থেকে যায়। অতৃপ্তি থেকে যায় ! কিন্তু সেটা বোধহয় কথার জাদুকর হবার শাস্তি।


নূরে আলম
ডিসেম্বর ৩১, ২০১৪।
 ·  Translate
 
ছুটি

ছোটবেলায় আমার আনন্দের জায়গাগুলো ছিলো খুব সীমিত। একটা আইসক্রিম খেতে পারা, বেলুন কিনতে পারা কিংবা চিউয়িংগাম, অথবা কার্টুনের স্টিকার কেনা...। আর স্কুলের পর সারাদিন বাসায় অলস সময়ে বিভিন্ন ক্র্যাফটস বানানো ! এগুলো করতে করতেই আমি বড় হয়ে গেছি। তারপর… সেই আনন্দের জায়গাগুলি নিয়েই আমি সন্তুষ্ট ছিলাম। আমার সমবয়েসীরা প্রতি ক্লাস উপরে ওঠার সাথে সাথে আর বয়স বাড়ার সাথে সাথে আনন্দের জায়গাগুলোকে বদলাতে লাগলো। সাধ্যের সবকিছুই স্পর্শ করলো তারা। কিন্তু আমি আমার নিজস্ব জগতেই রয়ে গেলাম। এমনি করে কিভাবে যেনো স্কুল পাশ করে ফেললাম, কলেজে ভর্তি হলাম।

এসময়েই জানি না কিভাবে আমার আনন্দের জায়গাটা হঠাৎ বদলে গেলো। কিন্তু সেটাও সমবয়েসী আর সবার সাথে মিললো না ! এখনও মেলে না। সবাই যখন নানা রকম খাওয়া-দাওয়া, দেশ-বিদেশ ঘোরা, গান-মুভি-আড্ডা-প্রেম ইত্যাদি ডাইভার্সিফাইড বিষয়ের মাঝে জীবনের আনন্দ খুঁজে নিচ্ছে, তখন আমি এগুলোতে কোনো আগ্রহই পাই না। গুলশান ক্যাম্পাসে থাকতে প্রায়ই বিভিন্ন ফাস্টফুডে যাওয়া হতো, আর আমার কাছে যে বিষয়টা হাস্যকর লাগতো তা হলো, শুধু “খাওয়ার” উদ্দেশ্যে আমরা সবাই মিলে কোথাও যাচ্ছি। কিংবা খেতে খেতে সবার খাপছাড়া এলোমেলো কথার মাঝে যখন কিছুটা নীরবতা আসতো, তখন নিজেকে কল্পনা করতাম : বিশাল বড় এক বার্গার মুখের মধ্যে নিয়ে থুতনি নাড়িয়ে নাড়িয়ে চিবাচ্ছে। কেমন হাস্যকর লাগতো ! আর বন্ধু বান্ধবদের সাথে পথ হাঁটা, সেটা ভোর, ভর দুপুর কিংবা গভীর রাতেই হোক না কেনো, অথবা জগতের সুন্দর সব জায়গা দেখে বেড়ানো – এগুলোতেও আমি কোনো আগ্রহ পাইনি কখনো ! এখনো পাই না। আমি যখন স্কুল লাইফ পর্যন্ত ধরে রাখা নিজস্ব সন্তুষ্টির জগত থেকে বেরিয়ে আসলাম, তখন আমার সবচে' বেশি, এবং বলা যায় একমাত্র আনন্দ আর আগ্রহের জায়গা হলো মানুষ। আর মানুষকে জানার সর্বোত্তম উপায় হিসেবে জানতাম কথা বলাকে, তাই আমি কথা-নির্ভর মানুষ হলাম ! আমার আর কিছুই ভালো লাগতো না, ভালো লাগে না, শুধু নতুন মানুষকে জানা ছাড়া। সেজন্যে পাশাপাশি কিংবা মুখোমুখি বসে যতক্ষণ চাই কথা বলা যেতে পারে।

স্কুল লাইফের সেই নিজস্ব সন্তুষ্টির জগত থেকে বেরিয়ে এসে কি আমি আরো সংকীর্ণ কোনো জগতে নিজের আনন্দ-আগ্রহ-সন্তুষ্টির জায়গা খুঁজে নিলাম ? আমার এতদিন তা-ই মনে হয়েছে। “চলো একটু ঘুরে আসি,” “চলো একটু বের হই”, “ওমুকটা খাওয়াও”, “চলো ঐটা খাই”, “চলেন ঘুরতে যাই ওমুক জায়গায়... ” ইত্যাদি কথায় আমি একবাক্যে না করেছি, যখন সেখানে মানুষকে জানার (এবং জানার উদ্দেশ্যেই কথা বলার) সুযোগ না থাকে। আমার আনন্দ-আগ্রহ-সন্তুষ্টির বিষয় যখন মানুষ হয়ে দাঁড়ালো, তখন সেই “মানুষকে” জানার জন্যে যদি ঘন্টার পর ঘন্টা চ্যাটিং করে হাত ব্যথা করে ফেলতে হয়, নির্ঘুম রাত পার করতে হয়, কিংবা গৃহকোণে বন্দী হয়ে থাকতে হয়, তবুও ওতেই আমার আনন্দ !

তাই আর সবার আনন্দ-আগ্রহের জায়গার সাথে আমার আনন্দ-আগ্রহ-সন্তুষ্টির জায়গাটা মিললো না। এই বাইশ-তেইশ বছর বয়স, যেটাকে যৌবন বলা হয়ে থাকে, সেই সময়ে প্রাণের উচ্ছলতায় সমবয়েসীরা যখন দুনিয়ার প্রতিটা জিনিস স্পর্শ করে দেখছে, তখন আর সবকিছুতে নিরাগ্রহ নির্লিপ্ত হয়ে আমি দুজনে পাশাপাশি বসে কথা বলার মাঝেই জগতের সব বিস্ময়, আনন্দ, রূপ আর সন্তুষ্টি খুঁজে পাচ্ছি ! সবাই যখন হাজার বর্গমাইলের এই দেশ কিংবা আরো বহু দেশ ঘুরে এসে হিসেব করছে কতটা পথ হাঁটা হলো, তখন আমি মানুষের হৃদয়ের মাঝে কোটি কোটি বর্গমাইলের অপূর্ব সুন্দর দেশ দেখছি ! সেখানে পথ হাঁটছি প্রতিটা মুহুর্তে, এমনকি ঘুমের মাঝেও !

এরপর… গত এক বছর আগের গল্প। কিংবা তার কিছু কম-বেশি। জীবনে বিশাল বড় এক পরিবর্তন এলো ! আমি সেটাকে আঁকড়ে ধরার চেষ্টা করলাম। সে গল্প এখানে করবার নয়; আসলে সেটা শব্দ করে বলবার গল্প নয়। সম্ভবতঃ সেটা নৈঃশব্দের গল্প, কিংবা নৈঃশব্দের উর্ধ্ব কোনো জগতের গল্প। আমি সেটাকে আঁকড়ে ধরার চেষ্টা করলাম !

এতদিনে কেউ একজন আমাকে কথার জাদুকর বলে ফেলেছে। কথাটা আমার পছন্দ হয়েছে। একারণে নয় যে আমি নিজেকে কথার জাদুকর মনে করি, কিংবা মানুষকে কথা দিয়ে জাদু করবার কোনো ক্ষমতা আমার আছে, বরং এজন্যে যে, “কথার জাদুকর” কথাটার আড়ালে আমি আশ্রয় নিয়েছি, এবং এর মাধ্যমে খুব সহজে কথা-নির্ভর এই আমাকে প্রকাশ করার সুযোগ পেয়েছি। তাই আমি নিজেকে কথার জাদুকর ভেবেছি ! না, জাদুকরের show যারা দেখে, তাদের দৃষ্টিতে না, কথায় মুগ্ধ হওয়া শ্রোতার দৃষ্টিতে না, বরং জাদুকরের নিজের দৃষ্টিতে ! সেটা যে আসলে কেমন, তা ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। কথার জাদুকরেরাও যে কেনো সেই অসহায়ত্বকে ব্যাখ্যা করতে পারে না, সেটা বুঝতে হলে স্বয়ং কথার জাদুকর হতে হবে। এছাড়া আর কোনো উপায় নেই। এ এক অদ্ভুত বাজি ! কথার জাদুকরেরা জগতের আর সকল বিষয় নিয়ে কথার জাদু করতে পারলেও, তাদের নিজেদের গল্পটা কখনোই করতে পারে না। ঐখানটিতে একটা অভিশাপ আছে যেনো ! সবার গল্প সে করতে পারবে, কথা দিয়ে গুছিয়ে দেবে অপরের হৃদয়ের অনুভুতিগুলোকে, ভ্রমণ করিয়ে আনবে অজানা সব আবেগের সূক্ষ্মতম জগত থেকে, কিন্তু নিজের কাছে এসে অসহায় হয়ে পড়বে ! স্বচ্ছ টলটলে পানির হ্রদের তীরে দাঁড়িয়ে তাই যখন সে সকলের পানপাত্র পূর্ণ করে যাচ্ছে অবিরাম, তখন সে নিজেই আর সবার চেয়ে তৃষিত হয়ে আছে !

তার তৃষ্ণা মেটানোর পানি যে আর কোথাও নয়, কেবল পাথরের মাঝেই পাওয়া সম্ভব !
সেই পাথর হ্রদের তীরেই আছে, ছড়িয়ে ছিটিয়ে… সবখানে। কিন্তু সে পাথরে ফাটল ধরাতে হলে হাতদুটিকে মুক্ত করা চাই। অপরের পানপাত্র পূর্ণ করতে ব্যস্ত হাতদুটিকে ছুটি দেয়া চাই। জীবনের আনন্দ-আগ্রহ-সন্তুষ্টির জায়গাটাকে বদলানো চাই।

সেজন্যে ছুটি নিতে হবে ! ছেড়ে দিতে হবে পানপাত্র পূর্ণ করার চাকরি, কিংবা কথার জাদুর শো ! সেই ছুটির নিবেদন, আবেদন অথবা দরখাস্ত কিভাবে করতে হয়, তা-ও আমি আসলে জানি না। “শেষবার” কথাটা যে কিভাবে বলতে হয়, তা আমি কখনো শিখিনি। একই কথা চর্চা করতে করতে মানুষ কথার জাদুকর হয়ে ওঠে। কিন্তু “শেষ” জাদু বারবার চর্চা করার সুযোগ হয় না। তাই সমাপনী বক্তব্য কখনোই জাদুকরের মনমতো হয় না। তার শেষ কথাটা সবসময়ই অসমাপ্ত, imperfect থেকে যায়। অতৃপ্তি থেকে যায় ! কিন্তু সেটা বোধহয় কথার জাদুকর হবার শাস্তি।


নূরে আলম
ডিসেম্বর ৩১, ২০১৪।
 ·  Translate
12
Add a comment...

Nure Alam Masud

Shared publicly  - 
 
The best things in life are always free.
 
24 years ago Linux Project was publicly announced.

Happy birthday Linux.
View original post
2
Add a comment...

Nure Alam Masud

Themes/Icons/ROM's  - 
 
The cyanogenmod goodness in Samsung hardware -- great combination!
If I change my phone, I think I'll set up cyanogenmod on the first day, or buy a cyanogenmod phone. :)

1
Django Groen's profile photoChris M's profile photo
2 comments
Chris M
 
cyanogenmod goodness is a contradiction in terms.
Add a comment...

Nure Alam Masud

Shared publicly  - 
 
hahaha... i am amused watching it :D
2
Add a comment...

Nure Alam Masud

Shared publicly  - 
 
এযুগের ছেলেরা পোশাকের অশ্লীলতায় মেয়েদের ছাড়িয়ে গিয়েছে। কিংবা ছেলেদের অশ্লীল পোষাকে দেখতে অভ্যস্ত নই বলেই হয়তো এমন মনে হচ্ছে।
বাংলাদেশে প্রথম যখন জিন্স এলো, তখন বেশ ভদ্র জিন্স চালু ছিলো। ছেলেরা / লোকেরা বেল্ট সহকারে পরতো। একসময় বেশ চালু হয়ে গেলো। এখন সবাই-ই পরে। ছেলে-বুড়ো সবাই। ছেলেদের তো আর দেহ দেখিয়ে বেড়াবার ব্যাপার অতটা নেই, তাই তারা জিন্স অতি নামিয়ে পরা শুরু করলো। কী আর করবে -- আর কিছু দেখাতে না পেরে আন্ডারওয়্যার দেখায়। বাসে চলাফেরা করতে গেলে এসব দৃশ্য দেখতে হয়। পরেছে জিন্স, তাও আবার ন্যূনতম যতটুকু না উঠালে আটকে থাকে না -- ততটুকু, এবং সেই সাথে স্বল্পদৈর্ঘের টি-শার্ট। দাঁড়িয়ে আছে হাত উঁচু করে -- এদিতে টি-শার্ট উঠে গিয়েছে, আর পশ্চাদ্দেশ যে বেরিয়ে আছে, তা বলার প্রয়োজন পড়ে না।
বেশ ! মেয়েরা তাও এমন গেটাপ করে না আমাদের দেশে। ছেলেদের সুবিধা একটু বেশি, সুতরাং অশ্লীল পোষাক পরতে চাইলে সহজেই বেশ অশালীন হতে পারে। আর সমাজ তো "মেয়েদের পোষাক" নিয়েই বেশি চিন্তিত, তাই এসব অর্ধনগ্ন ছেলেদের নিয়ে কিছু ভাবে না।
সেদিন ফেসবুকে দেখলাম কতগুলো ছেলে, পানিতে ভিজছে, এমন ছবি। তারা জিন্স পরে আছে, এবং এমনভাবেই পরেছে, আর এমনভাবেই ভিজেছে যে সেই অশালীনতার বর্ণনা দেয়া আমার পক্ষে সম্ভব না। কিন্তু সেটা নিয়ে কেউ কিছু বলবে না। কারণ ফেসবুকে মানুষ তো "ঔ ছেরি ওড়না পর" কিংবা এই জাতীয় পেইজ নিয়ে ব্যস্ত, তারা এগুলো দেখবে না।

আমার স্মৃতিতে ছোটবেলায় এমন দেখতাম না। এমনকি যখন নাইন-টেনে পড়তাম, তখনও না। এখন খুব বেড়ে গিয়েছে। ছেলেরা এত odd পোশাকে বাইরে আসে, যেগুলো মাঝে মাঝে চোখে পড়লে অসহ্য লেগে যায়।
সেদিন ভার্সিটিতে পরীক্ষা দিতে গিয়েছি। বিবিএ ডিপার্টমেন্টের পরিচিত এক ডিবেটার এসে ঢুকলো -- তারও পরীক্ষা। দেখি যে সে প্যান্ট টানছে। এতই সে নামিয়ে পরেছে যে রুমে ঢুকতে ঢুকতে তা খুলে নেমে যাচ্ছে। ভাগ্যিস শার্ট পরে এসেছিলো, আর শার্টটা নিতান্ত খাটো ছিলো না। নইলে কী দেখতে হতো আল্লাহ জানে। তারপর পরীক্ষার খাতা-কলম চেয়ারে রেখে সে কষে বেল্ট বাঁধলো। তারপর পরীক্ষা দিতে বসলো।

এসব ছেলে-পেলেদের সাথে আমার মেশা হয় না। আমি জানি না অশালীন পোষাকের কোনো "ড্রেস কোড" তাদের মাঝে ঠিক করা আছে কিনা। তবে যাদেরই দেখি, একই অবস্থা। একই ভাবে পোষাক পরেছে। নাকি টিভিতে কিছু দেখে, কে জানে। হতে পারে, কারণ আজকে শুনলাম, "আঙ্কেলরাও" নাকি হিন্দি সিরিয়াল দেখে। বসে বসে আম-আনারস খায়, আর হিন্দি সিরিয়াল দেখে। টিভি যে মানুষকে কিভাবে ইনফ্লুয়েন্স করে...। আমি তো দেখি না, তাই কিছুই জানি না। কে জানে টিভি দেখেই এখনকার ছেলেরা অশালীন হয়ে যাচ্ছে কিনা।

ঢাকায় "আধুনিক" ছেলে এত বেড়েছে যে মনে হচ্ছে গ্রাম-গঞ্জ কিংবা অন্য কোনো দেশে গিয়ে থাকতে হবে। বাসে প্রতিদিন ছেলেদের পশ্চাদ্দেশ দেখে বিরক্ত হয়ে গিয়েছি। এযুগের ছেলেদের উপরে বিরক্ত হয়ে যাচ্ছি দিনদিন। হিন্দি সিরিয়াল দেখা মেয়েদের উপরও।
যে ছেলের পরীক্ষার হলে এসে ন্যূনতম শালীনতা রক্ষার পরিমাণে বেল্ট কষে বাঁধতে হয় নতুন করে, তার ফ্যামিলির অবস্থা কেমন কে জানে।

আযান হলো, ইফতার করতে হবে।

hashtag : #টুকরোচিন্তা  
 ·  Translate
View original post
3
Add a comment...

Nure Alam Masud

Shared publicly  - 
 
Because our hearts have their own eyes... 
5
Add a comment...
Have him in circles
1,574 people
Ian Duran's profile photo
Ashraf ali's profile photo
Ayesha Siddikaa's profile photo
Николай Овсов's profile photo
Ubuntu Live News's profile photo
Alberto Carvallo's profile photo
After Life's profile photo
woodland tomb's profile photo
Witold Machulak's profile photo

Nure Alam Masud

Shared publicly  - 
 
আমার ঢালা গানের ধারা সেই তো তুমি পিয়েছিলে,
    আমার গাঁথা স্বপন-মালা কখন চেয়ে নিয়েছিলে ॥
             মন যবে মোর দূরে দূরে
             ফিরেছিল আকাশ ঘুরে
             তখন আমার ব্যথার সুরে
                         আভাস দিয়ে গিয়েছিলে ॥
যবে     বিদায় নিয়ে যাব চলে
         মিলন-পালা সাঙ্গ হলে
             শরৎ-আলোয় বাদল-মেঘে
             এই কথাটি রইবে লেগে--
             এই শ্যামলে এই নীলিমায়
                         আমায় দেখা দিয়েছিলে ॥
 ·  Translate
1
Add a comment...

Nure Alam Masud

Shared publicly  - 
 
প্রিয় কবির শ্রেষ্ঠ কবিতা।

"তারপরও শুধু হঠাৎ হঠাৎ পড়ে যাবে তুমি মনে
ছোট ছোট স্মৃতি ঘিরে
কারণে অকারণে
আসবেই তুমি ফিরে।"


"নীরবেই আমরা সবাক ছিলাম
আরও কটা দিন থাকি।
এভাবেই চলুক দুই মিতার
মৃদু ভালবাসাবাসি।"
 ·  Translate
5
Masuma Akhtar (Nusrat)'s profile photo
 
বেচারাকে এইবার ছেড়ে দে!
 ·  Translate
Add a comment...

Nure Alam Masud

Shared publicly  - 
 
Have you ever heard of The Curse of the Traveler?

An old vagabond in his 60s told me about it over a beer in Central America, goes something like this: The more places you see, the more things you see that appeal to you, but no one place has them all. In fact, each place has a smaller and smaller percentage of the things you love, the more things you see. It drives you, even subconsciously, to keep looking, for a place not that’s perfect (we all know there’s no Shangri-La), but just for a place that’s “just right for you.” But the curse is that the odds of finding “just right” get smaller, not larger, the more you experience. So you keep looking even more, but it always gets worse the more you see. This is Part A of the Curse.

Part B is relationships. The more you travel, the more numerous and profoundly varied the relationships you will have. But the more people you meet, the more diffused your time is with any of them. Since all these people can’t travel with you, it becomes more and more difficult to cultivate long term relationships the more you travel. Yet you keep traveling, and keep meeting amazing people, so it feels fulfilling, but eventually, you miss them all, and many have all but forgotten who you are. And then you make up for it by staying put somewhere long enough to develop roots and cultivate stronger relationships, but these people will never know what you know or see what you’ve seen, and you will always feel a tinge of loneliness, and you will want to tell your stories just a little bit more than they will want to hear them. The reason this is part of the Curse is that it gets worse the more you travel, yet travel seems to be a cure for a while.
None of this is to suggest that one should ever reduce travel. It’s just a warning to young Travelers, to expect, as part of the price, a rich life tinged with a bit of sadness and loneliness, and angst that’s like the same nostalgia everyone feels for special parts of their past, except multiplied by a thousand.

(courtesy : http://nedhardy.com/2012/10/25/the-curse-of-the-traveler/ )
2
Add a comment...

Nure Alam Masud

Shared publicly  - 
 
বোধি লাভ
আক্ষরিক অর্থে "বুদ্ধ" বলতে একজন জ্ঞানপ্রাপ্ত, উদ্বোধিত, জ্ঞানী, জাগরিত মানুষকে বোঝায়। উপাসনার মাধ্যমে উদ্ভাসিত আধ্যাত্মিক উপলব্ধি এবং পরম জ্ঞানকে বোধি বলা হয়। সেই অর্থে যে কোনও মানুষই বোধপ্রাপ্ত, উদ্বোধিত এবং জাগরিত হতে পারে।

গৌতম বুদ্ধের জীবনী
উত্তর-পূর্ব ভারতের কপিলাবাস্তু নগরীর রাজা শুদ্ধোধন এর পুত্র ছিলেন সিদ্ধার্থ(গৌতম বুদ্ধ)। খ্রিস্টপূর্ব ৫৬৩ অব্দে এক শুভ বৈশাখী পূর্ণিমা তিথিতে লুম্বিনি কাননে (নেপাল) জন্ম নেন সিদ্ধার্থ(গৌতম বুদ্ধ)। তাঁর জন্মের ৭ দিন পর তাঁর মা, রানি মহামায়া মারা যান। তাঁর জন্মের অব্যাবহিতকাল পর জনৈক কপিল নামক সন্ন্যাসী কপিলাবাস্তু নগরীতে আসেন। তিনি সিদ্ধার্থকে দেখে ভবিষ্যৎবানী করেন যে, সিদ্ধার্থ ভবিষ্যতে হয় চারদিকজয়ী রাজা হবেন, নয়ত একজন মহান মানব হবেন। মা মারা যাবার পর সৎ মা মহাপ্রজাপতি গৌতমী তাকে লালন পালন করেন, তাই তার অপর নাম গৌতম। ছোটোবেলা থেকেই সিদ্ধার্থ সব বিষয়ে পারদর্শী ছিলেন। কিন্তু সিদ্ধার্থ সংসারের প্রতি উদাসীন ছিলেন বলে তাঁকে সংসারী করানোর লক্ষ্যে ১৬ বছর বয়সে রাজা শুদ্ধোধন যশোধরা মতান্তরে যশোধা বা গোপা দেবী নামক এক সুন্দরী রাজকন্যার সাথে তার বিয়ে দেন। রাহুল নামে তাদের একটি ছেলে হয়। ছেলের সুখের জন্য রাজা শুদ্ধোধন চার ঋতুর জন্য চারটি প্রাসাদ তৈরি করে দেন। কিন্তু উচুঁ দেয়ালের বাইরের জীবন কেমন তা জানতে তিনি খুবই ইচ্ছুক ছিলেন। একদিন রথে চড়ে নগরী ঘোরার অনুমতি দেন তার পিতা। নগরীর সকল অংশে আনন্দ করার নির্দেশ দেন তিনি, কিন্তু সিদ্ধার্থের মন ভরল না। প্রথম দিন নগরী ঘুরতে গিয়ে একজন বৃদ্ধ ব্যক্তি, দ্বিতীয় দিন একজন অসুস্থ মানুষ, তৃতীয় দিন একজন মৃত ব্যক্তি এবং চতুর্থ দিন একজন সন্ন্যাসী দেখে তিনি সারথি ছন্দককে প্রশ্ন করে জানতে পারেন জগত দুঃখময়। তিনি বুঝতে পারেন সংসারের মায়া, রাজ্য, ধন-সম্পদ কিছুই স্থায়ী নয়। তাই দুঃখের কারণ খুঁজতে গিয়ে ২৯ বছর বয়সে গৃহ্ত্যাগ করেন। দীর্ঘ ৬ বছর কঠোর সাধনার পর তিনি বুদ্ধগয়া নামক স্থানে একটি বোধিবৃক্ষের নিচে বোধিজ্ঞান লাভ করেন। সবার আগে বুদ্ধ তাঁর ধর্ম প্রচার করেন পঞ্চ বর্গীয় শিষ্যের কাছে; তাঁরা হলেন কৌন্ডিন্য, বপ্প, ভদ্দিয়, মহানাম এবং অশ্বজিত। এরপর দীর্ঘ ৪৫ বছর বুদ্ধ ভারতের বিভিন্ন স্থানে তার বৌদ্ধ ধর্মের বানী প্রচার করেন। এবং তাঁর প্রচারিত বানী ভারত ছাড়াও অন্যান্য দেশে ও দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়ে। অবশেষে খ্রিস্টপূর্ব ৪৬৩ অব্দে তিনি কুশীনগর নামক স্থানে ৮০ বছর বয়সে মৃত্যু বরন করেন। গৌতম বুদ্ধের প্রচারিত বানীর মূল অর্থ হল অহিংসা।

বুদ্ধের দর্শন
বুদ্ধের দর্শনের প্রধান অংশ হচ্ছে দুঃখের কারণ ও তা নিরসনের উপায়। বাসনা হল সর্ব দুঃখের মূল। বৌদ্ধমতে সর্বপ্রকার বন্ধন থেকে মুক্তিই হচ্ছে প্রধান লক্ষ্য- এটাকে নির্বাণ বলা হয়। নির্বাণ শব্দের আক্ষরিক অর্থ নিভে যাওয়া (দীপনির্বাণ, নির্বাণোন্মুখ প্রদীপ), বিলুপ্তি, বিলয়, অবসান। কিন্তু বৌদ্ধ মতে নির্বাণ হল সকল প্রকার দুঃখ থেকে মুক্তি লাভ। এই সম্বন্ধে বুদ্ধদেবের চারটি উপদেশ যা চারি আর্য সত্য (পালিঃ চত্বারি আর্য্য সত্যানি) নামে পরিচিত। তিনি অষ্টবিধ উপায়ের মাধ্যমে মধ্যপন্থা অবলম্বনের উপর বিশেষ জোর দিয়েছেন।

পরকাল
বুদ্ধ পরকাল সম্বন্ধে অনেক কিছুই বলে গেছেন, পরকাল নির্ভর করে মানুষের ইহ জন্মের কর্মের উপর । মৃত্যুর পর মানুষ ৩১ লোকভুমির যে কোনো একটিতে গমন করে। এই ৩১ লোকভুমি হছে ৪ প্রকার অপায় : তীর্যক (পশু-পাখি কুল), প্রেতলোক (প্রেত-পেত্নী), অসুর (অনাচারী দেবকুল), নরক (নিরয়)। ৭ প্রকার স্বর্গ : মনুষ্যলোক, চতুর্মহারাজিক স্বর্গ, তাবতিংশ স্বর্গ, যাম স্বর্গ, তুষিত স্বর্গ, নির্মানরতি স্বর্গ, পরনির্মিত বসবতি স্বর্গ। রুপব্রম্মভূমি (১৬ প্রকার) = ১৬ প্রকার রুপব্রম্মভূমি । অরুপব্রম্মভূমি ( ৪ প্রকার) = ৪ প্রকার অরুপব্রম্মভূমি । মোট ৩১ প্রকার । এই ৩১ প্রকার লোকভুমির উপরে সর্বশেষ স্তর হচ্ছে নির্বাণ ( পরম মুক্তি ) [৩] যেমন : ইহজন্মে মানুষ যদি মাতৃহত্যা , পিতৃহত্যা , গুরুজনের রক্তপাত ঘটায় তাহলে মৃত্যুর পর সেই মানুষ চতুর অপায়ে ( তীর্যক, প্রেতলোক, অসুর, নরক) জন্মগ্রহণ করে, আর ইহজন্মে মানুষ যদি ভালো কাজ করে তাহলে মৃত্যুর পর সেই মানুষ বাকি ২৮ লোকভুমিতে গমন করে।

দুঃখ
বুদ্ধ দুঃখ কি, দুঃখের কারণ, দুঃখ দূর করার উপায় সম্বন্ধে উপদেশ দিয়েছেন। তাঁর মতে জীবন দুঃখপূর্ণ। দুঃখের হাত থেকে কারও নিস্তার নেই। জন্ম, জরা, রোগ, মৃত্যু সবই দুঃখজনক। মানুষের কামনা-বাসনা সবই দুঃখের মূল। মাঝে মাঝে যে সুখ আসে তাও দুঃখ মিশ্রিত এবং অস্থায়ী। অবিমিশ্র সুখ বলে কিছু নেই। নিবার্ণ লাভে এই দুঃখের অবসান ঘটে। কামনা-বাসনার নিস্তারের মাঝে অজ্ঞানের অবসান ঘটে। এতেই পূর্ণ শান্তি অর্জিত হয়।
 ·  Translate
3
Add a comment...

Nure Alam Masud

Shared publicly  - 
 
পথিকের গল্প

তারপর… পথ চলতে চলতে...। ক্লান্ত পথিক থামে। এতক্ষণে পানি পাওয়া গিয়েছে। দীর্ঘ পথ হেঁটে পিপাসার্ত, শ্রান্ত সে। সেই কবে বাড়ি ছেড়েছে মনে পড়ে না। বাড়ির কোনো স্মৃতিও নেই তার। শুধু জানে, দুই যুগ হলো বাড়ি ছেড়ে এসেছে সে। দীর্ঘ দিন পথ হেঁটেছে সে, পথিমধ্যে বাণিজ্য করেছে হরেক রকম জিনিসের। সেসব আছে তার কাঁধের ঐ বড়সড় ঝুলিতে। পথিকের সারা জীবনের উপার্জন।

ঝুলিটা খুব সাবধানে পাশেই নামিয়ে রাখে পথিক। হাঁটু গেড়ে বসে হ্রদের পানিতে নিজের ছায়া দেখে। তারপর প্রাণভরে পানি খেয়ে নেয়। হাত-মুখ ধুয়ে রুমালটা বের করে তাই দিয়ে মোছে। তারপর সেখানেই বসে উদাস দৃষ্টিতে ঝুলির দিকে তাকিয়ে থাকে। বড়সড় এক ঝুলি। তার সারা জীবনের উপার্জন।

কথার জাদুকর সে। কথা বিকিয়ে বেড়ানোই তার কাজ, আর ঝুলির উপার্জন সব ঐ জাদু দেখিয়েই পাওয়া। গল্প, গান, কবিতা আর কথার জাদুতে মানুষকে মুগ্ধ করে সে। কত রকমের কথা ! নিত্য নতুন কথা। অথবা হয়তো পুরনো কোনো কথা, কিন্তু জাদুুর ছোঁয়ায় প্রতিবারেই তাতে নতুনত্ব আসে। লোকে মুগ্ধ হয়ে শোনে। পথিকের ঝুলি ভরে ওঠে। প্রতিটা দিনের শেষে দর্শক বাড়ি ফিরলে কথার জাদুকর পথিক তার ঝুলি কাঁধে নিয়ে যাত্রা করে। আবার শুরু হয় পথচলা। এমনি করে দীর্ঘ পথ হেঁটে এসেছে সে।

কোনোদিন জাদুতে মন ছিলো না, দর্শক উঠে গেছে চলে ! কোনোদিন হয়তো গল্পটা পুরনো ঠেকেছে, কেউ কেউ বলে উঠেছে : “পুরনো তত্ত্ব।” আবার কোনোদিন পসার জমেছে ভালো, হরেক রকম মানুষ এসে দাঁড়িয়ে গেছে, মুগ্ধ হয়ে শুনেছে কথার জাদু। এমনি করে পথিকের উপার্জন। আর কেউবা দূর থেকে জাদু দেখেছে বহুকাল। তারপর দিনের শেষে সন্ধ্যা নামলে যখন একাকী পথিক উদাস দৃষ্টিতে অশ্রুসজল হয়েছে, তখন পাশে এসে বসেছে। মাথায় হাত বুলিয়ে বলেছে : “আমি তোমার জাদুতে মুগ্ধ হয়েছি। বিনিময়ে আমার দেবার কিছু নেই, তাই আমার নিজেকেই দিয়ে দিলাম। আমি তোমার হলাম ! তুমি আমার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।” তারপর পথিকের চেহারায় এঁকে দিয়েছে ভালোবাসার চিহ্ন ! আজীবন কথার জাদুতে অপরকে মায়ায় জড়ানো পথিক তখন নিজেই মায়ায় জড়িয়ে পড়ে, মুগ্ধ হয় ভালোবাসার জাদুতে। তারপর শুরু হয় তাদের পথচলা।

এমনি করে পথিকের পথচলা ! শত মানুষকে কথার জাদুতে মুগ্ধ করে, আবার কখনোবা নিজেই কারো জাদুতে মায়ায় পড়ে যায়। তখন এরা সবাই হয়ে ওঠে পথিকের উপার্জন। উত্থান পতনের এইসব দিন পার করে শ্রান্ত পথিক আজ এক হ্রদের পাড়ে এসে বসেছে, দু-দণ্ড বিশ্রাম নেবে বলে। আর উদাসভাবে তাকিয়ে আছে তার ঝুলির দিকে : প্রাপ্তি আর হারানোর হিসেব বের করার চেষ্টা করছে মনে মনে।
……………………………………………..
উদাস পথিক শূন্যে তাকিয়ে থাকে বহুক্ষণ। চোখের কোণে সমুদ্র খেলা করে ! শূন্য দৃষ্টিতে ঘোর লাগে। নাকি এ-ও এক ঘুম ? অদ্ভুত এক বাহন -- তাকে বর্ণনা করা যায় না, কেবল যেদিকে তাকানো যায় সবকিছু আলোকিত সাদা : সামনে এসে দাঁড়ায়। সেই বাহন তাকে বাড়ি নিয়ে যায়। যাযাবর পথিকের বাড়ি ! দুই যুগ আগে যে বাড়ি সে ছেড়ে এসেছিলো, সেই বাড়ি; যার স্মৃতি সে ভুলে গিয়েছিলো। সেইখানে এক হ্রদের পাড়ে নিয়ে উপস্থিত করে তাকে। কোথাও কেউ নেই। দৃষ্টির সীমা পর্যন্ত বিস্তৃত জমিন, সুবিশাল হ্রদ, আর গাছ। আর পাখি ! 

হ্রদের পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকে সে। একদম শান্ত সে হ্রদের পানি। সেখানে হ্রদের পানিতে ঢেউ তোলা বাতাসের প্রবাহ নেই, কিন্তু সুশীতল স্পর্শ আছে : সুরভিত সে বাতাস দেহমনকে চাঙা করে। সেখানে পাখিদের উড়াউড়ি আছে, কিন্তু কলকাকলি নেই। তবুও হ্রদের পাড়ে দাঁড়িয়ে চোখ বুঁজলে শোনা যায় পাখিদের গান : যেনো সরাসরি হৃদয়ের ভিতর গাইছে তারা! এইখানে গাছের শাখাগুলি নুয়ে আসে, পাতাগুলি দোল খায় এদিক-ওদিক। কিন্তু না -- বাতাসে নয়, তারা নিজেরাই শাখাগুলিকে নুইয়ে দিয়েছে, আর পাতাগুলিকে দোলাচ্ছে ডানে আর বামে ! সূর্যের মতন একমুখী আলো নেই, কিন্তু বাতাসটাই যেনো আলোকিত এখানে। পাখি, গাছ, হ্রদের স্বচ্ছ টলটলে পানি -- সব যেনো নিজেই আলো হবার কাছাকাছি। কী স্নিগ্ধ সে আলো !

পথিকের অনভ্যস্ত চোখ আলোর উৎস খোঁজে। আজীবন উৎসের সন্ধান করেছে সে। আজ তাই উৎসবিহীন আলো তাকে অশান্ত করে তুলেছে। উৎস থাকবে কী করে, এযে স্বয়ং আলো !
অশান্ত দৃষ্টি ছুটে বেড়ায় এদিক ওদিক। দৃষ্টি ক্লান্ত হয়ে ফিরে আসে। পথিক আজ আলোর মাঝে এসে পড়েছে। দৃষ্টি ক্লান্ত হলে অবশেষে চোখ বুঁজলো সে। হৃদয়ের মাঝে কে যেনো নিঃশব্দে বলে গেলো : “এবার তাকাও !”

আরেকটু এগুতে গাছের ছায়ায় চমৎকার সব আসন পাতা, রাজ সিংহাসন যেনো। না, তার চেয়েও সুন্দর। সেখানে -- মানুষ ! ঐতো মানুষ বসে রয়েছে। কেউবা আবার দাঁড়িয়ে : দুইজন, তিনজনে। তারাও যেনো আর একটু হলেই আলো হয়ে যাবে ! নির্জন এই এলাকায় মানুষ দেখে আনন্দিত হয়ে ওঠে পথিক। দৌড়ে গিয়ে একবারে অনেকটা কথা বলে ফেলতে চায় যেনো, জিজ্ঞাসাগুলি সব ছুঁড়ে দিতে চায়। কিন্তু পা থমকে যায়, কণ্ঠ আড়ষ্ট হয়ে আসে। এত শান্ত ওরা, এত সৌম্য যে তাদের কাছে দৌড়ে যাওয়া যায় না। আর কিছু জিজ্ঞাসা করা -- সেতো আরো বেমানান। পথিক ধীরপায়ে এগিয়ে যায়। মানুষগুলো যেমনি বসে ছিলো, তেমনিই থাকে। কেউবা আবার দাঁড়িয়ে ! সাহস করে তাদের সামনে গিয়ে দাঁড়ায় পথিক। তারা শুধু চোখ তুলে তাকায়। বড় বড় স্নিগ্ধ, প্রশান্ত দৃষ্টির চোখ। সে দৃষ্টিতে পথিকের পা থমকে যায়, কণ্ঠ আড়ষ্ঠ হয়ে যায়, চোখ বুঁজে আসে। তখন তারা সবাই মিলে একটি কণ্ঠস্বর হয়ে বলে : “শান্ত হও !” বুকের মাঝখানটিতে যেনো শোনা যায় সেই কথা।

পানির তেষ্টায় ছটফট করে ওঠে পথিক। একটু পানির জন্য চিৎকার করে উঠতে মন চায়, কিন্তু একদম শান্ত সে হ্রদের পানি, মৃদু শব্দেও যেনো তাতে আলোড়ন সৃষ্টি হবে, আর গোটা জগতটা দুলে উঠবে তাতে। ভীত, সতর্ক পথিক এগিয়ে যাবার চেষ্টা করে হ্রদের দিকে, কিন্তু পা থমকে যায়, হাত জড় হয়ে আসে, চোখ বুঁজে আসে। বুকের মধ্যে কে যেনো বলে দিয়ে যায় : “না, এখনও না।”
………………………………………………….
সেই অদ্ভুত বাহন তাকে ফিরিয়ে দিয়ে গেছে। ফিরিয়ে দিয়ে গেছে তার ঝুলির পাশে, হ্রদের পাড়ে। কিন্তু সেইসাথে দিয়ে গেছে নতুন এক স্বপ্ন। বাড়ির স্বপ্ন। বাড়ি ফেরার স্বপ্ন...।

পথিক আবার যাত্রা শুরু করে। পথিক জানে, তাকে এখানেই ফিরে আসতে হবে। ফিরে আসতেই হবে ! একদিন সে ফিরে আসবে। যেইদিন সে শ্রবণের বোঝা ত্যাগ করতে পারবে, দৃষ্টির বোঝা ঝেড়ে ফেলবে, ত্যাগ করবে কথার জগতকে, অশান্ত হৃদয়কে পূর্ণ করবে রিক্ততায়, যেইদিন সূর্যটাকে ছাড়াই সে হবে আলোকিত, সেইদিন সে শুনবে সত্যিকারের সুর, দেখবে ক্লান্তিহীন সৌন্দর্যকে, বলবে অভূতপূর্ব সব কথা, আর হৃদয়কে পূর্ণ করবে প্রশান্তিতে !
পথিক সেইদিন শান্ত হবে !

পথিক ফিরে আসে। হায়, পথিক ফিরে আসে ! বাড়ি ফিরবার ব্যাকুলতা বুকে বাজে। সে একদিন বাড়ি ফিরবে, ফিরতেই হবে। সে শুনবে, সে দেখবে, সে বলবে -- সে প্রশান্ত হবে ! কিন্তু পথিক জানে, যতদিন সে চোখ মেলে দেখবে, ততদিন চোখ বুঁজে দেখতে শিখবে না ! যতদিন কান পেতে শুনবে, ততদিন নৈঃশব্দের কোলাহল শুনতে পাবে না। যতদিন ভাষার জগতে কথার জাদুতে মেতে থাকবে, ততদিন হৃদয়ের জগতে কথা বলতে শিখবে না। যতদিন আপন হৃদয়ের তৃপ্তি খুঁজবে, ততদিন প্রশান্ত হতে পারবে না !

এরপর দীর্ঘ পথের নতুন এক যাত্রা শুরু হয় পথিকের। দৃষ্টির বোঝা, শ্রবণের বোঝা আর কথার জাদু ত্যাগ করবার যাত্রা, রিক্ত হবার যাত্রা। সৌন্দর্য নিয়ে যারা এসেছিলো, পথিকের দৃষ্টিতে তারা বিবর্ণ হয়ে আসে। বাদ্যযন্ত্রের সুর আর কথামালা নিয়ে যে গায়ক আর বাদক দল এসেছিলো, তারা মূল্য না পেয়ে চলে যায়। যারা গল্প শুনতে আসত, বারংবার অনুরোধ-প্রত্যাখ্যাত হয়ে তারাও চলে যায়। কথার জাদুতে মুগ্ধ হয়ে এসে যারা ভালোবেসেছিল, হায়, তারাও আজ চলে যায় ! চলে যায় ওয়াদা ভঙ্গ করে। হৃদয়ের শেকড় উৎপাটন করে রক্ত ঝরিয়ে, রিক্ত করে ! চলে যায় নতুন কাউকে জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলবার ওয়াদা করতে।

কিন্তু এসবই যে ছিলো পথিকের উপার্জন, পথিকের জগত। কথার জাদুকরের জগত ! রিক্ততার বেদনা বড় বেশি। মূল্যহীন এ জীবনের উপার্জন, এই সৌন্দর্য, এই কথা, এই সুর আর যত কথার জাদু। কিন্তু মন যে মানে না ! হৃদয় যে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে থাকতে চায় ! ক্ষুদ্র হৃদয়ের পুরোটা শূন্য হলে হাহাকার বড় বেশি বাজে। সে ধ্বনির প্রতিধ্বনিতে অলিন্দ্য-নিলয় ফেটে পড়বে যেনো। সত্যিই বড় কঠিন এ যাত্রা ! যখন যাত্রাপথের বাঁকে বাঁকে চোখ-তৃপ্তকারী সৌন্দর্য ছড়ানো, ক্ষণে ক্ষণে মোহাচ্ছন্নকারী কথা আর সুর ভেসে আসে কানে, কথার জাদুতে মুগ্ধ হবার জন্য উৎসুক চোখ হৃদয়কে বিনিময় সাধে -- তখন বাড়ির কথা ভুলে এক ছুটে সব কুড়িয়ে নিতে মন চায় !
তবুও পথিক পথ চলে। মায়ায় জড়িয়ে ভালোবাসার স্বাদ নেবার পর হৃদয়ের রক্তক্ষরণে সম্বিত ফিরে এলে নতুন করে যাত্রা শুরু করে। আবার… আবার… পুনর্বার !
…………………………………………………….
ক্লান্ত পথিক নতুন করে যাত্রা শুরু করেছে। হ্রদের জলে বিসর্জন দিয়েছে তার যত উপার্জন। এইবারটি একাকী সে। নিঃসঙ্গ তার যাত্রা ! নির্বাক, নিশ্চুপ। হয়তো একদিন সে বাড়ি পৌঁছবে। নৈঃশব্দের কোলাহলে চোখ বুঁজে ক্লান্তিহীন সৌন্দর্যে মুগ্ধ হবে। হৃদয়ের জগতে কথা বলতে শিখবে। সুবাসিত বাতাসে হ্রদের পাড়ে দাঁড়িয়ে বুকভরে দম নেবে, তারপর এক আঁজলা পানি পান করে নবজীবন লাভ করবে ! একদিন পথিক পারবে ! সে পারবে !
সেই একদিনের প্রত্যাশায় পথিকের নবযাত্রা...।
 ·  Translate
4
Add a comment...

Nure Alam Masud

Shared publicly  - 
 
 
Colonialism means that a country – thousands of miles away – invades another country which enjoys great resources, like the Indian subcontinent, and establishes its rule there through the use of force and advanced weapons. Ayatollah Khamenei, 26/08/2008
2 comments on original post
7
1
Abdul Kashim's profile photo
Add a comment...
Nure Alam's Collections
People
Have him in circles
1,574 people
Ian Duran's profile photo
Ashraf ali's profile photo
Ayesha Siddikaa's profile photo
Николай Овсов's profile photo
Ubuntu Live News's profile photo
Alberto Carvallo's profile photo
After Life's profile photo
woodland tomb's profile photo
Witold Machulak's profile photo
Work
Occupation
Web Application Developer
Skills
Programming · Translation · Typing
Employment
  • Manarat International University
    Teaching Assistant, 2015 - present
  • DTM WEB
    Web Application Developer, 2015 - present
    www.dtmweb.co
Places
Map of the places this user has livedMap of the places this user has livedMap of the places this user has lived
Currently
Dhaka, Bangladesh
Previously
Tehran, Iran
Story
Tagline
Muslim. Bangladeshi. Programmer.
Introduction
I like to know people. I believe in exchange of views, so, let me know about you ! However, I think my type is a bit introvert, and for that I usually don't approach first in meeting new people. But if you do, then it's fine for me. I used to blog a lot, on various topics like religion, Islam, society, national and international politics... Check my primary blog site here (in Bangla). And the secondary blog, which is mainly a collection of random thoughts -- here (in Bangla).I like to take photos. Check some of my captures here. I contribute to this page in Google+ (also available in Facebook). The page discusses about basics of theology, religion, God, Atheism, Islam etc. This is my Facebook account.
Bragging rights
Can type Bangla in 55 words per minute. Google+ user since its inception.
Collections Nure Alam is following
Education
  • Manarat International University, Dhaka.
    BSc in Computer Science and Engineering, 2011 - 2014
  • BN College, Dhaka.
    Higher Secondary, 2008 - 2010
  • Rotary School and College, Dhaka.
    Secondary School, 2003 - 2008
Basic Information
Gender
Male
Looking for
Networking
Birthday
June 5, 1991
Relationship
Single
Nure Alam Masud's +1's are the things they like, agree with, or want to recommend.
Google Web Designer
www.google.com

Google Web Designer is a free, professional-grade HTML5 authoring tool. Build interactive, animated HTML5 creative, no coding necessary.

কিছু হ-য-ব-র-ল কথন
raihanatasnim.blogspot.com

ভোরের স্নিগ্ধ আকাশের মত মনটাকে হারিয়ে ফেলতে হয়েছে অদ্ভূত সব খেয়ালের বশবর্তী হয়ে ! এখন কোন কিছুকে সহজ করে ভাবতে ইচ্ছে হয় না !সবকিছুই যেন ফিজি

মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা এবং আমরা
raihanatasnim.blogspot.com

বাংলাদেশের মাদ্রাসার শিক্ষা ব্যবস্থা এতটা প্রশ্নবিদ্ধ ভাবতেই খারাপ লাগে । অথচ এই মক্তব মাদ্রাসাগুলোই ছিল এককালের সেরা সেরা বিদ্যাপীঠ । কলোনি

QRコードスキャナー
market.android.com

製品のスキャンバーコードは、その後の価格やレビューを検索します。また、などのURL 、連絡先情報を含むデータマトリックスやQR​​コードをスキャンすることができますほぼすべての質問と負のコメントは、次のいずれかによって対処される。これらの最初を読み取ることで、誰もが時間を節約して

আমিই সঙ্গী
mujahid-abdullah.blogspot.com

নিরাশায় যখন রাস্তা হারিয়ে ভুল পথে চলা শুরু কর তখন চলে এসো নতুন পথ দেখাবো ... যখন কেউ তোমাকে বুঝতে চায়না আমাকে বলো তোমার না বলা কথা... আমি তো

It is a wonderful place to visit in Dhaka city. Roaming in the roads of the area brings back my old memories of the place when I was young and used to come with my elder brother and sisters, uncle and aunties... Only this part of the Dhaka city hasn't changed in ages... Louis I Kahn was such a great architect... There is not much to say about this place. All you have to do is experience it by yourself. I can visit this place again and again, but it never gets old...
Public - 2 years ago
reviewed 2 years ago
I went there in an official ceremony. Was walking inside the building (in 1st floor probably), and suddenly saw an outsider walking into the banquet hall. Then a security guard, being suspicious, queried him and got him out of the building. I wonder how could an outsider get into this place ! And when I got in, there were no metal-detector walk-in, and not even any hand check, only the cars were being checked. I was astonished -- how poor security such a highly branded and named Hotel can have ! However, it has all the modern facilities and services. I'm pleased with the waiters there.
• • •
Quality: Very GoodFacilities: Very GoodService: Good
Public - 2 years ago
reviewed 2 years ago
I've found BCS Computer City the most reliable place in Dhaka to buy computer and computer accessories, as well as cameras and other digital devices. Most retailers come with a good customer care, except for few (I've found one in the 4th floor, the one named Logitech). I suggest anyone, without a second thought, to go to BCS Computer City to buy personal computers or laptops, and for servicing digital devices.
Public - 3 years ago
reviewed 3 years ago
4 reviews
Map
Map
Map
The best customer support I've found is in Ryans Computers. That's all I need to say, because hardware and devices are almost same almost everywhere (except Ryans really have a big nice collection of things you'll like). Their website has a Q&A section which is very helpful if you have any query. I bought a USB Hub with 3 years warranty, and when it got troubled, after using 5-7 months, they just replaced it. The thing that I don't find in Ryans is a Big Collection of speaker systems. But in case of Laptops, netbooks, PCs and other accessories, they're very good at it. The last word : I've bought many laptops and desktops from Ryans, and they're running nice.
• • •
Public - 3 years ago
reviewed 3 years ago