Profile

Cover photo
Kazi Saifuddin Hossain
Worked at Mitra & Associates
Lives in Dhaka, Bangladesh
437 followers|115,928 views
AboutPostsPhotosVideos

Stream

Kazi Saifuddin Hossain

Shared publicly  - 
 
সুন্নী চার মযহাবের বৈচিত্র্যের মাঝে খোদার রহমত (পর্ব-২০)

মূল: ইমাম কাজী সাফাদী (রহ:)
অনুবাদ: কাজী সাইফুদ্দীন হোসেন
[Bengali translation of Imam Qadi Safadi’s book “The Mercy in the Difference of the Four Sunni Schools of Islamic Law” as found in Aisha Bewley’s English translation; part-20]

ঋতুশ্রাব: ইমাম-মণ্ডলী এব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেন, যে নারীর ঋতুশ্রাব বিরাজমান তার জন্যে নামায পড়া বাধ্যতামূলক নয় এবং নামায ক্বাযা পড়ারও কোনো দরকার নেই। এরকম অবস্থায় কা’বা শরীফের তওয়াফ ও মসজিদে অবস্থান তাদের জন্যে হারাম; আর এই মাসিক ঋতুশ্রাব শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের সাথে সহবাস করাও (তাদের নিজ নিজ স্বামীর জন্যে) হারাম।

ন্যূনতম ও সবচেয়ে বেশি বয়স: সর্ব-ইমাম মালেক (রহ:), শাফেঈ (রহ:) ও আহমদ (রহ:)-এর মতানুযায়ী ঋতুশ্রাব হতে পারে এমন বয়সী মেয়ের ন্যূনতম বয়স ৯ বছর, আর এটা ইমাম আবূ হানীফা (রহ:)-এর পছন্দকৃত বয়স-ও। তবে তাঁরা রজোবন্ধ/ঋতুজরা হওয়ার কোনো নির্র্দিষ্ট সময়কাল আছে কি না, সে বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত পোষণ করেন। ইমাম আবূ হানীফা (রহ:) বলেন এর সময়কাল ৬০ বছর (আরবে) এবং অন্যত্র ৫৫ বছর। সর্ব-ইমাম মালেক (রহ:) ও শাফেঈ (রহ:) অবশ্য বলেন এর কোনো সময়সীমা নেই এবং শীত ও উষ্ণ আবহাওয়ার বিভিন্ন দেশে (প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য অনুযায়ী) যে রীতি ক্রিয়াশীল, তা-ই ধর্তব্য হবে। তবে ইমাম আহমদ (রহ:)-এর তিনটি মত এক্ষেত্রে বিদ্যমান, যা ৫০ থেকে ৬০ বছর পর্যন্ত ব্যাপ্ত।

ঋতুশ্রাবের ন্যূনতম ও সর্বোচ্চ মেয়াদকাল: সর্ব-ইমাম শাফেঈ (রহ:) ও আহমদ ইবনে হাম্বল (রহ:) বিবেচনা করেন ঋতুশ্রাবের সবচেয়ে কম সময়কাল এক দিন ও এক রাত; আর সর্বোচ্চ মেয়াদ ১৫ দিন ও রাত। ইমাম আবূ হানীফা (রহ:) অবশ্য বলেন যে ন্যূনতম মেয়াদ হচ্ছে ৩ দিন এবং সর্বোচ্চ ১০ দিন। তবে ইমাম মালেক (রহ:) বলেন এর কোনো ন্যূনতম মেয়াদ নেই, যা এক ঘণ্টার মতো কম সময়-ও হতে পারে; তাঁর মতে, সর্বোচ্চ মেয়াদকাল ১৫ দিন। সর্ব-ইমাম আবূ হানীফা (রহ:) ও শাফেঈ (রহ:)-এর মতে, দুইটি মাসিকের মধ্যবর্তী পবিত্রতার ন্যূনতম সময়কাল ১৫ দিন; অপরদিকে ইমাম আহমদ (রহ:)-এর দৃষ্টিতে এর মেয়াদ ১৩ দিন। ইমাম মালেক (রহ:) বলেন যে এই দুইয়ের মাঝে কোনো নির্দিষ্ট সময়কাল সম্পর্কে তিনি জানেন না, তবে তাঁর মযহাবের অন্তর্গত কতিপয় ইমাম এটাকে ১০ দিন বলে মত প্রকাশ করেন। তাঁরা সবাই অবশ্য একমত হন যে এর কোনো সর্বোচ্চ সময়সীমা নেই।

ঋতুশ্রাব চলাকালীন ও তৎপরবর্তী সময়ে সহবাস: ঋতুশ্রাবসম্পন্না স্ত্রীর সাথে আনন্দ কেবল কোমর-বন্ধনীর ওপরেই করা যাবে, নাভি হতে হাঁটু পর্যন্ত হারাম। এটাই সর্ব-ইমাম আবূ হানীফা (রহ:), মালেক (রহ:) ও শাফেঈ (রহ:)-এর দৃষ্টিভঙ্গি। তবে সর্ব-ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রহ:), (হানাফী মযহাবের অন্তর্গত ইমাম) মুহাম্মদ শায়বানী (রহ:) এবং কতিপয় মালেকী ও শাফেঈ মযহাবের অন্তর্গত ইমাম বলেন যে আনন্দ করা অনুমতিপ্রাপ্ত/বৈধ, কেবল যৌনাঙ্গ ব্যতিরেকে। তবে কোনো ব্যক্তি পূর্ণ সহবাস করলে ইমাম আবূ হানীফা (রহ:) ও শাফেঈ মযহাবের পরবর্তী ইমাম-মণ্ডলী এবং ইমাম আহমদ (রহ:) বলেন সে ব্যক্তিকে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে তওবা করতে হবে, আর এতে সে মাফ পাবে। কিন্তু ইমাম শাফেঈ (রহ:) বলেন (কাফফারাস্বরূপ) ওই ব্যক্তির উচিত যৌনাঙ্গের জন্যে এক দিনার (মুদ্রা) ও গুহ্যদ্বারের জন্যে অর্ধ দিনার দান-সদকাহ করা। স্ত্রীর মাসিক বন্ধ এবং তা সর্বোচ্চ মেয়াদ পার হলেও সে গোসল না করা পর্যন্ত সহবাস করার কোনো অনুমতি নেই। এব্যাপারে ইমামবৃন্দের মাঝে প্রায় পূর্ণ ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ইমাম আবূ হানীফা (রহ:) বলেন, সর্বোচ্চ সময়কাল অতিক্রান্ত হলে গোসলের আগে সহবাস করা যাবে। কিন্তু মাসিকের সর্বোচ্চ মেয়াদের আগে তা বন্ধ হলে স্ত্রীর গোসলের আগে কিংবা কোনো নামাযের ওয়াক্ত এসে চলে যাওয়ার আগে সহবাস অনুমতিপ্রাপ্ত নয়। ইমাম মালেক (রহ:) অভিমত ব্যক্ত করেন যে স্ত্রীর গোসল না করা পর্যন্ত সহবাস করার কোনো অনুমতি-ই নেই।

(চলবে)
 ·  Translate
1
Add a comment...

Kazi Saifuddin Hossain

Shared publicly  - 
 
ফীহি মা ফীহি (মওলানা রূমীর উপদেশ বাণী) - (১০১)
[Bengali translation of Mawlana Rumi's Discourses ("Fihi Ma Fihi") as found in A. J. Arberry's translation. Translator: K. S. Hossain. Part 101]

[মওলানা রূমী (রহ:) আউলিয়াবৃন্দের কারামত/অলৌকিক ক্ষমতা প্রসঙ্গে বলেন]: কারো জন্যে এই স্থান হতে কা’বা শরীফে মুহূর্তে উড়ে যাওয়া ততো চমৎকার কিছু নয়, যদিও আউলিয়াবৃন্দ এরকম করেছেন মর্মে অনেক ঘটনার নজির আছে। কিন্তু প্রকৃত কারামত হলো, আল্লাহ পাক তোমাকে নিচুস্তর হতে উঁচুস্তরে উন্নীত করেছেন; তুমি অজ্ঞতা থেকে যুক্তি-বিবেচনায় উপনীত হয়েছো; প্রাণহীন হতে জীবন প্রাপ্ত হয়েছো। ঠিক যেমন তুমি প্রথমাবস্থায় ছিলে মাটি ও খনিজ, আল্লাহতা’লা তোমাকে উদ্ভিদজগতে নিয়ে আসেন। অতঃপর তুমি উদ্ভিদজগত থেকে প্রাণিজগতে গমন করো, আর প্রাণিজগত থেকে গমন করো মনুষ্যজগতে। [অনুবাদকের নোট: এটি সম্ভবতঃ মানব সৃষ্টির ইতিহাস বর্ণনা করেছেন মওলানা রূমী (রহ:)]

এগুলোই প্রকৃত কারামত। এসব মাক্বাম ও আকৃতির মধ্য দিয়ে তুমি ভ্রমণ করেছো, একবারও চিন্তা বা কল্পনা করো নি কোথায় গিয়ে তুমি পৌঁছুবে, কোন্ রাস্তা দিয়ে তোমাকে নেয়া হবে, কিংবা কীভাবে তোমাকে আনা হবে। তথাপি তোমাকে এক’শটি অন্য জগতে আনা হবে। এতে সন্দেহ করো না, আর এরকম কাহিনী তোমাকে বলা হলে সেগুলোতে বিশ্বাস করো।

খলীফা হযরত উমর ফারূক (রা:)-এর সামনে এক বাটিভর্তি বিষ উপহার হিসেবে আনা হয়। তিনি জিজ্ঞেস করেন, “এটি কী কাজে আসে?” তারা উত্তরে বলে, “যখন কাউকে প্রকাশ্যে হত্যা করার কথা সর্বসাধারণ্যে পরামর্শস্বরূপ বলা যায় না, তখন আপনি এর কিয়দংশ তাকে (পান করতে) দিতে পারেন। তারা (সবার) অজান্তেই মারা যাবে। এ যদি হয় কোনো শত্রু যাকে তরবারি দ্বারা হত্যা করা যাচ্ছে না, তবে এ বিষের অল্প পরিমাণ দিয়েই তাকে গুপ্তভাবে হত্যা করা যাবে।”

হযরত উমর (রা:) বলেন, “তোমরা আমার কাছে একটি অতি উত্তম জিনিস নিয়ে এসেছো। এটি আমায় পান করতে দাও, কেননা আমার অভ্যন্তরে রয়েছে এক শক্তিধর দুশমন যাকে তরবারি বাগে পায় না। জগতে তার থেকে বড় আর কোনো শত্রু আমার নেই।”

তারা তাঁকে বলে, “এক ঢোকে পুরোটুকু পান করার কোনো প্রয়োজন নেই, বরং এক চুমুক-ই পর্যাপ্ত হবে। এই বাটিতে যে বিষ আছে, তা এক লক্ষ লোকের জন্যে যথেষ্ট। খলীফা উমর (রা:) বলেন, “আমার দুশমন-ও একজন নয়, বরং সে একাই এক সহস্রজন; আর সে এক লক্ষজনকে ধরাশায়ী-ও করেছে।”

অতঃপর হযরত উমর (রা:) পাত্রটি হাতে নিয়ে এক ঢোকে সমস্তটুকু (বিষ) পান করেন। তৎক্ষণাৎ সমবেত জনতা সবাই ঈমানদার মুসলমান হয়ে যান উচ্চস্বরে এ কথা বলে, “আপনার দ্বীন (ধর্ম) সত্য!” হযরত উমর (রা:) বলেন, “তোমরা সবাই ঈমানদার হয়ে গিয়েছো ঠিকই, কিন্তু আমার অভ্যন্তরে এই কাফের (অবিশ্বাসী) তো এখনো ঈমানদার হয়নি।”

হযরত উমর (রা:) যা কামনা করেছিলেন, তা সাধারণ মানুষের ঈমান নয়। বস্তুতঃ তাঁর ওই ঈমান ছিল, বরং এরও বেশি কিছু ছিল; সত্যি, তাঁর ছিল সত্যনিষ্ঠের ঈমানদারি। কিন্তু তিনি অন্বেষণ করছিলেন আম্বিয়া (আ:)-মণ্ডলীর পরিপূর্ণ নিশ্চিত ঈমান। সেটি-ই তিনি আশা করেছিলেন।

(চলবে)
 ·  Translate
1
Kazi Saifuddin Hossain's profile photo

Kazi Saifuddin Hossain

Shared publicly  - 
 
ডাউনলোড করুন তাসাউফ-তরীক্বতবিষয়ক উৎকৃষ্ট দলিল - 
 ·  Translate
1
Add a comment...

Kazi Saifuddin Hossain

Shared publicly  - 
 
সংশোধনীয় ভ্রান্ত ধারণাসমূহ (পর্ব - ৩)

মূল: শায়খ সাইয়্যেদ মুহাম্মদ আলাউয়ী মালেকী আল-হাসানী (রহ:)
অনুবাদ: কাজী সাইফুদ্দীন হোসেন

[Bengali translation of Shaykh Muhammad Alawi Maliki al-Hasani’s book “Notions that must be corrected” as found in Suraqah Abdul Azeez’s English translation; part - 3]

সূচিপত্র

শায়খ হাসানাইন মুহাম্মদ মাখলূফ (রহ:) - এর প্রারম্ভিক মন্তব্য

মুখবন্ধ

জরুরি বিজ্ঞপ্তি

এ বইয়ে উদ্ধৃত হাদীসের বিবরণ প্রসঙ্গে

প্রথম অধ্যায়: আক্বীদা-বিশ্বাসের বিভিন্ন বিষয়

তাকফির (কুফর) ও দালালাত (পথভ্রষ্টতা) - সম্পর্কিত বর্তমানকালের নানা অভিযোগের মানদণ্ডে প্রাপ্ত দূষণ

তাকফিরের দায়-দায়িত্বহীন অভিযোগ উত্থাপন হতে সতর্কীকরণ

শায়খ মুহাম্মদ ইবনে আবদিল ওয়াহহাবের এতদসংক্রান্ত অবস্থান

এসম্পর্কে শায়খ ইবনে আবদিল ওয়াহহাবের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পত্র

কোনো মুসলমানকে হেয় করা দূষণীয় এবং তাঁর সাথে যুদ্ধ করা কুফর (অবিশ্বাস)

স্রষ্টার মক্বাম ও সৃষ্টির মক্বাম

সৃষ্টির মক্বাম

এই দুই মক্বামের মাঝে শরীক হওয়া বিষয়গুলো যা ঐশী সর্বশ্রেষ্ঠত্বের পরিপন্থী নয়

যৌক্তিক উপমা ও এর ব্যবহার

ঈমান ও কুফরের মানদণ্ডে আলঙ্কারিক অংশ উপলব্ধির প্রয়োজনীয়তা

বান্দাদের প্রতি কর্মের দায় আরোপের বাস্তবতা

বিভিন্ন দায় আরোপের ভিত্তিতে এর অর্থের পার্থক্য

প্রশংসা: এবাদত ও আদব/শিষ্টাচারের মধ্যকার পার্থক্য

শির্ক (অংশীবাদ) - এর মাধ্যম

সর্বশ্রেষ্ঠ মাধ্যম

এক মিথ্যের বস্ত্রাবরণ

উত্তম নতুন প্রচলন ও মন্দ নতুন প্রচলনের মধ্যকার পার্থক্য

ঐশী বিধানভিত্তিক নতুন প্রচলন ও ভাষাগত নতুন প্রচলনের মধ্যকার পার্থক্য নির্ণয়ের প্রয়োজনীয়তা

ঐশী বিধানানুযায়ী অনুশীলনের প্রতি সূফীবাদী ইমামবৃন্দের আহ্বান

আশ’আরী ইমামবৃন্দ

গবেষণায় যেসব তথ্য হারিয়ে গিয়েছে

তাওয়াসসুল (অসীলা গ্রহণ) সম্পর্কে উপলব্ধি

তাওয়াসসুল সম্পর্কে ঐকমত্যের বিষয়াদি

মুসলমানদের পালিত তাওয়াসসুলের প্রামাণ্য দলিল

মহানবী (দ:) - এর শুভাগমনের আগে তাঁর তাওয়াসসুল

পয়গম্বর আদম (আ:) - এর পালিত তাওয়াসসুল-সম্পর্কিত হাদীসের সমর্থনকারী অন্যান্য হাদীস

এই অনন্যতার অর্থের ব্যাপারে ইবনে তাইমিয়ার সংশোধনী

ইবনে তাইমিয়ার মতামতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিশ্লেষণ যা তার অনুসারীদের মস্তিষ্কে অনুপস্থিত

রাসূলুল্লাহ (দ:) প্রবেশ না করা পর্যন্ত বেহেশত নিষিদ্ধ

হুযূর পাক (দ:) - এর নাম মোবারকের সাথে বিশ্বজগতের সংশ্লিষ্টতা

মহানবী (দ:) মাধ্যমে ইহুদীদের তাওয়াসসুল

নবী করীম (দ:) - এর যাহেরী জিন্দেগীতে ও বেসাল শরীফে পালিত তাওয়াসসুল

আরেকটি উদাহরণ এবং ইবনে তাইমিয়ার এটাকে সমর্থন দান

নিষ্ফল অপচেষ্টা

শেষ বিচার দিবসের ময়দানে মহানবী (দ:) - এর মাধ্যমে তাওয়াসসুল

ইবনে তাইমিয়ার গৃহীত পদ্ধতির নিরিখে তাওয়াসসুলের বৈধতা

মহানবী (দ:) - এর তাওয়াসসুলের বৈধতা সম্পর্কে ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রহ:) ও ইবনে তাইমিয়ার সুনির্দিষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি

ইমাম শওকানীর দৃষ্টিতে তাওয়াসসুলের বৈধতা

মুহাম্মদ ইবনে আব্দিল ওয়াহহাব তাওয়াসসুলের অনুমতি দেন

ইবনে আবদিল ওয়াহহাব কর্তৃক তাওয়াসসুল পালনকারীদের প্রতি কুফরীর দোষারোপকারীদের অস্বীকৃতিমূলক ঘোষণা

মহানবী (দ:) - এর ব্যক্তিগত পবিত্র স্মৃতিচিহ্নগুলোর তাওয়াসসুল

আম্বিয়া (আ:) - বৃন্দের ব্যক্তিগত পবিত্র স্মৃতিচিহ্নগুলোর তাওয়াসসুল

হুযূর পূর নূর (দ:) ও আম্বিয়া (আ:) এবং পুণ্যবান বান্দাদের হক্ক (অধিকার) দ্বারা তাওয়াসসুল

রাসূলুল্লাহ (দ:) - এর তাওয়াসসুল সেসব বান্দাদের হক্কের খাতিরে যাঁরা প্রার্থনা করেন

মা আয়েশা (রা:) - এর নির্দেশে মহানবী (দ:) - এর রওযার মাধ্যমে তাওয়াসসুল

মা আয়েশা (রা:) ও হুযূর (দ:) - এর রওযা শরীফ সম্পর্কে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি

হযরত উমর (রা:) - এর খেলাফত আমলে নবী করীম (দ:) - এর রওযার তাওয়াসসুল

এয়ামামা দিবসে রাসূলুল্লাহ (দ:) - এর মাধ্যমে মুসলমানদের তাওয়াসসুল

রোগ-ব্যাধি ও কঠিন পরিস্থিতিতে নবী পাক (দ:) - এর তাওয়াসসুল

মহানবী (দ:) ছাড়াও অন্যান্যদের তাওয়াসসুল

হযরত আব্বাস (রা:) - এর মাধ্যমে খলীফা উমর (রা:) - এর তাওয়াসসুলের অর্থ

আল-’উতবী ও তাওয়াসসুলের ঘটনা

রাসূলুল্লাহ (দ:) - এর রওযার বাইরে ধাতুর গ্রিলের ওপর আল-’উতবী’র কাব্যের ছত্র

এক প্রত্যাখ্যাত সন্দেহ

মহানবী (দ:) শোনেন না, দেখেন না এবং আমাদের জানেনও না মর্মে অজ্ঞ লোকদের দাবি

তাওয়াসসুল সমর্থক মুসলমানদের ইমামবৃন্দ (রহ:)

মহানবী (দ:) - এর শাফায়াত অন্বেষণ করেন সাহাবা-এ-কেরাম (রা:)

ইবনে তাইমিয়া কর্তৃক শাফায়াত-সংক্রান্ত আয়াতগুলোর ব্যাখ্যা ও এ জীবনে মহানবী (দ:) - এর শাফায়াত কামনার অনুমতি প্রদান

’আপনারই এবাদত করি ও আপনার কাছেই সাহায্য চাই’ (আল-আয়াতের ব্যাখ্যা)

সাহায্য প্রার্থনা ও মহানবী (দ:) - এর কাছে আবেদন পেশ

আবূ হোরায়রা (রা:) কর্তৃক বিস্মরণ-প্রবণতার ব্যাপারে আবেদন পেশ

রাসূলুল্লাহ (দ:) আমাদের ভিত্তিস্তম্ভ, আশ্রয়ের কেন্দ্রবিন্দু ও সাহায্য

হামযা (রা:) সৎকর্মশীল ও মুসিবত দূরকারী

একটি মিথ্যে দাবি

যে জিনিস একমাত্র আল্লাহ মঞ্জুর করতে পারেন তা কারো কাছ থেকে চাওয়া কি শির্ক?

’চাইলে আল্লাহর কাছেই চাও, সাহায্য প্রার্থনা করলে তাঁরই কাছে সাহায্য প্রার্থনা করো’

’চাইলে আল্লাহর কাছেই চাও’

’আমার কাছ থেকে সাহায্য চাওয়া যাবে না’

এসব অভিব্যক্তি যেটাকে তারা মূর্তিপূজা ও গোমরাহী বলে দাবি করে সে সম্পর্কে ইবনে আব্দিল ওয়াহহাবের দৃষ্টিভঙ্গি

উপসংহার

(চলবে)
 ·  Translate
1
Kazi Saifuddin Hossain's profile photo

Kazi Saifuddin Hossain

Shared publicly  - 
 
ফীহি মা ফীহি (মওলানা রূমীর উপদেশ বাণী) - (১০০)
[Bengali translation of Mawlana Rumi's Discourses ("Fihi Ma Fihi") as found in A. J. Arberry's translation. Translator: K. S. Hossain. Part 100]

সাধারণ মানুষ বলেন, “নেই কোনো খোদা, খোদাতা’লা ব্যতিরেকে।” কিন্তু মনোনীত জনেরা (মানে বুযূর্গানে দ্বীন) বিশ্বাস করেন, “নেই কোনো সত্তা, (ঐশী) সত্তা ব্যতিরেকে।” কেউ একজন স্বপ্নে নিজেকে শাসক হিসেবে দেখতে পেলো; সিংহাসনে বসা অবস্থায় সে, আর আশপাশে দাঁড়িয়ে আছে সেবক, প্রাসাদ-সরকার ও রাজন্যবর্গ। সে বলে, “আমি হলাম শাসক, এবং আমি ব্যতিরেকে নেই কোনো শাসক।” একথা সে ঘুমের মধ্যে বলে। ঘুম থেকে যখন সে জেগে ওঠে এবং নিজেকে ছাড়া আর কাউকে বাড়িতে দেখতে পায় না, তখন সে বলে, “আমি-ই আছি, এবং আমি ছাড়া অন্য কেউ-ই নেই।” এটি উপলব্ধি করতে হলে কাউকে পুরোপুরিভাবে জাগ্রত হতে হবে।

প্রতিটি ধর্ম-ই অপরাপর ধর্মকে অস্বীকার করে। কোনো একটি দল বলে, “আমরাই সঠিক দল, ওহী তথা ঐশী প্রত্যাদেশ আমাদেরই অধিকারে, বাকি সব মিথ্যে।” কিন্তু বাকিরাও একই কথা বলে থাকে। অতএব, বাহাত্তরটি দল এবিষয়ে একমত যে অন্য সবাই ওহী-বিহীন। তারা ঐকমত্য পোষণ করে যে অন্য কোনো ধর্মে ওহী নেই, আর তাদের সবার মধ্য হতে একটি-ই সত্য-সঠিক পথ বিদ্যমান। তাই কোন্ পথটি সঠিক সে ব্যাপারে প্রত্যেক ঈমানদারের জ্ঞান-প্রজ্ঞা ও পার্থক্য করার সামর্থ্য থাকতে হবে। এধরনের পার্থক্য করার গুণ ও জ্ঞান হচ্ছে প্রকৃত ঈমান (ধর্মবিশ্বাস)।

(দরবারি মজলিশে উপস্থিত) কেউ একজন বলেন: “(সত্য সম্পর্কে) জানে না এমন ধর্মের সংখ্যা অনেক, আর যেসব ধর্ম সেটি সম্পর্কে জানে সেগুলোর সংখ্যা কম। আমরা এগুলোর সবকে বাছাই করতে ব্যস্ত হলে তা দীর্ঘ সময়সাপেক্ষ ব্যাপার হবে।” [জরুরি নোট: এখানে বিভিন্ন ওহী, যেমন তৌরাত, জাবুর, ইন্জিল কিতাব প্রাথমিক অবস্থায় যখন আম্বিয়া (আ:)-বৃন্দের কাছে নাযেল হয়, তখনকার সেসব ধর্ম সম্পর্কে উদ্দেশ্য করা হয়েছে; বর্তমানকালের অন্যান্য ধর্মকে এতে উদ্দেশ্য করা হয়নি।]

মওলানা রূমী (রহ:) উত্তর দেন: যদিও এমন অনেক (ধর্ম) আছে যারা (সত্য সম্পর্কে) জানে না, তবুও তুমি (ওগুলোর) সামান্য কয়েকটি সম্পর্কে জানলেই সবগুলো সম্পর্কে জেনে যাবে। একইভাবে তুমি যখন এক মুঠোভর্তি শস্যকণা সম্পর্কে জানবে, তখন তুমি সারা বিশ্বের শস্যস্তূপগুলো সম্পর্কেই জেনে যাবে। তুমি একবার চিনির স্বাদ গ্রহণ করলে হালুয়া যদিও এক’শটি পদ্ধতিতে তৈরি করা হয়, তবুও ওই হালুয়ায় তুমি চিনিকে চিনতে পারবে, জানতে পারবে।

এসব কথা তোমার কাছে পুনরাবৃত্তিপ্রবণ মনে হলে সেটি কেবল একারণে যে তুমি প্রথম শিক্ষাটি-ই এখনো শিখতে পারোনি, আর তাই আমাকে প্রতিদিন এ কথা বলতেই হবে। একবার এক শিক্ষার্থীকে তিন মাস যাবত শিক্ষা দেয়া হয়, কিন্তু সে ‘অ-তে আপেলের’ বেশি কিছু শিখতে পারেনি। ওই শিশুর বাবা এসে শিক্ষককে বলেন, “আমি আপনার টিউশন-ফী দিতে কখনো ব্যর্থ হইনি। আমি কোনো সময় তা দিতে ব্যর্থ হয়ে থাকলে অনুগ্রহ করে আমায় জানাবেন। আমি আরো অর্থ পরিশোধ করবো।” শিক্ষক জবাবে বলেন, “ব্যর্থতা আপনার নয়, বরঞ্চ শিশুটি এর বেশি শিখতে পারছে না।” তিনি তাঁর ওই ছাত্রকে ডেকে বলেন, “বলো, ‘অ-তে আপেল’।” শিশুটি ‘অ’ উচ্চারণ করতে অক্ষম হয়ে বলে, “-তে আপেল।” শিক্ষক তখন তার বাবাকে বলেন, “দেখেছেন তো? যেহেতু শিশুটি প্রথম পাঠ-ই পেরোতে ব্যর্থ, এমতাবস্থায় আমি কীভাবে তাকে এর বেশি শিক্ষা দিতে পারি?” ওর বাবা তখন বলেন, “সমস্ত প্রশংসা আল্লাহতা’লারই (প্রাপ্য)।”

আমরা এক বেলা খাবারের পরে ‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর (প্রাপ্য)’ - কথাটি এই কারণে বলি না যে তাতে (আহারে) রুটির অভাব থাকে। বস্তুতঃ রুটি ও আশীর্বাদের কোনো সীমা-পরিসীমা নেই, কিন্তু খিদে মিটে যায় এবং মেহমানদের খিদেও মিটে যায়। এই কারনেই আমরা বলি, “সমস্ত প্রশংসা আল্লাহতা’লারই (প্রাপ্য)।”

ঐশী প্রত্যাদেশের (ওহীর) রুটি এই দুনিয়ার রুটি হতে একদম ভিন্ন, কেননা এমন কি কোনো খিদে না থাকলেও তুমি নিজেকে জোর করে যতোখানি চাও দুনিয়ার রুটি খাওয়াতে পারো। আর যেহেতু এটি জড় বা প্রাণহীন, সেহেতু তুমি এটিকে যেখানে পছন্দ টেনে নিতে পারো। এর কোনো আত্মা নেই যা দ্বারা নিজেকে অযোগ্যদের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে নেবে। কিন্তু ঐশী রুটি হচ্ছে জীবন্ত জ্ঞান-প্রজ্ঞা এবং জীবন্ত আশীর্বাদ-ও। যতোক্ষণ পর্যন্ত তুমি অন্য কোনো কিছু কামনা না করো, ততোক্ষণ এটি তোমার দিকেই অগ্রসর হয় এবং তোমার খাদ্য হয়। কিন্তু তোমার কামনা ব্যর্থ হলে তুমি আর এটিকে খেতে সক্ষম হবে না, এমন কি জোরপূর্বক-ও নয়। তখন এটি পর্দার আড়ালে লুকোয় এবং তোমাকে নিজের মুখ দেখায় না।

(চলবে)
 ·  Translate
1
Add a comment...

Kazi Saifuddin Hossain

Shared publicly  - 
 
সংশোধনীয় ভ্রান্ত ধারণাসমূহ (পর্ব - ৪)

মূল: শায়খ সাইয়্যেদ মুহাম্মদ আলাউয়ী মালেকী আল-হাসানী (রহ:)
অনুবাদ: কাজী সাইফুদ্দীন হোসেন

[Bengali translation of Shaykh Muhammad Alawi Maliki al-Hasani’s book “Notions that must be corrected” as found in Suraqah Abdul Azeez’s English translation; part - 4]

দ্বিতীয় অধ্যায়: নবুওয়্যত-সম্পর্কিত গবেষণা

মহানবী (দ:)-এর অনন্য ও বিশেষ গুণাবলী, নবুওয়্যতের বাস্তবতা, মানবের বাস্তবতা ও বরযখ বা পরকালীন জীবনের বাস্তবতা সম্পর্কে ব্যাখ্যা

নবুওয়্যতের অনন্য গুণাবলী ও এতদসংক্রান্ত বিষয়ে উলামাবৃন্দের দৃষ্টিভঙ্গি

ইবনে তাইমিয়া ও নবুওয়্যতের বৈশিষ্ট্যাবলী

ইবনে কাইয়্যেম আল-জাওযিয়্যা এবং মহানবী (দ:)-এর উচ্চাসনে আসীন হওয়ার বিষয়

কাশশা-ফ আল-ক্বিনা’ এবং বিস্ময়কর অনন্য গুণাবলী

বেহেশত যদি মায়ের পদতলে হতে পারে, তাহলে বেহেশত কেন মহানবী (দ:)-এর আজ্ঞাধীন হবে না?

বেহেশতে প্রবেশের জন্যে সম্পত্তি-দলিল তাঁরই হাতে ন্যস্ত

‘আমার ব্যাপারে অতিরঞ্জন করো না’

আম্বিয়া (আ:)-বৃন্দ মানব-সুরতবিশিষ্ট, কিন্তু.....

তাবাররুক (আশীর্বাদ) গ্রহণ সম্পর্কে সঠিক উপলব্ধি

মহানবী (দ:)-এর পবিত্র রক্ত মোবারক হতে আশীর্বাদ গ্রহণ

এতদসংক্রান্ত বিষয়ে উলামাবৃন্দের বক্তব্য

মহানবী (দ:)-এর স্পর্শ যাঁরা পেয়েছেন, তাঁদের হস্ত মোবারক চুম্বন দ্বারা বরকত (আশীর্বাদ) আদায়

হুযূর (দ:)-এর জুব্বা মোবারক হতে বরকত আদায়

তাঁর হাত মোবারক যেসব বস্তু স্পর্শ করেছে, সেগুলো হতে বরকত আদায়

তাঁর ব্যবহৃত পানির পাত্র ও নামায পড়ার জন্যে গমনকৃত মসজিদ হতে বরকত আদায়

মহানবী (দ:)-এর পদচিহ্ন হতে বরকত আদায়

আশীর্বাদধন্য বসতঘর হতে বরকত আদায়

রাসূলুল্লাহ (দ:)-এর মিম্বর হতে আশীর্বাদ গ্রহণ

তাঁর মহাসম্মানিত রওযা মোবারক হতে বরকত আদায়

আম্বিয়া (আ:)-বৃন্দ, নেককার পুণ্যাত্মা ও অতীতকালের বুযূর্গদের ব্যক্তিগত স্মৃতিচিহ্নগুলো হতে বরকত আদায়

সর্ব-হযরত মূসা (আ:) ও হারূন (আ:)-এর ঐশী সিন্দুক হতে বরকত আদায়

মসজিদুল ’আসহা’র হতে বরকত আদায়

আমরা মহানবী (দ:)-এর আশীর্বাদধন্য

ইমাম আহমদ বিন হাম্বল (রহ:) বরকত অন্বেষণ করেছেন এবং ইমাম যাহাবী তাঁকে সমর্থন করেছেন

উপসংহার

তৃতীয় অধ্যায়: গবেষণার বিভিন্ন বিষয়

রাসূলুল্লাহ (দ:)-এর যেয়ারত এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিষয়, যেমন স্মৃতিচিহ্ন হতে বরকত আদায়, মাযার-রওযা যেয়ারত ও বিশেষ দিন উদযাপন

বরযখ-জীবন হচ্ছে বাস্তব

বরযখ জীবনে আম্বিয়া (আ:)-বৃন্দের অনন্য বৈশিষ্ট্যাবলী

আম্বিয়া (আ:)-বৃন্দের মাযার-রওযায় তাঁদের আদায়কৃত নামায ও অন্যান্য এবাদত-বন্দেগী

আমাদের মহানবী (দ:)-এর বিশেষ (বরযখ) জীবন

’এয়া রাসূলাল্লাহ (দ:)’ বলে যে ব্যক্তি আহ্বান করেন, তাঁর ডাকে হুযূর পাক (দ:) সাড়া দেন

বাহক মারফত রাসূলুল্লাহ (দ:)-এর প্রতি সালাত-সালাম পেশ

মহানবী (দ:)-এর পাক রওযায় সালাম ও আযান শোনা যাওয়ার ঘটনা

এসব ঘটনার প্রতি ইবনে তাইমিয়ার সমর্থন

আম্বিয়া (আ:) ভিন্ন অন্যান্যদের বেলায়ও এরকম অলৌকিক ঘটনার সত্যতা স্বীকার

’সফর করো না’ (মাযার/রওযার দিকে)

ইবনে তাইমিয়ার মতে মাযার/রওযা যেয়ারত মসজিদ যেয়ারতের সমান

একটি উপকারী বিশ্লেষণ

ইমাম মালেক (রহ:) ও মাযার/রওযা যেয়ারত

হাম্বলী ও অন্যান্য উলামা-মণ্ডলী কর্তৃক মহানবী (দ:)-এর রওযা যেয়ারতের প্রতি সমর্থন

আমাদের মহানবী (দ:)-এর যেয়ারত ও এতদুদ্দেশ্যে রওযা অভিমুখে সফরের বৈধতা প্রসঙ্গে সালাফ আস্ সালেহীন ইমাম-মণ্ডলীর বাণী

সালাফ আস্ সালেহীন কর্তৃক মহানবী (দ:)-এর রওযা শরীফ যেয়ারত

রাসূলুল্লাহ (দ:)-এর যেয়ারত সম্পর্কে ইবনে কাইয়েম আল-জাওযিয়া

হুযূর পূর নূর (দ:)-এর মহাসম্মানিত রওযা

রাসূলুল্লাহ (দ:)-এর রওযা মোবারক ও (সেখানে কৃত) প্রার্থনা

ইবনে তাইমিয়ার অভিমত

ইবনে তাইমিয়ার বক্তব্যের বিশ্লেষণ

মাযার/রওযায় কৃত প্রার্থনা সম্পর্কে মুহাম্মদ ইবনে আব্দিল ওয়াহহাবের মত: ‘মাযারে প্রার্থনা বেদআত নয়, কুফর-ও নয়’

মহানবী (দ:)-এর রওযা বা (তা আচ্ছাদনের) কাপড় চুম্বন কিংবা ছুঁয়ে বরকত আদায়

ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রা:)-এর মতামত

মহানবী (দ:)-এর রওযা পাক কুফর ও মূর্তিপূজো হতে ঐশীভাবে রক্ষাপ্রাপ্ত

নবুওয়্যতের স্মৃতিচিহ্ন ও ধর্মীয় পবিত্র স্থান পরিদর্শন ও তা হতে বরকত আদায়

মাযার/রওযা ও স্মৃতিচিহ্নের প্রতি গুরুত্বারোপ

অতীতের পয়গম্বর (আ:)-বৃন্দের স্মৃতিচিহ্নের প্রতি আল-কুরআনে প্রদত্ত গুরুত্ব

চার খুলাফায়ে রাশেদীন (রা:) ও তাঁদের দ্বারা মহানবী (দ:)-এর আংটির হেফাযত

চার খুলাফায়ে রাশেদীন (রা:) ও তাঁদের দ্বারা মহানবী (দ:)-এর বর্শার হেফাযত

হযরত উমর (রা:) কর্তৃক হযরত আব্বাস (রা:)-এর জল-প্রণালী সংরক্ষণ, যেহেতু হুযূর (দ:) তা স্থাপন করেছিলেন

স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণের ব্যাপারে হযরত উমর (রা:) একা নন

হযরত ইবনে আব্বাস (রা:) ও প্রাচীন স্মৃতিচিহ্ন

নবী করীম (দ:)-এর স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণের ব্যাপারে হযরত উমর (রা:)-এর ঈর্ষা

মহানবী (দ:)-এর স্যান্ডেলের প্রতি গুরুত্বারোপ ও সেগুলোর ব্যাপারে পরিচালিত গবেষণা

ওই স্মৃতিচিহ্নের প্রতি সৌদি রাজ্যের প্রদত্ত গুরুত্ব

ঐতিহাসিক স্মৃতিচিহ্নের সংরক্ষণ

মসজিদ ও এবাদতের স্থানসমূহ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিচিহ্ন

নগর পরিকল্পনা, (ভবন) পুনঃনির্মাণ ও ঐতিহাসিক স্মৃতিচিহ্ন

মহানবী (দ:)-এর ঘর ও সম্মানিত মসজিদ

হুযূর (দ:)-এর ঘরের ব্যাপারে প্রদত্ত ইবনে আব্দিল ওয়াহহাবের ফতোয়া

সবুজ গুম্বজ সম্পর্কে ইবনে আব্দিল ওয়াহহাবের অভিমত

বাদশাহ ফাহাদ বিন আব্দিল আযীযের পত্রে রাসূল (দ:)-এর স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণের প্রতি গুরুত্বারোপ

মাহফিল/সমাবেশ সম্পর্কে সঠিক উপলব্ধি

মীলাদুন্নবী (দ:) উদযাপন সম্পর্কে সঠিক উপলব্ধি

সোয়াইবিয়ার দাসত্ব থেকে মুক্তির ঘটনা

এই গবেষণার সার-সংক্ষেপ

উপসংহার

সংযোজনী - ১: নির্দিষ্ট কিছু ভ্রান্ত ধারণার প্রতি জবাব

সংযোজনী - ২: বিভিন্ন উলামা-এ-কেরামের অনুমোদন

গ্রন্থপঞ্জি

(চলবে)
 ·  Translate
1
Kazi Saifuddin Hossain's profile photo

Kazi Saifuddin Hossain

Shared publicly  - 
 
মওলিদুন্নবী (দ:) - এর উদযাপন ও অনুমতি (পর্ব - ৭১)

মূল: শায়খুল ইসলাম ড: মুহাম্মদ তাহিরুল কাদেরী
অনুবাদ: কাজী সাইফুদ্দীন হোসেন

[Bengali translation of Shaykh Tahirul Qadri's book "Mawlid al-Nabi: Celebration and Permissibility - Part 71]

২. ইমাম আল-তাহাবী (২৩৯-৩২১ হিজরী) কতিপয় শাফেঈ জ্ঞান বিশারদের মতামত উদ্ধৃত করেন:

সর্বশ্রেষ্ঠ রজনী হলো মহানবী (দ:) - এর বেলাদতের রাত, এরপর কদরের রাত; অতঃপর তাঁর মে’রাজে গমনের রাত, এরপর ‘আরাফাতের (ময়দানের) রাত; অতঃপর (প্রতি) শুক্রবারের রাত, এরপর ১৫ই শা’বানের (মানে শবে বরাতের) রাত; আর এরপর হলো ঈদের রাত। [ইমাম ইবনে আবেদীন কৃত ‘রাদ্দুল মোহতার ‘আলা দুর্র আল-মোখতার ‘আলা তানউইর আল-আবসার’, ২:৫১১; আল-শিরওয়ানী প্রণীত ‘হাশীয়া ‘আলা তোহফাত আল-মোহতাজ বি-শারহে আল-মিনহাজ’, ২:৪০৫; এবং আল-নাবহানী রচিত ‘জওয়াহির আল-বিহার ফী ফাদাঈল আল-নাবী আল-মোখতার, ৩:৪২৬]

৩. ইমাম ইউসূফ নাবহানী (বেসাল: ১৩৫০ হিজরী) তাঁর সুবিখ্যাত সেরা গ্রন্থ ‘আল-আনওয়ারুল মুহাম্মদিয়্যা ফীল মাওয়াহিবিল লাদুন্নিয়্যা’র ২৮ পৃষ্ঠায় লেখেন:

ওয়া লায়লাতু মওলিদিহি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা) আফযালু মিন লায়লাতিল ক্বাদরি - অর্থাৎ, রাসূলুল্লাহ (দ:) - এর বেলাদতের রাত কদরের রাতের চেয়ে শ্রেষ্ঠ।

৪. মুহাম্মদ আবদুল হাই ফারাঙ্গী মহল্লী লাখনাভী (১২৬৪-১৩০৪ হিজরী) মহানবী (দ:) - এর বেলাদতের রাত সেরা, না কদরের রাত সেরা, এই প্রশ্নের জবাবে লেখেন:

অন্যান্য রাতের চেয়ে লায়লাতুল ক্বদরের শ্রেষ্ঠত্ব ধর্মশাস্ত্রলিপিতে সুপ্রতিষ্ঠিত এবং অনেক উপায়েও প্রমাণিত। যেমন (ক) এই রাতে রূহ ও ফেরেশ্তামণ্ডলী জমিনে নেমে আসেন; (খ) সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত আল্লাহর তাজাল্লী (বিশেষ প্রকাশ) নিম্ন আসমানে অবতীর্ণ হয়; (৩) এই রাতে আল-লওহ আল-মাহফূয (সংরক্ষিত লিপি) হতে নিম্ন আসমানে আল-ক্বুরআন অবতীর্ণ হয়েছিল। এসব বৈশিষ্ট্যের সূত্রে উম্মতে মুহাম্মদীয়্যা’কে এ সান্ত্বনা দেয়া হয়েছে যে এই রাতটি এক হাজার মাসের এবাদত-বন্দেগী হতেও উত্তম। আল্লাহতা’লা এরশাদ ফরমান: “ক্বদরের রাত হাজার মাস থেকে উত্তম” [আল-ক্বুরআন, ৯৭:৩]। এ রাতে জাগ্রত থাকা (ও এবাদত করা)’র প্রতি হাদীস শরীফে তাকিদ দেয়া হয়েছে। কতিপয় মুহাদ্দেসীন (হাদীসশাস্ত্রবিদ) লায়লাতুল ক্বদরের চেয়ে মওলিদুন্নবী (দ:) - এর রাতকে শ্রেষ্ঠ জ্ঞান করেছেন; তাঁদের মত এটা নয় যে এবাদতের ক্ষেত্রে মীলাদুন্নবী (দ:) - এর রাত ক্বদরের রাতের সমকক্ষ, কেননা সওয়াব (পুরস্কার) ও শাস্তির বিষয়গুলো শুধু আল-নস আল-ক্বাতেঈ তথা সুস্পষ্ট প্রামাণ্য দলিল দ্বারাই নির্ধারণ করা সম্ভব। বরঞ্চ তাঁর সম্মানিত বেলাদতের রাত ক্বদরের রাতের চেয়ে শ্রেষ্ঠ হওয়ার ভিত্তি আল্লাহর দৃষ্টিতে এর আপন (অনুপম) বৈশিষ্ট্যেরই সুবাদে। [আব্দুল হাই লাখনাভী কৃত ‘মাজমূ’আ আল-ফাতাওয়া’, ১:৮৬-৮৭]

লায়লাতুল ক্বদরের উৎকর্ষ হচ্ছে এই রাতে ক্বুরআন মজীদ অবতীর্ণ হওয়ার পাশাপাশি ফেরেশতামণ্ডলীও অবতীর্ণ হয়েছিলেন। অপরদিকে, মহানবী (দ:) - এর সত্তা মোবারক এতোই অনুপম বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত যে তাঁরই প্রতি কুরআন নাযেল হয়; আর প্রতি সকালে ৭০,০০০ ফেরেশতা তাঁর পবিত্র রওযা পাক নিরন্তর যেয়ারত, এর তওয়াফ এবং তাঁর প্রতি দরুদ-সালাম পাঠ করে থাকেন; অপর ৭০,০০০ ফেরেশতা একই কাজ করেন সন্ধ্যায়। এই রীতির অনুশীলন শেষ বিচার দিবস পর্যন্ত চলতে থাকবে এবং যে ফেরেশতা একবার এরকম যেয়ারত করতে সক্ষম হবেন, তিনি আর দ্বিতীয়বার তা করার সুযোগ পাবেন না [ইবনে মুবারক প্রণীত ‘আল-যুহদ’, ৫৫৮ পৃষ্ঠা #১৬০০; আল-দারিমী রচিত ‘আল-সুনান’, ১:৫৭ #৯৪; আল-ক্বুরতুবী লিখিত ‘আল-তাযকিরা ফী উমূর আহওয়াল আল-মাওতা ওয়া উমূর আল-আখিরা’, ‘মহানবী (দ:) - এর রওযা হতে পুনরুত্থান’ শীর্ষক অধ্যায়, ২১৩-২১৪ পৃষ্ঠা; আল-নাজ্জার কৃত ‘আল-রাদ্দ ‘আলা মান এয়াক্বূল আল-ক্বুরআন মাখলূক্ব’, ৬৩ পৃষ্ঠা #৮৯; ইবনে হিব্বান রচিত ‘আল-’আযামা’, ৩:১০১৮-১০১৯ #৫৩৭; আল-আযদী প্রণীত ‘ফযল আল-সালাত ‘আলা আল-নাবী’, ৯২ পৃষ্ঠা #১০১; আল-বায়হাক্বী লিখিত ‘শুআব আল-ঈমান’, ৩:৪৯২-৪৯৩ #৪১৭০; আবূ নু’আইম কৃত ‘হিলইয়া আল-আউলিয়া ওয়া তাবাক্বাত অাল-আসফিয়্যা’, ৫:৩৯০; ইবনে জাওযী রচিত ‘আল-ওয়াফা’ বি-আহওয়াল আল-মুস্তফা’, ৮৩৩ পৃষ্ঠা #১৫৭৮; ইবনে আল-কাইয়্যেম আল-জাওযিয়্যা প্রণীত ‘জালা’ আল-আফহাম ফী আল-সালাত ওয়া আল-সালাম ‘আলা খায়র আল-আনাম’, ৬৮ পৃষ্ঠা #১২৯; আল-সামহূদী লিখিত ‘ওয়াফা’ আল-ওয়াফা’ বি-আখবার দার আল-মুস্তাফা’, ২:৫৫৯; ইমাম কসতলানী কৃত ‘আল-মাওয়াহিব আল-লাদুন্নিয়্যা বি-মিনাহ আল-মুহাম্মাদিয়া’, ৪:৬২৫; ইমাম আল-সুয়ূতী রচিত ‘কেফায়া আল-তালেব আল-লাবীব ফী খাসা’য়েস আল-হাবীব’, ২:৩৭৬; আল-সালেহী প্রণীত ‘সুবুল আল-হুদা ওয়া আল-রাশাদ ফী সীরা খায়র আল-’এবাদ’, ১২:৪৫২-৪৫৩; এবং আল-যুরক্বানী লিখিত ‘শরহে মাওয়াহিব আল-লাদুন্নিয়া বি আল-মিনাহ আল-মুহাম্মদিয়া’, ১২:২৮৩-২৮৪]। ফেরেশতামণ্ডলী অবতীর্ণ হয়ে মহানবী (দ:) - এর দরবারে বিনয়ী খাদেমের মতো প্রবেশ করে থাকেন। তাঁদের অবতীর্ণ হওয়াতে লায়লাতুল ক্বদর হাজার মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠত্ব পেয়েছে; পক্ষান্তরে, মহানবী (দ:) - এর ধরাধামে শুভাগমনের রাতের শ্রেষ্ঠত্ব উপলব্ধি করা অসম্ভব ব্যাপার এবং তা কল্পনারও অতীত! মওলিদুন্নবী (দ:) - এর ওই রাতের খাতিরে অসংখ্য, অগণিত রাত উৎসর্গিত হোক!

এখানে মনে রাখার মতো আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, লায়লাতুল ক্বদরের ফযীলত কেবলমাত্র ঈমানদার মুসলমানদের জন্যেই খাস (সুনির্দিষ্ট); কিন্তু মওলিদুন্নবী (দ:) স্রেফ ঈমানদারদের জন্যে নির্দিষ্ট নয়, বরঞ্চ তা সমগ্র মানবজাতির জন্যেই বরাদ্দ।

(চলবে)

 ·  Translate
1
Kazi Saifuddin Hossain's profile photo

Kazi Saifuddin Hossain

Shared publicly  - 
 
At long last the Bengali translation of Dr G F Haddad's booklet "Omnipresence of the Prophet (peace be upon him) is in the market. http://www.mediafire.com/file/qd62lm4bil9848y/%E0%A6%AE%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%AC%E0%A7%80+%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%AF%E0%A7%87%E0%A6%B0+%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%AF%E0%A7%87%E0%A6%B0.pdf
1
Add a comment...

Kazi Saifuddin Hossain

Shared publicly  - 
 
সুন্নী চার মযহাবের বৈচিত্র্যের মাঝে খোদার রহমত (পর্ব-২০)

মূল: ইমাম কাজী সাফাদী (রহ:)
অনুবাদ: কাজী সাইফুদ্দীন হোসেন
[Bengali translation of Imam Qadi Safadi’s book “The Mercy in the Difference of the Four Sunni Schools of Islamic Law” as found in Aisha Bewley’s English translation; part-20]

চামড়ার মোজার ওপর মসেহ

সফরের মধ্যে চামড়াজাত মোজার ওপর মসেহ করাটা মুসলমানবৃন্দের ঐকমত্য অনুসারে জায়েয (অনুমতিপ্রাপ্ত); খারেজী গোষ্ঠী ছাড়া কেউই এটা অস্বীকার করে না। ইমাম-মণ্ডলী একমত যে কোথাও বসবাসের সময়েও একাজের অনুমতি রয়েছে, ব্যতিক্রম শুধু ইমাম মালেক (রহ:) হতে একটি বর্ণনা।

সময়সীমা: সর্ব-ইমাম আবূ হানীফা (রহ:), শাফেঈ (রহ:) ও আহমদ (রহ:)-এর দৃষ্টিতে মোজার ওপর মসেহ করার নির্দিষ্ট সময়সীমা রয়েছে, যা সফরকারীর জন্যে তিনটি দিন ও রাত এবং কোথাও বসবাসকারীর জন্যে একটি দিন ও একটি রাত। ইমাম মালেক (রহ:) অবশ্য বলেন যে এর কোনো সময়সীমা নেই, আর এটা (মোজা) পরিধানকারী যে কেউ-ই সফর বা বসবাসরত অবস্থায় এর ওপর মসেহ করতে পারবেন, যতোক্ষণ না তিনি তা অপসারণ করতে চান, কিংবা জুনুব (বীর্যপাতজনিত অশুচি) হন।

যা যা মসেহ করতে হয়: মোজার ওপর ও নিচে মসেহ করা হলো সুন্নাহ, যদিও ইমাম আহমদ (রহ:) বলেন যে কেবল উপরিভাগ মসেহ করাই সুন্নাহ। ইমামবৃন্দের সর্বসম্মতি অনুযায়ী, কেউ শুধু উপরিভাগ মসেহ করলে যথেষ্ট হবে; কিন্তু স্রেফ নিচের অংশ মসেহ করলে পর্যাপ্ত হবে না। মসেহ কীভাবে করতে হয়, এব্যাপারে অবশ্য ইমাম-মণ্ডলীর মাঝে মতপার্থক্য আছে। ইমাম আবূ হানীফা (রহ:) বলেন তিন বা ততোধিক আঙ্গুল ব্যবহার করলেই কেবল গ্রহণযোগ্য হবে। ইমাম শাফেঈ (রহ:) বলেন মসেহ বলতে যা কিছু বোঝায়, তা হলেই যথেষ্ট হবে। ইমাম আহমদ (রহ:) অধিকাংশটুকু মসেহ হলেই পর্যাপ্ত হবে বলে মত প্রকাশ করেন। অপরদিকে ইমাম মালেক (রহ:) মনে করেন, সম্পূর্ণটুকু মসেহ করা বাধ্যতামূলক। তাঁরা ঐকমত্য পোষণ করেন যে মোজা একবার মসেহ করাই যথেষ্ট; আর যদি একটি মোজা অপসারিত হয়, তাহলে অপরটিও অপসারণ করা জরুরি।

ছিদ্র: (পায়ের) গোড়ালির গাঁটের নিচে মোজায় ছোট ছিদ্র থাকলে এবং এর ফাঁক দিয়ে পায়ের সামান্য কিছু অংশ দৃশ্যমান হলে সর্ব-ইমাম শাফেঈ (রহ:) ও আহমদ ইবনে হাম্বল (রহ:)-এর মাযহাবগুলোর পরবর্তী যুগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মসেহ করার কোনো অনুমতি নেই। ইমাম মালেক (রহ:) বলেন যে ছিদ্র যদি বড় না হয়, তাহলে মোজার ওপর মসেহ করা অনুমতিপ্রাপ্ত। ইমাম আবূ হানীফা (রহ:) মত প্রকাশ করেন যে ছিদ্রটি যদি তিন আঙ্গুল পরিমাণ বড় হয়, তাহলে মসেহ করার অনুমতি নেই। এর চেয়ে কম হলে অনুমতি আছে।

মোজা অপসারণ: কেউ ওযূ অবস্থায় মসেহ করার সময় যদি মোজা অপসারণ করে ফেলে, তাহলে ইমাম আবূ হানীফা (রহ:)-এর এবং ইমাম শাফেঈ (রহ:)-এর মযহাবের সবচেয়ে জোরালো একটি ফিক্কহী সিদ্ধান্ত হচ্ছে তাকে অবশ্যই তার পা ধুতে হবে; মোজা অপসারণের পর দীর্ঘ বা অল্প যতোটুকু সময়-ই অতিবাহিত হোক না কেন, তা ধর্তব্য হবে না। সর্ব-ইমাম আহমদ (রহ:) ও মালেক (রহ:) বলেন যে তাকে তার পা অবিলম্বে ধুতে হবে।

(চলবে)
 ·  Translate
1
Add a comment...

Kazi Saifuddin Hossain

Shared publicly  - 
 
মওলিদুন্নবী (দ:) - এর উদযাপন ও অনুমতি (পর্ব - ৭০)

মূল: শায়খুল ইসলাম ড: মুহাম্মদ তাহিরুল কাদেরী
অনুবাদ: কাজী সাইফুদ্দীন হোসেন

[Bengali translation of Shaykh Tahirul Qadri's book "Mawlid al-Nabi: Celebration and Permissibility - Part 70]

৪.১.১ লাইলাতুল কদরের রাত ও বেলাদত শরীফের রাতের মধ্যকার তুলনা

কুরআন মজীদ - যে ঐশীগ্রন্থটিতে মহানবী (দ:)-এর অনুকরণীয় দৃষ্টান্তপূর্ণ নৈতিক চরিত্র উল্লেখিত হয়েছে এবং তাঁর বৈশিষ্ট্যগুলো সুন্দরভাবে বর্ণনা করা হয়েছে - তাতে ঐশীভাবে উন্মেচিত হয়েছে যে পবিত্র রমযান মাসের কোনো একটি রাত এক হাজার মাসের চেয়েও উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন। এটাই পবিত্র লায়লাতুল কদরের রাত (ভাগ্য রজনী), যে রাতে ‘লওহ আল-মাহফূয’ নিম্নের আসমানে অবতরণ করেছিল। সর্বশক্তিমান আল্লাহতা’লা এ রাতকে শেষ বিচার দিবস অবধি সব মানুষের জন্যে মর্যাদাপূর্ণ মক্বাম তথা স্তর/পর্যায় অর্জনের অসীলা বা মাধ্যম বানিয়েছেন; আর এ রাতকে সকল রাতের মধ্যমণি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। কুরআন নাযেলের বেলায় এটা যদি সত্য হয়, তাহলে তাঁর বেলায় কী বলা যায়, যাঁর খাতিরে সমস্ত সৃষ্টিকুল অস্তিত্বশীল হয়েছে, যিনি গোটা বিশ্বজগতকে চিরস্থায়ী ভালোবাসা ও করুণা দ্বারা আলোকিত করেছেন এবং যাঁর অধিকারে (খোদ) আল-কুরআন? আল্লাহর দৃষ্টিতে তাঁর বেলাদত তথা ধরাধামে শুভাগমনের রাতটির মর্যাদা কী হতে পারে? তা কী হতে পারে, এব্যাপারে মানব মস্তিষ্ক ধারণা করতেও অপারগ।

লায়লাতুল ক্বদরের মর্যাদা এই কারণে যে এ রাতে কুরআন নাযেল হয়েছে এবং ফেরেশতাবৃন্দ-ও অবতীর্ণ হয়েছেন। কিন্তু মহানবী (দ:) না হলে ওহী-ও (নাযেল) হতো না, আর লায়লাতুল ক্বদর-ও হতো না - এমন কি সমগ্র সৃষ্টিকুল-ও অস্তিত্ব পেতো না। বাস্তবিকপক্ষে, এসব নেয়ামত (আশীর্বাদ) অামাদের রাসূলুল্লাহ (দ:)-এর বেলাদতের কারণেই এসেছে। অতএব, তাঁর বেলাদতের রাতকে যদি আমরা লায়লাতুল কদরের রাতের চেয়ে শ্রেষ্ঠ বলি, তাহলে অতিরঞ্জন হবে না। কদরের রাতকে এক সহস্র মাসের চেয়ে শ্রেয়তর ঘোষণা করে আল্লাহ পাক এটার গুণের একটি সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। পক্ষান্তরে, মহানবী (দ:)-এর বেলাদতের রাতের বৈশিষ্ট্য ধারণারও অতীত। তবে একথা মনে রাখা উচিত যে যদিও তাঁর বেলাদতের রাতের বৈশিষ্ট্য শ্রেষ্ঠতর, তবুও প্রত্যেকের লায়লাতুল কদরের রাতে এবাদত-বন্দেগী বেশি করা উচিত; কেননা এ রাতে এবাদত-বন্দেগীর জন্যে বরাদ্দ সওয়াবের পরিমাণ বেশি, আর এটা কুরআন ও হাদীস দ্বারা সুপ্রতিষ্ঠিত।

বিশেষ কয়েকটি রাতের বৈশিষ্ট্যগুলো সম্পর্কে ইমামবৃন্দ ও মুহাদ্দীস-মণ্ডলী আলোচনা করেছেন, যেমন - শা’বান মাসের ১৫ তারিখের রাত, লায়লাতুল কদর, ঈদুল ফিতর ও এয়াওমে আরাফা’র রাতগুলো এবং মহানবী (দ:)-এর বেলাদতের রাত। এঁদের মধ্যে অনেকেই লায়লাতুল কদরের রাতের চেয়ে মীলাদুন্নবী (দ:)-এর রাতকে শ্রেষ্ঠ বলে ঘোষণা করেছেন। সর্ব-ইমাম কসতলানী (৯২৩-৮৫১ হিজরী), শায়খ আবদুল হক্ব মুহাদ্দীসে দেহেলভী (৯৫৮-১০৫২ হিজরী), ইমাম যুরক্বানী মালেকী (১০৫৫-১১২২ হিজরী), ইমাম ইউসূফ নাবহানী (বেসাল: ১৩৫০ হিজরী) প্রমুখ একথা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন।

১. ইমাম কসতলানী এ সম্পর্কে লেখেন:

মহানবী (দ:)-এর বেলাদত প্রশ্নে এমর্মে বলা হয় যে দুটি রাতের কোন্ রাতটি শ্রেষ্ঠতর - কদরের রজনী, না মীলাদুন্নবী (দ:)-এর রাত, (এ প্রসঙ্গে) আমার উত্তর হলো, কদরের রাতের চেয়ে তাঁর বেলাদতের রাত শ্রেষ্ঠ তিনটি ক্ষেত্রে:

প্রথমতঃ হুযূর পূর নূর (দ:)-এর বেলাদতের রাত হচ্ছে তাঁরই মহিমান্বিত আবির্ভাবের রাত, অথচ কদরের রাত তাঁকে প্রদানকৃত। ওই রাত, যা নিজ উচ্চমর্যাদার কারণ তথা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লামের প্রকাশ (বেলাদত)দ্বারা সম্মানিত হয়েছে, তা সেই রাত অপেক্ষা শ্রেয়তর হবে, যেটা রাসূল (দ:)-এর কারণে প্রদত্ত সূত্রে সম্মানিত হয়েছে। আর এবিষয়ে কোনো ধরনের মতপার্থক্য-ই নেই। অতএব, এক্ষেত্রে তাঁর বেলাদতের রাত শ্রেষ্ঠতর।

দ্বিতীয়তঃ কদরের রাত সম্মানিত, কেননা ফেরেশতাবৃন্দ ওই রাতে অবতীর্ণ হয়েছিলেন; অপরদিকে, মীলাদুন্নবী (দ:)-এর রাত সম্মানিত, কেননা এটা ধরাধামে তাঁরই শুভাগমনের রাত। যেহেতু তিনি ফেরেশতাদের চেয়ে শ্রেষ্ঠতর, সেহেতু মওলিদুন্নবী (দ:)-এর রাত কদরের রাতের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। আর সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও (অধিকাংশ সুন্নী উলামার) সমর্থিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তাঁর মীলাদের রাত-ই শ্রেষ্ঠতর।

তৃতীয়তঃ কদরের রাতের যে ফযীলত, তা (খাসভাবে) উম্মতে মুহাম্মদীয়ার জন্যেই। পক্ষান্তরে, তাঁর বেলাদতের রাতে যে ফযীলতপ্রাপ্তি হয়েছে, তা সকল অস্তিত্বশীল প্রাণি/বস্তুর জন্যে। তাঁকেই সর্বশক্তিমান আল্লাহ পাক সারা বিশ্বজগতের জন্যে আপন করুণাস্বরূপ প্রেরণ করেন; ফলে এ আশীর্বাদে অন্তর্ভুক্ত সমগ্র সৃষ্টিকুল, আর তাঁর মীলাদের রাতটিও এ বৃহত্তর কল্যাণ ধারণ করে আছে। অতএব, এক্ষেত্রেও এই রাত কদরের রাতের চেয়ে শ্রেষ্ঠতর। [আল-কসতলানী প্রণীত ‘আল-মাওয়া’হিবুল লাদুন্নিয়া বিল-মিনাহিল মুহাম্মদিয়া’, ১:১৪৫; শায়খ আবদুল হক্ক দেহেলভী কৃত ‘মা’ সাবাতা মিনাল-সুন্নাহ ফী আইয়া’মিল সানা’, ৫৯-৬০ পৃষ্ঠা; আল-যুরক্বানী রচিত ‘শরহে মাওয়া’হিবুল লাদুন্নিয়া’, ১:২৫৫-২৫৬; এবং ইমাম আল-নাবহানী লিখিত ‘জওয়া’হিরুল বিহার ফী ফাযা’ইলিল নাবী-ইল-মুখতার’, ৩:৪২৪]

(চলবে)
 ·  Translate
1
Add a comment...
Work
Occupation
Consultant Translator
Employment
  • Mitra & Associates
    Translator, 22
Basic Information
Gender
Male
Other names
Lincoln
Places
Map of the places this user has livedMap of the places this user has livedMap of the places this user has lived
Currently
Dhaka, Bangladesh
Links
Contributor to