Profile cover photo
Profile photo
Imrul Hassan
1,407 followers -
কবি।
কবি।

1,407 followers
About
Communities and Collections
View all
Posts

Post has attachment
Add a comment...

Post has attachment
Add a comment...

Post has attachment
Add a comment...

Post has attachment
।। আয়না ও চুল ।।

ছোটবেলা থিকাই শক্ত কইরা চুল বাঁধার অভ্যাস শি’র। যার ফলে চুলের মাঝখান দিয়া পায়ে হাঁটার বাদামী পথ। স্ক্যাল্প দেখা যায়। দুই-একটা খুশকি’র মতো হাঁটি আমি। এমন নির্জন পথ। গরমের দিনের সন্ধ্যার উতলা বাতাস। হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত হয়া একটা সময় শি’র সাথে কাঠের বাড়িতে বসে থাকি। দমকা হাওয়া হঠাৎ। কাল বৈশাখী হবে নাকি? শি জিগায় আমারে। জানালা দিয়া দেখলাম বাইরে। বললাম, না, পশ্চিমের মেঘে কোনদিন বৃষ্টি হয় না।

এমনিতেও যখনই কোন কাজ থাকে না তখনই চুল বাঁধে শে। আজকে ত তেলে জবজব চুল। বেণী করা একটা। একলা। নিঃসঙ্গ। একা একটা পিঠের ওপর ঝুলে আছে। কি যে খারাপ লাগতেছে তার। কালো বেদনা। মেঘের। সামনে ধইরা রাখা আয়না আমি। শি’র নিঃসঙ্গতা দেখি। চুলের ভিতর বিত্রস্ত পথে হাঁইটা যাই। প্রতিটা চুলের গোড়ায় গন্ধ নেই। জবাকুসুম তেল গো আমার, জবাকুসুম তেল! পিছলা যে গো কালা আমার, সুবাসে বান্ধিয়েন! ‘চুল ত দেখি আমার আয়নার গান গায়’। শি হাসতে হাসতে কয়।
Add a comment...

Post has attachment
বাংলা একাডেমি পুরষ্কার

১৪.৪.৬৯

১৪ এপ্রিল ১ তারিখে, ’৬৮ সালের বাংলা একাডেমী পুরষ্কার প্রাপ্তদের নাম প্রকাশিত হয়। তার মধ্যে আমার নামও দেখলাম। ডায়েরিতে লেখা আছে, “মাঝে মাঝে ভেবেছি বাংলা একাডেমী পুরষ্কার গ্রহণ করব না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত গ্রহণ করলাম। প্রধান কারণ দু’হাজার টাকা। দু’হাজার টাকার মধ্যে এক হাজার টাকা ব্যয় করলে আমার জন্য লেখাপড়ার একটি ঘর নির্দিষ্ট এবং মোটামুটি সুসজ্জিত ও আরামদায়ক করতে পারি। বাকি এক হাজার টাকা পারিবারিক বাসগৃহের দরজা-জানালা মেরামত এবং ছাপড়ার উপরটা ঠিকঠাক করার কাজে ব্যয় করলে বৃষ্টিবাদলের ঝাপটা থেকে রক্ষা পেতে পারি। এই হচ্ছে আমাদের জীবন। ৫৮ অতিক্রম করে ৫৯-এ পড়েছি। এখন পর্যন্ত দু’হাজার টাকা বর্জন করার ক্ষমতা অর্জন করতে পারলাম না। অথচ চোরচোট্টা বদমাশ এবং জালেম মোনাফেকদের টাকা পয়সা ও স্বাচ্ছল্য সীমাহীন।

দ্বিতীয় কারণ কিছুটা মানসিক দুর্বলতাও বটে। কিন্তু বাংলা একাডেমীর চাকরিতে নিযুক্ত না থাকলে এবং দু’হাজার টাকাকে মূল্যবান জ্ঞান করতে না হলে এই মানসিক দুর্বলতা অবশ্যই পরিহার করতে পারতাম। এরূপ মনের জোর ছিল এবং আছে।…

(প. ৩৯১)
Add a comment...

Post has attachment
ক্ষমা

বারবার তোমাকে ক্ষমা করি আমি
যদি কালো পাথরের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতাম
তাহলে সে ছুটতো ঝর্ণার মতো শাদা কন্ঠস্বরে ।
যদি কুকুরকে ছুঁয়ে দিতো আমার দু’হাত
তাহলে সে হতো মানুষের ছোটো ভাই ।
ক্ষমা করার জন্য আকাশের দিকে তাকালে
মুক্তি পেতো খুচরা পয়সার মতো ঝমঝমে তারা;
প্যারেক থেকে প্যাঁচ খুলে মশারির চিকন দড়ি কালসাপ হয়ে
ফিরে যেতো মায়ের ই কোলে।
বারবার ক্ষমা করি আমি তোমাকে, বার-বার ।

(শুধু টের পাই আমি; ২০০৭)
Add a comment...

Post has attachment
ভালো-বিচার

এক পরিচিত আইসা নবীজিরে কইলো, “কেন যে এইরকম হয়, কোন বিজনেস ডিল করতে গেলেই আমি কেন ধরা খাই? পুরা যাদুর মতো ঘটনা ঘটে। ব্যবসার কথা কইতে কইতে আমি আউলাইয়া যাই আর ভুল ডিসিশানগুলি নিয়া নেই।” মুহাম্মদ উত্তর দিলেন, “প্রত্যেকটা ডিলিংয়ের সময় তুমি ডিসিশান নিতে তিনদিনের সময় নাও।” ধীরতা হইলো খোদাতালার একটা গুণ। একটা কুত্তার দিকে একটাকিছু ছুঁইড়া মারো, দেখবা সে আগে শুঁইকা দেখবো, এইটা সে চায় কিনা। এইরকম সাবধানী হও। তোমার জ্ঞানের নাক দিয়া শুঁইকা নাও আগে। ব্যাপারটা বুঝো। তারপরে ডিসাইড করো। এই দুনিয়া পয়দা হইছে ছয়দিন ধইরা। খোদাতালা জাস্ট বইলা দিতে পারতো যে, হও!

ধীরে ধীরে একটা মানুষ চল্লিশে পৌঁছায়, চল্লিশ থিকা পঞ্চাশ, পঞ্চাশ থিকা ষাইটে যায়, আর সে কমপ্লিট ফিল করতে থাকে। খোদাতালা চাইলে নবুওয়ত পাওয়া নবীদেরকে এক মুর্হূতে সাত আসমান থিকা উড়ায়া পাঠাইয়া দিতে পারতেন দুনিয়ায়। যিশু একটা কথা কইছিলেন, আর তাতেই একটা মরা মানুষ উইঠা বসছিলো, কিন্তু ক্রিয়েশন ধীরে ধীরে আনফোল্ড করে, যেমনে ঝিনুক নিজেরে ভাঙে।

স্থির থাকা, আস্তে আস্তে চলা আমাদেরকে ছোট্ট একটা খাড়িতে কাজ করা শিখায় যার পানি টলটলা, যেইটা কখনো আটকাইয়া থাকে না, যেইটা ইচ্ছাকৃতভাবেই নানান দিকে চলে। ভালো বিচার আসে একটা আনন্দ থিকা, যেইভাবে একটা ডিম থিকা একটা পাখি বাইর হয়। পাখিগুলা দেখতে ডিমের মতোন না! ভাইবা দেখো, ডিম ফাটার পরের ঘটনাটা কি রকম আলাদা। একটা সাদা চামড়ার সাপের ডিম, একটা চড়ুইয়ের ডিম; একটা নাশপাতির বীজ, একটা আপেলের বীজ: কতো আলাদা জিনিস অথচ একটা স্টেইজে একইরকম দেখায়। এই পাতাগুলি, আমাদের শরীরের পার্সোনালিটিগুলি একইরকম মনেহয়, কিন্তু আত্মার দুনিয়ায় যেই ফল আমরা বানাই, প্রতিটাই অসাধারণ এক একটা জিনিস।
Add a comment...

Post has attachment
আফ্রিদা তানজিমের পেইণ্টিংস।
Add a comment...

Post has attachment
"রেখাপা কোন জবাব না দিয়ে ইঙ্গিতে, ‘কোন অসুবিধা নাই আলাপ করা যাবে’ জানালে আরেকদিক থেকে একজন জিজ্ঞেস করে, ‘আপনে কি সাংবাদিক? কি ধরনের ফিচার লেখবেন? ফিচারের নাম কি? কর্মজীবী হিরনচী?
লোকটার কথায় মাথায় রক্ত চড়ে গেলেও, একমাত্র ইশ্বরই জানে কীভাবে লোকটা আমার গালির হাত থেকে সে বাঁচলো, তাও আবার মাল খাওয়ার পর মানসিকভাবে যখন আমি চেঙ্গিস খান।

শান্তভাবে, কন্ঠস্বরে আমার ভেতরের রক্ত টগবগ করা রাগ সামান্য বুঝতে না দিয়ে, আড়চোখে রেখাপার ব্যথিত চোখজোড়া একবার মুহুর্তের ভগ্নাংশের জন্য দেখে নিয়ে, আমি লোকটাকে বলি, ‘শোনেন ভাই এখানে যে ১৫/১৬ জন আছে তারা সবাই-ই কর্মজীবি হিরনচী, পার্থক্য শুধু চোর আর গাঁটকাটার । কেউ ভীড় বাসে কাজ করে, কেউ ভিক্ষুকের বেসে ভদ্রলোকদের বাসায় ভাত চাইতে গিয়ে সুযোগ বুঝে কাজ করে। এমনও আছে ৮/১০ বাসায় ঘুরে ঘুরে ভাত ভিক্ষা করে, আড্ডায় এসে ৭/৮ টাকায় প্যাকেজ বিক্রি করে, সেই টাকায় মাল খায় ─ কর্মজীবী, হঁহ্। আপনেত সিনজিতে ফিটিং দেন। (লোকটাকে আমি আগে থেকে চিনতাম। একদিন আড্ডায় পাশাপাশি বসে মাল খাওয়ার সময় লোকটা তার পাশের বন্ধুর সাথে কিভাবে ‘সিনজি নির্জন গলিতে নিয়ে ছিনতাই করে টাকা নিয়ে নেয় সে গল্প করছিল। আমি পাশ থেকে শুনছিলাম। অবশ্য সেও আমাকে চেহারায় চিনে, তবে পেশা জানেনা) ঐটাও কর্ম। কাজের হিসাব করলে আপনার চেয়ে ১০ গুণ বেশী মর্যাদাবান কাজ করেন উনি। ‘কর্মজীবি হিরনচীর’, কাজেই, ইন্টারভিউ নিতে হলে আগে আপনারটা নিতে হয়, বুঝছেন? সিএনজির ব্যাপারটা আমি কিভাবে জানি এটা ভেবে সম্ভবত লোকটা বিস্মিত, বাকরুদ্ধ হয়ে গিয়েছিল। বেশ কিছুক্ষণ চুপ থেকে লোকটা জিগ্যেস করে, আমার কথায় সবাই হেসে উঠেছিল বলে কিছুটা লজ্জ্বিত ভঙ্গিতে, না, মানে কী নিয়া ফিচার লেখবেন সেইটা জিগাইছিলাম আর কী’।

সেটা ভালভাবে বললেই হয়, আমার ফিচার হবে ‘কর্মজীবী নারী’, মানে কাজ করতে গেল মেয়েদের বিশেষ করে উনার কী কী অসুবিধা হয়, সরকারের কাছে তাদের কোন দাবী আছে কি না এইসব নিয়ে। এছাড়া ফজলে হাসান আবেদ বা খুশী কবির, এদের কাছ থেকে কি করলে সমাজের এই সেন্টারের উন্নতি হবে সে ‘ব্যপারেও কমেন্ট থাকবে। ক্রেতাদের আচরণ সুন্দর না কুৎসিত এই সব নিয়ে।’ লোকটা আর প্রশ্ন করে না, চুপ করে থাকে।

/রেখাপা: একটি স্কেচ, Tariq Al Banna

http://bit.ly/1rq7ded
Add a comment...

Post has attachment
"সবগুলি আর্ট ইন্সটেলেশন দেইখা মনে হইতেছিল একটা ভার্চুয়াল দুনিয়ায় চইলা আসছি। একটাকিছু রিয়েল আছে কোথাও আর সেইটারে বেইস কইরা আমরা ঘুরতেছি এইখানে। বেশিরভাগ ছবিই ঘুরতেছে। মানে, রাখা আছে এক জায়গাতেই, ছবিগুলার সাবজেক্টে মুভিং ব্যাপারটা আছে। মুভিংটা মনেহয় পছন্দ আর্টিস্টদের; উনারা অ-স্থির, নতুন কিছু কইরা রেভিউলেশনই করতে চান, কিন্তু ডিলানের লাইক অ্যা রোলিং স্টোন গানটা বেশ পুরানই, ‘মান্ধাতার’ টাইপের ঘটনা এইখানে। উনাদের এই ঘুরাটা একটা জেট-লেগের মতোন, যাওয়া বা আসার ঘটনা না, যাওয়া বা আসার পরে, যেইটা কাটতেছে না পুরাপুরি। ঘুরতে যে ছিলেন সেই ঘোরটাতে ঘুরতেছেন উনারা। কেউ কেউ ইন্ডিভিজ্যুয়ালি, কেউ কেউ মেবি কালেক্টিভলি। এমনিতে সবাই ইয়াং। কেউ চারুকলায় পড়েন নাই বা পড়েন না। আর্ট মানে যে চারুকলা না, এইটা দেইখা ভালো লাগছে। ব্যাপারটা রিফ্রেশিং।"

/ইয়োলো সাবমেরিন: দ্য মিল্কশেক কালেক্টিভ
Add a comment...
Wait while more posts are being loaded