Profile

Cover photo
Abbas Tarafder
Attended Masters in Defence Studies
Lives in Dhaka
60 followers|119,099 views
AboutPostsPhotosYouTube+1'sReviews

Stream

Abbas Tarafder

Shared publicly  - 
 
This is my article on Chittagong Hill Tracts (CHT) on the occasion of completion of 17th year of CHT Peace Accord today.

পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিস্থিতির উপর আমার এই লেখাটি দৈনিক জনকণ্ঠে প্রকাশিত হয়েছে আজ চুক্তির ১৭ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে. প্রিন্ট কপির ৬ষ্ঠ পৃষ্ঠায়, ই-জনকণ্ঠ ভার্শনেরও ৬ষ্ঠ পৃষ্ঠায়. 
------------------------------------------------------------
আজ পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির ১৭ বছর পূর্তি ও ১৮ বছরে পদার্পণ করেছে। ১৯৯৭ সালের ২রা ডিসেম্বরে এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল বাংলাদেশ সরকার এবং পার্বত্য উপজাতি বা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠিগুলোর পক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (পিসিজেএসএস) এর মধ্যে। তখন সবাই আশা করেছিল, এই চুক্তি পাহাড়ি এলাকায় পার্বত্য ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠিগুলো দীর্ঘ দিনের সশস্ত্র সংগ্রামের ইতি ঘটিয়ে তাদের দেশের মূলস্রোতে নিয়ে আসবে, পাহাড়ে বাঙালি-নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠিরা মিলেমিশে বসবাস করবে, বইবে কাঙ্ক্ষিত শান্তির সুবাতাস। 

ঘৃণা ও বিদ্বেষ ছড়ানোর কারণে পাহাড়ি বাঙালিদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে অধুনা বন্ধ হয়ে যাওয়া ফেসবুক পেজ CHT-Jummaland থেকে উদ্ধৃতি দেয়া হল – 

'সেটেলারদের সাথে যুদ্ধ বাধিয়ে ফেলাই উত্তম কাজ হবে। কারণ, ...(৫টি কারণ)...বাংলাদেশ সরকারের অনেক টালবাহানা সহ্য করেছি, অতএব আর নই! সেটেলারদের সাথে যুদ্ধ করে হয় জীবন দেবো, না হয় পার্বত্য চট্টগ্রামকে সেটেলার মুক্ত অঞ্চলে পরিণত করবো!' কিংবা, 

'এত সুন্দর সুন্দর পর্যটন বানানোর দরকারটা কি? কয়েকদিন পরেইতো সকল দখলকৃত পাহাড়িদের জমির সাথে পর্যটনকেন্দ্রগুলো ফিরিয়ে দিয়ে সেনাবাহিনী ও সেটেলার বাঙ্গালীদের সমতলমুখী হতে হবে। পাহাড়ে পাহাড়িদের জন্য স্বায়ত্বশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। সমতল থেকে পাহাড়ে আসতে চাইলে পাসপোর্ট ভিসা নিয়ে পাহাড়ে আসতে হবে। আর সেই ভিসা যে সহজে সেটেলার ও সেনাবাহিনীকে দেয়া হবে না তা নির্দ্বিধায় বলা যেতে পারে।' 

উপরে দেয়া উদ্ধৃতি কোন বিচ্ছিন্ন স্ট্যাটাস নয়, পাহাড়ি ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠিগুলোর সার্বিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিচায়ক। পাহাড়ি নৃগোষ্ঠিগুলো ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ নিয়ে সরকার, পাহাড়ি বাঙালি ও সেনাবাহিনী তথা দেশমাতৃকার বিরুদ্ধে এক প্রকার যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে যা কোনভাবেই কাম্য ছিল না। ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১০ এ সামহোয়্যারইন ব্লগে ব্লগার ফিউশন ফাইভ 'পার্বত্য চট্টগ্রাম : ওয়েবে আমার বাংলাদেশ যেভাবে ধর্ষিত হচ্ছে প্রতিদিন' শিরোনামে এক অসাধারণ গবেষণামূলক পোস্ট দিয়ে দেখিয়েছিলেন তাদের বাংলাদেশবিদ্বেষী প্রচারণার বিবরণ। তখন ফেসবুক এত জনপ্রিয় ছিল না, এখন ফেসবুক ও বিভিন্ন অনলাইন পত্রিকায় এই ঘৃণা ও কুৎসাপিডিয়ার দৌরাত্ম্য আরও অনেক বেড়েছে। চক্ষুকর্ণের বিবাদভঞ্জনের জন্য এক নজর আদিবাসী নিউজ, Kapaeeng Foundation, CHTBDBLOG, VOICE OF JUMMALAND, Jumma Net, Jummapeoples, জুম্মো ব্লগ, Jumma Peoples Network UK, Genocide in Chittagong Hill Tracts, UNREPRESENTED NATIONS AND PEOPLES ORGANIZATION (UNPO), Human Rights Congress for Bangladesh Minorities (HRCBM), Asian Centre For Human Rights (ACHR) এর Asian Centre For Human Rights, Present Jummaland এবং নৃগোষ্ঠিগুলোর ফেসবুকের ব্যক্তিগতসহ পেজগুলোতে তাদের বক্তব্যে চোখ বুলানো যেতে পারে। পার্বত্য উপজাতি তথা নৃগোষ্ঠিগুলোর লেখালেখি বা ভাষ্যে তারা 'পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি'কে বলছে 'পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি'। খুব সচেতনভাবেই তারা 'শান্তি' শব্দটাকে বিলোপ করে দিয়েছে, স্পষ্টতই শান্তি শব্দটাকে তারা কখনও তাদের মনমানসিকতায় স্থান দিতে পারেনি বা হয়ত তারা শান্তি চায়ওনি! 

ভূমিবিরোধ ছাড়া সরকার প্রায় সকল চুক্তির ধারা বাস্তবায়ন করার পরও পাহাড়িদের পৌনঃপুনিক অভিযোগ ক্রমান্বয়ে বেড়ে চলেছে। এই ,ভূমিবিরোধের মূলে আছে পাহাড়ি গোষ্ঠির আদিম ভূমি-ব্যবস্থা, যা বাংলাদেশের সংবিধানে স্বীকৃত নয়, সংবিধানের সাথে সঙ্গতিপূর্ণও নয়। তারা জমি দাবি করে, কিন্তু তার স্বপক্ষে দখলদারিত্বের প্রমাণ দেখাতে পারে না, দলিলতো নয়ই। স্মর্তব্য যে, ১৯৬৫ সালে CHT Regulation of 1900 এর ৩৪ ধারা রহিত করা হয়, ফলে ১৫ বছরের অধিককাল যাবত বসবাসরত অউপজাতিদের জমির মালিকানার অনুমতি দেয়া হয় – বাঙালিদের তাই অধিকাংশের রয়েছে মালিকানার সরকারি দলিল। অন্যদিকে পাহাড়ি নৃগোষ্ঠি মালিকানার হাওয়াই দাবি করতে গিয়ে নানা স্থানে বনবিভাগের জমি দাবি করে বসছে, কোথাওবা খাস জমি, কোথাওবা অন্য বাঙালির জমি। কখনওবা ভুলে, কখনওবা মিথ্যা লোভে। পাশাপাশি তারা কাজ করে যাচ্ছে বাঙালি খেদানোর বিদ্বেষী এজেন্ডা এবং এরই আলোকে হঠাৎ উদ্ভাবিত আদিবাসী পরিচয়ের স্বীকৃতির ষড়যন্ত্রী ইচ্ছা। মূলত নৃগোষ্ঠিগুলোর বিরোধিতার কারণেই বারংবার ভূমিবিরোধের কোন সুরাহা হয়নি। এইখানে বাঙালি-নৃগোষ্ঠি সকলকে সাংবিধানিক নিয়মের আওতায় আসতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন সকলের সমতাভিত্ত্বিক সততা ও ত্যাগের মনোভাব, সর্বোপরি, শান্তি প্রতিষ্ঠার আন্তরিক ইচ্ছা। এছাড়া, চাকমাদের মূল ক্ষোভের কারণ যে কাপ্তাই জল-বিদ্যুৎ প্রকল্প, তা-ও পাকিস্তান শাসনামলের ঘটনা, এর দায়দায়িত্ব বাংলাদেশ সরকারের উপর বর্তায় না, এখানে সরকারকে দোষারোপ করে কোন ফলপ্রাপ্তি নেই, বরং তিক্ততা ও অবিশ্বাস বাড়বে, শান্তির পরিবেশ বিনষ্ট হবে। এই সমস্যার সমাধানে বাঙালি-নৃগোষ্ঠি সকলকে অসৎ নেতৃত্ব থেকে বেড়িয়ে এসে নিজেদের মধ্যে ঐক্য গড়ে তুলতে হবে এবং সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্পকে জলাঞ্জলি দিতে হবে। পাহাড়ি নৃগোষ্ঠিকে বুঝতে হবে, অনেক বিরোধিতা সত্ত্বেও শান্তিচুক্তিতে তাদের সকল ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার মেনে নিয়ে তৎকালীন সরকার সাহসের সাথে চুক্তি করেছিল পাহাড়ের প্রায় অর্ধেক বাঙালি জনগোষ্ঠি তথা 'জাতীয় স্বার্থ বিসর্জনের অভিযোগ' তুচ্ছ করে শুধুমাত্র শান্তি আনার লক্ষ্যেই (০২ রা ডিসেম্বর ১৯৯৭ তারিখে বিবিসির সংবাদদাতা ফ্রান্সেস হ্যারিসনের রিপোর্ট দ্রষ্টব্য) এবং উপজাতীয় সংস্কৃতির স্বীকৃতির মাধ্যমে সাংবিধানে প্রতিফলিত হয়েছিল এমএন লারমার স্বপ্ন। 

শান্তিচুক্তির পরও সেখানে রয়েছে অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি, বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র মজুদ রয়েছে সন্ত্রাসী গোষ্ঠিগুলোর কাছে। বেড়েছে পাহাড়ি সন্ত্রাসীর গোষ্ঠির সংখ্যা আর তাদের তৎপরতা হয়েছে আরও অবাধ। চাঁদাবাজির ব্যাপ্তি বেড়েছে বহুগুণে। বছরে সেখানে চাঁদাবাজির পরিমাণ প্রায় ৪০০ কোটি টাকা বলে অনুমান করা হয়। বাঙালিরা এখনও তাদের জমিতে দল না-বেঁধে যেতে পারে না, অনেক স্থানেই তারা বন্দি গুচ্ছগ্রামের মানবেতর, নিগৃহীত জীবনে। তারা আপোষে চাঁদা দিচ্ছে অথবা অপহৃত হচ্ছে অথবা আহত-নিহত হচ্ছে, উৎখাত হচ্ছে ঘরবাড়ি ও জমিজিরাত থেকে। ২০১৪ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৪৮ জন নিহত হয়েছে, ১২৬ জন আহত হয়েছে, ৮৭ জন অপহৃত হয়েছে, ৪৪টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে যার প্রায় সবগুলোর দায়দায়িত্ব পাহাড়ি সন্ত্রাসী গোষ্ঠির। শান্তিচুক্তির শর্ত স্পষ্টতই লঙ্ঘিত হয়েছে, হচ্ছে। শান্তিচুক্তিতে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলো অস্ত্র সংবরন ও সন্ত্রাস বন্ধের ওয়াদা করেছিল – সেই অস্ত্র সংযত না হলে, সন্ত্রাস বন্ধ না হলে এই শান্তিচুক্তি অর্থহীন ও অকার্যকর হয়ে পড়বে। কেননা, কোন চুক্তিই কখনও একপক্ষীয়ভাবে পালিত হয় না, চুক্তি মানার সব দায় সরকারের না - পার্বত্য জাতিগোষ্ঠিকেও চুক্তির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে, নিজেদের করণীয়ের দায় নিতে হবে। দৃশ্যত শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করার জন্য পার্বত্য নৃগোষ্ঠির প্রতিনিধিত্ব করার ক্ষেত্রে সন্তু লারমা উপযুক্ত একক ব্যক্তিত্ব ছিলেন না - পার্বত্য নৃগোষ্ঠির একটি বড় অংশ শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের সময় থেকে অদ্যাবধি শান্তিচুক্তির বিরোধিতা করে এসেছে ও করছে এবং সর্বশক্তি দিয়ে শান্তি স্থাপন প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলছে। এমনকি, বর্তমানে সেই বিরোধিতা আরও দল ও মতে বিখন্ডিত হয়েছে; পাহাড়ে আগে অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, চাঁদা আদায়, হত্যাকারী ছিল শুধুমাত্র একটি আঞ্চলিক দল, আর এখন তা দাঁড়িয়েছে তিন গ্রুপে – সন্তু লারমার অবস্থান আরও দুর্বল হয়েছে। এই সন্ত্রাসের শিকার সবাই পাহাড়ের নিরীহ, নিরস্ত্র বাঙালি। পার্বত্যাঞ্চলে সেনাক্যাম্পগুলো ক্রমাগত কমে এসেছে এবং অনেক পরিত্যক্ত ক্যাম্পেই ঠাঁই নিয়েছে সশস্ত্র পাহাড়ি সন্ত্রাসী গোষ্ঠি। আধিপত্যকামী পাহাড়ি সন্ত্রাসী গোষ্ঠিগুলো চাঁদার মাধ্যমে এবং বিদেশী ষড়যন্ত্রকারী মহলের অনুদানের অর্থে নিয়মিত ভারত ও মায়ানমারের রুট দিয়ে অস্ত্র নিয়ে আসছে। বস্তুত বিজিবি ক্যাম্পবিহীন অরক্ষিত ৪৫ কিমি দীর্ঘ পার্বত্য সীমান্ত দিয়ে অস্ত্র আনা তেমন কোন কঠিন বিষয় নয়। গত বছর বিষয়টি নজরে আসে কতিপয় চাকমা সন্ত্রাসী কর্তৃক এমনই এক অস্ত্রের চালান ভারতের আসাম রাইফেলস ও মিজোরাম পুলিশ কর্তৃক আটকে দিয়ে চারজন বাংলাদেশী চাকমাকে গ্রেফতার করার মধ্য দিয়ে (আসাম ট্রিবিউন-এ ১৩ জুলাই ২০১৩ তারিখে আর দত্ত চৌধুরী লিখিত Smuggling of weapons from Myanmar worries authorities রিপোর্ট দ্রষ্টব্য)। এ ব্যাপারে তথাকথিত বুদ্ধিজীবিদের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এমন একটি ব্যাপক নৈরাজ্যময় সশস্ত্র কার্যক্রমের পরও পাহাড়ের সব সেনাক্যাম্প সরিয়ে নেয়ার দাবি কতটা যৌক্তিক, তা পাহাড়ি নৃগোষ্ঠিকেই সুবিবেচনা করে দেখতে হবে। এটি একটি ধারাবাহিক কার্যক্রম, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠিগুলো তাদের অস্ত্র, গোলাগুলি, সশস্ত্র ক্যাম্প স্থাপন, চাঁদাবাজি, অপহরণ, খুন-জখম ইত্যাদি বন্ধ না করলে সব সেনাক্যাম্প কোন যুক্তিতেই গুটিয়ে নেয়া যায় না। পার্বত্যাঞ্চলে দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় তিন যুগ ধরে ঘাম ও রক্তের বিনিময়ে সেনাবাহিনীর অর্জিত সাফল্য কিছু সশস্ত্র সন্ত্রাসীর দাবির কাছে বিলিয়ে দেয়া য়ায় না – এটি নিশ্চিতভাবেই দেশবাসী তথা সরকারের ঐকান্তিক ইচ্ছা। 

পার্বত্যাঞ্চলে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠিদের সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা খুবই শক্তিশালী, তাদের রয়েছে নিরঙ্কুশ আধিপত্য, বাঙালিদের প্রতিনিধিত্ব সেখানে নিতান্ত সংখ্যালঘু – এই ক্ষমতাকে অনেক সময় তারা পরিণত করেছে বাঙালি দলন-নিপীড়নের হাতিয়ার হিসাবে। গোষ্ঠি ও সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষতাড়িত হয়ে তারা যখন বাঙালি অধ্যুষিত এলাকায় রাস্তাঘাট নির্মাণ বা স্কুল প্রতিষ্ঠাকে পদে পদে আটকে দেন কিংবা বাঙালি পাড়া বা সেনাক্যাম্পে বিদ্যুতের লাইন দেয়ার বিরোধিতা করেন, সেটা ভূক্তভোগীদের নাগরিক অধিকারকে খর্বই শুধু করে না, বরং শান্তিচুক্তিকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে দেয়। 

শান্তিচুক্তির পরে সরকার পাহাড়ে ব্যাপক উন্নয়ন করেছে। একই সাথে ইউএনডিপি, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, এডিবি এবং প্রায় ১৫৩টি এনজিও ও বিভিন্ন উদ্যোক্তা সড়ক যোগাযোগ ও অন্যান্য অবকাঠামো, স্কুল, স্বাস্থ্য ও স্যানিটেশন, পর্যটন এবং চাকুরির সুযোগ সৃষ্টির ক্ষেত্রে যে উন্নয়ন করেছে তা বাংলাদেশের অন্য যে কোন স্থানের উন্নয়নের হারের চেয়ে অনেক বেশি। পার্বত্য চট্রগ্রামে সেনাবাহিনী কর্তৃক বাস্তবায়তি উন্নয়ন কর্মকান্ডের প্রায় ৯৫ শতাংশই নৃগোষ্ঠিদের উন্নয়নের জন্য পরিচালিত। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে প্রতিটি উপজাতীয় এলাকায় নির্মিত হয়েছে স্কুল-কলেজ, কিয়াংঘর, উপজাতীয় ছাত্রাবাস, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে নৃগোষ্ঠিদের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ইত্যাদি। বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রামে নৃগোষ্ঠি জনসংখ্যা ৬,৯৯,১৯৪ এবং বাঙালি জনসংখ্যা ৬,৪৫,১০৯ জন – অর্থাৎ উভয় জনগোষ্ঠি প্রায় সমান সমান। কিন্তু এক সমীক্ষায় দেখা যায় যে, পার্বত্যাঞ্চলে জ্ঞাত ১০৯ টি এনজিওর কার্যক্রমের মধ্যে শুধুমাত্র বাঙালি জনগোষ্ঠিকে লক্ষ্য করে উন্নয়ন কার্যক্রম গৃহীত হয়েছে মাত্র ৩টি, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠির জন্যে হয়েছে ৪৫টি এবং বাকি ৬১টি যেগুলো উভয় গোষ্ঠির জন্যে হয়েছে, সে সবের বাস্তব আওতা মূলত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠিকে কেন্দ্র করেই। অন্যদিকে শিক্ষা ও সরকারি চাকুরির ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ করে উপজাতি কোটা ভোগ করছে এই ১ শতাংশ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠি, যার বড় অংশ ভোগ করে এককভাবে চাকমারা। ফলে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠি, বিশেষ করে চাকমারা শিক্ষাদীক্ষা ও চাকুরির ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময়কাল ধরে সুযোগসুবিধাভোগী হয়ে সকল ক্ষেত্রে অগ্রসর জনগোষ্ঠিতে পরিণত হয়েছে। পার্বত্য চুক্তি করে উপরোক্ত সকল একপক্ষীয় সুযোগ-সুবিধা দেয়া হলেও জেএসএস নেতা সন্তু লারমা এখনও দাবি তুলছেন, – ১) সাড়ে তিন লক্ষ বাঙালি অধিবাসীকে পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে সরিয়ে নেয়ার, ২) পার্বত্য বাঙালি দেরকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেয়ার, ৩) সমস্ত নিরাপত্তা ক্যাম্প তুলে নেয়ার, ৪) সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সেনা-অভিযান পরিচালনা না করা ইত্যাদি। অন্যদিকে আছে বাঙালিদের জন্য স্বাধীন দেশের স্বাধীন নাগরিক হিসাবে বেঁচে থাকার নানা অবমাননাকর নিষেধাজ্ঞা ও বিড়ম্বনা। বাঙালিরা এখন আওয়াজ তুলছে যে, নিজ বাসভূমে দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক হয়ে পড়ার যে আশংকা তারা শান্তিচুক্তিকালে করেছিল তা সত্য হতে চলেছে। শান্তিচুক্তির শুরুতেই বলা হয়েছে, '...গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের আওতায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার প্রতি পূর্ণ ও অবিচল আনুগত্য রাখিয়া ...চুক্তিতে উপনীত হইলেন'। পার্বত্য নৃগোষ্ঠিরা চুক্তির বাস্তবায়নের দাবি আদায় করতে গিয়ে নিজেদের করণীয়ই শুধু ভুলে যান না, সংবিধানের আওতার প্রতি পূর্ণ ও অবিচল আনুগত্য রাখার ব্যপারটিও সচেতনভাবে ভুলে থাকেন। তাদের সাংঘর্ষিক দাবি মেটাতে গিয়ে পাহাড়ের বাঙালির ক্ষেত্রে সংবিধানের ১৯ নম্বর (সুযোগের সমতা), ২৭ নম্বর (আইনের দৃষ্টিতে সমতা), ২৮ নম্বর (ধর্ম প্রভৃতি কারণে বৈষম্য) অনুচ্ছেদ বলি দিতে হচ্ছে। চুক্তি বাস্তবায়নের যে কোন সাংঘর্ষিক পরিস্থিতিতে 'সংবিধানের আওতা'-এর কাছে প্রত্যাবর্তনই আইনের শেষ কথা – সংবিধানের সার্বভৌমত্বের প্রতি এই আনুগত্য স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের সকল নাগরিকের অঙ্গীকার। 

দেশের একটি প্রধান কর্পোরেট প্রিন্ট মিডিয়া ও চিটাগং হিল ট্রাক্টস কমিশন (সিএইটি কমিশন)-এর সহযোগিতায় উপজাতি শব্দতে পাহাড়ি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠিরা সাম্প্রতিক সময়ে আপত্তি জানাচ্ছে 'উপ' প্রত্যয়টি তাদের জাতিগত তুচ্ছতার প্রকাশ বলে (যদিও ইংরেজিতে ট্রাইব বললে 'উপ' প্রত্যয়ের বিষয়টি থাকে না)। তাদের এই আপত্তি মেনেই সরকার তাদের জাতিগত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠি বলে স্বীকৃতি দিয়েছে - সরকারের এই অবস্থান খুবই যথাযথ। রাজা ব্যারিস্টার দেবাশিষ রায় 'পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সমতলের ক্ষুদ্র জনসংখ্যার জনগোষ্ঠিসমূহকে কেন আদিবাসী হিসাবে অভিহিত করা উচিত' জাতীয় নানান ভাষায় প্রবন্ধ-নিবন্ধ লিখে যাচ্ছেন মূলত গত দুই দশক ধরে বিভিন্ন সময়ে বিচ্ছিন্নভাবে কিছু সরকারি প্রজ্ঞাপন ও নথিতে কিছু আদিবাসী শব্দের উল্লেখের বরাত দিয়ে। তিনি ভাল করেই জানেন, উপজাতি, আদিবাসী, নৃগোষ্ঠি ইত্যাদি শব্দগুলো ইংরেজি প্রতিশব্দের হুবহু অর্থবহ অনুবাদ নয় এবং এতদিন এগুলোর সার্বজনীন, সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা ছিল না, বরং কখনও কখনও একটিকে অন্যটি দিয়ে উল্লেখ করা হত। এই শব্দগুলোর আইন-সচেতন ব্যবহার খুবই সাম্প্রতিক ঘটনা। 

জাতিসংঘের অধিভূক্ত প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) এর Indigenous and Tribal Peoples Convention, 1989 (No. 169)-এর আর্টিকল ১ এর (a) অনুসারে 'একটি দেশের মূল জনগোষ্ঠী থেকে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিকভাবে ভিন্নতর যারা যাদের নিজস্ব ঐতিহ্য, কৃষ্টি ও আইন দ্বারা সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে পরিচলিত, তারা হল উপজাতি'। এখন আইএলও’র এই সংজ্ঞার আলোকে যদি আমরা বাংলাদেশের চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা ও অন্যান্যদের সাথে বিচার করি তাহলে পরিষ্কার বোঝা যায় এরা উপজাতি। অন্যদিকে, ঐ কনভেনশনের আর্টিকেল ১ এর (b) অনুসারে 'যারা একটি নির্দিষ্ট রাষ্ট্রে বংশানুক্রমে বসবাস করছে বা অধিকৃত হওয়া ও উপনিবেশ সৃষ্টির পূর্ব থেকে বসবাস করছে এবং যারা তাদের কিছু বা সকল নিজস্ব সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও আইনগত অধিকার ও প্রতিষ্ঠানসমূহ ধরে রাখে'। অর্থাৎ, কোন জনগোষ্ঠি যদি মানুষের জ্ঞাত ইতিহাসপূর্ব অর্থাৎ প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে কোন এলাকায় বংশপরস্পরায় বসবাস করে থাকে এবং তা অন্যান্য জনগোষ্ঠির ইতিহাসে লিপিবদ্ধ সময়কালে তাদের আগমন ও বসতি স্থাপনের পূর্বে বলে প্রমাণিত হয়, তাহলে তাদেরকে ঐ এলাকার আদিবাসী হিসেবে গন্য করা হবে। 

জাতিসংঘের আদিবাসীর সংজ্ঞায় বাংলাদেশের পার্বত্য ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠিরা কোন অজুহাতে নিজেদের আদিবাসী দাবি করতে পারে না, এর ঐতিহাসিক ও নৃতাত্ত্বিক কোন সত্যতা, বাস্তবতা নেই। এই জনপদে হাজার বছর ধরে বাঙালিরা ছিল, আছে – বাঙালিরাই এ মাটির ভূমিপুত্র। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠির আগমনের আগে পার্বত্য চট্টগ্রাম সুবে বাংলার অর্থাৎ বাংলাদেশের তথা ৯৯ শতাংশ বাঙালির অধীনে ছিল। এ ব্যপারে বিশিষ্ট সেকুলার বুদ্ধিজীবী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের প্রফেসর, বাংলা একাডেমীর সাবেক মহাপরিচালক, বর্তমানে ডেইলি সান পত্রিকার সম্পাদক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন লিখেছেন, 'বেশিরভাগ উপজাতি জনগোষ্ঠি এই এলাকায় মায়ানমার (সাবেক বার্মা) থেকে ১৫ শতক থেকে মধ্য-১৯ শতকে এসেছে। এই উপজাতিরা কুকি গোষ্ঠির অন্তর্ভুক্ত যারা প্রথমদিকের বসতি স্থাপনকারী, এবং চাকমারা এসেছে আরও পরে' (ওয়ার এন্ড পিস ইন দ্য চিটাগং হিল ট্র্যাক্টস, পৃষ্ঠা ৫, প্রকাশক – আগামী প্রকাশনী, ১৯৯৯)। সতেরো শতকেই আদি বাঙালিরা চাষাবাদ ও বসবাসের উদ্দেশ্যে পাহাড়ে যেতে শুরু করেছে। পাহাড়ি এলাকায় বাঙালিদের জনবসতি অবশ্য সমতলের মত ঘনবসতিপূর্ণ ছিল না। এমনকি, বাস্তবে কোন বাঙালি বসতি না থাকলেও এই সুবে বাংলাভূক্ত এলাকা বাঙালিদেরই। বাঙালি জাতিগোষ্ঠির পাহাড়ি এলাকার জমিজিরাত অনাবাদি, পড়ো হয়ে থাকলেই বাঙালির মালিকানা খারিজ হয়ে যায় না। বহু শতাব্দী ধরে বাঙালির মালিকানার বিষয়টি বাদ দিলেও জাতিসংঘের আদিবাসী সংঙ্ঘার 'প্রাগৈতিহাসিক কাল'-এর শর্তই তারা পূরণ করতে পারে না। আর চাকমারা বার্মার অজ্ঞাত চম্পকনগর থেকে তাড়া খেয়ে কয়েক শতাব্দি আগে এই পার্বত্য এলাকায় এসে এই ভূখন্ডে বসত স্থাপন করায় করায় তারা বাংলাদেশের নাগরিকত্বের দাবিদার বটে, কিন্তু কোন যুক্তিতে তারা আদিবাসী বলে দাবি করতে পারেনা। চাকমারা এই জনপদে বাঙালি উচ্ছেদ করে সেটেলার হয় নাই বরং বাঙালিদের অনাবাদি-পড়ো জমিতে বসতি গড়েছে একথা যেমন সত্য, একইভাবে বাঙালিরাও এই জনপদে হাজার বছর ধরে বসবাসের পাশাপাশি ৮০-র দশকে চাকমাদের উচ্ছেদ করেও সেটেলার হয় নাই বরং সরকারি খাস জমিতে বসতি গড়েছে - সেটাও সমান সত্য। পৃথিবীর সবচে ঘনবসতিপূর্ণ এবং নদীভাঙন ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দূর্যোগপূর্ণ এই বাংলাদেশে প্রতি বছর যেখানে হাজারো মানুষ উদ্বাস্তু হচ্ছে, যেখানে এতটুকু আশ্রয়ের খোঁজে জীবন বাজি রেখে নৌকায় পাড়ি দিয়ে থাইল্যান্ডের জঙ্গলে ক্রীতদাসের জীবন বেছে নিতে কসুর করছে না, সেখানে এইসব ছিন্নমূল মানুষকে সামান্য ঠাঁই করে দেয়ার জন্য সরকার খাস জমিতে বন্দোবস্ত দেবে - এই বিষয়টি অতি মানবিক ও যৌক্তিক। বাংলাদেশের মোট দশ ভাগের এক ভাগ আয়তনের এই পার্বত্য চট্টগ্রামে জনসংখ্যা যেখানে মাত্র এক শতাংশ, সেখানে খাস জমি যে বেশি, সে তো বলাই বাহুল্য। 

সাদাসিধা যারা চিন্তা করেন, তারা ভাবতে পারেন যে, না হোক ভুঁয়া, জাল দাবি, তারা যখন এত করে চাইছে, আদিবাসী ডাকলে এমন ক্ষতি কী? জাতিসংঘের Declaration on the Rights of Indigenous Peoples তথা আইএলও কনভেনশন ১৬৯ মোতাবেক 'আদিবাসী' হতে পারার সুবিধা হল 'আদিবাসীর ভুমি অধিকার সংরক্ষণ'-এর আইন! আদিবাসীদের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য জাতিসংঘ যে কোন সময় আদিবাসীদের, মানবাধিকার সংগঠনের ডাকে বা আহবানে নিরপেক্ষ (জাতিসংঘের তত্বাবধানে) প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে তাদের স্বায়ত্বশাসন বা স্বাধীনতা ঘোষনা দিতে পারে। যেমন করেছে কসোভোতে, ইস্ট তিমুর ও দক্ষিণ সুদানে। আমাদের পাহাড়ি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠিরাও কিছু স্বার্থান্বেষী মহল ও তথাকথিত বুদ্ধিজীবীদের সহযোগীতায় আদিবাসী হয়ে সেই সুযোগ নিয়ে সমতলবাসীদের উচ্ছেদ করতে চায়। 

সিএইচটি কমিশনের সাথে মিলে আদিবাসী স্বীকৃতির নামে ক্রমাগত ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে তারা। কিছু উচ্ছিস্টভোগী বুদ্ধিজীবীকে অর্থের বিনিময়ে কিনে নিয়ে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে এতদিন বিষোদ্গার করিয়েছে খুব, এখন বিজিবিকেও এর সামিল করেছে। বিজিবির ক্যাম্প স্থাপনের বিরুদ্ধে মিথ্যার বেসাতি দিয়ে কিছু উঠতি বুদ্ধিজীবিকে পোষ্য মিডিয়াসহ নিয়ে গিয়ে প্রতিবাদের মহড়া ভিডিও করিয়ে এনেছে, দু-চার লাইন লিখিয়েও নিয়েছে। পার্বত্যাঞ্চলে অরক্ষিত দীর্ঘ সীমান্ত দেশের জন্য হুমকিস্বরূপ, বিশেষ করে বর্তমানে মায়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি)-এর শক্তিবৃদ্ধি ও সীমান্তজুড়ে সেনাবাহিনী মোতায়েনের পর সরকারের জন্য বিজিবি-এর শক্তিবৃদ্ধি অত্যাবশকীয় হয়ে উঠেছে যা দেশবাসীর জানা খুব প্রয়োজন। এই নাজুক পরিস্থিতিতে অস্ত্র কিনে এনে সশস্ত্র সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েমের আয়োজন করছে পাহাড়ি সন্ত্রাসী গোষ্ঠিগুলো। এই গোষ্ঠিগুলোর এত ক্ষোভের মূল কারণ হল, সীমান্তজুড়ে ক্যাম্প স্থাপিত হলে তাদের সশস্ত্র চলাচল, ক্যাম্প স্থাপন ও চাঁদাবাজির পথ রুদ্ধ হবে, সুগম হবে শান্তিস্থাপনের পথ – কোনটাই তাদের কাম্য নয়। পাহাড় থেকে বাঙালিদের উচ্ছেদ ও উৎখাত করার এক অসম্ভব ও অন্যায় সুখস্বপ্নে বিভোর তারা। বিদেশে দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীকে রেপিস্ট, ধর্মান্তরকারী, ক্ষমতালোভী ইত্যাদি আখ্যা দিয়ে বিক্ষোভ-সমাবেশ করছে, প্লাকার্ড প্রদর্শন করছে, নানান সরকারি-বেসরকারি সংস্থার কাছে ধর্ণা দিচ্ছে, সর্বোপরি সরকার ও সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে সর্বাত্মক বিদ্বেষী প্রচারণা ছড়িয়ে দিচ্ছে ইন্টারনেটে। পর্যটন এমন কি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনের মত বিষয়ের বিরুদ্ধেও অযৌক্তিক আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। পাহাড়ের উন্নয়ন যেন তাদের চক্ষুশূল! 

শান্তিচুক্তি-পরবর্তীকালে দেড় যুগের অভিজ্ঞতার আলোকে সকল প্রকার সশস্ত্র সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ও ষড়যন্ত্র বন্ধ করা এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে বসতি স্থাপন ও ভূমি ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে কালাকানুন ও ব্রিটিশ আমলের হিলট্র্যাক্টস ম্যানুয়েল ১৯০০-কে সংবিধানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে শান্তি স্থাপনের পথে হাঁটার বিকল্প নেই। নৃগোষ্ঠি-বাঙালি ভেদাভেদ দূর করে সকলের সম-অধিকারভিত্তিক শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দময় সহাবস্থান নিশ্চিত করা জাতীয় স্বার্থের জন্য অতীব জরুরি। পার্বত্য চট্টগ্রামে সকল বৈষম্য, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও অবিচার দূর করার লক্ষ্যে বিচার বিভাগীয় ও সংসদীয় কমিটি দ্বারা পার্বত্য পরিস্থিতি ও চুক্তির মূল্যায়ন করে সুবিচার প্রতিষ্ঠার পদক্ষেপ নেয়া জাতীয় স্বার্থেই অত্যাবশ্যক। 

এই শান্তিচুক্তি অনেক ত্যাগ ও পরিশ্রমের ফসল – একে বিদেশী ষড়যন্ত্রে সামিল হয়ে একগুঁয়েমি দিয়ে ব্যর্থ করে দেয়া কারও জন্য লাভজনক হবে না। বরং স্বাধীন বাংলাদেশের এক পতাকাতলে একত্রিত হয়ে সকল বৈষম্য ভুলে পার্বত্যাঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠাই হোক আমাদের সকলের ঐকান্তিক প্রয়াস।
 ·  Translate
আজ পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির ১৭ বছর পূর্তি ও ১৮ বছরে পদার্পণ করেছে। ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বরে এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল বাংলাদেশ সরকার এবং পার্বত্য উপজাতি বা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোর পক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস) মধ্যে। তখন সবাই আশা করেছিল, এই চুক্তি পাহাড় এলাকায় পার্বত্য ক্ষুদ্র ...
1
Add a comment...

Abbas Tarafder

Shared publicly  - 
 
Some South Asian Spices...
 ·  Translate
দক্ষিন এশিয়াতে বিশেষ করে ভারতীয় উপমহাদেশে নানা প্রজাতির মসলা জন্মে।তাই যারা এ অঞ্চলের মানুষ অ্থাৎ আমরা ,খাবারে নানা প্রকার মসলা ব্যবহার করে অভ্যস্ত।আর নানা রকম সুগন্ধি মসলা ব্যবহার হয় বলে আমাদের খাবার হয় যেমন সুস্বাদু তেমনি তাতে যুক্ত হয় জিভে জল আনা ঘ্রান।আদা,রসুন,পেঁয়াজ,মরিচ এসব রসাল মসলা তো আছেই সেই সাথে...
1
Add a comment...

Abbas Tarafder

Shared publicly  - 
 
 
 
বাংলার অপরুপ সৌন্দর্যের সাথে বিশ্বকে পরিচয় করিয়ে দিন... Share করুন...!!!
#Bangladesh #textile #industry

From Wikipedia, the free encyclopedia

The Human and clothing (T&C) industries provide the single source of economic growth in Bangladesh's rapidly developing economy. Exports of textiles and garments are the principal source of foreign exchange earnings. Agriculture for domestic consumption is Bangladesh’s largest employment sector. By 2002 exports of textiles, clothing, and ready-made garments (RMG) accounted for 77% of Bangladesh’s total merchandise exports. By 2013, about 4 million people, mostly women, worked in Bangladesh's $19 billion-a-year industry, export-oriented ready-made garment (RMG) industry. Bangladesh is second only to China, the world's second-largest apparel exporter of western brands. Sixty percent of the export contracts of western brands are with European buyers and about forty percent with American buyers. Only 5% of textile factories are owned by foreign investors, with most of the production being controlled by local investors.
Bangladesh's textile industry has been part of the trade versus aid debate. The encouragement of the garment industry of Bangladesh as an open trade regime is argued to be a much more effective form of assistance than foreign aid. Tools such as quotas through the WTO Agreement on Textiles and Clothing (ATC) and Everything but Arms (EBA) and the US 2009 Tariff Relief Assistance in the global clothing market have benefited entrepreneurs in Bangladesh's ready-made garments (RMG) industry. Bangladesh with a population of about 156 million, has the highest population density in the world. In 2012 the textile industry accounted for 45% of all industrial employment in the country yet only contributed 5% of the Bangladesh's total national income.
1
Add a comment...

Abbas Tarafder

Shared publicly  - 
 
|| সার্জেন্ট কলি টাউনে সন্ধ্যা শেষে ||
- আব্দুর রহমান তরফদার

সারিবাঁধা টং দোকানের দৈনিক হাট ভেঙে গেছে 
কাঁধে-পিঠে ভার নিয়ে হাটুরে-দোকানিরা ফিরে গেছে 
ঘরে ফিরে গেছে ফুটবল-মাঠ ভাঙ্গা মানুষেরা
দু’ঘন্টার দৌড় শেষে কালো স্যান্ডো-শর্টস পরে
সুইডিশ পুলিস স্পোর্টি সেলিয়াও ফিরেছে রোজকার মত
বড় রাস্তার মোড়ে ব্যস্ততা-বিশৃঙ্খলা বেড়ে গেছে
জেনারেটরের আলোয় ঝলমল করছে মুদির দোকান
পরিবাহী বাইকগুলো সারি বেঁধে যাত্রীর অপেক্ষায়
মাঝে মাঝে হলুদ ট্যাক্সি নামিয়ে দিচ্ছে মানুষ ও মালামাল

এদিকে বিবর্ণ গলির ঢুকার মুখে সন্ধ্যার আগে ভাঙাচুরা ঘর-দোকানের 
বাসিন্দাদের খাওয়া-দাওয়ার পাঠ চুকেছে – ভিড় ভাঙছে কুয়োতলায়
বাচ্চারা কেউ মায়েদের বকুনি খাচ্ছে কেউ হল্লাগোল্লা করছে 
বাইক মেকানিক ইমানুয়েল জিরিয়ে নিচ্ছে বেঞ্চিতে শুয়ে
ধীর পায়ে এখানে ওখানে এসে জমছে আড্ডার লোকগুলো 
বাদাম-মরিচ-আম-কলা-এভোকারডো-এটা-সেটার দোকানিরা
এলইডির আলোয় সাজানো পসরা গুটিয়ে নেব-নেব করছে 

অন্য ব্যস্ততা-কোলাহলে হঠাৎ বদলে যাওয়া এসকেটিতে
তীব্র গানের স্পিকারে কাঁপছে লাইফ-এন্ড-টাইম বার আর
নীল-বাতি বারান্দার টেবিলে ফিলিপিনো ডেনিয়েল একা একা
বিয়ারের ক্যান খুলছে - তার বন্ধুরা সব ফিবিতে গেছে
বড় পর্দায় চেলসি-বার্সার বাজিধরা ম্যাচ দেখতে
ভাইপোর মৃত্যুশোক সামলে বারে আসছে টাউন-চিফ মোজেস কলি 
ওদিকে নীল জামা নীল ব্যাগ হাতে নিয়ে এক রূপোপজীবিনী 
মুভি ক্লাবের পর্দাঘেরা ঘরের সামনে ব্যবসার ধান্ধায়
আলো-আঁধারে দাড়িয়ে আঙ্গুলে আঁচরে নিচ্ছে সোনালি পরচুলা
সামনে ড্রেন-কাম-রাস্তা দিয়ে ইজিপশিয়ান সাজোয়া জাহরা
হাই-বিমে হর্ন বাজিয়ে মোটরবাইকের গতিতে
রোজকার মত নিসান প্যাট্রোল গাড়ি নিয়ে চলে যাচ্ছে
সুয়াকোকো হাটে কেনা পলিথিন ঠোঙার লিকার খেয়ে এসে
কাদা-পানি মাড়িয়ে রাতের সঙ্গীনি খুঁজছে নাইজেরিয়ান জিনেদু

গলির দুইপাশে খানাগলি ধরে বাঁশের বেড়ায় কাঁটাতার দেয়া
ইউএন স্টাফদের বাসাগুলো সাধারণের কৌতুহল তুচ্ছ করে 
বরাবরের মত গেটবন্ধ ও সিকুরিটি বাতি-জ্বলা যক্ষপুরি
দারোয়ান কেউ কেউ গেটে দাড়িয়ে অলস গল্প করে যাচ্ছে

কোথাও একটা কুকুর থেমে থেমে ঘেউ ঘেউ করছে
বর্ষার ব্যাঙের ডাক ও ঝিঁঝিঁর একটানা শব্দে এসকেটির এই
খানাগলির প্রান্ত অবিশ্রান্ত চন্দ্রালোকে উপছে পড়ছে
ক্লান্ত শিশুদের অনেকেই ঘুমে ঢলে পড়েছে
বার্কলেদের ঘর থেকে গসপেলের গলাসাধা থেমে গেছে
দুই ইথিওপিয়ান গতকালের বেশ্যার অদ্ভুত ঢং নিয়ে হাসাহাসি করছে
রুমানিয়ান গ্রেকো ও মলদোভান ওলেগ রাশিয়ার শ্রাদ্ধ করে যাচ্ছে
আর প্যারাগুয়েন মার্কোস নিজে রাঁধা স্যুপ খাচ্ছে রসিয়ে
নিষিদ্ধ ককাস বারে নাচের ছন্দে ঘোর নেমে আসছে ধীরে
আরেকটি চেনা রাত আলো-আঁধারির অচেনা মায়ায়
যাপিত হওয়ার অপেক্ষায় প্রস্তুত এসকেটি
 ·  Translate
1
Add a comment...

Abbas Tarafder

Shared publicly  - 
 
|| ব্যাকরণে বাঁধা ||

এক মাত্রার খুড়োকর্তা বনে গিয়ে
ভাবের ধারের পরীক্ষা কী নেবেন
সে ব্যাকরণে আছে লেখা

শুয়রের বাচ্চাদের দেখুন -
নতুন দাঁতের ধার বুঝে নেয়
বাপের পাছায় বসিয়ে কামড়
আপনিও আজন্ম চামার
এই ব্যাকরণ খণ্ডনের
ব্যত্যয়ী প্রতিভা আপনিতো নন...

(মে ২০১৪, বাঙগা, লাইবেরিয়া)
 ·  Translate
1
Add a comment...
In his circles
115 people
Have him in circles
60 people
Subarna Chitrakar's profile photo
SNM Samiunnabi Chowdhury's profile photo
Shamim Ara Choudhury's profile photo
Nurul Choudhury's profile photo
mdmustafizur rahman's profile photo
Irfan Ullah Khan's profile photo
bassem elsamadony's profile photo
Mithun Mahbub's profile photo
Zakir Ahmed's profile photo

Abbas Tarafder

Shared publicly  - 
 
Impressive Bangladeshi idea !
 
Floating Boat Bridge on Buriganga River in Dhaka, Bangladesh.
A group of local boatmen in in Dhaka, Bangladesh has come up with an incredibly creative way to move on the Buriganga River while it's temporarily over-grown with water hyacinth. This DIY floating bridge is consisted of 34 wooden dinghies. Each person is charged a fee of Taka 2 (USD$0.02) to cross, which provides the boatmen with an alternative source of income until they can resume boating.
1
Add a comment...

Abbas Tarafder

Shared publicly  - 
 
|| বাল্যবিয়ে বনাম আমাদের মধ্যবিত্ত সমাজে বিলম্ব বিয়ে ||

বিয়ের উপযুক্ত বয়স কত? আমাদের গ্রামীণ সমাজে বাল্যবিয়ের সমস্যা রয়ে গেছে এবং এর বিরুদ্ধে আমাদের নীতি নির্ধারক ও বিজ্ঞ সমাজে তথা এনজিওদের বিশেষ সচেতন দৃষ্টিভঙ্গি ও কর্মতৎপরতা রয়েছে। এই নিয়ে জাতিসঙ্ঘেরও মাথাব্যাথা কম নাই; সম্প্রতি, ইউনিসেফ-এর এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশকে বাল্যবিয়েতে বিশ্বের শীর্ষে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ইউনিসেফের তথ্যমতে, বাংলাদেশে ৩৩% মেয়েদের ১৫ বছরের আগে ও ৬৬% মেয়েদের ১৮ বছরের আগে বিয়ে হয়ে যায়। সাধারণভাবে বলা যায়, এটি একটি আর্থ-সামাজিক সমস্যা বটে। বাল্যবিয়ে অবধারিতভাবে নিম্নবিত্ত বা বিত্তহীন পরিবারগুলোতে প্রচলিত; মধ্যবিত্ত/উচ্চবিত্ত পরিবারে এর উপস্থিতি খুবই নগন্য। এ কারণে ইউনিসেফের তথ্যের সঠিকতা আমাদের সমাজ বিশ্লেষনে আমার কাছে খুব সঠিক মনে হয় না। প্রায় একই সময়ে কাকতালীয়ভাবে গত ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৪ তারিখে মন্ত্রীসভার মিটিঙে আইন অনুযায়ী বিয়ের ন্যূনতম বয়স বর্তমানে ছেলেদের ২১ এবং মেয়েদের ১৮ বছর থেকে কমিয়ে যথাক্রমে ১৮ ও ১৬ বছর করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে; অবশ্য আন্তর্জাতিক শিশু সনদ অনুযায়ী মেয়েদের বিয়ের বয়স সরকার কমাতে পারবে কি-না তা পরীক্ষা করেই তা চূড়ান্ত করা হবে (http://www.shokalerkhabor.com/2014/09/16/148754.html)। বাল্যবিয়ের বিপরীতে, অধিক বয়সে বিয়ে যে কোন সমস্যা তা নিয়ে বিস্ময়করভাবে আমাদের সমাজে, বিশেষ করে শিক্ষিত সমাজে কোন উদ্বেগ বা দুঃশ্চিন্তা নাই। বরং ব্যাপক বিভ্রান্তি আছে, সঠিক করে বললে, গত দুই প্রজন্মে তৈরি হয়েছে। এই বিষয়ে পত্রপত্রিকায় বা টকশোতে এখনও কোন বিশ্লেষন চোখে পড়ে নাই, ব্লগে দুই-একটা পোস্ট পড়েছে, মতামত এসেছে আশানুরূপ কম। আমি এই বিষয়ে নিজস্ব মতামত তুলে ধরতে চাই। মূল বিষয়ে যাওয়ার আগে কতগুলো ফ্যাক্ট (সূত্র: উইকিপিডিয়া) জানা যাক:

১)   পিউবার্টি বা বালেগ হওয়ার বয়স মেয়েদের জন্য ১০-১১ বছর, ছেলেদের জন্য ১১-১২ বছর। মেয়েদের মেনুস্ট্রেশন বা মাসিক শুরুর সময় ১২-১৩ বছর।

২)  কনসেন্ট এজ বা যৌন কর্মকান্ডে সম্মতিমূলক অংশগ্রহণের বয়স বিশ্বব্যাপী ১৩ বছর (স্পেন) থেকে ১৮ বছর (তুরস্ক) পর্যন্ত। ইয়েমেনে যে কোন বয়সে বিয়ে হওয়াকেই কনসেন্ট এজ হিসাবে ধরে। বাংলাদেশে পেনাল কোড অনুসারে এই কনসেন্ট এজ হল ১৪ বছর (১৮৬০ সালের পেনাল কোডের ৩৫৫ এক্টের ৩৭৫ ধারার ৫ম উপধারা)।

৩)   বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই সরকারিভাবে বিয়ের বয়স নির্ধারিত নাই, বাংলাদেশে আছে, সেটা মেয়েদের জন্য ১৮ বছর ও ছেলেদের জন্য ২১ বছর। অতি সম্প্রতি এই বয়স কমানোর প্রস্তাব মন্ত্রীসভায় গৃহীত হয়েছে যা উপরে উল্লেখ করা হয়েছে।

৪)   মাতৃত্বের জন্য শারীরীকভাবে সবচে উপযুক্ত বয়স ১৮ বছর থেকে ২৭ বছরের মধ্যে। ২৭ বছরের পর থেকে মাতৃত্বে উপযুক্ততায় ভাটা পরতে থাকে এবং ৩৫ বছর থেকে মাতৃত্বের উপযুক্ততা ব্যপকভাবে হ্রাস পেতে থাকে (এই তথ্য পশ্চিমা দেশগুলোর, আমাদের ক্ষেত্রে ধারণা করি বয়সের এই চক্র আরও আগে শুরু ও শেষ হয়)।

আমার আপত্তি আমাদের দেশের বৈধ বিয়েতে ইউনিসেফের দুঃখ, দুঃশ্চিন্তা উতলে উঠায়। ১৮ বছরের আগে বিয়ে করলে মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যায় আর ১৮ বছরের আগে বিয়ে না করে সেক্স করলে মানবজাতি উন্নতির চূড়াঁয় উঠে যায়! আমি আফ্রিকাতে শতশত কোলে-শিশু বালিকা-কিশোরী মাতা দেখেছি। ইউনিসেফের সেসবে আপত্তি নাই, আপত্তি শুধু বিয়ে করলে! পাশ্চাত্যে টিনএজ গর্ভধারণ ও টিনএজ মাতৃত্ব একটা যারপরনাই সামাজিক সমস্যা, কিন্তু বিয়ের মাধ্যমে নয় বলে ঐগুলো সমস্যা না, ইউনিসেফের তাতে কোন দুঃশ্চিন্তা নাই। আফ্রিকা বা পাশ্চাত্যে টিনএজ প্রেগনেন্সি বিয়েবহির্ভূত বলে যেসব সমস্যার মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ বা দক্ষিণ এশিয়ার ক্ষেত্রে সেসব সমস্যা অনেক ক্ষেত্রেই অনেক কম মাত্রায় উপস্থিত। পাশ্চাত্যে টিনএজ গর্ভধারণ ও মাতৃত্ব প্রায় শতভাগ অপরিকল্পিত এবং এর কারণে একটি মেয়ে সামাজিকভাবে অসহায় ও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখী হয়, লেখাপড়া ক্ষতিগ্রস্থ হয়, যৌনরোগের ঝুঁকির মধ্যে পড়ে এবং আবগগতভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। লেখাপড়ায় ক্ষতিগ্রস্থ হওয়া ছাড়া আমাদের বাস্তবতায় অন্যান্য ঝুঁকি অনেক কম এবং এটিও পারিবারিক পরিকল্পনার আওতায় হয়ে থাকে। সুতরাং, টিনএজ গর্ভধারণ ও মাতৃত্বের সমস্যা আমাদের দেশে পাশ্চাত্যের তুলনায় অনেকখানি কম। অবশ্য, ১৩-১৪ বছরের মাতৃত্বের শরীরবৃত্তীয় সমস্যা সবখানে একই হলেও পুষ্টি ও চিকিৎসাগত দিক থেকে পাশ্চাত্য অনেক এগিয়ে আছে। আমাদের দেশে টিনএজ মাতৃত্ব একটি বৈধ বৈবাহিক পরিবেশে হওয়ায় টিনএজ মার পারিবারিক ও সামাজিক স্বীকৃতি ও নিরাপত্তার পাশাপাশি সাধ্যমত যত্ন এবং শারীরীক ও মানসিক সহযোগীতা পায়, যার খুবই অভাব একটি পাশ্চাত্যের টিনএজ মার ক্ষেত্রে। অথচ এই নিয়েই ইউনিসেফের ভাবনার অন্ত নাই। আমাদের আবাল ইন্টেলেকচুয়াল, আবাল সাংবাদিকরা সেইটা নিয়ে হুক্কাহুয়া করে খুব লাফায়। এই ইস্যুতে এনজিও ব্যবসাও রমরমা, বাল্যবিয়ে ঠেকাতে কাড়ি কাড়ি টাকা নিয়ে দাতারাতো বসেই আছে! এই নিয়ে বিজ্ঞাপন বানাতেও মিথ্যা তথ্য দেয় যে ১৬-১৭ বছরে মা হলে নাকি শিশু পুষ্টিহীন এবং শারীরীক, মানসিক প্রতিবন্ধি হবে... আবালগুলা ইন্টারনেট ঘেঁটেও এই সামান্য তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে পারে না, তাদের দৌড় বলিউডের নায়িকাদের নষ্ট দিনলিপি গোগলানো পর্যন্তই। স্পেনের ১৩ বছরের বা বাংলাদেশের ১৪ বছরের মেয়েদের (এবং ছেলেদের) যদি যৌনকর্মে অংশগ্রহণে সমস্যা না থাকে, তবে বিয়েতে আপত্তি কেন? যার মাতৃত্বের গড় উপযুক্ত বয়সের শুরু ১৮ বছরে, তাদের কারও কারও ক্ষেত্রে তা ১৬ হতেই পারে, এমনকি ১৫ও খুব ব্যতিক্রম হবে না। আর কনসেন্ট এজ ১৪ হলে যদি বিয়ের বয়স ১৮ হয় তবে তা বিয়েবহির্ভূত সম্পর্ককে ৪ বছরের জন্য আইনত স্বীকৃতি দেয় যা সমাজ ও ধর্ম এখানে দেয় না। এই অসঙ্গতি একটি সুস্থ সমাজ বিনির্মাণে অবশ্যই সহায়ক না। বৈবাহিক বয়স কমানোর ইস্যুতে সরকারকে ধন্যবাদ দিতে চাই একটি বাস্তবমুখী সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য। আমাদের দেশে রাজনীতি ও ধর্ম সংক্রান্ত কোন বিষয়ে পান থেকে চুন খসলে ব্যাপক আলোচনা হয়; অন্য বিষয়ে না জনগণ, না মিডিয়া, না টকশো-তে তেমন কোন আলোচনা, বিশ্লেষন হয়! এই বিষয়টি তেমনই একটা।

বেশি বয়সে বিয়ে করার আইডিয়া আমাদের সমাজ এত বেশি খেয়েছে যে, ছেলেদের ৩০-এর আগে এবং মেয়েদের ২৩-২৪ এর আগে বিয়ে মধ্যবিত্ত সমাজ গোনার বাইরে রেখেছে। আমাদের আঁতলামি টিভি নাটকগুলোতে (ও কিছু কিছু সিনেমাতে) ইঁচড়ে পাঁকা, ত্যাড়া-ঢংগী নায়িকা বা তাদের মা-বাবারা আইবুড়োদের নিয়ে নিয়মিত ঢং করে ডায়লগ দেয়, 'লেখাপড়া শেষ না করে বিয়ে নিয়ে ভাবছি না'। বিয়েতে যত আপত্তি, বিয়ে বহির্ভূত দৈহিক সম্পর্কে নয়। আমাদের ছেলেমেয়েরা দুই প্রজন্ম আগের মত উপযুক্ত বয়সে বিয়ে করতে পারছে না, আর সামাজিক-ধর্মীয় কারণে পাশ্চাত্য বা আফ্রিকান তরিকায় অবাধে জৈবিক চাহিদাও মেটাতে পারছে না; এতে অনৈতিকতা থেমে থাকছেনা, থাকার কথাও না; বাড়ছে লুকোচুরি সম্পর্ক, বাড়ছে পাপাচার এবং ব্যক্তি ও সামাজিক অবক্ষয়। সমাজে ধর্ষণ ও যৌননির্যাতন বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ আমার মতে এই বিলম্ব বিয়ে (অন্যান্য প্রধান কারণগুলো – মাদক ও পর্ণগ্রাফির বিস্তার, হিন্দি ছবি ও সিরিয়ালের নেতিবাচক প্রভাব, ক্রবর্ধমান পারিবারিক ও সামাজিক অবক্ষয়, আইনের শাসনের অভাব, ধর্মীয় ও নৈতিক মটিভেশনের অভাব)। যার মাতৃত্বের গড় উপযুক্ত বয়সের শেষ ২৭ বছরে (এটা পশ্চিমা হিসাবে, আমাদের দেশে তা আরও আগে হওয়ার কথা), তাকে লেখাপড়া শেষ (মাস্টার্স) করে ২৫-২৬ বছরে বিয়ে করার নসিহত কী পরিমাণ গর্হিত তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আর বাস্তব পরিস্থিতি হল, পড়ালেখা শেষ করেই সে বিয়ের পিঁড়িতে গিয়ে বসবে, এমনটা খুবই কম ঘটে। ততদিনে আইবুড়ো হয়ে নিজ ও পরিবারের জন্য হতাশা, কোন কোন ক্ষেত্রে কেলেঙ্কারি নিয়ে আসে। 

পশ্চিমা বিশ্ব ও আমাদের দেশে প্রচলিত তাদের শিক্ষাব্যবস্থা পারলে মাতৃত্বের শরীরবৃত্তীয় চক্রকে ১৮-২৭ বছর থেকে বাড়িয়ে ২৫-৩৫ বছর করে দেয়! পারলে সেটাই হত, কিন্তু স্রষ্টার ইচ্ছাকে কে রদ করবে? আমাদের আধুনিক সমাজব্যবস্থা এই প্রাকৃতিক নিয়মকে তুচ্ছ করতে চাইছে, সেটা হবার নয়। প্রকৃতির নিয়মকে ধারণ করে জীবন সাজানোই সমস্যার সর্বোত্তম সমাধান।
 ·  Translate
1
Add a comment...

Abbas Tarafder

Shared publicly  - 
 
Block-B & C, Section-10, Mirpur, Dhaka, Bangladesh
1
Subarna Chitrakar's profile photo
3 comments
 
Please stay in touch. slc1798@gmail.com
Add a comment...

Abbas Tarafder

Shared publicly  - 
 
EVENING ENDS IN SERGENT KOLLIE TOWN (SKT)*

Daily market of arrayed platform shops have winded up
Buyers and sellers returned carrying loads on the backs and heads
People from the broken football field have returned home
After two hours of running in black short and vest,
Swedish police Sporty Celia too have returned like everyday
Bustle and disorder raised in the highway junction
Groceries are coruscating in generator’s light
Transporter motorbikes in line are waiting for passengers
Taxis are dropping men and goods from time-to- time

Here, inside the grimy lane’s entry side before dusk, dwellers
in collapsing, dingy shops and houses have completed dinner – 
crowd is breaking at the well-site
Children are either being chided by the mothers or doing hullabaloo
Bike mechanic Emmanuel is resting lying on the bench
The gossip-guys are gathering here and there in leisurely paces
Vendors of nut-chilli-mango-banana-avocado-this-and-that
are about to close their merchandise in LED lights

In different din-and-bustle in a suddenly changed SKT
The Life-and-Time Bar is trembling with intense music
In the blue-light veranda Pilipino Daniel is 
opening the bear can alone - all his friends have gone to Phebe 
to watch the betted Chelsea-Barça match in bigger screen
Surmounting nephew’s death 
bereaved Town Chief Moses Kollie is walking to the bar
There, a harlot in blue dress with a blue bag in hand,
While looking for her business in front of the curtained movie club,
combing her golden wig with fingers standing in light-and-shade
Egyptian tanker Zahra is passing by the lane’s drain-cum-road
with the Nissan Patrol in high-beam with horns in a bike speed
Taking liquor bought from weekly Suakoko market in polythene,
Nigerian Jinedu has come treading slime to find a night-companion 

Alongside the by-lanes astride the lane are the UN staffs’
bamboo fenced with barbed wire accommodations,
as though closed-gate and security-lightened ghost-houses,
ever ignoring peoples’ curiosities as usual
Some guards are chatting idly standing by the gates 

A dog is barking somewhere in pause
In croak and non-stop crickets’ chirping of early monsoon,
the by-lane ends of the SKT are brimful with incessant moonlight
Many of the tired children have drooped in sleeping
Gospel recital practice from the Barclays’ house has stopped
Two Ethiopians are joking of yesterday’s whore’s idiosyncrasies
Romanian Greco and Moldovan Oleg are reviling Russia
and Paraguayan Marcos is savouring self-cooked soup
Illusion is ensuing slowly with the dance’s rhythm of forbidden Caucus Bar 

SKT is ready to embrace another known night
In unknown delusion of light-and-shade
--------------------------------------------
* A town in Suakoko district, Bong County, Liberia, West Africa
1
Add a comment...

Abbas Tarafder

Shared publicly  - 
 
|| ক্ষয় ||

ক্ষয়ে যাচ্ছে পত্রপল্লব আদিগন্ত মাঠ
ছোটনদী অজগাঁও পালতোলা নাও 
ক্ষয়ে যাচ্ছে নদীর স্রোত দূর পাহাড়ের ঢাল
মাটির তলায় যত আঁকর জমিনের বল
আগরবাতির মত ক্ষয়ে যাচ্ছে
রীতিনীতি নীতিকথা বোধ ও বিবেক
ক্ষয়ে যাচ্ছে মাটির পুতুল চালতার স্বাদ
লাটিম ঘুড়ি বৌ-চি কড়ি খেলা
জামাই মেলা যাত্রার পালা পালকির স্মৃতি
বাবুর হাতে কাঠি-লজেন্স চমছমে রাত
ক্ষয়ে যাচ্ছে ভালবাসা স্নেহাস্পর্শ
ক্ষয়ে যাচ্ছে সব সবখানে আজ
চোখের কোনায় ক্ষয়ের ক্ষত
ক্ষয়ে যাচ্ছে মৌনব্রত জোৎস্নার টান
ক্ষয়ের পিঠে ক-এর গল্প
অল্প অল্প ক্ষয় প্রতিদিন
ক্ষয়ের এসেছে মড়ক মহামারি

ক্ষয়ে যাচ্ছে মাটির মানুষ সরল কৃষক
ক্ষয়ের বানে বিপরীত দিন আজ
গরল ভন্ড খয়ের খাঁরাই বেড়ে এখন
ক্ষয়ের সাথে সমান পাল্লায়

নষ্ট ক্ষয়েই সব শেষ নয়
ক্ষয়েরও আছে ক্ষয়
সেই বরাভয়।
 ·  Translate
1
Add a comment...

Abbas Tarafder

Shared publicly  - 
 
|| ভুলে যাওয়াই ভবিতব্য ||

ভুলে যাওয়াই ভবিতব্য
তবু যদি ভুল না হয়
ভুলভাল মনে পড়ে যায়
এই মতিচ্ছন্ন বিকেলের কথা
এই পোড়োরোদ এই স্বেদবিন্দু
এই বাষ্পাদ্র চশমার কাঁচ
এই স্নেহাকুল বিহ্বলতা তবে
কল-মিসকল দিও

ভবিতব্যই ভুলিয়ে দেবে
কেটে দেবে নেটওয়ার্ক
সময়ের শ্বাশ্বত স্রোতে ভেসে গিয়ে
আচমকা ফেরালে চোখ
এক বিকেলের সুখদুঃখ
হয়তো একাকার তোমার আমার
একদন্ড অবসর এনে দেবে
 ·  Translate
1
Add a comment...

Abbas Tarafder

Shared publicly  - 
 
|| ত্রিকালদর্শী এক ও অস্তিত্বের গূঢ়টান ||

পাল তুলে নাও যায় কালস্রোত বেয়ে
হাল ধরে বসে আছেন ত্রিকালদর্শী এক
তার চোখের মায়াবী আলো ছায়া ফেলে
থৈথৈ জলের কাছে-দূরে-ভিতরে-বাহিরে
একাল-ওকাল-সেকাল দেখে পরম প্রাজ্ঞতায়
বাঁকা স্রোতের ভেতর তবু সোজা হাল ধরে
কালোত্তীর্ণ তীরের পানে ভেসে চলে নাও

নাওয়ের ভেতরে যাত্রীসব এক নয়
নাওয়ের ভেতরে রাত্রী নামে বাড়ে ঢেউ
নাও তবু ছুটে চলে কালনদী বেয়ে
কালের যাত্রীরা উঠে-নামে ঘাটে ঘাটে
কালস্রোত বাড়ে-কমে, কাল বদলায়
বদলে যায় মতি-গতি-বেশ ও সংস্কার 
বদলের অস্থির স্রোতে স্থির তার চোখ
তার চোখের মায়ায় ত্রিকালের আলো
বিকেলের রোদের মত কাছে ডাকে

সেই কালোত্তীর্ণ ডাকের অপেক্ষায়
উন্মুখ জনতার কাতারে বা একা
নির্ঘুম রাতে আমিও কাতর দাড়িয়ে ঠাঁয়
যতক্ষণ না পাই তার দেখা আমি আছি 
অস্তিত্বের গূঢ়টানে এইখানে 
ত্রিকালে তার মেলাবো একাল।
 ·  Translate
1
Add a comment...
People
In his circles
115 people
Have him in circles
60 people
Subarna Chitrakar's profile photo
SNM Samiunnabi Chowdhury's profile photo
Shamim Ara Choudhury's profile photo
Nurul Choudhury's profile photo
mdmustafizur rahman's profile photo
Irfan Ullah Khan's profile photo
bassem elsamadony's profile photo
Mithun Mahbub's profile photo
Zakir Ahmed's profile photo
Education
  • Masters in Defence Studies
Basic Information
Gender
Male
Looking for
Networking
Relationship
Married
Story
Tagline
Nothing special
Introduction
Like IT, but no knowledge
Bragging rights
MDS, two sons
Places
Map of the places this user has livedMap of the places this user has livedMap of the places this user has lived
Currently
Dhaka
Previously
Dhaka, Habigonj, Comilla, Jessore, Natore, Rangpur, Chittagong, Bogra, Sylhet, Rangamati, Sayedpur, Mymensing, Lang Fang China, Bangkok, Malaysia, Free Town, Makburaka, Makini, Conakry, Hertfordshire, London, Bradford, Liberia, Accra, Virginia, New York, Zwedru, Gbarnga, Accra, Cairo, Istambul
Links
Abbas Tarafder's +1's are the things they like, agree with, or want to recommend.
বিচিত্র উদ্ভিদজগতঃ আমাদের রান্নায় ব্যবহৃত মসলার উৎস (ছবিব্লগ) - সন্ধ্যা ...
www.somewhereinblog.net

দক্ষিন এশিয়াতে বিশেষ করে ভারতীয় উপমহাদেশে নানা প্রজাতির মসলা জন্মে।তাই যারা এ অঞ্চলের মানুষ অ্থাৎ আমরা ,খাবারে নানা প্রকার মসলা ব্যবহার করে

Toy Story: Live Wallpaper
market.android.com

Hang out with the Toy Story gang in this interactive live wallpaper app. Personalize your phone with a fun, animated background that’s packe

Remove clothes hot girls 2
market.android.com

HOT Stuff 1 ) HOW TO USE Finger gently on beautiful hot sexy girl droplets not clothes , and you can reveal the beauty without droplets not

M.N. Roy
books.google.com.bd

books.google.com.bd - This book traces the life of M N Roy from his early years, to the Russian Revolution of 1917 which deeply drew him to

Crazy Grandpa
market.android.com

Crazy Grandpa!Crazy Game!It's a crazy game, the host is a pursuit of optimism, stimulation, speed and greedy grandpa! As long as you enter i

Temple Run 2
market.android.com

With over 170 million downloads, Temple Run redefined mobile gaming. Now get more of the exhilarating running, jumping, turning and sliding

Online Hindi Video Songs HD
market.android.com

*** Watch and listen hundreds of Hindi\Indian\Desi\Bollywood song videos from hundreds of Bollywood Movies in high quality ***It is a Hindi

Hess Racer
market.android.com

Get ready for some white knuckled, high adrenaline racing with Hess Racer!© 2011 Hess CorporationGet ready for some white knuckled, high adr

Need For Extreme Speed
market.android.com

Need for Speed themeNeed for Speed ​​is the most famous PC games, this software is not only intense racing pictures, cool car ringtones, it

The Zwedru town has three (03) mosques or masjids. This masjid is patronized by the Guinean Muslim bussiness community called Jallow Muslims. It is located along Deshua Street on the Northern side at the back of the shops. From the road, it is obscured by the shops. This masjid has an Arabic school.The other main masjid is the Zwedru Central Mosque which is patroized by the local Mandigo muslims. Outsiders often think the Central Masjid to be the only masjid here because the masjid is in conspicuous location with a minerat. The Central Masjid has an Arabic school too. Because the Jallows are richer and more practicing Muslims than the Mandigos, the Jallow Masjid and its Arabic school are better maintained. For higher Islamic education, they go to neighbouring Guinea. Both the masjids have seperate provision for women to attend prayer. These masjids get almost full during daily prayer time. For Friday prayer, devotees make prayer arrangments outside the masjid building. The third masjid in the town belongs to the Vai community located around 500 meter West of the central road.These masjids are ideal places to interact with the Muslim communities.
• • •
Public - a month ago
reviewed a month ago
A masjid in the remote of the country which takes a complete day to reach from the capital Monrovia. The Zwedru town has three (03) masque or masjids. The Central mosque is patroized by the local Mandigo muslims. People often thinks it to be the only masjid here because the mosque is in conspicuous location with a minerat. The masjid has an Arabic school but in a poor condition. The other masjid is petronized by the Guinean Muslim bussiness community called Jallow Muslims along Deshua Street on the Northern side at the back of the shops. Although the masjid of same size of Central Masjid, but is obscured by the shops. This masjid too have an Arabic school. Because the Jallow muslims are richer and more practicing muslims than the Mandigos, the Jallow Masjid and its Arabic school are better maintained. For higher Islamic education, they go to neighbouring Guinea. Both the masjids have seperate provision for women to attend prayer. These masjids gets almost full during daily prayer time. For Friday prayer, devotees make prayer arrangments outside the masjid building. The third masjid in the town belongs to the Vai community located around 500 meter West of the central road. These masjids are ideal places to interact with the Muslim communities.
• • •
Public - a month ago
reviewed a month ago
2 reviews
Map
Map
Map